অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৮
রুপা
সকলের নাস্তা শেষ করে যে যার মতো করে নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আজকে শেহনাজ সরকার ল’ ফার্মে যাবেন না; বাড়িতে নতুন মেহমান এসেছেন, ওনাদের দেখাশোনা করবেন। শেহনাজ সরকার বাইরে থেকে যতই কঠিন ধাঁচের মানুষ হোন না কেন, পরিবারের সম্মান ও মেহমানদারি ওনার কাছে সবসময় সবার আগে। বাড়ির বড় বউ হয়ে মেহমানদের একা রেখে নিজের কর্মস্থলে যাওয়াটা ওনার নীতিতে নেই; তবে মেহমানরা যদি বেশিদিন থাকেন এবং কোনো জরুরি কাজ পড়ে, তখন হয়তো যাবেন।
পুষ্প কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিচে নেমে আসছে। তার ঠিক পেছন পেছন আর্যকেও নেমে আসতে দেখা গেল, তাকে দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সে ভীষণ তাড়াহুড়োর মধ্যে আছে। পুষ্পর কাঁধে কলেজ ব্যাগ, পরনে সাদা আর আকাশির কম্বিনেশনের কলেজ ড্রেস। আর্যর কড়া নির্দেশমতো সে আজ খুব সুন্দর করে হিজাব পরে নিয়েছে। কলেজ ড্রেসে পুষ্পকে আরও বেশি ছোট আর অসম্ভব মায়াবী লাগছে।
ড্রয়িং রুমে বসে শেহনাজ সরকার, জেনিফার সরকার, রেশমা, মিনারা বেগম, নিশি আর শিফা সবাই নাস্তা শেষ করে গল্প করছিলেন। পুষ্পকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখে শেহনাজ সরকার বসা থেকে উঠে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। পুষ্পর মাথার হিজাবের একটা পিন আলগা হয়ে খুলে আসছিল, শেহনাজ সরকার পরম যত্নে সেটা ভালো করে সেট করে দিলেন। তারপর দ্রুত দরজার দিকে পা বাড়ানো আর্যর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে ডাকলেন—
– “আর্য!”
আর্য দরজার একদম কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, মায়ের ডাকে থমকে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে তাকাল। মায়ের মতোই গম্ভীর ও ভারী গলায় সে বলল—
– “কিছু বলবে আম্মু?”
– “অফিসে যাওয়ার পথে পুষ্পকে কলেজে নামিয়ে দিতে পারবে?”
আর্য একপলক পুষ্পর দিকে তাকাল। তার ঠিক আধা ঘণ্টার মধ্যে অফিসে একটা অত্যন্ত জরুরি মিটিং আছে। এই মিটিংটা ঠিক সময়ে করতে না পারলে প্রায় নয় কোটি টাকার বিশাল এক লস হবে কোম্পানির। আর্য এবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল—
– “আম্মু, আমার একটা এমার্জেন্সি কাজ আছে, আসলে…”
আর্যর পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এল আহনাফ। সে শেহনাজ সরকারের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল—
– “বড় মা, তুমি কোনো চিন্তা কোরো না। পুষ্প রানীকে আমি কলেজে পৌঁছে দিচ্ছি!” তারপর পুষ্পর দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে বলল— “চল পুষ্প, আজকে তোকে বাইকে করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কলেজে পৌঁছে দেব!”
আহনাফের মুখে এই ‘বাইকে ঘুরিয়ে’ নেওয়ার কথাটি শোনা মাত্রই আর্যর চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে গেল। সে এক তীব্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আহনাফের দিকে তাকাল। আহনাফের নজর হঠাৎ ভাইয়ের দিকে যেতেই সে আর্যর সেই খুনে চাউনি দেখে ভেতরে ভেতরে দমে গেল, পুরো ভড়কে গেল সে। আর্য আহনাফের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন জ্যান্ত গিলে খাবে! আহনাফ তড়িঘড়ি করে নিজের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিল।
শেহনাজ সরকার আহনাফের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন—
– “তোর অফিসে যেতে দেরি হবে না?”
আহনাফ কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তার আগেই ড্রয়িং রুমে প্রতিধ্বনিত হলো আর্যর বরফশীতল গম্ভীর কণ্ঠস্বর—
– “দুই মিনিটের মধ্যে গাড়িতে এসো, আমি ড্রাইভ করে দিচ্ছি!”
কথাটা বলেই আর্য কারো কোনো উত্তরের পরোয়া না করে গটগট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। কারো কোনো কথা শোনার প্রয়োজনই মনে করল না সে। শেহনাজ সরকার ছেলের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর পুষ্পর কপালে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে সাবধানে যেতে বললেন। পুষ্প ‘ঠিক আছে’ বলে ধীরপায়ে বাইরে বেরিয়ে গেল। আর তার ঠিক পেছনে পেছনে নিশিও গটগট করে পা ফেলে বেরিয়ে গেল। আহনাফ আর কী করবে! যার বউ, সে-ই যখন টান মেরে নিয়ে চলে গেল—তখন সে-ও একটা শুকনো ঢোক গিলে বাইরে বেরিয়ে গেল।
আর্য গাড়িতে বসে স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে ব্লুটুথের মাধ্যমে তার সেক্রেটারির সাথে কথা বলছে। সে তার সেক্রেটারিকে মিটিংটা অন্তত এক ঘণ্টা পেছাতে বলছে।
ওপাশ থেকে সেক্রেটারি অত্যন্ত ঘাবড়ে যাওয়া গলায় বলল—
– “কিন্তু স্যার, ক্লায়েন্ট তো মোটেও মানছেন না! উনি বলছেন মিটিং পেছালে ডিল ক্যানসেল করে দেবেন!”
আর্যর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, সাথে ঠান্ডা গলায় বলল—
– “ক্যানসেল করলে করুক, হু দ্য ফাকিং কেয়ার?”
– “কিন্তু স্যার, এই ডিলটা ক্যানসেল হয়ে গেলে কোম্পানির প্রায় নয় কোটি টাকার মতো বড় ক্ষতি হয়ে যাবে!” সেক্রেটারি বোঝানোর চেষ্টা করল।
– “ক্ষতি হলে হোক! আমি যেটা করতে বলছি, ঠিক সেটাই করো। এক ঘণ্টা পরই মিটিং হবে; ক্লায়েন্ট রাজি থাকলে অপেক্ষা করতে বলো, আর না থাকলে নাস্তা-পানি খাইয়ে বিদায় করে দাও। দ্যাটস ইট!”
সেক্রেটারি আর কিছু বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই আর্য কলটা কেটে দিল। ফোনটা ড্যাশবোর্ডের ওপর ছুড়ে ফেলে দিয়ে সে নিজের কপালটা দু আঙুলে স্লাইড করতে লাগল। ঠিক এই চরম অশান্ত মুহূর্তেই গাড়ির সামনের বাম পাশের দরজাটা খুলে কেউ একজন সামনের সিটে বসতে গেল। আর্য চোখ না খুলেই অত্যন্ত গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
– “স্টপ! নিজের লিমিটের মধ্যে থাক!”
আর্যর কথা শুনে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা নিশির মুখটা দেখার মতো হলো। আর্য এবার চোখ খুলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নিশির দিকে তাকাল এবং দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
– “নিজের লিমিটের মধ্যে থাক তুই, ইউ ব্লাডি হেল! আমি যদি তোকে লিমিট শেখাতে আসি, তবে তোর জন্য সেটা খুব খারাপ হবে, তুই জাস্ট ইমাজিনও করতে পারবি না। নাউ গেট আউট ফ্রম মাই কার!”
চরম অপমানে আর রাগে নিশির ফর্সা মুখটা থমথমে হয়ে গেল। সে এবার গলা উঁচিয়ে বলল—
– “তুমি আমাকে এভাবে ইনসাল্ট করতে পারো না আর্য?”
– “ইনসাল্ট মাই ফুট!” আর্য কুৎসিতভাবে হেসে বলল, “তোকে আমি ডেকেছিলাম এখানে অপমান করার জন্য? নিজে যেচে এসেছিস কেন অপমান হতে? গতকালই আমি তোকে ওয়ার্নিং দিয়েছিলাম যে আমার আশেপাশে যেন তোকে আর কখনো না দেখি!”
– “কেন আসব না আর্য?” নিশি এবার অধিকার ফলানোর চেষ্টা করে বলল, “আমরা দুজনে একসাথে প্যারিসে পড়াশোনা করেছি, তখন তো আমরা সবসময় একসাথেই ঘোরাফেরা করতাম! তখন তো তোমার কোনো সমস্যা হতো না!”
নিশির মুখে প্যারিসের কথা শুনতেই আর্যর পুরো মুখমণ্ডল রাগে একদম কঠিন হয়ে গেল। সে নিজের ভেতরের এই অবাধ্য রাগ সামলাতে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে নিল এবং বড় বড় শ্বাস টানতে লাগল। কিন্তু চোখ বন্ধ করতেই আর্যর মনের পর্দায় মুহূর্তেই ভেসে উঠল পুষ্পর সেই টলমলে, মায়াবী আর অশ্রুসিক্ত চোখ দুটো!
আর্য নিজের অবচেতন মনের গভীরে দাঁত কিড়মিড় করে বিড়বিড় করে বলে উঠল—
– “তখন… তো ওই ভীত চোখ দুটো ছিল না! যে চোখ দুটো আমার আশেপাশে অন্য কোনো মেয়েকে দেখলেই চোখের পানি ফেলার জন্য তৈরি থাকে আর যে চোখের পানি আমার সহ্য হয় না!”
আর্য চোখ খুলে বাইরে তাকাল। সে দেখল, একটু দূরে পুষ্প দাঁড়িয়ে আছে ওদের দিকেই তাকিয়ে। তা দেখে আর্যর ভীষণ রাগ হলো। সে এক ঝটকায় গাড়ি থেকে নেমে পুষ্পর দিকে এগিয়ে গেল। ওর কাছে গিয়েই পুষ্পর নরম চোয়ালটা নিজের শক্ত হাতে চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলল—
– “স্টুপিড! বলেছিলাম না দুই মিনিটের মধ্যে আসতে? তাহলে এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
পুষ্প কোনো জবাব দিল না। তার অবাধ্য অশ্রুকণারা আবারও চোখে হানা দিল। কিন্তু কেন? আর্য ওভাবে চোয়াল চেপে ধরেছে বলে, নাকি নিশিকে আর্যর সাথে ওভাবে কথা বলতে দেখেছে বলে? এদিকে পুষ্পর সেই টলমলে চোখ দুটো দেখা মাত্রই আর্যর মনটা অকারণে আবারও অশান্ত হয়ে উঠল। সে পুষ্পর চোয়াল থেকে নিজের হাতটা ছেড়ে দিল। তারপর পুষ্পর হাতটা শক্ত করে ধরে টেনে নিজের গাড়ির সামনের সিটের দিকে এগিয়ে গেল। নিশিকে তখনও একই জায়গায় ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আর্য অত্যন্ত তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল—
– “নেক্সট টাইম আমি কিংবা আমার কোনো জিনিসের থেকে দূরত্ব মেইনটেইন করে চলবি নিশি! এতে তোর নিজের জন্যই মঙ্গল হবে। এখন সাইড দে!”
আর্য পুষ্পকে গাড়ির সামনের সিটে বসিয়ে দিল। তারপর নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে পুষ্পর গায়ের ওপর সামান্য ঝুঁকে ওর সিটবেল্টটা বেঁধে দিল। এরপর সে গাড়ি স্টার্ট দিল। গাড়ি চলতে চলতে হঠাৎ আর্য একপলক পুষ্পর দিকে তাকাল, তারপর আবারও রাস্তার দিকে চোখ রেখে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল—
– “তোমার কোনো জিনিসে অন্য কেউ নজর দিলে তুমি কী করবে?”
হঠাৎ আর্যর মুখ থেকে এমন অদ্ভুত কথার কোনো মর্মার্থই বুঝতে পারল না পুষ্প। সে একদম অবুঝ ও সরল দৃষ্টিতে তাকাল আর্যর দিকে। আর্য একপলক সেদিকে তাকিয়ে নিজের মনেই বিড়বিড় করল—একটা মেয়ের চোখ এতটা অদ্ভুত কী করে হতে পারে? কাঁদলেও বুকে ঝড় ওঠে, হাসলেও অন্যরকম ঝড় ওঠে; আর এখন এই সরল, অবুঝ দৃষ্টিও মনের ভেতর এক অন্যরকম ঝড় তুলছে! কিছুতেই শান্তি নেই এই চোখ দুটোতে, যত সব অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে নিজের গলাটা আরও কিছুটা গম্ভীর করে বলল—
– “ফর এক্সাম্পল—তোমার একটা জিনিস, যেটা শুধু তোমার; কিন্তু অন্য কেউ এসে সেই জিনিসটা তোমার থেকে কেড়ে নিতে চাইছে। কী করবে তুমি তখন?”
পুষ্প আর্যর কথা শুনে কিছুটা ভাবনায় পড়ল। তারপর মিনমিন করে উত্তর দিল—
– “যদি আমার জিনিসটা অন্য কারও বেশি পছন্দ হয়ে যায়, তাহলে দিয়ে দেব। আমি পরে আরেকটা নিয়ে নেব!”
পুষ্পর এমন সরল উত্তর শুনে আর্য আচমকা চিৎকার করে উঠল— “হোয়াট!”
হঠাৎ আর্যর এমন তীব্র চিৎকারে কেঁপে উঠল ভীত রমণী। সে চরম ভীতি জড়ানো চোখে তাকাল আর্যর দিকে। মনে মনে ভাবল—সে কি আবারও কোনো ভুল কথা বলে ফেলেছে? এদিকে আর্য রাগে নিজের মুখমণ্ডল শক্ত করে রেখেছে। সে এবার দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
– “ভুলেও কখনো এই ভুলটা করবে না! তোমার জিনিস সবসময় শুধুই তোমার থাকবে। তুমি সেটা অন্য কাউকে দিয়ে নিজে আরেকটা কেন নেবে? তোমার জিনিসে তুমি নিজের পুরো অধিকার খাটিয়ে নিজের কাছে রাখবে। বুঝেছ?”
– “ঠিক আছে।” পুষ্প নিচু স্বরে বলল।
– “কী ঠিক আছে?” আর্য আবারও ধমকের সুরে শুধাল।
– “আমার জিনিস কেউ চাইলেও আমি দেব না। আমার জিনিস আমি নিজের কাছেই রাখব, অধিকার খাটিয়ে রাখব।”
আর্যর ঠোঁটের কোণে এবার আলতো সন্তুষ্টির আভাস ফুটল, সে শান্ত গলায় বলল—
– “গুড! মনে রাখবে—শুধু জিনিস না, সবকিছুর ক্ষেত্রে এই একই নিয়ম।”
পুষ্প কিছু না বলে শুধু মাথা নেড়ে সায় জানাল! আর্য পুষ্পকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে অফিসে চলে যায়। পুষ্পর জন্য সারা অপেক্ষা করছিল, সে সারার সাথে কলেজে ঢুকে যায়।
পুষ্প কলেজ শেষে মাত্র বাড়িতে এসেছে, বাড়ির ড্রাইভার গিয়ে নিয়ে এসেছে তাকে। শেহনাজ সরকার পুষ্পকে দেখে তাকে ওপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিতে বলেন। পুষ্প মাথা নেড়ে ওপরে চলে যায়। নিশি আর মিনারা বেগম সোফায় বসে ছিল, পুষ্পকে যেতে দেখে নিশি দাদিকে কিছু একটা বলে ওপরে চলে যায়!
পুষ্প গোসল সেরে বের হয়ে বারান্দায় কাপড় মেলে দিয়ে খরগোশ দুটোকে আদর করতে থাকে। এরমধ্যে রুমে প্রবেশ করে নিশি। সে রুমের চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখল—বড় মাস্টার বেড, পুরো রুম সাজানো দামি শোপিস আর পেইন্টিং দিয়ে ভরা। এই রুমে সে রাজ করবে; ওই অনাথ মেয়েকে সে কোনোদিন আর্য কিংবা আর্যর রুম, কিছুই দখল করতে দেবে না। আর্যকে বিয়ে করলে তার লাইফ সেট, আর্যর ওপর রাজ করতে পারবে। আর আজকে সিমরানের কথা শুনে সে বুঝে গেছে আর্য এই বিয়ে মানে না; সে পুষ্পকে বউ হিসেবে মানে না, দুই চোখে সহ্য করতে পারে না। তার মানে তার রাস্তা আরও সহজ হয়ে গেছে। পুষ্পকে আর্যর জীবন থেকে সরাতে বেশি কষ্ট করতে হবে না।
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৭ (২)
নিশি রুমে পুষ্পকে না দেখে বারান্দায় যায়, যেখানে পুষ্প মেঝেতে বসে খরগোশ দুটোকে কোলে নিয়ে আদর করছে। পুষ্পর পরনে এখন সাদা থ্রি-পিস পরা, ওড়নাটা গলায় ঝুলিয়ে রাখা, চুলে সাদা তোয়ালে পেঁচানো আছে। নিশি গিয়ে পুষ্পর সামনে দাঁড়িয়ে সোজাসুজি প্রশ্ন করল—
– “আর্যকে কেন বিয়ে করেছ?”
