Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৯

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৯

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৯
আশফিয়া হিয়া

রাত যত গভীর হয়, ঘরটাও তত নিস্তব্ধ হয়ে ওঠছে, দেয়ালগুলোও নীরবে ঘুমিয়ে পড়েছে।চারদিকে কোনো শব্দ নেই, শুধু জানালার বাইরে হালকা বাতাসের শব্দ আর আরুর অস্থির শ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। রুদ্ধ বেডে বসে দু পা লম্বালম্বিভাবে মেলে বুকে হাত গুজে আরুর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আরু রুদ্ধর দৃষ্টি জোড়া দেখে মিনমিন করে বলল,

– ” আমি এখন যাই, খুব ঘুম পাচ্ছে।”
আরু দরজার সামনে এসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ভাবল রুদ্ধ বুঝি তাকে ছেড়ে দিয়েছে, কিন্ত দরজায় হাত রাখার আগেই রুদ্ধর ধমক শুনে কেঁপে উঠল মেয়েটা।
– ” আমি তোকে যেতে বলেছি?”
আরু আমতা আমতা করে বলল,
” না..না।”
– ” কাম হেয়ার।”
– ” না না প্লিজ আমি এটা দেখতে পারবো না।”
তখনি রুদ্ধ আবার ধমকে উঠল,
– ” আসতে বলেছি।”
আরু বেডের দিকে এগিয়ে যেতেই রুদ্ধ হাত ধরে তার পাশে বসিয়ে দিল, এক হাত ধরে কোমর জরিয়ে ধরে ল্যাপটপ অন করে দিল। ল্যাপটপে বর্তমানে হরর মুভি চলছে। মুভির শুরুটাই ভীষণ ভয়ানক। যেটাতে একবার চোখ দিয়েই আরুর আত্না ছলকে উঠেছে। আরু হরর মুভি দেখতে ভীষণ ভয় পায়। কৌতূহল থেকে দুই একটা হরর কাহিনী শুনলেও তার তেমন ভয় করে না, রাতে তো সে রুহানির সাথেই ঘুমায় তবে হরর মুভি দেখলে দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসতে থাকে মনে হয় এই ঘটনাগুলো তার নিজের সাথেই ঘটছে। একা একা ওয়াসরুমে যেতেও তার ভীষণ ভয় করে। রুদ্ধ এসব জানে জেনে বুঝেই তাকে শাস্তি দিতে এই কাজটা করেছে সেটা আরুর আর বুঝতে বাকি নেই। কেনো যে তখন তার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাটা বলতে বলল, আর বলেছে তো বলেছেই তাই বলে তখন রুদ্ধকেও হাজির হতে হবে।
আরু চোখ দুটো বন্ধ করে আর্তনাদ করে উঠল। এক হাতে শক্ত করে রুদ্ধর কোমরের কাছের টি শার্ট শক্ত করে চেপে ধরল। চোখ মুখ খিঁচে বলল,

– ” আমি এটা দেখতে পারবো না প্লিজ।”
রুদ্ধ ধমকে উঠল,
– ” কেনো দেখতে পারবি না গল্প করার সময় মনে ছিল না তুই ভয় পাস? তখন তো ঠিকই শুনতে পেরেছিস তাহলে দেখতে অসুবিধা কোথায়?”
– ” ওটা তো কান দিয়ে শুনেছি চোখ দিয়ে তো দেখিনি।”
রুদ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
– ” ওকে ফাইন কান দিয়ে শুনেছিস, এখন নিজের চোখ দিয়ে দেখতে থাক।”
ল্যাপটপ থেকে ভয়ংকর কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড বাজতেই আরু রুদ্ধকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল,
– ” এটা বন্ধ করুন প্লিজ আমি আর জীবনে কারোর সাথে গল্প করবো না।”
আরুর ভীত চেহারা, ভয়ে কেঁদে ফেলা দেখে রুদ্ধর কঠিন হৃদয় খানিকটা গলে গেল। ল্যাপটপ বন্ধ করে সাইডে রেখে দিল। আরুকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে প্রশ্ন করল,
– ” আর কখনো কোনো ছেলের সাথে গল্প করবি।”
আরু চোখ – মুখ বন্ধ করেই মাথা নাড়াল, যার অর্থ সে আর কোনো ছেলের সঙ্গে গল্প করবে না।

– ” মুখে বল।”
– ” আর কখনো কোনো ছেলের সাথে কথা বলব না।” কথাটা বলেই মুখটা চিন্তিত বানিয়ে বলল,
-” কিন্তু সেটা তো আমার স্যার ছিল পড়ার ব্যাপারে কথা না বললে তো আমি পড়তেই পারবো না।”
রুদ্ধ তার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই আরু হালকা হাসার চেষ্টা করে বলল,
– ” না না কোনো ব্যাপার না আমি কথা না বলেই পড়তে পারবো। ”
রুদ্ধ তার দিকে দু কদম এগিয়ে এসে বলল,
– ” একটা কথা কান খুলে শুনে রাখ আরু, কোনো ছেলের সাথে তোকে যদি গল্প করতে দেখি , সেটা প্র‍য়োজনে হোক বা অপ্রয়োজনে সেদিন তোকে আমি কি করবো নিজেও জানি না। এন্ড এটায় লাস্ট ওয়ানিং কথাটা যেন মাথায় থাকে।”
রুদ্ধর শক্ত কন্ঠের কথাগুলোতে আরুর সম্পূর্ণ শরীর জুড়ে শিরশির করে উঠল। ভয়ে এক ঢোক গিয়ে ঘাড় এক পাশে কাত করল। রুদ্ধ রুমের দরজা গিয়ে খুলে দিল।
আরু দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পুরো করিডর দেখে শুকনো ঢোক গিলল। বাড়ির অর্ধেক লাইট এখন অফ করা আছে, করিডরের এক প্রান্তে লাইট জ্বলছে যেটা সারাটা রাত ধরে জ্বালানোয় থাকে। রাতের বেলা বাড়ি যেমন নিরব হয়ে থাকে ঠিক তেমনটায় হয়ে আছে। বাড়ির অনেকে হয়ত ঘুমিয়েও পড়েছে তাই তো তেমন কোনো শব্দ নেই। আরুর ভীত মুখ দেখে রুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে বলল,

– ” কি হয়েছে?”
আরু মিনমিন করে বলল,
– ” আমাকে একটু রুহানি আপুর রুম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসুন না।”
– ” কেনো?”
– ” আমার একা যেতে ভয় করছে।”
আরুর মুখটা কেমন কাচুমাচু হয়ে আছে। আরুর মুখ দেখে রুদ্ধর হাসি পেলেও হাসিটুকু কোনোরকম গিলে বলল,
– ” আয়।”
রুদ্ধ আরুর দিকে নিজের হাত বাড়িয়ে দিল। আরু দেরি না করে জটপট সেই হাত আগলে ধরল। রুহানির রুমের দরজা পর্যন্ত যেতেই তবে রুদ্ধ তার হাত ছেড়ে দিল। আরু রুদ্ধরদিকে এক পলক তাকিয়ে রুমে ডুকে পড়ল। আরু মুকের ভেতরে যেতেই রুদ্ধ ও নিজের রুমে চলে গেল। তবে আজকের এই ঘটনা বোধ হয় সহজভাবে ঘটার ছিল না। এত রাতে রুদ্ধর রুম থেকে আরুর বের হওয়া, হাত ধরে তাকে রুহানিত রুমে এগিয়ে দেয়া সবটাই আসলাম শেখের চোখে পড়ে গেল।
ঘুম আসছিল না বিধায় খাওয়া – দাওয়ার পরপরই তিনি ছাদে হাঁটাহাটি করতে গিয়েছিলেন। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় রুদ্ধ ও আরুকে দেখে তিনি সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। ছাদের সিঁড়ির লাইট বন্ধ থাকায় রুদ্ধ আরু কেউই তার উপস্থিতি বুঝতে পারে নি।

আরু ও আহির নিজেদের আলাদা রুম থাকা স্বও্বেও রাতের বেলা তারা দু বোনই রুহানির সাথে ঘুমায়। ছোট বেলা থেকে এটায় দু বোনের অভ্যাস তাই বড় হওয়ার পর থেকে এই অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেনি কেউই। রুহানিরও এতে কোনো আপওি নেই বোনদের সে ভীষণ ভালোবাসে , রাতে একসাথে গল্প করতে করতে জড়াজড়ি করে ঘুমানোর মজা শুধুমাত্র বোনরায় বুঝতে পারে।
আরু রুমে ডুকেই হাফ ছেড়ে বাঁচল। এক লাফে বিছানায় উঠে আহি ও রুহানির মাঝে শুয়ে পড়ল। আহি রুহানি দুজনেই তখন সজাগ ছিল, আরুকে এভাবে লাফিয়ে মাঝে শুয়ে পড়তে দেখে দুজনেই শোয়া থেকে উঠে বসল। রুহানি আরুর গায়ে হাত দিয়ে বলল,
– ” কি হয়েছে পাখি ভয় পেয়েছিস কিছু দেখে?” আহির উৎসুক চোখ জোড়া তখন আরুতেই নিবদ্ধ।
আরু কেঁদে অভিযোগের স্বরে বলল,
– ” তোমার ভাই আস্ত একটা বদমাইশ, নিরামিষ নিমপাতা একটা আজকে আমার সাথে কি করেছে জানো?”
রুহানি ও আহি দুদিকে মাথা নাড়াল, যার অর্থ তারা জানে না। আরু এবার উঠে বসল, ফুঁপিয়ে উঠে বলল,
– ” আমাকে তার ঘরে নিয়ে হরর মুভি দেখিয়েছে।”

রুহানি অবাক হয়ে বলল,
– ” মানে, কেনো?”
আহি বিরক্ত হয়ে বলল,
– ” হরর মুভি দেখানোর একটা কারণ তো আছে, কারণটা তো আগে বলবে।”
আরু তার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাল তা দেখি আমি বলল,
– ” আমরা তো শুধু কারণটা জানতে চাইছিলাম।”
আরু এবার একে একে সব খুলে বলল। তামিমের স্বভাবগত ভূতের কাহিনী শুনতে চাওয়া, রুদ্ধর কাছে হাতে – নাতে ধরা পড়া সবটা বলল। সবটা শুনে রুহানি শব্দ করে হেসে ফেলল। তার ভাইয়া তো আরুর ব্যাপারে ভীষণ পসেসিভ, সাথে ভীষণ ছেলে মানুষ ও নয়তো জেলাসির কারণে কেউ এমন শাস্তি দিতে পারে? রুহানিকে হাসতে দেখে আরু রাগে ফুঁসে উঠে বলল,

– ” তোমার তো হাসি পাবেই, আমি অনেক ভয় পেয়েছি। করিডোর দিয়ে আসতে পর্যন্ত পারছিলাম না।”
– ” তাহলে এলে কি করে?”
আরু নাক টেনে বলল,
– ” উনি দিয়ে গেছে।”
রুহানি আবারও হেসে দিল, আহিও এবার শব্দ করে হেসে বলল,
– ” যাই বলো ভাইয়া কিন্তু হেব্বি পসেসিভ। ”
আরু তার মাথায় গাট্টা মেরে বলল,
– ” পসেসিভ মানে? বেশি পেকেছিস তাই না, উনি কেনো আমার জন্য পসেসিভ হতে যাবে।”
আহি ভাব নিয়ে বলল,
– ” হয়েছে আপু আর লুকিয়ে লাভ নেই আমি সবটাই জানি।”
– ” কি জানিস তুই?”
– ” এই যে তুমি ভাইয়াকে ভালো…..

– ” চুপ ফাজিল মেয়ে, দিন দিন বেশি পেকে যাচ্ছ তুমি। সর আমি এখন ঘুমাব।”
আহির ওপর হম্বিতম্বি করে আরু মুখের ওপর ওড়না দিয়ে ডেকে শুয়ে পড়ল। এই মুখ সে এখন কাউকে কিছুতেই দেখাতে পারবে না। ছিহ্ ছিহ্ তার ছোট বোনটা পর্যন্ত তার মনের কথা বুঝে গেল। আর ওই নিমপাতাটা বুঝতে এত সময় নিয়েছে, বুঝেছে তো আগেই এতদিন ভান ধরে ছিল। এখনো তো তাকে ভালোবাসি কথাটা বলল না। শুধু হুটহাট এমন এমন কাজ করে যেটাতে সে লজ্জাতেই মরে যায়। নিমপাতার মুখ থেকে যদি ভালোবাসি কথাটা বের করতে না পারি তাহলে আমার নামও আরু নয় হুহ।
আরু মুখের ওপর ওড়না দিয়ে শুয়ে পড়তেই আহি রুহানি একে ওপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে হেসে ফেলল।

আসলাম শেখ চোখের ওপর হাত দিয়ে শুয়ে আছে। রুমা বেগম ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে স্বামীকে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখে চিন্তত হয়ে কপালে হাত রাখলেন। আসলাম শেখ স্ত্রীর উপস্থিতি টের পেয়ে কপাল থেকে হাত সরিয়ে তার দিকে দৃষ্টি দিল। রুমা বেগম চিন্তত স্বরে বলল,
– ” কি হয়েছে আপনার শরীর খারাপ লাগছে?”
– ” না ঠিক আছি।”
কিছুটা থেমে আবার বলল,
– ” আমি রুদ্ধর বিয়ে দিতে চাইছি।”
রুমা বেগম চমকে উঠে বলল,
– ” হঠাৎ এই কথা কেনো বলছেন। আপনি তো বলেছিলেন ছেলেটাকে চাপ দিবেন না, ও যখন বিয়ের কথা বলবে তখনই এ বিষয়ে কথা বলবেন।”
– ” বলেছিলাম তবে এখন মত বদলাবার সময় চলে এসেছে। ছেলের দিকে খেয়াল রাখ সে কি কি করে বেরাচ্ছে।”
রুমা বেগম ভীত স্বরে বলল,
– ” কি করেছে রুদ্ধ?”
– ” আরু বাচ্চা একটা মেয়ে এখনো দুনিয়ার রঙ সম্পর্কে সে জানে না, তার কাছে গোটা জগৎটায় এখন রঙিন কিন্ত রুদ্ধ তার তো যথেষ্ট বয়স হয়েছে, দুনিয়া সম্পর্কে সে আমার থেকেও ভালো বুঝে তার থেকে আমি এমনটা আশা করিনি।”

রুমা বেগম প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন, আসলাম শেখ আবার বললেন,
– ” কিছুক্ষণ আগে আমি আরুকে রুদ্ধর রুম থেকে বের হতে দেখিছি। ছেলেটা হাত ধরে আরুকে রুহানির রুম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এসেছে। তাদের চোখের ভাষা আমার দৃষ্টির আড়াল হয়নি।”
রুমা বেগম আত্নবিশ্বাসের সাথে বলল,
– ” ওরা কোনো অন্যায় করতে পারে না, হয়তো কিছু হয়েছিল তাই। আপনি রুদ্ধর সাথে এই ব্যাপারে সরাসরি কথা বলুন দেখবেন আপনার সব ভুল ভেঙে যাবে।”
আসলাম শেখ কিছু বললেন না শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তার ছেলে কোনো অন্যায় করতে পারে না সেটা তিনিও জানেন, তিনি যেটা ভাবছেন সেটা যদি সত্যি হয়, আরু ও রুদ্ধর মাঝে প্রণয় ঘটিত কোনো সম্পর্ক থেকে থাকে তখন কি হবে, তার হাতে তিলে তিলে গড়া এই পরিবারে ভাঙণ ধরবে না তো?

ঘড়িতে এখন সকাল ৮ টার ঘরে, বাড়ির পুরুষরা এবং বাচ্চারা নাস্তা করছে খাবার ঘরে, বড়রা অফিসে যাবে, বাচ্চারা যাবে স্কুল কলেজে। আরু আজ কলেজে যাবে সেও খাবার টেবিলে উপস্থিত রয়েছে।মিতা বেগম গরম গরম পরোটা ভেজে টেবিলে এনে রাখলেন। আরু তখন থেকে একটা পরোটা নিয়েই ঝিমুচ্ছে, তিনি মেয়ের মাথায় এক গাট্টা মেরে, পরোটা বড় বড় করে টুকরো করে মুখে তুলে দিতে লাগল। মায়ের সামনে আরু কোনো হম্বিতম্বি না করেই মুখটা লটকে খাবার গিলতে লাগল। আহির আবার খাওয়া নিয়ে কোনো বাহানা নেই তার খেতে ভীষণ ভালো লাগে, একটু পরপরই তার খিদে পেয়ে যায়, তবে সমস্যা একটায় সে যতই খাবার খেয়ে থাকুক না কেনো খাবার একদমই গায়ে লাগতে চাই না। সে বরাবরই শুকনোই রয়ে গেল।

এরই মাঝে রুদ্ধ ফরমাল ড্রেসআপে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এল। তার পড়নে আজ গ্রিন শার্ট কালো প্যান্ট হাতে কালো রঙের কোটটা হাতে নিয়েছে। আরু তার দিকে একবার চোখ দিয়ে আর চোখ ফেরাতে পারল না, ড্যাবড্যাব করে রুদ্ধর দিকে তাকিয়ে রইল। রুদ্ধ আরুকে এভাবে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতে দেখে চোখ রাঙাল। আরু থতমত খেয়ে চোখ সরিয়ে নিল। আসলাম শেখের দৃষ্টি আজ রুদ্ধ ও আরুর ওপরেই নিবদ্ধ। রুদ্ধর দিকে আরুর ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা, রুদ্ধর চোখ রাঙানো সবটায় তার চোখে পড়েছে। ঠিক তখনই রুদ্ধও তার দিকে তাকাল, বাবাকে এমনভাবে তাকাতে দেখে রুদ্ধ ভ্রু কুঁচকাল, আসলাম শেখ সেটা দেখে খাওয়ায় মনোযোগ দিলেন। কিছুক্ষণ পর রুদ্ধ বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৮

– ” তুমি আজ অফিসে যাবে না বাবা?”
– ” না শরীরটা ভালো লাগছে না, তুমিও কিছুক্ষণ পরে যেও।”
রুদ্ধ চিন্তত হয়ে বাবার দিকে তাকাতেই তিনি বললেন,
– ” চিন্তার কিছু নেই রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে খেয়ে রুমে এসো।”
রুদ্ধ খেতে খেতেই মাথা নাড়াল। খাওয়ার ফাঁকে একবার চোখ তুলে আরুর দিকে তাকাল, যার চোরা দৃষ্টি রুদ্ধতেই নিবদ্ধ। যেটা দেখে রুদ্ধর ঠোঁটে একপাশে আলতো হাসির রেখা ফুটে উঠল, তবে সেটি কারোর নজরেই পড়ল না।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here