এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১৩
সেঁজুতি আক্তার
মাইরা লাল টুকটুকে বেনারসি পরে মাথায় ঘোমটা টেনে বসে আছে। বিছানার চারপাশে গোলাপ আর গাঁদা ফুল ছড়ানো।
মাইরার বুকের ভিতর ধুকপুক করছে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। ঘোমটার ফাঁক দিয়ে একবার আয়নার দিকে তাকালো। সাথে সাথে লজ্জায় গাল দুটো লাল হয়ে গেল।
হঠাৎ খট করে দরজা খোলার শব্দ আসলো। মাইরা একটু কেঁপে উঠলো।
দরজা খুলে শেহরান ভিতরে ঢুকলো। গাঢ় নেভি ব্লু শেরওয়ানি। চুলগুলো একটু এলোমেলো। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ধীর পায়ে হেঁটে বিছানার কাছে আসলো।
মাইরা আরো গুটিয়ে বসলো। দুই হাতে বিছানার চাদর খামছে ধরলো।
-শেহরান বিছানার এক কোণে বসলো। কোনো কথা বলল না। শুধু আস্তে করে মাইরার মাথার ঘোমটাটা সরিয়ে দিল।
-লাল ওড়না সরে যেতেই মাইরার মুখটা বেরিয়ে আসলো। লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল।
-শেহরান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আঙুল দিয়ে মাইরার থুতনি ছুঁয়ে মুখটা উপরে তুললো।
-মাইরা শুধু চোখ বন্ধ করে ফেলল। গাল দুটো আরো লাল হয়ে গেল।
-শেহরান মুচকি হাসলো। খুব কাছে এসে ফিসফিস করে বলল চোখ খোলো।
-মাইরা আস্তে করে চোখ খুলল। সামনেই শেহরানের চোখ। একদম কাছে। নিঃশ্বাসের গরম বাতাস গায়ে লাগছে।
-শেহরান আরেকটু ঝুঁকে আসলো। মাইরার কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালো। তারপর গালে, তারপর…
মাইরার সারা শরীর কেঁপে উঠলো। ও চোখ খোলার চেষ্টা করলো। দেখলো শেহরান ওর ঠোঁটের দিকে এগিয়ে আসছে। খুব আস্তে, খুব কাছে।
মাইরার নিঃশ্বাস যেন আটকে আসছে। হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে। শেহরানের গরম স্পর্শে।
ঠিক তখনই…
“মাইরা……”
-মাইরা চোখ খুলে ধরফর করে উঠে বসলো। বুক ধরফড় করছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। আশেপাশে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল আসলে কোথায় আছে! সামনে শেহরান একটু ঝুঁকে তীক্ষ্ণ চোখে মাইরার দিকে তাকিয়ে আছে।
-“কি হয়েছে? চিল্লাচ্ছেন কেন?”
শেহরান ভ্রু কুঁচকে বলল “আধা ঘন্টা ধরে ডাকতেছি। স্বপ্নে কি করছিলা হুম? ঘুমের মধ্যে মুচকি মুচকি হাসছো।
-কথাটা শুনে মাইরার সব মনে পড়ে গেল। গাল দুটো লাল হয়ে গেল।
-আমতা আমতা করে বলল “স্বপ্ন স্বপ্নে কিছু না।
-শেহরান তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলল “থাক বলতে হবে না। নিচে তোমার মামা বসে আছে। নয়টা বাজে। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হও।”
-বলেই শেহরান রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
মাইরা বালিশে মুখ গুঁজে বসে রইলো। স্বপ্নটা এত রিয়েল ছিল যে এখনো গালে শেহরানের স্পর্শ লেগে আছে মনে হচ্ছে। লজ্জায়, মাইরার কান গরম হয়ে যাচ্ছে।ওয়াশরুমে গিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখে বিড়বিড় করে বলল “ধুর। স্বপ্ন কেন ভাঙলো।”
হঠাৎ মাইরার শেহরানের বলা আরেকটা কথা মনে পড়ল “মামা এসেছে।”মামা!” মাইরা অবাক হলো। মামা বিয়ের পরে আর একবারও খোঁজ নেয়নি। বিয়ের পরে মেয়েরা যে তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যায়। ওর তো বাবার বাড়ি নেই। ওই তো থাকতো মামার বাড়িতে। কিন্তু বিয়ের পরে তো একবারও যেতে পারেনি। ভাবতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।
ড্রয়িং রুমের সোফায় রফিক মিয়া বসে আছেন। মূলত তিনি ভাগ্নি আর ভাগ্নি জামাইকে দাওয়াত দিতে এসেছেন। বিয়ের পরে যেহেতু শেহরান আর মাইরা বাসায় যায়নি তাই।
শাহানা বেগম চা-নাস্তা টি টেবিলের উপরে দিলেন। মুচকি হেসে সোফায় বসলেন। পাশেই রায়হান মির্জা বসে গল্প করছেন রফিক মিয়ার সাথে।
-সিঁড়ি দিয়ে শেহরানকে আসতে দেখে রফিক মিয়া মুচকি হাসলেন।
-রায়হান মির্জা গলা খাঁকারি দিয়ে রফিক মিয়ার উদ্দেশ্যে বললেন “তা বেয়াই , আপনার কাজ কেমন চলছে?”(
“জ্বী, আল্লাহর রহমতে ভালই চলছে।”
-শেহরান এসে পাশেই একটা সোফায় বসলো। কিন্তু রফিক মিয়ার দিকে একবারও তাকালো না।
-এতে রফিক মিয়ার মুখটা ছোট হয়ে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন শেহরান হয়তো এখনো সেই বিষয়টা নিয়ে উনার উপরে বিরক্ত। তবুও মুচকি হেসে বললেন “কেমন আছো বাবা?”
-শেহরান ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বললো “জি, আলহামদুলিল্লাহ ভালো।” ব্যাস এতোটুকুই। আর কোনো কথা বলল না।
শাহানা বেগম ভ্রু কুঁচকে ছেলের দিকে তাকালেন। “এই ছেলেকে নিয়ে আর পারা যায় না। ছেলেটা যে এমন কেন বোঝা যায় না।”
মাইরা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসলো। একটি স্কার্ট আর লুজ টপস পরে নিল। রাতে যেহেতু প্লাজো গেঞ্জি পরে ঘুমায়, সেইজন্য এখন চেঞ্জ করতে হলো। শাশুড়ির সামনে প্লাজো গেঞ্জি পরে বেড়াতে পারে। কিন্তু বাইরে যেহেতু শ্বশুর আছে, তাই চেঞ্জ করতেই হবে।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল দশটা বেজে গেছে। তাই একটু তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়ল। মামা এসেছে। মামার সাথে কতদিন দেখা হয়নি। ভাবতেই মনটা খুশি হয়ে গেল।
রফিক মিয়া গলা ঝেড়ে বললেন “আসলে বেয়াই, আমি এসেছি একটা কাজে।
কথাটি শুনেই শেহরানের হাত থেমে গেল। রায়হান মির্জা চায়ের কাপটা টেবিলের উপর রেখে মুচকি হেসে বলল “হ্যাঁ বেয়াই, বলুন। আমি শুনবো আপনার কথা।”
শাহানা বেগমও মাথা নাড়ালেন। রফিক মিয়া আশ্বস্ত হয়ে বললেন “আসলে আমি শেহরান বাবাকে আর আমার ভাগ্নিকে দাওয়াত দিতে এসেছি। আসলে বিয়ের পরে তো নিয়ম থাকে। বিয়ের দুই দিন পরে বাবার বাড়িতে জামাইকে নিয়ে বেড়াতে যায় মেয়েরা। মাইরার যেহেতু বাবা-মা নেই। আমি ওর মামা, আমি ওকে দায়িত্ব নিয়ে বিয়ে দিয়েছি। সেহেতু আমার তো দায়িত্ব পড়ে আমার মেয়ে জামাইকে আমার বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আসলে আমার অবস্থা তো আপনারা বুঝতেই পারছেন।” কথাটুকু বলে রফিক মিয়া মাথাটা নত করে ফেললেন।
রায়হান মির্জা হা হা করে হেসে বললেন “আরে বেয়াই, আপনি এত লজ্জা পাচ্ছেন কেন? লজ্জা পাবেন না। শেহরান তো আপনার ছেলের মতোই।” স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন “কি বলো?”
শাহানা বেগমও হেসে বললেন “একদম ঠিক বলেছে বেয়াই। আপনি একদম লজ্জা পাবেন না।”
রায়হান মির্জা আবার বললেন “আপনি আপনার মেয়ে জামাইকে নিজের বাড়িতে দাওয়াত দেবেন, এতে লজ্জার কি? অবশ্যই যাবে তারা। আপনি খালি বলুন কবে যেতে হবে।”
-শেহরান তীক্ষ্ণ চোখে বাবার দিকে চাইল। কিন্তু কিছু বলল না।
-রফিক মিয়া বললেন “আসলে আমি চাচ্ছিলাম, ওরা যদি কালকে যায় তাহলে ভালো হয়।”
“আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি দুজনকে পাঠিয়ে দিব কালকে।” হাসতে হাসতে রায়হান মির্জা কথাগুলো বললেন।
-শেহরান বাবার দিকে তাকিয়ে বলল “বাবা।”
-রায়হান মির্জা ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল “হুম বলো, তুমি কিছু বলবে?”
“আমি কোথাও যেতে পারবো না। আমার জরুরি মিটিং আছে কালকে।”
শাহানা বেগম তীক্ষ্ণ চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন “মিটিং তো পরেও করা যায়। তিন দিনেরই তো ব্যাপার। তিন দিনের জন্য কোনো সমস্যা হবে না আশা করি।”
-“আম্মু?” শেহরান বিরক্ত চোখে মায়ের দিকে তাকালো।
মাইরা দৌড়ে এসে মামাকে জড়িয়ে ধরলো। “মামা কেমন আছো? তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল।” মাইরার কণ্ঠে খুশি উপচে পড়ছে।
রফিক মিয়া মাইরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। “ভালো আছি মা। তুই কেমন আছিস? শরীর ঠিক আছে তো?”
মাইরা মাথা নেড়ে বলল “হ্যাঁ মামা। একদম ভালো আছি।” বলেই মামার দিকে তাকিয়ে লাজুক হাসলো। শাশুড়ির সামনে লজ্জা লজ্জা ভাব।
শাহানা বেগম মাইরার কাণ্ড দেখে মুচকি হাসলেন।
রফিক মিয়া মাইরার দিকে তাকিয়ে আবার শেহরানের দিকে চাইলেন। শেহরান ফোনের দিকেই তাকিয়ে আছে। একবারও মুখ তোলেনি।
রফিক মিয়ার বুকের ভিতরটা কেমন করে উঠলো। উনি গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন “তা বাবা, কালকে যাবে তো? বাড়ির সবাই তোমাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে।”
শেহরান ফোন স্ক্রল করতেই ব্যস্ত। গম্ভীর গলায় বলল “বললাম তো আমার মিটিং আছে। সময় হবে না।”
-কথাটা শুনে ড্রয়িং রুমে নীরবতা নেমে এলো।
-রায়হান মির্জা ছেলের দিকে কড়া চোখে তাকালেন। “শেহরান। বেয়াই মশাই কষ্ট করে দাওয়াত দিতে এসেছে। আর তুমি না করে দিচ্ছো?”
শাহানা বেগমও সাথে বললেন “তিনটা দিনেরই তো ব্যাপার বাবা। মিটিং পরে করলেও চলবে। বেয়াই মশাই এর বাড়িতে যাওয়া ফরজ। বিয়ের পর মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোক যায় না, এটা কেমন দেখায় বলো?”
শেহরান বিরক্ত হয়ে মায়ের দিকে তাকালো। “আম্মু, তুমি বুঝতেছো না কেন? আমার সত্যিই কাজ আছে।”
“কাজ সবসময়ই থাকে। সংসারও করতে হবে।” শাহানা বেগম দৃঢ় গলায় বললেন। তারপর রফিক মিয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন “বেয়াই, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি আমার ছেলেকে পাঠিয়ে দিবো।”
রফিক মিয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
মাইরা এতক্ষণ চুপচাপ মামার পাশে বসে সব শুনছিল। শেহরানের “না” শুনে ওর মুখটা সাথে সাথে মলিন হয়ে গেল।
শেহরান আড়চোখে একবার মাইরার দিকে তাকালো। মাইরা মাথা নিচু করে আঙুল দিয়ে সোফার কোণা খুঁটছে। চোখে পানি টলমল করছে।
শেহরান মনে মনে বলল “ধুর। আবার সিনক্রিয়েট করবে।” লম্বা একটা শ্বাস ফেলে বলল “আচ্ছা ঠিক আছে। যাবো কিন্তু শুধু একদিনের জন্য।”
-সাথে সাথেই মাইরা অবাক হয়ে শেহরানের দিকে তাকালো। “সত্যি যাবেন?”
শেহরান চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল “হ্যাঁ যাবো। তবে বেশি নাটক করবা না। আর বেশি কথা বলবা না কিন্তু।”
মাইরা খুশিতে লাফিয়ে উঠতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিল। শুধু মাথা নেড়ে বলল “আচ্ছা।”
রফিক মিয়া আর রায়হান মির্জা দুজনেই হেসে ফেললেন। শাহানা বেগম মনে মনে বললেন “এই ছেলেকে সোজা করতে হলে মাইরাকেই লাগবে।”
বিকাল চারটা
শেহরান বালিশে মুখ গুঁজে উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে। পাশে মাইরা বসে হাতের লেখা করছে। কিছুদিন না লেখার কারণে হাত কাঁপছে, তাই প্র্যাকটিস করছে। কালকে সন্ধ্যায় সায়রা কিছু খাতা, কলম, ডায়েরি দিয়ে গেছে। সেই ডায়েরিতেই মাইরা লিখছে। একবার গান লিখছে, একবার কবিতা লিখছে। এগুলো মূলত হাতের লেখা প্র্যাকটিসের জন্য।
সায়রা ভাইয়ের রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। প্রথমে দরজায় হাত দিয়ে রুমে ঢুকতে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই পিছিয়ে আসলো। কারণ তার ভাইয়ের এখন বিয়ে হয়েছে। এখন তো আর যখন তখন রুমে যাওয়া যাবে না। তাদের একটা প্রাইভেসি আছে। তাই বাইরে থেকেই ডাক দিল “ভাবি, ভাবি, আম্মু তোমাকে রুমে ডাকছে।”
মাইরা সায়রার কণ্ঠ শুনে বেরিয়ে আসলো। দরজা খুলে সায়রাকে দেখে বলল “ডাকছো আপু?”
সায়রা মুচকি হেসে বলল “আম্মু তোমাকে নিচে ডাকছে। তাড়াতাড়ি এসো।” বলেই চলে গেল।
মাইরা চিন্তিত মুখ নিয়ে শাশুড়ির রুমের দিকে এগিয়ে গেল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নক করলো। শাহানা বেগম বিছানার উপরে বসে একটা বই পড়ছেন। পাশেই সায়রাও আছে। মাইরা একটু ইতস্তত করে বলল “আম্মু, আসবো?”
“আরে মাইরা, দাঁড়িয়ে কেন? আসো!”
মাইরা শান্ত পায়ে রুমের মধ্যে এগিয়ে গেল।
শাহানা বেগম মাইরাকে বিছানায় বসার ইশারা করলেন।
মাইরা আস্তে করে বিছানায় বসলো। একবার সায়রার দিকে তাকালো। সায়রা বসে ফোন টিপছে। মাইরা হাতের মধ্যে দুই আঙ্গুল কচলাতে লাগলো।
শাহানা বেগম মাইরার অস্থিরতা দেখে মুচকি হাসলেন। তারপরে বললেন “টেনশন হচ্ছে?”
মাইরা একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। “না আসলে আম্মু…”
“থাক, কিছু বলতে হবে না। কালকে তো মামার বাড়িতে যাচ্ছ। ভালো কোনো পোশাক আছে?”
মাইরা অবাক হয়ে শাশুড়ির দিকে তাকালো। মানুষটা ও এই বাড়িতে আসার পর থেকেই ওর সমস্ত খোঁজ খবর রাখে। ওর কখন কি লাগবে না বলতেই বুঝে যান। ভাবতেই ঠোঁটের কোণে শান্তির হাসি খেলে গেল। জীবনে কিছু পাক বা না পাক, একজন ভালো শাশুড়ি তো পেয়েছে।
“কি হলো, কথা বলছো না কেন?”
মাইরা নড়েচড়ে বসলো। তারপরে মিনমিনে গলায় বলল “আম্মু, যা আছে আমি ম্যানেজ করে নিতে পারব।”
শাহানা বেগম গম্ভীর চোখে মাইরার দিকে তাকালেন। তারপরে বললেন “আমি কি তোমাকে ম্যানেজ করে চলতে বলেছি? আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি ড্রেস আছে কিনা?”
মাইরা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল “জি না।”
“ঠিক আছে। তুমি রেডি হয়ে নাও। আমরা তিনজন শপিংয়ে যাবো।”
মাইরা রুমে এসে দেখলো শেহরান এখনো ঘুমাচ্ছে। ও আস্তে করে আলমারি খুলে একটা সিম্পল জামা বের করলো। সাদার মধ্যে হালকা নীল।
ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে চুল আঁচড়ে নিল। হালকা করে লিপস্টিক দিল। সায়রা দরজায় টোকা দিয়ে বলল “ভাবি, রেডি?”
মাইরা দরজা খুলে বলল “হ্যাঁ আপু।”
নিচে শাহানা বেগম আগেই রেডি হয়ে বসে আছেন। গাড়ির ড্রাইভারকে ফোন করে বলেছেন গাড়ি বের করতে।
তিনজন মিলে গাড়িতে উঠে বসলো। শাহানা বেগম মাঝে, দুই পাশে মাইরা আর সায়রা।
রাস্তায় তেমন জ্যাম ছিল না। বিকালের বাতাসে গাছের পাতা নড়ছে। সায়রা সারারাস্তা বকবক করছে। মাইরা চুপচাপ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।
২০ মিনিট পর গাড়ি একটা বড় শপিং মলের সামনে থামলো।
তিনজন নেমে ভিতরে ঢুকলো। শাহানা বেগম প্রথমে মাইরাকে নিয়ে একটা বুটিকে ঢুকলেন।
শাহানা বেগম একটা মেরুন কালারের জামদানি থ্রি-পিস হাতে নিয়ে মাইরার গায়ে ধরলেন। এটা দেখো।মাইরা ট্রায়াল রুমে গিয়ে পরে আসলো। শাহানা বেগমও মাথা নাড়লেন। তারপর আরো দুইটা ড্রেস দেখলেন। একটা আকাশি কালার, আরেকটা সাদা। বিল পে করে বেরিয়ে আসলেন। এরপর সায়রার জন্য দুইটা ড্রেস নিলেন। শেষে জুতার দোকানে গেলেন। মাইরার পায়ের মাপ দেখে দুই জোড়া জুতা কিনলেন। একটা হিল, একটা ফ্ল্যাট। শপিং শেষ করে সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফিরলো।
বাসায় ঢুকতেই শেহরান সোফায় বসে ফোন টিপছিল। তিনজনকে ব্যাগ হাতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল তোমরা কোথায় গিয়েছিলে?
এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১২
শাহানা বেগম বললেন “শপিং এ। কাল মামার বাড়ি যাবে না? ড্রেস লাগবে না?”
শেহরান মাইরার দিকে তাকালো। মাইরা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শেহরান কিছু বলল না।
মাইরা রুমের দিকে চলে গেল। শেহরান মাইরার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
