Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৭

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৭

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৭
আশফিয়া হিয়া

রুদ্ধ বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই রুমা বেগম বোনের কাছে সবটা বুঝিয়ে বললেন। শুধুমাএ আরুর ব্যাপারটা গোপন রাখলেন এখনই আরুর ব্যাপার বলে দিলে বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে তাই সেই বিষয়ে কিছুই বলল না। সবটা শুনে নিতা বেগম খুবই অসন্তুষ্ট হলেন সেটা ওনার চোখ – মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ক্রোধ চেপে না রাখতে পেরে বলেই বসলেন,
– ” আমার নিধি কম কিসের আপা? রুদ্ধ এমন মেয়ে কোথায় পাবে আপা।”
– ” সবার পছন্দ তো এক হয় না, তাছাড়া রুদ্ধ ওকে বোনের চোখে দেখেছে। এটা সারাজীবনের ব্যাপার এই ব্যাপারে ছেলেটাকে আমি জোর করতে পারি না।”
– ” তোমার ঔই জা এর মেয়ে কি যেন নাম আরু, নিধি তো বলল মেয়েটা কেমন গায়ে পড়া স্বভাবের তোমাকে আগেই সাবধান করে রাখলাম।”
রুমা বেগম এবার কড়া গলায় বললেন,
– ” সেসব নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। আরু আমার আরেকটা মেয়ে ও কেমন আমার থেকে ভালো নিশ্চয় তুই জানবি না?”
নিতা বেগম আর কিছু বলল না, চোখ – মুখ শক্ত করে রাখল।

খোলামেলা এক বিস্তীর্ণ প্রান্তর, চারদিকে সবুজ ঘাসে ঢাকা। দূরে নীল আকাশের নিচে ছড়িয়ে আছে সাদা মেঘ, হালকা বাতাসে ঘাসগুলো দুলছে। আশেপাশে কোনো ভিড় নেই, শুধু পাখির ডাক আর প্রকৃতির শান্ত শব্দ। জায়গাটা এতটাই মুক্ত আর প্রশান্ত যে মনে হয়, এখানে দাঁড়িয়ে নিঃশ্বাস নিলেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। রুদ্ধ এসেছে তার বন্ধুদের সাথে দেখা করতে, তারা সবসময় এই জায়গাতেই আড্ডা দেয়। ভার্সিটিতে পড়াকালীন এই সিগ্ধ পরিবেশের সন্ধান তারা পায়। তুষার নাক – মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে সিগারেট টানছে, সাদমান তার পিঠে এক কিল বসাল,

– ” কিরে শালা এমনভাবে সিগারেট টানছিস মনে হচ্ছে ছ্যাঁকা খেয়ে এসেছিস।”
তুষার পাল্টা তাকে আঘাত করে বলল,
– ” খবরদার শালা বলবি না তোর কাছে আমার বোনকে জীবনেও বিয়ে দেব না।”
সাদমান ভাব নিয়ে বলল,
– ” সেটা সময় হলেই দেখা যাবে।”
রুদ্ধ তাদের কাহিনি দেখে বিরক্তি স্বরে বলল,
– ” হয়েছে তোদের, এভরি ডে একই কাহিনি তোরা ক্লান্ত হোস না?”
তুষার ব্যঙ্গ স্বরে বলল,
– ” তুই বাচ্চা বউ পালতে পালতে ক্লান্ত হোস না?”
– ” স্যাট আপ।”
সাদমান ও তুষার শব্দ করে হেসে ফেলল।
তুষার এবার হাসি থামিয়ে বলল,
– ” বাড়িতে এই মাসেই বিয়ের ডেট ফিক্সড করেছে।”
সাদমান, রুদ্ধ দুজনেই তাকে জড়িয়ে ধরে কনগ্র্যাচুলেশনস জানাল।
তুষার বলল,

– ” বিয়েতে কিন্তু আরুকে অবশ্যই নিয়ে আসবি।”
– ” দেখা যাক।”
– ” কোনো দেখা দেখি চলবে না, আরুকে আনবি ব্যাস। ”
রুদ্ধ হ্যাঁ বা না কিছু বলল না। সাদমান বলল,
– ” আরুকে নিজের মনের কথা কবে বলবি?”
– ” সেটার প্রয়োজন হবে না।”
তুষার, সাদমান মুখ দিয়ে বিরক্তির শব্দ তুলল। সাদমান বলল,
– ” মানে ও বাচ্চা মেয়ে ওকে তোর মনের কথা না বললে ও বুঝবে কোনোদিন? আমার বন্ধু হয়ে এত নিরামিষ তুই হতে পারলি ছ্যাঁহ। ”
তুষার বলল,
– ” আরুর তোকে বিয়ে করাই উচিত না জীবনে একটা কিস করতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে।”
সাদমান ও তুষার ইচ্ছে মতো রুদ্ধকে এটা ওটা বলতেই থাকল। রুদ্ধ তাদের কথায় কান না দিয়ে অন্যদিকে ফিরে মৃদ্যু হেসে বিরবির করল,
– ” কিস করতে পারবো কি পারবো না তার প্রুভ তো আরু অলরেডি পেয়েই গিয়েছে।”

রুদ্ধ যাওয়ার পর থেকে আরু মন খারাপ করে বসেছিল। তার মন খারাপ দেখে রুহানি ফারিশকে ফোণ করে ডেকে এনেছে তাদের নিয়ে বের হওয়ার জন্য। ফারিশের আজ কাজের চাপ থাকায় সে রুদ্ধদের সাথে যেতে পারেনি। কাজ শেষ হতেই রুহানির ফোণ পেয়ে সে শেখ বাড়িতে চলে এসেছে। ফারিশ রুদ্ধকে ফোণ করে জানাতে চাইলে আরু কড়া গলায় নিষেধ করে দিয়েছে। রুদ্ধকে যদি জানানো হয় তাহলে সে যাবেই না এটাও বলেছে। তাই ফারিশ রুদ্ধকে কিছু না জানিয়েই ওদের নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল।
এখন রাত নয়টা, আজকের ওয়েদার ভীষণ সুন্দর ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাস বইছে, আকাশ পুরো মেঘে ডেকে রয়েছে। বৃষ্টিমুখর ভাব তবে এখন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা একদমই নেই। ফারিশ তাদের রেস্টুরেন্ট এ নিতে যেতে চাইলেও কেউ রাজি হলো না, এত সুন্দর ওয়েদার এ বাইরে ঘুরতেই ভালো লাগে। ফারিশ তাদের নিয়ে লেকের কাছে এল। চারিদিকে বিভিন্ন খাবারের স্টল রয়েছে তারা সেখানের একটা স্টলে বসল, সকলের জন্য ফুচকা অর্ডার দেয়া হলো। এরপর সবাই মিলে হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠল। এখানে এসে আরুর মনটাও ভীষণ ভালো হয়ে গেল। রুদ্ধর কথাটাও মাথা থেকে বেরিয়ে গেল।

আরুরা বেরিয়ে যাওয়ার মিনিট দশেক পড়েই বাড়িতে রুদ্ধর আগমন ঘটল। বাড়িটা এত চুপচাপ দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেল। সে গিয়ে সোফায় বসল রুমা বেগম তার জন্য কফি নিয়ে এল। রুদ্ধ বলল,
– ” কি ব্যাপার বলে তো বাড়িটা এত চুপচাপ হয়ে আছে কেনো?”
রুমা বেগম হেসে বলল,
– ” বাড়ি মাতিয়ে রাখার মানুষেরা আছে নাকি বাড়িতে, ফারিশ সবাইকে নিয়ে বেরিয়েছে।”
– ” মানে কোথায় গিয়েছে?”
– ” সেটা তো জানি না।” রুমা বেগম রান্নাঘরে চলে গেল।
রুদ্ধ ফারিশের ফোণে কল করল। রুদ্ধর কল পেয়ে ফারিশ একটু দূরে গিয়েই কল রিসিভ করল। রুদ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
– ” শালা কোথায় গিয়েছিস ওদের নিয়ে?”
– ” যেখানেই যাই তোর কি, তোর বউ ক্ষেপে আছে তোকে কিছু বলতে বারণ করেছে।”
– ” কোথায় আছিস সেটা বল।”
ফারিশ জায়গার নাম বলতেই রুদ্ধ কল কেটে দিল।

পাঁচজনের জন্য পাঁচ প্লেট ফুচকা অর্ডার করা হয়েছিল। ফুচকা আসতেই সকলে খাওয়া শুরু করল। আহি স্বভাবতই ভীষণ আস্তে ধীরে খায় দেখা গেল আহির যেখানে দুটো খাওয়া হয়েছে ইয়াজের সেখানে পাঁচটা খাওয়া শেষ। ইয়াজ আহির প্লেট থেকে আরোও একটা টোপ করে খেয়ে নিল। আহি কাঁদোকাঁদে মুখ নিয়ে তার দিকে চাইল। ইয়াজ আরোও একটা তুলতে গেলে আহি তার পিঠে কিল বসাল। ফারিশ তাদের ঝগড়া থামাতে আরোও দু প্লেট ফুচকা অর্ডার করল। আরু বিরক্ত হয়ে আহি ইয়াজের কাহিনী দেখছিল কোথাও গিয়ে এদের নিয়ে শান্তি নেই সব জায়গায় এসে শুরু হয়ে যায়। হঠাৎ পাশে কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে পাশে তাকাল রুদ্ধকে দেখেই যা বোঝার বুঝে গেল সে রাগী চোখে ফারিশের দিকে তাকাল। ফারিশ আমতা আমতা করে বলল,

– ” আমি কিছু বলিনি।”
রুদ্ধ সকলের চোখের আড়ালে আরু কোমর জরিয়ে ধরল
আরু তার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই। রুদ্ধ তার কোমরে চাপ প্র‍্য়োগ করে ফিসফিসিয়ে বলল,
– ” এভাবে তাকাচ্ছিস কেনো, খেয়ে ফেলবি নাকি আমাকে?”

শীতল বাতাসে চারপাশটা যেন আরও শান্ত হয়ে উঠেছে। খোলামেলা আকাশের নিচে রাতের নরম অন্ধকারে দূরের আলো গুলো ছোট ছোট জোনাকির মতো জ্বলছে। চারদিকে নিস্তব্ধতা, শুধু মাঝে মাঝে ঠান্ডা হাওয়ার ছোঁয়ায় গাছের পাতার মৃদু শব্দ শোনা যাচ্ছে। ফারিশ আরুদের নিয়ে যেই টেবিলে বসেছিল সেখানে মানুষের কোলাহল তেমন ছিল না। তাদের টেবিলের আশ পাশটা বেশ নির্জন। রুদ্ধর হাত এখনোও আরুর কোমর জাপটে রয়েছে। আরু চোখ রাঙিয়ে হাত সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি উল্টো আরোও শক্ত করে কোমর চেপে ধরা হচ্ছে। আরু হাল ছেড়ে চুপ করে মুখ ফুলিয়ে বসে রইল। বাকিরা তাদের কান্ড দেখে মিটিমিটি হাসছে। ফারিশ ইনোসেন্ট সেজে বলল,

– ” তুই হঠাৎ এখানে এলি যে?”
– ” আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই। তুই এই রাতে ওদের নিয়ে বের হয়েছিস কেনো?”
রুহানি বলল,
– ” আসলে ভাইয়া আমিই বলেছি, আরুর মন খারাপ ছিল তাই ভেবেছি বাইরে থেকে ঘুরে গেলে ওর মনটাও ভালো হয়ে যাবে।”
– ” আমাকে জানাসনি কেনো?”
রুহানি কিছু বলবে তার আগেই আরু ছটফটে গলায় জবাব দিল,
– ” আপুই তো মানা করেছে এটাও বলেছে তোমাকে জানানো হলে আপু নাকি বাড়ি থেকে বেরই হবে না ।” কথাটা শুনতেই আরু তার দিকে চোখ গরম করে তাকাল। ইয়াজ আড়ালে তার হাতে চিমটি কাটল। ব্যাচারী আহি সত্যি কথা বলে ফেলেছে ভেবে সেও ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। এত বেশি কথা বলতে কে বলেছে ওকে এখন বড় ভাইয়া যদি আপুকে বকে ভেবে একটু ভীত হলো। তবে রুদ্ধ একে বারেই শান্ত। সে আরুর কোমরে আরেকটু চাপ প্র‍য়োগ করে চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
– ” তোর তো আজ কাল বেশ সাহস বেড়ে গিয়েছে আরু, এখন বোধহয় আমাকে ভয় টয় পাচ্ছিস না, তাই না?”
আরু জেদি গলায় জবাব দিল,
– ” আমি কাউকে ভয় পাই না।”
রুদ্ধর রাগ হবার পরিবর্তন হাসি পেল খুব, সবাই রয়েছে তাই হাসিটা নিয়ন্ত্রণ করে বলল,
– ” আচ্ছা?”

হঠাৎ করেই ভীষণ বেগে বাতাস শুরু হয়েছে। মনে হচ্ছে এখনই বৃষ্টি নামবে। এখন সময়টায় এমন হুটহাট করেই বৃষ্টি নামে। বৃষ্টির আভাস পেতেই ওরা বেরিয়ে পড়ল বাড়ির উদ্দেশ্যে। রুদ্ধ বাইক নিয়েই এখানে এসেছিল, তাই ফারিশকে বলল বাকিদের বাড়ি পৌছে দিতে সে আরুকে নিয়ে আসছে। ফারিশ মাথা নেড়ে সায় জানাল। আরু গাড়িতে উঠতে নিলে রুদ্ধ তার হাত ধরে আটকে দিল। আরু কিছু বলার বা করার সুযোগ পেল না তার আগেই ফারিশের গাড়ি শো শো করে চলে গেল। গাড়িটা চলে যেতেই আরু মাথায় হাত দিয়ে বলল,
– ” আমাদের রেখে এভাবে চলে গেল কেনো, এবার আমরা কিভাবে যাবো?”
রুদ্ধ নির্লিপ্ত গলায় বলল,
– ” পায়ে হেঁটে।”
– ” কিহ্! ওহ বুঝেছি মজা করছেন তা….. কথা শেষ করার পূর্বেই তার মনে হলো সে তো রুদ্ধর ওপর রেগে আছে, কথা বলবে না বলেছে। আরু বিরবির করে নিজেই নিজেকে বকতে লাগল। রুদ্ধ তাকে রেখেই বাইক নিয়ে এল
– ” বাইকে উঠে পড়।”
– ” আমি আপনার সাথে যাবো না?”
– ” কেনো?”
– ” আমি আপনার সাথে কোথাও গেলে তো আপনার সমস্যা হয় তাই তো কোথাও নিয়ে যেতে চান না, আমিও আপনার সাথে যাবো না।”
রুদ্ধ তার গাল দুটো চেপে ধরে বলল,

– ” এসব তোকে আমি বলেছি?”
আরু ওভাবেই বলল,
– ” সবকিছু মুখে বলতে হয় না, এমনিতেই বোঝা যায়।”
রুদ্ধ বাইক থেকে নেমে আরুর গা ছুঁই ছুঁই হয়ে অন্যরকম গলায় বলল,
– ” তাই, এই মুহুর্তে আমাকে দেখে কি বুঝতে পারছিস তুই?”
আরু ঘারড়ে গেল, রুদ্ধর এই হঠাৎ বদলে যাওয়া রুপ, গলায় স্বর শুনলে তার ভেতরটা ভীষণ কেঁপে ওঠে। সবটা কেমন এলোমেলো হয়ে যায়। আরু এইদিক সেদিক তাকিয়ে রুদ্ধর বুকে এক হাত ঠেলে বলল,
– ” সড়ুন এটা রাস্তা।”
– ” ওকে।”
রুদ্ধ একবার বলাতেই সরে যাবে আরু আশা করেনি সে রুদ্ধর দিকে আড়চোখে তাকাতেই দেখন রুদ্ধ তার দিকেই তাকিয়ে আছে, আরু সঙ্গে সঙ্গে চোখ ফিরিয়ে নিল। রুদ্ধ আবার তাকে বাইকে উঠলে বললে, এবার বিনা বাঁধায় উঠে পড়ে সে। মাঝরাস্তায় পৌছাতেই হঠাৎ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হলো, রুদ্ধ বাইকটা কোনো রকম দাঁড় করিয়ে আরুর হার ধরে দৌড়ে ছাওনির নিচে চলে গেল। জায়গায়টায় আপাতত জনমানব শূন্য, এমনিতেই রাত দশটা বেজে গেছে তারওপরে বৃষ্টি দু একটা চায়ের দোকান ছিল সেটাও এখন বন্ধ। এমন মানব শূণ্য স্থান দেখে আরুর ভীষণ ভীত হলো। সে রুদ্ধর কাছ ঘেঁষে দাঁড়াল। রুদ্ধ তার চোখ – মুখ দেখে বুঝে ফেলল সবটা আরু এক হাতে জরিয়ে নিয়ে বলল,
– ” ভয় পাচ্ছিস?”
– ” একটু।”
– ” ভয় নেই আমি আছি তো।”
দুজন দুজনার চোখের গভীরতায় হারিয়ে গেল। এই দৃষ্টি তার
দৃষ্টিতে মিললে সে চাইলেও আর রেগে থাকতে পারে না। তার রাগ – অভিমান সবটাই শেষ হয়ে যায়। বৃষ্টির বেগ কমতেই তারা বেরিয়ে পড়ল। বাড়ি পৌছাতে পৌছাতে বেশ খানিকটা ভিজেও গেল দুজনে।

রুমা বেগম ছেলের জন্য বেশি করে আদা দিয়ে চা করে এনেছে, আরুরটা আরুর রুমে দিয়ে এসেছে। রুদ্ধ একটু পরপর হাঁচ্চি দিচ্ছে। এই অসময়ের বৃষ্টি গায়ে ভেজানোর ফলে দুজনেই ভীষণ ঠান্ডা লেগে গিয়েছে। রুদ্ধ চা খেয়ে মাকে বিছানায় বসিয়ে দিল। এরপর মায়ের কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল। রুমা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। বাইরে থেকে এসে আরুও ঘুমিয়ে পড়েছিল তার ঘুম ভাঙল সকাল দশটায়। নিচে নামার পর আজ আর রুদ্ধর দেখা পেল না আরু মায়ের কাছে জানতে পারল রুদ্ধর ভীষণ জ্বর এসেছে তাই আর দেরি না করে দৌড়ে রুদ্ধর রুমে চলে গেল। রুদ্ধর মাথায় জল পট্টি দেওয়া হয়েছে। নিধি তার মাথার কাছে বসে রয়েছে, রুমা বেগম ঔষুধ বের করছেন। আরু রুমে প্রবেশ করতেই, তাকে দেখে নিধি রুদ্ধর দিকে আরেকটু সরে বসল রুদ্ধর আপাতত হুশ নেই সে এসবের কিছুই জানে না। রুমা বেগম আরুকে দেখেই তার শরীর কেমন আছে জিজ্ঞাসা করল। চিন্তিত মুখে রুদ্ধর কথাও জানাল। আরুকে রেখে রুমা রেগম নিচে গেলেন একটু, তিনি যেতেই নিধি জল পট্টি পালটে দিল। আরু বলল,

– ” আপু তুমি এবার উঠো, আমি দিচ্ছি।”
কথাটা শুনতেই নিধি ফুঁসে উঠে বলল,
– ” কেনো আমি দিতে পারি না, তুমি কেনো দেবে আমাকে আমার আজ করতে দাও।”
আরুও রেগে গিয়ে বলল,
– ” আশ্চর্য তো তুমি এমন করছো কেনো?”
– ” তুমি বোধ হয় জানো না দুদিন পরে আমাদের বিয়ে তাই আমার ফিউচার হাসবেন্ড এর দায়িত্ব তো আমাকেই নিতে হবে তাই না?”
তার কথায় মুহুর্তেই যেনো ব্জ্রপাত ঘটল আরুর মাথায়। সে অবিশ্বাস্য গলায় বলল,
– ” কি বললে?”
– ” যা শুনেছো তাই বলেছি।”
– ” উনি জানেন?”
– ” ওমা যার বিয়ে সে জানবে না? রুদ্ধও জানে।”

আরু সব বিষয়ে বাচ্চামি করলেও, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সে বেশ বুঝদার। তাছাড়া রুদ্ধকে সে ভালো করেই চেনে। রুদ্ধর তার প্রতি সেই দৃষ্টি, যত্ন, শাসন, জেলাসি সবটায় সে বুঝতে পারে রুদ্ধ শুধুমাএ তাকেই ভালোবাসে। তাছাড়া বেশ সেদিন তাদের ক্ষণিকের কাছে আসার পর থেকে আরু আরও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছে রুদ্ধ শুধু তাকেই চাই, তাই নিধির কথায় সে কোনো বোকামি করবে না। রুদ্ধ সুস্থ হলেই তার থেকেই সবটা জেনে নেবে সে।
আরু নিধিকে বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৬

– ” তুমি এখন যেতে পারো বাড়িটা আমাদের এটা নিশ্চয়ই মানো? তোমার উপস্থিতি আমি এখন পছন্দ করছি না, আর তোমাদের বিয়ের কথা যদি হয়েই থাকে তাহলে তো ভালোই উনি উঠলে আমি শুনে নিব। ”
নিধি ভেবেছিল আরু কথাটা শুনে কান্নাকাটি করবে, আরুর ভিন্ন রুপ দেখে সে নিজেই ভীত হলো সাথে রাগও হলো ভীষণ। গটগট করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here