আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৬৬
ইসরাত জাহান দ্যুতি
ব্যথায় নীল হয়ে এলো দীধিতির মুখটা। বাইরে থেকে আসা আবছা আলো তখন ব্যালকনির থাই গ্লাসের দরজাটা ভেদ করে সামনের পুরুষটির শরীরে পড়লে তার কোমরের নিচ অবধি কেবল স্পষ্ট হলো ওর কাছে, আর মুহূর্ত মধ্যেই সম্ভ্রম হারানোর ভয় দূর হয়ে বুকের মধ্যে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হলো পুরুষটিকে চিনতে পেরেই। তাকে অশ্রাব্য কতগুলো গালি ছুড়ে দেওয়ার জন্য মুখটা খুলতে উদ্যত হতেই ব্যক্তিটি পকেট থেকে ফোনটা বের করে ফ্লাশলাইট জ্বালিয়ে কিছুটা এগিয়ে এলো ওর কাছে৷ তাতে বাইরের আলোটা এবার তার মুখের ওপর পড়ল। পায়ের যন্ত্রণায় আর অদমনীয় রাগ নিয়ে দীধিতি সে সময় দেখল, ওর করুণ পরিস্থিতি দেখে পুরুষটির ঠোঁটে চাপা হাসি। আর তা নিশ্চয়ই মশকরার। ওর উদ্দেশ্যে নীরব ঘরে তার ভারী কণ্ঠে বেজে উঠল, ‘এসেছিলাম ডিনারের ইনভাইটেশন প্লাস আমার ভাইয়ের ওয়েডিং কার্ডটাও বেয়াইনকে দিতে। কিন্তু…’ দীধিতিকে আগাপাছতলা পর্যবেক্ষণ করে বিয়ের কার্ডটা থুতনিতে ঘষতে ঘষতে বলল, ‘এক্স ওয়াইফকে হাফ ন্যাকেড দেখব ভাবিনি। একটু সমস্যা বোধ করছিলাম। তাই দরজার মুখ থেকেই ফিরে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ লোডশেডিংই আবার থামিয়ে দিলো।’
এসব কথার মাঝে ফোনের আলোয় নাওফিলের মুখটা দেখে দীধিতি কিছুটা বিস্ময়ে গালিগুলো দিতে ভুলে গেছে। গায়ের রং অনেকটা ম্লান হয়ে আসা লাল ফরসা মুখে নাওফিলের ছোটো-বড়ো কাটাকুটির বেশ কিছু স্পষ্ট আর অস্পষ্ট চিহ্ন, আর তার সচারচার ঢেউ খেলানো চুলগুলো আগে মাঝারি আকারে থাকলেও তা আজ তুলনামূলক ভালোই ছোটো। পুরো চেহারাটার কাঠামোই যেন বদলে গেছে৷ এত পরিবর্তনে আগের সেই সুন্দরতা কতটা ক্ষয় হয়েছে না-কি অক্ষয়ই আছে, তা আর দেখতে ইচ্ছা হলো না বলে দৃষ্টি হটিয়ে নিলো সে। বিদ্যুৎও চলে এলো তখন।
মেঝেতে পড়ে থাকা শার্ট হঠাৎ তুলে নিতে দেখা গেল নাওফিলকে। কঠিন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দীধিতির মাঝে নিজের বেশভূষার কারণে কোনো লজ্জা বা জড়তা নেই। ওর দিকে যখন শার্টটা বাড়িয়ে দিলো নাওফিল, সেটা এক ঝটকায় ছিনিয়ে নিয়েই বেজায় চিৎকারে বলে উঠল দীধিতি, ‘গেট আউট!’
-‘থাকতে আসিনি, স্মরণ’ , অনুচ্চস্বরে বলল নাওফিল, ‘ওভাবে আর কখনো আনড্রেসড থেকো না, কেমন?’
তীব্র রাগ আর ক্ষোভে দীধিতি চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, ‘চুরি করে আমার বাসায় ঢুকে আমার বেডরুম অবধি চলে আসার পর এখন প্রুডারি দেখানো হচ্ছে! বাপের ধর্ম গ্রহণ করেছেন না-কি?’
হারিয়ে যাওয়া কিংবা মৃত বাবার চরিত্রের প্রতি কটুক্তি শুনে নাওফিল নিশ্চুপ রয়ে কয়েক পল তাকিয়ে থেকে শেষে দীর্ঘশ্বস ফেলল৷ রাগে কাঁপতে থাকা দীধিতিকে কিছুই বলল না জবাবে। ওকে ভাবনাতে ফেলে নীরবেই বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। তা দেখে পুনরায় গর্জন সুরে দীধিতি হুমকি দিলো, ‘আর কখনো এ বাসায় পা ফেললে দুশ্চরিত্রের সিল লাগিয়ে মিডিয়াতে ছড়িয়ে দেবো।’
কথাটা শুনেই দরজার মুখে থেমে পড়ল নাওফিল৷ বিড়বিড়িয়ে উঠল, ‘কী শিখিয়েছে নিহাদ? পারফেক্টলি থ্রেট করাটাও জানে না দেখছি।’ ঘাড় ফিরিয়ে দীধিতিকে জিজ্ঞেস করল, ‘কদিন আগেই না হলো এমনটা? তাতে কি কিছু ছেঁড়া গেছে আমার?’
-‘জানোয়ার!’ নাওফিলের শেষ বাক্যে রাগটা সাংঘাতিক বেড়ে গেছে দীধিতির। গালিটা কান অবধি না গেলেও ওর ঠোঁটদুটো নড়তে দেখেই তা আন্দাজ করে নিলো নাওফিল। বিশেষ কিছু মনে করল না তাতে৷ উলটে জিজ্ঞেস করল, ‘দুশ্চরিত্রের মতো কিছু করেছি তোমার সাথে?’
-‘আমার বেডরুমে এসে আমাকে আনড্রেসড দেখার সময় ভেতরের বন্য জন্তুটা কি ঘুমিয়ে ছিল?’ উত্তরে পালটা প্রশ্ন রাখল দীধিতি।
এবং অকাট্য সত্যটা শুনে নাওফিল তখন অপ্রতিভ অভিব্যক্তিতে ঘাড় ফিরিয়ে নিয়ে আর দাঁড়াল না৷ ‘আঁধারকে তুমি সব দেখিয়ে দাও, আর নাওফিল দেখলেই দোষ!’ শুধু যেতে যেতে উক্তিদুটো ছেড়ে গেল সে তারস্বরে।
-‘শুধু আঁধারকে কেন, যাকে দেখানো যায় তাকেই দেখাব। আর নাওফিল শেখ দেখলেই গায়ে আগুন দেবো।’ চেঁচিয়ে জবাব রাখল দীধিতিও। কিন্তু নাওফিল ততক্ষণে নিচে পৌঁছে গেছে। তাকে না বলতে পারা সেই অশ্রাব্য গালিগুলো দিতে দিতে দীধিতি উত্তপ্ত মগজ নিয়ে একটু খোঁড়াতে খোঁড়াতে গোসলে চলে গেল।
ফ্রেশ হওয়ার পর রাতের খাবারের জন্য নিচে আসতেই ডাইনিং টেবিলে থাকা ফোনটা বাজতে দেখল সে। আর তার সঙ্গে চোখে পড়ল খাবারের মাঝারি আয়তনের একটা ডালার পাশে ফুলের বুকে৷ বুঝতে সময় লাগল না ওগুলো কার তরফ থেকে রাখা। এগিয়ে এসে দেখল, বুকের মাঝে একটা হলুদ চিরকুটও ভাঁজ করে রাখা। সেটা পড়ার কৌতূহলটা দমন করে ফোনটা আগে হাতে নিলো৷ কিরণ কল করছে। রিসিভ করে কানে ঠেকিয়ে এলো রান্নাঘরে।
-‘কখন থেকে ফোন করে যাচ্ছি তোকে’, বিরক্ত গলায় জিজ্ঞেস করল কিরণ, ‘কোথায় ছিলি?’
-‘ফোন নিচে ছিল। আমি উপরে ছিলাম। কী অবস্থা? এখানে আসবি কবে তোরা?’
-‘আম্মু আর কাকু পরশু আসছে। কিন্তু তোর ওখানে যাবে কি না বুঝতে পারছি না। এনশিওর করে কিছু তো বলল না আম্মু। কিন্তু আমি কালই আসব। শপিংয়ে যেতে হবে।’
-‘তাওসিফ ভাই নিয়ে যাবে? না-কি তোর শাশুড়ি আর ননদ আসবে?’
-‘শাশুড়ি আসবে না। তাওসিফের সঙ্গে ওর শয়তানি বোনটা আসবে। ওকে দেখলেই আমার পায়ের তালু জ্বলে ওঠে রে, আপু। মন চায় জুতা খুলে পেটানো শুরু করি।’
ফ্রিজ থাকা খাবারগুলো একে একে বের করে ওভেনে দিচ্ছিল দীধিতি৷ বোনের কথায় হেসে উঠল, ‘জুতা পেটা যাদের করা উচিত ছিল, তারাই ছেড়ে দিলো। তুই আর সেখানে কীভাবে ইচ্ছে পূরণ করবি? বাদ দে, ফিহা আসবে আমার এখানে?’
-‘তাওসিফ তো বলল আসবে।’
-‘তাহলে নির্ঘাত কোনো ফন্দি এঁটেছে। নয়ত আমার বাসায় আসার মতো মানসিকতা তো থাকার কথা না ওর। তাওসিফ ভাই যতই রিকুয়েষ্ট করুক।’
-‘আরে নাহ। তাওসিফ কোনো রিকুয়েষ্ট করেনি৷ এমনকি শপিংয়ে আমাদের সঙ্গে যাওয়ার কথাও সেভাবে জোর দিয়ে বলেনি। ও নিজেই যেতে চেয়েছে।’
-‘তাহলে শিওর থাক। কাল কিছু একটা ঘটছে।’
-‘ঘটালে তুই কিন্তু চুপচাপ মেনে নিবি না। আমার বিয়েতে প্রভাব পড়তে পারে, এমনটা মোটেও ভাববি না।’
-‘আমি আর এখন ও বাড়ির বউ নেই যে, আমাকে অনেক কিছু সহ্য করে, ধৈর্য ধরে মানতে হবে। একটা কথা তাওসিফ ভাইকে জিজ্ঞেস করিস তো, তোদের বিয়ে কার্ড বিলানোর দায়িত্ব কি শেখ বাড়ির ছোটো ছেলেকে দেওয়া হয়েছে?’
-‘নাওফিল ভাইকে? কী জানি! বোধ হয় না।’
-‘তাহলে ওই জানোয়ারটা আমার বাসায় ঢুকে কার্ড দেওয়ার ছুতোটা দিলো কেমন করে?’
-‘তোর বাসায় ঢুকেছিল মানে? তুই ঢুকতে দিলি কেন?’
-‘বলদ! ও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিংবেল চাপেনি যে, দরজা থেকেই বিদায় করে দিতে পারব। আমি জামাটা… ‘ পোশাক ছাড়া থাকার কথাটুকু চেপে গেল দীধিতি। ‘আমি বাসায় ফিরে দশটা মিনিটও হয়নি বিছানায় শুয়েছি। লোডশেডিং হলো এর মধ্যে। আচমকা ঘরের দরজায় ওকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি তখন।’
-‘কী বলছিস! ঢুকলো কেমন করে?’
-‘ভুলে যাচ্ছিস কার বাড়ি ছিল এটা? চাবি ম্যানেজ করা ওর জন্য আহামরি কিছু না নিশ্চয়ই?’
-‘ইয়াসিফ ভাই দিয়েছে না-কি?’
-‘তার সাথে তো দেখা হলেই ফাইট চলে। ও চাইলেও সে দেবে মনে করছিস?’
-‘তাওসিফের সঙ্গে দেখা হলেও তো অ্যাগ্রেসিভ হয়ে ওঠে। তাহলে আমাদের বিয়ের কার্ড নিয়ে গেল কেমন করে?’
দুটো বিষয়ই কিছুটা ভাববার মতো। ইয়াসিফের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলে দেখতে হবে। কিরণ আবার জিজ্ঞেস করল, ‘এসে কী করল সে? কী বলল তোকে?’
-‘ফাজলামি করতে এসেছিল। বেয়াইনকে ডিনারের দাওয়াত আর তোদের বিয়ের দাওয়াত এসেছিল না-কি। টেবিলে খাবারের ডালাও দেখছি। দিয়ে আসব সিকিউরিটি গার্ডকে।’
-‘বুঝলাম না কাহিনি। এতগুলো দিন পর তোর সাথে দেখা করতে গেল ডিনারের দাওয়াত দেওয়ার জন্য? তুই তার গানম্যান সে হিসেবে?’
-‘গানম্যানকে বাড়ি বয়ে এসে দাওয়াত দেবে?’
-‘তাহলে বাড়ি বয়ে এলো কেন?’
-‘বললাম, ফাজলামি করতে এসেছিল। নেহাৎ ওর হয়ে আজ চাকরি করতে হবে। নয়ত গোটা কয়েক থাপ্পড়ে ওর গাল ফাটিয়ে দিতাম।’
ফোনের ওপাশে থাকা কিরণের বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো৷ নাওফিল যে তার বোনকে আবার ফিরে পেতে কত কাহিনি ঘটাবে! তা বেশ আন্দাজ করতে পারছে সে। এজন্য সামনে আরও কত ঝামেলা অপেক্ষা করছে কে জানে! মাহতাব শেখ কি চুপচাপ দেখে যাবে আদরের নাতির অবাধ্যতা? এই লোকটা কী যে সাংঘাতিক, তা কিরণ দেখেছিল চার বছর আগে সে আর তাওসিফ যখন দুর্ঘটনাটা ঘটিয়েছিল।
দুবাইতে মাহতাব শেখের ব্যবসার প্রসার ঘটেছিল অনেক আগেই৷ কিন্তু নাওফিল আর তাওসিফ এক সঙ্গে ব্যবসাতে ঢোকার পর দু ভাই ওখানে হোটেলের ব্যবসাটা শুরু করার পরিকল্পনা করে। যার জন্য প্রচুর ইনভেস্টমেন্টেরও প্রয়োজন। কিন্তু দুজন আনাড়ি ব্যবসায়ী হিসেবে তাদেরকে অত মোটা টাকা দেওয়ার ভরসাটা করে উঠতে পারেনি তখনো বাড়ির বড়োরা। তবে মাহতাব শেখকে রাজি করাতেও খুব একটা কষ্ট হয়নি নাওফিল আর তাওসিফের৷ তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ওখানের প্রতিষ্ঠিত সুপরিচিত একজন ব্যবসায়ীর সহযোগেই প্রথমে হোটেল ব্যবসাটা শুরু করবে দু ভাই। তাতেই সন্তুষ্ট হয় ওরা৷ এরপর মাহতাব সাহেব আর নাওফিল দুবাইতে যান। সব কিছু ঠিকঠাক হওয়ার পর তারা ফিরে এলে তাওসিফ এই খাতিরে বাড়িতে একটা পার্টি আয়োজনের প্রস্তাব রাখে দাদার কাছে৷ প্রস্তাবটা পছন্দ হয় মাহতাব সাহেবের৷ যেহেতু রাজনীতি আর ব্যবসার মাঠে শক্তপোক্ত একটা স্থান আছে তার৷ নিজের নাতিদেরও এমন একটা স্থান তৈরি করে দেওয়ার জন্য সকল রাজনৈতিক আর ব্যবসায়িক মহলের উচ্চ ব্যক্তিবর্গকে এমন একটা পার্টিতে উপস্থিত করলে মন্দ হয় না প্রাথমিক পর্যায়ে৷
দীধিতি তখন গাজীপুরেই অবস্থান করছে৷ জান্নাতি বেগমের কান্নাকাটি আর অসুস্থার কারণে নাওফিল ওকে নিয়ে শেখ বাড়িতে থাকতে বাধ্য হয়৷ ওদিকে কিরণ ঢাকায় একা হয়ে যায় বলে ঝুমুর চলে আসেন মেয়ের কাছে। বাসা ভাড়া করে থাকতে শুরু করেন তারা। দীধিতি আর নাওফিল বহুবার অনুরোধ করেছিল তাদের উত্তরার বাড়িটাতে থাকতে৷ কিন্তু আত্মসম্মানবোধ থেকে রাজি হননি ঝুমুর৷ আর সোহাইল শেখও চাননি তার স্ত্রী ভাতিজার বাসায় গিয়ে থাকুক৷
শেখ বাড়ির পার্টিতে আমন্ত্রিত হওয়ায় পার্টির আগের দিনেই কিরণকে নিয়ে আসে নাওফিল। সম্পর্কটা তখন তাওসিফের সঙ্গে কেমন কিরণের? মাত্র চার মাসের ব্যবধানে কিরণের লাজুক সৌন্দর্যের বদৌলতে সম্পর্কটা ওদের একদমই স্বাভাবিক ছিল না সে সময়ে। তাওসিফের করা হুটহাট মশকরাগুলোই কিরণ যেভাবে লাজুক আর নাস্তানাবুদ হত, আর তার লাজুকতায় তাওসিফ যেভাবে মুগ্ধ হত, তা দেখে নাওফিল আড়ালে তাওসিফকে খোঁচাতে থাকলে একটা সময় তাওসিফের মাঝে কিরণকে নিয়ে নিষিদ্ধ ভাবনা আর অনুভূতিগুলো চলেই আসে৷ পরিষ্কারভাবে বলতে হলে, কিরণের লাজুক মুখশ্রী দেখে ভালো লাগা আর নাওফিলের দুষ্টু কথার ইন্ধনেই তাওসিফের মাঝে প্রেম প্রেম ভাবনার উদয় হয়। সে সময়ই আবার বাড়ি থেকেও তার বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল সকলে।
দু, একটা মেয়েও দেখা হয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু অযৌক্তিক সব কারণে সেসব মেয়েদের কাউকেই তাওসিফের চোখে লাগেনি, মনেও লাগেনি৷ অভাবনীয়ভাবে সেখানে কিরণের মুখটাই কেবল কল্পনা করে বসত সে। নিজের ভেতরকার এই সমস্যাগুলো নাওফিল আর ইয়াসিফকে খুলে বললে আগে নাওফিলই আশকারা গলায় বলে তাকে, ‘বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে দে আমার শাশুড়িকে। ফরসা মেয়েকেই বউ হতে হবে, শেখ বাড়িতে এই নিন্দনীয় নিয়ম বদলানোর কাজটা তুই-ই শুরু কর, ভাই।’
ইয়াসিফ তখন একটু বাঁকা সুরে বলেছিল তাওসিফকে, ‘এ যুগের খুকিরা বহুত চালু কিন্তু। এদেরকে গড়ে নেওয়া যাবে নিজের মন মতো, এমনটা সব সময়ই হয় না, ব্রাদার্স। অবশ্য কিরণ চালু চিজ হলেও সুশীল আর ভদ্র আছে। সংসারীও আছে বেশ। ভালোই থাকবি বিয়ে হলে৷ কিন্তু বিয়েটা করতে পারবি কি-না সেটাই কথা৷ কুরুক্ষেত্র চলবে বাড়িতে। জাদের মামলা সামলাতে পারলেও তোরটা পারা মুশকিল হবে। বুঝেশুনে পদক্ষেপ নিস।’
আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৬৫
কথাগুলো ইয়াসিফের বাঁকা হলেও কঠিন সত্য ছিল। নাওফিলও তাই বলেছিল তাওসিফকে, ‘যদি দেখি আমার বউ বা বউয়ের পরিবার অসম্মানিত হচ্ছে, আমি কিন্তু তখন সরাসরি কিছুই করতে পারব না। তাছাড়া যে কোনো পরিস্থিতিই হোক, আমি সামলানোর ব্যবস্থা করব ইনশা আল্লাহ।’
