Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৭

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৭

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৭
নীতি জাহি

স্লো প/য়ে/জ/নিং চলছিলো ওর বডিতে।
সু/ই/সা/ই/ড এটেম্পট করেনি। গত এক সপ্তাহ ধরে কেউ কাজটা করছে। ডাক্তার এসে জানিয়ে গেলো। পরিবারের সবার মাথায় হাত। ইমরান শক্ত হয়ে বসে আছে। মামুন সাহেবের মাথায় হাত। মিনহাজ এক পাশে চেতনাহীন এর মত বসে আছে। হাসপাতালে বেশি কেউ নেই। এখন মিনহাজ, ইমরান,মনসুর,নয়ন,সালমা এবং মামুন সাহেব আছেন। বাকিদের পাঠিয়ে দিয়েছে। ডাক্তার বেরিয়ে এসে বললো,
‘ খাবারের সাথে হয়তো কিছু মেশানো হচ্ছে যা টের পায়নি। তবে আমরা এখন ডিরেক্ট প/য়ে/জ/ন পেয়েছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে পেশেন্ট আজ কি খেয়েছে?’
সালমা এগিয়ে এসে বললো,

‘ ক্যাম্পাস থেকে এসে রুমের দরজা আটকে দিলো। এত করে খেতে বললাম খেলো না। ঘুম থেকে উঠে শুধু এক গ্লাস পানি খেল। ‘
‘পানি কি আপনি দিয়েছেন?’
‘ না টেবিলে ছিলো।’
‘ ওই গ্লাসটা লাগবে’
ইমরান তখনই বলে উঠলো,
‘ দরকার নেই ডক্টর, বাসায় যেতে যেতে ওই প্রুফ মিটে যাবে।কাজটা কার আমি জানি। আপনি বলেন আমার মোনালিসা সুস্থ আছে এখন?’
‘এখন আউট অফ ডেঞ্জার। তবে নিয়ম করে মেডিসিন খেতে হবে। শরীর অনেক উইক। ‘
ডাক্তার চলে যেতেই ইমরান মিনহাজের দিকে তাকায়। মিনহাজ সব কষ্ট ছাপিয়ে কেঁদে দেয়। জড়িয়ে ধরে ইমরানকে।
‘সরো ভাল্লাগছে না তোমাকে, মেয়ের দায়িত্ব নিতে পারো না।আসছে বাবা হতে।’
কিছু একটা ভেবে পুনরায় ইমরান বললো,

আমি তোমার অনুমতি কখনোই নিতাম না, দায়িত্বজ্ঞানহীন বাবা। যেহেতু তুমি মেয়ের বাবা তাই জিজ্ঞেস করাটা উচিত মনে করছি,এখান থেকে বউ করে ঘরে তুলব।আপত্তি আছে?’
মিনহাজ চোখ বড় বড় তাকালো। বিস্ময় নিয়ে চাইলো।এত খুশির খবর তো ওর প্রাপ্য ছিলো না। যে ইমরান মুখের উপর না করেছে সেই আজ মেয়েকে ঘরে তুলতে চাচ্ছে। মাথা নাড়লো। সম্মতি দিলো। ইমরান মিনহাজকে বসিয়ে মামুন সাহেবের দিকে এগিয়ে গেলো,
‘ মেয়ের ট্রিটমেন্ট করান আংকেল। ও তো একটা
খু/নী। যাকে নিজের মেয়ের মত মানুষ করেছে তাকেই হত্যা করতে চাইছে। মানসিক রোগী একটা।’
মামুন সাহেব মাথা নত করে আছে।

পাঁচ ঘন্টা পর মোনার জ্ঞান ফিরলো। শরীর অনেক দূর্বল। কথা বলছে না। মাথা ঝিমঝিম করছে। ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে মিনহাজ মেয়ের কাছে কিছুক্ষন বসলো। মনসুর রুমে একজন হুজুর নিয়ে ডুকল। রাত তখন সাড়ে এগারোটা। সাথে ডাক্তার,সালমা,নয়ন এবং মামুন সাহেব। সালমা কথা বলছেনা, মোনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কাজী বিয়ে পড়ানো শুরু করলো। মোনা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সবার দিকে। পাত্রের নামের জায়গায় শুনলো, ইমরান শরীফ খান। দু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে কথা বলছে না। এক হাত সালমা ধরেছে। অন্য হাত মিনহাজ। কবুল বলতে বললো মোনাকে। মোনা কিছুক্ষন নিরব থেকে বাবার দিকে তাকালো।মিনহাজ মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো। আস্তে করে হালকা ঠোঁট নাড়িয়ে কবুল বলল। বাকি দু বারই একই ভাবে বললো। সাইন করার সময় মিনহাজ আর সালমা সাহায্য করলো। একটু হেলান দেয়াতে শরীর ছেড়ে দিয়েছে। ইমরান বাইরে বসে আছে নয়নের সাথে। কেবিন থেকে বের হয়ে গেলো সবাই। এরপর কাজী ইমরানের কাছে এসে বিয়ে পড়ানো শুরু করলো। ইমরান স্বাভাবিক ভাবে কবুল বলে সাইন করলো। আলহামদুলিল্লাহ বলে কাজী ওদের স্বামী স্ত্রী ঘোষণা করলো। অন্য সময় হলে অনেক উত্তেজনা,উল্লাশ বা আনন্দ থাকতো৷ কিন্তু আজ পরিস্থিতি ভিন্ন।
মিনহাজের দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ মিনহাজ ভাই,ওকে আমি এখান থেকে আমার বাসায় নিয়ে যাব। আপত্তি আছে তোমার?’
নয়ন মজা নিয়ে বললো,
‘ তোর শ্বশুর হয় বেটা, ভাই ডাকিস কেন ছিঃ ছিঃ ছিঃ।’
ইমরান ভীষণ লজ্জা পেলো। থতমত খেয়ে গেছে নিজের কাজে। ওর নিজেরই মাথায় ছিলোনা এই কথা। মাথা নত করে লজ্জিত হাসি দিলো। হাসিটা প্রাপ্তির ছিলো। মিনহাজ নিজেও লজ্জা পেয়ে অন্য দিকে মুখ করে হাসি দিলো।
‘ হায় দুলা মিয়া লজ্জা পায়।’ নয়ন আবার বলে উঠলো।
মামুন সাহেব ধমক দিলেন।
‘ সম্পর্ক আপাতত মোনার সাথেই বদলাক,আমাদের টা আগের মত থাকুক।’
নয়ন প্রতিবাদ করে বললো,
‘ কি বলেন আংকেল? কেউ দাদা ডাকবে আর কেউ আংকেল ডাকবে। সালমা ভাবী আপনি তো ইমরানের চাচী শ্বাশুড়ি। জামাই এর মুখ দেখে কিছু তোহফা দেন।’
সালমা,মনসুর মুখ টিপে হাসছে।
ইমরান সামনে থেকে উঠে চলে গেলো বাকি ফর্মালিটিস পূরন করতে। বিড়বিড় করে নয়নকে বললো,

‘তোকে আমি দেখে নিব’।
নয়ন পেছন দিকে ডেকে ডেকে বলছে,
‘ বন্ধু আমার লজ্জা পেয়েছে। তোরে তো এই জন্মেও লজ্জা পাইতে দেখলাম না।’
মিনহাজ এবার নয়নের পিঠে চাপড় মেরে বললো,
‘এবার থাম। ওরে স্বাভাবিক হতে দেয়। এরম লজ্জা দিলে তো সামনেই আসবে না আর। আসলেই ব্যপারটা কেমন হয়ে গেলো। আমি ওকে কি জামাই ডাকবো এবার???’
‘আর আমি মোনাকে ভাবী?’
সবাই কি সুন্দর প্রাণখোলা হাসি দিলো। মিনহাজের চোখে পানি। এখন সে ম*রেও শান্তি।মেয়েকে রেখে যাওয়ার মানুষ পেয়েছে।

রাত পেরোলেই পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠে। আজকের সূর্যটা অন্যরকম কেনো। আজকে থেকে কারো জীবনে নতুন মানুষের প্রবেশ।পৃথিবীটা আরো রঙিন লাগছে। মোনাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিতে দিতে দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে আসে। কয়েকটা স্যালাইন দিতে হয়, মেয়েটার শরীর একেবারে নেতিয়ে গিয়েছে।

ইশান সেই তখন থেকে লাফাচ্ছে।
‘ মা আসছে।কি মজা’
সাথে ইশতিয়াক আর সোহান ও যোগ দিলো। এত বড় বড় তিনটা পুরুষ নাচছে দেখে বাড়ির সব স্টাফরা ছুটে এসেছে কি হলো জানতে। জানতে পারলো বড়ো স্যার বিয়ে করেছে। শুনেছিলো স্যারের আগের বউ টা খুব খারাপ ছিলো। এখনের বউটা ভালো হইলে হয়। একটু পর পুরো বাড়ির সবাই গান ছেড়ে লাফাচ্ছে। বাড়ির মেইড,কেয়ারটেকার কেউ বাদ নেই। আইরিন খুশিতে কাঁদছে। তার ভাইয়ের জীবনে এবার সুখ ফিরে আসুক এই দোয়া।মেয়েটার উপর ও কি কম ধকল গেলো? ঘরের মানুষই মা*রা*র চেষ্টা করলো। মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৬

ফুফু হয়ে ভাস্তির ক্ষ*তি*র কথা ভাবে কি করে। ইশান তো আইরিনের কলিজার টুকরা। নিজের জানটাও দিয়ে দিবে প্রয়োজন হলে ভাইপোর জন্য। মানুষ আসলে স্বার্থপর। ভেবেছিলো মেয়েটা ভালো। আল্লাহ যা করে ভালোর জন্য করে।ভাগ্যিস মায়াকে ইমরান বিয়ে করেনি। ও মানুষ চিনেছে ভালো। এসব ভাবতে ভাবতে বিরিয়ানি রান্না করতে যায় রান্নাঘরে। কয়েক পদের মিষ্টি বানাবে। ইমরান বোনের হাতের মিষ্টি খুব পছন্দ করে,এবার মোনাকে খাওয়াবে। আল্লাহর কাছে একমাত্র চাওয়া ভাইটাকে যেন সুখী দেখে ম*র*তে পারে।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৮