Home অবেলার প্রণয়ভেলা অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৫০

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৫০

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৫০
ফাহিমা ইসলাম

ভোরের প্রথম প্রহর মাত্র নিঃশব্দতার কপাল হতে অন্ধকারের শেষ তিলকখানি মুছে দিতে শুরু করেছে। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের আগমনী রঙ এখনো পূর্ণতা পায়নি; তবুও আকাশের বক্ষদেশে ছড়িয়ে পড়েছে হেমন্ত-স্বর্ণাভ এক মৃদু আভাস। এই প্রশান্ত সকালের বুক চিরেই পাশাপাশি হেঁটে চলেছে রৌদ্রিক ও রোদেলা। রৌদ্রিকের দীর্ঘ আঙুলের মুঠোয় আবদ্ধ রোদেলার ক্ষুদ্র করতল। সে মাঝে মাঝেই দু’পা এগিয়ে আবার পেছনে ফিরে তাকাচ্ছে। তারপর টলমল পায়ে ছুটে এসে বাবার হাঁটুর সঙ্গে জড়িয়ে ধরে এমন এক অকারণ হাসি হাসচ্ছে, যার ব্যাখ্যা অভিধানের কোনো শব্দ জানে না। রৌদ্রিক নত হয়ে কন্যার গাল দুটো আলতো চেপে ধরে। ঠোঁটের কোণে ভেসে ওঠে অতি সূক্ষ্ম এক হাসিরেখা,যে হাসি পৃথিবীর কেউ খুব কমই দেখার সৌভাগ্য অর্জন করে। রোদেলা আচমকাই দু’হাত বিস্তার করে গম্ভীর ভঙ্গিতে বলে-

” উপফ পাপা, আর হাটতে পারি না তো।”
“ হাঁপিয়ে গেছো এত তাড়াতাড়ি?”
“ হুম, দেখো আর পা চতে না।”
বলেই রোদেলা হাঁটা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে পরলো। রৌদ্রিক আচমকাই একহাতে মেয়েকে কোলে তুলে নিলো। রোদেলা খুশিতে বাবার গ্রীবাদেশ শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো, না ধরলেও সে পরবে না। কারণ তার পাপা যতক্ষণ তার সঙ্গে রয়েছে তার কিচ্ছুটি হবে না। রোদেলা পা দোলাচ্ছে, রৌদ্রিক সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। সকালের স্নিগ্ধ হাওয়ায় মুখরিত চারিদিকের পরিবেশ। বাতাসে দগ্ধ হয়ে রয়েছে চারিপাশ, অনেকূিন পর এইভাবো হাঁটতে বের হয়েছে তারা। রোদেলা বহুদিন পর হাঁটতে আসার আহবান জানিয়েছে, বেবি আসার খবর শোনার পর থেকে মেয়েটা এক পা’ও বাড়ির বাহিরে রাখতে চায় না। আজকে হঠাৎ ঘুম জড়ানো কণ্ঠে রৌদ্রিকের কাছে আবদার জানিয়েছে বাহিরে ঘোরার জন্য। তাই রৌদ্রিক রোদেলাকে নিয়ে চলে এসেছে, তূর্ণা আপাতত গভীর নিদ্রা মগ্ন। রুমা সিকদারে বলে এসেছে আশেপাশে থাকার জন্য।

“ পাপা পাকি আকাতে ওড়ে কিন্তু আমি উড়ি না কেনো?”
“ কারণ তুমি পাপার মেয়ে তাই আকাশে উড়লে তোমাকে পেতাম কিভাবে?”
” ওরা খায় আকাশে উড়ে কেনো?”
“ উমম, উড়া ওদের জন্মগত কাজ। তুমি যেমন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে আর হাঁটতে শিখছো, তেমনি ওরাও বড় হচ্ছে বড় হচ্ছে আর উড়তে শিখছে জীবিকা নির্বাহের জন্য।”
হাঁটতে হাঁটতে বেশ অনেকটা পথ এসেছে তারা। দূরবর্তী পথের ধারে কোনো রকমে শুইয়ে রয়েছে এক পথিক। গায়ে নোংরা, ছেঁড়া কাপড় কোনো রকমে জড়ানো। ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছে মানুষটা। রোদেলা অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো সেদিকে, বিষণ্ণতা ঘেরা হলো তার অন্তঃকরণ! অসহায় নেত্রে চেয়ে রইলো সেই অসহায় পথিকের দিকে। রোদেলা সেদিকে তাকিয়ো বিষণ্ণতা মিশ্রিত স্বরে বলে-

“ পাপা ওনও একানে কেনু? ঠাত্তা লাগতে তার।”
রৌদ্রিক তাকালো সেদিকে। রাস্তায় পরে থাকা মানুষটা ব্যথায় কেমন কাতরাচ্ছে, রৌদ্রিক রোদেলাকে নিয়েই এগিয়ে গেলো সেদিকটায়। জনশূন্য রাস্তায় কারো দেখা নেই তেমন; রৌদ্রিক এগিয়ে এলো মানুষটা নিকট। বোঝার চেষ্টা করলো কি হয়েছে। মানুষটা প্রায় অচেতন, রৌদ্রিক হালকা স্বরে ডেকে উঠলো-
“ এই যে আপনি ঠিক আছেন?”
লোকটা তার লালিত লোচন জোড়া রৌদ্রিক আর রোদেলার পানে তাক করলো। ময়লা যুক্ত মুখশ্রীটা আরও বেতীর্ণ হয়ে উঠেছে। রৌদ্রিক বুঝলো বেশ ভালোই অসুস্থ মানুষটা। সকাল হওয়ায় কোনো ফার্মেসি খোলা নেই আপাতত, না রয়েছে কোনো খাবারের দোকা খোলা। রৌদ্রিক হঠাৎ পকেট থেকে ফোন করে কাউকে কিছু একটা বললো। অতঃপর মানুষটা দিকে তাকিয়ে বলে-

“ এখান থেকে কোথাও যাবেন না আপাতত। লোক আসবে, কি কি সমস্যা ওনাকে বলবেন চিকিৎসা করিয়ে দিবে। আর কিছুখন পর একটা ছেলে এসে খাবার দিয়ে যাবে খেয়ে নিবেন।”
রোদেলা শুধু দেখলো। তার মনটা বিষন্ন হয়ে পরেছে সামনে থাকা মানুষটাকে দেখে। রৌদ্রিক আবারও হাঁটা শুরু করতেই রোদেলা বলে ওঠে-
“ বড়ো হলে আমি তোমাল মত ডাত্তাল হবো। তালপর সবার চিতিকত্তা করবো, সবাই সুত্ত হয়ে যাবে।”
“ তাই নাকি? বাহ আমার রোদ তার ড্রিমও ঠিক করে ফেলেছে দেখি।”
রোদেলা হাসিমুখ খানা রৌদ্রিক দিকে তাক করে বলে-
“ হুম, একতম তোমাল মতো ডাত্তাল হবো।”
রৌদ্রিক আর রোদেলা কথা বলতে বলতে বাড়ির পথে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে। রাস্তার মোড় ঘুরতেই ছোট্ট এক ফুলের দোকান চোখে পড়ে। দোকানজুড়ে সারি সারি রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবেরা, সূর্যমুখী অসংখ্য রঙিন প্রস্ফুটনের সমারোহ। সদ্য আনা তাজা ফুলের সুবাসে জায়গাটা মো মো করছে। এইসবের মাঝে রোদেলার দৃষ্টি গিয়ে স্থির হয় একপাশে সাজানো গোলাপের উপর। সে আঙুল তুলে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে-
” পাপাই! এই ফুলগুলো এইগুলোই মায়ের জন্য!”

রৌদ্রিক কোনো উত্তর দেয় না। সে ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে অত্যন্ত যত্নে সবচেয়ে সতেজ, সবচেয়ে পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত গোলাপগুলো নির্বাচন করলো রোদেলার কথা মতো। রোদেলাও হাতে হাতে কয়েকটও প্রস্ফুটিত হালকা গোলাপী রঙের গোলাপ তুলে দিচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হাতে শোভা পেলো গোলাপী গোলাপের এক অনিন্দ্য গুচ্ছ,প্রতিটি পাপড়ি যেন অনুচ্চারিত ভালোবাসার দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত স্বীকারোক্তি। গোলাপের তোড়াটি হাতে পেয়েই রোদেলা নাক ডুবিয়ে গভীর করে সুগন্ধ শুঁকে নেয়। তারপর নিষ্পাপ বিস্ময়ে ফিসফিসিয়ে বলে-
“মা কি খুব খুশি হবে?”

রৌদ্রিক এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে যায়। আার দৃষ্টি গিয়ে থামে সেই গোলাপগুলোর উপর। এরপর কন্যার এলোমেলো কেশে আলতো করে হাত বুলিয়ে অত্যন্ত মৃদু কণ্ঠে উচ্চারণ করে-
” খুব হবে, মায়ের পুতুল যে পছন্দ করেছে।”
রৌদ্রিকের কথা শোনা মাত্রই রোদেলা আনন্দে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। তারপর দুই হাতে গোলাপের তোড়াটি আগলে ধরে এমনভাবে বুকের সঙ্গে চেপে ধরলো, যেন সে কোনো ফুল নয়,নিজের সমস্ত ভালোবাসাকেই বহন করে নিয়ে চলেছে। রৌদ্রিক মাঝারি সাইজে একখান সূর্যমুখী ফুল তুলে নিয়ে রোদেলার হাতে দিলো, এরপর ললাটে চুমু এলে দিয়ে বলে-
“ আমার রোদের জন্য সূর্যমুখী!”
রোদেলা হেসে ফেললো, রৌদ্রিকের মাথায় থাকা সাদা ক্যাপখানি ঠিক করে দিলো। রোদেলা আর কোলে থাকলো না সে নেমে পরলো,এরপর আবার পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করে বাবা-মেয়ে। সামনে দীর্ঘ পথ দু’জনের পদচারণার ছন্দ ভিন্ন, অথচ গন্তব্য এক। একজন বাবার হাত ধরে আনন্দের সঙ্গে পা দুলিয়ে হাঁটছে অন্যজন নৈঃশব্দে সেটা উপভোগ করছে। প্রভাতের কোমল আলো তাদের পেছনে দীর্ঘ ছায়া এঁকে দিচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে,একটি বৃহৎ ছায়া তারই অন্তর্গত ক্ষুদ্র ছায়াটিকে আগলে নিয়ে চলেছে অনন্ত জীবনের দিকে।

ভারী পর্দার সূক্ষ্ম ফাঁক গলে সূর্যালোকের ক্ষীণ রেখা এসে থেমে আছে শুভ্র শয্যার প্রান্তদেশে। সেই আলোকরেখা ধীরে ধীরে স্পর্শ করে নিদ্রামগ্ন তূর্ণার অনিন্দ্য মুখাবয়ব। তার প্রশান্ত নিঃশ্বাসের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্ফীত উদরটিও যেন নিবিড় ছন্দে দুলছে। নিদ্রার অতল দেশে ডুবে থাকা, ঘুমের গোড়েই এক আদুরে কণ্ঠস্বর ভেসে টলো
“মা…”
দুধে-আলতা কণ্ঠের সেই মিহি আহ্বান নিদ্রার প্রাচীর ভেদ করে পৌঁছে গেল তূর্ণার চৈতন্যে।
“মা.. ওঠো না… সূর্য মামা অনেতক্ষণ আগেই এসেছে!”
চোখের পাপড়ি ধীরে ধীরে মেলে ধরতেই তূর্ণার সম্মুখে উদ্ভাসিত হলো এক টুকরো নির্মল প্রভাত। গোলাপি ফ্রকের ভাঁজে মোড়া রোদেলা দু’হাতে বুকে জড়িয়ে রেখেছে স্নিগ্ধ গোলাপি গোলাপের বিশাল এক গুচ্ছ। শিশুসুলভ উচ্ছ্বাসে তার গাল দুটো রক্তিম হয়ে উঠেছে, আর দুটি নয়ন জ্বলজ্বল করছে অপরিমেয় প্রত্যাশায়।
“মা… এগুলো তোমাল জন্য। আমি নিজে পত্তন্দ করেছি, তুন্দল না?”
ঘুমঘোরের সমস্ত অবসাদ মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেল তূর্ণার।অবচেতনেই তার অধরে ফুটে উঠল এমন এক হাসি, যার ভাষা কেবল একজন মায়ের হৃদয়ই অনুধাবন করতে পারে।

“আমার জন্য?”
রোদেলা দ্রুত মাথা নাড়ল।
“হ্যাঁ। পাপা বলেতে, তুন্দল মানুষদের তুন্দল ফুল দিতে হয়। তাই আমি আমার সবচেয়ে তুন্দল মা’কে এনে দিলাম।”
কথাগুলো উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তূর্ণার বুকের ভেতর কোথাও এক অদৃশ্য আবেগের তরঙ্গ আছড়ে পড়ল। সে ধীরে ধীরে উঠে বসতেই রোদেলা সাবধানে গোলাপের গুচ্ছটি তার কোলে রেখে দুই হাত দিয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরলো। তূর্ণা নিজের সমস্ত সত্তা দিয়ে রোদেলাকে বুকে টেনে নিল। গোলাপের সুবাস, শিশুর শরীরের দুধস্নিগ্ধ গন্ধ আর মাতৃত্বের অনির্বচনীয় পরিতৃপ্তি,তিনটি অনুভূতি একাকার হয়ে এমন এক আবেশ সৃষ্টি করল, যার কোনো অভিধানগত ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। হঠাৎ রোদেলার বিস্মিত চোখ তূর্ণার উদরের দিকে নিবদ্ধ হলো। সে ধীরে ধীরে নিচু হয়ে দুই হাত রেখে ফিসফিসিয়ে বলল-
” তোমলা কি এখনও ঘুমোচ্ছো?”

মুহূর্তের ব্যবধানেই উদরের ভেতর ক্ষীণ এক আন্দোলন অনুভব করল তূর্ণা। সে বিস্ময়ে চোখ বড় করে রোদেলার দিকে তাকাতেই ছোট্ট মেয়েটি উৎফুল্ল স্বরে বলে উঠল-
“মাম! ওরা আমাল কতা শুনেছে! দেখো… দেখো… ওরা কিক দিয়েছে!”
তূর্ণার চোখের কোণে অশ্রুর ক্ষুদ্র বিন্দু জন্ম নিল। সুখেরও যে নিজস্ব কান্না থাকে, তা বোধহয় এমনই।
রোদেলা আরও উৎসাহিত হয়ে উদরের উপর নিজের গোলগাল গাল রেখে নরম স্বরে বলতে লাগল-
“আমি কিন্তু তোমাদের বিগ তিত্তাল। তালাতালি বড়ো হয়ে এসো তো। কত্তো ওয়েত করবো আর?
তারপর আচমকা ভ্রু কুঁচকে অত্যন্ত গম্ভীর মুখে ফিসফিস করে যোগ করল-
“তবে মা’কে একদম কষ্ট দেবে না। বেশি লাথিও মারবে না। মা ব্যথা পায়।”
বাক্যশেষে সে আলতো করে উদরের উপর একটি চুম্বন এঁকে দিল। তূর্ণা নিজের সমস্ত অনুভূতির লাগাম হারিয়ে ফেলল। দুই হাত দিয়ে রোদেলার মুখখানি তুলে অসংখ্য স্নেহচুম্বনে ভরিয়ে দিতে দিতে সে মৃদু কাঁপা কণ্ঠে বলল-

“আমার পুতুল সত্যি একটা পুতুল। মা এত্তো ভালোবাসি!”
রোদেলা শিশুসুলভ সরলতায় মুচকি হেসে উত্তর দিল-
” আমিও ভালুবাতি মা!”
এই একটি বাক্য যেন সমগ্র কক্ষের নীরবতাকে আরও কোমল করে দিল।তূর্ণা অদ্ভুত এক নিবিড় প্রশান্তিতে চোখ বুজে নিজের উদরের উপর এক হাত রেখে অন্য হাতে রোদেলাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে নিল। জীবনের সমস্ত ক্ষত, সমস্ত অপমান, সমস্ত রক্তাক্ত অতীত যেন এই ক্ষুদ্র দুটি বাহুর আলিঙ্গনে এসে নিঃশব্দে আত্মসমর্পণ করেছে। সময়ে যাচ্ছে আর তূর্ণার মনে হচ্ছে সে রোজ নতুন করে বাঁচছে, এত সুখ, এত ভালোবাসা তার কপালেই ছিলো। অপেক্ষা ছিলো শুধু সময়ের, সময় তার নিয়ম অনুযায়ী তাকে সব দিয়েছে। অতীতের ক্ষত মুছে একগুচ্ছ সুখের নীড় তাকে এনে নিয়েছে, যেখানে লাগামীন সুখ আর সুখ!

সময় কাটছে যতো ভয় যেনো ততো ঘিরে করছে তূর্ণার সমগ্র সত্তাকে। সঙ্গে তার আশেপাশে থাকা মানুষগুলোকেও, সময়ের সঙ্গে স্ফীত উদরটা আরও বিশাল আকার ধারণ করেছে। হাঁটা-চলা অসম্ভব হয়েছে উঠেছে তূর্ণার নিকট, তাই চাইলেও আগের মতো টুকটাক হাঁটাহাঁটি করতে পারে না। ডেলিভারির সময় যত এগিয়ে আসচ্ছে ভয় যেনো ততো বেড়ে চলেছে৷ তার মুখশ্রী জুড়ে মাতৃত্বের এক জৌলুশ এসেছে, একরাশ স্নিগ্ধতা গ্যাস করেছে তাকে। আগের থেকে অনেকটা গুলুমুলু হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যও বেশ ভালো রয়েছে, সবকিছুর জন্য রৌদ্রিক দায়ী। তার প্রতিটি নিশ্বাসেরও খবর রেখেছে মানুষটা এই কয়েক মাসে। মা হওয়া কতটা কঠিন সেটা হারে হারে বুঝতে পারছে।

নিজের মৃ’ত মায়ের মুখখানিও নেত্রদ্বয়ে ভাসে না যে মনে করবে সে। বাবা নামক মানুষটাকে খুব দেখার ইচ্ছে জাগলেও সেটি মুখ ফুটে বলার সাহস হয় না। এখন অব্দি তার কোনো খোঁজ নিজ থেকে নেয়নি লুকমান হোসেন, সেখানে তাদের দেখতে চাওয়াতা বড্ড বোকামি। যে পিতা নিজ সন্তানকে ভুলে যেতে পারে, সেখানে আশা রাখাটা নিত্যতাই বোকামি। তার মতো বোঝা সড়ে গেছে লুকমান হোসনের জীবন থেকে। তূর্ণা নিজ চোখে পিতাদের দুটি সত্তা দেখেছে, এক নিজের পিতা যার থেকে কোনোদিন স্নেহটুকু পায়নি। কত বার ভিক্ষা চেয়েছে একটু খানি আশ্রয়, অথচ দিন শেষে তার কপালে পিতার ভালোবাসা কখনোই জোটেনি। অন্যদিকে রৌদ্রিক, মানুষটাকে যত দেখে তত অবাক হয়।

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪৯ (২)

একটা মানুষ সবদিক দিয়েই এত পারফেক্ট কিভাবে হয়? রৌদ্রিক একজন আদর্শ পিতা, আদর্শ স্বামী, আদর্শ ছেলে,আদর্শ ডাক্তার। সবকিছু সামলিয়েও দিনশেষে সে একজন সবচেয়ে ভালো বাবা। রোদেলা পাপা, রোদেলার বন্ধু যেকিনা তার মেয়ের প্রতিটা পদক্ষেপ সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে। উফ বলার সময় টুকু দেয় না। নিজের সন্তানের ভাগ্য দেখে দেখে হিংসে হয় তূর্ণার, তার এমন ভাগ্য কেন হলো না? সে কি এতটাই অযোগ্য যেকোনো দিনের নিজের পিতার ভালোবাসা পাইনি।

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৫১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here