Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৮

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৮

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৮
শানজানা আলম

অথৈ বাড়িতে ফিরে এসেছে। বেশ দেরি হলো আজ।
তাহিরা বেগম জানতে চাইলেন, এত দেরি হলো?
অথৈ বলল, বলছি, কিছু খেতে দাও। খিদে পেয়েছে।
তাহিরা বেগমের হঠাৎ মনে হলো, অথৈ কখনো খেতে চায় না, আজ এভাবে কেন চাইছে! খুব খিদে পেল আজ!
ভাত প্লেটে নিয়ে ওভেনে দিতে দিতে তাহিরা বেগম বললেন, ঐশি ফোন করেছিল?
অথৈ বলল না, আজ এক কাহিনি হলো, পূর্ত মন্ত্রীর ছেলে না কে, আমার সাথে দেখা করতে এসেছে। আপু নাকি পাঠিয়েছে!

তাহিরা বেগম উৎসুক চোখে বললেন, এসেছিল?
ঐশি তো তোকে নিয়ে যেতে চাইছে, আমি বলেছি মডেল টেস্ট দিচ্ছিস, এখনি যেতে পারবি না।
মা, আপুকে বলে দিও, এরকম ভাবে আমি বিয়ে করব না। আর মন্ত্রীর ছেলে হলেই ঝুঁকে পড়তে হবে! আমরা চিনি ওনাদের? টাকা পয়সা আছে, কোথায় কি করে কিছুই জানি না। হুট করে কোনো সমস্যা হলে ভয়ে কথাও বলতে পারব না। জেনে শুনে এসব রিস্কে আমি নাই।
ঐশি বলছে, ছেলেটা খুব ভালো।
অথৈ বলল, এত ভালো তো সে নিজে বিয়ে করে নিক না। এখন তো সে সিঙ্গেল!
মা তুমি জিজ্ঞেস করো তো আপুকে ও কি করে ঢাকায়, এত খরচ কিভাবে করে ও!
বিজনেস করছে বলল,
বিজনেস তো টাকা কোথায় পেল?
কেন, এহসান তো টাকা দিয়ে দিয়েছে সব।
অথৈ ভাত খেতে খেতে বলল,

মা, ও গুলশানে শো রুম নিচ্ছে, তুমি জানো সেখানে কত টাকা লাগে? এহসান ভাই ওকে কত টাকা দিয়েছে যে কোটি টাকা এডভান্স করে শোরুম করে ফেলছে!
সে যাই হোক, ওর ভালো ও বুঝে নিক, আমাকে না টানাটানি করলেই হয়।
তাহিরা বেগম কথা বললেন না আর। অথৈ নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। টেনশন লাগছে। এহসান তো অফিসে।
কল মি হোয়েন ইউ আর ফ্রি!
কল করতে টেক্সট করে অথৈ চোখ বন্ধ করল।
সন্ধ্যার দিকে এলাকার একজন পলিটিকাল নেতা বাসায় লোক পাঠালো। একটা ফুলের বুকে, ফলের ঝুড়ি আর মিষ্টি দিয়ে গেল বাসায়। এমপি সাহেব নাকি সালাম জানিয়েছেন অথৈ এর বাবাকে। ছুটির দিনে যেতে বলেছেন। অথৈ হতভম্ব হয়ে গেল। এসব কি হচ্ছে!

সারাদিন এহসান প্রচন্ড চাপে ছিল। একগাদা কাজ জমে গেছে। পার্সোনাল লাইফের প্যারায় পারফরম্যান্স খুবই ডাউন হয়েছে কয়েক মাসে। সেটা রিগেইন না করলে প্রমোশনও হবে, কোথাও জব সুইচ করাও সহজ হবে না। তাই সারাদিন আর কথা বলে নি অথৈয়ের সাথে। সন্ধ্যায় এহসান বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে অথৈকে ফোন করল।
অথৈ অপেক্ষা করছিল।
ফোন পিক করেই অথৈ বলল, জানেন কি হয়েছে?
আপুর সেই মন্ত্রীর ছেলে পাশা না কি যেন, আজ এসে দেখা করে গিয়েছে। বাসায় বিকেলে একগাদা মিষ্টি আর ফুল দিয়ে গেছে একজন নেতার লোক। আব্বুকে দেখা করতে বলেছে।

মানে? – এহসান অবাক হলো।
মানে আর কি বলছি, আমি বললাম, আমি বিয়ে করতে চাচ্ছি না।
এহসান বলল, তুমি কথা বললে?
হ্যা, উনি আমার কোচিংয়ের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। আপু নাকি পাঠিয়েছেন।
এহসান বলল, অথৈ, এই প্রস্তাব যদি এমনি আসতো
তাহলে সমস্যা ছিল না। ঐশির মাধ্যমে আসছে বলেই বিষয়টা সাসপিশাস লাগছে আমার কাছে।
অথৈ বলল, আপনি আপুকে এত খারাপ মনে করছেন?
এহসান হেসে বলল, ভালো মনে করার মতো কোনো কারন খুঁজে পাচ্ছি না।
আমার তো মনে হয় আব্বু না গেলে বাসায় কথা বলতে চলে আসবে। আব্বু আম্মু কি করবে, বুঝতেছি না। আপু আমাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাইছে।
এহসান বলল, তুমি এক কাজ করো, ব্যাগ গুছিয়ে রাখো।

-আপনি হেঁয়ালি কইরেন না তো, আমি যথেষ্ট টেনসড!
-অথৈ, একা একা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে? – এহসান জিজ্ঞেস করল।
-কি রকম সিদ্ধান্ত?
-বিয়ের বিষয়ে?
-একা সিদ্ধান্ত নিয়েই তো সাদিকের বাসায় না করে দিলাম। এখনো না করছি, কেন করছি জানি না।
আমি মনে হয় জানি!- এহসান বলল।
অথৈ অধৈর্য হয়ে বলল, মানে? একটু ঝেড়ে কাশুন তো! আর ভালো লাগছে না!
– অথৈ, একা একা অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হবে তোমাকে। পারবে তো?
হঠাৎ এহসানের কণ্ঠস্বর অন্যরকম শোনায়।
অথৈ বলল, কি বলতে চাচ্ছেন?

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৭

-কাল সকালে বলি, কেমন? এখন শুয়ে পড়ো। মাথা ঠান্ডা করে ঘুমাও। রাখছি।
এহসান অথৈয়ের কল কেটে দিয়ে কাউন্টারে কল করে টিকিট কনফার্ম করে নিলো। আলমারি থেকে একটা পানজাবী কাঁধের ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। কিছু একটা ঝড়ের মুখোমুখি তাকে হতেই হচ্ছে!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৯