Home অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৫

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৫

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৫
রিদিতা চৌধুরী

গোধূলির রক্তিম আভা যখন শহরের আকাশটার গায়ে এসে কিছুটা ম্লান হয়ে এল, তখন চারপাশটা এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতায় ছেয়ে গেল। ইট-পাথরের জঙ্গল হলেও, এই এলাকার খোলামেলা রাস্তায় বাতাসের গায়ে লেগে থাকা কৃষ্ণচূড়া আর কদম ফুলের সোঁদা গন্ধ এক মায়াবী আবহের সৃষ্টি করেছে। দূরের রাস্তা থেকে ভেসে আসা মৃদু যান্ত্রিক কোলাহল যেন সন্ধ্যার এই নিস্তব্ধতায় এক আলাদা সুর যোগ করেছে। তখনই
সৌহার্দ্যর গাড়িটা এসে থামল একটা বিশাল বাড়ির সামনে। রিদি গাড়ি থেকে নামতেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল—সামনে যেটা, সেটা যেন বাড়ি নয়, আস্ত একটা রাজপ্রাসাদ! বিশাল জায়গা জুড়ে মাঝখানে এক চমৎকার ডুপ্লেক্স বাড়ি, আর তার চারপাশে দেশি-বিদেশি ফলের চারা। বিশেষ করে আম গাছের সংখ্যা অনেক বেশি, যেগুলো থোকায় থোকায় ঝুলে আছে। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটা বিশাল পুকুর, আর তার ওপরে খামার জাতীয় কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। বাড়ির সামনের বাগান ভরা রিদির পছন্দের অর্কিড ফুলে—ঠিক সেই অর্কিড, যেটা রিদি তার ফেসবুক প্রোফাইলে ব্যবহার করেছে!

রিদি অবাক হয়ে সৌহার্দ্যর দিকে তাকাতেই দেখল, এই পুরুষ কেমন নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রিদির ভাবনার মাঝেই সৌহার্দ্য এসে তার কাঁধ জড়িয়ে ধরল। রিদির দিকে একটু ঝুঁকে গালে গভীর একটা চুমু খেয়ে বলল, “পছন্দ হয়েছে, মাই কুইন?”
রিদি সৌহার্দ্যকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে ধীর গলায় বলল, “খুব পছন্দ হয়েছে, ডাক্তার সাহেব!”
সৌহার্দ্য ঠোঁট কামড়ে হাসল। বউকে দুই হাতে জড়িয়ে নিয়ে বলল, “ওকে ভিতরে চল, সকাল হলে চারপাশ ঘুরে দেখতে পারবে, এখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে!”
রিদি সৌহার্দ্যর কথায় সায় দিয়ে বলল, “আমরা কি এখানে থাকবো?”
সৌহার্দ্য আলতো করে রিদির মুখটা তার বলিষ্ঠ হাতের আজলায় তুলে নিল। চোখে দুষ্টুমি আর কণ্ঠে এক অদ্ভুত আদুরে সুর মিশিয়ে বলল, “আজ তো থাকবই। তুমি চাইলে সব সময় আমরা এখানে থাকতে পারি। এমন নিরিবিলি বাড়িতে কি আর বউকে আদর করতে বাধে? কি বলো, থাকবে?”
রিদির গাল লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। সে সৌহার্দ্যর বুকে আলতো একটা কিল বসিয়ে মিনমিন করে বলল,

“আপনি দিন দিন একদম লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছেন!”
সৌহার্দ্য রিদির গাল টেনে দিয়ে বলল, “সব আপনার দয়ায় ম্যাডাম?”
বলেই রিদিকে বাড়ির গেটের সামনে নিতেই রিদি আরেক দফা অবাক হলো। বাড়ির নেম প্লেটে সুন্দর করে গুটি গুটি অক্ষরে লেখা—’সৌহার্দ্যর দেড় ব্যাটারির হাউজ’। রিদি যেন চোখের পলক ফেলতেই ভুলে গেল, বাড়ির এমন নাম যে রাখা যায় তা তার জানা ছিল না! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিদি সৌহার্দ্যর হাত ধরে ভেতরে প্রবেশ করল। বাড়ির বাইরেটা যতটা সুন্দর, ভেতরটা যেন তার থেকে কয়েক গুণ বেশি চমৎকার—যেন কোনো শিল্পীর নিখুঁত ভাস্কর্য! পুরো বাড়ি ঘুরে রিদি যেন বিস্ময়ের ওপর বিস্ময় পাচ্ছে। এমনকি বাচ্চাদের জন্য তৈরি করা রুম হয়ে গেছে—সেখানে বাচ্চাদের খেলনা থেকে দোলনা, সব সাজানো। পুরো রুম ভর্তি ছোট ছোট বেবিদের ছবিতে ভরানো! দেওয়ালের সাথে সুন্দর করে লেখা “সৌহার্দ্য রিদিস বেবিস রুম”!

রাত প্রায় ন’টা। রান্নাঘরের নিস্তব্ধতায় কেবল চুলায় মাংস কষানোর মৃদু শব্দ আর মশলার সুবাস। রিদি তার কলেজ ড্রেস বদলে শাড়িতে নিজেকে মুড়ে নিয়েছে, আঁচলটা কোমরে গুঁজে ব্যস্ত হয়ে আছে রান্নায়। ঠিক সেই মুহূর্তে নিঃশব্দে পেছনে এসে দাঁড়াল সৌহার্দ্য। রিদির কোমরের খাঁজে দু’হাত জড়িয়ে ধরে সে নিজের মুখটা গুঁজে দিল রিদির উন্মুক্ত ঘাড়ের ভাঁজে।
নিজের সরু নাকটা রিদির ঘাড়ের নরম চামড়ায় ঘষতে ঘষতে সৌহার্দ্য ফিসফিস করে বলল, “হেল্প করি, সুইটহার্ট?”

রিদির উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে এক হাত বাড়িয়ে রিদির হাতের ওপর হাত রেখে খুন্তিটা নাড়তে শুরু করল। অন্য হাতটা রিদির অনাবৃত কোমরে আঁকিবুঁকি কাটতে লাগল আলতো করে। রিদির সমস্ত সত্তা যেন এক অদ্ভুত শিহরণে কেঁপে উঠল। কিছুটা আড়ষ্ট গলায় রিদি আমতা আমতা করে বলল, “কেমন যেন লাগছে… ছাড়ুন, আগে রান্নাটা শেষ করি?”
সৌহার্দ্যর স্পর্শ তখন আরও গভীর। সে রিদির ঘাড়ে চুমুর উষ্ণতা এঁকে দিয়ে বলল, “লাগুক…” বলেই এক হাতে চুলাটা বন্ধ করে রিদির আরও কাছে সরে এল। সৌহার্দ্যর চোখের ভাষা আর আকুতিমাখা কণ্ঠে রিদি যেন মন্ত্রমুগ্ধ। সৌহার্দ্য মৃদু স্বরে আর্জি জানাল, “প্লিজ সুইটহার্ট, কিস মাই চেস্ট?”
রিদি নিজের দ্বিধা কাটিয়ে কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে সৌহার্দ্যর উন্মুক্ত বুকে এলোপাথাড়ি চুমুর আল্পনা এঁকে দিল। সৌহার্দ্যর হাতের স্পর্শ যখন শাড়ির ভাঁজ ছাড়িয়ে আরও গভীরে যাওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই তীব্র শব্দে বেজে উঠল কলিং বেল।
সৌহার্দ্যর কপালে বিরক্তির ভাঁজ স্পষ্ট। সে অনিচ্ছাসত্ত্বেও রিদিকে ছেড়ে দিয়ে হনহন করে গিয়ে দরজা খুলল। কিন্তু দরজা খুলেই তার মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেল। ফারিস, সুজন, রিভা, আরবান, পৃথা—সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে! রাগে গজগজ করে সৌহার্দ্য হিসহিসিয়ে বলল, “গুষ্টির বাকি আর কেউ ছিল না? সবাইকে একসাথে নিয়ে আসতি?”

ফারিস সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে হেসে বলল, “সর তো! বিয়ে করছিস, সেলিব্রেট করব না? এমন মুখ করে আছিস কেন?” বলেই সৌহার্দ্যকে পাশ কাটিয়ে সবাই ঘরে ঢুকে পড়ল। সৌহার্দ্য দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসছে; ইচ্ছে করছে সব কটাকে মেরে বের করে দেয়। এভাবে বিনা দাওয়াতে চলে আসার মতো নির্লজ্জতা কি করে করতে পারে এরা!
ফারিস, সুজন আর আরবান সোফায় গা এলিয়ে বসল। অন্যদিকে, রিভা আর পৃথা টিপটিপ পায়ে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গিয়ে একযোগে চেঁচিয়ে উঠল, “সারপ্রাইজ, জানু! একা একা রান্না হচ্ছে?”
রিদি ওদের দেখে যতটা না খুশি হলো, তার চেয়ে বেশি মন খারাপ হলো। সে ভেবেছিল আজকের রাতটা শুধু তার আর সৌহার্দ্যর জন্য স্পেশাল হবে। একটু আগেই সৌহার্দ্যর সেই আকুতিমাখা কণ্ঠ এখনো রিদির বুকের ভেতর অনুরণন তুলছে। তবুও, নিজেকে সামলে নিয়ে মুখে জোর করে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে রিদি জিজ্ঞেস করল, “তোরা কার সাথে আসলি? ভাইয়েরাও এসেছে?”
রিভা মাথা নেড়ে দুষ্টুমির হাসি হেসে বলল, “হুম ভাবি! আমাদের ফেলে একা একা বিয়ে করে ফেলেছ, বাসর ঘর সাজাতে হবে না?”
রিদির মুখ লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল।

রাত প্রায় বারোটা। পুকুর পাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশে সবাই জোড়ায় জোড়ায় বসে আড্ডায় মগ্ন। ফারিস, রিভা, আরবান, পৃথা, সৌহার্দ্য, রিদি—সবার মাঝে সুজন একা বসে একদৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। খানিকটা হতাশ হয়ে সে বলল, “এভাবে কেন বউদের নিয়ে চিপকে বসে আছিস? আমার মতো একটা সিঙ্গেল ছেলে তোদের চোখে পড়ছে না?”
তারপর সৌহার্দ্যর দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমি করে যোগ করে বলল, “ভাই যে ভাবে চেপে ধরেছিস, বাচ্চা মেয়েটার দম ফেলতে কষ্ট হচ্ছে!”
মূলত রিদি আড্ডার মাঝে ক্লান্ত হয়ে সৌহার্দ্যর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল, তাই সৌহার্দ্য রিদির মাথাটা পরম আদরে নিজের বুকের সাথে চেপে রেখেছে। সুজনের কথায় সৌহার্দ্য বিরক্ত হয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “ইডিয়ট!”

ফারিস এবার খোঁচা দিয়ে বলে উঠল, “সৌহার্দ্য দ্বিতীয়বার বিয়ে করে কেমন ফিল করছিস ভাই? আমি তো তোর জন্য গর্বে গর্ভবতী হচ্ছি, ডাঃ সৌহার্দ্য চৌধুরী কট খেয়ে নিজের বউকে…”
ফারিসের কথা শেষ হওয়ার আগেই সৌহার্দ্য আর দেরি করল না। সে রিদিকে পরম মমতায় কোলে তুলে নিয়ে রুমের দিকে পা বাড়াল। সৌহার্দ্যর এমন কাণ্ড দেখে সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
মৌকা বুঝে ফারিসও রিভাকে কোলে তুলে নিল। রিভার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “চল শ্বশুরের বেয়াদব মেয়ে সমুদ্র ডুব দিবো!”
সবার সামনে ফারিসের এমন কথায় রিভা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে ফারিসের বুকে আলতো কিল দিয়ে বলল, “ছিঃ নির্লজ্জ এমপি, সবার সামনে এসব কি বলছেন, রুমে গিয়ে মুখ ভেঙে দিবে আপনার।”
ফারিস একটু থতমত খেয়ে গেল। যে ফারিসের ভয়ে মানুষ কাঁপে, সেই ফারিসকে রিভার মতো একরত্তি মেয়ে দুই পয়সার পাত্তা দিচ্ছে না! ফারিস খুক খুক করে কেশে অপ্রস্তুত ভাব কাটিয়ে বউকে নিয়ে রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। আরবান ও পৃথাকে নিয়ে তাদের অনুসরণ করল।
এদিকে পুকুর পাড়ে একা পড়ে রইল সুজন। সে বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করে বলল, “কেমন নির্লজ্জ একটা থেকে একটা, দূর আমাকে ও বিয়ে করতে হবে, এভাবে বসে বসে সবার রোমান্স দেখা আর যাচ্ছে না!”

সকাল প্রায় দশটা। ঘুম ভাঙতেই রিদি পাশ ফিরে দেখল বিছানা খালি। নিজেকে একা আবিষ্কার করে এক মুহূর্তের জন্য তার চোখেমুখে বিষণ্ণতার ছায়া নেমে এল। ঘরের চারপাশে চোখ বুলিয়ে সৌহার্দ্যকে না পেয়ে সে যখন উঠতে যাবে, তখনই পাশে রাখা এক টুকরো কাগজের দিকে তার নজর পড়ল। রিদি দ্রুত হাতে চিঠিটা খুলল। সৌহার্দ্যের সেই চেনা গুটি গুটি হাতের লেখা—
“গুড মর্নিং মাই কুইন। প্রথমে সরি জান, তোমাকে না বলে চলে যাওয়ার জন্য। তোমার সুন্দর ঘুমটা নষ্ট করতে ইচ্ছে হলো না। সুইটহার্ট, আমাকে একটা জরুরি কাজে লন্ডন যেতে হবে। গতকাল টিকেট করা হয়েছে, তোমাকে বলার টাইম পাইনি। সরি আমার জান। সকাল ৮টায় ফ্লাইট। রেগে থেকো না প্লিজ, ঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করবে! আসলে আর একদিনও টাইম পাবে না ম্যাডাম! সো বি রেডি!
ইতি,
তোমার রাগী বর”

চিঠিটা পড়ে রিদির অভিমানী মুখটা ছোট হয়ে এল। গতকাল তো কত কী কথা হলো, অথচ যাওয়ার আগে একটা বার জানানোর প্রয়োজন মনে করল না! অভিমান গিলে নিয়ে সে দ্রুত ফোনটা হাতে নিল, কিন্তু সময় দেখে তার হৃৎস্পন্দন থমকে গেল। দশটা বেজে গেছে, তার মানে এতক্ষণে ফ্লাইট আকাশে!
রিদি কোনোমতে নিজের ওড়নাটা জড়িয়ে নিচে নেমে এল। সেখানে সোফায় পৃথা আর রিভা বসে ছিল। রিদি ওদের পাশে বসতেই পৃথা বলল, “স্যার তো দেখলাম রাতে বের হয়ে গেল, তোর খেয়াল রাখতে বলে, উনি নাকি দেশের বাহিরে যাচ্ছে। তোর ভাই বলল, তোকে বলে যায়নি?”
রিদি গলার স্বর নামিয়ে ছোট করে বলল, “হুম বলছে!”
ঠিক সেই সময় ফারিস ওদের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় ঘোষণা করল, “সবাই তৈরি হয়ে নাও, বের হতে হবে! রিদি, তুমি খেয়ে নাও!”
ফারিসের দিকে তাকিয়ে রিদি অস্থির গলায় জিজ্ঞেস করল, “ভাইয়া, উনি কখন আসবে কিছু জানিয়েছে?”
ফারিস রিদির চোখের দিকে এক পলক তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল, “এক সপ্তাহ লাগবে মনে হয়, আমি সিওর না।”
ফারিসের কথায় রিদি আর কোনো প্রশ্ন করল না। সৌহার্দ্যর আচমকা চলে যাওয়াটা তার বুকের ভেতর কেমন যেন চটপট করছে। কিছুতেই খেতে ইচ্ছে করছে না, গলার কাছে দলা পাকানো অভিমান আর শূন্যতা। তবুও সবার জোরাজুরিতে জোর করে অল্প কিছু মুখে দিয়ে সে বেরিয়ে পড়ল।

বিকাল চারটা। সিআইডি অফিসে এডিশনাল এসপি হারুনুর রশিদের কক্ষ। হারুনুর রশিদের সামনে বসে আছে এক তরুণী। এসপি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে স্নিগ্ধ একটা হাসি দিয়ে বললেন, “মামুনি, একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব তোমাকে।” বলেই কাউকে ফোন করে নির্দেশ দিলেন, “ওদের পাঠিয়ে দাও।”
এরপর মেয়েটির দিকে তাকিয়ে হারুনুর রশিদ জানতে চাইলেন, “পড়াশোনা কেমন চলছে? নাকি আমাদের হেল্প করতে গিয়ে নিজের পড়ার ক্ষতি করছো?”
মেয়েটি মুচকি হেসে শান্ত গলায় জবাব দিল, “না আঙ্কেল, সব ব্যালেন্স করার চেষ্টা করছি!”
তাদের কথার মাঝেই কক্ষে প্রবেশ করল দুই যুবক। এদের মধ্যে একজনের সাথে মেয়েটির আগেই থেকেই পরিচয়। হারুনুর রশিদ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “এসবির সাথে তো পরিচয় আছে, তোমাকে নতুন করে বলতে হচ্ছে না। আর এ হচ্ছে সাব-ইন্সপেক্টর আকাশ।” তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে যোগ করলেন, “আর এ হচ্ছে আমাদের ছোট্ট এজেন্ট—ব্ল্যাক রোজ!”
আকাশ হালকা হেসে বলল, “ওনি আমাকে না চিনলেও, আমি ওনাকে চিনি স্যার!”
ওদের কথার মাঝেই এসবি এগিয়ে এসে মেয়েটির পাশে বসল। নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল, “ছোট্ট এজেন্ট, কাল রাতের ব্যাপারে চৌধুরী বাড়ি থেকে যে ইনফরমেশনটা বের করতে বলেছিলাম, তার কী হলো?”
মেয়েটি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে মুখটা কালো করে বলল, “আসলে আমি কাল…”
এসবি তার কথা থামিয়ে দিয়ে বলল, “ইটস ওকে। বাট দ্রুত ইনফরমেশনগুলো কালেক্ট করার ব্যবস্থা করো।”
ওদের কথার মাঝে হারুনুর রশিদ গম্ভীর স্বরে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমাকে একটা কাজ করে দিতে হবে মামুনি, পারবে?”

তরুণী ওনার দিকে তাকিয়ে দৃঢ় গলায় বলল, “কী করতে হবে বলুন আঙ্কেল, আমি চেষ্টা করব।”
হারুনুর রশিদ গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, “১৪ তারিখে নারী ও শিশু পাচারের একটা বড় চালান যাবে। তোমাকে ওদের সাথে মিশে যেতে হবে। বাকিটা তোমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে কাজটা অনেক রিস্কি।”
মেয়েটি কিছু বলার আগেই এসবি সাথে সাথে প্রতিবাদ করে উঠল, “অসম্ভব স্যার! ওকে এসব কাজে দেওয়া সম্ভব না। আমি এত বড় রিস্ক নিতে পারব না ওকে নিয়ে। ও শুধু ইনফরমেশন কালেক্ট করা পর্যন্ত ঠিক আছে। তার চেয়েও বড় কথা, ও আমাদের টিমের কোনো বেতনভুক্ত কর্মচারী না। ওর কিছু হলে আমরা সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হব। আর এসবের দরকার নেই, আমার কাছে যথেষ্ট ইনফরমেশন আছে!”
হারুনুর রশিদ এসবিকে থামিয়ে দিয়ে গম্ভীর হয়ে বললেন, “তুমি ভুল ভাবছো এসবি। ওরা তোমাকে এতটা বিশ্বাস করে না যে তোমাকে সব ইনফরমেশন দিবে। তুমি কিন্তু অলরেডি ওদের সন্দেহের তালিকায় চলে এসেছো। এই মুহূর্তে যদি একটু গণ্ডগোল হয়, তবে এত বছরের সব চেষ্টা বৃথা যাবে—বুঝতে পারছো আমি কী বুঝাতে চাচ্ছি? ওরা তোমাকে ততটুকুই ইনফরমেশন দেয়, যতটুকুতে ওদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেওয়া সম্ভব নয়! তোমার মতো বুদ্ধিমান ছেলের এটা বোঝার কথা। আর এখন আমাদের মেইন কালপ্রিটটাকে বের করতে হবে, যার উস্কানিতে শিকদাররা এত পাওয়ারফুল!”

এসবি হারুনুর রশিদের দিকে তাকিয়ে জেদের সাথে বলল, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, চৌধুরী বাড়িতেই মেইন কালপ্রিট আছে! আমি ৯০% শিওর।”
এসবির কথায় হারুনুর রশিদ কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললেন, “আইন কখনো মুখের কথায় আর কারো বিশ্বাসে চলে না, হাতে-কলমে প্রমাণ লাগে। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করো, মাই বয়।”
তারপর আবার মেয়েটির দিকে তাকিয়ে হারুনুর রশিদ নরম স্বরে বললেন, “মামুনি, আশা করি যে কাজটা তোমাকে দেওয়া হয়েছে তা ফুলফিল করতে পারবে? তুমি আইনের লোক না হয়েও আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করছো, এর জন্য আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।”
মেয়েটি হালকা হেসে দুপাশে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। এরপর সে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল।

রাত প্রায় দশটা। পড়ার টেবিলে বসে বইয়ের পাতায় চোখ রাখলেও রিদির মন সেখানে নেই। তার হাতে সৌহার্দ্যর একটি ছবি, একদৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটি। আজ দুই দিন হলো সৌহার্দ্য নেই, এর মাঝে কেবল একবার কথা হয়েছে, তাও মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য। শত অভিযোগ জমে ছিল মনে, কিন্তু ভিডিও কলে সৌহার্দ্যর ক্লান্ত মুখটা দেখে সব অভিমান মুহূর্তেই জল হয়ে গেছে। সে শুধু বারবার সরি বলেছে, না জানিয়ে চলে যাওয়ার জন্য হাজারটা ‘উড়ন্ত চুমু’ পাঠিয়েছে। রিদির সব রাগ তখন ওই কটা চুমুতে মিনিটেই গলে জল হয়ে গিয়েছিল।

রিদি যখন পুরোনো স্মৃতি আর বর্তমানের শূন্যতা নিয়ে ভাবনায় মগ্ন, ঠিক তখনই ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠল সৌহার্দ্যর নাম। কলটা রিসিভ করতেই সৌহার্দ্যর গম্ভীর মুখটা স্ক্রিনে ফুটে উঠল। রিদির দিকে তাকিয়ে সে বিরক্ত ভরা কণ্ঠে বলল, “মোবাইল দূর থেকে ধর, ভালো করে দেখতে পাচ্ছি না তোমায়? রাত হলে আমার শার্ট জড়িয়ে ঘুমাও, ভালো কথা, ওয়াশরুমে চেঞ্জ করতে পারো না রুমে—”
বাকি কথা বলার সুযোগ পেল না সে, তার আগেই রিদির মুখটা হা হয়ে গেল। সে তো থমকে গেছে! লজ্জায় আর বিস্ময়ে তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। সে দ্রুত ঘরটার চারপাশ তাকাতে লাগল, কিছু খোঁজার চেষ্টা করল।
সৌহার্দ্য ওপাশ থেকে রিদির কাণ্ডকারখানা দেখে নিয়ে বাঁকা হেসে বলল, “স্টুপিড, সিডিউস করা শেষ, এখন ওসব খুঁজে লাভ নেই!”
রিদি সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা ধপ করে বিছানায় রেখে দিল। লজ্জায় তার গাল দুটো দপদপ করে লাল হয়ে উঠল, যেন আগুনের হলকা। সে তো এতদিন ভেবেছিল— রিদির মুখটা এখন লজ্জায় রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে, পুরো শরীর কাঁপছে অস্বস্তিতে।
এদিকে, ল্যাপটপ স্ক্রিনে নিজের বউয়ের এই লাজে রাঙা, অসহায় মুখটা দেখে সৌহার্দ্য তৃপ্তির হাসি হাসল। সে ঠোঁট কামড়ে মনে ভাবল, মেয়েটার এই লজ্জাটুকুও তার কাছে কতখানি প্রিয়!

কলেজ থেকে বেরিয়ে রিদি অনেকটা সময় ধরে বাড়ির গাড়ির অপেক্ষা করল। সৌহার্দ্য দেশে না থাকা পর্যন্ত সাধারণত ড্রাইভার তার গাড়িতে করেই রিদিকে নিয়ে যায়, কিন্তু আজ অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও গাড়ি না আসায় সে রিকশার খোঁজ করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে তার সামনে এসে দাঁড়াল একটা কালো গাড়ি। রিদি চোখ তুলে তাকাতেই দেখল তাজওয়ান। মুহূর্তেই তার মুখ বিরক্তির চরম সীমায় পৌঁছে গেল।
রিদি কোনো কথা না বলে তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল, কিন্তু তাজওয়ান দ্রুত পথ আগলে দাঁড়াল। মিনতি ভরা কণ্ঠে সে বলল, “তোমার সাথে আমার কথা আছে মিষ্টি? প্লিজ আমাকে পাঁচটা মিনিট টাইম দাও?”

রিদি কিছুটা ইতস্তত বোধ করল, পরক্ষণেই কী ভেবে শান্ত গলায় বলল, “বলুন?”
রিদির এই সামান্য সম্মতিতে তাজওয়ানের চোখেমুখে যেন জয়ের আনন্দ খেলে গেল। সে সঙ্গে সঙ্গে তার বডিগার্ডের হাত থেকে একটি বিশাল ও ভারি ফুলের তোড়া নিল। এরপর রাস্তার মাঝখানেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল সে। ফুলের তোড়াটা রিদির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে বলতে লাগল, “ভালোবাসি তোমাকে, আমার মেঘকন্যা! বিশ্বাস করো, আই ডেসপারেটলি লাভ ইউ। তুমি যখন ভালোবাসার ‘ভা’ আর ‘লো’ বানান করতে পারতে না, তখন থেকেই আমার হার্টবিট শুধু তোমার জন্যই স্পন্দিত হয়। প্লিজ, আমার হয়ে যাও! কথা দিচ্ছি, সারা পৃথিবীর সব সুখ তোমার পায়ের নিচে এনে ফেলব!”
রিদি চরম বিরক্তিতে নিজেকে শক্ত করে সামলে নিল। মনের ভেতর এক দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল তার—সৌহার্দ্য যেহেতু এখন দেশে নেই, এই বদমাশটাকে একটা উচিত শিক্ষা দেওয়াই যায়!
রিদি বিরক্তি ভরা কণ্ঠে সরাসরি বলল, “আমার পায়ে এত জায়গা নেই। আপাতত বলেন, এখানে কয়টা ফুল আছে?”

তাজওয়ানের আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা। সে বোকা বনে গিয়েও সামলে নিয়ে উত্তর দিল, “এক হাজারটা মিষ্টি! তুমি চাইলে এক লক্ষ ফুল দিয়ে ভালোবাসা বোঝাতে পারি। তুমি যা চাইবে, সব হবে—হুকুম করো!”
রিদি অবজ্ঞার সাথে তাজওয়ানের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলল, “ওহ, কিন্তু আমি মুখের কথায় বিশ্বাস করি না। গুনে দিন তো দেখি কয়টা আছে?”
তাজওয়ান রীতিমতো হকচকিয়ে রিদির দিকে তাকিয়ে রইল। এতগুলো ফুল সে এখন জনসমক্ষে রাস্তার মাঝে বসে কীভাবে গুনবে? তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড়। তাজওয়ান যখন এই অস্বস্তিকর ভাবনা নিয়ে ঘামছে, রিদি বিরক্ত হয়ে বলে উঠল, “পারবেন না যেহেতু, নাটক করে মজনু সাজতে আসেন কেন? রাস্তা ছাড়ুন আমার!”
সে চলে যেতেই উদ্যত হলে তাজওয়ান মরিয়া হয়ে বলল, “গুনছি! দিচ্ছি গুনে! চলো আমরা কোনো রেস্টুরেন্টে বসি?”

রিদি নাকে মুখে ঘৃণার ছাপ ফুটিয়ে বলল, “পাগল পেয়েছেন আমাকে? আপনার সাথে রেস্টুরেন্টে গেলে আমার জামাই আপনাকে আমাকে দুজনকে একসাথে কেলাবে। তার চেয়ে বরং আপনি এখানেই বসে পড়ুন আর আমার জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা করুন, সাথে একটা চেয়ার!”
তাজওয়ান কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। চারপাশ একবার চোখ ঘুরিয়ে দেখল, অনেক মানুষের আনাগোনা, লোকজন আড়চোখে তাকাচ্ছে। এখানে রাজপথের মাঝে বসে ফুল গোনা! ভাবতেই তার প্রেস্টিজ পাংচার হওয়ার দশা। বেচারা মহা ফ্যাসাদে পড়ল। এদিকে রিদি তাড়া দিয়ে বলল, “কি হলো?”
উপায়ান্তর না দেখে তাজওয়ান তার বডিগার্ডের দিকে তাকিয়ে ইশারায় কিছু বোঝাল। ছেলেটা দ্রুত চেয়ার, টেবিল, আর বিভিন্ন কোক, চিপস ও চকলেটের ব্যবস্থা করে সামনে সাজিয়ে দিল। রিদি শান্ত ভঙ্গিতে চেয়ারে বসে পায়ের ওপর পা তুলে বসল। তাজওয়ানের দিকে তাকিয়ে নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, “শুরু করুন, আমার দেরি হচ্ছে!”

চারপাশটা একবার দেখে তাজওয়ান নিরুপায় হয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তাজওয়ানের এই বেকুবের মতো দশা দেখে রিদির ভেতরে ভেতরে ভীষণ হাসি পেলেও সে নিজেকে সংযত রাখল। মুখে গাম্ভীর্য ফুটিয়ে সে কোকের বোতলে চুমুক দিতে লাগল। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ফুল গোনা শেষ হলে রিদি অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, “আমার মনে হচ্ছে একটা কম পড়ছে, আপনি আবার গুনুন তো!”
তাজওয়ানের এবার ভীষণ রাগ হলেও এই মেয়ের ওপর সরাসরি রাগ দেখানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। সে অসীম ধৈর্য নিয়ে আবারও ফুলগুলো গুনল। রিদির দিকে তাকাতেই রিদি বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়াল। যাওয়ার আগে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, “একটা কম আছে, আপনাকে ঠকিয়েছে দোকানদার। আর আমার জামাই আছে, তাই আপনার ভালোবাসা গ্রহণ করতে না পারার জন্য দুঃখিত। আসি!”

কথাটা বলেই রিদি দ্রুত পা বাড়াল। রিদির এমন অবজ্ঞায় তাজওয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, চোখের মণি দাউদাউ করে জ্বলে উঠল রাগে। নিজেকে কোনোমতে সংযত রেখে সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “তুমি ভালোবাসো কি বাসো না আমার দেখার বিষয় না। আমার কাছে ভালোবাসা মানে কেবল অধিকার, আর সেই অধিকারে আমি কাউকে ভাগ বসাতে দেব না। তুমি আমার, তুমি আমার ছিলে, আমার আছো—তোমার ইচ্ছে-অনিচ্ছার কোনো দামই নেই আমার কাছে। সৌহার্দ্য চৌধুরীর সময় ফুরিয়ে এসেছে, ওকে শেষ করে দিয়ে ঠিকই তোমাকে আমার করে নেব। সোজা আঙুলে যেহেতু ঘি উঠল না, আঙুলটা বাঁকাতেই হচ্ছে!”
তাজওয়ান রিদির হাতটা ধরতে গেলেই রিদি ঠাস করে একটা সজোরে থাপ্পড় মেরে দিল। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে রিদি আগুনের মতো গর্জে উঠে বলল, “আমাকে স্পর্শ করার সাহস পাস কোথায়? তুই কি ভুলে গেছিস আমার শরীরে খান বংশের রক্ত বইছে? আমার দাদা থেকে শুরু করে চোদ্দ পুরুষের তেজ আর দাপট সম্পর্কে তোর কোনো ধারণাই নেই। আমার এই নরম সত্তা আর অসহায়ত্ব—সবটা কেবল সৌহার্দ্য চৌধুরীর জন্য সংরক্ষিত। এর বাইরে অন্য কেউ আমার নখ স্পর্শ করার দুঃসাহস দেখালে, এই রিদিতা খান তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে এক মুহূর্তও দেরি করবে না—মাইন্ড ইট!”
বলেই রিদি আবার চলে যেতে নিলে তাজওয়ান রিদির হাত চেপে ধরে এক বিকৃত হাসি দিয়ে বলল, “আই লাইক ইউর অ্যাটিটিউড, এই জন্য…”

তার বাকি কথা বলার সুযোগ হলো না। রিদি নিজের পায়ের সাহায্যে তাজওয়ানের গুপ্ত জায়গায় নিজের সর্বশক্তি দিয়ে সজোরে লাথি বসাল। ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে তাজওয়ান সাথে সাথে মাটিতে গড়িয়ে পড়ল এবং যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগল।বডিগার্ড আসতে নিলে তাজ্ওয়ান হাতের ইশারায় মানা করল!
রিদি একটু ঝুঁকে জ্বলন্ত দৃষ্টি নিয়ে তাজওয়ানের দিকে তাকিয়ে হিসহিসিয়ে বলল, “সৌহার্দ্য চৌধুরীর অর্ধাঙ্গিনী আমি, শাহাবীর খানের বোন আমি—আমার তেজ কোনো অংশে কম নয়! তোকে মাটির গভীরে পুঁতে ফেলার ক্ষমতা রাখি আমি। তুই কী করে ভাবলি, একজন নৃশংস পাচারকারী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী আর অমানুষ চোরাচালানকারীর মুখে ভালোবাসার মিথ্যা অভিনয় শুনে আমি খুশি হবো? তোর মতো ঘৃণ্য পশুর মুখে ভালোবাসার বাণী মানায় না, তুই শুধু ধিক্কার পাওয়ার যোগ্য!”

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৪

কথাগুলো বলেই রিদি চলে যেতে গিয়ে আবার থমকে দাঁড়াল। ঠিকঠাক বদলা নিতে তাজওয়ানের সেই একই জায়গায় আবারও সজোরে একটি লাথি বসিয়ে সে দ্রুত স্থান ত্যাগ করল। দ্বিতীয়বার এই ভয়াবহ আঘাতের ধকল সইতে না পেরে তাজওয়ান সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here