Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৬

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৬

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৬
নীতি জাহি

এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। মানুষটা সত্যি পারদর্শী। সবাইকে আগলে রাখার ক্ষমতা দিয়েই পাঠিয়েছেন উনাকে সৃষ্টিকর্তা। মোনা স্নিগ্ধ নেত্রে চেয়ে আছে সামনে, নিজের দুদিন বয়সী কন্যাকে কোলে নিয়ে পায়চারি করে ঘুম পাড়ানো পুরুষের পানে। কিছুক্ষন হলো মোনার ঘুম ভেঙ্গেছে। মেয়েকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ঘুম পাড়াচ্ছে ইমরান। হাসপাতালে আজ দুদিন। সব খবর না জানলেও ইশান আসলে টুকটাক খবর দেয় বাড়ির। ইমরান গত দু রাতই হাসপাতালে কাটিয়েছে পাশের বেড টাতে। বউ মেয়েকে চোখে হারায়।

‘ উঠে গিয়েছো বউসোনা?’
অকস্মাৎ ডাকে সম্বিত ফিরে মোনার। আগে মোনালিসা এখন বউসোনা। কত আদর মাখানো সম্বোধন। মোনা মুচকি হেসে মাথা দুলালো।
‘ আম্মাটা কাঁদছিলো। তুমি তো ঘুমাচ্ছিলে তাই কোলে নিলাম। আই থিংক ওর ক্ষুধা পেয়েছে। নিডস টু ফিড।’
মোনা হঠাৎ করেই নড়ে উঠলো। মনে হয় যেন লজ্জাই ফেলো। ইমরান মোনার দিকে তাকিয়ে রইলো অপলক। হঠাৎ করে বউটা এমন অস্বস্তিতে পড়ে গেলো কেনো। চোখ তুলছেনা কেনো? সহসা মনে পড়ে গেলো তার নিজের কথা। হালাল সম্পর্কের সময় এক বছরের বেশি হলেও প্রতিটি অনুভূতি এখনো নতুন। ইমরান লজ্জা পেয়ে ভাবছে নার্সকে ডাকা উচিত। মেয়েকে দিয়ে বের হয়ে যাবে যাতে মোনা অস্বস্তি অনুভব না করে। ঠিক তখনই নার্স ডুকলো। ইমরান স্বস্তির শ্বাস ছেড়ে বললো,
‘ সিস্টার বেবিকে খাইয়ে দিন।’
নার্স কোলে নিতেই ইমরান বের হতে উদ্ধত হলে ডক্টর রত্না ঢুকে রুমে।
‘ কিরে কই যাস ইমরান?’
‘ একটু বাইরে যাচ্ছি, মেয়েকে ফিড করাবে তো?’
‘ ফিড এর সাথে তোর কি সম্পর্ক, তুই বস কথা আছে আমার। মোনার শরীর টা চেক আপ করব। ও ফিড করার সমস্যা নেই।’

নার্স অনেকটা মোনার কাছে চলে এসেছে৷ মেয়েকে পাশে শোয়ালো।মোনার এখনো মাথানত। মোনার ড্রেসে হাত দিতেই ইমরানের চোখ গেলো মোনার মুখের দিকে। ইমরান রত্নাকে পাঁচ মিনিট পর আসতেছি বলে বেরিয়ে গেল।
আধঘন্টা পর ইমরান আসলো। এসে দেখে মোনা নার্স এর সাথে গল্প করছে। রুমে দুজন নার্স। ইমরান রুমে ডুকেছে খেয়ালই ছিলোনা ওদের। দরজা খোলা ছিল। একজন নার্স বলে উঠলো,
‘ আপনাদের বয়সের পার্থক্য তো অনেক বেশি৷ কিন্তু স্যারকে দেখলে বুঝা যায় না।’
আরেকজন বলে উঠলো,
‘ আমি নিজেই স্যার এর পারসোনালিটির প্রেমে পড়ে গিয়েছি। যদিও চুল পেকেছে উনার।’
মোনা হা করে তাকিয়ে আছে। পেছনে ইমরান দাঁড়িয়ে। একজন নার্স পেছন ফিরতেই ইমরানকে দেখে লাফিয়ে উঠেছে।

‘ স্য..রি স্যাররররর… আর হবে না।’
‘ সেবার নামে দেখি প্রেমের গল্প জুড়ে দিয়েছেন?’
তড়িঘড়ি করে নার্স দুজন বেরিয়ে পড়লো। মোনার দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ কি শুনছিলে এসব বাজে কথা?’
‘ বর বুড়ো বিয়ে করলাম যেন কেউ নজর না দেয়, দুই বাচ্চার বাপ হওয়ার পর ও তার জন্য প্রেমের প্রস্তাব আসে। আজব দুনিয়া।’
‘ স্বীকার করলে তাহলে আমি বুড়ো। ‘
‘ অবশ্যই। কিন্তু কি লাভ বিয়ের প্রস্তাব আসে তাও আবার উনার শ্বশুরের কাছে।’
ইমরান ভ্রু কুচকে মোনার বেড এর পাশে টুল টেনে বসে।
‘ বুঝলাম না’
মোনা আস্তে আস্তে ধীর গলায় বলে,
‘ পরশু আমার এক খালা আসলোনা আমাকে দেখতে। উনি আম্মুর মামাতো বোন। আপনাকে তো চিনে নাই। বাইরে দেখেছে ইশানের সাথে। কিভাবে যেন শুনেছে আপনার প্রথম বউ নেই, ছেলে আর আপনি। তার বোনের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে বাবাকে।’
ইমরান মুখভঙ্গি বাজে করে বললো,

‘ বেক্কল বেডি।’
মোনা তব্দা খেয়ে গিয়েছে। এই প্রথম ইমরান এই ভাষায় শব্দ উচ্চারন করলো।আশ্চর্য ইমরানের মুখে এই শব্দ চমৎকার শোনাচ্ছে। আবার ইমরান বললো,
‘ আমার শ্বশুরমশাই কিছু বলেন নাই?’
‘ বলেছে.. সম্ভব না এটা তার মেয়ের জামাই।’
ইমরান মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
‘ এতদিন অপেক্ষা করে কিভাবে ছিলে মোনালিসা। তোমার কি একবারের জন্য ও মনে হয়নি যে আমি ম*রে গিয়েছি?’
মোনা চোখ বন্ধ করে খুব জোরে একটা শ্বাস টানলো। চোখ খুলে ইমরানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ জানেন ইমরান সাহেব আমার বুকের মাঝখানটায় জ্বলতো খুব। কতবার যে জিনিস ভেঙ্গেছি,ম*রতে চেয়েছি৷ ইশান বার বার সামলে নিয়েছে। প্রথমে ওর জন্য কিছু করতে পারিনি। পরে, ঔশান পেটে আসায় এসব বন্ধ করে দিই। আপনার ছবি,শার্ট, টিশার্ট জড়িয়ে ধরে ঘুমাতাম।’
ইমরান নির্নিমেষ তাকিয়ে আছে। মেয়েটা আগের চেয়ে নাদুস-নুদুস হয়েছে। কেমন গলুমলু ভাব। মোনা কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে,
‘ একটা নির্লজ্জের মতো আবদার করি?’
‘ কি?’

‘ বাসায় যেয়ে আমাকে আবার আগের মত কোলে নিয়ে আদর করে খাইয়ে দিবেন? মাথায় হাত বুলিয়ে দিবেন। আর একবছরের সব আদর পুষিয়ে দিবেন?’
‘ বিশ্বাস করো মোনালিসা, তুমি অসুস্থ নাহলে এই হাসপাতালের কেবিনকে ৩য় বার বাসর ঘর বানাতাম।’
‘ ২য় বারেই ঔশান চলে আসছে, ৩য় বারে তো তো মাউন্টেইন, রিভার, ওয়াটার ফল,রেইন সব নিয়ে আসবি।ব্যাটা একটা ফুটবল টিম বানানোর প্ল্যান করছিস নাকি।’
মোনা ইমরান হকচকিয়ে গেলো। কথার মাঝে কে কথা বললো। এত বড় স্পর্দ্ধা? নয়ন,কায়েস আর ফয়সাল পেছনে দাঁড়ানো। কায়েসের মুখের কথায় মোনা মাটির সাথে মিশে গেলো। কায়েস এগিয়ে এসে,
ঔশানকে হালকা করে ছুঁয়ে দিলো।
‘ নয়ন তোর বন্ধুকে মুখে লাগাম দিতে বল। সামনে আমার বউ আছে। অসভ্যের মত অনুমতি না নিয়ে ঢুকছিস কেনো তোরা। ‘

নয়ন, ফয়সাল মুখ টিপে হাসছে।
‘ তোর মুখ নেই,নয়ন কেন বলবে? সরাসরি কথা বল।’
বুঝতে পারছে এদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে। ইমরান কায়েস সবসময়ই কিছুনা কিছু নিয়ে লেগে যায়। ইমরান দাত মুখ খিঁচে কায়েস এর দিকে তাকাতেই কায়েস ওকে সাইড করে দিয়ে ঔশানকে কোলে নিয়ে বলে,
‘ ভাবী একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। আম্মাজানকে ছেলের বউ বানাবো। আপনার ইচ্ছা না থাকলেও।’
মোনা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। তার দুইদিনের মেয়ের জন্য আজ বিয়ের প্রস্তাব ও আসে। ইমরান রেগে বলে,
‘আমি তোকে আমার রাজকন্যা দিব না। ‘
‘ বন্ধু তুই দিলেও রাজকন্যা আমার ছেলের রানী,না দিলেও।’
‘ আমার মেয়েটা ছোট ভাইয়া।’
এতটুকু বলেই মোনা চোখের পানি ফেলছে নিরবে। ইমরান অতি দ্রুত গিয়ে মোনাকে আগলে ধরে। সে তো জানে মেয়েটা ঘাবড়ে গিয়েছে।
কায়েস এগিয়ে এসে বলে,
‘ ভাবী মজা করেছি প্লিজ ঘাবড়াবেন না। ‘
পরিস্থিতি একটুতে জটিল হয়ে যাবে কেউ বুঝতে পারেনি। মোনা সত্যি ভয় পেয়েছে। কায়েসের দিকে তাকিয়ে বলে,

‘ ভাইয়া আপনি জানতেন আমার ইমরান সাহেব কোথায় ছিলো তাহলে কেনো বললেন না? আপনি জানেন না আমার একেকটা দিন কিভাবে কেটেছে। কত কথা শুনেছি। কতটা কষ্টে প্রতিটা দিন পার করেছি। মাঝে মাঝে মনে হত ইশানটা তো বাবার আদর পেয়েছে, কিন্তু আমার পেটের জন কি পাবে না??’
কায়েস ইমরানের দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন যেন ক্রোধান্বিত পলক, কায়েসের চোখ বলে দিচ্ছে কিছু একটা লুকাচ্ছে ওরা। ইমরানের নিষেধের জন্য এখনো গোপন সেই কথা। ইমরান মোনাকে আগলে ধরে বললো,
‘বাড়ি ফিরে চলো ওসব কথা পরে হবে।’
কায়েসকে ইশারা দিতেই সবাই বেরিয়ে পড়ে।
ইমরান মেয়েকে দোলনায় শুইয়ে দিয়ে মোনাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করে৷

‘ তোর কি মোনাকে সব বলে দেওয়া উচিত না ইমরান?’
ইমরান চুপ করে বসে আছে হাসপাতালের একটা কেবিনে। সামনে নয়ন,ফয়সাল,মিনহাজ। কায়েসের প্রশ্নের উত্তরে ও সে নিশ্চুপ।
‘ শোন ইমরান প্রথমত মস্ত বড় ভুল করেছিস নিজের মেয়ের বয়সী মেয়ে বিয়ে করে। এর জন্য দেশে আসার পর ও রেগে তোর সাথে যোগাযোগ করিনি। পরে যখন শুনলাম মেয়েটা আর কেউ নয় আমাদের মিনহাজ ভাইয়ের মেয়ে তখন তোর প্রতি ঘৃনায় গা জ্বলে উঠেছে। শালা পার্ভাট। কায়েস না বললে সেদিন ফোন টা রিসিভ করতাম না। আর এখন কি করছিস ওই ইনোসেন্ট, সহজ সরল মেয়েটাকে বোকা বানিয়ে সত্য টা লুকাচ্ছিস।’
ফয়সাল চেঁচিয়ে বললো প্রতিটা কথা। মিনহাজ অবাক চোখে তাকিয়ে ইমরানকে প্রশ্ন করলো,
‘ কি করেছিস তুই ইমরান? আমার মোনাকে বোকা বানাচ্ছিস মানে? মেয়েটা তুই বলতে অজ্ঞান। তুই কি আবার কাঁকন…।’
‘ মিনহাজ ভাই আমাকে ফয়সাল পার্ভাট বলাতেও আমি গায়ে লাগায় নি, তুমি কিভাবে আমাকে আবার কাকনের কথা বলছো? ফয়সাল তুই আমাকে যা ইচ্ছে বল তবে সত্যি টা আমি চাইনা মোনালিসা জানুক। জীবনে অনেক সত্যিই তো গোপন রাখি আমরা এই একটা সত্যি নাহয় শেষ বারের মত রাখবো। মিনহাজ ভাই সত্যি শোনার পর তুমি যদি বলো মোনালিসাকে জানাতে তাহলে জানাব। সিদ্ধান্ত তোমার। বাঁচতে চাই এবার আমি।’

‘ কি সত্যি।’
‘ মনিরের খন্ডিত লা*শের কারণ আমি। আইরিন আপা, বুশান আপার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণ ছিলো মনির। আইরিন আপা বাঁচলেও বুশান আপা তো আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। লিয়ার কিডন্যাপ এর রিজন ছিলো মনির। হাতের সামনে পেয়ে ওকে বারো টুকরা করেছিলাম। বুশান আপার সুন্দর চেহারার ক্ষ*ত বি*ক্ষ*ত, ভয়ংকর রূপটা চোখের সামনে ভাসছিলো। সেই পারফিউম রহস্য। আমার উপর হামলা করেছিলো মনির এর দলের লোকেরা। ওরা এখনো জানে না মনির বেঁচে নেই। আমার আর মোনালিসার বিয়ের দিন বিকালে আমি আরেকটি অঘটন ঘটিয়েছি। সেদিন মনিরের লোক মোনালিসার উপরও হামলা করেছিলো নীলক্ষেতে। মোনালিসা জানে কাঁকন করিয়েছে। আমি তার ভুল ভাঙ্গিনি। আমি চাই না আমার মোনালিসা জানুক আমি একটা খু*নী।
নয়ন মুখে হাত দিয়ে চোখ বুঁজে বসে আছে। চোখ খুলে দুইটা লাইন বলল,
‘ মাত্র বারো টুকরা করলি?? জ্বালিয়ে দিলিনা কেন? বুশান আপা এখনো আমার চোখের সামনে ভাসছে। মনে হচ্ছে হাতে চিকেনের প্লেট দিয়ে বলবে, নে ভাই সামি, ইমন দেখার আগে খা। লেগ পিছ টা তোর জন্য বাঁচায় রাখছি।’

‘ বাদ দে এসব, যে যাওয়ার সে চলে গিয়েছে। আমি ভুলে যেতে চাই আমার বোনের এত নৃসংশ চেহারা। আমার বুশান আপা সবচেয়ে সুন্দরী। আমার মনে হয় ইমরান সময় হলে ভাবীকে জানায় দিস। তুই কি আমার চেয়ে বড় গুন্ডা??? নবনীর কাছে কিছু লুকাতে পেরেছি???’
ইমরান মুচকি একটা হাসি দিয়ে কায়েসের কথায় প্রতিউত্তর দেয়,
‘ নবনী ভাবী মহিয়সী নারী কায়েস। যুগে যুগে একবার জন্মায়। তুই ক্ষমার অযোগ্য ছিলি। এরপর ও দেখ দুই সন্তানের বাবা।’
একটু থেমে বলে,’কিন্তু আমি পার্ভাট না ফয়সাল’
‘ আমি কথাটা ওইভাবে বলিনি। মিনহাজ ভাইয়ের মেয়ে শুনে একটু অবাক হয়েছিলাম এই আরকি।’
‘ আমার মেয়ের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা ইমরান। এভাবে বলিস না তোরা। আমার মেয়ের জামাইর ক্যারেকটার সার্টিফিকেট আমি দিচ্ছি। ওর দোষ নাই,আমার মেয়েটা ওর জন্য পাগল হয়েছিলো।’
চার দেয়ালের মাঝেই শেষ হলো এসব কথা। যদি সঠিক সময় আসে সব জানাবে প্রেয়সীকে।
সব রহস্যের উদঘাটন হয়না।আড়ালেই থাকে কিছু রহস্য।

হাতে স্যুপের বাটি নিয়ে পেছন পেছন ঘুরছে ইমরান। সে বুঝতে পারছেনা মোনার সারাঘরে পায়চারি করার কারণ। মেয়েটা ঘুমাচ্ছে। ভেবেছিলো এই সুযোগে মোনাকে খাইয়ে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে অফিস যাবে।কিন্তু কিছুই করতে পারছেনা। মোনা নাকানী চুবানী খাওয়াচ্ছে রুমে হাঁটিয়ে।
‘ মোনালিসা এমন করছো কেনো? চুপ করে বসো। ঔশান উঠে যাবে একটু পর। আমি গোসল করে নামায পড়বো তো ফেইরী কুইন। ‘
‘ কেনো আপনি আমাকে আগের মত ভালোবাসেন না,আদর করেন না,কাছে আসেন না,সারাদিন শুধু খাও,খাও।’
ইমরানের রাগ বেড়েই চলেছে। হাসপাতাল থেকে আসার পর পরই এই ঘ্যান ঘ্যান। আজ পনেরো দিন জ্বালিয়ে মা/রছে এই মেয়ে। বকলে কেঁদে দেয়। সুন্দর করে কথা বললে মাথায় চড়া দিয়ে বসে। মুড সুইং করছে। এমনিতেই নাচুনে বুড়ি,তার উপর ঢোলের বাড়ি। উদ্ভব সব আবদার করে আইসক্রিম খাবে, ফুচকা খাবে, বার্গার খাবে। সব রাতে একটা, দেড়টায় খাবে। পুরো ফ্রিজ ভর্তি খাবার কিন্তু এখন সে এসব খাবে না। এখন তার লং ড্রাইভে যেতে মন চাইছে। ইমরান নিজেকে সংযত করে বেডে বসে। এক হাতে টেনে কোলে বসায়,
‘ সুইটহার্ট শোনো আমরা লং ড্রাইভে যাবো তো,হানিমুনে যাব।তোমাকে আদর করবো। কিন্তু একটা সমস্যা হয়েছে যে?’

ইমরানের গলা জড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে বললো,
‘ কি সমস্যা ইমরান সাহেব?’
‘ এখনো বাইরে অনেক শত্রু না আমাদের। আবার যদি আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।’
মোনা এবার বেশ চিন্তিত হয়ে বললো,
‘ না না যাব না। থাক। আমি, আপনি দুজন সুস্থ হলে আমরা বাসায় হানিমুন করবো কেমন? আগে আপনার সুস্থতা। এখন পিঠে ব্যাথা আছে? আমি ঔষধ লাগিয়ে দিব কেমন?’
‘ একদম.. এইতো সুইট ফেইরী আমার। তুমি সুস্থ হলে বাসায় করবো হানিমুন। তোমার স্যুপ খাওয়া শেষ। এখন কি এই প্রজার জন্য একটু সেবা করে মহারানী এক কাপ কফি এনে দিতে পারবে?’
তখনই দরজা দিয়ে ইশান ঢুকলো। আজ ও এই ছেলে বোকার মত ঢুকে পড়লো পারমিশন না নিয়ে। মাকে বাবার কোলে দেখে কিছুতা লজ্জ্বা পেয়ে ঘুরে গেলো। মোনাও লজ্জ্বা পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। কফি আনতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

‘ পাপা এই ঝাঁসির রানী তোমার কাছে আসলে এমন মিনি বিড়াল হয়ে যায় কেনো? কি জাদু করো বলোতো? আমার সামনে তো পুরা ওয়ান্ডার ওইম্যান এর ভুমিকা পালন করে। মে বি দিস ইজ কল্ড পাওয়ার অফ হাসবেন্ড লাভ।’
ইমরান হাসে ছেলেকে কাঁধে চাপড় মেরে বলে,
‘ ব্যাটা, আমার কাছ থেকে কিছু শিখে নে, নাহলে লুকিয়ে চুরিয়ে যে প্রেম করিস সেটা যদি মা টের পায় দেখবি কি করে? সুযোগ পেলে মাকে জানাইস।আমাকে জানানো লাগবে না। মেয়েটা আমারও পছন্দ হইছে?’

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৫

‘ পাপা, তুমি গোয়েন্দা গিরী করেছো আমার পেছনে??তবে তোমার ছেলের জন্য ওই মেয়ে। তোমার জন্য না’
‘ এক চড় দিব.. ফাজিল। তোর জন্যই বলছি। সুযোগ পেলে ছেলেও খোঁচা দেয় অল্প বয়সী মেয়ে বিয়ে করাতে।
‘ স্যরি পাপা। ইউ এন্ড মা বোথ মেক মাই ওয়াল্ড বিউটিফুল। ধন্যবাদ পাপা মাকে আমার কাছে এনে দেওয়ার জন্য।’

তুমি আমার শেষবেলা শেষ পর্ব