ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩০
শানজানা আলম
ঐশি একটা ফ্ল্যাট পেয়ে গেছে। অত্যাধুনিক ওয়েল ডেকোরেটেড ফ্ল্যাট, যার রেন্ট মান্থলি নাইনটি থাউজ্যান্ড প্লাস। পেয়ে গেছে বলতে নাসিরের পিএস ঠিক করে দিয়েছে। ঐশি সেখানে উঠে পড়েছে। সুবহানা একটু দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। ঐশিও জোর করে নি। নাসিরের সম্পর্কে উল্টোপাল্টা কথা বলা ঐশির পছন্দ হচ্ছে না৷
ঐশির জন্য কয়েকজন ফিমেল স্টাফ রাখা হয়েছে। একজন ঐশির কুক, একজন তার সবদিক খেয়াল রাখবে, ম্যানেজার গোছের। সাজগোজ, জামাকাপড় ঠিক করার জন্য পিএস একজন এক্সপার্ট ট্রাইব্যাল মেয়ে।
ঐশির সাথে সিদ্রাতের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছে নাসিরের স্টাফ। সিদ্রাত ফ্যাশন ডিজাইনার। ঐশির ইনভেস্টে ফ্যাশন হাউজ ওপেন করা হবে। সিদ্রাতই সব করবে দায়িত্ব নিয়ে।
ফ্যাশন হাউজ ওপেন করার আগে কিছু এক্সপেন্সিভ শাড়ি ডিজাইন করা হবে, সেগুলোর ফটোশ্যুট করা হবে বসুন্ধরা রেসিডেন্সিয়ালে একটা এক্সক্লুসিভ
ইম্পোর্টেড ফার্নিচার শপ ডেকোর হাউজে।
ফেসবুক পেজ ওপেন করা হয়েছে। সিদ্রাতের টিমে আরো কয়েকজন আছে। ঐশিকে প্ল্যান জানাচ্ছে, মিটিং চলছে। বিগ বাজেট প্ল্যানিং।
সুবহানা এলো ঐশির ফ্ল্যাট দেখতে। ঐশি সিদ্রাতের টিমের সাথে বসে প্ল্যানিং করছিল।
সুবহানা আসাতে ঐশি খুশি হয়ে সুবহানাকে বসতে বলল। ঐশির ফ্ল্যাটের চারদিকে ঘুরে দেখে সুবহানা বলল, ভালোই আছিস মনে হচ্ছে।
ঐশি হেসে বলল, হ্যা, তুই এই কয়েকদিন আসিস নি কেন?
কারন তোর এখন আমাকে প্রয়োজন নেই! ইউ ম্যানেজড ইউর সুগার ড্যাডি!
কথাটা কানে লাগল ঐশির, ঐশি বলল, সুবহানা, নাসিরকে আমি ভালোবাসি!
সুবহানা ঠোঁট উল্টে বলল, ভালোবাসা না ছাই, টাকা দেখে ঝুলে আছিস! তোকে কেপ্ট করে রেখেছে, বিয়ে করবে কখনো? কখনোই করবে না। জেনে রাখিস!
ঐশি দমে যায়, নাসির সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিয়েছে তাকে বলতে গেলে সাত থেকে দশদিনের মধ্যে। কিন্তু ব্যাংকক থেকে ফেরার পরে একদিনও আসে নি। এমনকি এই ফ্ল্যাটও দেখতে আসে নি।
যতবারই ঐশি ফোন করেছে, বলেছে, ব্যস্ত আছি! ঐশির কাছে আসার সময় হবে না।
সুবহানা বেশিক্ষণ থাকল না, বিঁধিয়ে বিঁধিয়ে কিছুক্ষণ কথা শুনিয়ে চলে গেল। ঐশি আর মিটিংয়ে মন দিতে পারল না। সবাইকে বলল, ওর শরীর খারাপ লাগছে, তাই রেস্ট করতে চাচ্ছে।
সবাই চলে যাওয়ার পরে ঐশি নাসিরকে ফোন করল, প্লিজ আজ এসো। একটু সময় হলেও এসো।
নাসির বলল, আসবে, তবে বেশি সময় সে থাকবে না।
ঐশি এরপরে ওর ম্যানেজারকে বলল, পুরো বাসাটা গুছিয়ে যেন ওরা চলে যায়। ঐশি গোলাপ কিনিয়ে এনে নিজের হাতে ওয়াশরুম আর বেডরুম সাজিয়ে নিলো। আজ নাসিরকে ডাকবে, নাসির ওয়াটার এক্সাইটমেন্ট পছন্দ করে, তাই সাজিয়ে নিলো বাথটাবও।
সব স্টাফ বিদায় দিয়ে নিজেকে সাজিয়ে নিলো ঐশি।
নাসির আসতে আসতে বেশ রাত হলো। নাসির ভেতরে ঢুকতে ঐশি দরজা বন্ধ করে দিলো।
এই জায়গার খবর আভা এখনো পায় নি। ধানমন্ডির ফ্ল্যাটের কথা জেনে গিয়েছিল। নাসিরের এক্সেস সব সময় আভা জানুক, এটা নাসির চায় না। তবে সামাজিকতা মানতে হয়, তার সোসাইটি সাথে মিডিয়া এসব কিছু এড়িয়ে নাসিরকে সব ম্যানেজ করতে হয়।
নাসির বলল, বাহ বেশ ভালো সাজিয়েছ দেখছি!
হ্যা, আজ ফ্যাশন হাউজের বিষয়ে আলাপ হলো বেশ কিছু।
গুড, সিদ্রাত ভালো ছেলে! কাজ করে দিবে তোমার!
ঐশি নাসিরকে কাছে টানতে চাইল। নাসির বলল, আজ সময় নেই, ফিরতে হবে।
ঐশি বলল, একবার চলো তো!
ভেতরে গিয়ে বেডরুম আর ওয়াশরুমে ডেকোরেশন নাসিরের পছন্দ হলো।
-তুমি গুছিয়েছ?
-হুম, তুমি আসবে তাই!
-ভালো হয়েছে!
-চলো একটু রিলাক্স করবে! টায়ার্ড দেখাচ্ছে তো!
পরিবেশ নাসিরের মনোপুত হওয়ায় নাসির রাজী হলো।
ঐশি পোশাক ছেড়ে ব্যাংকক থেকে আনা বিকিনি পরে নাসিরের সামনে এলো। সুবহানার কথা তাকে ট্রিগার করেছে, নাসিরকে তার আটকে রাখতে হবে। ভালোবাসা কিংবা শরীর, যেভাবে নাসির চায়!
ঐশির আবেদনময়ী পোশাক দেখে নাসির উগ্র হয়ে উঠল। ঐশির প্ল্যান সাকসেসফুলি ওয়ার্ক করল। ফুল ভেজানো জলে দুজন সময় কাটানো শুরু করল একান্তে। ঐশির ক্লিভেজে মুখ ডোবালো নাসির।
বেশ কিছু সময় পরে নাসিরের মেসেজ এলো, আভা মেসেজ করেছে।
নাসির জল থেকে উঠতে চাইলো, ঐশি বাঁধা দিলো, আরেকটু সময় থাকো প্লিজ।
না আমাকে যেতে হবে!
ঐশি বলল, তুমি চলে যাবে আমি জানি, আরেকটু সময় আমাকে দাও! প্লিইজ! নাসিরের ঠোঁটে ঐশি গাঢ় করে নিবিষ্ট হয়!
আধঘন্টা খানেক পরে নাসির উঠে পড়ল। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে যাচ্ছিলো, বুক অবধি টাওয়েল জড়িয়ে ঐশি সামনে এলো।
নাসিরের কলার ধরে উঁচু হয়ে ওকে চুমু খেলো।
কবে আসবে আবার?
আসব, সময় মতন।
প্লিইজ, তুমি আমাকে সব কিছু দিয়েছ, আমি শুধু তোমাকেই চাই। পুরোটা রাতে তোমাকে চাই।
নেক্সট উইকে অস্ট্রেলিয়া যাব, ফিরে এসে আসব।
ওহ, আচ্ছা।
নাসির বের হয়ে গেল ঐশিকে রেখে।
এত কিছু করে দিয়েও ঐশিকে সময়টাই ঠিক মত দিলো না নাসির। তবু আজ যেভাবে আটকে রাখতে রেখেছে, সেটাই করতে হবে ঐশির।
সুবহানা ঠিকই বলেছে, কনসিভ করার প্ল্যানটাও করা যেতে পারে। গোছানো সব কিছু ছেড়ে, বিলাসী সব কিছু পেয়ে সব কিছু টিকিয়ে রাখতে ঐশির পরিকল্পনা শুরু হলো মাত্র।
এহসান চলে যাবে সন্ধ্যায়। এ কয়েকদিন রুবাই বেশ কয়েকবার বলেছে, বীচে যেতে, একবারো যাওয়া হয় নি। তাই এহসান বের হলো রুবাইয়ের সাথে বীচে হাঁটতে।
রুবাইকে জিজ্ঞেস করল, আমি যে ডিভোর্সি, এটা তুমি কাউকে বলো নি কেন?
রুবাই হেসে বলল, আপনার সিক্রেট তাদের জেনে কি হবে!
ওহ আচ্ছা, হ্যা সেটাও ঠিক।
আমাকে কেন বললেন? না বললেও হতো!
রুবাই তোমার বয়সটা কম! আমি তোমার চাইতে বেশ কিছুটা বড়! তাই বলেছি!
ওহ আচ্ছা, রুবাই বলল, ফোন করলে পিক করবেন?
কেন করব না!
আচ্ছা। তবে আমি ফোন করব না।
আচ্ছা।
ভালো থাকবেন।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৯
তুমিও ভালো থেকো রুবাই।
রুবাই একটু থেমে বলল, কিছু বলিনি, কিন্তু আপনি বুঝে নিয়েছেন অনেকটাই। তাই একটা প্রশ্ন থাকলো আপনার কাছে৷ উত্তরটা কি পেতে পারি?
এহসান হেসে বলল, জীবনে চলার পথে অনেকের সাথে দেখা হবে রুবাই। আবেগকে সহজলভ্য করো না।
তুমি ভালো মেয়ে, রেসপনসিবল। তোমার জন্য সুন্দর একটা জীবন অপেক্ষা করে আছে!
রুবাই বলল, উত্তর পেয়ে গেছি।
চলো ফিরে যাই, আমাকে বের হতে হবে- এহসান বলল।
