Home এমপি শেহরান মির্জা এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১২

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১২

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১২
সেঁজুতি আক্তার

রাত বারোটা।
অন্য দিনগুলোর মতো আজ আকাশে চাঁদ নেই। আকাশটা ভীষণ মেঘলা। হালকা বাতাস বইছে। মনে হচ্ছে যেকোনো সময় বৃষ্টি নেমে যাবে।
শেহরান হাইওয়ের একটা নির্জন রাস্তার ধারে গাড়িটা পার্ক করেছে।
গাড়ির বডির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর দৃষ্টি দূরের অন্ধকার আকাশে। ঠোঁটের কোণে জ্বলছে ধোঁয়া ওঠা সিগারেট। সিগারেটের লালচে আলোটা বারবার জ্বলে উঠছে, আবার নিভে যাচ্ছে।
শেহরান নীরব। গভীর কোনো ভাবনায় মশগুল হয়ে আছে।
রাস্তা দিয়ে মাঝে মাঝে দুই একটা গাড়ি ঝড়ের গতিতে ছুটে যাচ্ছে। শব্দ করে মিলিয়ে যাচ্ছে দূরে।
আজ শেহরানের বাড়ি ফেরার কোনো তাড়া নেই। শেহরান পকেট থেকে ফোনটা বের করলো। ফোনের লক খুলে গ্যালারিতে ঢুকলো। গ্যালারির লক খুলে স্ক্রল করতে লাগলো। হঠাৎ হাতটা থেমে গেল। একটা ছবিতে ক্লিক করলো। ছবিটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। বিড়বিড় করে বলল। এতগুলো বছর পরে চোখের সামনে না আসলেই পারতে। ভুলে যাওয়ার তো চেষ্টা করছিলাম। তাহলে কেন আবার মনে করিয়ে দিতে আসলে। শেহরানের চোখের সামনে ভেসে উঠলো সন্ধ্যার দৃশ্যটা।

শেহরানের সংসদ ভবনে একটি মিটিং ছিল বিকালের দিকে। মাইরাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে সংসদ ভবনে এসেছিল। মিটিং শেষ হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। এখন সাড়ে সাতটা বাজে। শেহরান সংসদ ভবন থেকে বেরোতেই গাড়ি চলে আসলো। শেহরান গাড়িতে উঠে পড়লো। গাড়ি সংসদ ভবনের গেট পার হতেই শেহরানের চোখ থেমে গেল।
ড্রাইভারকে তাড়াতাড়ি বললো গাড়ি থামাতে। ড্রাইভার গাড়ি থামাতেই। শেহরান গাড়ির গ্লাস নামালো। দৃষ্টি তার রাস্তার এক সাইডে স্থির।
একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে তার লং স্কার্ট আর লুজ টপস। চুলগুলো পনিটেল করে বাধা। মেয়েটির পাশে একটি ছেলে দাঁড়িয়ে। মেয়েটি ছেলেটির সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। এক প্রকার ঢলে ঢলে পড়ছে ছেলেটির উপরে। ছেলেটিও ইয়ার্কির নাম করে মেয়েটির গায়ে স্পর্শ করছে বারংবার।
শেহরান ঠোঁটের কোণে বাঁকা একটা হাসি নিয়ে। দুই দিকে মাথা ঘুরিয়ে গাড়ির গ্লাস তুলে দিল।
দূরের একটা গাড়ির হর্নের আওয়াজে। শেহরানের ধ্যান ভাঙল। সিগারেটের আগুনের আঁচটা হাতে লাগার আগেই সেটা ফেলে দিল। তারপরে নতুন একটি সিগারেট ধরালো। আজ আর কোনো বাধা নেই।

হালকা বাতাস বইছে। মাইরা ক্লান্ত চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। সেই নয়টা থেকে অপেক্ষা করছে শেহরানের। কিন্তু এখনো শেহরানের আসার নাম নেই। এখন একটা বাজতে চলল। মাইরা আরেকবার ঘড়ির দিকে তাকালো। ১২:৪৩, শরীরটা বড্ড ক্লান্ত লাগছে। তারপরেও রুমে যেতে মনে চাইছে না। এখান থেকে বাড়ির গেট দেখা যায়। ও ভেবেছে শেহরান যতক্ষণ না আসবে ও এখানেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে। শেহরান তো কখনো এত লেট করে না। সেই বিয়ের দিন রাতে যা লেট করেছিল। তারপরের থেকে প্রতিদিনই তো বাড়িতে ফিরে আসে নয়টা দশটার দিকে। কিন্তু আজ এতো লেট হচ্ছে কেনো। মাইরার ভীষণ টেনশন হচ্ছে।
মানুষটার কি কিছু হলো। ভাবতেই মাইরার গলা শুকিয়ে আসলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহ আল্লাহ করতে লাগলো। যেন তাড়াতাড়ি শেহরান বাসায় ফিরে।

-ভাই ভাই বিশাল বড় নিউজ আছে। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে কথাগুলো বলতে বলতে মন্টু দৌড়ে আসলো। হাঁটুতে হাতের ভর দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল। ভাই ভাই বিশাল নিউজ।
-ইলহাম মুখ তুলে মন্টুর দিকে তাকালো। ভ্রু কুঁচকে বলল কিরে মন্টু। কি হয়েছে আমার ব্যাঙের মতো লাফাচ্ছিস কেন? আর ষাঁড়ের মতো চেঁচানোর মানেই বা কি?
-মন্টু মুখটা ভোঁতা করে বলল। ভাই আপনি আমারে ষাঁড় বলছেন? আমি একটা বিশাল বড় নিউজ এনেছি।
-ইলহামের ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেল। ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখে বলল কি নিউজ?
-মন্টু দাঁত কেলিয়ে বলল ভাই বলতে পারি তবে একটা শর্ত।
-শর্ত? কি শর্ত?
ভাই আপনি নিউজটা শোনার পরে আমি গ্যারান্টি দিতে পারি আপনি খুশিতে পাগল হয়ে যাবেন।
-তাহলে তো নিউজ আমি শুনতে চাই না রে মন্টু। আমি পাগল হতে চাই না। এখনো আমার বিয়ে হয়নি।

-ভাই শুনবেন তো কথাটা।
-আগে বলুন শর্ত মানবেন কিনা ?
-আচ্ছা মানবো বল কি শর্ত?
– আমি জানি আমি যা বলবো আপনি শুনে হান্ডেট পার্সেন্ট খুশি হবেন। আর খুশি হওয়ার পরে আমাদেরকে একটা পার্টি দিতে হবে। জম্পেশ একটা পার্টি। সাথে একটু ইয়ে হলে জমে যাবে।
-ইলহাম এবার মুখ তুলে মন্টুর দিকে তাকালো। আচ্ছা শর্তে রাজি। এবার বলতো কি নিউজ এনেছিস?
-ভাই এমপি শেহরান মির্জা বাল্যবিবাহ করিয়েছে।
-কি?
-হ্যাঁ ভাই টাটকা খবর। শেহরান মির্জা নাকি বাল্যবিবাহ করেছে। মেয়ের বয়স নাকি এখনো ১৮ হয়নি?

-ইলহাম হা করে রইলো। তুই সত্যি বলছিস?
-হ্যাঁ ভাই মিথ্যা হলে কি আমি বলি বলেন তো আপনি?
-তোর কথা যদি সঠিক হয়। তাহলে তো সেই হবে রে মন্টু। ইলহাম ঠোঁটের কোণে ক্রুর হাসলো।
-মন্টুর দিকে তাকিয়ে বলল সমস্ত খোঁজ আমার চাই। মেয়েটার বাড়ি কোথায়, মেয়েটার বাবা কি করে, সমস্ত কিছু।
-আচ্ছা ভাই সব খবর আমি এনে দিবো। এখন আমি যাই।
-আচ্ছা।
+ও ভাই।
-হুম বল।
-তাহলে আমার শর্তটা রাজি তো আপনি?
-রাজি কি রে মন্টু খুব রাজি। যা ১০ বোতল পেয়ে যাবি।
-সত্যি ভাই?
-হুম
-ভাই আপনি সেরা ভাই। আপনি মহান ভাই। ভাই সালাম নিবেন। আসছি ভাই বলেই মন্টু নাচতে নাচতে চলে গেল।
-ইলহাম মন্টুর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলল। এবার তুমি কি করবে শেহরান মির্জা। তোমার কিচ্ছু করার নেই। তোমার পদ কিভাবে কাড়তে হয়। তা আমার ভালোভাবেই জানা আছে। হা হা করে হেসে ফেলল।

শেহরান ৩৬৮ টা ছবি ডিলিট করে ক্ষান্ত হলো। ওলির সমস্ত ছবি ডিলিট করে দিল। যে ছবিগুলো এতদিন যত্ন করে নিজের ফোনে রেখে দিয়েছিল। যত্ন বললে ভুল হবে। মূলত কাজের প্রেসার। আর দায়িত্বের চাপে পড়ে। নিজের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় হয়ে ওঠেনি কখনো। আর আজ জীবনের হিসাবটা মেলাতে গিয়ে বুঝতে পারলো। জীবনটা কেমন গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। যেখান থেকে বেরোতে হলে অতীতকে মুছে ফেলতে হবে। মোবাইলের স্ক্রিনে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে মাথায় আসলো মাইরার কথা। মেয়েটা তো ওর জন্য রোজ অপেক্ষা করে। আজও কি করছে? ভাবতেই শেহরানের টনক নড়লো। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো দেড়টা বাজে। ওহ শিট….
হাতের সিগারেটটার দিকে তাকিয়ে দেখলো। এখনো অর্ধেক আছে। আর খেতে মন চাইলো না। মনটা কেমন বিষিয়ে উঠলো সিগারেটের প্রতি। হাতের সিগারেটটা ছুড়ে মারলো দূরে। মোবাইলটা প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে। গাড়িতে উঠে বসলো। সন্ধ্যায় ড্রাইভারকে নামিয়ে দিয়েছিল। গাড়ি স্টার্ট দিলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ এক ঘন্টা জার্নি করে অবশেষে শেহরান বাড়িতে পৌঁছালো। গাড়ি পার্কিং লটে পার্ক করে। গাড়ি থেকে নামতেই হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। মিনিটের মধ্যেই শেহরানকে ভিজিয়ে দিল।

শেহরান একটু তাড়াহুড়ো করে ভিতরে ঢুকতে গিয়ে চোখ পড়লো নিজের রুমের ব্যালকনির দিকে। মাইরা ব্যালকনির গ্রিলের সাথে মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
-কেন যেন মাইরাকে দেখে শেহরানের ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি খেলে গেল। আর দেরি করতে চাইলো না। তাড়াহুড়ো করে বাসার মধ্যে ঢুকে পড়ল।
-মাইরার হঠাৎ চোখটা লেগে এসেছিল। কিন্তু গাড়ির শব্দ শুনতেই। চোখ মেলে দেখল শেহরানের গাড়ি। বাড়িতে ঢুকলো। দারোয়ান দাদু গেট আটকাচ্ছে। মাইরা তাড়াহুড়ো করে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। তারপরে আস্তে আস্তে রুমের দিকে এগিয়ে গেল। রুমের মধ্যে প্রবেশ করতেই দেখল। শেহরান টাওয়াল দিয়ে ভেজা মাথা মুছছে। শেহরান মাইরাকে দেখে বলল। এখনো ঘুমাওনি?
-মাইরা নত মস্তকে মিনমিনে কণ্ঠে বলল আজ আপনারা এত লেট হলো কেন?
-শেহরান ঠোঁটের কোণে দুষ্ট হাসি নিয়ে বলল। এক মিনিট তুমি কি আমার জন্য অপেক্ষা করছিলে?
-সাথে সাথে মাইরা মাথা তুলে তাকাল। অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল আপনি জানলেন কি করে?
-তারমানে করছিলে তাইতো?

-কি করছিলা?
-অপেক্ষা।
-মাইরা সাথে সাথেই মাথা নিচু করে লাজুক হাসলো। এই যা ধরা পড়ে গেছে।
-এদিকে আসো।
-শেহরানের কথা শুনে মাইরা ফট করে মুখ তুলে তাকালো। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে শেহরানের মুখের দিকে চাইল।
-আসো।
-মাইরা আশেপাশে তাকিয়ে বলল আমি?
-শেহরান চোখ ছোট ছোট করে বলল। তুমি নয়তো কে? এই রুমে আর কেউ কি আছে?
-না!
-তাহলে?

-মাইরা শেহরানের কথা বুঝতে পেরে খানিক লজ্জা পেল। তারপরে ধীর পায়ে শেহরানের দিকে এগিয়ে গেল। একটু দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালো।
-দূরত্বটুকু শেহরান দুষ্টু হেসে ঘুচিয়ে নিলো। মাইরার একদম নিকটে দাঁড়িয়ে। টাওয়ালটা মাইরার হাতে ধরিয়ে দিল। দাও মাথাটা মুছিয়ে দাও!
-মাইরা অবাক হয়ে শেহরানের মুখের দিকে তাকাল। আমি?
-তুমি নয়তো কে? আর কেউ কি আছে?
-না।
-তাহলে নিশ্চয়ই তোমাকেই বলেছি! আচ্ছা তোমার সমস্যা কি? রোজ তো প্লেনের আগে তোমার মুখ চলে। আজ কি হয়েছে? এত শান্ত কেন?
-শেহরানের কথায় মাইরা গোল গোল চোখে শেহরানের দিকে তাকালো। আমার মুখ প্লেনের আগে চলে?

-তা নয় তো কি? বলেই শেহরান দুষ্টু হেসে মাইরার নাকটা টিপে দিয়ে মাথাটা একটু ঝুঁকে দাঁড়ালো। তারপরে বলল নাও তাড়াতাড়ি মুছো ঠান্ডা লেগে যাবে আমার।
-মাইরা টাওয়ালটা হাতে ধরে একটু পিছিয়ে গেল। আমি পারবো না।
-শেহরান চোখ ছোট ছোট করে মাইরার দিকে তাকালো। পারবে না কেন তোমাকে পারতে হবে। বিয়ের দিন তো খুব জোর গলায় বলেছিলে তুমি আমার বউ।
-বউ শব্দটা শুনে মাইরা একটু কেঁপে উঠলো। শেহরানও কথাটা বলে হালকা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে বলল। তাহলে এখন বউয়ের দায়িত্ব পালন করো।
-শেহরানের কথা শুনে মাইরার কান দুটো গরম হয়ে গেল। কি লজ্জা।
-কই আসো।

-মাইরা এগিয়ে এসে শেহরানের মাথায় হাত দিতে গেল। কিন্তু ঠাই পেল না।
-শেহরান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল ওহো আমি তো ভুলেই গেছিলাম। তুমি তো একটা পিচ্চি মেয়ে। তুমি কিভাবে আমাকে ঠাই পাবে। বলেই মাথাটা ঝুঁকে দাঁড়ালো।
-মাইরা পিচ্চি শব্দটা শুনে ভেবাচেকা খেয়ে গেল।
-মাইরা কাঁপা কাঁপা হাতে টাওয়ালটা দিয়ে শেহরানের ভেজা চুল মুছে দিতে লাগলো। পানির ফোঁটা গুলো গাল বেয়ে শার্টে পড়ছে। মাইরার নিঃশ্বাস আটকে আসছে।
-শেহরান চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ করেই মাথাটা আরেকটু ঝুঁকিয়ে দিল। ফিসফিস করে বলল, আরেকটু জোরে। মাথা ব্যথা করছে।
-মাইরা হু বলে মাথা নাড়ল। হাতটা অনিচ্ছায় শেহরানের চুলের ভিতর চলে গেল। চুলগুলো ভিজে একদম ঠান্ডা। মাইরার বুকের ভিতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল।

-পিচ্চি বললেন কেন? মাইরা হঠাৎ রাগী রাগী গলায় বলে উঠল। কিন্তু গলার স্বর কাঁপছে।
-শেহরান এক চোখ খুলে তাকাল। ঠোঁটের কোণে সেই দুষ্টু হাসি।
পিচ্চি না তো কি? এইটুকু হাত। আমার কান পর্যন্তই পৌঁছায় না।
বলেই শেহরান মাইরার দিকে ঝুঁকে কানে ফিসফিস করে বলল, তবে মনটা অনেক বড়। আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকে।

-সাথে সাথেই মাইরার কান দুটো টকটকে লাল হয়ে গেল।
আ-আমি অপেক্ষা করিনি! মাইরা মাথা নিচু করে আমতা আমতা করল।
-করোনি? শেহরান মাইরার হাত থেকে টাওয়ালটা নিয়ে নিল।
তারপর মাইরার থুতনিতে আঙুল দিয়ে মুখটা উপরে তুলল।
চোখ দেখেই বোঝা যায়। ঘুম ঘুম চোখে। রাত একটা পর্যন্ত কে জেগে থাকে শুনি?
-মাইরা শেহরানের চোখে চোখ রাখতে পারল না। লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিল।
-শেহরান হঠাৎ মাইরার কপালে টাওয়াল দিয়ে আলতো করে চাপ দিল। বউয়ের দায়িত্ব শুধু মাথা মোছানো না মাইরা। কথাটা শুনে মাইরা কেঁপে উঠল।
-শেহরান আরেকটু কাছে এসে বলল, বউয়ের দায়িত্ব হলো রাত জেগে বরের জন্য দরজা খোলা রাখা। আর বর লেট করে ফিরলে বকা দেওয়া।

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১১

-মাইরা নিচু গলায় বলল, বকা দিব না।
-শেহরান ভ্রু নাচিয়ে বলল তাহলে কি করবে?
-মাইরা আর উত্তর দিতে পারল না। এক দৌড়ে ব্যালকনিতে চলে গেল।
-মাইরার আচরণ দেখে শহরান হা হা করে হেসে ফেলল।

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১৩