তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৪
নীতি জাহি
সেদিন আর মোনা এবং ইশান ‘ঔশান প্যালেস যায়নি’। দিন পেরিয়ে আজ পনেরো দিন। আজ মোনা ভার্সিটি যাওয়ার সময় ছেলেকে নামিয়ে দিয়ে যাবে বলে বের হয়েছে। ছেলের ক্লাসের মেয়ে গুলোকে একবার দেখে যেতে মন চাইছে। গত কয়েকদিন ছেলে যেন কার সাথে ফুসুরফুসুর করছে। বারান্দা থেকে দেখেছে। মোনা আড়ালে ছিলো। মোনা খুশি ছেলে একটু একটু করে বড় হোক। ওর বয়সের ছেলেরা অনেক চঞ্চল হয়। অথচ সেই দিক থেকে ইশান অনেক শান্ত,ঠান্ডা মাথার একটি ছেলে। গাড়ি থেকে নেমে ওর ক্লাসের দিকে যেতে মোনা একটু ধাক্কা খেলো কারো সাথে। ইশান মাকে একপাশে নিয়ে আসলো। ওরা একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আবার সামনে আঘাতে চাইলো।
এবার মোনার মনে হলো কেউ ওর পিঠ আর পেটে হাত দিতে চেয়েছে। ঠিক তখনই ইশান ভিড়ের মধ্যে কারো হাত ধরে টেনে ডিরেক্ট ক্যাম্পাসের বাইরে রাস্তায় নিয়ে চলে এসেছে। ইশানের পেছনে মোনা আর রবিন ও ছুটছে। আরো কিছু স্টুডেন্ট পেছনে। ইশান গেটের বাইরে কষে দুইটা থাপ্পড় দিয়ে হাত মচকে দিলো। গলাটা এমন ভাবে টিপে ধরলো মনে হলো ছেলেটার প্রাণ উড়ে যাবে। প্যান্টের পেছন দিক থেকে ইমরানের লাইসেন্স করা রিভলবার টা বের করে ডিরেক্ট ছেলেটার গলায় ধরলো। ইশানের এই তীক্ষ্ণ রূপ আজ পুরো ক্যাম্পাসের সবাই দেখলো। ভেতরে সিনক্রিয়েট না করলেও বাইরে স্টুডেন্ট রা জমা হয়েছে। শিক্ষকরাও বেরিয়ে এসেছে। সবাই মোনাকে রিকুয়েষ্ট করছে ইশানকে থামাতে। মোনা বিস্ময়ে বুদ্ধিহীন হয়ে পড়েছিলো, সবার চিৎকারে সম্বিত ফিরে এলো। মোনা চিৎকার দিয়ে বললো,
‘ ইশান, বাবা এটা দিয়ে দাও মাকে। কেনো নিয়ে এসেছো এটা। বাবাটা ভালো না। কেনো মা/র/ছো এই ছেলেকে। সবাই তোমাকে খারাপ বলছে তো বাবা। মাকে দোষ দিবে সবাই। রিভলবার দিয়ে দাও বাবা।’
ইশান ভয়ংকর ভাবে গর্জন করে ভারী কন্ঠে গর্জে উঠলো,
‘ এই কু*****চ্চার সাহস কি করে হয় আমার মায়ের গায়ে স্পর্শ করার। একবার নয় দুই দুই বার ও তোমাকে টাচ করেছে মা। ওর ওই হাত আমি ভেঙ্গে দিয়েছি। এখন ওর ওই চোখ তুলে ফেলবো। কোন সাহসে ও আমার মায়ের দিকে চোখ দেয়। কি জবাব দেবো আমি পাপাকে। মাকে আমি সুরক্ষা দিতে পারিনি?’
এতক্ষনে পুরো ক্যাম্পাসের সবাই বুঝে গিয়েছে ইশান চটে যাওয়ার কারণ। মোনা সামনে এগিয়ে গিয়ে জোর করে রিভলবারটা নিয়ে রবিনকে দিলো। ইশান খুব ভালো শ্যুটার হয়ে গিয়েছে এই কয়েকদিনে,বয়সের কারনে লাইসেন্স পাচ্ছে না। উনিশ বিশ হলেই গুলি ওই ছেলের গলা বিঁধ করতো ইশান তখনো চেচাচ্ছে।
‘ আমার মা শুধু আমার পাপার সম্পদ। আমার পাপা ছাড়া কেউ টাচ করবে না। আর কেউ করলে হাত কে*টে টুকরো টুকরো করবো না হয় আমি ও ইশান ইমরান খান না? চলো মা।’
যাওয়ার সময় ও ছেলেটাকে জোরে একটা লা*থি দিয়ে গেলো। শান্তশিষ্ট ছেলেটার এমন বজ্র রূপ আগে কখনো কেউ দেখেনি। মোনা নিজেও ভয় পেয়েছে। এখনো বুক ধুকপুক করছে। ইমরানের ছায়া পুরো। ইমরানকে যেভাবে হারিয়েছে মোনা ইশানকে হারাতে চায় না। গাড়িতে জোর করে বসিয়ে নিজেও বসে পড়ে মোনা। ইশানকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বুঝায়,
‘ আব্বুরে, আমি তোরে হারাতে চাইনা। তোর পাপা আমাকে রেখে চলে গিয়েছে এখন তুই ও যদি এসব করিস কিভাবে থাকব। একটু বুঝো বাবা, মায়ের এখন সব থাকতেও কিচ্ছু নেই। যতই ঔদ্ধত্য দেখাই একটা মেয়ে স্বামী ছাড়া অসহায়। আমি তো তোমার জন্য সাহস পাই। তুমি ও যদি এসব করো হবে বলো।’
‘ মা আমি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি বিশ্বাস করো। আর পারিনি। মন চাচ্ছে তোমাকে কোথাও যেতে না দিই। যত্নে তুলে রাখি।পাপা যেভাবে রেখে গিয়েছে সেভাবে পাপার হাতে তুলে দিই। তুমি রত্ন আমার আর পাপার।’
‘ ইশান তোমার পাপার পর আমার কাছে তুমি আমার সব। এতদিন কাউকে বলিনি। আজ তোমাকে বলব। মায়ের জন্য হলেও নিজেকে সংযত রাখো বাবা। আই এম এক্সপেক্টিং, টুয়েলভ উইক্স।’
ইশান বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। গাড়ির মধ্যে নিরবতা। মা ছেলে দুজনই চুপচাপ চোখের জল বিসর্জন দিচ্ছে। বাড়ি এসে গাড়ি থেকে নামার জন্য পা বাড়ায় মোনা। তখনই ইশান কোলে তুলে মোনাকে বাড়ির দরজায় এনে সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করে। মোনা বারন করার সত্ত্বে ও শুনেনি। আইরিন,তুশি দৌড়ে এসে দেখে মোনাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একবার মনে হয়েছিলো ইমরান এসেছে। এই কাজটা ইমরান করে। হঠাৎ মোনার লজ্জা লাগলো। কি করছে ছেলে।
‘ ফুফি মাকে মিষ্টি দিয়ে বরন করো। পাপার পরিবর্তে কাজটা আমি করছি।’
‘কেনো কি হয়েছে? ‘
‘ চাচী ফাস্ট।’
তুশি দৌড়ে মিষ্টি নিয়ে মোনার মুখে একটু দিলো। ইশান মোনাকে নিয়ে সোফায় বসিয়ে দিলো। মোনার পায়ের কাছে বসে কোলে মাথা দিলো। বাড়ির অন্যরা ও চলে আসলো। সোহান আর ইশতিয়াক ও বাসায় এসেছে। রবিন ফোনে জানিয়েছে ঝামেলার কথা। কিন্তু বাড়িতে এসে দেখে অন্যরূপ। ইশানের দুচোখে পানি। মোনার চোখেও পানি। ইশান মোনার কোলে মাথা রেখেই বলছে,
‘ আমি মায়ের পা মাটিতে ফেলতে দিবনা যতক্ষন আমার সাধ্যের মধ্যে আছে। মা তুমি পাপার অনেক শখের। ফুফি জানো আজকের মত আনন্দের খবর আমি কখনো পাইনি। আজ মায়ের পাশে পাপাকে বড্ড প্রয়োজন।
‘আমাদের খুলে বল বাবা,কি হয়েছে?’
‘ আমার একটা ছোট্ট ভাই বা বোন আসবে ফুফি। ছোট হাত দিয়ে খেলবে আমার সাথে। আমার কাঁধে উঠবে, কোলে উঠবে। ও আর আমি পুরো বাড়ি ঘুরে ঘুরে উড়ে উড়ে নাচবো। কেমন মজা হবে বলো তো।’
আইরিন ধপ করে সোফায় বসে পড়লো। ইশতিয়াক বোনকে জড়িয়ে ধরলো। আজ যদি ইমরান থাকতো হয়তো এই খুশিতে পুরো বাড়ি মাথায় তুলতো। ইমরানের মোনালিসা আজ মা হতে চলেছে। ইমরানের অংশ নিজের গর্ভে। মোনার আজ নিজেকে সার্থক মনে হচ্ছে। এতদিন নিজের মধ্যে কথাটা চেপে রেখেছিলো। এই বাড়ির মানুষ গুলো আজ অনেক খুশি।
সকাল সকাল রিক্তা রেডি হচ্ছে আর্কিটেকচার ফার্মে যেতে হবে তাই। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে। এখানেই জব টা নিয়ে নিলো। পি.এইচ.ডি টা অবশেষে শেষ হলো। এতবছর স্বামী সন্তান থেকে দূরে ছিলো। আজ ইমরানের বাড়িতে যেতে হবে সন্ধ্যায়। ইশান ফোন দিয়ে বলছিলো মায়ের শরীর খারাপ। মাঝে মাঝে কষ্ট টা ভেতর থেকে আসে। এত সংগ্রাম করে পেয়ে ও ভালোবাসার মানুষটাকে মেয়েটা হারিয়ে ফেলেছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই হতে পারেনা। নাহিয়াকে স্কুলে নামিয়ে দিবে। এই মেয়ে এত সময় নেয় রেডি হতে। নয়নের আশকারাতে মাথায় চেপে বসেছে।
‘মাম্মা আমি রেডি।’
‘ এতক্ষন লাগে রেডি হতে?’
‘স্যরি মাম্মা,আর হবে না।’
‘বিকেলে রেডি থেকো, মোনা আন্টিকে দেখতে যাবো। ওর শরীর টা ভালো না।’
‘ কিন্তু মাম্মা আমার তো কোচিং আছে।’
‘ কোচিং এ থেকো।যাওয়ার সময় আমি নিয়ে যাবো। কোচিং গ্যাপ দেয়া যাবেনা। এস.এস.সি পরীক্ষার আর পাঁচ মাস ও নেই।’
‘ ঠিক আছে তো,আবার লেকচার শুরু করে দিলা মাম্মা।’
মা মেয়ে বেরিয়ে পড়ে যার যার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
গত দু ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারছেনা। ইদানিং বাতাসের গতিপথ বদলে গিয়েছে। সব ঝড়ো হাওয়া কি মোনার ব্যালকনিতে আসে! ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখে রাত দুটো। দোলনায় বসে এই মিষ্টি বাতাস গায়ে লাগতেই মনে পড়ে গেলো এপার্টমেন্ট এর ওয়াল টপকে ইমরানের সাথে দেখা করার দিনের কথা। সেদিন রেস্টুরেন্টের পার্কিং লটে সাইকেল দেখে মোনা বায়না ধরেছিলো সাইকেলে চড়বে কিন্তু চালাতে পারেনা। সেদিন ওকে সামনে বসিয়ে ইমরান সাইকেল চালিয়ে ওর মনের আশা পূরন করেছিলো। ভাবতেই ভাবতেই মোনা ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ মনে হলো ওর আশেপাশে কেউ আছে , কেমন যেন অশরীরী কিছুর টের পেলো। জ্বীনের ভয় মনের মধ্যে তাড়া দিলো। দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে গ্লাসের দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে খাটে শুয়ে পড়লো। ইমরানের একটা ছবি বের করে সব নালিশ ছবিকে জানালো। অশ্রু বিসর্জন দিতে দিতে এভাবেই ঘুমিয়ে পড়লো। এক জোড়া চোখের তীক্ষ্ণ নজর ওর উপর থাকে সেটা কেউ জানতেই পারলোনা। ইমরান চাইতো ওর উপর কারো নজর যেন না পড়ে। এখন ইশান সেই দায়িত্ব পালন করলেও দৃষ্টিসীমার বাইরে কি হচ্ছে ছেলেটা জানেই না।
আজ থেকে মোনা অফিসে বসেছে। সোহান,নয়ন আর মিনহাজ মোনার খেয়াল রাখছে। ইশানকে নামিয়ে মোনা অফিসে পৌঁছালো। মোনা সবসময় শাড়ি পরে। মেয়েটাকে শাড়িতে বড় বড়ই লাগে। শাড়ি এবং হিজাব দুই মিলে যেন অপরুপা,ইমরানের অনিন্দ্য সুন্দরী। গ্লোরিয়া জিন্সে মিটিং আছে। বিকেলে সবাইকে নিয়ে মোনা রওয়ানা হয় সেদিকে। মিটিং এ এম পি রাশেদ হালদার ও আছে। সাথে আরো কয়েকজন বিজনেস ম্যান। মোনাকে দেখে কয়েকজন ভীষণভাবে অবাক হয়। ইমরানের চেয়ারে বসে মোনা। প্রথমদিকের সময়টা চুপচাপ ছিলো। সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছে। অকস্মাৎ চোখ গেলো টেবিলের কর্ণারে বসে থাকা কাঁকনের দিকে। মাথা নিচু করে বসে আছে। কাঁকনের বর্তমান স্বামী বলে উঠলো,
‘ ইমরান শরীফ কি এখন দুধের বাচ্চা দিয়ে অফিস চালাবে। আমার তার জন্য আফসোস হচ্ছে।’
‘ জনাব জারিফ ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন ইমরান শরীফের দুধের বাচ্চা ও আর পাঁচজন ইন্ড্রাস্টিয়ালিস্টের চেয়ে ইন্টিলিজেন্ট। দুধের বাচ্চা বলতে কাকে বুঝালেন আমার ছেলেকে নাকি ছেলের মাকে।’
মোনার ধারযুক্ত কথা শুনে উপস্থিত সবার চক্ষুজোড়া স্থির।এত আত্মবিশ্বাস এই মেয়ের। জারিফ পালটা বললো,
‘ আপনার ছেলে কোনটা, এটা আমার বর্তমান স্ত্রী এবং তার সাবেক স্বামীর ছেলে।’
ইশান জারিফের দিকে সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
‘ কার গর্ভে জন্ম নিয়েছি সেটা বিষয় নয়, কে আমার মা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মাকে অপমান করলে আমিও তার মান অপমান দেখবোনা। আপনার বর্তমান স্ত্রীর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আপনি কি বিজনেস ম্যানার জানেন না। তর্ক করতে হলে আমাদের বাড়িতে আসবেন। আপনাকে কয়েক ঘন্টা ক্লান্তি বিহীন লেকচার আমার বাড়ির মালিই আপনাকে শুনিয়ে দিবে। কাজে মনোযোগ দিন’
এমপি রামিজ হালদার ছেলের অপমানে জ্বলে উঠেছে।হঠাৎ চেচিয়ে বললো,
‘ এই ছেলে ও হয়েছে মায়ের মত বেয়াদপ। আমি এই ডিল করবো না।’
মোনা উঠে মেহবুব রেহমানকে ডেকে বলে,
‘ আমি তো ইনভেস্টর হবোনা মি. মেহবুব। আপনারা আরো ভালো ইনভেস্টর খুঁজে আনুন।’
একটু থেমে এমপিকে বললো,
‘ আপনি ডিল না করে নিজের লস করেছেন। আমার তাতে কিচ্ছু এসে যায় না। আমি আগে বুঝিনি ডিলটা আপনার মত অভদ্র এমপির সাথে। জানলে আসতামই না। ধন্যবাদ আপনাকে। আমাকে বিজনেস শেখাতে আসবেন না। আমার রক্তে বিজনেস। বিজনেসম্যান এর মেয়ে আমি, স্ত্রী ও আমি এখন মা ও আমি। সাবধান কথা বলার আগে জিভ টা নেড়ে নিবেন প্লিজ। বলা তো যায় না কে কখন আপনার জিভের স্থান পরিবর্তন করে দেয়।’
মোনা সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যায়। কাঁকন ছেলের চলে যাওয়া দেখেছে। কত বড় হয়েছে এই ছেলে। সৃষ্টিকর্তা কেনো সেদিন কোনো দূর্ঘটনা ঘটালেন না, যদি সে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে পারতো, জারিফের মত অমানুষের কাছে না এসে। চেয়ার ছেড়ে উঠে মোনার পেছন পেছন আসলো। লিফটে উঠার জন্য মোনা পা বাড়াতের কাকনের ডাকে পেছনে তাকালো,
‘ মোনা দাঁড়াও।’
‘ জ্বি বলেন?’
‘ মোনা আমি যা করেছি পারলে মাফ করে দিও। আমার ছেলেটাকে দেখে রেখো। ইমরানের জন্য মাঝে মাঝে মন কাঁদে।এখন বুঝতে পেরেছি আমি কখনোই ওর যোগ্য ছিলাম না। তুমিই ইশানের মা,ইমরানের যোগ্য সহধর্মিণী। ‘
কিছুক্ষন থেমে ইশানের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘একবার মা বলে ডাকবি বাবা?’
ইশান নিশ্চুপ।মোনার দিকে তাকালো।মোনা ইশারা দিতেই ইশান ভদ্রভাবে বললো,
‘ মা তো একজনই হয়। মা তো ডাকতে পারবোনা। তবে আমার মা-বাবার শেখানোর ভদ্রতা অনুযায়ী আন্টি ডাকতে পারি আপনাকে। আমার মা তো আপনার সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন।’
‘ ইশান মাকে শ্রদ্ধা করা উচিত তোমার।’
মোনার কথায় ইশান প্রতিউত্তরে বললো,
‘স্যরি মা, মা ডাকতে পারবোনা, শ্রদ্ধা তো করেছি। চলো।লিফট আবার চলে এসেছে। অনেকক্ষন হলো।তোমার শরীর খারাপ করবে।’
মোনার আজ কাঁকনের প্রতি কোনো রাগ নেই।
কাকন মোনাকে বলল,
‘ধন্যবাদ ইমরানের মোনালিসা সিমিকে রিজেক্ট করার জন্য। আমার ভাসুরের মেয়ে ও। বড্ড ফাজিল আর বেপরোয়া মেয়ে। ইশানের যোগ্য নয়।’
কাঁকনকে জড়িয়ে ধরে বললো,
‘ চিন্তা করবেন না ইশান ভালো আছে,আমার প্রান থাকতে ওকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমার ইনশাআল্লাহ। ভালো থাকবেন।’
তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৩
লিফট এ উঠে গেলো সবাই। নয়ন,সোহান আর মিনহাজ তাকিয়ে দেখছিলো আজকের পুরো ঘটনা। এই মোনা আর আগের ষোড়শী মোনার মধ্যে অনেক পার্থক্য। প্রার্থনা শুধু ইমরান ফিরে আসুক। কোথায় হারিয়ে গেলো মানুষটা। আজো চিন্তায় ঘুম আসেনা। মেয়েটা এখন মা হবে। বাবা ছাড়া সন্তান মানুষ করা অনেক কঠিন। তাও সামলে নিবে কিন্তু নিজেকে কি করে সামলাবে। ছিলো তো ইমরানের আদরে,স্নেহে,যত্নে এবং ভালোবাসার আলিঙ্গনে। ভালো থাকার চেষ্টা প্রতিনিয়ত। মেয়ের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাবে শেষ অবধি।
