Home প্রফেসর উজান চৌধুরী প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৩৬

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৩৬

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৩৬
বন্যা সিকদার

“সরি পিচ্চি‚ প্লিজ শান্ত হও। আমি ওভাবে মন থেকে বলতে চাইনি। ওটা জাস্ট কথার কথা ছিল ব্যস। রাগ করো না বউ প্লিজ।
​”কথার কথা মানে কী? আমি সামান্য একটা প্রশ্ন আউট করে দিতে বলেছি বলে আপনি আমাকে কু*ত্তার সাথে তুলনা করে মরতে বলছেন। আর এখন বলছেন এটা কথার কথা? থাকব না আমি আপনার সাথে। আপনি কথার কথা নিয়ে থাকুন।

​মৌ প্রচণ্ড রাগান্বিত হয়ে মুখ ফুলিয়ে কথাগুলো বলল। তবে তার এই ছোট্ট‚ অভিমানী ও বিষণ্ণ মুখখানা দেখে এবার উজানে’র নিজের প্রতিই এক তীব্র ক্ষোভ ও অনুশোচনা জমা হতে লাগল। সে খুব ভালো করেই জানে যে মেয়েটা প্রচণ্ড সেনসিটিভ সামান্য একটু এদিক-ওদিক হলেই ওনার চোখে শ্রাবণের ধারা নেমে আসে। তবুও সে কেন যে মেয়েটাকে বারবার হার্ট করে ফেলে‚ তা সে নিজেও জানে না। অতঃপর উজান নিজের সমস্ত গাম্ভীর্য বিসর্জন দিয়ে‚ মাথা নত করে বড্ড আকুতিভরা সুরে বলল….
​“প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড আমার পিচ্চি বউ। আমি সত্যি তোমাকে ওভাবে কষ্ট দিতে চাইনি। আচ্ছা‚ আই অ্যাম রিয়েলি সরি। এর পানিশমেন্ট হিসেবে আজ মাঝরাতে তোমাকে নিয়ে আমি লং বাইক রাইডিংয়ে যাবো‚ কেমন? এবার তো রাগটা কমাও?
​উজানে’র মুখে বাইক রাইডিংয়ের কথা শোনামাত্রই মৌ’য়ের চোখ দুটো চকচক করে উঠল। সে এক লাফে তার কাছাকাছি এসে শুধাল‚ “সত্যি বলছেন? কখন নিয়ে যাবেন? এখনই নিয়ে চলুন না‚ প্লিজ।
​মৌ’য়ের মলিন মুখে এমন এক চিলতে খুশির হাসির রেশ দেখেই উজানে’র বুকের ভেতরটা খানিকটা শীতল হয়ে এলো। এই চঞ্চল মেয়েটাকে সবসময় এমন হাস্যুজ্জ্বল দেখতেই তার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। আচমকা উজান কোনো সুযোগ না দিয়ে মৌ’য়ের কোমরটা নিজের বাহুডোরে শক্ত করে আঁকড়ে ধরল এবং তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে আওড়াল‚

​“বাইক রাইডিংয়ে তো নিশ্চয়ই নিয়ে যাবো জান। তবে তার আগে আমাকে মিষ্টিমুখ করিয়ে দাও দেখি।
​মৌ উজানে’র মতলবটা পুরোপুরি বুঝে ওঠার আগেই উজান ক্ষুধার্ত চাতকের মতো মৌ’য়ের ওই রাঙা ঠোঁটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। মৌ প্রথমে অপ্রস্তুত হয়ে উজানে’র এই শক্ত বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল কিন্তু তার লোহার মতো শক্ত বাহুর সামনে তার এই পুতুলের মতো শক্তি বিন্দুমাত্র টিকল না। উজান নিজের গভীর ও তীব্র চুম্বনের আবেশে মৌ’কে পুরোপুরি রাঙিয়ে তুলতে লাগল। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই গভীর ভালোবাসার পর উজান যখন অবশেষে তাকে মুক্তি দিল‚ তখন মৌ বিছানায় এলিয়ে পড়ে জোরে জোরে হাঁপাতে লাগল। সে নিজের ঠোঁট দুটো হাত দিয়ে মুছে রাগ মিশ্রিত আদুরে গলায় বলে উঠল‚
​”নষ্ট পুরুষ। এভাবে কেউ কিস করে? আর একটু দেরি হলে তো আমার দম আটকে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়েই মারা যেতাম।
​উজান নিজের ঠোঁটের কোণে এক বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল‚

“প্রফেসর উজান চৌধুরীর অফিশিয়াল ওয়াইফি হয়েছেন‚ মিসেস চৌধুরী। আর তার এই সামান্য একটুখানি কিসই যদি সহ্য করতে না পারেন‚ তাহলে মুখে কিসের এত ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’ হুহ্? এটা তো মাত্র শুরু। পরবর্তীতে এই ভালোবাসার অত্যাচারে আপনাকে আমি একদম অতিষ্ঠ করে ছাড়ব‚ জাস্ট মাইন্ড ইট।
​মৌ পুরো স্তব্ধ হয়ে চোখ বড় বড় করে উজানে’র এই রসালো ও গভীর ভালোবাসার বাণী শুনছিল। তার এই ঘোরলাগা অবস্থার মাঝেই আবারও গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
“এবার দ্রুত রেডি হয়ে নিন‚ মিসেস চৌধুরী। আজ রাতে আপনাকে বাইকে চড়িয়ে পুরো শহর ঘুরে দেখাবো।

​এই কথা শেষ করে উজান আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। সে চটজলদি শাওয়ার নেওয়ার জন্য ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াল। তবে যাওয়ার আগে সে মৌ’য়ের সারা মুখমণ্ডলে নিজের ভালোবাসার অজস্র গভীর চিহ্ন এঁকে দিয়ে যেতে ভুলল না। ​প্রায় ঘণ্টাখানেক পর উজান ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো এবং তার পর মৌ নিজে শাওয়ার নিতে গেল। উজান নিজের রুমে ঢুকে দ্রুত একটা ক্যাজুয়াল পোশাক পরে রেডি হয়ে নিয়ে ধীর পায়ে নিচে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল।
উজান’কে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে দেখে ড্রয়িংরুমে বসে থাকা আরিফুর চৌধুরী নিজের চায়ের কাপটা রেখে ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসলেন। ওনার এই গম্ভীর ছেলেটার মনে যে পিচ্চি মৌ’য়ের জন্য এত গভীর অনুভূতি আর পাগলামি লুকিয়ে ছিল‚ তা তিনি নিজে একজন জন্মদাতা বাবা হয়েও এতদিন বিন্দুমাত্র টের পাননি। অতঃপর তিনি পরম স্নেহে উজান’কে নিজের কাছে ডাকলেন।

​”উজান এদিকে আয় তো বাপ।
​উজান নিজের চোখ দুটো ছোট ছোট করে সন্দিহান চোখে বাবার দিকে এগিয়ে গেল এবং সোফায় বাবার পাশে ধপ করে বসে। এবং কিচেন রুমের দিকে তাকিয়ে জোরে একটা চিৎকার দিয়ে বলল‚
“আম্মু আমার পিচ্চি বউটার জন্য জলদি কিছু ভালো খাবার দাবার রেডি করো তো‚ বউটার আমার খিদে পেয়েছে।
​অতঃপর উজান নিজের বাবার দিকে মনোযোগ দিল। আরিফুর চৌধুরী পরম মমতায় ছেলের চওড়া কাঁধে নিজের হাত রাখলেন এবং নরম সুরে বললেন‚ “বউমাকে যে তুই এতখানি ভালোবাসিস‚ তা আগে কখনো মুখ ফুটে বললি না কেন?
​বাবার কথা শুনে উজান ওমনি মুখটা তেতো করে বলে উঠল‚
“একদম চুপ করো মির্জাফরের বংশধর। শুধুমাত্র তোমার জন্য আজ আমার বউটা এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছিল। তুমি জানো পিচ্চি যদি আজ সত্যি সত্যি আমাকে ফেলে চলে যেত‚ তবে এই উজান চৌধুরীর কী দশা হতো? আমি এক মুহূর্তও বাঁচতে পারতাম না আমার ওই পিচ্চিটা ছাড়া। ও আমার প্রতিটা নিঃশ্বাসে‚ আমার পুরো অস্তিত্বে মিশে আছে।

আজ ইফাত যদি ঠিক সময়ে পিচ্চির এভাবে ব্যাগ গুছিয়ে চিরতরে চলে যাওয়ার কথা আমাকে ফোনে না জানাত‚ তবে তো আমি কোনোদিনও পিচ্চিকে আর নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে পারতাম না। তখন ওকে আমি যতই ‘ভালোবাসি’ বলি না কেন‚ ও সেটাকে স্রেফ অভিনয় ভেবে সারাজীবন আমার ওপর অভিমান করে বাপের বাড়িতেই বসে থাকত।
​আরিফুর চৌধুরী ছেলের এমন চড়া কথা শুনে একটা দীর্ঘ তপ্ত শ্বাস ফেললেন। তিনি মনে মনে খুব ভালো করেই বুঝতে পারলেন যে ছেলেটা আজ সত্যি বড্ড বেশি হার্ট হয়েছে। তিনি পরম মমতায় আবারও ছেলের কাঁধে হাত রেখে বোঝানোর সুরে বলতে লাগলেন‚
“বাপ রাগ করছিস কেন? শেষমেশ তো ও তোকে ছেড়ে চলে যায়নি‚ তাই না?
​“যায়নি মানে কী? চলে গেলে তখন কী হতো‚ হ্যাঁ? নিজে তো এই বুড়ো বয়সেও আম্মুকে ছাড়া এক সেকেন্ডও থাকতে পারো না‚ আর এখন মাঝখান থেকে এসে আমার বুক থেকে আমার ওই বিড়ালের বাচ্চার মতো কিউট বউ’টাকে আলাদা করতে চেয়েছিলে? ধিক্কার জানাই তোমার এই চিন্তাভাবনাকে।
​আরিফুর চৌধুরী আবারও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছেলের দিকে তাকালেন। তিনি পরম মমতায় ছেলের কাঁধে হাত রেখে নিজের ভুলটা স্বীকার করার জন্য বলতে লাগলেন‚

“দেখ বাবা….
​“ছিঃ ড্যাড ছিঃ। আমার চমচমের মতো বউ থাকতে তোমারটা কোন দুঃখে দেখতে যাবো শুনি? ছিঃ ছিঃ এই অশ্লীল‚ নোংরা লোকটার সাথে আমার জননী এতো বছর সংসার করেছে কীভাবে। ছিঃ ছিঃ।
​উজানে’র এমন ঠোঁট বাঁকিয়ে বলা অদ্ভুত ও উদ্ভট কথাবার্তা শুনে আরিফুর চৌধুরী চরম হতাশ চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এই ছেলেটা যে এত বড় একটা সিরিয়াস মুহূর্তেও এমন আজগুবি ও হাস্যকর কথা বলতে পারে‚ তা তার ধারণার সম্পূর্ণ বাইরে ছিল। তিনি খানিকটা রাগী ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন।
“উজান তুই কি জীবনেও কোনোদিন ভালো হবি না রে? এই সিরিয়াস মোমেন্ট এসব আজগুবি‚ ফালতু কথা তুই কার থেকে শিখলি‚ শুনি?
​বাবার এমন বোকা বনে যাওয়া মুখ দেখে উজান এবার নিজের সব কটা দাঁত কেলিয়ে হো হো করে হেসে উঠল। আজ অনেকগুলো দিন পর‚ বাবা আর ছেলে এতটা কাছাকাছি বসে একসাথে হাসাহাসি করছে। কিচেন রুম থেকে প্লেটে করে খাবার সাজাতে সাজাতে মৌসুমি চৌধুরী দূর থেকে এই দৃশ্যটি পরখ করলেন এবং ওনার মাতৃত্বের মনটা এক পরম তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাসে ভরে উঠল।

​হঠাৎ উজান সোফা থেকে দাঁড়িয়ে পড়তে পড়তে বলে উঠল‚ “কার থেকে আবার শিখব ড্যাড? তোমার ওই পরম আদরের বউমার থেকে। শাশুড়ির মেয়েটা সবসময় এমন সব সিরিয়াস মোমেন্টে কিসব যে আজেবাজে কথা বলে। তখন আমার মনটা চায় ওকে ডাইরেক্ট ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিই। নেহাত মেয়েটাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি‚ নয়তো কবেই ওনাকে ছাদ থেকে ফেলে দিতাম। ওকে ড্যাড‚ আমি আসছি। আমার পিচ্চি বউটার বড্ড খিদে পেয়েছে‚ ওনার পেটে এতক্ষণে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে।
​এই বলে উজান ডাইনিং টেবিল থেকে মৌসুমি চৌধুরীর সাজিয়ে রাখা খাবারের প্লেট ও গ্লাস হাতে নিয়ে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে মৌ’য়ের রুমের দিকে ঢুকে গেল। রুমে ঢুকতেই সে দেখল‚ মৌ মাত্রই শাওয়ার শেষ করে ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে। তার পরনে হোয়াইট থ্রি-পিস। ভেজা লম্বা চুলগুলো থেকে টপটপ করে পানির ফোঁটা জামা ভিজে মেঝেতে ঝরে পড়ছে।

​উজান মৌ’য়ের সেই মুখের দিকে কিছুক্ষণ ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপর সে আলতো পায়ে মৌ’য়ের দিকে এগিয়ে গেল। হঠাৎ কী মনে হতে সে নিজের চোখ দুটো বুজে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর মৌ’কে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসিয়ে নিজে হাতে হেয়ার ড্রায়ারটি নিয়ে পরম যত্নে মৌ’য়ের ভেজা চুলগুলো শুকিয়ে দিতে লাগল। চুলগুলো উড়ে উড়ে বারবার উজানে’র গালে আর মুখে এসে আঁচড় কাটছে কিন্তু উজান তাতে বিরক্ত হওয়ার বদলে বরং মুচকি মুচকি হাসছে।
চুল শুকানো শেষ হলে উজান নিজেই খুব দক্ষ হাতে মৌ’য়ের লম্বা চুলগুলো উঁচুতে তুলে একটা সুন্দর খোঁপা বেঁধে দিল। অতঃপর তাকে বিছানায় বসিয়ে নিজের হাতে ফোনটা গুঁজে দিল। ​মৌ’য়ের একটা বড় বদভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে‚ ফোন ছাড়া সে কিছুতেই খেতে চায় না। উজান আজ আর বারণ করল না। সে নিজে হাতে এক লোকমা করে খাবার তুলে মৌ’য়ের মুখে দিতে লাগল। মৌ মাঝে মাঝে ফোনের স্ক্রিনে কার্টুন দেখতে দেখতে খাবার গিলছে। আধো খাওয়া শেষ হতেই মৌ আর খেতে চাইল না। তখন উজান নিজেই বাকি খাবারটুকু তৃপ্তির সাথে খেয়ে শেষ করল। তা দেখে মৌ কপাল কুঁচকে অবাক হয়ে শুধাল‚
​”আমার এঁটো খাবার আপনি খেয়ে ফেললেন? বিন্দুমাত্র ঘৃণা হচ্ছে না আপনার? আরেকজনের এঁটো খাবার কেউ এভাবে খায়?

​উজান তখন আর কোনো কথার উত্তর দিল না। প্লেটটা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে এসে এক ঝটকায় মৌ’কে নিজের বুকের সাথে টেনে নিল। মৌ’য়ের ঘাড়ে মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলল‚
​“ভালোবাসি আপনাকে মিসেস চৌধুরী। আর যাকে আমি মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসি‚ তার কোনো কিছুই আমার কাছে ঘৃণার নয়। তার ভালো-মন্দ‚ ভুল-ত্রুটি‚ ইচ্ছে-অনিচ্ছে‚ ভালোলাগা-খারাপ লাগা‚ অভ্যাস-বদঅভ্যেস সবকিছুকেই আমার ভালোবাসা উচিত। কারণ মানুষটা তো শুধু আমার। তাছাড়া এঁটো খাবার খাওয়া তো নোংরা কিছু নয় বরং এতে দুজন মানুষের মাঝের বন্ডিং আরও দৃঢ় হয়। ভালোবাসার গভীরতা বাড়ে। বুঝেছেন মিসেস চৌধুরী?
​কথাগুলো শুনতেই মৌ উল্টো ঘুরে শক্ত করে উজান’কে জড়িয়ে ধরল। আজ সে সত্যিই গর্বিত। তার বেছে নেওয়া মানুষটি খাঁটি‚ তার ভালোবাসার মানুষটিকে চিনে নিতে সে কোনো ভুল করেনি। মৌ’য়ের এই ছোট্ট পাগলামি দেখে উজান শব্দ করে হেসে উঠল। কিছুক্ষণ পরেই তারা দুজনে বেরিয়ে পড়ল সেই কাঙ্ক্ষিত বাইক রাইডিংয়ে।

​গভীর রাত। চারদিকে নিঝুম পরিবেশ। শহরের রাজপথ এখন অনেকটা ফাঁকা‚ মাঝে মাঝে কেবল দু-একটি গাড়ির হেডলাইট জ্বলে উঠছে। মৌ’য়ের বাইকে চড়তে বেশি ভালো লাগে। আর উজান সেটা জানে বলেই আজ তাকে নিয়ে এসেছে। মৌ পেছন থেকে শক্ত করে উজানে’র প্রশস্ত বুকটা জড়িয়ে ধরে আছে। চারপাশ থেকে ঝোড়ো হাওয়া শোঁ শোঁ শব্দে তাদের গা ছুঁয়ে শীতলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। উজান মেয়েটার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকিই নিতে চায় না‚ তাই মৌ’য়ের মাথায় একটা হেলমেট পরিয়ে দিয়েছে। বাইকের গতি কিছুটা কমিয়ে উজান আদুরে গলায় শুধাল‚
​“পিচ্চি বউ কেমন ফিল হচ্ছে?
​মৌ আনন্দে চোখ বন্ধ করে বলে‚ “জাস্ট ওয়াও। ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় প্রফেসর সাহেব। আপনি এত ভালো কেন বলুন তো?
​উজান বাঁকা হাসলো।
“ভালো তো আমি বটেই‚ তবে এখন একটু ‘খারাপ’ হতেও দিও জান। শুধু আকাশ-বাতাস ফিল নিলেই চলবে? স্পেশালি আমাকে ফিল করতে হবে না?
​মৌ’য়ের প্রফুল্ল মুখটা মুহূর্তেই লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল। সে লজ্জায় উজানে’র পিঠে একটা কিল বসিয়ে দিলো।

“এমন পঁচা কথা বললে আমি কিন্তু আর কখনো আপনার সাথে আসব না হুমম।
“কোলে উঠে আসতে চাইছো সেটা ডিরেক্ট বললেই তো পারো জান। এভাবে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলার কি দরকার? উজান চৌধুরী অলওয়েজ তোমাকে সামলানোর ক্ষমতা রাখে।
​মৌ এবার লজ্জা পাওয়ার বদলে রাগে বেলুনের মতো চুপসে গেল। সে দুই হাত দিয়ে উজানে’র পেটে একের পর এক চিমটি কাটতে লাগল। উজান ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়েও শব্দ করে হেসে বলল‚ “আউচ পিচ্চি‚ প্লিজ এখন থামো। ট্রাস্ট মি‚ বাসায় গিয়ে শুধু চিমটি নয় কিস-টিস যা ইচ্ছে করতে পারো উজান চৌধুরী একদম কিছু বলবে না। কিন্তু এখন রাস্তায় একটু শান্ত হয়ে বসো‚ পিচ্চি বউটাকে এই মুহূর্তটা ফিল করতে দাও।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৩৫

​মৌ কিছুক্ষণ চুপচাপ রইল। উজান অবাক হলো মেয়েটা তো এত সহজে শান্ত হওয়ার পাত্রী নয়। সে ঘাড় বাঁকিয়ে পেছন ফিরে তাকাল। দেখল‚ মৌ পরম শান্তিতে তার পিঠের ওপর মাথা রেখে গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। এভাবে বাইকের গতির মাঝেও যে কেউ ঘুমিয়ে পড়তে পারে‚ তা উজানে’র ধারণার বাইরে ছিল। উজান এক হাত দিয়ে পেছন থেকে মৌ’কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। যাতে ঘুমের ঘোরেও মেয়েটা পড়ে না যায়। তারপর বাইকের মোড় ঘুরিয়ে সে দ্রুত গতিতে গন্তব্যের দিকে অর্থাৎ চৌধুরী বাড়ির দিকে রওনা হলো।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৩৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here