Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫২

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫২

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫২
jannatul firdaus mithila

“ চিনেন আমায়? একেবারে টোটলা ধরে টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলব।”
ক্ষনিকেই সর্বাঙ্গের র*ক্ত ছলকে উঠল হিমাংশু রায়ের। মাথার তালু খানায় জমাট বাঁধল অদৃশ্য দাবানল! ক্ষুব্ধতায় চোয়াল করলেন শক্ত। দাঁত কপাটি একে-অপরের সনে রুষ্টতায় কটমট শব্দ তুলছে মধ্যবয়স্কের। কন্ঠে নেমেছে একরাশ অসন্তুষ্টি!
“ মুখে লাগাম টানো অধীর! ভুলে যেয়ো না, আমি সম্পর্কে তোমার বয়োজ্যেষ্ঠ।”
সহসা সুদর্শনের তামাকে পোড়া বাদামী ঠোঁটদুটোর কোণে ছাপ ফুটলো তাচ্ছিল্যের। পিয়ার্সিং করা ভ্রু-খানা শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে উঁচু হলো খানিক। বলিষ্ঠ ঘাড়টা কেমন নাটকীয় কায়দায় কাত করে, বেপরোয়া যুবক ভারী তাচ্ছিল্যের কন্ঠে বলে ওঠে,

“ ও বাবাহ! বান্দীর ছেলে বললাম বলে হিমাংশু রায় কি রাগ করলেন? আচ্ছা থাক রাগ করবেন না। আপনি আমার বয়োজ্যেষ্ঠ তাই তো? ঠিক আছে! এই যে আপনাকে সম্মান দিচ্ছি শুনুন। হিমাংশু রায় আমার বয়োজ্যেষ্ঠ। বয়োজ্যেষ্ঠ মা’ই ফুট!”
দাঁতে দাঁত চেপে উপচে পড়া রাগগুলো কোনমতে সংবরণে ব্যস্ত হিমাংশু রায়। কোমরের পিঠে বেঁধে রাখা হাতদুটো তার মুঠোবন্দী হয়েছে বহু আগে। বেপরোয়া যুবকের ওমন বেখাল্লা কথার পিঠে মুখ্য জবাব দিতে উদ্যোত তিনি। ভারী পদযুগল সামান্য নাড়িয়ে যে-ই না এগোবেন, ওমনি তার বিচক্ষুণে বোধবুদ্ধিতে টনক নড়ল বুঝি। দাঁড়িয়ে গেলেন পথিমধ্যে! শঙ্কিত বিজড়িত কায়ায় ঘাড় বাঁকালেন হিমাংশু রায়। পরপরই তার সন্দিগ্ধ দৃষ্টিজোড়া একত্রে গিয়ে আছড়ে পড়ল অদূরে দাঁড়িয়ে নিরবে কাঁদতে থাকা মেয়ের পানে। সহসা অন্তঃকোণে মোচড়ে উঠল মধ্যবয়স্কের। ভুলে গেলেন রূঢ় মানবকে মূখ্য জবাব দেবার কথা! অস্থির চিত্তে তিনি তক্ষুনি পা ছুটিয়ে এগিয়ে মেয়ের সন্নিকটে। আলতো করে হাত ছোঁয়ালেন নিরুর মাথায়। নিরু কাঁদছে! কি করুণ সে-ই কান্নার সুর। বুকভাঙা নিরব আর্তনাদের প্রতিচ্ছবি, মেয়েটার মুখাবয়বে স্পষ্ট। মধ্যবয়স্ক খানিক ঢোক গিললেন। কন্ঠ খাদে নামিয়ে আলতো করে শুধালেন,

“ তুমি ঘরে যাও মা। আমাদের একটু আলাদা করে কথা বলতে হবে।”
ভগ্ন মানবী বড্ড আজ্ঞাকারী! বাবার মুখনিঃসৃত বাক্য কর্ণধার হতেই নিরবে পা বাড়াল দরজার সম্মুখে। খানিকবাদে আড়াল হলো তার ক্ষুদ্র কায়া। তক্ষুনি নিজ চিরায়ত স্বভাবে ফিরলেন হিমাংশু রায়। গটগটিয়ে ফের এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন মুগ্ধের সম্মুখে। রূঢ় মানব যেন দেখেও দেখল না তাকে। উল্টো ভাব ধরল ভাবলেশহীন। আঙুলের ফাঁকে গুঁজে রাখা সিগারের শেষাংশটুকু এশট্রে বরাবর ছুঁড়ে ফেলে, আরেকটা সিগার গুঁজল ঠোঁটের ফাঁকে। দাম্ভিকের ন্যায় লাইটার ধরাতে গেলেই সম্মুখ থেকে ধেয়ে আসে হিমাংশু রায়ের চিড়বিড় কন্ঠ!

“ তুমি মানো আর না মানো, নিরু তোমার বাগদত্তা অধীর! অন্তত এই কথাটা তুমি এতো সহজে উপেক্ষা করতে পারোনা।”
কথাটা শুনল মুগ্ধ। বাঁকা হেসে আগুন ধরালো সিগারের শেষভাগে। বুক ফুলিয়ে লম্বা এক নিশ্বাস টেনে ফের কাউচের গায়ে নিজ পাহাড়সম দেহটা এলিয়ে রাখল রূঢ় মানব। ভ্রুক্ষেপহীন গলায় আওড়াল,
“ কিসের বাগদত্তা রে বান্দীর ছেলে? কিসের বাগদত্তা? ঐটুকুন একটা পুঁচকে বালপাকনা মেয়ে, যার নাকে টিপ দিলে এখনো সর্দি বেরোবে, সে-ই মেয়ে কি-না আমার বাগদত্তা হবে? ওরে বান্দীর ছেলে! আপনার মেয়ে আমার ভার সইতে পারবে? ধরতে গেলেই তো ম’রে ভুত হয়ে টাল হয়ে থাকবে! মেয়ের জন্য দরদ নেই আপনাদের?”
যুবকের এহেন বেফাঁস কথাবার্তায় তৎক্ষনাৎ মুখ কুঁচকে গেল হিমাংশু রায়ের। তেঁতো ভাব বসল কন্ঠায়! তিনি খানিক মৌন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেই পাশ থেকে কন্ঠ উঁচালেন সুদীপা রায়। চিড়বিড়িয়ে আওড়ালেন,
“ তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো অধীর! তুমি ফিরে এসে নিরুকে বিয়ে করবে — এমন প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছিলাম বলেই কিন্তু আজ এ দিন দেখতে হচ্ছে!”

মুখভর্তি সিগারের কলুষিত ধোঁয়াগুলো রয়েসয়ে ছাড়তে ব্যস্ত মুগ্ধ। এরইমধ্যে কর্তাগিন্নির বাজখাঁই কন্ঠখানা কর্ণকুহরে পৌঁছাল তার। তক্ষুনি অচূর্ণ অহংকারে মুড়িয়ে থাকা বলিষ্ঠ ঘাড়টা খানিক বাঁকা করলেন মাফিয়া বিস্ট। তাকালেন বাজপাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টে! ল্যাম্পশেডের মাখনরঙা টিমটিমে হলদেটে আলোয় মুহুর্তেই চিকচিক করে উঠল মুগ্ধের বাদামী চোখদুটোর মনি জোড়া। চোয়ালের পেশী হলো টানটান। হিমাংশু রায় ঘাবড়ালেন খানিক। তড়িঘড়ি করে স্ত্রীর বাহাতের কব্জিসন্ধি আঁকড়ে, তাকে হেচঁকা টানে টেনে নিয়ে এলেন পেছনে। শুধরে দেবার ভঙ্গিতে যেই না মুখ খুলবেন ওমনি শোনা গেল রূঢ় মানবের রুক্ষ কন্ঠস্বর!
“ আপনার ভাগ্য ভালো আমি এখন কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে আছি। নয়তো এতক্ষণে আপনার মতো অধিক জিভ চলা মহিলার জিভ যেত রাস্তার কুকুরের পেটে, আর মাথাটা আসতো আমার হাতে!”
তেঁতে উঠেন কর্তাগিন্নি! রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্যের ন্যায় দাঁত খিঁচলেন পরক্ষণে। উদ্যোত হলেন ক’টা কটুবাক্য আওড়াতে। তবে তা আর হলো কই? পথিমধ্যে গম্ভীর স্বামী কব্জিসন্ধি আঁকড়ে ধরল তার। তক্ষুনি থমকালেন সুদীপা রায়। বাঁকিয়ে তাকালেন ঘাড়। স্বামীর চিন্তিত মুখপানে দৃষ্টি পড়তেই দেখলেন — মানুষটা কেমন অলক্ষ্যে, নিরবে সর্তক করছে তাকে। কর্তাগিন্নি বাধ্য স্ত্রী! একপল স্বামীর মুখপানে দৃষ্টি বুলিয়ে, সহসা কুলুপ আঁটলেন ঠোঁটের ডগায়। পিছিয়ে এলেন দুপা। হিমাংশু রায় এগোলেন এবার। কন্ঠে ভারী গাম্ভীর্যের ছাপ ফুটিয়ে আওড়ালেন,

“ দেখো অধীর!”
তৎক্ষনাৎ সরু দৃষ্টে সম্মুখে তাকায় মুগ্ধ। দাঁত খিঁচে বলে ওঠে,
“ কি দেখব? যার এক ঠ্যাং যাতায়, আরেক ঠ্যাং চিতায়, তাকে আবার ঘটা করে দেখার কি আছে? কোনদিক দিয়ে রূপ বেড়েছে আপনার?”
কথার মাঝে এহেন অতর্কিত বাক্যালাপে হতভম্ব হিমাংশু রায়। বিস্ময়ে চোখদুটো গোল গোল করে তাকিয়ে আছেন কেমন। বুকের মাঝে হুট করেই শুরু হয়েছে চিনচিনে ব্যথা। ছেলেটার কথার যা ঝাঁঝ! প্রেসার বোধহয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। তিনি আলগোছে বাহাত তুলে বুকের সনে চেপে ধরলেন। বিচক্ষণের ন্যায় পরিস্থিতি সামলাবার উদ্দেশ্যে খানিক গম্ভীর মুখে ফের শুধালেন,
“ না না! আমাকে দেখতে বলিনি। আমি বলতে চাইছি নিরুর ব্যাপারে। নিরুর ১৮ বছর হবার পরপরই নিরুকে বিয়ে করবে তুমি — এমনটাই তো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।”

দৃষ্টিতে প্রগাঢ়তা বাড়ল মুগ্ধের। চোয়ালে বাড়ল তীক্ষ্ণ ভাব। কন্ঠে ক্রুদ্ধতা লেপ্টে, সে পরক্ষণেই আওড়াল,
“ প্রতিশ্রুতি? হোয়াট দ্য ফা’ক ইজ দ্যাট? কে দিয়েছিল? আমি?”
থতমত খেলেন হিমাংশু রায়। সাজানো বাক্যক’টা কেমন এলোমেলো হয়ে গেল মনে হচ্ছে। কপালে বাড়ল ঘামের উপস্থিতি। মানব খানিক সময় নিয়ে ফের আওড়ালেন,
“ না তবে…শ্যামা অর্থাৎ তোমার মা দিয়ে গিয়েছিল।”
তড়াক পাহাড়সম বলিষ্ঠ দেহখানা নড়েচড়ে উঠল মুগ্ধের। দাঁড়িয়ে গেল হুট করেই। ভ্রুক্ষেপহীন কায়দায় দু’হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে, পায়ে গতি টানল মাফিয়া বিস্ট। সম্মুখ দুয়ার পানে অগ্রসর হয়ে ভারী অথচ গমগমে গলায় আওড়ে গেল,
“ ফাইন! তাহলে শ্যামৌপ্তী দেবীকে-ই গিয়ে বলে আসুন, আরেকটা ছেলে পয়দা করে তার সঙ্গে আপনার মেয়ের বিয়ে দিতে! আমি — অধীর রায়, আপনার মেয়ে কিংবা অন্য কোনো নারীর প্রতি বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্টেড নই। মাইন্ড ইট!”
যুবক যত এগোচ্ছে, তার ক্ষুব্ধ কন্ঠস্বর ঠিক ততটাই ক্ষীণ শোনাচ্ছে! ধীরলয়ে আড়াল হচ্ছে তার পাহাড়সম দেহটা। প্রস্তরখন্ডের ন্যায় নিরব কামরায় ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন হিমাংশু রায়। তার দৃষ্টি নিরুত্তেজ। যেন রূঢ় মানবের এমন উত্তরে তিনি মোটেও হতবাক হননি।

সময় এগোচ্ছে নিরবিচ্ছিন্ন কায়দায়! আগেরকার দিনের পুরনো রংচটা দেয়ালে সগৌরবে ঝুলন্ত এন্টিক ঘড়িটা কেমন হুট করেই ঘর কাপিয়ে ঢংঢং করে উঠল। মুহুর্তেই সম্পূর্ণ আবদ্ধ কক্ষের নিরবতা ছাপিয়ে চতুর্দিকে ছড়িয়ে গেল ঘড়িটার ওমন বাজখাঁই কন্ঠ! যার শব্দে আৎকে উঠে মাহি। ভয়ার্ত দৃষ্টে হতবিহ্বলের ন্যায় তাকায় সম্মুখে। ঘড়ির বড় ঘন্টাটা এখনো নড়ছে। ক্ষীণ হচ্ছে তার আওয়াজ। জানান দিচ্ছে রাত্রির প্রথম প্রহর শেষ হবার সংকেত। সপ্তদশী সামলায় নিজেকে। তড়িঘড়ি করে বুকের ওপর হাত নিয়ে এসে ডলতে থাকে অনবরত। পেটটা কেমন গুড়গুড় করছে তার! যন্ত্রনা দিচ্ছে ক্ষুধা। নিষ্পাপ রমণী কেমন ঠোঁট কামড়াচ্ছে অনবরত। দু’হাতে আঁকড়ে ধরেছে মেদহীন মসৃণ উদর। উৎকন্ঠা ভরা দৃষ্টে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে সে। দেখছে ওমন রাজকীয় কামরাটা। ঘরখানা কি সুন্দর গোছানো। আসবাবপত্রের সে-কি বাহার। চন্দন কাঠের মনমোহিনী সুবাস কেমন ভুরভুর করে ঢুকছে সরু নাকের ছিদ্র দিয়ে। মায়াবিনী চোখ বুজঁল! বুক ফুলিয়ে নিশ্বাস টানল বড়সড়। ধীরলয়ে অধরজোড়া আলতো ফাঁক করে মৃদু হেসে ওঠে মাহি। সদ্য শুকোনো আঁখিদ্বয়ের পর্দা সরিয়ে আনমনে তাকাল ঘরের বা-দিকে। মুহুর্তেই দৃষ্টি থমকাল সপ্তদশীর। চোখদুটো কেমন আঠার ন্যায় আঁটকে গেল বাঁদিকের দেয়ালে। সেথায় ওমন করে ঝুলে থাকা লাল রঙা পর্দাটা কিসের? পর্দার আড়ালে কি তবে জানালা রয়েছে?

কৌতুহলী মাহি! উৎকন্ঠায় তড়িঘড়ি করে নেমে এলো রাজকীয় পালংক হতে। ধীরলয়ে এগোলো সে। পর্দার সন্নিকটে এসে পায়ে টানল রুখ। ঘাড় উঁচিয়ে তাকাচ্ছে মাহি। চোখ দিয়ে মাপছে পর্দার দৈর্ঘ্য। তার মতো দুটো মানুষের উচ্চতার সমতুল্য পর্দাটা। টানলে আদৌও খুলবে তো? বোকা মানবী তক্ষুনি দাঁত বসালো অধরের কোণে। খানিকক্ষণ দোনোমোনো করে অবশেষে হাত বাড়াল পর্দার কাছে। হাতের মসৃন তালুখানা দোদুল্যমান পর্দার গা ছুঁতেই বিস্ময়ে ডুবল মাহি। বিস্মায়াবিষ্টের ন্যায় কপালে উঠল চোখ। একি! পর্দাটা কোন কাপড়ে তৈরি? এতো মসৃণ, মোলায়েম! ধরলেই চলে আসছে হাতের মুঠোয়। প্রথমবার এহেন মসলিন কাপড় স্বচক্ষে দেখে ভারী হতবাক মাহি। হতবাকতায় বোকার ন্যায় টান বসালো কাপড়ে। ওমনি ওপর থেকে ঝরঝরিয়ে সবটা কাপড় খসে এলো ভূমিতে। মাহি হতভম্ব। ত্বরিত ভয়ে পেছালো কদম। ভয়ার্ত দৃষ্টে সম্মুখে তাকাতেই ফের অদৃশ্য হোঁচট খেল বোকা মানবী। টলে উঠল তার সর্বাঙ্গ। বিস্ময়ে দুরত্ব বাড়ল দু-ঠোঁটের মাঝে। সম্মুখের দেয়ালে উম্মুক্ত হয়েছে একখানা বিশাল তৈলচিত্র! যেথায় সুস্পষ্ট এক অপরুপার ছবি। রাজকীয় আসনে দাম্ভিকতার প্রগাড় ছাপে বসে আছেন তিনি। গায়ে জড়িয়েছেন একখানা লাল পাড়ের সাদা শাড়ি! সঙ্গে মিলিয়ে পড়েছেন ভারী ভারী অলংকার। এ যেন সাক্ষাৎ উনবিংশ শতাব্দীর মহারাণী! কি অদ্ভুত দীপ্তি তার চোখদুটোতে। যেন তারা এখনো জীবিত। সপ্তদশী বেঘোরে ডুবল। যে-ই বেঘোরের তালে টের পেলো না কক্ষের দুয়ার খোলার কর্কশ শব্দ। টের পেলো না কোনো এক রূঢ় মানবের দাম্ভিক কদম দু’টোর অগ্রসর উপস্থিতি! মাহি একমনে তাকিয়ে আছে ছবিটার পানে। বেভুলার ন্যায় হাত বাড়াচ্ছে সে। ছবিটাকে কাছ থেকে একটুখানি ছুঁয়ে দেবার তুখোড় লোভ জেগেছে তার। মোলায়েম হাতদুটো তার প্রায় ছুঁই ছুঁই ছবির গা। ওমনি পেছন থেকে আচমকা ধেয়ে এলো অতি পরিচিত কর্কশ কন্ঠখানা!

“ ডোন্ট টাচ!”
কেঁপে ওঠে মাহি। হুট করেই ঘোরের দেয়ালে চিড় ধরায়, এক ঝটকায় ছবির কাছ থেকে ছিটকে সরে আসে বোকা মানবী। আতঙ্কিত ভঙ্গিতে শরীর ঘুরিয়ে তাকায় পেছনে। ওমনি তার দৃষ্টি কাড়ঁল সুদর্শন বলিষ্ঠ পুরুষ! যিনি আপাতত সগৌরবে পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে সম্মুখ কাউচে। তার আঙুলের ভাঁজে আঁটকে আছে একখানা জ্বলন্ত সিগার। বাদামী চোখদুটোর গভীর দৃষ্টি অনিমেষ কায়দায় তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। মাহি ভড়কায়। তড়িঘড়ি করে সরে দাঁড়ায় ছবির কাছ থেকে।কোনরূপ ভনিতা ছাড়াই সন্দিগ্ধ গলায় শুধায়,
“ আপনি? কখন এলেন?”
“ যখন তুই অন্যমনস্ক ছিলি, ঠিক তখন!”
যুবকের তৎক্ষনাৎ ভনিতা বিহীন প্রতুত্তর। তা কর্নধার হওয়া মাত্রই চিবুক নামল মাহি’র। কন্ঠে নামল অদ্ভুত শান্ত প্রগাঢ়তা! সে প্রশ্ন ছুড়ঁল,
“ আপনি কি আমায় নতুন করে নজরবন্দী করতে চাচ্ছেন?”
থামল মুগ্ধ! থমকাল তার মুখের কাছে বাড়ন্ত হাতখানা। তীক্ষ্ণ দৃষ্টে পরপরই তাকাল সপ্তদশীর পানে। অদ্ভুত শান্ত গলায় প্রতিত্তোরে বলল,
“ তুই বহু আগে থেকেই আমার নজরবন্দী বান্দীর মেয়ে! নতুন কিংবা পুরাতন কিছু নয়!”
মুখাবয়বে অবোধের ছাপ ফুটলো মাহি’র। কপালের চামড়ায় স্পষ্টতর হলো গোটাকতক ভাঁজের ছাপ। চাপা ক্ষোভে আওড়াল,

“ তাহলে নতুন জায়গায় এসে, এভাবে হুট করেই একটা কক্ষে তালাবদ্ধ করার খুব একটা প্রয়োজন ছিলো না।”
বাঁকা হাসল মুগ্ধ! প্রতিত্তোর না করে অনবরত ফুঁকছে সিগার। মানবী আড়দৃষ্টে দেখল তা। মুগ্ধের ওমন ভ্রুক্ষেপহীন ভঙ্গিমা দেখে নাকের পাটাটা তক্ষুনি ফুললো তার। দাঁত খিঁচল পরপরই।
“ আমাকে কলকাতা কেনো এনেছেন?”
“ কবর দিতে!”
যুবকের ভাবলেশহীন ছোট উত্তর। তা কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই চমকে উঠে মাহি। ভাব ধরে হতবুদ্ধির ন্যায়। গলায় অনমনীয়তা ঢেলে মানবী কেমন গজগজ করতে করতে বলে ওঠে,
“ রাশিয়ায় কি জায়গার অভাব পড়েছিল নির্দয় লোক? যে এখানে এনে আমায় কবর দিতে হচ্ছে আপনার! এ সমস্ত কথা উচ্চারণ করতে আপনার একটুও বুক কাঁপে না?”
এপর্যায়ে মাংসল বলিষ্ঠ ঘাড়টা বেশ কাত হলো মুগ্ধের। দৃষ্টি হলো সরু! ঠোঁটের কোণে শ্লেষাত্মক ভাবভঙ্গি ফুটিয়ে, নির্দ্বিধায় গমগমে গলায় শুধালো,

“ উঁহু! বুক কাঁপে না। তবে তোকে দেখলে অন্যকিছু কাঁপে! খুলে দেখাব না-কি তা একবার?”
বলতে বলতেই অসভ্য মাফিয়া বিস্টের হাত চলে গেল প্যান্টের অগ্রভাগে। তা চক্ষুগোচর হতেই অতিষ্ঠ মাহি! নাকমুখ কুঁচকে গেল লোকটার এহেন বেফাঁস কথাবার্তা এমন কর্মকাণ্ডে। কম মাংসের গালদুটোতে হালকা লজ্জালু প্রলেপ ছড়ালেও, মানবী তা প্রকাশে তা নারাজ। দাঁত খিঁচে ঝাঁঝিয়ে আওড়াল,
“ থামুননন বেহায়া লোক! আর কত নির্লজ্জ হওয়া বাকি আছে আপনার? ছিঃ ছিঃ!”
তৎক্ষনাৎ কপাল গোছালো মুগ্ধ। বাম পাশের পিয়ার্সিং করা ভ্রু-টা তার উঁচু হলো আপনাআপনি। কন্ঠে ছড়ালো সন্দিগ্ধতা!
“ স্ট্রেঞ্জ! যেখানে ই*ন্টি*মেট হওয়া বাকি আমাদের, ১৮+ কিছু করলাম-ই না, সেখানে নির্লজ্জতা হওয়ার প্রসঙ্গ আসে কোত্থেকে? তাছাড়া এমন একটা ভাব নিচ্ছিস যেন তুই আমার কিছুই দেখিসনি! সেদিনও তো সামনে থেকে আমার পাখি……..”

“ চুপ করুননননননননন!”
লজ্জায় কানদুটো দিয়ে উষ্ণ ধোঁয়া উড়ছে মাহি’র। সহসা দু- হাত দিয়ে চেপে ধরেছে দু-কান। নাক-মুখ কুঁচকে তাকিয়ে আছে মেঝের পানে। ওদিকে, মুগ্ধ কেমন হতভম্ব বনে গেল মাহি’র ওমন হুটহাট চিৎকারে। রয়েসয়ে গাল বাঁকায় সামান্য। পায়ের ওপর পা তুলে, কাউচের গায়ে হেলান দিয়ে বসল রূঢ় মানব। সিগার ফুঁকতে ফুঁকতে গমগমে গলায় বলল,
“ এই নশ্বর পৃথিবীতে সত্য কথার দাম নেই! আজ আবারও তা প্রমাণিত হলো।”
মাহি দাঁত কিড়মিড় করছে। রাগে থরথর করে কাঁপছে তার শুভ্র মুখশ্রী! সে পা বাড়াল। রূঢ় মানবকে উপেক্ষা করে হাঁটা ধরল অন্যত্র। ঠিক তখনি তার কর্ণকুহরে ভেসে এলো মুগ্ধের ভারী অথচ নিরেট কন্ঠ!
“ আমার সামনে থেকে যাওয়ার আগে অনুমতি নিয়েছিলি বান্দীর মেয়ে?”
থমকায় মাহি। নাক ফুলিয়ে বাঁকায় ঘাড়। মুখ ঝামটি মে’রে বলে ওঠে,
“ নিকুচি করি আপনার অনুমতির!”

মুগ্ধ কি হাসল? নিরবে, অলক্ষ্যে নিম্নাংশের অধরে দাঁত বসিয়ে হাসল না-কি? ভাগ্যিস তা সপ্তদশীর অলক্ষ্যে ছিল। নয়তো এতক্ষণে ঠিক গলে যেত মেয়েটার আকাশসম রাগ। খানিক বাদেই নিজ চিরচেনা গম্ভীর খোলসে আবৃত হলো মুগ্ধ। সামান্য গলা খাঁকারি দিয়ে আচমকা শুধালো,
“ তোর সাহসটা ইদানিং খুব বেড়ে গিয়েছে মনে হচ্ছে! কাহিনী কি বান্দীর মেয়ে?”
শুকনো ঢোক গিলল মাহি। সটান হলো পরক্ষণে। রাগের বশে মুখ দিয়ে যা আসে তা-ই বলে বসে লোকটাকে। তারমানে এই নয় সে ভয় পায় না তাকে! ভয় পায়। বড্ড পায়! এই যে এখনো পাচ্ছে। মাহি হাত কচলাচ্ছে অনবরত। নিশপিশ করতে থাকা পাদু’টো আচমকা ছুটতে চাইলো উম্মুক্ত দুয়ারের বাইরে। ভীত-সন্ত্রস্ত মানবী আর সাত-পাঁচ ভাবার কূল পেলো না। নিরবে তক্ষুনি ছুটলো দুয়ার পানে। তার মসৃণ পাদু’টো যেই না চৌকাঠ মাড়াবে ওমনি পেছন থেকে আচমকা টান পড়ল তার গলায় পেচিঁয়ে রাখা ওড়নার দু’পাশে। মুহুর্তেই থমকে গেল মাহি। খানিক ফাঁস লাগল রাজহংসীর ন্যায় সুকোমল সুদীর্ঘ কন্ঠায়। হাত চলে এলো গলার কাছে। পেছন থেকে এগোচ্ছে মুগ্ধ। বাহাতে ধীরলয়ে পেঁচাচ্ছে মাহি’র ওড়নাটা। সপ্তদশী স্তব্ধ! কাঁপছে তার ক্ষুদ্র বদনখানি। তুলতুলে অধরযুগল কাঁপছে তিরতির করে। মুহুর্ত ব্যয়ে টের পেলো — লোকটা বড্ড কাছে তার। তার রুক্ষভাঁজের সনে ঠেকেছে মাহি’র ধনুকের ন্যায় বাঁকানো মেরুদণ্ড! কানের কাছে আছঁড়ে পড়ছে উষ্ণ নিশ্বাসের ঝাপ্টা। সহসা দু’হাতে নিজ জামার একাংশ আঁকড়ে ধরে মাহি। চোখদুটো কুঁচকে নেয় তড়িঘড়ি করে। মুগ্ধ হাসল! রুক্ষ অধরযুগল আলতো করে ছোঁয়াল মেয়েটার কানের পিঠে। তক্ষুনি সর্বাঙ্গ কেঁপে ওঠে মাহি’র। শীরঁদাড়া বেয়ে মুহূর্তেই নেমে গেল এক অদ্ভুত শীতল স্রোত। মুগ্ধ ধীরে ধীরে চুম্বন বাড়াচ্ছে। ছোট ছোট অসংখ্য আদুরে জ্বালাতনে কম্পিত করছে মানবীর মসৃণ কানের লতি। বেহায়া কাজগুলো অব্যাহত রেখে সে কেমন শান্ত কন্ঠে আওড়াল,

“ পিচ্চি সুন্দরীদের অতো উটকো সাহস থাকতে নেই সিগনোরা! নতুবা আমার মতো দৈত্যের নজর পড়বে তো!”
অস্থির মাহি। নিশ্বাসের ছন্দ এলোমেলো তার। পাদু’টোয় নেমেছে অসারতা। মস্তিষ্ক ক্রমশ ফাঁকা হচ্ছে মনে হচ্ছে! ক্ষুদ্র বদনখানিতে বইছে বিদ্যুৎ। মুগ্ধ বোধহয় টের পেলো তা। রয়েসয়ে ঠোঁট সরালো মাহি’র কানের লতি হতে। ধীরলয়ে পাদু’টো পিছিয়ে নিতে উদ্যোত সে। উদ্যোত মাহি’কে বাঁধনমুক্ত করতে। ঠিক তখনি তার আনমনে দৃষ্টি গিয়ে আচানক আছঁড়ে পড়ল অদূরের বিপরীত করিডর পানে। তার দৃষ্টি সেদিকে পড়তেই কে যেন গা লুকোলো ভীমের আড়ালে। বিচক্ষণ পুরুষ মুগ্ধ! বুঝে গেল কেউ তাদের দেখছে। ঠোঁটের কোণে আচমকা বক্রহাসির রেশ টানল রূঢ় মানব। একহাতের দক্ষ হেঁচকা টানে তক্ষুনি সপ্তদশীকে ঘুরিয়ে দাঁড় করালো নিজের দিকে। এহেন অতর্কিত কান্ডে ভড়কায় মাহি। হতবাক দৃষ্টি জোড়া ঘাড় বাকিয়ে উঁচু হতেই, তারা গিয়ে আটকালো যুবকের দুষ্ট মুখাবয়বে। মুগ্ধ বাঁকা হাসছে। তার ওমন হাসির কারণ বুঝল না মাহি। বোধগম্যহীনের ন্যায় তাকিয়ে থাকতেই চোখ টিপে মুগ্ধ। অতঃপর কোনরূপ আগাম সতর্কসংকেত ছাড়াই দু’হাতের দৃঢ়তায় মেয়েটার লতানো কোমর আঁকড়ে তুলে নেয় কোলে। এহেন অনায়াস টানে হতচকিত বোধবুদ্ধি সপ্তদশীর। বোকার ন্যায় ভয়ার্ত টানে দু’পা দিয়ে আঁকড়ে ধরে রূঢ় মানবের মেদহীন ভি-শেইপের ঝাঁকপূর্ণ কোমর। হাতদুটো অবহেলিত আকার থোড়াই ধরল! অপ্রকাশিত অধিকারবোধে তারা গিয়ে জড়িয়ে ধরল মুগ্ধের গলা। মাফিয়া বিস্ট মিটমিটিয়ে হাসছে বোধহয়!

মানবীর পাতলা কোমর আঁকড়ে আচমকা অধর ছোঁয়াল মেয়েটার তুলতুলে ওষ্ঠপুটে। মুহুর্তেই জমে গেল মাহি। ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত বইছে কেন? ভড়কানোর সময় অব্ধি পাচ্ছেনা সে। লোকটার হুটহাট আগ্রাসী গভীর চুম্বনে চৌম্বকের ন্যায় আঁটকে আছে মাহি। ক্ষুদ্র বদনে পারছেনা একটুখানিও নড়তে। মুগ্ধ ব্যস্ত নিজ কাজে। বেহায়া গভীর চুম্বনে মত্ত থেকে দৃষ্টি ফেলল অদূরের করিডর পানে। কেউ একজন এখনো আড়াল হতে দেখছে তাদের। তা বোধগম্য হতেই যুবক নিজ কাজের গতি বাড়াল। তক্ষুনি বাহাতের রুক্ষ আঙুলগুলো আলগোছে চালালো রমণীর চুলের ফাঁকে। সেথায় মৃদু টান বসিয়ে সপ্তদশী’র ক্ষুদ্র মুখখানা খানিক উঁচিয়ে তুলে মুগ্ধ। একমুহূর্তের জন্য অধর হতে অধর সরিয়ে তাকাল মেয়েটার চোখের দিকে। মাহি’র চোখদুটো ছলছল! একটু টোকা পড়লেও বোধহয় কেঁদে দিবে বোকা মানবী। মুগ্ধ ঠোঁট কামড়ে হাসল খানিক। কন্ঠ খাদে নামিয়ে আচমকা শুধালো,

“ আই ওয়ান্না গো ফর আ ডিপ কিস! ডোন্ট ইউ্য ডেয়ার টু স্টপ মি।”
অন্তঃকোণ ছলকে উঠে মাহি’র। অজানা ভয়ে কেঁপে ওঠে তার ক্ষুদ্র তনু। ঠোঁট ভেঙে ফুপিয়ে কাঁদতেই যাবে ওমনি তার তুলতুলে অধরযুগলের ওপর হিং স্রের ন্যায় ঝাপিয়ে পড়ল রূঢ় মানব। ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায় শিকার হাতের কাছে পেয়ে আত্মসাৎে মত্ত হয়েছে সে। তার ওমন হিং স্রাত্মক কান্ডে কুন্ঠিত বোকা মানবী। দূর্বল হচ্ছে ক্রমশ। তার ক্ষুদ্র বদনখানি দূর্বল হয়ে খানিক টলতে লাগলেই একহাতে সযত্নে তাকে আগলে নেয় মুগ্ধ। অধরের কাজ অব্যাহত রেখে আলগোছে পা বাড়াল কক্ষের পানে। পেছন থেকে শক্ত পায়ের আঘাতে তক্ষুনি ভেজিয়ে দিলো দরজার কপাট। সহসা অদূরের করিডর পানে অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে থাকা অগ্নিদৃষ্টিযুগল ব্যর্থ হলো দু কপোত-কপোতীর বাদবাকি উন্মত্ততা দেখতে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা! একপাশের ডিভানের কোলে বসে আছেন হিমাংশু রায়। ভীষণ মনোযোগে তাকিয়ে আছেন সম্মুখ টেবিল পানে। সেথায় সাজিয়ে রাখা দাবার কোট! একা একাই দু-পক্ষ হয়ে খেলছেন তিনি। গুটি চালছেন নিজের মতো। ঠিক তখনি কক্ষের দুয়ার ঠেলে গটগটিয়ে ঢুকলেন সুদীপা রায়। এক আকাশসম রাগে গজগজ করতে করতে স্বামীর পানে এগিয়ে এসে ক্ষুব্ধ কন্ঠে চেঁচালেন,
“ অধীর তখন বলেছিল না? ওর নাকি কোনো মেয়ের প্রতি বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই! অথচ এইমাত্র আমি নিজ চোখে দেখে এলাম — অধীর ঐ মেয়েটার সাথে…..! ছিহঃ!”
পয়েন্ট উলটালেন হিমাংশু রায়। গম্ভীর মুখে মন্ত্রীর গুটি আগালেন সম্মুখে। এদিকে তার এহেন অপারগ ভাবখানা দেখে ফের তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন সুদীপা রায়। দাঁত কিড়মিড় করতে করতে শব্দ করে হাত রাখলেন সম্মুখ টেবিলের ওপর। মুহুর্তেই চারপাশে শব্দ হলো বেশ। দাবার গুটিগুলো নড়েচড়ে উঠল কেমন! এপর্যায়ে স্ত্রীর রাগান্বিত মুখপানে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিজোড়া নিক্ষেপ করলেন হিমাংশু রায়। স্ত্রী তখন ফের চেঁচিয়ে আওড়ায়,

“ কথা শুনছো না আমার? না-কি শুনতে চাইছো না কোনটা?”
অত্যন্ত ঠান্ডা মেজাজ শেষাবধি ধরে রাখলেন হিমাংশু রায়। খানিক সময় নিয়ে আচমকা বলে বসলেন,
“ তো কি হয়েছে?”
আকাশ ভেঙে পড়লেন সুদীপা রায়! কন্ঠে লেপ্টে গেল হতবাকতার ছোঁয়া!
“ তো কি হয়েছে মানে? অধীর একটা মেয়ের সাথে এভাবে খোলামেলা….!”
কথাটা শেষ করবার সময় দিলেন না হিমাংশু রায়। তার পূর্বেই শোনা গেল তার গুরুগম্ভীর কন্ঠ!

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫১

“ বর্তমান যুগের ছেলেপেলে বলে কথা! চরিত্রে একটু-আধটু দোষ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া ও কোনো সাধারণ কেউ নয়। ও এখন রুশদী কিং! নারী ক্ষুধা থাকবেই। তবে মনে রেখো নিরুর মা, একটা পুরুষের হাজারটা মাশুকা থাকলেও, তার স্ত্রী হয় কেবলমাত্র একজনই! আর অধীরের স্ত্রী হবে কেবলমাত্র আমার মেয়ে — নিরুপমা। বাদবাকি তার হাজারটা মাশুকা থাকুক, হু কেয়ারস?”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here