বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২৩
Muntaha jahan
আরাবীকে নিয়ে আরাবীর রুমে বসে আছে ফাহাদ।ক্ষনে ক্ষনে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে আরাবী।আর ফাহাদ তার মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করছে।একটু আগেই তাকে নিয়ে রুমে এসেছে ফাহাদ।আরাবীকে শান্ত করতে পারছিলো না,তাদের এভাবে একসাথে দেখলে বিষয়টা খারাপ দেখাতো তাই কোনো রকমে আরাবীকে নিয়ে রুমে এসেছে। একটু আগেই আরাবী সবকিছু খুলে বলেছে তাকে।বিয়ে বাড়ি হাজার রকমের মানুষ সেখানে উপস্থিত। হাজার রকম কথা সেখানে বলবে এটা সাভাবিক বিষয়।তারউপর আরাবীর বিয়ে ভেঙেছে সেখানে আরাবীকে আগে বিয়ে না দিয়ে দুই ভাইয়ের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেখানে কানাঘুষা একটু হবেই এটা ওসাভাবিক বিষয়।এরকমই একটা বিষয় ঘটেছে আরাবীর সাথে। আরাবী যখন ফাহাদের উপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তখন সে কিছু মহিলাদের কবলে,যারা তাকে নানান ভাবে অপমান করেছে।বিয়ে ভেঙেছে বলে হাজার রকম অপবাদ দিয়েছে।আরাবীর আর কখনো বিয়ে হবে না,বর আসলে পালিয়ে যাবে আবার এরকম কটুক্তি করেছে।যেগুলোর জন্য আরাবী এভাবে কাঁদছে। সারারাত নিজেকে সামলিয়েছে বুঝিয়েছে কিন্তু ফাহাদকে দেখে আর সামলাতে পারে নি।কালকে কষ্ট আর মহিলাদের কথা গুলো ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছে।
মেয়ে জাতী বরই নরম সভাবের। তাদের এই সভাবেরই মানায়।কিন্তু আরাবী একটু বেশিই নরম।কোনা কিছুই সে সহজ ভাবে মানতে পারে না।কষ্ট হয় তার ভিশন।কিন্তু সে কখনো সেটা সবার সামনে প্রকাশ করে না।আড়ালে গুমরে মরে।কালকে ও সেভাবেই মরে ছিলো একটু একটু করে।
একটা মেয়ের বিয়ে ভাঙা কখনোই আশেপাশে মানুষ সহজ ভাবে নেয় না।আবার এতোমাসে পূনরায় তার বিয়ে না দেওয়া।তার আগেই বড় দুই ভাইয়ের বিয়ে দেওয়া এগুলো কখনোই সমাজ ভালো চোখে দেখে না।কালকেও দেখে নি।যারজন্য আরাবীকে এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হলো।কিন্তু এতে তার দোষ?সে কি করেছে?সে তো বউ সেজে অপেক্ষা করেছিলো।হাজারো মেয়ের মতো সেও একটা সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলো।
কিন্তু শেষ মূহুর্তে তো সেটা পূরণ হয়নি।তাতে কি সে কষ্ট পায় নি? বিয়ে কি সে ইচ্ছে করেছিলো ভেঙে ছিলো?সেদিন তারা কেন বিয়ে করতে আসে নি সেটা তো আজও ধুয়াশা।তারা বলেনি সঠিক করে কেন বিয়ে করতে আসে নি।তাহলে এখন কেনো তাকে দোষ দিচ্ছে সবাই?
আরাবী নিজেকে একটু সামলে ফাহাদের বুক থেকে উঠতে চাইলো কিন্তু পারলো না।ফাহাদ আরো শক্ত করে চেপে ধরলো।সেভাবেই বললো,
—“আমাকে বিয়ে করতে তুমি প্রস্তুত?
ফাহাদের কথা আরাবী শুনলেও সেটা বুঝতে সক্ষম হলো না।তাই একটু মাথা তুলে ফাহাদকে দেখার চেষ্টা করলো।ফাহাদও তাকালো আরাবীর দিকে।একটু ঝুঁকে নাকে নাক ঘষে পূনরায় বললো,
—“আমাকে বিয়ে করতে প্রস্তুত তুমি?বিয়ে করবে আমায়?
—“বিয়ে করলে তো আপনাকেই করবো। অন্য কাউকে বিয়ে করার জন্য আপনাকে ভালো বেসেছি নাকি?
রাগে কটমট করতে করতে বললো আরাবী।নিজেকে জোরজবরদস্তি করে ছাড়িয়ে নিলো ফাহাদের থেকে।তারপর গটগট পায়ে হেঁটে গিয়ে বেলকনিতে দাঁড়ালো। এখান থেকে খান বাড়ির মেইন গেট দেখা যায়।আরাবী সেদিকেই তাকিয়ে রইলো।ফাহাদ ও আরাবী পিছু পিছু এসে দাঁড়ালো আগের ন্যায় বললো,
—“উওর দিলে না?আমাকে বিয়ে করতে প্রস্তুত তুমি?
আরাবী ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো।
—“যদি প্রস্তত হই কি করবেন?এখন বিয়ে করবেন আমায়?
ফাহাদ পেন্টের পকেটে দুইহাত গুঁজে আরাবীর দিকে এগিয়ে গেলো।আরাবীর দুইপাশে হাত দিয়ে আটকিয়ে আরাবীর উপর একটু ঝুঁকে আরাবীর কপালের পড়ে থাকা চুল গুলো সরিয়ে দিলো।তারপর মৃদু হেসে বললো!
—“আগের আমার প্রশ্নের উওর দাও তারপর বললো।
—“হ্যাঁ প্রস্তুত।
—“তাহলে রেডি থেকো আমাদের বিয়ে হচ্ছে। সেটাও আজকে।
কথাটা শেষ করে আরাবীর কপালে ছোট করে চুমু দিয়ে ফাহাদ দরজার দিকে পা বাড়ালো।দরজার হাতলে হাত দিয়ে সেটা খুলতে গিয়ে ও থেমে গেলো।ঘাড় ঘুরিয়ে আরাবীর দিকে তাকালো।আরাবী তাকিয়ে আছে বিদায় চোখাচোখি হলো।ফাহাদ ঠোঁট কামড়ে হেসে চোখ টিপ দিয়ে বললো,
—“নিজেকে তৈরি করে রেখো।আমি ভালো মানুষ ও নই ছেড়ে দেওয়ার মানুষ ও কিন্তু নই।তাই সাবধান।
দম আটকে এলো আরাবীর।লোকটা কি বললো?এই লোকের মুখে ও এসব কথা মানায়?লজ্জায় লাল হয়ে আরাবী উল্টো দিকে ফিরে মুখে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে গেলো। তারপর আবার হাত নামিয়ে বিড়বিড় করলো,
—“অসভ্য বেয়াদব পুরুষ।
তাহাকে গোসল করানোর জন্য ছাঁদে নেওয়া হলো।সাথে নূরকে ও। দুজনেই একসাথে একপাশে দাড়িয়ে আছে আর শাশুড়ীর কান্ড কলাপ দেখছে।নূরের এখনই শীত করছে সে এই ঠান্ডা পানি কি করে শরীলে ঢালবে?এটাই শাশুড়ীর দিকে তাকিয়ে চিন্তা করছে।নূরের চিন্তা মধ্যেই আয়েশা বেগম আর শিফা বেগম এগিয়ে আসলেন।আয়েশা বেগম নূরের হাত আর শিফা বেগম তাহার হাত ধরে নিয়ে গোসল করানোর জায়গায়।দুজনের গালে একসাথে হলুদ লাগিয়ে মাথায় পানি ঢালতেই দুজনেই কেঁপে উঠলো শীতে।নূর কামছি দিয়ে তাহার হাত চেপে ধরলো।বিড়বিড় করে বললো,
—“আপু পানি অনেক বেশী ঠান্ডা।
—“এটা পুকুরের পানি তো তাই।
আরো এক কলসি পানি ঢালা হলো তাহা আর নূরের মাথায় তখনই সেখানে হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে আসলো ইহান।ইহানের পুরো শরীলে কাঁদা। একদম ভুত হয়ে আছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে কার্জিনদের হাতে জব্দ হয়েছে খুব।নূর কাঁপতে কাঁপতেই ইহানকে এই অবস্থায় দেখে ফিক করে হেঁসে দিলো।চিল্লিয়ে বলে উঠলো,
—“ডাক্তার সাহেবকে একদম ভুত লাগছে,বর না।আপনার তৈরি হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি এভাবেই থাকুন।সুন্দর দেখাচ্ছে।
বলেই খিলখিল করে হেঁসে উঠলো,আশেপাশের মেয়ে,মা চাচী ও হেঁসে উঠলো।ইহান রেগেমেগে এগিয়ে এলো নূরের দিকে।কোনো কিছু বুঝতে না দিয়েই নূরকে কোলে তুলে নিলো।সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে সবার উদ্দেশ্য বললো,
—“আমার বউকে এই অবস্থায় এইভাবে বসিয়ে রেখেছ সবাই? ঠান্ডা লাগলে?
—“বউ তো নিয়েই যাচ্ছো তাহলে ঝাড়ছো কেনো শুনি? বউ নেওটা ইহান ভাইয়া। হিহি।
ইহানের কথার পিঠে বলে উঠলো তিশা।ইহান নূরকে নিয়েই ঘুরে দাঁড়ালো। তিশার দিকে তাকিয়ে বললো,
—“বেশি পকর পকর শিখেছিস।দাঁড়া এই বিয়েটা শেষ হোক।তারপর তোকে একটা বুড়ো বেডার সাথে বিয়ে দিবো দেখি।
—“বল্লেই হলো।আমি বিয়ে করবো না বুড়োকে।আমি তো বিয়ে করবো সুন্দর ছেলেকে।
—“তোর মতো পাগল যে বুড়ো বর পাবে এটাই সৌভাগ্য নয়তো তোকে কে বিয়ে করবে?
—“ভাইয়ায়াআআ!
আর কিছু শুনলে না ইহান।নূরকে নিয়ে চলে গেলো।উপস্থিত সবাই ই হাসছে তিশা তাদের দিকে কটমট চোখে তাকিয়ে তাহাকে নিয়ে নিচে নেমে পড়লো।
বউ সেজে ঘরে বসে আছে তাহা।পাশে নূরও আছে।তাহার পড়নে ভারী একটা লেহেঙ্গা। গা ভর্তি করে গয়না।এগুলো সবাই এ্যাশ দিয়েছে নিজের পছন্দে।এ্যাশের পছন্দেই নিজেকে সাজিয়েছে তাহা।অন্যদিকে নূর পড়েছে শাড়ী।সাথে সিম্পল কিছু গহনা।এই অবস্থায় এতো ভারী ভারী জিনিস পড়তে পারবে না।গরম লাগবে তাই এভাবেই সেজেছে। এই হালকা সাজেই তার গরম লাগছে।সবকিছু খুলে ফেলতে ইচ্ছে করছে।তবুও বহু কষ্টে নিজেকে ধমিয়ে রেখেছে। আর যাইহোক আজকের দিনটা নষ্ট করা যাবে না এই দিন বার বার ফেরত আসবে না।তাই নিজেকে সামলে নিলো।
তাহা বউ সেজে বসে থাকলেও তার মন স্থির না।অস্থিরতা কাজ করছে তার।বিয়ের আগে এ্যাশ সব সত্যি বলতে হবে।সে এ্যাশকে কিছুতেই ঠকাবে না।কিন্তু কি করে বলবে?কালকে রাতের পর তো আর কথা হয়নি এ্যাশের সাথে। তাহলে?
তাহার ভাবনার মধ্যেই আরাবী আসলো রুমে।আরাবী শাড়ি পড়েছে। ফাহাদের পছন্দের নীল শাড়ি।সাথে সিম্পল কিছু ডায়মন্ডের গয়না।লম্বা চুল গুলো ছেড়ে দেওয়া যার কারণে সেগুলো হাট অব্ধি পৌছেছে।মুখে সাজ নেই বেশি।ঠোঁটে শুধু হালকা বেবী পিঙ্ক লিপস্টিক আর কিছু না।তাতেই আরাবীকে মারাত্মক সুন্দর লাগছে।তাহা নিজের ভাবনা রেখে আরাবীর দিকে তাকিয়ে রইলো।আরাবী হেঁসে তাকিয়ে ছিলো তাদের দিকে কিন্তু হঠাৎই কিছু মনে হওয়াতে মুখটা মলিন করে নিলো।তাহার দিকে এগিয়ে গিয়ে ওকে জরিয়ে ধরলো।
—“আমি তোকে অনেক মিস করবো তাহা।
—“মিস কেনো করবি?আমি তো এখানেই থাকবো।
আরাবী মুখটা তুলে তাহার দিকে তাকিয়ে বললো,
—“উহু! থাকবি না।ভাইয়া আজকে আমেরিকা ফিরবে সাথে তুই ও।
—“কিহ?
অবাক হয়ে বললো তাহা।আরাবী একটু হাসার চেষ্টা করে বললো,
—“হ্যাঁ ভাইয়া এই কয়েক মাসে তোর সব কাগজ পএ টিক করে নিয়েছে।
হঠাৎই তাহার মনটা ও খারাপ হয়ে গেলো।সত্যি আজকে সে চলে যাবে দেশ ছেড়ে?তাহলে এ্যাশ কালকে তাকে কিছু বললো না কেনো? আর এখন এ্যাশের সাথে কথা কি করে বলবে?
—“তোর ভাইয়া কোথায় আরাবী?
—“ভাইয়ারা সবাইকে নিয়ে চাচ্চু বাহিরে গেছে সেখান থেকেই তাদের রেডি করিয়ে নিয়ে আসবে।এখন চল আমার সাথে তোদের নিতে এসেছি।
আরাবী তাহার হাত ধরতেই সেখানে দৌড়ে আসলো তিশা।দুজনকেই এক পলক দেখে মুচকি হাসলো।তারপর নূরের হাতটা ধরে নিয়ে গেলো নিচে।
স্টেজে পাশাপাশি বসে আছি নূর তাহা।দুজনের সামনেই ফুলের পর্দা।পর্দার এপাশে বসেছে নূর তাহা।আর অপাশে বসানো হবে এ্যাশ আর ইহানকে।
ইতিমধ্যে অনেক মানুষ জন চলে এসেছে বিয়েতে।সাথে আরাবী আর তাহার ভার্সিটির কিছু ফেন্ট।কিন্তু তাহার বেস্ট ফেন্ড ঐশী বা আফরিন কেউ ই আসে নি।দুজনেই গ্রামে গিয়েছে। আফরিনকে অবশ্য আয়ান আনতে গিয়েছিলো কিন্তু আরফিন আসে নি।
গেট দিয়ে প্রবেশ করলো ইহান আর এ্যাশ একসাথে দুজনেই বাইকে করে এসেছে। দুজনের দুইপাশে আছে আয়ান,নিল,ফাহাদ,আয়ুশ। দুই ভাগ হয়ে দুইপাশে আছে।পিছনে আছে দুটো কার।যাতে আছে এ্যাশের কিছু গেস্ট।
দু’জন বাইকে থেকে নেমে ভিতরে প্রবেশ করার আগেই গেট আটাকলো আরাবী।দুই ভাইয়ের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পড়ে গেট ছাড়লো। গেট দিয়ে প্রবেশ করলো দুজন। আয়ুশ,নিল,আয়ান,এ্যাশ আর ইহানকে নিয়ে গেলো।আর ফাহাদ গেলো আরাবীর পিছু পিছু।
—” কি হয়েছে পিছু নিয়েছেন কেন?
একপাশে গিয়ে দাড়িয়ে ফাহাদের দিকে ঘুরে কথাটা বললো আরাবী।ফাহাদ আরাবীকে আপাদমস্তক দেখে ঠোঁট বাকিয়ে বললো,
—“বিয়ে কি তোমার এতো সেজেছ কেন?
—“কোথায় এতো সেজেছি?শুধু একটু লিপস্টিক দিয়েছি।
—“এটাও দেওয়ার প্রয়োজন কি? প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে যদি কেউ পছন্দ করে বসে?
—“করলে করবে সমস্যা কি?
—“থাপড়ে গাল লাল করে দিবো বেয়াদব।
—“কি আপনি আমায় মারবেন?আবার?
—“তো কি করবো?তুমি গেটের ওখানে কেনো গিয়েছ?কত ছেলে ছিলো দেখো নি?
—“আশ্চর্য! আমার ২ ভাই + বোনের বিয়ে আমি গেট ধরবো না?
—“না ধরবে না।
—“বল্লেই হলো!
—“আরা।
চুপ করে গেলো আরাবী।ফাহাদ রেগে যাচ্ছে দেখে অভিমানি কন্ঠে বললো,
—“আপনারা আজ চলে যাচ্ছেন বললেন না তো?
—“না বললে কি করে জেনেছ?
—“সেটা কি আপনি বলেছেন?ভাইয়া বলেছে আমায়।
—“জেনেছ তো এটাই যথেষ্ট।
—“আপনি আমার সাথে এরকম করে কথা কেনো কথা বলেছেন কি হয়েছে?
আরাবী দেখলো ফাহাদ কি রকম করছে।চোখ ঘুরিয়ে শুধু আশেপাশে তাকাচ্ছে। ফাহাদ এরকম করতে দেখে আরাবী ফাহাদের দিকে একটু এগিয়ে গেলো।ফাহাদের গাল ধরে মুখ তার দিকে ঘুরিয়ে বললো,
—“কি হয়েছে আপনার?এমন কেনো করছেন?
—“কিছু হয়নি সরে কেউ দেখে ফেলবে।
কথাটা শুনতেই সরে গেলো আরাবী।কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।আরাবী দেখলো একটু দূরে তিশা তার দিকে দুষ্টু হেঁসে তাকিয়ে আছে।আরাবী একটা ঢোক গিললো।তারপর ফাহাদের কাছ থেকে চলে যেতে যেতে বললো,
—“আপনি আমায় যাওয়ার কথা বলেননি তাই আপনার সাথে কথা নেই আমার।
চলে যেতে গিয়ে দাড়িয়ে গেলো আরাবী।কিছু মনে পড়ায় ছট করে ফাহাদের দিকে তাকালো।বললো,
—“আপনি না আমায় আজকে বিয়ে করবেন?
ফাহাদ অদূরে একজনকে তীক্ষ দৃষ্টিতে দেখছিলো আরাবীর কথায় ওর দিকে তাকালো।গম্ভীর কন্ঠে বললো,
—“আমি যাওয়ার পর আমার মা বাবা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবে।
ব্যাস আর কোনো কথা নেই চলে গেছে ফাহাদ।আরাবী কিছু বলতে নিয়েছিলো।কিন্তু পারলো না তার আগেই ফাহাদ দ্রুত সেখান থেকে প্রস্তান করলো।
তাহার বিয়েতে এসেছে আহান।একপাশে দাঁড়িয়ে তাহার দিকে তাকিয়ে ছিলো অপলক। হঠাৎই পাশে কেউ এসে দাঁড়াতে তার দিকে তাকালো।পাশে থাকা লোকটা মৃদু হেঁসে বললো,
—“প্রেমিকা ছিলো নাকি?এভাবে দেখছিলে যে?
আহান একটু হাসার চেষ্টা করে বললো,
—“প্রেমিকা হয়তো হয়নি তবে ছিল অনেক কিছুই।ওর সাথে আমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো,কিন্তু হয়নি ওই ছেলেটার জন্য।
এ্যাশের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো আহান।পাশে তাকা লোকটা আবারো হাসলো।পকেটে দুইহাত গুঁজে সঠান হয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২২
—“তার জন্যই বুঝি মেয়েটাকে রে***প করেছিলো?
অবাক হয়ে তাকালো আহান।লোকটার দিকে তাকিয়ে পরপর ঢোক গিললো। কপাল বেয়ে ইতিমধ্যে ঘাম জরেছে তার।ফাহাদ পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে আহানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
—“এই নেও ঘাম মুছে নাও।এখনি এতো ভয় পাচ্ছো।তাহলে মৃত্যুর সময় কি করবে?
—“মা..মা..মানে?
কাঁপা কন্ঠে কথাটা বলে শেষ করা আগেই ফাহাদ একটা ইনজেকশন পুশ করলো আহানের বাহুতে।
