Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ৯০ (২)

জাহানারা পর্ব ৯০ (২)

জাহানারা পর্ব ৯০ (২)
জান্নাত মুন

বর্ষপঞ্জির পাতা থেকে খসে পড়ল আরও একুশটা দিন। দিন তিনেক বাদে বিদ্বিষ্ট মে’র বিদায় হবে। এই পুরো মাসটা জুড়েই বাতাসে কেমন যেন এক বি’ষ’ন্নতার গন্ধ ছাড়া আর কিছুই অনুভব করতে পারি নি। তার ওপর আকাশ থেকে যেন আ’গুন ঝরছে। সকাল থেকে সূর্যটা অবিশ্রান্ত কিরণ ঢেলে চারপাশটাকে তপ্ত কড়াইয়ের মতো অত্যুষ্ণ করে রেখেছে। এভাবেই ঘিলিমিচি করে দিন গড়িয়ে বিকেল হলো। অথচ দেখো পশ্চিমে হেলে পড়া সূয্যিমামার তে’জে বিন্দুমাত্র ভাঁটা পড়েনি। আর এই মূহুর্তে রান্নাঘরে থাকাটা আমার জন্য মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। গরমে আরও কেমন হাঁসফাঁস লাগছে! আমি মুখ ফুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। অতঃপর ওড়নার আঁচল দিয়ে আলগোছে মুখাবয়বে জমা হওয়া বিন্দু বিন্দু ঘামটুকু মুছতে লাগলাম। পাশেই দাড়িয়ে থাকা ভৃত্যটি নিচু গলায় বলে উঠল,

–“ম্যাম, আপনি গিয়ে রেস্ট নিন। আমি কফি তৈরি করে দিচ্ছি।”
আমি মহিলাটির দিকে দৃষ্টিপাত করার প্রয়োজনবোধ করলাম না। গ্যাসের চুলার আগুন নিভিয়ে প্রত্যুত্তরে বললাম,“প্রয়োজন নেই। আপনি বরং পরে রাতের রান্নাটুকু করে নিয়েন। আর হ্যাঁ, রান্না শেষে সবকিছু গুছিয়ে রাখবেন।”
–“ঠিক আছে ম্যাম।” ভৃত্যটি আনত মাথায় প্রত্যুত্তর করল।
আমি ইফানের জন্য কড়া করে এক কাপ স্প্রেসো বানিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসলাম। তৎক্ষনাৎ এসির হীমেল হাওয়াটা যেন অনেক্ক্ষণ বাদে আমার উষ্ণ গা ছুঁয়ে দিল। এবার বেশ স্বস্তি অনুভব হচ্ছে। এদিকে পুরো লিভিং রুম জুড়ে নৈঃশব্দ্য বিরাজমান। শুধু লিভিং রুমের দেয়ালে সাজিয়ে রাখা অত্যাধুনিক বিশাল বড় এলইডি টিভিটির স্ক্রিনে নিউজ চলমান। আর সম্মুখে সুবিন্যস্ত সোফাটিতে ভাবলেশহীন ভঙ্গিমায় পয়ের উপর পা তুলে বসে আছে ইফান। গায়ে জড়ানো অফ-হোয়াইট রঙের একটা ওভারসাইজড স্লিভলেস টিশার্ট আর কালো জগার্স। তার পেশিবহুল বাহু জোড়া উন্মুক্ত। সেখানে অঙ্কিত হিজিবিজি ট্যাটুগুলোও দৃশ্যমান। ইফানের সম্মুখে তার পা ঘেঁষে বসে আছে ব্রুনো। ইফানের খুব আদরের পোষা কুকুর। এইতো সেদিন রাতেই ইফানের সাথে প্রথমবারের মতো বিডি এসেছে ব্রুনো। ভীষণ মনিব ভক্ত কুকুর ব্রুনো। এই যে ইফান তার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, আর সে আবেশে ঠিক কোনো সুবোধ বালকের মতো চোখ বুজে ঝিমাচ্ছে।

ব্রুনো একটি বিশুদ্ধ জাতের ডোবারম্যান পিন্সার। শিকারি ঘ্রাণশক্তি আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির জন্য এই জাতের জুড়ি মেলা ভার। বেটার আবার আরও অনেক গুন আছে। সে দেহের গঠনেও বেশ বড়সড়। তার গায়ের রঙ মূলত কালচে-বাদামী এবং লালচে রঙের মিশেলে। ব্রুনোর কান দুটো লম্বা আর নিচের দিকে ঝুলন্ত, গলায় বাঁধা শক্ত কালো ফিতার বেল্ট। এমনিতে বেশ র’গচটা আর আক্র’ম’ণা’ত্মক স্বভাবের হলেও মনিবের সামনে সে যেন এক মূর্তমান ভদ্রতা! ইফানের সামনে এমন ভাব ধরে থাকে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে লাজুক আর নিষ্পাপ শিশু। হুহ, ব’জ্জাত একটা! প্রথম দিন থেকেই এই আপদটার সাথে আমার বিন্দুমাত্র বনিবনা নেই। এই তো সেদিনও করিডরে ওর সাথে আমার মুখোমুখি দেখা। ব্যস! বে’য়াদবটা আমাকে একা পেয়ে সেই কি তাড়াটাই না করেছিল! কি এমন করেছিলাম আমি, হুহ্! খালি ঠোঁট বাকিয়ে একটু মুখ মোচড়া দিয়েছিলাম। তাই বইলা আমাকে এভাবে দৌড়ানি দিবে! ভাগ্যিস তখন মীরা এসে আমাকে ধরে নিয়েছিল। না হলে সেদিন ভারসাম্য হারিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে কেলেঙ্কারি কাণ্ডই ঘটে যেত। ইফানকেও বলিহারি যাই, কুকুর পালার কি আছে, হ্যা? আমার তো দেখেই গা গু’লিয়ে আসে। তবু সে পালে ভালো কথা। তবে দেশে আনতে তারে কে বলেছিল! ইফান যদিও বলেছে, ব্রুনো সাহেব নাকি মনিবকে ছাড়া আর একা থাকতে চাইছিল না। ইফান যখন বিডি ফেরার জন্য এয়ারপোর্টে যায় তখন গিয়ে দেখে ব্রুনো সাহেব নাকি সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে আগেই উপস্থিত হয়েগিয়েছিল। কি আর করার! অগত্যা, বাধ্য হয়ে ইফান সাথে করে নিয়ে এসেছে।
আমি নাক সিটকে এগিয়ে গেলাম। আমার উপস্থিতি ঠাহর করতেই ব্রুনো আড়চোখে তাকাল। এই মূহুর্তে তার অক্ষিপট দুটো কি মায়া ভরায় না লাগছে! কি লেভেলের চতুর আর বা’টপার-রে বাবা! আমার এসব ভুংভাং ভাবনার মধ্যেই ইফানের ভরাট গলা ভেসে এল,

–“ওর খাবার সময় হয়ে গেছে। মেইডকে বল ওর খাবার দিয়ে যেতে।”
আমি কফির কাপটি সেন্ট্রাল টেবিলের ওপর রেখে ইফানের দিকে দৃষ্টি তাক করলাম। লোকটা এখনো ব্রুনোকে আদর করতে ব্যস্ত। তাঁর চেহারায় যেন অমাবস্যার নিকষ আধার নেমে এসেছে। ধা’রালো অ’স্ত্রের ন্যায় শক্তপোক্ত তার চোয়াল। সার্বক্ষণিক কপালে বিরক্তির কয়েকটা সুক্ষ্ম ভাজ তৈরি করে গম্ভীর হয়ে থাকে। বাইরের মানুষের সাথে তো কথা বলা দূর, আমার সাথেও কেমন মেপে মেপে কথা বলে। এমনিতে তো কারো সামনে হাসে না। যাও আমার সামনে মন খুলে অকৃত্রিম হাসতো, তাও আর চোখে পড়ে না। এটা অবশ্য অস্বাভাবিক কিছু না। এই কদিনে আমাদের সাথে যা ঘটল তা এতো সহজে মেনে নেওয়ার মতো নয়। তাই ইফান সবচেয়ে বেশি আ’হত হয়েছে পরপর আপন মানুষগুলোকে হারিয়ে।
এসব পুরোনো স্মৃতি নিয়ে আর নতুন করে ভাবতে পারছি না। ভাবনাগুলো মাথার ভেতর জট পাকালেই কেমন যেন শরীরটা অবশ হয়ে আসে, হাত-পায়ে বিন্দুমাত্র বল পাই না। আমি চোখ দুটো বুজে বুকের গহীন থেকে একটা তপ্ত দীর্ঘশ্বাস আড়ালে চেপে রাখলাম। ঠিক তখনই আমার ভাবনার সুতো ছিঁড়ে দিয়ে ফের ইফানের ভরাট কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,

–“জারা!”
–“জি?”
–“কিছু বলছি!”
–“হু যাচ্ছি তো। তুমি কফিটা খেয়ে নাও।”
বাক্যটা আওড়ে আমি বিরক্ত মিশ্রিত নয়নে ব্রুনোর দিকে তাকালাম। ফাজিলটাও তেছড়া চোখ করে আমার দিকে তাকাল। তবে সেই চাহনিতে এখন একরাশ কৃত্রিম আহ্লাদ মাখানো। আহারে, কী আমার আদরের দুলাল রে! সারাদিন শুধু রাজকীয় হালে বসে বসে গাণ্ডেপিণ্ডে গেলা, আর আমাকে একা পেলেই যমের মতো তাড়া করা; অসভ্য একটা, হুহ্! আমি বিড়বিড়য়ে একচোট গা’লম’ন্দ করে পিছন ঘুরে দাঁড়ালাম। অমনি আমার নজর আটকে গেল সিঁড়ির দিকে। এক এক করে মাহিন, জুই আর মীরা পরিপাটি হয়ে নিচে নেমে আসছে। মাহিন আর মীরার হাতে চাকাঅলা ট্রলি ব্যাগ। জুইয়ের পুরো শরীর একটা মিশমিশে কালো বোরকায় ঢাকা, মেয়েটা অসহায় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে। এই তো মা মানে নাবিলা চৌধুরী আর ইতির আকস্মিক মৃ’ত্যুর খবর শুনেই মাহিন জুইকে নিয়ে পরদিন বিডিতে ছুটে এসেছিল। আজ আবার হঠাৎ কোথায় যাবে? মনে প্রশ্ন জাগল৷

ইতোমধ্যে সকলে লিভিং রুমের মধ্যস্থে জড়ো হয়েছে। ইনানও বাইরে থেকে এসে পৌঁছেছে সবে। আমি জুইকে আগলে ধরে দাঁড়িয়ে আছি। আমার অসহায়, শঙ্কিত দৃষ্টি তাক করা সামনের সোফায় বসে থাকা ভাবলেশহীন লোকটার দিকে। লিভিং রুম জুড়ে থমথমে পরিবেশ। কেউ টুঁ-টি আওয়াজ করছে না। ঘরের এই নিস্তব্ধতা ফালাফালা করে টিভি স্ক্রিন থেকে ভেসে আসছে দেশের উত্তাল পরিস্থিতির ব্রেকিং নিউজ। অনস্ক্রিনে সাংবাদিকেরা তীব্র কণ্ঠে লাইভ রিপোর্ট করছেন,
“সরকার পদত্যাগের দাবিতে সারাদেশে সাধারণ জনগণসহ শিক্ষার্থীদের একদফা বি’ক্ষোভ চলছে। রাজপথ প্রকম্পিত করে তাদের একটাই স্লোগান—দফা এক, দাবি এক, সরকারের পদত্যাগ…!”
মাহিন এক পলক টিভির জ্বলজ্বলে স্ক্রিনে দৃষ্টিপাত করে মীরার দিকে তাকাল। তারা একে অপরের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করল। অতঃপর গলা পরিষ্কার করে মীরা ইফানের উদ্দেশ্যে বলে উঠল,

–“ব্রো আর কদিন পর যাই। না হলে তুমিও আমাদের সাথে ব্যাক কর।”
ইফানের তরফ থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসল না। মাহিনও মীরার সাথে তাল মিলিয়ে বলে উঠল,“বোন ঠিক বলছে, ব্রো। দেশের পরিস্থিতি উ’শৃংখল। চৌধুরীদের রাইভালরাও সেই কবে থেকে উত পেতে আছে। সুযোগ পেলেই কোপ বসাতে চাইবে। এই পরিস্থিতিতে তোমারও বিডিতে থাকা একদমই উচিত হবে না। বলছি তুমিও চ..”
মাহিন বাক্য সম্পূর্ণ করতে পারল না। আচমকা ইফানের ধূসর বাদামী অক্ষিপটের তীক্ষ্ণ তো’পে পড়ে ইতস্তত হয়ে পড়ল। এরপর আর কিছু বলার সাহসটুকু পেল না। মীরা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ইফানের পাশে গিয়ে বসল। অতঃপর আলতো করে ভাইয়ের বাহু জড়িয়ে ধরে কোমল গলায় বলে উঠলো,

–“ব্রো, খুব বেশি টেনশন হবে তোমায় নিয়ে।
এন্ড ইউ নো, না! মাই ব্রাদার, দ্য গ্রেট ইন্টারন্যাশনাল মোস্ট-ওয়ান্টেড ফা’কিং টে’রোরিস্ট গ্যাং লিডার, দ্য মাফিয়া বস ভেনম, ওক্কে!
উইকনেস ডাজন্ট স্যুট হিম অ্যাট অল।
ব্রো, প্লিজ মুভ অন অ্যান্ড গেট ব্যাক টু প্যারিস অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল। আই’ল বি ওয়েটিং ফর ইউ।”
ইফান এক হাতে মীরার মাথায় হাত বুলিয়ে আশ্বাস দিয়ে ফরাসি ভাষায় ভরাট কণ্ঠে বলে উঠলো,“তোঁ ফ্রের না ঝামে এতে ফেবল, এ ইল ন্য লে তুজুর পা। প্রোনে সোয়াঁ দ্য ভু।”
(অর্থ : “তোমার ভাই কখনোই দুর্বল ছিল না, আর এখনও নয়। তোমরা নিজেদের খেয়াল রেখো।”)
সপাটে জবাব দিল মীরা,“ঝ্য ল্য সে। (অর্থ: আমি জানি তো।”)
বাট ইউ টেইক কেয়ার অফ ইউর সোল্ফ টু। ওকে!”
অতঃপর ধীরেসুস্থে বসা থেকে ওঠে দাঁড়াল মীরা। আমার দিকে এগিয়ে আসতেই আলতো করে দু’জন একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম। উষ্ণ আলিঙ্গনের মাঝেই মীরা আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল,

–“নিজের খেয়াল রেখো আর ভাইয়েরও।”
আমি আশ্বাস দিয়ে বললাম,“ও যেহেতু চাইছে তোমরা এখন ফিরে যাও, তাহলে যাওয়ায় ভালো। অযথা টেনশন করো না। কিছুদিনের মধ্যেই ওকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে আমি ফিরছি। এই দেশে আর নয়। অনেক শিক্ষা হয়েছে আমার। এবার শুধু নিজের স্বার্থের কথা ভাবব।”
মাহিন ইফানের থেকে বিদায় নিয়ে আমার নিকটে এগিয়ে এলো। জুই এইবার যেতে নারাজ। দেখো কেমন বাচ্চাদের মতো গাল ফুলিয়ে টলমলে চোখে আমার দিকে তাকিয়ে! আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে সেথায় অধরযুগল স্পর্শ করালাম। মেয়েটা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আমার কোমর। মাহিন এসে আমাকে বলল,

–“ভাবি, কি আর করার যেতেই হবে। আপনি ভাইকে বুঝিয়ে তাড়াতাড়ি চলে আসবেন। আমি জানি ভাই দুর্বল নয়। বাট এখনকার পরিস্থিতির জন্য তার মনমেজাজ ঠিক নেই। আর তার রা’গ সম্পর্কে তো জানিই। রা’গে কখন কি থেকে কি করে বসবে! একটু খেয়াল রাখবেন। ইনান ব্রো এখানে আছেন। সমস্যা হলে উনাকে জানাবেন। উনি ভীষণ বিচক্ষণ মানুষ। ভাইকে ভালো সামলাতে পারবে। আসি তাহলে!”
–“হুম সাবধানে যাও। আর জুইয়ের খেয়াল রেখো। আমি তো নিজের সব নীতি-রীতি বিসর্জন দিয়েই দিয়েছি। আমি বললেও তো তোমরা কেউ শুধরে যাবে না। খু’’নখা”রাপি তো তোমাদের পেশা, নে’শা! কি আর বলব আমি? কিছুই বলার নাই। এখন থেকে চুপ করেই না হয় থাকব। তবুও তোমাদের যেন কিছু না হয়।”
আমার কথা শুনে লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেলল মাহিন। গলা ঝেরে বিদায় নিয়ে সবাইকে সাথে করে চৌধুরী ম্যানশন থেকে বেরিয়ে গেল। ইনানও ওদের সাথে গেল এগিয়ে দিয়ে আসতে। সকলে চলে যেতেই ইফান হীম দৃষ্টিতে সদর দরজার পানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। অতঃপর সেদিকেই একনাগাড়ে কয়েক মূহুর্ত তাকিয়ে রইল। আমি আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এগিয়ে গেলাম। ইফান দৃষ্টি ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকাল। গম্ভীর কণ্ঠে শুধাল,
–“কিছু বলবে?”

আমি প্রত্যুত্তর করলাম না। এক জোড়া শান্ত, অতল নয়নে লোকটার মেঘাচ্ছন্ন গম্ভীর মুখাবয়ব অবলোকন করলাম। অতঃপর নির্দ্বিধায় লোকটার মাথাটা বুকের সাথে মিশিয়ে ধরলাম। ইফান এক মূহুর্ত স্থির হয়েই বসে রইল। অতঃপর দু’হাতে আমার বাঁকানো কোমর জড়িয়ে ধরল। আমার বক্ষপিঞ্জরে মুখ গুঁজেই ও দীর্ঘ এক তপ্ত শ্বাস নিজের ভেতরে টেনে নিল; যেন পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি আর বিষাদ ও ওখানেই জুড়িয়ে নিতে চায়। আমি ওর মাথার ঘন কালো অলকগুচ্ছের ভাঁজে আঙুল বুলিয়ে দিতে দিতে অতি ধীর গলায় বলে উঠলাম,
–“আমি রিজাইন লেটার জমা দিয়েছিলাম কদিন আগে। শুনলাম জিতু ভাইয়াও নাকি রিজাইন লেটার জমা দিয়েছে। এটা নিয়ে কাজ চলছে। খুব শীগ্রই দু’জনেই সিআইডি থেকে রিজাইন নিচ্ছি। চলমান পুলিশি ঝা’মেলাটাও মিটিয়ে ফেলব শীগ্রই। যেহেতু ব্যপারটা ইনান ভালো করে দেখছে। তারপর আমিও তোমার সাথে প্যারিস ব্যাক করব।”
ইফানের থেকে কোনো প্রকার সাড়াশব্দ আসল না। আমি এক মূহুর্তে চুপ থেকে ওর মাথায় শব্দ করে চুমু খেলাম। কি যে হয়ে গেল লোকটার! মা-বোনের অকাল মৃ’ত্যুতে খুব বেশি আ’হত হয়েছে মানুষটা। তাই তো বাইরের দুনিয়ায় ত্রাস সৃষ্টি করা, আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁ’পানো পরাক্রমশালী মাফিয়া বস আজকাল এমন স্তব্ধ, নীরব হয়ে থাকে। একাকী আপনমনে কিছু একটা ভাবে। শুধালেও তার থেকে কোনো উত্তর আসে না।

দিনের আলো নিভে যাওয়ার পরপরই ধরিত্রীর বুকে শৈত্যতা নেমে এসেছে। ব্যস্ত এই তিলোত্তমা নগরী এখন কৃত্রিম নিয়ন আলোর মায়াজালে জাঁকজমকপূর্ণ রূপে সেজে উঠেছে। চতুর্দিকে যেন এক রূপালী আলোর খেলা আর কোলাহলময় জনসমাগম। উত্তরার হাইওয়েতে, ওভারব্রিজের উপর দিয়ে একের পর এক যান্ত্রিক যান তীব্র গতিতে ছুটে চলছে আপন গন্তব্যে। কোথাও বা আবার দীর্ঘ যানজটের নাগপাশে পড়ে নাজেহাল অবস্থা পথচারী ও যাত্রীদের। যানবাহনের অবিশ্রান্ত কর্কশ হর্নের আওয়াজের নিচে বাকি সব নাগরিক কোলাহল যেন খানিকটা স্তিমিত হয়ে পড়ছে।

চৌধুরী ম্যানশনের অবস্থান উত্তরার ছায়াসুনিবিড় ভিআইপি সেক্টরের অন্তরালে হওয়ায়, এদিকটায় যান্ত্রিক কোলাহলের কর্কশতা নেই বললেই চলে। রাত নামলে এই নিস্তব্ধতা যেন আরও কয়েক গুণ ঘনীভূত হয়ে ওঠে। বোধহয় এই কারণেই আজকাল নিশুতি রাত নামলেই বেশ কিছুটা সময় নিজ রুমের বিশালাকার ব্যালকনিতে একাকী মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে ইফান। আজও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ব্যালকনির এক প্রান্তে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আপন মনে বি”ষাক্ত তা’মাকের ধোঁয়ায় সিগারেট ফুঁকছে সে। এক হাত তার প্যান্টের পকেটে অবহেলায় গুঁজে রাখা। কিছুক্ষণ পরপরই সে আকাশের পানে মুখ উঁচিয়ে এক বুক ভর্তি ধোঁয়ার কুণ্ডলী বাতাসে ছেড়ে দিচ্ছে। তার বিশালাভারি দেহটা এই নিস্তব্ধ রাতের আলো-আঁধারিতে অশরীরির ন্যায় ঠেকছে। ওর নিথর, অনুভূতিহীন শূন্য দৃষ্টি জোড়া আকাশের বুকে স্থির হয়ে আছে।

আজ গগনপটে পূর্ণিমার ঝলসানো চাঁদের রাজকীয় দেখা মিলেছে। লক্ষ-কোটি তারার মেলায় রূপালী গোলাকৃতির এই চাঁদটিকে কী অপূর্ব এক মায়াবী রূপেই না লাগছে! কিন্তু প্রকৃতির কী অদ্ভুত খেয়াল, খানিকক্ষণ বাদে বাদেই দেখা যাচ্ছে বাষ্পীভূত কিছু কালচে মেঘের দল ধীরে ধীরে সেই উজ্জ্বল চাঁদকে নিজেদের আড়ালে গ্রাস করে নিচ্ছে। আকাশের এই মেঘ-চাঁদের লুকোচুরি খেলায় ইফান প্রথম প্রথম বেশ বিরক্তবোধ করত। ফলস্বরূপ তার দুই ভ্রুর সংযোগস্থলে, কপালের মধ্যাংশে বিরক্তির সুক্ষ্ম ভাঁজের রেখা ফুটে উঠত। তবে পরক্ষণেই যখন সে দেখল, সেই অবাধ্য চাঁদ সমস্ত কালো মেঘের সীমানা ভেদ করে আবার স্বমহিমায় আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে—তখনই তার কপালের সেই কুঞ্চিত ভাঁজ আলতো করে সোজা হয়ে যায়।

প্রতিদিনকার মতো আজও ইফান সিগারেটের শেষ আরেকটা টান দিয়ে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ মেঝেতে ফেলে জুতোপেটার নিচে নি’র্মমভাবে পিষে দিল। অতঃপর বাতাসে ভারী নিঃশ্বাস ত্যাগ করে হনহনিয়ে ঘরের ভেতরে চলে আসল। উদ্দেশ্য ছিল সোজা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া। কিন্তু তার পা থমকাল। কয়েক সেকেন্ড কিছু একটা ভেবে আমার স্টাডি রুমের সামনে এসে দাঁড়াল। আড়াল থেকে আমাকে আপাদমস্তক অবলোকন করল। আমি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে, সুসংহত মনে এশারের নামাজ পড়ছি। দেয়ালঘড়ির কাঁটা এখন নিশুতি এগারোটার ঘরে গিয়ে ঠেকেছে। এমনিতে মুয়াজ্জিনের আজানের সুর কানে পৌঁছানোর সাথে সাথেই নামাজ আদায় করে ফেলার অভ্যাস আমার। কিন্তু আজ আর হয়ে ওঠেনি। সন্ধ্যায় শরীরটা বড্ড অবসন্ন লাগছিল। তাই ক্লান্তিতে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছিলাম। তখন পাশেই, বিছানায় ইফান বসে ল্যাপটবের মধ্যে কাজে ডুবে ছিল। আমার শরীর খারাপ লাগছে বিধায় এক হাত ল্যাপটপে চালাতে চালাতে অপর হাতে আমার মাথায় চুলের ভাঁজে ভাঁজে বিলি কেটে দিল। কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল ঠাহরই করতে পারি নি। এইতো কিছুক্ষণ আগে ঘুম ভাঙল। তাই আগে নামাজটা কাজা হওয়ার আগে আদায় করে নিচ্ছি। পরে একসাথে রাতের খাবার খাব। বড্ড বেশি খিদে পেয়েছে! পেটে ইঁদুর ছুটছে যেন!

ইফান আড়াল থেকে শান্ত দৃষ্টিতে কয়েক মূহুর্ত আমাকে নির্নিমেষ দেখে গেল। পুরুষালি অতি চেনা কোলনের সুঘ্রাণে আমি নামাজরত অবস্থাতেও ঠাহর করতে পারলাম তার উপস্থিতি। তবে সালাম ফেরানোর আগেই লোকটা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আমি সালাম ফিরিয়ে তাকালাম সেদিকে, যেদিকে ইফান এতক্ষণ দাঁড়িয়ে আমাকে অবলোকন করছিল। ঝলমলে মৃদু আলো বিচ্ছুরণ করা ফেইরি লাইটগুলো বাতাসের মৃদু হিল্লোলে দোল খাচ্ছে। এখনো বাতাসে সুতীব্র ঢেউয়ের মতো এসে আঁচড়ে পড়ছে ওর পুরুষালি দেহের অতিচেনা মিষ্টি ও মসলাদার সুগন্ধির সুক্ষ্ম নোট। নির্বিকারে বাতাসের তারে তারে জানান দিচ্ছে কিছুক্ষণ আগে মাফিয়া বসের তবুত্ত অভ্যাগমনের কথা।
আমি স্থির দৃষ্টিতে খানিকক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইলাম। অতঃপর ভারী নিশ্বাস ত্যাগ করে ফের ওঠে দাঁড়ালাম, ভেতরের নামাজটুকু ধীরেসুস্থে পড়ে শেষ করার জন্য।

নামাজ পড়া শেষ করে বেশ অনেকটা দীর্ঘ সময় মোনাজাত করলাম। ভেবেছিলাম লোকটা ফের এসে আমাকে ডাকবে আর রাত না করে খেয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু ডাক আসল না। ঘড়ির কাটা বারোটা ছুয়েছে। নামাজ পড়ে বড্ড ক্লান্ত লাগছে। এসির ভেতরেও দেখ কেমন করে ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে গেছি। মাথার হিজাবখানা খুলে খোপার বাঁধন থেকে বের হয়ে আসা ছোট ছোট অবিন্যস্ত হয়ে থাকা চুলগুলো দু’হাতে পিছন দিকে ঠেলে ঠিক করে নিলাম। অতঃপর পরনের কামিজ দিয়েই মুখ হতে গলার ঘাম মুছে নিলাম। ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় বসে হাত বাড়িয়ে বেডসাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাসখানা তুলে ঢকঢক করে পুরো পানিটা সাবাড় করে দিলাম। গলা ভিজতেই পরানটা যেন জুড়িয়ে এলো। তবুও ক্লান্তিতে ভাটা পরলো না।
আমি বিছানায় দু’হাতে ভড় দিয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে জোরে জোরে দম নিতে থাকলাম। সেই এ’ক্সিডেন্টেের পর থেকে শরীরটা আমার কেমন যেন একটা ভে’ঙে পড়েছে। আগের মতো বল পাই না। অল্পতেই অনেক পরিশ্রান্ত অনুভব করি। এবার মনে হচ্ছে ইফানকে জানাতে হবে৷ অসুস্থতা নিয়ে হেলাফেলা করা মোটেও উচিত হবে না। পরে দেখা যাবে কি থেকে কি রোগ বাধিয়ে বসেছি! আনমনে এটা সেটা ভাবছি তখনই অনুভব করলাম আমার পায়ে কি যেন ডলাডলি করছে। তড়িৎ গতিতে শংকিত দৃষ্টি ঘুরাতেই দেখি ব্রুনো তার মাথা আমার পায়ের উরুতে ঘষাঘষি করছে। এক লহমায় লাফিয়ে বিছানায় উঠে গেলাম আমি। ব্রুনো বাজখাঁই কণ্ঠে দুবার ডাকল, ভাউ ভাউ!

আমার গা গুলিয়ে আসছে। সারাজীবন কুকুর দেখলেই সাত হাত দূর দিয়ে হেঁটেছি। আর এখন কিনা কুকুর আমার গা ছুয়ে দিল। ইয়্যুও! বি’কৃত ভঙ্গিতে আমি নাকমুখ কুঁচকালাম। যদিও ব্রুনো অত্যন্ত দামি, উচ্চশিক্ষিত এবং রীতিমতো আভিজাত্যের ট্রেনিংপ্রাপ্ত এক শিকারি কুকুর। ওর রাজকীয় রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে ইফান প্রতি মাসে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, তা দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন কেটে যায়। ওর উন্নত চিকিৎসা থেকে শুরু করে দেখভালের জন্য নিযুক্ত আলাদা লোক– সব মিলিয়ে এলাহি কাণ্ড! সবার কাছে ব্রুনো দেখতে আদুরেমাখা হলেও কেন যেন আমার অস্বস্তি হয়। তাই নাকে হাত ধরে অপর হাত নাড়িয়ে ব্রুনোকে তাড়িয়ে দিতে দিতে বললাম,

–“বেরিয়ে যা বলছি। এক্ষুনি বেরিয়ে যা। তোকে ইফান মানা করেছে না আমার ধারেকাছে না আসতে? তবুও অবাধ্য হয়েছিস! দাঁড়া তোর ব্যবস্থা করছি আজ।”
আমার কথাগুলো শুনে ব্রুনো ফের ডেকে উঠল, “ভাউ ভাউ!”
তবে এবার বেচারার গলার স্বর বড় ক্ষীণ আর অনুনয়মাখা মনে হলো। যেন সে আমাকে মান্যি করে চলে। আমি লক্ষ করলাম ব্রুনোর চেহারাটা অনেক শান্ত আর কোমল ঠেকছে। আমার সাথে কখনো এত নরম দৃষ্টিতে সে তাকায় না। সহসা আমার কাঠিন্য মনটা একটু মোমের ন্যায় গলল। যদিও ওকে হাত দিয়ে ছোঁয়া বা আদর করার প্রশ্নই ওঠে না! নিম্মি ছাড়া অন্য কোনো বিড়ালকেই যেখানে ছুঁই নি সেখানে কুকুর ছোঁয়া তো দুঃস্বপ্নেও ভাবি না!
আমি গলা খাকাড়ি দিয়ে বললাম,“দেখো একদম দু’ষ্টুমি করবে না। এখন রুমে তোমার ড্যাডি নেই। যাও, তার কাছে যাও।”
আমি বিছানা ছেড়ে ওঠে দাঁড়ালাম। অতঃপর দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে রুমের বাইরে হাতের তর্জনী আঙুল দিয়ে ইশারা করে ব্রুনোকে বললাম,“এখন যাও তুমি রুম থেকে। আর কখনো রুমে আসবে না। আমার পছন্দ না।”

বেচারা অভিমানীর ন্যায় চেহারা বানিয়ে দৃষ্টি নত করে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। নিজ জায়গা থেকে এক বিন্দু নড়ল না। আজ ব্রুনোর শান্তশিষ্ট আচরণ দেখে অবাক হচ্ছি। এতে আমার মনোবল বৃদ্ধি পেল। তাই এগিয়ে গিয়ে ওর গলার বেল্ট ধরে রুম থেকে জোর করে বাইরে বের করলাম। কিন্তু ব্রুনো নাছোড়বান্দার মতো দরজার সামনে অনড়ভাবে দাড়িয়েই রইল। আমি সুক্ষ্ম নজরে ওকে অবলোকন করে কোমরে দু’হাত ধরে শুধালাম,
–“কি সমস্যা তোমার? ক্ষুধা লাগছে? তোমাকে কি কেউ খাবার দেয় নি?”
তৎক্ষনাৎ ব্রুনো ডেকে উঠল। অস্থির ভঙ্গিমায় কিছু একটা বুঝাতে চাচ্ছে সে। বারংবার নিজের লম্বাটে লেজখানা নাড়াতে নাড়াতে আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ডাকতে লাগল। আমার ভ্রুযুগল কুঞ্চিত হলো। বিরক্তি নিয়ে শুধালাম,
–“সত্যি তোমাকে কেউ খাবার দেয় নি?”
দাঁড়াও গিয়ে মেইডগুলোকে একচোট ঝেরে আসছি।”
বাক্য সম্পূর্ণ করেই এক পা সামনে বাড়ালাম। অমনি ব্রুনো এক ছুটে ঘরের ভেতরে চলে গেল। ওর এই আকস্মিক ও অবাধ্য আচরণে আমি হতবিহ্বল হয়ে চেঁচিয়ে ওঠালাম,“ব্রুনো আবার ব’জ্জাতি করছ? বের হও বলছি।”

চেচিয়ে পিছু নিলাম। কিন্তু ব্রুনো বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে দাঁড়াল না রুমে। বরং ছুটে বেলকনিতে চলে গেল। বেলকনির লাইটের সুইচ অন করে আমিও রা’গে গজগজ করতে করতে সেখানে গেলাম। গিয়ে দেখি ব্রুনো মেঝেতে দুই পা দিয়ে দেহের ভর রেখে আর দুই পা বেলকনির রেলিঙে তুলে বিস্তীর্ণ বাগানের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে কি যেন দেখছে! আমি ধমকাতে ধমকাতে ব্রুনোর কাছে গেলাম। ব্রুনো আমার দিকে তাকিয়ে ফের কোমল গলায় ডাকতে লাগল। আমি ধমক দিতে গিয়েও পারলাম না। তাই পরিশ্রান্ত ভারি নিশ্বাস ছেড়ে শুধালাম,

জাহানারা পর্ব ৯০

–“কি সমস্যা তোমার ব্রুনো? এখান থেকে পড়ে যাবে তো বাবা!”
“ভাউ ভাউ!” ব্রুনো আমার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বাগানের দিকে তাকিয়ে ফের ডেকে উঠল। আমি বিরক্তি নিয়ে আওড়ালাম,“কী? কী ওখা…!”
বাকি বাক্য সম্পূর্ণ করে উঠতে পারলাম না। তার আগেই বাগানে এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে আমার বুক ধড়াস করে ধক করে ওঠল!

জাহানারা পর্ব ৯১