প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৩৮
বন্যা সিকদার
কথাগুলো শেষ করেই মেহেরে’র ভেতর এক অদ্ভুত‚ ভয়ানক শান্ত ভাব চলে এলো। সে নিজের গলা থেকে ওড়নাটা খুলে ফেলল। চটজলদি বিছানার ওপর দাঁড়িয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে শক্ত করে ওড়নাটা বেঁধে নিল সে। এরপর টেবিল থেকে ইফাতে’র একটা ছবিসহ অ্যালবাম টেনে নিয়ে শেষবারের মতো বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ছবির ইফাতে’র মুখে আলতো করে চুমু এঁকে দিলো।
”আপনি এমন কেন? কী মায়া আছে আপনার মাঝে? যে মেয়েটা নিজের সাথে নিজে কখনো বিয়ে না করার প্রমিজ করেছিল‚ অথচ আপনি আমার লাইফে এসে সেই কঠিন প্রমিজটাও একলপ্তে ভেঙে দিয়েছেন। আমি তো কখনোই কাউকে ভালোবাসতে চাইনি‚ কোনোদিন কারও জীবনসঙ্গী হতে চাইনি‚ তাহলে আপনার বেলায় কেন সবকিছু এমন উল্টো হয়ে গেল? আমার এই অভিশপ্ত মনে আপনাকে পাওয়ার এক তীব্র লোভ জন্মেছে কিন্তু আমার মতো মেয়ের জন্য এই লোভটাও তো একটা মস্ত বড় পাপ। আমি জানি আপনি কখনোই আমার হবার নন। বামুন হয়ে কীভাবে আকাশের চাঁদে হাত দিই বলুন তো?
মেহের একটা দীর্ঘ‚ তপ্ত শ্বাস ফেলল। তার বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে। জীবনের এত বড়‚ এত বাজে একটা পরিস্থিতিতে সে কোনোদিন পড়বে তা ছিল তার কল্পনারও বাইরে। অ্যালবামের ছবিটার ওপর নিজের কাঁপতে থাকা আঙুল গুলো বুলিয়ে সে আবার বলল‚
“আপনাকে অনেক ভালোবাসি আমি। হয়তো আপনি কোনোদিন জানবেনই না‚ আপনাকে পাওয়ার জন্য ভেতর ভেতর কতটা ছটফট করেছি আমি। কিন্তু আফসোস। আপনাকে কোনোদিন পাবো না জেনেও‚ কেন যে এত আকাঙ্ক্ষা জন্মেছিল আমার এই পোড়া মনে।
মেহের আর একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারল না। সব কথা‚ সব কষ্ট যেন তার গলার কাছে এসে দলা পাকিয়ে গেল। সে পরম যত্নে ও ভালোবাসায় অ্যালবামটা তার নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিল। এবার সমস্ত আবেগ আর মায়া ত্যাগ করে সে সিলিং ফ্যানের নিচে এসে দাঁড়াল। শেষবারের মতো সিলিং ফ্যানের দিকে তাকালো। অতঃপর ফিসফিসিয়ে বলল‚
”আমাকে মাফ করে দেবেন আমার না-হওয়া পুরুষ। আপনাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি। এই তাসনুভা মেহের দুনিয়ার সব কষ্ট সহ্য করতে পারলেও‚ আপনার চোখের ঘৃণাপূর্ণ চাহনি সহ্য করার ক্ষমতা তার নেই। তাই চিরকালের জন্য সবাইকে মুক্তি দিয়ে গেলাম।
শেষ মুহূর্তের আকস্মিকতা
মেহের ধীরপায়ে ফ্যানের নিচে রাখা টুলটার ওপর গিয়ে দাঁড়াল। গলায় ওড়নার ফাঁসিটা পেঁচিয়ে সে যেই নিজের শরীরটাকে শূন্যে ঝুলিয়ে দিতে যাবে ঠিক তখনই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক তীব্র আঘাতে দরজা ভেঙে গেল। আর ঝড়ের বেগে ভেতরে এসে ঢুকল ইফাত। ইফাত ভেতর ঢুকেই মেহেরে’র এমন মারাত্মক কাণ্ড দেখে তার পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। সে আর কোনো কিছু ভাবার বা দেখার সময় নিল না। চিলতের মতো ছুটে গিয়ে এক হেঁচকায় মেহের’কে ফ্যানের নিচ থেকে টেনে নামাল। চোখের পলকে তাকে নিজের বুকের মাঝে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল সে। ইফাতে’র চেনা বুকের ওম পেতেই মেহেরে’র এতক্ষণের চেপে রাখা সমস্ত বাঁধ ভেঙে গেল। সে তাকে দু-হাতে আঁকড়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল।
ইফাত ছাদ থেকে চলে যাওয়ার পর যখন আবারও ছাদে ফিরে মেহের’কে দেখতে পায়নি‚ তখনই তার মন এক অজানা আশঙ্কায় কু ডেকে উঠেছিল। সে বিদ্যুৎ গতিতে মেহেরে’র রুমের সামনে ছুটে আসে। কিন্তু রুম ভেতর থেকে আটকানো দেখে সে বারবার মেহের’কে ডেকেছিল। মেহের ভেতরের ঝড়ে এতটাই মগ্ন ছিল যে বাহিরের কোনো আওয়াজ তার কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি। নিরুপায় হয়েই ইফাত সজোরে লাথি মেরে দরজা ভেঙে রুমে ঢোকে। আর মাত্র একটা সেকেন্ড দেরি হলে আজ কী লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যেত‚ তা ভাবতে গিয়ে ইফাতে’র গায়ের লোম শিউরে উঠছে। সে মেহের’কে বুকের সাথে আরও তীব্রভাবে পিষে ধরে কাঁপাকাঁপা গলায় বলতে লাগল‚
“এটা কী করতে যাচ্ছিলে ফুলকন্যা? তুমি বুঝতে পারছো আজ তোমার কিছু হয়ে গেলে আমার কী হতো? কীভাবে নিজেকে ক্ষমা করতাম আমি?
মেহের কাঁদতে কাঁদতেই বলল‚ “আমি পারব না আপনাকে ছাড়া বাঁচতে‚ সত্যি পারব না। আমি তো আপনাকে আগেই বলেছিলাম‚আপনি মেনে নিতে পারবেন না আমায় কিন্তু আপনি আমার কথা শুনলেন না। এখন আমার কী হবে?
বলতে বলতে মেহের হঠাৎ করেই এক ঝটকায় ইফাত’কে নিজের বুক থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। সে আবারও বিছানার দিকে ছুটে যেতে চাইল। ইফাত শক্ত করে তার হাত চেপে ধরলেও মেহের আজ অবাধ্য। সে ছটফট করতে করতে চিৎকার করে উঠল‚ “ছাড়ুন আমায়। আমি আপনার চোখের ওই ঘৃণিত চাহনি সহ্য করতে পারব না। তার চেয়ে আমি মরেই যাবো।
মেহেরে’র মুখে মৃত্যুর কথা শুনে এবং তার এমন উন্মাদনা দেখে ইফাত নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। সে আর নিতে পারল না। ঠাসস ঠাসস করে পরপর দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দিল মেহেরে’র গালে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো রুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। থাপ্পড়ের আকস্মিকতায় মেহের এক নিমেষে শান্ত হয়ে গেল। সে গালে হাত দিয়ে অশ্রুসিক্ত‚ অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে ইফাতে’র দিকে তাকিয়ে রইল। এদিকে মেহেরে’র শান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে ইফাতে’র নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা হতে লাগল। সে রাগের মাথায় মেহেরে’র গায়ে হাত তুলেছে। অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে ইফাত নিজেই মেহেরে’র চোখের জল মুছে দিল। তারপর পরম মায়ায় তার গাল দুটো নিজের হাতের আঁজলায় ভরে নিল।
“সরি ফুলকন্যা‚আই অ্যাম রিয়েলি সরি। আমি সত্যি তোমাকে আঘাত করতে চাইনি। কিন্তু তুমি এমন একটা নিচু কাজ কেন করতে যাচ্ছিলে? আমি কি একবারও বলেছি যে তোমাকে বউ বানাবো না? বলিনি তো। তাহলে কেন নিজের জীবন প্রদীপ এভাবে নিভিয়ে দিতে গিয়েছিলে?
মেহের ফুঁপিয়ে উঠে। “কিন্তু আপনি তো এটাও বলেননি যে আমায় বউ বানাবেন। আপনি তো আমার অতীতের ওইটুকু কথা শুনে কিছু না বলেই চলে গেলেন।
ইফাত এবার আলতো করে হাসল। তবে সেই হাসিতে ছিল এক বুক গভীরতা। “হ্যাঁ চলে গিয়েছিলাম। তবে তোমাকে ফেলে নয় বরং তোমাকে চিরকালের জন্য নিজের করে নিতে। আমি তোমার জন্য এই লাল বেনারসি শাড়িটা আনতে আমার রুমে গিয়েছিলাম। আর তুমি ভেবে নিলে‚ আমিও আর দশটা কাপুরুষের মতো তোমাকে ছেড়ে পালিয়েছি?
ইফাতে’র কথা শুনে মেহের অনুতাপে মাথা নিচু করে নিল। মানুষটাকে সে কত সহজে‘ কতটা ভুল বুঝে ফেলল। নিজের এই মস্ত বড় ভুলের জন্য মেহেরে’র ভেতরটা অনুশোচনায় কুঁকড়ে যেতে লাগল। ঠিক তখনই ইফাত তার হাতের লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়িটা মেহেরে’র মাথায় ঘোমটার মতো টেনে দিল। তারপর মেহেরে’র চিবুক ধরে মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো।
“ভালোবাসি তোমায় ফুলকন্যা। তোমার পাস্ট জানার কোনো ইন্টারেস্ট আমার কোনোদিনই ছিল না। আমার শুধু প্রেজেন্ট অ্যান্ড ফিউচার তোমাকেই লাগবে। তোমাকে বউ বানানোর স্বপ্ন দেখছি‚ ব্যাস এইটুকুই। আচ্ছা এখন ওসব বাজে কথা বাদ দাও‚ চলো আমরা এখনই বিয়ে করব।
মেহের চমকে উঠে চোখ বড় বড় করল‚ “এখনই?
“হ্যাঁ‚ এখনই।
ইফাতের কণ্ঠে কোনো দ্বিধা নেই।
”কিন্তু বাইরে তো এত ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া বাড়ির কেউ তো জানে না আমার অতীতের…
মেহের তার কথা শেষ করার আগেই ইফাত তার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে থামিয়ে দিল। মেহেরে’র কাঁপতে থাকা হাত জোড়া নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরে দৃঢ় কণ্ঠে বলে উঠল‚
“কারও কিছু জানার কোনো দরকার নেই। আমি তোমাকে আমার বউ করব‚ আর তোমার সাথে সংসারটাও আমিই করব। সো‚ কে কী বলল বা ভাবল সেসবে ইফাত চৌধুরীর কিচ্ছু যায় আসে না। বাইরে ঝড় হোক আর তোফান হোক‘ বিয়ে আমি এখনই করব। তন্ময় অলরেডি সব ব্যবস্থা করে রেখেছে‚ চলো।
মেহের আবারও আমতা আমতা করে বলে‚”শুনুন না আমার…..
কিন্তু কে শোনে কার কথা! ইফাত আর কোনো কথা বলার সুযোগই দিল না। সে এক নিমেষে মেহের’কে নিজের দু-হাতে পাঁজকোলা করে কোলে তুলে নিল। মেহের পরম শান্তিতে ইফাতে’র গলা জড়িয়ে ধরল। বাইরে তখন প্রকৃতির বুকে ঝড় বইছে‚ আর রুমের ভেতর সব ঝড় থামিয়ে দিয়ে ইফাত মেহের’কে কোলে নিয়ে ধীর পায়ে কক্ষ ত্যাগ করল। ভাঙা কাচের টুকরো আর অতীতের সব গ্লানি পেছনে ফেলে‚ তারা দুজনে হেঁটে চলল এক নতুন ও সুন্দর জীবনের গন্তব্যে।
“বউ‚ বউ ও বউ রেগে আছো?
উজান কিছুটা অপরাধীর সুরে ডাকল। মৌ এক মুহূর্তও দেরি না করে অগ্নিদৃষ্টি মেলে তাকালো উজানে’র দিকে। সেই সাথে সাথে মৌ চিৎকার দিয়ে উঠে‚
“একটা কথাও বলবেন না বেহায়া পুরুষ। এই নাকি সে আমায় ভালোবাসে? নির্লজ্জ একটা মানুষ। আমার মতো কিউট‚ বাচ্চা একটা বউ’কে রেখে সে কিনা কোথাকার কোন ডাইনিকে জড়িয়ে ধরে।
“যাহ্ বাবা আমি কখন জড়িয়ে ধরলাম? শিরিন নিজেই তো…
উজানে’র মুখের কথা শেষ হওয়ার আগেই মৌ রক্তচক্ষু নিয়ে তাকাল। সেই চাহনির তীব্রতায় উজান বেলুনের মতো এক নিমেষে চুপসে গেল। আজকের বিকেলটা অবশ্য বেশ ভালোই কাটছিল। উজান যখন মৌ’কে তার মনমতো শপিং করতে বলেছিল। মৌ তখন বিন্দাস মুডে ঘুরে ঘুরে সবার জন্য সুন্দর সুন্দর ড্রেস চয়েস করছিল। আর উজান বেচারা বাধ্য বরের মতো শুধু শপিং ব্যাগগুলো হাতে নিয়ে তার পিছু পিছু ঘুরছিল। একটা মেয়ে যে এত শপিং করতে পারে‚ তা উজানে’র ধারণার বাইরে ছিল।
কিন্তু বিপত্তিটা ঘটল হঠাৎই একটা মলে ঢোকার পর। কোথা থেকে যেন শিরিন আচমকা দৌড়ে এসে উজান’কে জড়িয়ে ধরল। দুই হাত ভর্তি শপিং ব্যাগ থাকায় উজান তখন চাইলেও তাকে হাত দিয়ে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি। উজান অবশ্য খুব ভালো করেই বুঝেছিল‚ মৌ যেন তাকে ভুল বোঝে ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই শিরিন এই নাটকটা করেছে। তবে উজানও কম যায় না। হাত দিয়ে না পারলেও‚ সে সাথে সাথে পা দিয়ে শিরিন’কে একটা মোক্ষম লাথি কষিয়েছিল। সেই দৃশ্য দেখে মৌ অবশ্য তখন শপিং মলের ভেতরেই খিলখিল করে হেসে উঠেছিল। কিন্তু পরক্ষণেই তার ইগোতে লাগল‚ মুখটা মেঘের মতো থমথমে করে সে মল থেকে তড়িৎ গতিতে বেরিয়ে আসে। পিছু পিছু শিরিনও আসছিল কিন্তু ততক্ষণে উজান কোনো মতে শপিং ব্যাগ সামলে মৌ’য়ের পেছনে ছুটে চলে আসে। মৌ এতটাই রেগে ছিল যে সে উজানে’র গাড়িতে না উঠে সোজা একটা অটোরিকশায় চড়ে বসে। উজানও নাছোড়বান্দা‚ সে কোনো রকমে জোর করে মৌ’কে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নিজের গাড়ির ড্রাইভ সিটের পাশে বসিয়ে বাসায় নিয়ে আসে।
তাদের বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত এখন অনেকটা গভীর। বাড়ির সব আলো নেভানো‚ সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। তবে সদর দরজাটা খোলাই ছিল। এটা দেখে উজান কিছুটা অবাক হলেও তখন আর কিছু বলল না। তারা ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই একজন সার্ভেন্ট এসে নিঃশব্দে দরজাটা আটকে দিল। উজান হাতের শপিং ব্যাগ গুলো কোনোমতে ড্রয়িংরুমের সোফায় ছুঁড়ে ফেলে মৌয়ে’র পিছু নিল। কারণ সে খুব ভালো করেই চেনে তার এই পিচ্চি বউকে। এখন যদি তাকে না আটকানো যায় তবে সে অন্য কারও রুমে চলে যাবে‚ না হয় নিজের রুমের দরজা ভেতর থেকে লক করে দেবে। উজান অনেক চেষ্টা করেও মৌ’য়ের এই রাগ ভাঙাতে পারছিল না।
“এই পিচ্চি বউ শোনো না! আই অ্যাম রিয়ালি সরি তো।
উজান অনুনয় করল। মৌ রাগে গজগজ করে মুখ ঘুরিয়ে বলে উঠল‚ “আমি কারও বউ-টউ হই না‚ যান এখান থেকে।
এমন সময় উজান আর কোনো সুযোগ না দিয়ে এক হেঁচকা টানে মৌ’কে নিজের বুকের শক্ত বাঁধনে আবদ্ধ করে নিল। মৌ রেগেমেগে যেই না চিৎকার করে উঠতে যাবে‚ অমনি উজান নিজের হাত দিয়ে তার মুখটা শক্ত করে চেপে ধরল।
“বউ…বউ…বউজান রাগ কোরো না প্লিজ। আজ তোমায় একটা দারুণ জিনিস দেখাবো‚ শান্ত হও।
মৌ এবার রাগ ভুলে ফ্যালফ্যাল করে উজানে’র দিকে তাকিয়ে রইল। সে নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল কিন্তু উজান তাকে কোনোভাবেই ছাড়ল না। সে ওভাবেই মৌ’কে অর্ধ-কোলে জড়িয়ে ধরে মেহেরে’র রুমের দরজার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। দরজাটা সামান্য ফাঁক করা ছিল। দুজনে মিলে সেখান দিয়ে ভেতরে উঁকি দিল।
মেহেরে’র রুমে মিষ্টি হুলস্থুল
ভেতরের দৃশ্য দেখে মৌ’য়ের চোখ চড়কগাছ। রুমে নরম আলোয় দেখা যাচ্ছে ইফাত অত্যন্ত যত্ন সহকারে মেহের’কে শাড়ি পরিয়ে দিচ্ছে। আর মেহের মন্ত্রমুগ্ধের মতো অপলক দৃষ্টিতে ইফাতে’র দিকে তাকিয়ে আছে।
ইফাত যখন মেহেরের শাড়ির কুঁচিগুলো পরম মায়ায় তার পেটের কাছে গুঁজে দিতে যাবে‚ অমনি মেহের লজ্জায় আর ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে বলে উঠল…
“আ আ আ আমি নিজে করে নিচ্ছি।
ইফাত শাড়ির ভাঁজ থেকে দৃষ্টি তুলে মেহেরে’র চোখের দিকে তাকাল। অতঃপর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুষ্টুমিভরা মুচকি হাসি ফুটিয়ে উত্তর দিল।
“ওহু‚ বিয়ে করে বউ ঘরে তুলেছি কিসের জন্য হুম? বউ আমার‚ সো বউয়ের এ-টু-জেড দেখভালের দায়িত্ব এই ইফাত চৌধুরীর। তাছাড়া শুধু শাড়ি পরিয়ে দিলেই তো হবে না‚ সেটা খুলতেও….
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই লজ্জায় লাল হয়ে মেহের তড়িঘড়ি করে ইফাতে’র মুখে নিজের নরম হাতটা চেপে ধরল। মেহেরে’র এই আকস্মিক কাণ্ডে ইফাত শব্দ করে হেসে উঠল। তারপর তার হাতটা সরিয়ে দিয়ে আবারও পরম যত্নে শাড়ির কুঁচিটা পেটে গুঁজে দিল। ইফাতে’র আঙুলের আলতো স্পর্শে মেহেরে’র শরীরটা খানিকটা কেঁপে উঠল। পরক্ষণেই ইফাত মেহেরে’র একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার কোমরটা দু-হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। মেহেরে’র হার্টবিট তখন চারপাশের নীরবতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইফাত ফিসফিস করে বলল‚
“মাঝকথায় থামিয়ে দিলে মেনে নিলাম। তবে…
“আমি ঘুমাবো এবার?”
মেহের আমতা আমতা করে টপিক চেঞ্জ করতে চাইল। তবে ইফাত খানিকটা ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে অদ্ভুত স্বরে শুধালো‚
“যাহ্ বাবা‚ বাসর রাতে কেউ ঘুমায় বুঝি? তাছাড়া ইফাত চৌধুরী যে বড্ড অধৈর্যশীল‚ তা তো জানোই। তাহলে এত বাহানা কিসের শুনি? আজকের রাতের স্পেশাল গিফট চাই না বুঝি?
”আমায় ভয় লাগছে।
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৩৭
“হাউ সুইট। ইফাত চৌধুরীকে ভয়ও পাও বুঝি? ভালোবাসো না আমায়?”
ইফাতে’র কণ্ঠে তীব্র মাদকতা। মেহের লাজুক হেসে মাথা নাড়িয়ে স্বীকার করল যে সে ভালোবাসে। বউ’য়ের এই স্বীকারোক্তিতে ইফাত বেজায় সন্তুষ্ট হলো। সে মেহেরে’র সাথে নিজের ঘনিষ্ঠতা আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল। মেহেরে’র দুই ঠোঁটের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিতে সে যেই না নিজের মুখটা মেহেরের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেল। ঠিক তখনই…….
