নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন
হারুন মির্জা আর আরফ অফিসে,,এই আরহাম কয়দিন অফিসে গিয়েছিলো এখন আবার বাসায় বসে আছে,,তবে কেউ তেমন কিছু বলে না,,আরহামের মন মর্জি,,,
নুবার দুই হাত শূন্য,,,যা দিয়ে তার বুক ভরপুর ছিলো এই মাত্র তাকে নিয়ে নেওয়া হলো,,,অভিমানে বুক ভরে আসলো নুবার,,, কষ্ট গিলে চোখ সরিয়ে নিলো,,আয়রা ফিড করছিলো তবে পরি এসে নিয়ে গেলে,,নুবার নিজেকে যেনো অসহায় লাগলো,,,পরপর নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হাত গুটিয়ে বসে রইলো,,,
পরি আর চোখে এক বার আরহামের দিকে তাকালো,,যে কিনা কান্ত ভঙ্গিতে সিরি দিয়ে নামছে,,,পরির বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,,কি করবে সে??
আরহাম এগিয়ে এসে আশে পাশে চোখ বুলিয়ে নুবাকে খুঁজলো,,, অতঃপর চোখ ফিরিয়ে আয়রার দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_ খেয়েছে ও,,,
পরি মাথা ঝুলিয়ে বললো
_ হুম,,
আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো
_ আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি,,,
বলেই আরশির দিকে তাকালো,,আরশি নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ একজন বললেই তো হয়,,,
আরহাম সরু চোখে আরশির দিকে তাকালো,,,আরশি ভাইয়ের চাহনি দেখে ভয় পেয়ে একটু জোরপূর্বক হাসলো,,,
আরহাম পকেটে হাত গুজে নুবাদের রুমে ডিরেক্টর চলে গেলো,,,তখন নুবা বিছানায় চুল ঝুছিয়ে সোজা হয়ে শুয়ে আছে,,হাত নাড়িয়ে আশে পাশে তাকাচ্ছে,, আসলে time passes করার চেষ্টা করছে সে,,,
আরহাম আশে পাশে চোখ বুলিয়ে নিলো,,,না হাজেরা নেই,,, অতঃপর নুবাকে এক পলক দেখার জন্য রুমে প্রবেশ করে নুবাকে এরকম ঝুঁলে থাকতে দেখে ভুরু কুঁচকে নিলো সে,,এই মেয়ে এভাবে পাগলের মতো শুয়ে আছে কেন,,,
এদিকে অন্য পাশে মাথা ঝুঁকিয়ে রাখায় নুবা টের পেলো না আরহাম এসেছে সে ভাবলো হয়তোবা তার মা,,,,তাই ঝুলতে ঝুলতে বললো
_ মা,,, কিছু একটা বানিয়ে খাওয়াও না,,,পেটের ভিতরে চু চু করছে,,,
অপাশ থেকে উত্তর আসলো না,,নুবা বিরক্তে মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে বললো
_ ওই পরির বাচ্চা আয়ারকে নিয়ে গেছে আম্মু,,,ডাইনিটা ভালো মতো বাচ্চাটাকে খেতেও দিলো না,, ইচ্ছা তো করছে,,,
বলতে বলতে নুবা বিছানায় উঠে বসলো,,, অতঃপর কিছু কঠিন শব্দ উচ্চারণ করতে যাবে সামনের মানুষ টাকে দেখে তার জবান আঁটকে গেলো,,,নুবা কিছু সময় মুখ বিকৃত করে তাকিয়ে রইলো,, অতঃপর পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রাগি কন্ঠে বললো
_ আবার আসছেন আপনি,,, লজ্জা শরম নাই নাকি,,,
আরহাম শুধু দাঁড়িয়ে রইলো,,,এর ভিতরে বেগরা দিতে হাজেরা চলে আসলো,,আরহামকে রুমে দেখে অবাক হলো সে,, অতঃপর গলা ঝেড়ে কাশলো,,
হাজেরার শব্দে আরহাম পিছন ফিরে তাকালো,, হাজেরা জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ তুমি এখানে কি করছো বাবা,,
হঠাৎ হাজেরাকে দেখে আরহাম অপ্রস্তুত হয়ে গেলো,,,কি বলবে খুঁজে পেলো না পরপর ধীরে কন্ঠে বললো।
_আপনার মেয়েকে দেখতে এসেছিলাম,,
কথাটা শুনে হাজেরা স্তব হয়ে গেলো,, বাজখাঁই কন্ঠে বললো
_ কি???
আরহাম মনে মনে হেসে বললো
_ আরে,, আমার মায়েরে,,আয়রা কোথায়,,ওকেই নিতে এসেছিলাম,,,
হাজেরা শান্ত হলো তবে সন্দেহ আর কাটলো না,,, দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আপনার মেয়ে তো আপনার বউ এর কোলে বাবা,, লিভিং রুমে,,,
আরহাম জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ ও ho আমি তো জানতামি না,,এত বড় খবর দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ,,
বলেই আরহাম বাইরে চলে আসতে নিলো হাজেরা পিছন থেকে বলে উঠলো
_ দেখো বাবা বাড়ি তোমাদের,,রুমটাও তোমাদের তবে ঘড়ে একটা সেয়ানা মেয়ে আছে আমার,,,এভাবে হুট হাট রুমে চলে আসলে তো সবাই গালমন্দ করবে বাবা,,, তোমার বউ যদি কিছু মনে করো তাই না,, বাড়িতে কত মানুষ আছে,, দরকার পড়লে আমাকে বলিও তাই না,,,
আরহাম পিছনে ঘুরে তাকিয়ে ত্যারামো করে বললো
_ তাহলে আপনার মেয়েটাকে আমার বউ বানিয়ে দিন না,,তবেই তো সব সমাধান হয়ে যায়,,,(মনের কথাটা মনেই রেখে আরহাম বিরবির করে বললো)
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,, পরবর্তী সময় থেকে খেয়াল রাখবো,,,
হাজেরা এসে নুবার মাথায় পরপর দুই টা থাপ্পর মেরে বললো
_ রুমের ভিতরে ডুকে যায় কিছু বলতে পারিস না,,,
নুবা নাক মুখ কুঁচকে মাথায় হাত ডলে বললো
_ কি বলবো আমি,,আজব,,, সবসময় আমাকে দোষ দেও,,,রুমে বসে থাকি তাও তোমার সমস্যা,, অসহ্য,,,
আরহাম লিভিং রুমে এসে পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ আয়ারাকে নুবার কাছে দিয়ে আসো,,, আমার মেয়ের পেট ভরেনি,,,
পরি মুখ তুলে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কিন্তু,,,,একটু আগেই তো খে,,,,,
আরহাম ধমকে উঠলো পরিকে আর বললো
_ যা বলছি তাই করো,,,বেশি কথা আমার পছন্দ না,,,
পরি চমকে উঠলো,,,মিনমিন করে বললো
_ আ,, আচ্ছা,,,
পরি আস্তে করে উঠৈ নুবাদের রুমে চলে গেলো,,,নুবা পরিকে আসতে দেখে মনে মনে মুখ বাকালো,,পরি এগিয়ে এসে আয়রাকে বিছানায় শুইয়ে বললো
_ একটু খাওইয়ে দেও তো নুবা,, হয়তোবা পেট ভরেনি,,
নুবার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো,, হাস্যোজ্জ্বল মুখে বললো
_ কেন কান্না করছিলো
_ হ্যাঁ,,একটু একটু,,,
বলেই পরি আয়রাকে দিয়ে চলে গেলো,,
নুবা তাড়াতাড়ি আয়রাকে কোলে নিয়ে ঠেশে চুমু খেএ বললো
_ জীবনে একটা ভালো কাজ করেছিস মা,,i love you so much,,,,উময়া,,,,
কেটে গেছে অনেকটা দিন,সময়ের স্রোতে বদলে গেছে অনেক কিছু।যে মুহূর্তগুলো একসময় খুব আপন ছিল, আজ সেগুলো স্মৃতির পাতায় জমা হয়ে আছে।মানুষ বদলেছে, পরিস্থিতি বদলেছে, বদলে গেছে জীবনের অনেক রং।কিছু সম্পর্ক আগের মতোই রয়ে গেছে, আবার কিছু দূরত্ব তৈরি হয়েছে অজান্তেই।তবুও সময় নিজের গতিতে এগিয়ে চলে, নতুন গল্প আর নতুন অনুভূতি নিয়ে।পুরোনো দিনগুলো মনে পড়ে, কিন্তু জীবন থেমে থাকে না,,,
যে যার মতো চলছে,,, হাজেরা যথার্থ ভাবে নিজের মেয়েকে আগলে রাখার চেষ্টা করছে তবে মাঝে মাঝে ব্যর্থ হচ্ছে,,,কখনো নুবা বাঁধন ছিরে রুম থেকে বেড় হয়ে আসে,,কখনো আয়রাকে দেওয়ার নামে আরহাম রুমে ঢুকে পড়ে,,না বলতে পারে না সহ্য করতে পারে,,,
হাজেরা শুধু একটা জিনিসি ভাবছে,”পরির মতো সুন্দর হবু বউ বাড়িতে থাকতে তার মেয়ের আশে পাশে কেন ঘুরে এই ছেলে,,,যেখানে পরি নুবার থেকে অনেক বেশি সুন্দর”
আরহাম খুবি হতাশ,,একে তো নুবাকে পাইল মতো পাচ্ছে না,,তার উপর এই হাজেরা,,, অতিরিক্ত,, আরহাম বুঝতে পারছে না নুবাকে কিভাবে হাত করবে,, কারণ তার এই সব ব্যপরাএ ধারনাই নেই,,
অন্যদিকে পরি আরহামকে কিভাবে হাত করবে সেটা বুঝতে পারছে না,,কাছে ঘেঁষতে দেয় না,,, কিছু বললে কড়া ধমক দেয়,,কি একটা অবস্থা,, শেষ পর্যন্ত না পেরে আমিনা বেগমের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরি,,,কি আর করবে,, এদিকে আমিনা তাকে শান্তনা দেয় আর ছেলের অকাজ কুকাজ ডাকতে ব্যস্ত থাকে,,,
রিহান আর আরশি,, ওদের কথা আর কি বলবো,,,এই ঝগড়া এই মিল,,তবে এই বেচারি যেভাবে চলাফেরা করছে নির্ঘাত বাড়ির লোকের হাতে কট খাবে,,,
আরফ কিছুটা শান্ত আছে,,অফিসে বেশি থাকে,, নতুন প্রজেক্ট নিয়ে অনেক ব্যস্ত সে,, আরহাম জেতে জেতে কাজ করাচ্ছে তাকে,, সারাদিন কাজ করে বাসায় ফিরলে লুচ্চামি করতে আর ইচ্ছা করে না,,তার উপর জল্লাদ একটা বউ পেয়েছে সবসময় টাইট দিয়ে রাখে,,,নুবার সাথে তার দেখা হয় না বললেই চলে তবে পররি সাথে হয় কিন্তু ইশিতা টাইট দিয়ে রাখে,,,
হারুন মির্জাও অনেক ব্যস্ত,, সবকিছুর দায়িত্ব তার মাথায় ব্যস্ত থাকাই স্বাভাবিক,,,
এবার আসি নুবার কথায়,,বেচারি আয়ারকে নিয়ে পেরেশান,, কারণ এখন তার থেকে বেশি পরি আপন হয়েছে তার,,তার কোল থেকে পারলে লাফ মেরে পরির কোলে চলে যায়,,যাইবেই না কেন সুন্দর না,, লুচ্চা তো বাপের মতো,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬২
তখন সন্ধ্যা প্রায়,,, আরহামের মুখে শয়তানি হাসি,, অনেক খোঁজার পর একটা বুদ্ধি পেয়েছে সে,,যা অতুলনীয়,, সবসময় নুবার আশে পাশে থাকা যাবে এমন ব্যবস্থা,,,
