Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪৩
শানজানা আলম

যাক, এতক্ষণে একটু হাসিমুখ দেখা গেল- এহসান বসতে বসতে বলল।
অথৈ বলল, হাসির মতন কি পরিস্থিতি ছিল সারাদিন?
এহসান বলল, নাহ, টান টান উত্তেজনাময় পরিস্থিতি। তবে আমি।জানতাম তুমি আসবে।
অথৈ বলল, কিভাবে নিশ্চিত হয়েছেন?
জানি না, কথা বললে হয়তো মানসিকতা টের পাওয়া যায়।।
এহসান বলল।
আপনি সরাসরি চলে আসার কথা ভাবলেন কখন?

যখন শুনলাম, মন্ত্রীর ছেলে বাসা অবধি চলে গিয়েছে, তখন আমার আর কিছু উপায় ছিল না। ঐশিকে তোমার বাবা মা
বিশ্বাস করে, ভালো ছেলে আপাতদৃষ্টিতে, না করার কারন নেই।
ফাইট দিতে পারতাম না বলে, কথা আগানোর আগে চলে এলাম।
পারতেন না বলছেন?
না, কারন আমার অতীত, এমনিতে আমার খুত না ধরতে পারলেও অতীত সামনে এসে আমাকে হারিয়ে দিতে পারত!
কিন্তু আমি তো রাজী ছিলাম না!- অথৈ বলল।
রাজী হয়ে যেতে পারতে পরিবারের চাপে। সব কিছু তোমার।হাতে থাকত না। যাক, বাদ দাও, কেক খাও, কিছু তো খাও নি, খেজুর ছাড়া!
হুম, তিনটা খেজুর খেয়েছি, আর পানি, ভীষণ খিদে পেয়েছিল।
খাবার নিয়ে খাওয়ার পরিস্থিতি ছিল না। মা বাবা খেয়েছেন কিনা কে জানে!
আচ্ছা একবার ফোন করে নাও।
ফোন ধরবে না।

না ধরুক, রোজ ফোন করবে, মাকেও বাবাকেও। একসময় ঠিকই।রাগ ভাঙবে, তুমি ভালো আছ দেখলে।
আমি ভালো থাকব?
আমি আসলে তোমাকে প্রাচুর্য দিতে পারব না। এখন কয়েকমাস তো একদম টানাটানির সংসারে নিয়ে যাচ্ছি।
এমনকি বাসা বদলও করতে পারি নি। তবে ভালো রাখার চেষ্টা করতে পারি। – এহসান বলল।
অথৈ বলল, আমাকে ভালো রাখার চেষ্টা করবেন,সেটা ঐশিকে
করেন নি কেন?

এহসান বলল, করিনি সেটা ঠিক না। ওর পছন্দ মত বেশি ভাড়ার বাসায় উঠলাম, ওর পছন্দ মত সংসার গোছানো হলো, এমবিএ ভর্তি হলো, তবে ঐশির মন ভরেনি, আমার গোণা বেতন ওর চাহিদা পূর্ণ করছিল না। আর ওর উদাসীনতায় আমার সংসার লাটে উঠে গিয়েছিল। লাস্টের দিকে তো মেন্টাল টর্চার করত আমাকে।
হুম, গয়নার রিসিটটা দেখে আমারও মনে হলো, ওর লিভিং স্টান্ডার্ড এত হাই হয়ে গেছে, আমার ভয় লাগে।
ওর কথা বাদ দাও। কিছু খাও তো।
অথৈ বলল, এগুলো খাব না এখন।
আচ্ছা, সামনে হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে থামলে ভাত খেয়ে নিব।
তুমি একটু বিশ্রাম নাও। চোখ বন্ধ করো। আর।আপনি টা বাদ দাও, তুমি করে বলো।
অথৈ চোখ বন্ধ করে ফেলল।
হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট সাম্পানে বাস থামবে বিশ মিনিট। এহসান সুপারভাইজারের কাছে বলল, ডিনার করবে। দেরী হলে যেন ফোন করে৷
সুপার ভাইজার বলল, এমনিই কল পাবেন, তাড়াতাড়ি যান, নয়তো টয়লেটে লাইন পড়বে।
এহসান বলল, অথৈ ফ্রেশ হয়ে এসো। আমি খাবার অর্ডার করে দিচ্ছি। কি খাবে? কাচ্চি নাকি খিচুড়ি?
কিচ্ছু না, ভাত পাওয়া যাবে না? – সারাদিন খাওয়া হয় নি।
এহসান বলল, ব্যবস্থা করছি।

ভাত পাওয়া গেল, রুই মাছ, করলা ভাজি, ডাল অর্ডার করে দিলো এহসান।
অথৈ এসে মেনু দেখে খুশি হয়ে গেল। অথৈকে বসিয়ে এহসান ফ্রেশ হতে গেল। ফিরে এসে দেখে অথৈ শুরু করেনি।
অথৈ, এখনো শুরু করো নি, সময় আছে দশ, পনের মিনিট।
অথৈ বলল, এনাফ। বসো এখানে।
অথৈ এর মুখে তুমি শুনে এহসান খুশি হয়ে গেল। ওরা দ্রুতই খেয়ে নিলো।
খাওয়া শেষে বাসে ফিরে দেখল, বাসের দরজা খোলা হয় নি। বাইরে বেশ ঠান্ডা বাতাস আছে। বৃষ্টি বৃষ্টি আবহাওয়া।

এহসান বলল, বাসায় ফোনটা করো এখন।
অথৈ দ্বিধা নিয়ে মাকে ফোন করল।
তাহিরা বেগম ভেবেছিলেন রিসিভ করবেন না, তবে এড়িয়ে যেতে পারলেন না। গতকাল মেয়ের সাথে ভাত খেয়েছিলেন, আজ মেয়ে কতদূরে চলে গেল!
ফোন তুলতেই অথৈ ডাকল, মা! -গলা ভার হয়ে এলো তার।
তাহিরা বেগম জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় আছ?
ওনার জিজ্ঞাসা শুনে অথৈ একটু শান্ত হয়ে বলল, সাম্পানে মা। ডিনার করেছি এখানে। বাবা খেয়েছে?
হ্যা খেয়েছে।

কি করছে এখন?
শুয়ে পড়েছে।
অথৈ আর কিছু বলার খুঁজে পেল না।
কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে তাহিরা বেগম বললেন, ঠিক আছে, সাবধানে যেও।
সব সময় করে বলা মা তুমি বলে সম্বোধন করছে, তবু কথা বলে অথৈ এর হালকা লাগছে।
অথৈ বলল, বাবাকে দেবে একবার?

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪২

এহসান ইশারায় বলল,বাসের সুপারভাইজার তাড়া দিচ্ছে।
তাহিরা বেগম বললেন, ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়েছে৷ আমি জানাব তুমি ফোন করেছ।
ঠিক আছে, রাখছি তাহলে।
ফোন রেখে অথৈ এহসানের হাত ধরে বাসে গিয়ে উঠল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪৪