Home প্রফেসর জিয়ান কায়সার প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৭

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৭

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৭
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না

জিয়ান একদম স্তব্ধ হয়ে গেল। সে কথা বলা ভুলে গিয়ে অবাক চোখে রিত্তিকার দিকে তাকিয়ে রইল। আর রিত্তিকা তখন জিয়ানের দিকে তাকিয়ে এক মিষ্টি ও দুষ্টুমিভরা হাসি উপহার দিল, যেন সে জানিয়ে দিল—”এখন থেকে আমি শুধু আপনার স্টুডেন্ট নই স্যার, আপনার হবু বউও!”
সাট আপ ইসটুপিড…! ​জিয়ানের গালে হলুদ ছুঁইয়ে রিত্তিকা যখন মিষ্টি করে হাসছিল, ঠিক তখনই জিয়ান নিজের গম্ভীর রূপটা ফিরিয়ে এনে দাঁতে দাঁত চেপে নিচু স্বরে বলল, “শাট আপ, স্টুপিড…!”
​অপ্রত্যাশিত এই ধমকটা শুনে রিত্তিকার মুখের মিষ্টি হাসিটা পলকে মিলিয়ে গেল। সে একদম চুপ হয়ে সোজা হয়ে বসল। মনের ভেতর একটু রাগও হলো—লোকটা কী রে বাবা! আস্ত একটা খিটখিটে বুড়ো!
​ঠিক তখনই রিত্তিকার কাজিন রিদিতা, মামাতো বোন ইরা আর মাহিরা সেখানে এসে হাজির হলো। তারা রিত্তিকাকে আগলে ধরে সোফা থেকে তুলতে তুলতে জিয়ানের দিকে তাকিয়ে চোখ মেরে বলল, “এখনই এত প্রেম করা লাগবে না দুলাভাই! যা করার বিয়ের পর বেশি করে করবেন। এখন আমাদের রিত্তি আপুকে ছাড়ুন দেখি!”

​কথাটা বলেই তারা রিত্তিকাকে প্রায় টেনে নিয়ে গেল হলুদের মূল মঞ্চের দিকে। জিয়ান তাদের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বলল, ‘যেমন রিত্তিকা স্টুপিড, তেমনই এই মেয়েগুলো! পুরো ফ্যামিলিটাই পাগলাগারদ!’
​ওদিকে তখন রিত্তিকার গায়ে হলুদের মূল পর্ব শুরু হয়ে গেছে। রিত্তিকার বাকি বান্ধবীরা—নিহারিকা, আনিকা আর আনুশাও এসে পৌঁছেছে। সবাই মিলে ঘেরাও করে রিত্তিকাকে ছেঁকে ধরল। হুল্লোড় করে তারা রিত্তিকার গালে, কপালে হলুদ মাখাতে লাগল। তাদের সাথে যোগ দিল বরের আদরের বোন জিয়া আর জেসমিনও। পুরো ছাদনাতলা তখন হাসির আওয়াজে মুখরিত।
​রিদিতা রিত্তিকাকে আচ্ছা করে হলুদ মাখিয়ে হাসতে হাসতে হাত ধোয়ার জন্য যেই না পা বাড়াল, অমনি তার সামনে যেন ভূতের মতো হাজির হলো জিহাদ!
​জিহাদ দুই হাত পকেটে পুরে বাঁকা হেসে বলল, “আরে বেয়াইন সাহেব! এত তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছেন?”
​রিদিতা চোখ রাঙিয়ে বলল, “হাত ধুতে যাচ্ছি! পথ ছাড়ুন বলছি।”
​”আরে, এত তাড়া কিসের আপনার? আমাকেও একটু হলুদ মাখিয়ে দিয়ে যান না!” জিহাদ গালটা বাড়িয়ে দিল।

​”ভারী শখ আমার! আমি কেন আপনাকে হলুদ মাখাতে যাব, হ্যাঁ? এতই যদি মাখতে ইচ্ছে হয়, ওই বাটি থেকে নিজেই মাখুন গে!” রিদিতা ঝাঁজালো গলায় বলল।
​”আরে বাবা! এত ঝাঁজ দেখাচ্ছেন কেন? একটু তো হলুদই মাখাবেন, এতে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে নাকি?”
​রিদিতা রেগে মেগে বলেই ফেলল, “হলুদ তোর সাউ…”—বাকি টুকু সে আর মুখে উচ্চারণ করতে পারল না, কারণ ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানে রিহান এসে হাজির হলো।
​রিহান এসে বলল, “আরে রিদি। মা তোকে ভেতরে ডাকছে আর তুই এখানে দাঁড়িয়ে আছিস?”
​”হ্যাঁ , যাচ্ছি,” রিদিতা জিহাদের দিকে এক চিলতে রাগী চাউনি হেনে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল।
​রিহান তখন জিহাদের দিকে তাকিয়ে চিনতে পেরে বলল, “আরে, তুমি জিহাদ না?”
​জিহাদ মাথা নেড়ে বিনয়ের সাথে বলল, “হ্যাঁ। আপনি তো রিহান আই অ্যাম আই রাইট?”
​”ইয়েস, একদম ঠিক ধরেছ!” এরপর রিহান আর জিহাদ একপাশে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ জমিয়ে গল্প করতে লাগল।
​ঠিক তখনই জিয়ান তাদের পেছনের দিক থেকে এসে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, “তোরা কি আজ বাড়ি যাবি না নাকি এখানেই রাত কাটাবি? অলরেডি রাত ৮টা বাজে!”
​জিহাদ জিয়ানের তাড়া খেয়ে রিহানকে বলল, “হ্যাঁ ভাইয়া, এবার আমাদের বের হতে হবে। পরে কথা হবে।”

​গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হতেই পুরো ইসলাম বাড়ি জুড়ে যেন এক এলাহী হইহট্টগোল শুরু হয়ে গেল। গভীর রাত হলেও ঘুম নেই কারও চোখে। সবাই নানান কাজে ব্যস্ত। কেউ ক্যাটারিংয়ের লোকেদের তদারকি করছে, কেউ লাইটিং দেখছে। বাড়ির বিশাল বাগানে রাজকীয় কায়দায় বিয়ের মূল স্টেজ করা হয়েছে। পুরো বাড়ি ধবধবে সাদা আর সোনালী আলো দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।
​আরিশান ইসলাম সাহেব তার একমাত্র আদরের মেয়ের বিয়েতে কোনো রকম কমতি রাখতে চান না। তাই নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে সব ব্যবস্থার তদারকি করছেন।
​বরপক্ষ কিছুক্ষণ আগেই বিদায় নিয়ে চলে গেছে। এখন রিত্তিকা আর তার বান্ধবীরা সবাই মিলে গোল হয়ে বসে মেহেদি পরছে। রিত্তিকার পরনে হলুদ রঙের সুতি শাড়িটা জড়িয়ে আছে। মেকআপ সামান্য, কারণ সে খুব বেশি মেকআপ এমনিতেও পছন্দ করে না। তবে তার ফর্সা হাত দুটোয় মেহেদির চমৎকার নকশা করা হচ্ছে, আর সেই নকশার ঠিক মাঝখানে লুকিয়ে লিখে দেওয়া হয়েছে জিয়ানের নাম।
​ডিজাইনটা শেষ হতেই ইরা রিত্তিকার হাতটা টেনে নিয়ে চোখের সামনে ধরে বলল, “বাহ রিত্তিকা! মেহেদিটা কিন্তু খুব সুন্দর হয়েছে রে। অনেকক্ষণ হাতে রাখবি, ধুয়ে ফেলবি না চট করে। প্রবাদ আছে—মেহেদির রঙ যত গাঢ় হয়, বর তত বেশি ভালোবাসে!”

​কথাটা শুনে রিত্তিকার ফর্সা গাল দুটো লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। সে ইরাকে একটা মৃদু চিমটি কেটে বলল, “চুপ থাক তো ইরা! তোরা বড্ড বেশি বকিস!”
​হাসি, মজা, নাচ, গান আর বান্ধবীদের খুনসুটি দিয়ে প্রায় রাত ১টার দিকে হলুদের অনুষ্ঠান পুরোপুরি শেষ হলো। রিত্তিকার মা, চাচিরা এবং বাকি সবাই তখন ভীষণ ক্লান্ত কিন্তু মনে তাদের অপার আনন্দ।
বিয়ের দিন😁
​পরদিন—অবশেষে এসে গেল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, আজ রিত্তিকা ও জিয়ানের শুভ পরিণয়।
​কায়সার ম্যানশনে তখন রাজকীয় আমেজ। জিয়ানকে আজ পরানো হয়েছে ধবধবে সাদা রঙের সিল্কের শেরওয়ানি, গলায় জড়ানো মেরুন রঙের কাশ্মীরি শাল। শেরওয়ানিতে তাকে হুবহু কোনো রাজপুত্রের মতো লাগছে। কিন্তু এত সুন্দর পোশাক আর সাজের মাঝেও জিয়ানের মুখখানা যেন অমাবস্যার চাঁদের মতো গম্ভীর হয়ে আছে।
​ঠিক তখনই জিয়ানের ঘরে হইহই করে ঢুকল আরিফ। আরিফ জিয়ানের সবথেকে কাছের বন্ধু, যে এতকাল বিদেশে কাজের সূত্রে ছিল। জিয়ানের বিয়ের খবর শুনেই সে আজ সকালে সোজা ফ্লাইট ধরে দেশে এসেছে—তাও শুধু জিয়ানের জন্য।

​আরিফ ঘরে ঢুকেই জিয়ানের গম্ভীর মুখ দেখে হেসেই খুন। সে জিয়ানের কাঁধে চাপড় মেরে বলল, “আরে দোস্ত! বিয়ের দিনেও মুখটা এমন হনুমানের মতো কালো করে আছিস কেন রে? একটু তো হাস!”
​জিয়ান আরিফের দিকে তেরছা চাউনি হেনে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “সা’লা চুপ থাক!”
​”কেন রে? আমি আবার কী করলাম? তুই বিয়ে করছিস, আরিফ বিছানায় বসে বলল।
​” আমার মাথা এমনিতেই গরম হয়ে আছে। দাদু আমাকে জোর করে এই বিয়েতে রাজি করিয়েছে দিচ্ছে, জিয়ান আয়নায় নিজের শেরওয়ানির কলারটা ঠিক করতে করতে বলল।
​জিহাদ তখন ঘরে ঢুকে বলল, “ভাইয়া, তাড়াতাড়ি চলো! বরযাত্রী সব রেডি। আজকের বরযাত্রী শুনলে তোমার মাথা ঘুরে যাবে।”
​আরিফ উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কেন রে জিহাদ? কতজন যাচ্ছে?”
​”প্রায় ২ হাজার লোক যাচ্ছে বরপক্ষ থেকে! পুরো কায়সার বংশ আর আব্বুর অফিসের অর্ধেক মানুষ আজ হাজির!” জিহাদ গর্ব করে বলল।
​জিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বলল, ‘২ হাজার লোক যাচ্ছে আমার বলির পাঁঠা হওয়া দেখতে! ও আল্লাহ বাঁচাও!’

​অবশেষে বিশাল গাড়ির বহর নিয়ে বরযাত্রী রওনা হলো কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে। জিয়ানের গাড়িটা গাঁদা আর রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে চমৎকার করে সাজানো হয়েছে।
​কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর শুরু হলো আসল হুলুস্থুল। গেট আটকানোর জন্য রিদিতা, ইরা, মাহিরাসহ রিত্তিকার পুরো গার্লস গ্যাং গেটে ওড়না টানিয়ে দাঁড়িয়ে গেল।
​জিহাদ গাড়ি থেকে নেমে বুক ফুলিয়ে বলল, “এই যে শালি সাহেবারা! গেট ছাড়ুন দেখি, আমাদের বরবাবাজির আবার গরম সহ্য হয় না।”

​রিদিতা কোমরে হাত দিয়ে বলল, “এত সহজে গেট ছাড়ছি না দুলাভাইয়ের ভাই! আগে পঞ্চাশ হাজার টাকা গেট ধরা দিন, তারপর ভেতরে পা রাখবেন।” নাহলে বরের নাক ধরে টানবো আমরা।
বরপক্ষ একসাথে বলে উঠলো,কিহ…!
​আরিফ পাশ থেকে ফিসফিসিয়ে জিয়ানকে বলল, “দোস্ত, তোর শালিরা তো ইন্টারন্যাশনাল ডাকাত রে,।
​আমি অযথা টাকা দিতে পারবো না, টাকা তো পাতা না যে চাইলেই দিয়ে দেবো।
ইরা বললো, ঠিকাছে দেওয়া লাগবে না আমরা নাহয় একটু নাকটা ধরে টানি।
জিয়ান পড়লো কাদের পাল্লায়, টাকা না দিলে যদি সত্যি সত্যি নাক টানে সেই ভয়ে দিয়ে দিল।
কবির বললো,ভাই একটু মুখটা ঠিক কর এমন গম্ভীর না রেখে।
আমার মুখ যেমন ইচ্ছা তেমন রাখবো।
​জিয়ানকে যখন মূল বিয়ের স্টেজে এনে বসানো হলো, তখন চারপাশের রাজকীয় আলো আর মানুষের গুঞ্জনে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হলো। জিয়ান গম্ভীর মুখে বসে রইল ঠিকই, কিন্তু তার বুকের ভেতর এক অজানা উত্তেজনা কাজ করছিল।
​তার বসার কিছুক্ষণ পরেই ওপর থেকে রিত্তিকাকে নামিয়ে আনা হলো। তবে রিত্তিকা একা নয়, ওড়না টানিয়ে তাকে ঘিরে ধরে নিয়ে আসছিল তার পুরো গার্লস গ্যাং—ইরা, মাহিরা, নিহারিকা, আনিকা, রিদিতা এবং আনুশা। তাদের হাসাহাসি আর নুপুরের আওয়াজে চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠল।
​সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ইরা রিত্তিকার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল, “জানিস রিত্তি, আমাদের দুলাভাইকে কিন্তু আজ দারুণ লাগছে রে! পুরাই ক্রাশ খাওয়ার মতো লুকে বসে আছে স্টেজে।”
​পাশ থেকে মাহিরা সায় দিয়ে বলল, “হ্যাঁ রে রিত্তি! তুই তো ওনাকে এই লুকে দেখে পুরাই টাসকি খাবি, চোখ সরাতেই পারবি না।”

​বোনদের এমন খোঁচানো কথায় রিত্তিকার ফর্সা গাল দুটো লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। সে মাথা নিচু করেই বান্ধবীদের হাত চেপে ধরে বলল, “প্লিজ, তোরা একটু চুপ যা তো! এমনিতেই আমার নার্ভাস লাগছে।”
​”কেন রে? এখনই এত লজ্জা কিসের?” রিদিতা দুষ্টুমিভরা হাসিতে চোখ টিপে বলল, “এখন তো শুধু ট্রেইলার, দেখব বাসর রাতে কত লজ্জা পাস!
​রিদিতার এই ডাইরেক্ট কথায় রিত্তিকা লজ্জায় যেন একেবারে মাটির সাথে মিশে যেতে চাইল। সে রিদিতাকে একটা মৃদু চিমটি কাটল, কিন্তু বাকি সবাই ততক্ষণে খিলখিল করে হেসে উঠেছে।
​হাসতে হাসতেই তারা রিত্তিকাকে নিচে নিয়ে এলো—সোজা জিয়ানের স্টেজের কাছে। লাল রঙের ভারী কারুকাজ করা লেহেঙ্গা, ওড়নার ওপাশ থেকে উঁকি দেওয়া লাজুক মুখ আর হালকা মেকআপে রিত্তিকাকে আজ সত্যিই কোনো রূপকথার রাজকন্যার মতো লাগছিল। বিয়ে বাড়ির প্রতিটা মানুষের চোখ তখন কনের ওপরেই স্থির।

​রিত্তিকাকে এনে জিয়ানের ঠিক পাশের খালি আসনটিতে বসানো হলো। কিন্তু জিয়ান এতটাই আড়ষ্ট আর গম্ভীর হয়ে ছিল যে, রিত্তিকা পাশে এসে বসার পরও সে তার দিকে একবারের জন্যও তাকালো না! সে সোজা সামনের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন পাশে কে বসেছে তাতে তার কোনো আগ্রহই নেই। জিয়ানের এই ভাবলেশহীন রূপ দেখে রিত্তিকার মনে মনে বেশ অভিমান হলো—’হুহ, আস্ত একটা কাঠখোট্টা লোক! এত সুন্দর করে সাজলাম, তাও একটা বার চোখ তুলেও দেখল না!’
​বিয়ের এই থমথমে আর লাজুক পরিবেশটাকে নিমেষেই বদলে দিতে এগিয়ে এলো রিত্তিকার বোনরা। জিয়ান যখন গম্ভীর মুখে বসে আছে, ঠিক তখনই ডিজে বক্সে ধুমধাড়াক্কা মিউজিক বেজে উঠল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইরা আর রিদিতা শাড়ির কুঁচিটা একটু ওপরে তুলে দৌড়ে গিয়ে নাচের স্টেজে উঠে গেল!
​বক্সে তখন ফুল ভলিউমে বাজছে ট্রেন্ডিং গান—’কালা চাশমা’!
​চোখে কালো চশমা গলিয়ে ইরা আর রিদিতা স্টেজে এমন ধামাকা ডান্স শুরু করল যে, পুরো বিয়ে বাড়ির লোকজনের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। তাদের কোমরের ঝটকা আর চমৎকার এক্সপ্রেশন দেখে উপস্থিত সব অতিথি জোরে জোরে হাত তালি দিয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলল। কনেপক্ষের এই পারফরম্যান্স দেখে সবাই তখন বাহবা দিচ্ছে।

​কিন্তু কনেপক্ষের এই জয়জয়কার বরপক্ষের ছেলেদের একদম সহ্য হলো না। বরের বেস্ট ফ্রেন্ড আরিফ আর ছোট ভাই জিহাদ একপাশে দাঁড়িয়ে এই নাচ দেখছিল।
​জিহাদ কোমরে হাত দিয়ে আরিফকে বলল, “আরিফ ভাই! দেখেছ, শালিরা তো স্টেজে উঠে আমাদের পাত্তাই দিচ্ছে না! বরপক্ষের মান-সম্মান তো একদম ধুলোয় মিশিয়ে দিল।”
​আরিফ কোটের বোতামটা ঠিক করতে করতে করা গলায় বলল, “আমরা কায়সার বাড়ির ছেলে, এত সহজে হার মানব না! চল, ওদের বুঝিয়ে দিই বরপক্ষ জিনিসটা কী!”
​যেই কথা, সেই কাজ! ইরা আর রিদিতার নাচ শেষ হতেই আরিফ আর জিহাদ একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে লাফিয়ে নাচের স্টেজে উঠে গেল। ডিজে-কে ইশারা করতেই গান বদলে বেজে উঠল পাওয়ারফুল ট্র্যাক—’বাঞ্জারা’

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৬

​গানের বিট শুরু হতেই আরিফ আর জিহাদ নিজেদের কোট খুলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে এমন এনার্জেটিক এবং নিখুঁত নাচ শুরু করল যে, এবার কনেপক্ষের লোকজনের মুখ হাঁ হয়ে গেল। জিহাদের ব্যাকফ্লিপ আর আরিফের স্টাইলিশ স্টেপস দেখে পুরো বিয়ে বাড়িতে যেন আগুন লেগে গেল।
বরপক্ষের বাকি আত্মীয়রাও এবার চিল্লিয়ে স্টেজ কাঁপাতে লাগল।

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here