ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫০
শানজানা আলম
এহসান অফিসে বের হয়ে গেল এগারোটার দিকে। যাওয়ার আগে পরোটা ভেজে ডিম পোচ করে অথৈকে খাইয়ে দিয়ে গেল। একা একা নিশ্চিত কিছু খাবে না, এত ঝামেলার পরে। অথৈ লাঞ্চ বক্স দিতে চেয়েছিল, এহসান বলল, আজ থাক। নেক্সট উইক থেকে দিও।
বুয়া এসে পড়েছিল। এহসান বুয়া আসার পরে বের হয়ে গেল। টিভি ভাঙা দেখে বুয়া বলল, আগের ম্যাডাম আসছিল শুনলাম, ভাঙচুর কইরা গেছে!
অথৈ না লুকিয়ে বলল, হুম।
-বেজায় মেজাজ গরম ম্যাডামের, স্যারের সাথে খ্যাচর খ্যাচর করতে থাকত। রান্নাঘরে তো ঢুকতেই চাইত না।
আপনের বিয়ার কথা শুইনা চেইতা গেছে, জানত না?
না!
আর ম্যাডামে তো রাইত বিরাইতে পুরুষ লোকের গাড়ি থিকা নামতো, জড়ায়া ধরত, দেখছে তো দুলাল।
একদিন নাকি চুমাও দিছে।
স্যারে যে ভালো মানুষ, এই জন্যে আপনের বাপ মা তারে হাত ছাড়া করে নাই, জানি তো!
অথৈ হাসার চেষ্টা করল। আজ তার কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। এমনিতে গত রাতের মিষ্টি সময়ের উষ্ণতা জড়িয়ে সারাদিন বিশ্রাম করবে ভেবেছিল, এহসান যাবার আগে বারবার বলেছে, আজ কোনো কাজ না করতে।
বুয়ার একসময় নিজের কাজ শেষে চলে গেল। এরপরে
অথৈ বসে মাকে কল করল। তাহিরা বেগম ফোন ধরলেন। ঐশি গিয়েছিল, কি করে আসছে, কে জানে!
-মা, আপুকে কে বলেছে, তুমি?
-হ্যা। কেন?- তাহিরা বেগম বললেন।
-তুমি তো জানো ও জানলে একটা অশান্তি হবে, কেন বলতে গেলে?
-তুমি করতে পারবা অশান্তি, আর বললেই দোষ! ওর তো জানা দরকার তাই না!
-আপু টিভি ভেঙে ফেলসে।
-তুমি ওর সংসারটাই ভাঙছ, সেটা কিছু না আর ও একটা টিভি ভাঙল, এটা দোষ?
অথৈ বলল, মা, তোমার সাথে আমি আর কখনো কল করব না, যদি না তোমার ভুল ভাঙে। তবে ভুল ভাঙলে আমি নিজে এসে তোমাকে আর আব্বুকে আমার সংসার দেখাতে নিয়ে আসব। মা, এহসান অসম্ভব ভালো মানুষ। ও আমাকে ভালো রাখবে।
থাকো ভালো, আমি আর তোমার বাবাও চাই না তুমি আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখো।
তাহিরা বেগম ফোন রেখে দিলেন। নিজের মাকে অচেনা লাগে অথৈ এর। আপুর কাহিনীগুলো কি মায়ের জানা দরকার না! কে জানাবে! অথৈ বললে তো বিশ্বাস করবে না।
বেচারা ঐশি বাসায় ফিরে গেল। তারও ক্লান্ত লাগছিল। এত ধকল নেওয়া যাচ্ছিল না আর।নাসির বেশি রাফ হয়ে গিয়েছে আজ, কোনো স্টাইল বাদ রাখে নি।
পর্ণ ভিডিও দেখে পুরো পার্ভাট আচরন করেছে আজ।
সাধারণ জীবনে এসব কেউ করে না। শরীর অবসন্ন হয়ে গেছে, একটা হট শাওয়ার আর স্পা করতে হবে।
ফ্ল্যাটে ফিরল ঐশি, রাত এগারোটা বাজে, গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সারা শরীর ব্যাথা। সহকারী মেয়েটাকে একটা শট ওয়েল ম্যাসাজ রেডি করতে বলল ঐশি।
হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে শরীরে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে দেয় সহকারী মেয়েটি। নাসিরের আচরের দাগ স্পষ্ট হয়ে আছে। নাসির বলেছে এমার্জেন্সি পিল নিতে। সে কোনো প্রোটেকশন নেয় নি। মনে হলো ঐশি একটা সেক্স টয়। ইচ্ছে মতো ওকে ব্যবহার করল সারাটা দিন।
আগের সেই মিষ্টি কথা, মিষ্টি ব্যবহার কোথায়!
ম্যাডাম, একটা নাপা এক্সট্রা খেয়ে নেন শরীর ব্যাথা করলে- সহকারী মেয়েটির কথায় কান্না পেলো ঐশির। এখানে বাবা মাকে আনা যাবে না। ঐশি কয়েকটা দিন নন্দীপুরে গিয়ে থেকে আসবে। এই মুহুর্তে এত বিলাসি জীবন, জামা কাপড় গাড়ি ফ্ল্যাট ঠুনকো মনে হয় ঐশির। নাসির তো পারত তাকে কাছে রেখে একটু টেক কেয়ার করতে! আসলেই কি নাসির ওকে ভালোবাসে, এত টাকা খরচ করছে ঐশির জন্য, ভালো না বাসলে কেন করবে!
হঠাৎ এহসানের কথা মনে পড়ে ঐশির। এহসান খুব যত্ন করে আদর করত ঐশিকে। তাও ঐশি বিরক্ত হয়ে যেত। এহসান কখনো জোর করে নি। এখন অথৈ কে কি একই ভাবে আদর করবে!
ওদের বাসর হয়েছে গত রাতে। অথৈ লাল টুকটুকে হয়ে ছিল। এহসানের বেলী ফুল পছন্দ। পুরো রুম বেলী ফুল দিয়ে সাজিয়েছে।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৪৯
নিশ্চয়ই অথৈকে কষ্ট দেয় নি এহসান। বারবার টেক কেয়ার করেছে, ঠিক আছ তো, সমস্যা হচ্ছে না তো!
ঐশির কান্না পেলো ভীষণ, আচ্ছা ঐশি কি কোনো বড় ভুল করে ফেলল!
