Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৩

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৩

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৩
সুরভী আক্তার

মেঘা নিশ্চুপ । চোয়াল খিচে মুখ ফিরিয়ে নিলো । রৌদ্র ছাড়লো ওর হাত । সুডৌল কাঁধে লুটানো কেশ রাশীর এক গাছি টেনে নাকের কাছটায় চেপে ধরলো । দীর্ঘ শ্বাসে মাদকিয় ঘ্রাণ টেনে নিলো অন্তরালে ।
কেমন করে তাকালো মেঘার দিকে । বললো হাস্কি টোনে….
” তোর সামান্য চুলের ঘ্রাণেই সব উৎকণ্ঠা শিথিল হয় আমার , কলিজা ঠান্ডা হয়ে যায় , না জানি তোকে পেলে আরো কি হবে ! মরে না যাই সেদিন…..
” রৌদ্র …
রমনীর ভয়ার্ত বিচলিত স্বর । উত্তর তৎক্ষণাৎ…

” ইয়েস সুইটহার্ট ! তোর মুখে নিজের নাম শোনাটা তো আরো বেশি পীড়াদায়ক । ভয়ংকর সুখানুভূতি পূর্ণ যন্ত্রনা আছে এতে । এ কেমন তৃপ্তি বলতো , যেখানে তৃপ্ত হয়েও যন্ত্রণা পায় এ হৃদয় ! এ বোধহয় জাদুকরী যন্ত্রণা , যা এই বেপরোয়া ছন্নছাড়া মনটা পেতে মরিয়া ।
মেঘা নিজেকে ধাতস্থ করে । একটু সরে দাঁড়ায় । চোখ কাঁপে তিরতির করে । দৃষ্টি ছলকায় । তবুও চাহনি ফেরানোর দিশা পায় না । রৌদ্র চেয়ে থেকে আবার বলে….
” আমাকে নিঃশেষ করার হাতিয়ার তুই , আবার অনিঃশেষ করার হাতিয়ার ও সেই তুই । অক্ষয় করেই রাখ সানি , ক্ষয় হতে চাইনা সহজে ।
মেঘা পূনরায় মুখ ফিরিয়ে নেয় ।
লোকটার দিকে তাকানো যাবে না । তাকালেই অনর্থ । রৌদ্র আর দাঁড়ালো না । রমনীর উপেক্ষা তার সহ্য ক্ষমতার বাইরে । ও এই মেয়ের থেকে দূরে থাকতে পারবে , যেভাবে পাঁচ বছর ছিলো সেভাবে । তবুও ওর উপেক্ষা মানতে পারবে না ।

সেভাবেই দিন কাটছে । মেঘা নির্বিকার নিস্তেজ । আর রৌদ্র সেই বেপরোয়া হয়েই । বেপরোয়া হলেও সময় করে একবিংশী কে জ্বালাতে ভোলে না । রমনী তাকে এড়িয়ে চলে । আর সেই এড়িয়ে চলা প্রতিটা ধাপকে অনুসরণ করে আরো কাছাকাছি যাওয়ার পাঁয়তারা করে রৌদ্র । মাঝে মাঝে ভাবে , এই মেয়ে এতো ত্যাড়া ক্যান ? কিছুতেই বোঝার চেষ্টা করে না তাকে ।
ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে একে একে সিগারেট ফুকছে সে । সন্ধ্যার আঁধার নামছে চারিদিকে । ধরিত্রী তিমিরে ডুবেছে । শীতের কবলে আশপাশ আবছা । বোঝার জোঁ নেই কয়েক হাত দূরের দৃশ্য । বেশ ঠান্ডা নেমেছে এ বছর ।
যেনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ন্যায় শীত পড়ছে । তবে রৌদ্রের ভাবান্তর নেই । একটুও শীতাতপ অনুভব হচ্ছে না তার । এই যে ঘন্টা খানেক আগে বাড়ি ফিরেছে । মিনিট বিশেক ধরে লম্বা শাওয়ার নিয়েছে । ঘরে ছিলো কিছুক্ষণ । অতঃপর দীর্ঘ পঁচিশ মিনিট যাবৎ এই ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুকছে একে একে । দুটো প্যাকেট অলরেডি শেষ । অর্ধেক করে ফুকছে , বাকি অর্ধেক টা পিষে ফেলছে পায়ের নিচে । গায়ে কিছু নেই । উদ্যম শরীরে কেবলই একটা ট্রাউজার । আর গলায় টাওয়েল ।
শূন্যে তাকিয়ে এক ধ্যানে মগ্ন সে ।
ধ্যান ভাঙলো পুরুষালি ডাকে….

” রুডি ,,, এই ঠান্ডায় ছাদে একলা দাঁড়িয়ে কি করছিস ?
সচকিতে ঘাড় ঘোরালো যুবক । সায়ান ? এই অসময়ে ? সাথে আরো একজন আছে । রৌদ্র চেনে । শুভ্র আর সায়ানের ফ্রেন্ড #অর্ক । দেশে থাকে না ।
শুভ্রর বিয়েতে আসতে পারে নি । এখন হয়তো দেশে ফিরে দেখা করতে এসেছে । রৌদ্র দুজনকেই দেখলো । নাক মুখ দিয়ে কালো ধোঁয়া বের করে গা ছাড়া ভাবে বললো….
” সিগারেট খাচ্ছি ব্রো ।
” শরীরে কিছু নেই , ঠান্ডা লাগছে না ?
” উঁহু , স্টিল গরম লাগছে । তা তুমি , হঠাৎ , কখন এলে ?
” এইতো আধা ঘন্টা হবে ।
” ছাদে কেনো ? সিগারেট খাবে ? দেবো একটা ?
সায়ান একটু খানি হাসলো । ছাদে এসেছে মূলত এই সিগারেটের জন্যই ? অর্ক খায় । ওকে নিয়ে ছাদে উঠেছে তাই । তবে সে খায় না । ছুঁয়েও দেখে না । দূরে থাকে শত হাত । কারন টা তার কিউটিপাই । সে যে সহ্য করতে পারে না সিগারেটের ধোঁয়া । তার জন্য যা ক্ষতিকর , তা কি করে বরদাস্ত করবে সায়ান ?
সে হেসে বলে…

” আমার জন্য সিগারেট নিষিদ্ধ , ব্রো ? যা অনুমোদিত , তার জন্য নিষিদ্ধ জিনিস ছোঁয়ার বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই আমার । আর এমনিতেও সিগারেট হারাম । যে হালাল ওষ্ঠাধরে আমার স্ত্রীর অধিকার, সেই হালাল অধরে হারাম জিনিস ছুঁইয়ে তিক্ততা বাড়াই কি করে বল ? সে যে তিক্ততা বিদ্বেষী ।
রৌদ্র শুনে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে । সে জানে কিছু মিছু । শুধু সে নয় , এ বাড়ির মোটামুটি সবাই জানে । সায়ান শাফাহ্ কে পছন্দ করে । পছন্দের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে । এখন এটাকে পছন্দ করা বলা চলে না ।
শাফাহ্ একটু এলোমেলো । তার বোধশক্তি কম । কিছুটা ছেলেমানুষী করে । বাচ্চা স্বাভাবের । ও যেমন , তেমনটাই থাকবে । ওর স্বভাবটা অপরিবর্তনীয় । বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে মেন্টাল হেলথ গ্রোথ হয় নি যথাযথ ।
ওর সাথে মানিয়ে নেওয়া টা খুব সহজ , আবার ওকে মানানো টাও এক পর্যায়ে খুব কঠিন । সায়ান পারে ওকে মানাতে । মানিয়ে নিতেও তৎপর সে ।
তবে একটু সময় দিতে চায় । পরিবার থেকে বাঁধা নেই । সায়ান চাইলেই যখন তখন ওকে নিজের করে ঘরে তুলতে পারে ।
রৌদ্র হেসে বললো….

” এতো ধৈর্য রাখো কি করে ? বিয়ে করে নাও ব্রো , বিয়ের থেকে উত্তম কিছু আর হয় না ।
” আচ্ছা , তুই তো ধৈর্যবান যুবক । বিয়ে করে রাজ্য জয় করে ফেলেছিস পুরো !
” রাণী হীনা রাজ্য জয় করে লাভ নেই ভাইয়া । আমার রাজ্য নয় , রাণীকে লাগবে ‌।
” অবশেষে রাণীর কথা মনে পড়েছে তাহলে ?
” ভুলিনি কখনো । আলাদা করে মনে পড়ার প্রশ্নই ওঠে না । তার বিচরণে উত্তাল আমি । সে ছিলো আমার হৃদকোঠরে । আর এখনো আছে ।
সায়ান ঘাড় উঁচায় । অন্যপাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরিয়েছে অর্ক । ও সেদিকে এক পলক তাকালো । ফের রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলো….
” তাই ? হৃদকোঠরে মেঘা ছিলো বুঝি ?
” হু , আজীবন থাকবে ।
” মেয়েটার জীবনটা তোর জন্য পাল্টে গেছে রুডি । অনাথ ছিলো মেয়েটা । ওর সাথে এমনটা না করলেও পারতি ।
” কি করেছি ? কিছুই করিনি । ছুঁই নি এখনো অবধি ।
” তা বলছি না । নেশার ঘোরে জোর করে বিয়ে করলি ওকে , এটা কি ভালো করেছিস বল ?
রৌদ্র শব্দ করে হেসে উঠলো । আধ খাওয়া সিগারেট টা ছাদের মেঝেতে ফেললো । মাছি তাড়ানোর মতো করে হাত নাড়লো মুখের সামনে । মাথা ঝাঁকিয়ে বললো কিছুটা বিড়বিড়ে নোয়ানো স্বরে….

” ইউ আর এবসোলিউটলি রং ব্রো , নেশার ঘোরে নয় । প্রেমের ঘোরে বিয়ে করেছি আমি ওকে । মারাত্মক প্রেমের ঘোরে । ইডিয়ট একেবারে প্রেমের মায়াজালে জড়িয়েছে আমায় । আমি কি করতাম ? রিটার্ন হিসেবে তাইতো আমিও ওকে জড়িয়ে নিলাম আমার জালে ।
সায়ান পরিষ্কার শুনলো না ।
” কি বললি , বুঝিনি ।
” নাথিং । আমি বরং একটা সাজেশন দেই তোমায় , বিজনেস ছেড়ে ক্যাটবেরির একটা ফ্যাক্টরি খুলে ফেলতে পারো । তুমি যাকে চাও , সে চকলেট বলতেই অজ্ঞান । টাকা কড়ি যা কামাবে , ওর চকলেটের পিছেই শেষ হবে সব ।
সায়ান হেসে ফেলে ।
” হলে হবে , ওর জন্যই তো কামাচ্ছি ।
সিগারেট খাওয়া শেষে ছাদ থেকে একসাথে নেমেছে ওরা ।

শিশির আর ইকরা’র বিয়ের বাকি নেই বেশিদিন । হাতে গোটা দিন দশেক আছে । সময়ের চর্কায় দিন কাটছে আপন গতিতে । আজ দুপুরের দিকে মেয়েটা এসেছে কাবির ম্যানসনে । আসার কথা ছিলো আরো আগে । আসবে আসবে করেও আসা হচ্ছিলো না । যেহেতু হাতে সময় নেই , তাই ইনভাইট করতে চলে এসেছে আজ ।
দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল । আসতে আসতে তিনটে বেজে গেছে । শুভ্রর বউ’ভাতে প্রথম আসা হয়েছিলো এ বাড়িতে । সবার সাথে পরিচয় আছে টুকটাক । আজ আবার পরিচিত হলো । ড্রইং রুমে সবার সাথে টুকটাক কুশল বিনিময় করে শাফাহ্ আর মেঘার সাথে ওদের ঘরে উঠেছে সে । কফি পাঠিয়েছেন শাহিনা কাবির । ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ওরা তিনজন । পাঠানো কফি ঠান্ডা হয়ে গেছে এতক্ষণে ।
শিশিরের দিকে চোখ সরু করে তাকিয়ে আছে দুই রমনী । তবুও কিংকর্তব্য বিমূঢ় নীরব সেই মেয়ে । দুজনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেও কোনো ভাবাবেগ নেই ‌। যেনো সবটা নরমাল । মেঘা ওকে স্বাভাবিক দেখে শক্ত কন্ঠে বলে….

” কি রে , কিছু বলছিস না যে ? চুপ করে আছিস কেনো ? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোর ?
শিশির নিরুদ্বেগ । ধীরে হাঁফ ছেড়ে বললো…
” মাথা ঠিক আছে একদম । আর কি বলবো ?
” কি জন্য এসেছিস এখানে ?
” বিয়ের দাওয়াত দিতে । কেনো , আসা বারন আমার ?
” শিশির , তুই সবটা মেনে নিচ্ছিস কি করে ?
প্রত্যুত্তরে শ্যামলিনী কন্যা বোঝানোর মতো করে বলে….
” বলি শোন , উত্তর দে তো ,, ভাগ্যের লিখন খন্ডানো যায় কখনো ? আমার ভাগ্য তো তোদের মতো সোনায় মোড়ানো নয় মেঘা । সোনা না হোক , যা আছে এই ভাগ্যে , তাই সই ।
মেঘা দুদিকে মাথা নাড়ায় । অবাকের ভঙ্গিতে বলে…
” তাই বলে ঐ বখাটে ছেলেটাকে বিয়ে করবি ? সবটা জেনে ? তোর বাড়িতেও জানাস নি ? খোঁজ নেয় নি তারা ?
” নাহ্ ,, জানালে আমার আপুর সুখ বিসর্জন দিতে হবে । জানাবো না ।
” তোর আপুর সুখ রক্ষা করতে গিয়ে নিজের সুখ বিসর্জন দিবি তুই ?
” কে বললো আমি আমার সুখ বিসর্জন দেবো ? তোরা জানিস আমি সুখি হবো কি–না ? যদি সুখি হই , তখন ?

” ঐ ছেলেটার সাথে সুখে থাকার স্বপ্ন দেখিস তুই ?
” স্বপ্ন দেখতে তো ক্ষতি নেই । পূরন হওয়া না হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার । আমি আমার ভাগ্যকে বিশ্বাস করি । যিনি আমার ভাগ্য লিখেছেন , তিনি নিশ্চয়ই আমার সহ্য ক্ষমতা টাকে নির্ধারণ করে তবেই লিখেছেন আমার ভাগ্য । আমার ভাগ্যে ততটুকুই সুখ দুঃখ থাকবে , যতটুকু থাকার কথা । যা হবার তা হবে মেঘা , চিন্তা করিস না তো । দেখ , আমি চিন্তা করছি ? চিল বেবি… বিয়ে আমার । তোদের ফ্রেন্ডের বিয়ে । দাওয়াত করতে আসলাম তোদের , আর তোরা কিনা মুখ কালো করে বসে আছিস এভাবে ? যাবি না আমার বিয়েতে ? বাড়তি কোনো ফাংশন হবে না , শুধু বিয়ের একটা ছোট্ট অনুষ্ঠান হবে আমাদের সামর্থ্য মতো । তোদের সবাই আসা চাই ।
মেঘা তাজ্জব বনে । কি দিয়ে তৈরি এই মেয়ে ? এতোটা শক্ত দেখায় কি করে নিজেকে ? সেদিনের ঐ ঘটনাটা বেমালুম চেপে গেছে নিজের পরিবারের কাছে ।
নিজের চিন্তা করছে না একবারও ।
রৌদ্র ও বেপরোয়া , মেঘার সাথে তুই তুকারি করে । কিন্তু কই , ঐ ছেলেটার মতো উশৃঙ্খল নয় সে !
দেরি হয়ে যাচ্ছে । তাড়াহুড়ো করে মেঘা আর শাফাহ্ কে নিয়ে ওদের ঘর থেকে বেরোলো শিশির । চলে যাবে এখন । নিচে নামলো । রুবিনা কাবির আর শাহিনা কাবির ড্রইং রুমে ছিলেন । শিশির মুচকি হেসে তাদের দিকে এগোয় । স্বভাব সুলভ শান্ত কন্ঠে বলে….
” আন্টি , আসি আজ ? সবাই আসবেন কিন্তু আমার বিয়েতে । আমি অপেক্ষা করবো সবার জন্য । আমাদের কেউ নেই আন্টি , আপনারা আসলে খুব খুশি হবো । দোয়া করবেন আমার জন্য ।
রুবিনা কাবির এক গাল হাসলেন । হাস্যোজ্জ্বল মুখে এগিয়ে মেয়েটার মুখে আদুরে হাত বোলালেন । ঠান্ডা স্বরে বললেন….

” তুমি খুব মিষ্টি একটা মেয়ে, মা । দেখো , অনেক সুখি হবে তুমি । অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো নতুন জীবনের জন্য । আর তোমার বিয়েতে যাবো অবশ্যই ।
শিশির হাসে এক চিলতে ।
আদ্র করিডোর থেকে সবটা দেখেছে । শিশিরের এ বাড়িতে আসার খবর শুনেছে একটু আগে বাড়ি ফেরার পর । তখন থেকেই উদগ্রীব আরো বেশি ।
এই মেয়ে চলে যাবে এক্ষুনি । আদ্র তড়িঘড়ি করে নিজের ঘরে ঢুকলো । চাবি আর ব্লেজার নিয়ে বেরোলো ঝটপট । ততক্ষণে শিশির সদর পেরিয়ে বাইরে বেরিয়েছে মেঘা আর শাফাহ্ কে সাথে নিয়ে । বাড়ি থেকে একটু হেঁটে যেতে হবে মেইন রোড পর্যন্ত । তার পর রিকশার দেখা মিলবে । সদর পেরিয়ে বাইরে দাঁড়ালো ওরা । গেইটের বাইরে বেরোবে না দুই রমনী ।
শিশির কে বিদায় দিতে গিয়ে আদ্র কে চোখে পড়লো । ছটফট করে সদর পেরিয়ে বেরোচ্ছে সে । বাইরে যাবে বোধহয় । এই সুযোগে শিশির কে সাথে নিয়ে গেলে মন্দ হয় না । এই চিন্তা আসা মাত্রই বিদ্যুতের গতিতে ডাকলো শাফাহ্….

” শিশির দাঁড়া …
একটু থেমে আদ্র কে ডাকে…..
” ভাইয়া , বাইরে যাচ্ছো ? শিশির কে নিয়ে যাও না প্লিজ । মোড়ের মাথায় নামিয়ে দিলেই হবে । এতোটা পথ হেঁটে যাবে মেয়েটা ?
আদ্র যেনো এটারই অপেক্ষায় ছিলো । বুক ফুলিয়ে শ্বাস ফেললো সে । ঠোঁটের কোণে দেখা মিললো এক চিলতে বাঁকা হাসি । শিশির বাঁধা দেবে জানা আছে । তার আগেই কাউকে বুঝতে না দিয়ে আদ্র চটপট বলে….
” ওকে….
তোরা ভেতরে যা ।
খুশিতে চিকচিক করে ওঠে শাফাহ্ । মেঘা আর ও ভেতরে ঢুকে যায় ।
আদ্র শিশিরের দিকে তাকায় নি । পার্কিং লটের দিকে ঢুকেছে সে । তাড়াহুড়ো করে বাইক বের করলো । ততক্ষণে রমনী গেইট পেরিয়ে গেছে ।
হাঁটা ধরেছে আপন খেয়ালে । আদ্র বাইক স্টার্ট করে ছুটিয়ে নিয়ে যায় । ইচ্ছে করেই গাড়ি বের করে নি । বাইক থামালো শিশিরের পাশে, হেলমেটের কাচ তুলে এবার তাকালো মেয়েটার দিকে । ভারী গলায় এক প্রকার আদেশ করলো….

” ওঠো ।
শিশির বাইক দেখে বলতে নেয় সবে….
” স্যার….
” শাট আপ বেয়াদব , মুখে মুখে তর্ক করবে না । উঠে বসতে বলেছি ওঠো ।
ধমকে রমনী আনচান করে । আদ্র কথাই শুরু করতে দিলো না ওকে । কিভাবে ও আদ্রের কাছাকাছি এভাবে বাইকে বসতে পারে ? গাড়ি হলে তবুও চলতো ‌।
আদ্র ওর অস্বস্তি বুঝলো । কয়েক পলক চেয়ে থেকে তাকালো রমনীর কাঁধের ব্যাগের দিকে । সেটাকে ইশারা করে বললো…
” ব্যাগটা দাও দেখি…
” সরি ?
” ব্যাগ দাও বেয়াদব । তোমার ব্যাগ । কানে খাটো ? কথা শোনো না তুমি ?
মেয়েটা চমকায় । নিজের ব্যাগ ওনাকে দিতে যাবে কেনো ? উল্টে আরো বেশি ব্যাগ টাকে আঁকড়ে ধরলো সে । আদ্র ওর কারবার দেখে এবার সত্যি সত্যিই বিরক্ত হয় । মুখে চ সূচক শব্দ উচ্চারণ করে এক প্রকার টেনে নেয় মেয়েটার ব্যাগ । ভড়কায় রমনী । আদ্র ব্যাগটা বাইকের সিটে রাখলো নিজের পিছনে । ইশারা করে বললো….

” এবার বসো ,,,
মেয়েটা কিছুটা অবাক হলেও মানিয়ে নেয় । দ্বিরুক্তি করে না আর । মাঝামাঝি ব্যাগের প্রাচির । তবুও আলগোছে অনেকটা পিছিয়ে কোনো রকমে উঠে বসলো বাইকে । ঢের দূরত্ব দুজনার মাঝে । শিশির কোনো রকমে বাইক ধরে চেপে বসার চেষ্টা করলো ‌। স্বস্তি পেলো না । দম খিচে তবুও মানিয়ে নিলো । কোনো রকমে মেইন রোডে গিয়ে নেমে পড়তে পারলেই বাঁচে ।
আদ্র মিররে দৃষ্টি রেখে আলতো চোখে পরখ করলো ওকে । ধীরে স্টার্ট করলো বাইক ।
মোড়ের মাথা পেরোতে না পেরোতেই শিশির দম ফেলে বলে….
” স্যার,, আমাকে এখানে নামিয়ে দিন । এরপর যেতে পারবো আমি ।
আদ্র কেবলই শুনলো । এক কান দিয়ে শুনে বের করে দিলো আরেক কান দিয়ে । মোটরবাইকের গতি বাড়ালো তড়তড় করে । গতি বাড়তেই দমকা হাওয়া লাগলো এই ঠান্ডায় । শিশির তিরতির করে কেঁপে ওঠে আকস্মিক হাওয়ার ঝাপটায় ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪২

আদ্রকে ফুল স্পিডে কাঙ্ক্ষিত পথের বিপরীতে মোড় ঘোরাতে দেখে ছলকে ওঠে রমনীর কোমল বক্ষস্থল । তৎক্ষণাৎ চোখ জোড়া বৃহৎ করে ফেলে সে । এক হাতে বাইক চেপে ধরে, অন্যহাতে খামচে ধরে নিজের ব্যাগটা । ভড়কে যায় সে ‌। আদ্র পথ ঘোরালো কেনো ? এদিকে তো ওর বাড়ির পথ নয় ! মেয়েটা কেমন অজানা উশখুশ ভয়ে ঢোক গেলে । ভয়ার্ত কন্ঠে উচ্চারণ করে…..
” আ…আদ্র স্যার ,, এদিকে কোথায় যাচ্ছেন ?
আমি বাড়ি ফিরবো , আমার বাড়ির পথ ভিন্ন । বাইক থামান । আমি নামবো । এখানেই নামিয়ে দিন আমায় ?

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here