বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬৬ (২)
ইশরাত জাহান
কাজ শেষ করে ম্যানেজারের কাছে এসে দর্শন বলে,“আমার মোবাইল দেও।”
দর্শনের পার্সোনাল অ্যাসিস্টেন্ট না থাকায় ম্যানেজার সবকিছু সামলায়।ম্যানেজার পকেটে হাত দিয়ে অবাক।মোবাইল নেই।দর্শন সন্দিহান চোখে প্রশ্ন করে,“কি হলো?”
“পাচ্ছি না ফোন।”
চোখে রক্তিম আভা ছড়িয়ে দর্শন বলে, “হোয়াট?”
“পকেটেই রেখেছিলাম স্যার।”
ম্যানেজারের দায়িত্বে দিয়ে দর্শন মিটিংয়ে ছিল।শোভা কল করলে যেনো বলতে পারে দর্শন ব্যাস্ত।বায়ারদের সামনে মোবাইল রাখা ঠিক হবে না তাই।ওরা এসেছিলোই কয়েক মিনিটের জন্য।এই সময়ের জন্য দর্শন ম্যানেজারের কাছেই সর্বদা মোবাইল রেখে দেয়।আজকেও রাখলো।এখন খুঁজে পাচ্ছে না।শুনেই রেগে বলে ওঠে,“তোমাকে আমার কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফ্রিতে না যে নিজের কাজটা অবহেলায় রেখে দিবে।কি করছিলে যে মোবাইল নিজের কাছে রাখতে পারোনা?”
ম্যানেজার ভাবছে মোবাইল পকেট থেকে হারাবে কিভাবে!কিছুক্ষণ পর বলে,“মিস সিনথিয়া এসেছিল।উনি কেমন যেন ড্রাংক হয়ে আমার উপর…
বলতে গিয়েও থেমে গেলো।দর্শনের ফুফাতো বোন বলে কথা।বেশিদূর বলার সাহস পেলো না।দর্শন অবাক করা কথা বলল,“সিডিউস করতে চেয়েছিল তোমাকে?”
ম্যানেজারের চোখ বড় বড়।নিজের বোনকে নিয়ে এভাবে বলা ঠিক!দর্শন ফরাজি বলেই পারে।তার তো অভ্যাস যার যে চরিত্র তার ব্যাপারে মুখের উপর বলে দেওয়া।ম্যানেজার মাথা উপর নিচ করতেই দর্শন ধমকে গর্জন দিয়ে বলে,“আর তোমারও গায়ে সুড়সুড়ি বেড়েছিল।নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে জন্য না?যে কেউ শরীরের সাথে ঘেসবে আর তুমি তাল মেলাবে।বিয়ে করো কোন দুঃখে?জীবনে রক্ষিতা পুষে রাখবে।বউ রাখার দরকার কি?”
ম্যানেজার লজ্জায় পড়লো।দৌড়ে আসলো তুহিন।তুহিনকে দেখে দর্শন ভ্রু কুঁচকে বলে,“তুই এখানে কেন?”
“প্রেমা আর ভাবীকে ভার্সিটির মাঠে থাকতে বলেছিলাম।ওরা ক্লাস শেষ হবার আগেই প্রেমার খালাতো বোনের সাথে দেখা করে।এরপর কী থেকে কী হয় তোর কাছে নাকি ভাবী রেগে রেগে চলে আসে।”
“কী থেকে কী মানে?”
“তোর ফোন থেকে ওই মেয়েটা আজেবাজে ছবি পাঠিয়েছে ভাবীর কাছে।”
দর্শনের কাছে সবকিছু ক্লিয়ার।ম্যানেজারকে ঠাস করে থাপ্পড় মেরে বলে,“তোমাকে ফায়ার করা হলো।”
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দর্শন।পিছনে দাঁড়িয়ে তুহিনও দেখলো।দর্শনের উদ্দেশে বলে,“পাসওয়ার্ড দেওয়া নেই তোর ফোনে?”
দর্শন হাতমুঠ করে বলে,“হ্যাকারের আবার পাসওয়ার্ড লাগে?”
“এবার কি হবে?দুজনকে খুঁজে বের করব কিভাবে?”
“পুলিশে জানা।”
এর মধ্যেই সিনথিয়া কল করে দর্শনের ফোন থেকে তুহিনের কাছে।তুহিন চশমার কোনা ধরে সন্দিহান গলায় বলে,“তোর নাম্বার থেকে কল।”
“ধর।”
তুহিন ধরতেই সিনথিয়া বলে, “হেয় হ্যান্ডসাম।”
তুহিন চুপ থাকে।উত্তর দেওয়ার রুচি নেই। লাউডে রাখতেই সিনথিয়া বলে,“নিজেদের ভালোবাসার নারীকে খুঁজছো?খুঁজতে হবে না।আমি হেল্প করে দিচ্ছি।ওরা আমার কাছে আছে।”
দর্শন দুশ্চিন্তায় পড়ে।মোবাইল থাকলে বাড়ির ফুটেজ দেখতে পারতো।তুহিন প্রশ্ন করে,“কি চাই?”
সিনথিয়া মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে,“বেশি না।তোমরা দুজনে আসলেই হবে।”
তুহিন অ্যাড্রেস চাইলে সিনথিয়া বলে দেয়।সাথে সতর্ক করে দেয়,“পুলিশ নিয়ে আসলে শখের নারী যাবে ওপারে।”
তুহিন কল কাটতেই দর্শন বলে,“চল।”
তুহিন জিজ্ঞাসা করে,“পুলিশে জানাবি না?”
“বারণ করলো তো।”
“তুই রাজি হয়েগেলি!”
“চল তুই।”
তুহিন ভাবনায় পড়ল। দিজার জন্য ওর মধ্যে ছটফটানি বাড়ছে।অথচ দর্শনের চোখেমুখে রাগ ছাড়া কিছুই নেই।দর্শন বাইরে এসে তুহিনের গাড়িতে ওঠে।নিজের গাড়িতে আজ উঠলো না।ব্যাপারটা তুহিনকে বেশি ভাবালো না।তুহিন দুশ্চিন্তায় থেকে বলে,“ওরা সেফ থাকবে তো?”
“দুশ্চিন্তা হচ্ছে তোর?”
ড্রাইভ করছে দর্শন।চোখ রাস্তার দিকে।দর্শন আবারও প্রশ্ন করে,“কার জন্য এত দুশ্চিন্তা?”
তুহিন শুকনো ঢোক গিলে বলে,“আর ইউ কিডিং দর্শন?সিরিয়াস মোমেন্টে তোর এগ্রেসিভ ভাবটা না দেখালে হয়না?”
দর্শন চোখ রাঙিয়ে তাকালো।তুহিনের হুশ ফিরতেই চুপ করে।দর্শন শান্ত কণ্ঠে বলে,“আমার ওয়াইফের সেফটি আমি বুঝে নিবো।ওকে কেউ এক চুল পরিমাণ আঘাত করলেও তাকে সারাজীবনের জন্য ভুগতে হবে।”
“ওখানে তোর বোনটাও আছে।”
“আমার বোনের সাথে আমার প্রানটাও আছে।আমি দুজনের সুরক্ষা চাই।”
“তোর মুখের হাসিটা আমি দেখতে চাই।তার জন্যই এত..
বলেও থেমে যায় তুহিন।দর্শন ড্রাইভ করতে করতে বলে,“কি!”
তুহিন সেক্রিফাইজ শব্দটা উচ্চারণ করতে পারল না।আবেগের বশে মুখ খুললে দর্শন তো সন্দেহর ঝুড়ি খুলে বসবে।তুহিন গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,“তোর জীবনটা পরিপূর্ণ দেখার জন্য আমার এত দৌড়াদৌড়ি তোর সাথে।”
“শুধুই কি তাই?”
“তাছাড়া আর কি?তাছাড়া কোনো কারণ থাকতে পারে?আমাকে সন্দেহ করিস তুই?”
“একদম না।তোকে আমি সন্দেহ করি না এক ফোঁটাও।”
“আমি এমন কোনো কাজ করব না যে কাজে তুই আমার দ্বারা আঘাত পাবি।”
দর্শন তাকালো তুহিনের দিকে।রহস্যের হাসি হেসে বলে,“এই জন্য কি নিজের জীবনটাকেও থামিয়ে রাখবি?”
“আমার জীবনটা থেমে আছেই বা কই?আমি তো জীবনটাকে এগিয়ে নিচ্ছি।”
“আইবুড়ো থেকে নিজের মাকে কষ্ট দিয়ে!”
“দর্শন!”
“আমার বোনকে ভালোবাসিস বললে কি খুব ক্ষতি হয়ে যেতো?”
তুহিনের হাত পা থমকে গেলো।ঘাম বের হলো কপাল বেয়ে।শুকনো ঢোক গিলে বলে,“তুই জানিস সব?”
“আমার বাড়িতে হিডেন ক্যামেরা আছে।তারসাথে আমার দৃষ্টিশক্তি তুখর।তুই যে আমার বোনের দিকে কাতর চোখে তাকাস সব আমার নজরে ধরা পড়ে।”
তুহিন কাপা কাপা চোখের পাতা নাড়িয়ে বলে,“তোর সিদ্ধান্ত কি?আমাদের বন্ধুত্বকে এখানেই শেষ করে দেওয়া?”
দর্শন কথা বাড়ালো না।দর্শনের নীরবতা তুহিনকে ভাবনায় ফেলে।সিনথিয়ার পাঠানো অ্যাড্রেসে এসে গাড়ি থামায় দর্শন।পকেটে করে নিয়ে এসেছিল নিজের বন্দুক।লাইসেন্স করা বন্দুক।দর্শনের পিছনে দাঁড়ায় তুহিন।দুজনে একসাথে ঢুকলো পুরোনো ভাঙাচোরা গোডাউনের মধ্যে।দর্শন আর তুহিন ভিতরে ঢুকেই দেখলো চেয়ারে দুই বোরকা পরিহিতা মেয়েকে বেঁধে রাখা।ওদের দুইপাশে আয়েশের সাথে বসে আছে দুজন।সিনথিয়া ও দর্শনের কোম্পানির পিছনে পরে থাকা সেই লোক নাম ইফাজ।তাকে দেখেই দর্শন বিদ্রুপের হাসে।ইফাজ এই হাসি দেখে ক্ষেপে গেলো।হুমকির সাথে বলে, “বউ আর বোনের জীবনের মায়া নেই দেখছি।”
দর্শন তোয়াক্কা না করে বলে,“আমার সাংসারিক বিষয়ে আমি তোকে বলতে বাধ্য নই।”
সিনথিয়া খোঁচা মেরে বলে,“ভাব দেখো!বউ আর বোনের প্রাণের ভয় পায়না এক ফোঁটাও।”
দর্শন সটান দাঁড়িয়ে থেকে পকেটে হাত রেখে বলে,“প্রাণ নিতে হলে আমার আসার অপেক্ষা করতে হতো না তোদের।”
ইফাজ নিজেও গা দুলিয়ে হেসে বলে,“তাও অবশ্য ঠিক।”
“তো আসল কথায় আসা যাক।কি চাই তোদের?”
সিনথিয়া একটা কাগজ এগিয়ে দিতেই ইফাজ বলে,“পাঁচ কোটি টাকার এই ডিল তুই আমার নামে লিখে দে।”
“এটুকুই?”
সিনথিয়া চোখ টিপে বলে,“চাইলে তোমাকেও আমার নামে রেজিস্ট্রি করতে পারো।”
দর্শন ঘৃণার দৃষ্টি দিয়ে বলে,“প্রস্টিটিউডদের উপর ইন্টারেস্ট নেই আমার।”
সিনথিয়া রাগে হুঙ্কার ঝারে,“দর্শন!”
সিনথিয়ার গলা চেপে ধরে দর্শন।ব্যথায় নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে সিনথিয়া।দর্শন কটমট করে বলে,“আমার বউ ব্যতীত কেউ আমার সামনে হুঙ্কার দিয়ে কথা বলার সাহস পায়না।”
তুহিন হালকা কেশে বলে,“স্বামী স্ত্রীর ব্যাপার নিয়ে পরে কথা হোক এখন ওদের ব্যাপারটা মিটমাট কর।”
দর্শন এবার ধীরে ধীরে ছেড়ে দিলো সিনথিয়ার হাত।সিনথিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে বলে,“খুব বেশি বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আমার সাথে।প্রতিটা মুহূর্তে আমার অপমান করেছো চারজনে।সহ্য করেছি আমি।”
“লজ্জা না থাকলে তাকে সহ্য করতেই হয়।”
“এত যে মুখ চালাচ্ছ সামনের দুজন ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছো না?তোমার এই কথার তেজ ওদের উপর কেমন পড়বে?”
সামনে থাকা শোভার ও দিজার বোরকা দেখে তুহিন বুঝতে পারছে কোনটা কে।আজ সকালেই নতুন বোরকা দিজা পড়েছিল।সেটা দেখেই অনুমান করে।তুহিন পরিবেশটা ভয়াবহ দেখে দর্শনকে থামাতে বলে,“চুপ করে ওদের যা চাওয়া পাওয়া মিটিয়ে দে।”
দর্শন বিরক্তবোধ করে বলে,“নিজের অর্জিত পরিশ্রমের ফল অন্যকে দিবো কোন দুঃখে?”
“বউকে বাঁচাবি না?”
ইফাজের কথা শুনে দর্শন বলে,“আমার বউকে নিয়ে তোর চিন্তা না করলেই ভালো।”
“আমার বয়েই গেছে ওর জন্য চিন্তা করতে।”
সিনথিয়া ইচ্ছা করে দর্শনকে রাগাতে বলে,“ওর বউ কিন্তু সেক্সি আছে।”
দর্শনের রাগ এবার ঠেকায় কে।সোজা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো সিনথিয়ার গালে।সিনথিয়ার চুল ধরে দেয়ালের উপর কপালটা কয়েকবার আঘাত দিলো।কপাল বেয়ে রক্ত ঝরছে সিনথিয়ার।এদিকে মজা নিচ্ছে ইফাজ।সিনথিয়ার কিছু হলেও ইফাজের যায় আসেনা।সে তো দেখছে দর্শনের দুর্বলতা কোনটা।অনেক পরে শোভার মাথায় গুলি ধরতেই দর্শনকে হুমকি দিয়ে বলে,“বউকে প্রাণে বাঁচাতে চাইলে তোর এই ডিল আর তোর সমস্ত কাজ আমার নামে লিখে দে।”
দর্শন ঘেমে একাকার।কপালের ঘাম বুড়ো আঙুলে মুছে বলে,“নিজে অর্জন করতে পারিস না আবার কোম্পানির বড় নাম চাস!পারলে ভিক্ষা করে খা।”
“বেশি কথা না বলে বউকে বাঁচাতে চাইলে কথামত চল।”
“দম যদি এতই থাকে তাহলে কর গুলি।”
দর্শনের ভাবলেশহীন আচরণে অবাক ইফাজ।পাশে থাকা গার্ড বলে, “বউ গেলে বউ পাবে ব্যাটা কোম্পানির নাম হারালে তো আর ফিরে পাবে না।পেলেও দুই একমাসের মধ্যে চুটকি মেরে কোম্পানির নাম কামাই করা সম্ভব না।”
“আসলেই তো।এই জন্যই বউকে নিয়ে এত বেপরোয়া!তাহলে বউকে বাদ দেই।বোনকে নিয়ে শুরু হোক। বউ গেলে নাহয় বউ আসবে বোন গেলে তো পুরো পরিবার ধ্বংস।”
বন্দুক ঘুরে গেলো দিজার দিকে। আতকে উঠল তুহিন।দর্শন দেখে বলে,“তোর ফাটছে নাকি!”
তুহিন রাগী চোখে তাকাতেই দর্শন বলে,“আমার বোনের জন্য তুইই সেরা।”
তুহিন রেগে আগুন হয়ে বলে,“ওরা প্রেমার জান নিয়ে টানাটানি করছে আর তুই রিলাক্সে আছিস?”
“ওরা আমার বউয়ের জান নিয়েও টানাটানি করেছিল।তখনও তো রিলাক্সে ছিলাম।”
“তোর কি আগে থেকেই শোকে মাথা গেছে?”
“আমার মাথা ঠিক আছে।”
“না নেই।থাকলে এতটা অবুঝ হয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে দেখে সব মেনে নিতে পারতিস না।”
“কি করা উচিত আমার এই মুহূর্তে?”
“খুন করে দে সব কয়টাকে।”
“আইনকে নিজের হাতে নিবো?”
“তুই কবে থেকে এত গভীরে ভাবতে শুরু করলি?”
“এই তো কিছুক্ষণ আগে থেকে।”
তুহিন চোখ খিচে হুঙ্কার দিয়ে বলে,“এটা মজা নেওয়ার সময় নয়।ওকে ফাইন আমি তোর বোনকে ভালোবাসি।আমার অন্যায় হয়েছে।শুধু তো ভালোবাসি।উঠিয়ে নিয়ে যাইনি।তাহলে কেন আমার ধৈর্যের এত পরীক্ষা নিচ্ছিস মেয়েটাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে?”
ইফাজ যেনো সিনেমা দেখছে।প্রেমিকার জন্য প্রেমিকের কাতরতা।দর্শন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে,“ধৈর্য তুই ধরতে চেয়েছিস আমি ধৈর্যের পরীক্ষা নেইনি।”
“ওদেরকে আগে বাঁচানোর ব্যাবস্থা করা হোক।এরপর নাহয় আমাদের ব্যাপারটা দেখা যাবে।”
“কিভাবে বাঁচানো যায়?”
“কতবার বললাম পুলিশে কল দে দিলি না।”
দর্শন ভাবলেশহীন হয়ে বলে,“পুলিশ কি আসলেই কোনো কাজের?”
“দর্শন প্লিজ সিরিয়াস হ।”
সিনথিয়া এতক্ষণ নিজেকে শান্ত করার চেষ্টায় ছিল।এবার নিজেকে অনেক কষ্টে দাড় করায় দেয়াল ধরে ধরে।ভীষণ রেগে গেলো।হেঁটে গেলো গার্ডের পাশে।ওদের থেকে বন্দুক নিয়ে বলে,“কথা বাড়িয়ে কোনো ফায়দা নেই বরং ওদের দেমাগ দেখা ছাড়া।যা করার এবার সোজা একশন নিয়ে করতে হবে।”
বলেই গুলি করতে নিলে শোভা ও দিজার বোরকা পরিহিতা দুজনে চেয়ার ছেড়ে উঠে লাথি দিলো একজন সিনথিয়ার হাতে আরেকজন ইফাজের হাতে।তুহিন এগিয়ে আসতে গিয়েও এদের ফাইট ব্যাক দেখে থ।দর্শন মুখে হাসি ফুটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তুহিন আহাম্বক হয়েগেলো।দুজন বোরকা পরিহিতা নারী বোরকা খুলে নিজেদের ইউনিফর্ম অবস্থায় এবার ফাইট শুরু করে।সাথে আসলো আরো পুলিশ।যারা এতক্ষণ আশেপাশে লুকিয়ে ছিল।তুহিন অবাকের সাথে বলে, “মানে কি?”
“বাসায় দুজন মহিলা পুলিশ রেখেছিলাম শোভা আর দিজার মত হুবহু বোরকা পরিয়ে।যেনো ছুটির সময়ে সিনথিয়া কিডন্যাপার নিয়ে আসে আর ওদেরকে ধরে।ওরা বোরকার মধ্যে ব্লেট রেখেছিল।নিজেদের বাঁধন নিজেরা খুলতে।”
“এই কারণেই কি তুই ভাবী আর দিজাকে বাড়িতে যেতে বারণ করেছিলি?”
“হুমমম।”
“কিন্তু ওরা কোথায়?”
“ওরা কোথায় মানে?ওরা তোর সাথে নেই?”
“আমি কেন এত ডেসপারেট তাহলে?”
“অভিনয় করছিলি না!”
“না ইয়ার।আমি সত্যিই বলছি।ভাবী আর প্রেমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
দর্শন হাসফাঁস করতে করতে সিনথিয়ার কাছে এসে সিনথিয়ার চুল ধরে ঝাঁকালো,“বল আমার ওয়াইফি কোথায়?”
সিনথিয়া ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে বলে,“ওদেরকেই তো উঠিয়ে এনেছিলাম।আনার পর যা হলো তোমাদের সামনেই হলো।ওরা কোথায় আমি কিভাবে জানবো?”
পুলিশকে সব জায়গায় সার্চ করার হুকুম দিয়ে সিনথিয়াকে আবারও আঘাত করতে থেকে দর্শন।এদিকে সিনথিয়ার হাত থেকে দর্শনের মোবাইল ছিটকে পড়ে মেঝেতে।মোবাইল বেজে উঠলো আচমকা।রং নাম্বার।দেখে তুহিন রিসিভ করে লাউডে দেয়।যেনো পুলিশ কোনো ক্লু পায় সেই আশায়।রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে জানায়,“স্যার আপনার পার্সেল এসেছে।টোটাল ৬০০০০ টাকার জিনিস।”
দর্শন হাত শক্ত করতেই বেচারি সিনথিয়ার চুলগুলো আরো বেশি টান খায়।মাথা অবশ করছে এখন।সিনথিয়া কাতরাতে থাকে আর বলে, “লিভ মি।”
“আমার সংসারে চিপকে থাকার সময় মনে ছিল না কিভাবে লিভ নিতে হয়?নিজে থেকে লিভ নিলে আজ এত ভুগতে হতো না।”
বলেই ছুঁড়ে মারে সিনথিয়াকে।সিনথিয়ার পেট চেয়ারের কোণায় গিয়ে ঠেকতেই মেয়েটার মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়।সবাই দেখে আতকে ওঠে।ওপাশ থেকে ডেলিভারি বয় হেলো হেলো করতে থাকলে তুহিন বলে,“পরে পিক করা হবে।রাখছি আমরা।ব্যাস্ত আছি।”
ডেলিভারি বয় কিছু জানতে চাইলেও কথা শোনার আগে তুহিন কেটে দেয়।বিরক্তির সাথে বলে,“প্রয়োজনের সময় অকেজো কল।”
আসামিদের ধরে নেওয়ার সময় একজন সিনিয়র পুলিশ বলে,“অর্ডার সঠিক সময়ে না আসলেও তো আপনাদের অভিযোগের শেষ নেই।”
মেজাজ বিগড়ে গেলো দর্শনের।ধমকে বলে,“আপনার কাজ আপনি করেন।আমাদের ব্যাপারে নাক গলাবেন না।”
বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬৬
পুলিশ শুকনো ঢোক গিলে চলে গেলো।ভাবনায় পড়ল দুই বন্ধু।তুহিন একবার নিজের মাকে কল করে জানতে চায়,“তোমার কাছে কি কেউ ভাবী আর প্রেমা এসেছে?”
তুহিনের মা তাহমিনা জানায়,“না তো।”
তুহিন এবার দর্শনের উদ্দেশে বলে,“রাস্তায় কেউ অপহরণ করেনি তো?”
দর্শন চেয়ারে লাথি মেরে বলে,“যে আমার ওয়াইফির সাথে মিসবিহ্যাব করবে তার খবর আছে।”
