শেহেজাদার আদর পর্ব ৭০
সুমাইয়া ইসলাম নূর
ভোরের সোনালি আলো ধীরে ধীরে এহসান ভিলার বিশাল কাঁচের জানালা ভেদ করে ডাইনিং হলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চকচকে ইতালিয়ান মার্বেলের মেঝেতে সেই আলো পড়ে এক অপূর্ব আবহ তৈরি করেছে। মাঝখানে রাখা লম্বা কাঠের ডাইনিং টেবিলটি নানা রকম সকালের নাস্তায় সাজানো। গরম গরম পরোটা, সবজি, ডিম, ফল, তাজা জুস আর ধোঁয়া ওঠা কফির সুবাসে পুরো পরিবেশটা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
টেবিলের এক পাশে বসে আছেন নাতাশা এহসান। হাতে পত্রিকা থাকলেও দৃষ্টি বারবার চলে যাচ্ছে নিজের মেয়ের দিকে।অন্যদিকে তুবা যেন আজ ভীষণ তাড়াহুড়োয় আছে এক হাতে দ্রুত নাস্তা শেষ করছে, আর অন্য হাতে ফোনে রাজ্যর সঙ্গে মেসেজ আদান-প্রদান করছে। প্রতি কয়েক সেকেন্ড পরপর ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।বিষয়টা নাতাশা এহসানের চোখ এড়াল না।তিনি ধীরে ধীরে কফির মগটা টেবিলে রেখে শান্ত গলায় বললেন,
— “তুবা…”
মায়ের ডাকে তুবা মাথা তুলে তাকাল।
নাতাশা এহসান মৃদু হেসে বললেন,
— “ছোটবেলা থেকেই তোমার স্বপ্ন ছিল একজন ভালো ডাক্তার হওয়ার। সত্যি বলতে কী, আমি আর তোমার বাবা চেয়েছিলাম তুমি আমাদের ব্যবসাটা সামলাবে। কিন্তু কোনোদিনই তোমার স্বপ্নের পথে আমরা বাধা হয়ে দাঁড়াইনি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, নিজের স্বপ্নটা নিজেকেই বেছে নিতে হয়।”
কয়েক সেকেন্ড থেমে তিনি আবার বললেন,
— “শুধু একটা কথাই মনে রাখবে, মা… জীবনে ব্যক্তিগত অনুভূতি আর দায়িত্ব—দুটোই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনটার সময় কখন, সেটা বুঝে চলাটাই সবচেয়ে বড় পরিপক্বতা। আমি চাই না, তোমার ব্যক্তিগত জীবনের কোনো বিষয় তোমার পড়াশোনা বা ভবিষ্যতের স্বপ্নের ওপর একটুও প্রভাব ফেলুক। তোমার লক্ষ্য যেন সবসময় তোমার প্রথম অগ্রাধিকার থাকে।
কথাগুলো খুব শান্ত স্বরেই বললেন নাতাশা এহসান। কোথাও কোনো নিষেধ ছিল না, ছিল না কোনো কঠোরতা। কিন্তু কথার অন্তর্নিহিত ইঙ্গিতটা বুঝতে তুবার একটুও বাকি রইল না।সে বুঝে গেল, তার ফোনে বারবার মেসেজ করার বিষয়টা মায়ের নজর এড়ায়নি।তুবা ফোনটা নিঃশব্দে টেবিলের ওপর রেখে মৃদু হেসে বলল”চিন্তা কোরো না, আম্মু। আমার স্বপ্নের সঙ্গে আমি কখনো আপস করব না।”
নাতাশা এহসানও আশ্বস্ত হয়ে মেয়ের মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দিলেন।
তুবা দ্রুত নাস্তা শেষ করে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।
রাজ্য অনেকগুলো মেসেজ দিল। কিন্তু তুবা একটাও সিন করল না।গাড়ির সিটে বসে জানালার বাইরে তাকিয়েই তুবা মনে মনে ভাবতে লাগল,
— “মা কি সব জেনে গেছে? যদি… রাজ্যের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা মা মেনে না নেয়?”ভাবনাটা মাথায় আসতেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল।
রাজ্য আবারও ফোন হাতে নিয়ে একটি মেসেজ পাঠাল পিচ্চি, তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।”কিন্তু তুবার যেন সেদিকে কোনো মনই নেই।
ঠিক তখনই গাড়িটা এসে থামল ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ-এর সামনে। ।ওদিকে রাজ্য অসহায়ের মতো ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল,”পিচ্চি… তুমি নিজেও জানো না, ঠিক কত বড় সারপ্রাইজ তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে।”
অন্যদিকে…
তুবা অন্যমনস্ক হয়ে ভাবতে লাগল তাদের পুরোনো দিনগুলোর কথা।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বলল, “ইসস… আগের মতো যদি আমরা তিনজনে আবার একই সঙ্গে থাকতে পারতাম!”
অন্যদিকে…
চৌধুরী ভিলার বিশাল ডাইনিং রুমে তখন সকালের নাস্তা করছে সবাই । হাসি-আড্ডায় জমে উঠেছে পুরো পরিবেশ।ইউভি একপ্রকার জোর করেই ইনায়াকে রেডি করে নিচে নিয়ে এসেছে। কারণ আজ ইনায়া আর পিয়াসার নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার দিন। মাঝখানে দু’জনেরই পড়াশোনায় বেশ কিছুটা বিরতি পড়েছিল। তাই আর সময় নষ্ট না করে তাদের North South University-এর বিজনেস অনুষদে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউভি।নাস্তা করতে করতেই ইউভি গম্ভীর কণ্ঠে বলল, “দ্রুত নাস্তা শেষ করো, মিসেস চৌধুরী।”
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর মুখে বলল, “আমি কি আপনার মতো ডায়েট করি নাকি? যে সকালে দুইটা সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, ওটস আর ব্ল্যাক কফি খেয়েই পাঁচ মিনিটে উঠে যাব? আমি আলুর পরোটা খাচ্ছি। আলুর পরোটা খেতে সময় লাগে। ফিল নিয়ে না খেলে আবার ভালোও লাগে না।”
ইউভি কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু শান্ত, গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— “জাস্ট পাঁচ মিনিট। আমি বাইরে অপেক্ষা করছি। এক মিনিট দেরি হলে আমি ঠিক কী করতে পারি, সেটা তুমি খুব ভালো করেই জানো, মিসেস চৌধুরী।”কথাটা বলেই সে রাতিব চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল, “চাচ্চু, আজ অফিস যেতে একটু দেরি হবে।তোমরা সামলে নিয়ো”এটুকু বলেই ইউভি বাইরে চলে গেল।
ব্যাস!
ইনায়া আর কোনো কথা না বলে নাকে-মুখে আলুর পরোটা খেতে শুরু করল।দৃশ্যটা দেখে টেবিলে বসে থাকা সবাই মুখ চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে।আয়াত হেসে বলল,
— “আপুরে, এত বড় হয়ে গেছ, তবুও ইউভি ভাইয়া তোমাকে বকে!”ইনায়া জুস খেতে খেতে আমতা আমতা করে বলল বোনু… শেখার যেমন শেষ নেই, তেমনি বকা খাওয়ারও কোনো বয়স নেই। আসি আমি!”
কথা শেষ করেই সে দৌড়ে বাইরে চলে গেল।
ইনায়ার এমন পাগলামি দেখে পুরো ডাইনিং রুম জুড়ে উচ্চস্বরে হাসির রোল পড়ে গেল।লিখন চৌধুরী মৃদু হেসে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,”আমার ছেলে যেমন এক মিনিটও কাজ ছাড়া থাকতে পারে না, ঠিক তেমনভাবেই নূরকেও নিজের মতো করে গড়ে তুলতে চাইছে।”
ইউভি গাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে।হঠাৎই ভিলার মূল দরজা খুলে ধীর পায়ে বাইরে এলো ইনায়া।
আজ তার পরনে গাঢ় বেগুনি রঙের অপূর্ব একটি কুর্তি। গলার আর হাতার সূক্ষ্ম কাজ পোশাকটাকে আরও অভিজাত করে তুলেছে। একই রঙের ওড়নাটা হালকা বাতাসে দুলছে। কোমর ছাপিয়ে নেমে আসা হালকা লালচে-বাদামি খোলা চুলগুলো বাতাসে উড়ে বারবার তার মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে।
ইনায়াকে দেখার পর ইউভি আর এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরাতে পারল না।
চারপাশের সবকিছু যেন মুহূর্তেই অস্পষ্ট হয়ে গেল। তার দৃষ্টি আটকে রইল শুধু নিজের স্ত্রীর ওপর।
ইনায়া ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে বাগানের পথ পেরিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে, আর ইউভি নীরবে সেই দৃশ্য দেখছে। তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটুকরো মুগ্ধ হাসি ফুটে উঠল।
মনে মনে শুধু একটাই কথা বলল—
“এই মেয়েটা প্রতিদিনই নতুন করে আমাকে মুগ্ধ করার একটা না একটা কারণ খুঁজে বের করে বিয়াদোব বউ আমার।
ইনায়া হন্তদন্ত হয়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
— “চলুন, মিস্টার!”
তারপর ঠোঁট ফুলিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
— “শুধু একটু ভালোবাসি বলেই আপনার এই অত্যাচার সহ্য করি। না হলে কবেই ‘ঘ্যাচাং ফু’ করে দিতাম!”ইউভি এক পা এগিয়ে এসে ভ্রু তুলে শান্ত গলায় বলল,”এক্সকিউজ মি… এই ‘ঘ্যাচাং ফু’ আবার কী?”
ইনায়া ঠোঁট বাঁকিয়ে উত্তর দিল,
— “এই কথার মানে আপনি বুঝবেন না। এটা শুধু আমরা তিনজন… মানে তিন বান্ধবীই বুঝি।”
ইউভি আবারও ধীরে ধীরে তার দিকে এগোতেই ইনায়া দু’পা পিছিয়ে গেল।”চলুন কি হলো।এখন দেরি হচ্ছে না বুঝি ।”ইউভি ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বলল না তো আমি কি বলেছি দেরি হচ্ছে?”
ইনায়া আরও একটু পিছোতে পিছোতে বলল,
— “প্লিজ… এখন কোনো দুষ্টুমি নয়।”
পরক্ষণেই ইউভি এক ঝটকায় ইনায়াকে নিজের কাছে টেনে নিল।গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— “IVA-এর দায়িত্ব কার?”
ইনায়া অবাক হয়ে বলল,
— “কেন? আমার।”
— “তাহলে IVA-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর কে ঠিক করবে?”
— “আমি।”
— “কবে? কখন? নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ করার পর?”
ইনায়া মুচকি হেসে বলল,
— মিস্টার চৌধুরী ঘরে মডেল থাকতে আপনি বাইরে খুঁজছেন কেন ?”
ইউভি ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “কে মডেল?”
ইনায়া নিজের দিকেই আঙুল দেখিয়ে গর্বের সঙ্গে বলল,কেন এই যে আমি… মডেল।”
কথাটা শুনে ইউভি শুধু মুচকি হেসে সামনে হাঁটতে শুরু করল।ইনায়া অবাক হয়ে বলল,
— “এই! আপনি হাসলেন কেন? আমি দেখতে ওই তিয়ার থেকে কোন দিক দিয়ে খারাপ?”ইউভি আবারও ঠোঁট চেপে হাসল।
— “কী হলো? বলেন… হাসছেন কেন? তার মানে কী বোঝাতে যাচ্ছেন?”কোনো উত্তর না দিয়ে ইউভি গাড়ির কাছে এসে দরজা খুলে ইনায়াকে ওঠার জন্য ইশারা করল।ইনায়া গাড়িতে উঠে বসল। ইউভিও ড্রাইভিং সিটে বসে ইঞ্জিন স্টার্ট দিল।
তবুও ইনায়া ছাড়ার পাত্রী নয়। “কী হলো? বলুন!”
ইউভি কোনো উত্তর দিল না। চুপচাপ ঝুঁকে এসে ইনায়ার সিটবেল্ট বেঁধে দিল। তারপর মুচকি হেসে গাড়ি চালাতে শুরু করল।ইনায়া গর্বের সঙ্গেই বলল,
— “শুনুন, মিস্টার। আমি ইনায়া নূর চৌধুরী। সব পারি। আমিও দেখিয়ে দেব—একজন মডেল হয়ে আমার কোম্পানির পার্মানেন্ট ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হব আমি নিজেই।”
ইউভি হালকা হেসে বলল,
— “রিয়েলি, মিসেস চৌধুরী? আপনি ঠিক কী কী পারেন, সেটা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে।”ইনায়া আরও গর্বের সঙ্গে বলল,
— “আমি এখন বিজনেস বিষয়েও যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেছি। সবাই বলে আমি নাকি ভালো গানও করি। আমি বাইকও চালাতে…”হঠাৎ করেই থেমে গেল সে।প্রিয় বাইকটার কথা মনে পড়তেই মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।
ঠিক তখনই ইউভির ফোনে রাইহান চৌধুরীর কল এলো।
ইউভি কল রিসিভ করে ব্লুটুথ ইয়ারপিস কানে লাগিয়ে কথা বলতে শুরু করল। বিপরীত পাশের মানুষের কথা শোনা না গেলেও ইউভির কণ্ঠ শুনেই ইনায়া চমকে উঠল।
ইউভি শুধু একটাই কথা বলল,
— তুমি কাজটা ঠিক করোনি। চাচ্চু, এর ফল তোমাকে পেতেই হবে। তখন আবার এই ইউভির কাছেই এসো না।
“অন্যদিকে… ইনায়া সাহস করে আর কিছুই জিজ্ঞেস করল না। ইউভির কণ্ঠের গাম্ভীর্যই যেন তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল।এই মুহূর্তে কোনো প্রশ্ন না করাই ভালো।বেশ কিছুক্ষণ পর…
গাড়িটা এসে থামল ইনায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। বিশাল ক্যাম্পাস, চারদিকে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। গাড়ি থেকে নামতেই ইউভি স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ভেতরে প্রবেশ করল। , বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকতেই প্রায় সবাই তাকে অসম্ভব সম্মান দিয়ে অভ্যর্থনা জানাতে শুরু করল। “গুড মর্নিং, স্যার।” “ওয়েলকাম, মিস্টার চৌধুরী।”
— “স্যার, প্লিজ এইদিকে আসুন।”
একজন কর্মকর্তা দ্রুত এগিয়ে এসে নিজেই তাদের ভেতরে নিয়ে গেলেন। ইনায়া বিস্মিত চোখে শুধু সবকিছু দেখছে। মনে মনে ভাবল,
— “এরা সবাই উনাকে এত সম্মান করছে কেন?”
এরই মধ্যে আরেকজন কর্মকর্তা ফাইল নিয়ে হাজির হলেন। “স্যার, সব কাগজপত্র রেডি আছে।”
ইউভি শুধু মাথা নাড়ল।প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেই প্রস্তুত ছিল। দু’জনকে শুধু যেখানে যেখানে সই করতে হবে, সেখানেই সই করানো হলো। ভর্তি-সংক্রান্ত বাকি সমস্ত কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারাই সম্পন্ন করে ফেললেন।মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইনায়ার ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল।সবকিছু এত সহজে হয়ে যেতে দেখে ইনায়া যেন আরও অবাক হয়ে গেল।ভর্তি শেষ হওয়ার পর ইউভি একজন শিক্ষকের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে লাগল।
আর ইনায়া একটু দূরে দাঁড়িয়ে ফোনে তুবার সঙ্গে কথা বলছিল ঠিক তখনই…
পেছন থেকে ভেসে এলো এক পরিচিত কণ্ঠস্বর।
“হেই ইনায়া! তুমি?”ইনায়া চমকে পেছনে ফিরে তাকাল। তন্ময়?”তন্ময় হেসে বলল,
তুমিও কি আজ অ্যাডমিশন নিলে?””হ্যাঁ।”
তন্ময় আরও হাসল “দেখেছো! আমরা আবার ক্লাসমেট হয়ে গেলাম। এখন থেকে তো রোজই দেখা হবে।”তন্ময় একের পর এক কথা বলেই চলেছে। কিন্তু ইনায়ার মন যেন সেদিকে নেই।হঠাৎই তার দৃষ্টি চলে গেল ইউভির দিকে।শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ইউভি একবার তাকিয়েছিল তাদের দিকে।
মুখটা সম্পূর্ণ শান্ত কিন্তু চোখ দুটো।অস্বাভাবিক রকমের শান্ত, অথচ ভয়ংকর লাগছে সেই দৃষ্টিটা দেখে ইনায়ার বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
এদিকে তন্ময় তখনও নিজের মতো করেই বকবক করে যাচ্ছে আর অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে ইনায়ার দিকে শেষে হেসে বলল,সবই তো শুনলে। কাল সবকিছু বুঝিয়ে বলব। আজ আসি।”
ইনায়া শুধু মৃদু স্বরে বলল,
— “হুম।”
তন্ময় চলে যেতেই ইউভি ধীর, গম্ভীর পদক্ষেপে এগিয়ে এলো।কিন্তু…ইনায়ার সঙ্গে একটি কথাও বলল না।সোজা গিয়ে গাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল। এখন আগের মতো গাড়ির দরজাও খুলে দিল না।সিটবেল্টটাও বেঁধে দিল না।সবকিছুই যেন ইচ্ছে করেই করছে।গাড়ি চালাতে চালাতেই ইউভি মনে মনে বলল,
“ওই হুলো বিড়ালটা কোথা থেকে উদয় হলো! চোখ দিয়েছে আমার প্রপার্টিতে! ইসস… কী ভয়ঙ্কর দুঃসাহস! উফফ… কী ভয়ঙ্কর ফিলিং! ওই চোখ দিয়ে তাকানোটা যে স্বাভাবিক নয়, এটা আমি কী করে বোঝাই ওর চোখের ভাষা আমার অচেনা নয়। একজন পুরুষ আরেকজন পুরুষের দৃষ্টি খুব সহজেই পড়তে পারে। ওই দিকে আমার বিয়াদোব টা হয়তো কিছুই বুঝতে পারেনি… কিন্তু আমি বুঝেছি। ওর সেই চাহনি স্বাভাবিক ছিল না।”
পুরো রাস্তা জুড়ে ইউভি ইনায়ার সঙ্গে একটি কথাও বলল না।গাড়ির ভেতরে নেমে এলো অদ্ভুত এক নীরবতা।বেশ কিছুক্ষণ পর গাড়িটা এসে থামল চৌধুরী ভিলার সামনে।ইউভি সংক্ষিপ্ত কণ্ঠে শুধু বলল,
শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৯
— “আজ অফিসে যাওয়া লাগবে না।”
কথাটা বলেই গাড়ির দরজা খুলে দিল।
ইনায়া নীরবে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল।
আর পরের মুহূর্তেই…
চোখের পলকে ইউভির গাড়িটা চৌধুরী ভিলার সামনের রাস্তা পেরিয়ে দৃষ্টির আড়ালে মিলিয়ে গেল।
