Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২২

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২২

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২২
রুপা

আর্য নিচে নেমে ইভান আর নিশির অপোজিট সাইডের সোফায় বসে পড়ে। আর্যকে দেখে সিমরান আর শিফা উঠে ওপরে সিমরানের রুমে চলে গেল। ইভান আর্যর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল—
– “কী রে, বউয়ের জন্য কী এনেছিস লুকিয়ে যে আমি জিজ্ঞেস করাতেও বললি না? আমি কি ভাগ নিতাম নাকি তোর বউয়ের জিনিসে?”
ইভানের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে আর্য জিজ্ঞেস করল—
– “কী কাজে এসেছিস?”
– “কেন, কোনো কাজ ছাড়া আসতে পারি না?”
– “হঠাৎ সন্ধ্যায় বাড়িতে কাজ ছাড়া নিশ্চয়ই আসবি না, আগে তো কোনোদিন আসিসনি!”
– “আগে আসিনি, এখন আসছি! বাই দ্য ওয়ে, তুই আজকাল থাকিস কোথায়? দেখাই পাওয়া যায় না। আগে দুদিন অন্তর ক্লাবে দেখা করতি, এখন ক্লাবে যাস না কেন?”
ইভানের কথায় আর্য দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে কীভাবে বোঝাবে—ওই মেয়ে আশেপাশে থাকলে অন্য কোনো চিন্তা, অতীতের কোনো কালো স্মৃতি তার মনেই আসে না; শুধু ওই মেয়েই বিচরণ করে সারাক্ষণ। তাই কিছু ভোলার জন্য তাকে আর মদের নেশাও করতে হয় না। আর্য মুখে শুধু বলল—

– “প্রয়োজন পড়ে না, তাই এখন ক্লাবে যাই না!”
আর্যর কথায় ইভান যেন আকাশ থেকে পড়ল! কী বলে এই ছেলে? যে গত দুই বছর দু-তিন দিন পর পর নেশা করে বুঁদ হয়ে থাকত, ক্লাবে পড়ে থাকত, মাঝরাতে যার মাতলামির সারথি হতে হতো—সেই বন্ধু আজ বলছে ড্রিঙ্কের প্রয়োজন পড়ে না! সে অবাক সুরে শুধাল—
– “প্রয়োজন পড়ে না?”
ইভানকে এভাবে আশ্চর্য বনে যেতে দেখে আর্য বিরক্ত হয়ে ঝাঁড়ি দিল—
– “নরমাল হ, নয়তো বাড়ি থেকে লাথি দিয়ে বের করে দেব!”
ইভান সাথে সাথে নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের মনে মনে বিড়বিড় করে বলল—
– “শালা, কিছু হলেই শুধু বাড়ি থেকে বের করার হুমকি দেয়! যেন বাড়িতে কোনো গোপন খাজানা লুকিয়ে রেখেছে!”
বেচারা যদি জানত তার বন্ধু তার থেকে তার মেনে না নেওয়া বউকে লুকিয়ে রাখছে—মানে তার ক্রাশ, সেই মায়াপরীকে, তাহলে মনে হয় অকালেই অক্কা যেত সে!

– “কী বিড়বিড় করছিস?”
আর্যর প্রশ্নে ইভান তড়িঘড়ি করে নিজেকে সামলে নিল। শালা, মনে মনেও কিছু বলে শান্তি নেই!
– “কিছু না!”
ইভান এবার একঝটকায় আর্যর পাশে বসে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল—
– “আর্য, তোর বোন কোথায় রে? আসার পর থেকে একবারও দেখলাম না। ও কী চলে গেছে নিজের বাড়ি?”
আর্যর বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলো না ইভান কার কথা বলছে। বোঝার সাথে সাথেই আর্যর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। সে দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলল—
– “হ্যাঁ, চলে গেছে নিজের বাড়িতে। ওই মেয়ে এই বাড়িতে নেই।”
আর্যর কথা শুনে ইভানের মুখটা দেখার মতো হয়েছে। চলে গেল মায়াপরী! দেখা হওয়ার সাথে সাথেই আবারও হারিয়ে গেল। এভাবে চলতে থাকলে কী করে মায়াপরীকে নিজের বউ করব? না, যা করার তা খুব তাড়াতাড়িই করতে হবে।
ইভানের কালো মুখটা দেখে আর্য ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল, তবে সেটা ইভান খেয়াল করল না। আর্য এবার ইভানকে জিজ্ঞেস করল—

– “কী হলো, এভাবে মুখ কালো করেছিস কেন?”
– “কিছু না!” ইভান ছোট জবাব দিল।
আর্য আর ঘাটাল না। সে ফোন বের করে সময় দেখল, রাত নয়টা বাজে। মেয়েটাকে লক করে দিয়ে এসেছে অনেক্ষণ হয়ে গেছে; মেয়েটার নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে। সে এবার উঠে রান্নাঘরের দিকে গেল। রান্নাঘরে কেউ নেই, সবাই রাতের খাবার খায় দশটার পরে। আর্য আর কাউকে ডাকল না; নিজে একটা প্লেট নিয়ে ধুয়ে সেখানে খাবার বাড়তে লাগল। মাছ-মাংস একপাশে রেখে ডালের বাটি নিল। আশ্চর্যের বিষয় হলেও, আর্য প্যারিস থেকে আসার পরে কোনোদিন এক গ্লাস পানির জন্য ও রান্না ঘরে আসেনি, সেখানে পুষ্পর জন্য রান্নাঘরে এসে নিজে খাবার বেড়ে নিয়ে যাচ্ছে! তারপর খাবারের ট্রে হাতে নিয়ে ড্রয়িং রুম থেকে ওপরে যাওয়ার সময় ইভান ডেকে উঠল—

– “কী রে, খাবার নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস?”
আর্য যেন শুনেও শুনল না। সে কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা ওপরে উঠে গেল। এদিকে নিশি বুঝে গেছে খাবারগুলো পুষ্পর জন্যই; বুঝতে পেরেই নিশি হিংসায় পুরোপুরি জ্বলে উঠল। সে মনে মনে ঠিক করে নিল তাকে যা করার খুব তাড়াতাড়িই করতে হবে এবং সে সেটাই করবে।
এদিকে ইভান যেন এই আর্যকে চিনতেই পারছে না। ছন্নছাড়া আর্য কতটা গুছিয়ে সবকিছু করছে! প্রথমে হাতে শপিং ব্যাগ, এখন নিজের হাতে খাবার বেড়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আর্যই তো? তবে ইভান খুব খুশি হলো বন্ধুর এই পরিবর্তনে। সে যদি ভুল না বোঝে, তবে এসব আর্য তার বউয়ের জন্যই করছে। তার মানে আর্যর অবচেতন মন বউয়ের কথা ভাবতে শুরু করেছে, অতীত তাকে আর থামাতে পারছে না। সে খুব খুশি যে তার বন্ধু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে। অথচ সে যদি ঘুণাক্ষরেও টের পেত—সে যে মায়াপরীর টানে সরকার বাড়িতে বারবার আসে, সেই মায়াপরী আর কেউ নয়, তার বন্ধুরই বিবাহিত বউ, তখন সে আসলেই খুশি হতে পারবে তো? নাকি দুই বন্ধুর মাঝে ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে এক নারী?

আর্য খাবারের ট্রে নিয়ে রুমে এসে দেখল পুষ্প সোফায় বসে ঘুমিয়ে পড়েছে। চকলেট একটা আধখাওয়া অবস্থায় হাতে ধরে আছে, একটু হলেই হাত থেকে পড়ে যাবে। লম্বা চুলগুলো পুরো সোফায় ছড়িয়ে আছে, শপিং ব্যাগগুলো সব যেরকম রেখে গেছিল সেভাবেই পড়ে আছে গুছিয়ে। আর্যর এরকম অগোছালো পুষ্পকে দেখে রাগ হলো না।
বরং অদ্ভুতভাবে আর্যর ঠোঁটের কোণে হাসির দেখা মিলল। নিজের ঠোঁটের কোণে হাসির অস্তিত্ব টের পেয়ে আর্য নিজেই অবাক হয়ে গেল। সে নিজেকে ধমক দিয়ে সামলে নিল, মুখটা আবারও গম্ভীর করে এগিয়ে গেল ঘুমন্ত পুষ্পর নিকট। খাবারের ট্রেটা টেবিলে রেখে পুষ্পর হাতের চকলেটটা নিয়ে টেবিলে রেখে দিল, তারপর শপিং ব্যাগগুলো নিয়ে আলমারিতে রেখে দিল।
তারপর এগিয়ে এসে আস্তে করে ডাকল—

– “স্টুপিড গার্ল!”
পুষ্প একটু নড়তে গেলে যেই না তার মাথাটা পড়ে যাবে, অমনি আর্য এসে পুষ্পর মাথাটা নিজের হাতে নিয়ে নিল। পুষ্পর মুখটা একদম আর্যর মুখের সামনে। ঘুমন্ত পুষ্পর মুখটা দেখে আর্যর হৃদস্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। এতটা নিষ্পাপ কারো মুখ হয়? আচ্ছা, এত নিষ্পাপ মাসুম চেহারার মেয়ে নিশ্চয়ই কাউকে ঠকাবে না? নাকি এত নিষ্পাপ চেহারার মেয়েটাও ভালোবাসলে পাল্টে যাবে? হঠাৎ আর্য মৃদু স্বরে ফিসফিস করে বলল—
– “আচ্ছা, তোমাকে ভালোবাসলে তুমি শুধু আমার হয়ে থাকবে? একান্ত আমার হয়ে আজীবন থাকবে, নাকি ভালোবেসে কাছে টানলেই আমাকে ধ্বংস করবে?”
নিজের মুখ থেকে বেরোনো কথা শুনে নিজেই প্রচণ্ড অবাক হলো আর্য। সে চট করে পুষ্পর মাথাটা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের মাঝে দূরত্ব বাড়াল। ওদিকে হঠাৎ মাথা ছেড়ে দেওয়ায় পুষ্পর ঘুম ভেঙে গেল, হকচকিয়ে উঠল সে। বোকা চোখে এদিক-অদিক তাকাল, হঠাৎ ঘুম ভাঙায় কিছু বুঝতে পারছে না। এর মধ্যে হঠাৎ আর্যর গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো—

– “খাবার খেয়ে ঘুমাও, না খেয়ে কেন ঘুমিয়েছ!”
কথাটা বলেই একপ্রকার তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল সে; যেন এই মুহূর্তে পুষ্পর কাছ থেকে পালাতে চাইছে। পুষ্প ঘুম-ঘুম অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আর্যর যাওয়ার দিকে। কী হলো কিছুই মাথায় ঢুকল না রমনীর। সে এবার উঠে ওয়াশরুম থেকে মুখ-হাত ধুয়ে এলো যাতে ঘুমের রেশটা কেটে যায়। টেবিলে খাবারের ট্রে দেখে পুষ্প মনে করল তার ফুফুমণি কাউকে দিয়ে পাঠিয়েছে, ঘুম থাকায় হয়তো ডাকেনি।
পুষ্প খাবারের প্লেট নিয়ে অল্প খেয়ে আর খেতে ইচ্ছে করল না। সে পানি খেয়ে ওয়াশরুম থেকে হাত ধুয়ে এলো। খাবারের প্লেটের দিকে তাকিয়ে ভাবল নিচে রেখে আসবে; যেমন ভাবা, তেমনই কাজ। ওড়নাটা সুন্দর করে মাথায় জড়িয়ে নিল, তারপর রুম থেকে বের হয়ে গেল। পুষ্পর হয়তো মনেও নেই আর্য তাকে নিচে যেতে বারণ করেছে ঘুমানোর আগে!

শেহনাজ সরকার নিজের রুমে বসে কিছু ফাইল চেক করছেন। হঠাৎ একটা ফাইলে শেহনাজ সরকারের দৃষ্টি আটকে গেল। এই ফাইলটা দুপুরে তাঁর অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে গেছে—আর্য আর পুষ্পর ডিভোর্স পেপার! বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী ১৬ বছরের মেয়েদের বিয়ে আইনত বৈধ নয়; কিন্তু শেহনাজ সরকার একজন উকিল হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুষ্পকে আর্যর সাথে বিয়ে দিতে আদালত থেকে স্পেশাল অনুমতি নিয়েছেন। কারণ, একজন অনাথ নাবালিকা মেয়ের ওপর যে তীব্র অত্যাচার হচ্ছিল, তা থেকে মেয়েটাকে বাঁচাতে শেহনাজ সরকার আদালতে আপিল করেছিলেন। তিনি মেয়েটার গার্ডিয়ানশিপ নিজের নামে নিতে চেয়েছিলেন এবং নিজের ছেলের সাথেই বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। সে ক্ষেত্রে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, বিশেষ প্রেক্ষাপটে আদালতের অনুমতি নিয়ে ১৮ বছরের নিচে মেয়ের বিয়ে দেওয়া সম্ভব। আর সেই বিয়ের চার মাস পার হওয়ার আগেই আবার ডিভোর্স পেপার আনালেন শেহনাজ সরকার!
আমজাদ সরকার ফাইলের দিকে তাকিয়ে শেহনাজ সরকারকে উদ্দেশ্য করে বললেন—

– “তুমি সত্যি কি আর্য আর পুষ্পর ডিভোর্স করিয়ে দেবে?”
শেহনাজ সরকার একপলক আমজাদ সরকারের দিকে তাকিয়ে আবার ডিভোর্সের ফাইলের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। এখন আর্যকে দেখে বোঝা যায় সে মেয়েটার খেয়াল রাখছে, তাই শেহনাজ সরকার আপাতত ডিভোর্সের চিন্তা বাদ দিলেন। তিনি আর্যকে আরও কয়েক দিন সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি আমজাদ সরকারের দিকে তাকিয়ে বললেন—
– “তোমার ছেলেকে সাত দিনের সময় দিয়েছি নিজের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। দেখি তোমার ছেলে কী সিদ্ধান্ত নেয়!”
– “আর্য যদি সত্যি সত্যি ডিভোর্স দিতে চায়?”
– “আমজাদ, অনেক তো চেষ্টা করলাম। তিন মাস উনিশ দিন চলে আর্য আর পুষ্পর বিয়ের। মেয়েটাকে সবসময় আর্যর আশেপাশে রেখেছি, যাতে আর্যর মনে পুষ্পর প্রতি মায়া জন্মায়। তোমার ছেলের অপমান, অবহেলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, এমনকি গায়ে পর্যন্ত হাত তুলেছে—পুষ্প সব সহ্য করেছে। এরপরেও যদি আর্যর মনে মেয়েটার জন্য মায়া না জন্মায়, আমি আর জোর করব না পুষ্পকে বউ হিসেবে মেনে নিতে। আর্যর সাথে ডিভোর্স হওয়ার পরেও পুষ্পকে আমি আমার সাথেই রাখব। ওকে আমি ভালোভাবে স্বাবলম্বী করে, বড় করে একটা সুন্দর, সুযোগ্য সুপাত্রের হাতে তুলে দেব—যে ওকে ভালোবাসবে, ওকে আগলে রাখবে। আমি না থাকলেও মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখাবে, এমন কাউকেই আমি পুষ্পর জন্য বেছে নেব।
শেহনাজ সরকার একটু থেমে আবার বলতে লাগলেন–

– তোমার ছেলেকে আর জোর করতে চাই না, অনেক তো হলো। সে ছোট নয়, আমি জোর করলেই সে সব মেনে নেবে? তার জীবন তার মতো করে চলুক, দেখি সে ভবিষ্যতে কী করে। আর্য সবকিছু ঠিকঠাক সামলাচ্ছে—বিজনেস, সবকিছু; শুধু নিজের খেয়াল রাখছে না। আমি রুমে থাকলেও আমি জানি ছেলে মাঝরাতে ড্রিঙ্ক করে বন্ধুর কাঁধে ভর দিয়ে বাড়িতে আসে। আমি সেটাই বদলাতে চেয়েছিলাম। ছেলেটার খেয়াল রাখুক পুষ্প, ছেলেটা পুষ্পর খেয়াল রাখুক—দুজন দুজনের খেয়াল রেখে একে অপরের পরিপূরক হোক। কিন্তু তোমার ছেলে মেয়েটাকে তো কম তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেনি! হ্যাঁ, এখন কয়েক দিন খেয়াল রাখছে, যেটা আমার চোখে পড়ছে না এমন নয়। আমি খুশি, তাই আমি কয়েক দিন সময় দিতে চাই। এরপরেও যদি তোমার ছেলে পুষ্পকে ডিভোর্স দিতে চায়, আমি আর কিছু বলব না।”

– “এই মেয়ে, একটা কথা বললে শোনো না কেন? বলেছিলাম না রুম থেকে বের না হতে, তাহলে বের হয়েছ কেন? যেই না একটু ভালো ব্যবহার করছি, অমনি অবাধ্য হওয়া শুরু করেছ, তাই না?”
আর্য পুষ্পর চোয়াল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে কথাগুলো বলল। রাগে আর্যর কপালের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে, চোখ দুটো থেকে যেন আগুন ঝরছে! পুষ্প ভয়ে থরথর করে কাঁপছে; ইতিমধ্যে তার চোখ দুটো ভরে উঠেছে নোনা পানিতে।

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২১

তখন পুষ্প খাবারের প্লেট রাখতে নিচে যাচ্ছিল। সিঁড়িতে পা রাখতেই কোথা থেকে আর্য এসে হ্যাঁচকা টানে পুষ্পকে রুমে নিয়ে এসে ধড়াম করে দরজা বন্ধ করে দেয়। হঠাৎ এরকম হওয়ায় পুষ্প ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। আর্য দরজা লক করে পেছনে ফিরে হিংস্র থাবায় পুষ্পর চোয়াল চেপে ধরে কথাগুলো বলে!
– “এই মেয়ে, কথা বলছ না কেন? কেন বেরিয়েছ রুম থেকে? স্পিক আপ, ড্যাম ইট!”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here