তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৭
রিমঝিম বৃষ্টি
চট্টগ্রাম —————-
চট্টগ্রাম শহরের ব্যস্ততার মাঝে নাসিরাবাদ যেনো একটু শান্ত, একটু নিরিবিলি এক অঞ্চল। শহরের কোলাহল থেকে খুব দূরেও নয় আবার। অথচ, এখানকার রাস্তাঘাট আর আবাসিক পরিবেশে একটা স্বস্তির ছোঁয়া আছে। চারপাশে আধুনিক ভবন, ছিমছাম রাস্তা, গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে আলো-ছায়া সব মিলিয়ে জায়গার মধ্যে এক সৌন্দর্য আর শান্ত জীবনের অদ্ভুত মিশেল।
নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকার ৭ নম্বর সড়কের শেষ মাথায় তুবাদের বাড়ি। একতলার ওপরেই, ওপরে টিনের ছাউনি দেওয়া বাড়ি। পরিবার বলতে তার খুব ছোট্ট একটা পরিবার বাবা, মা, আর তার ছোট ভাই। তুবার বাবা জামাল উদ্দিন একজন রাজমিস্ত্রী, মা তিশা ইসলাম একজন গৃহিণী। মেয়ের জন্য একটু একটু করে সবকিছু জমিয়েছে বিয়ে দেওয়ার জন্য। অর্নাস চলাকালীন থাকতেই তার মা বিয়ে দেওয়ার জন্য তাড়া লেগেছে কারণ, এখনকার সমাজে একটা অর্নাস পাশ করা মেয়ের সহজে বিয়ে আসে না, ওই লোকে বলবে মেয়ের বয়স বেশি হয়ে গেছে আবার উপযুক্ত ছেলে পাওয়াও মুশকিল তাই তার মার এত চিন্তা। দেখতে দেখতে একটা ভালো চাকরিওয়ালা ছেলে পাওয়ায় তার পরিবার ভীষণ খুশি। এখন ভালোই ভালোই মেয়েকে তাদের হাতে তুলে দিতে পারলেই শান্তি যেনো।
” তুবা মা এদিকে এসো তো…! ”
মায়ের ডাক শুনতেই তুবা মাথায় ভালো করে ঘোমটা দিয়ে বেরিয়ে বসার রুমে এলো। বসার রুমে ছেলের ফুপু আর বড় ননদ এসে বসে আছে। তুবা তাদের সামনে সালাম দিয়ে বসতেই তার ফুপু কিছুটা ঠোঁট কামড়ে বললো,
” তা কবে আসলা বাড়িতে মা..?”
” এইতো দু’তিন হবে..? ”
ফুপুকে থামিয়ে দিয়ে পাশের থেকে ছেলের বোন বলে উঠলো,
” শোনো তুবা। তুমি করেই বললাম যেহেতু ছোট তুমি, বিয়ের পর তুমি হোস্টেলে থাকতে পারবা না আমার ভাই আবার এসব পছন্দ করে না। ভাইয়ার অফিসের কাছেই একটা ভার্সিটি আছে বাকি পড়াশোনা না হয় সেখানেই শেষ করবে আশা করি তোমার আাপত্তি হবে না আর আপত্তি হয় তো বলো আমায়..? ”
তুবা ওড়না টা শক্ত করে ধরে মাথা নিচু করে রইলো। পাশ থেকে তার মা তিশা কিছুটা হেসে বলে উঠলো,
” না না সমস্যা নেই। আমার মেয়েকে আপনারা যেভাবে চান তাই পাবেন কিন্তু ওর পড়াশোনা টা বন্ধ করেন না খালি তাই হবে..! ”
ছেলের ফুপু রুমের দেওয়ালে তাকিয়ে কিছুটা মুখ খিঁচড়ে উঠলো,
” তা বন্ধ করবো কেন? আপনি জানেন আমাদের বাড়িতে সব বড় বড় ভার্সিটিতে পড়ে, ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট এক একটা । আচ্ছা শোনেন বলছিলাম বিয়ে তো শীঘ্রই তাই বিয়ের আগেই একটু ঘর-বাড়ি রঙ করেন। আমারে পোলা আবার পরিষ্কার ঘর-বাড়ি পছন্দ করে তারওপর আবার বিয়ের দিন সাথে তার দামি দামি চাকরিবাকরি করা বন্ধুরা আসবে নে..! ”
তুবা আহত দৃষ্টিতে মায়ের দিকে এক নজর তাকালো। এমনিতেই তার বিয়ের জন্য কত টাকা-পয়সা খরচ করতে হচ্ছে তার ওপর আবার এমন কথা বললো তুবার রাগ হলো যেনো এখনি উঠে বলুক ” কেনো আপনারা আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে আসেন নি? ” কিন্তু বলতে পারলো আর কই.?”
তারা বেশ খানিকটা গল্প করে করে তারপর গেছে। তারা যেতেই তুবা মায়ের রুমে এসে বললো,
” মা এসব কী খুব দরকার ছিলো, আমি কী তোমায় বলেছি একবারও আমার হাই-ফাই ফ্যামিলি চায়। আমি ছোট্ট-খাটো একটা পরিবার আর ছোট্ট -খাটো চাকরি দেখে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম.!”
পাশ থেকে তার বাবা জামাল উদ্দিন মৃদু হেসে উঠলো আর বললো,
” বিয়ে মা ওপরওয়ালা লিখন, সে যদি চায় তোর এখানেই বিয়ে হবে হাজার ঝড়-ঝাপটা আসলেও হবে । মা মানুষের ভাগ্য হলো আশ্চর্যের খেলা। মানুষ মিজের বুদ্ধি তে ভবিষ্যতে কী হবে না হবে সবই পরিকল্পনা করে কিন্তু তা করে কী লাভ হয় বল। ভাগ্যের লিখন তো ওপরআলা নির্ধারণ করে । সে যে অলৌকিকভাবে এক একটা নতুন গল্পের জন্ম দিতে জানে – যেখানে চোখের পলকে দু’জন মানুষের কপাল বা জীবন এক নিমিষেই বদলে দিতে পারে যেমন গড়ে দিতেই জানে তেমন..!”
পাশ করে তিশার মা বিছানা ঝাড়তে ঝাড়তে বললো,
” বদলে দিতে পারে মানে কি? এ আবার কেমন কথাবার্তা তোমার.?”
জামাল হেসে উঠলো শব্দ করে আর বললো,
” মেয়ের বিয়ে যেখানেই হোক না কেনো, সুখী হলেই হলো। আমার মেয়ের কপালে বেশ সুখ আছে আমি জানি। এই যে, এতদিন পর হুট করেই এত ভালো বিয়ে আসলো আবার ঠিকও হলো এটা কী কম ভাগ্য
নাকি..! ”
তিশা মেয়ের শুকনো মুখের দিকে এক নজর তাকিয়ে বললো,
” তুবা তুই তোর বন্ধুদের দাওয়াত দিলে দিতে পারিস। এমিতেও অনুষ্ঠান করছি দু’একজনের জন্য আর না হয় ক’টা টাকা খরচ হলোই বা..?”
তুবা কিছুটা ভেবে নিচু গলায় বললো,
” তুমি তো জানোই ফারিশা, জাহিদ আর জিসান ছাড়া তেমন কারোর সাথে থাকি না আমি, দিলে এদেরই দিবো.!”
” আচ্ছা তাহলে বলিস ওদের..! ”
তুবা আর দাঁড়ালো না নিজের ঘরে চলে গেলো। তার একটুও মন স্বায় দিলো না। ওরকম পরিবারে গেলে তাকে সবসময় নিচু হয়েই থাকতে হবে আর না গলা উঁচিয়ে কিছু বলতে পারবে সে, এসব ভেবেই তার ভয় লাগছে।
চৌধুরী প্যালেস————-
রাত বাজে ৮টা বাড়িতে রান্নার সুবাস ছড়িয়েছে যেনো। ওপর রুম থেকে তমা বেরিয়ে এলো তার পছন্দের বিরিয়ানির গন্ধ নাকে ভাসতেই। তার পরনে একটা পুরেনো পড়ে থাকা থ্রিপিস, দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতদিন সে তা ধুইয়ে অব্দিও বোধহয় দেয় না তার ওপর আবার তার চুল যেনো কাকের বাসা আঁচড়ায় নি কতদিন দেখে তাই মনে হবে। চুলটা খোপা করতে করতে নিচে নেমে যেতেই দেখলো সাবাহ্ ফোন নিয়ে বসে আছে সোফার ওপর আর দূরে বসে আছে ইভান আর ইরাদ তারা কি নিয়ে যেনো কথা বলছে। তমা নিচে নামতেই সাবাহ্ মুখ তুলে তাকে দেখেই চেঁচিয়ে তার মাকে ডাকলো।
” ওই আম্মু জলদি বাইরে আসো দেখো তোমার বড় মেয়ের কান্ড..! ”
তমা কটমটিয়ে এগিয়ে আস্তে আস্তে বললো,
” ওই তুই আম্মুকে ডাকছিস কেনো.?”
সুমানা গরম গরম খাবার নিয়ে টেবিলের ওপর রেখে এগিয়ে আসতেই মেয়েকে দেখে চোখ পাকিয়ে শক্ত গলায় বললো,
” তোর কী লজ্জা লাগে না এইরকম করে থাকতে। একটু পরেই তোর হবু ননদ আসছে আজ থাকবে বলেছে ভুলে গেলি তুই। তোকে যদি এই রকম জংলীর মতো দেখে তোর বিয়ে এখানেই বন্ধ করে দিয়ে যাবে..!”,
বলেই চলে গেলো তা দেখে তমা ভ্যাবলার মতো সামনে তাকাতেই ইভান ঠাট্টার গলায় বললো,
” আরে বাহ্ সত্যি তেমার ননদ আসছে ! ভালোই হবে তোমার ননদের সাথে একটু জমিয়ে প্রেম করা যাবে..!”
ইভানের কথা শুনে সাবাহ্ মুখ তুলে তাকালো একবার ইভানের দিকে। ইভানের কথা যেনো তার মনকে আজ কিছুটা উতলা করে দিলো এমন এক অদ্ভুত হিংসায়। সোফা থেকে উঠে ধুপধাপ পা ফেলে সিঁড়ির কাছে যেতে যেতে বললো,
” গরু হয়ে চাঁদে হাত দিতে চায় হু ঢং দেখে বাঁচি না..!”,
বলেই চলে গেলো তা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে দেখলো শুধু ইভান। তমাও ওপরে চলে গেলো দ্রুত রেডি হতে। ইরাদ পাশ থেকে বলে উঠলো,
” তোকে কি বলেছি বুঝেছিস তো সব..? আমার একটা কথারও যেনো নড়চড় না হয় ইভান.! ”
ইভান পাশে বসে নিজের চুল ঠিক করতে করতে বললো,
” আরে ভাইয়া বলছি তো সমস্যা নেই আমি সব ম্যানেজ করে নিবো..!”
ইরাদ বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো আর লম্বা হাই তুলে বললো,
” যাই একটু পেট ভরে খেয়ে আসি আগে..!”,
বলেই টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলো সাথে ইভানও। ইভা ডাইনিং টেবিলের কাছে আসতেই দুই ছেলেকে আগে আগে বসতে দেখে বললো,
” কী রে তোরা যে এখনি বসে পড়লি..? ”
” আমায় খেতে দাও তাড়াতাড়ি আমি ঘুমাবো এখনি..!”
ইভা ইরাদের কথা শুনে তড়াক কন্ঠে বললো,
” কেনো শরীর ঠিক আছে তো তোর, সবেমাত্র ৮ টা বাজে এত তাড়াতাড়ি ঘুমাবি কেন..?”
ইভান পাশ থেকে ঠাট্টার গলায় বললো,
” ভাইয়ার ইদ লেগেছে তো তাই তাড়াতাড়ি ঘুমাবে..! ”
ইভা দু’জনের কথা বুঝলো না। ইরাদের প্লেটে খাবার বাড়তে বাড়তে বললো,
” ফারিশা কী বললো রে তোকে ডেকে..?”
ইভান ঘাড় বাকিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
” তেমন কিছুই নয় তবে শীঘ্রই আসবে বোধহয়। তুমি শুধু দীদাকে ম্যানেজ করো না আম্মু প্লিজ..?”
” হু পাগলে কামড়াইছে আমাকে। দেখ এমনিতেই শোক পালন করতিছে তোর দীদা গয়নার বাক্স হারিয়ে। কাল পুলিশ ডেকেছে তার সেই গয়না খোঁজার জন্য..!”
ইভান সূক্ষ্ম হেসে উঠলো আর বললো,
” দীদার কথা বাদ দাও তো বিরিয়ানি দাও আগে..!”
দু’জনে খেয়েই উঠে গেলো। ইরাদ ওপরে চলে যেতেই এদিকে তমার ননদ সাদিয়া মির্জা এসে হাজির হলো। তার আজ পরীক্ষা ছিলো সন্ধ্যায় শেষ হওয়ায় তার বাড়ি যেতে যেতে কিছুটা রাত হতে পারে জন্যই তমার মা এ বাড়িতে আসতে বলেছে। ভার্সিটি চৌধুরী বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় সাদিয়া পরীক্ষার কয়টা দিন এদিকেই থাকবে বলেছে। সাদিয়া দেখতে বেশ সুন্দর একদম দুধে আলতা ফর্সা তার গায়ের রঙ, লম্বা, একদম পারফেক্ট বলায় যায় কিন্তু তার আচার-আচরণে বেশ অহংকার ফুটে ওঠে তার বংশের একমাত্র মেয়ে বলে কথা। সাদিয়া কে ভেতরে আসতে দেখেই ইভানের মনে যেনো লাড্ডু ফুটলো হা হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। তমা আর সাবাহ্ নিচে নামতেই সাদিয়া এগিয়ে এসে বললো,
” ভাবী কেমন আছেন..? ”
তমা মাথা তুলে তাকাতেই সাদিয়া কে দেখে মিষ্টি হেসে উঠলো এগিয়ে এসে বললো,
” এই তো আলহামদুলিল্লাহ। কখন এসেছো বসো তুমি..?”
ভেতর থেকে সুমানা আর ইভা বেরিয়ে এসে বললো,
” সাদিয়া কেমন আছো তুমি? পরীক্ষা কেমন হলো তোমার..?”
” জি আলহামদুলিল্লাহ হয়েছে ভালোই.!”
সুমানা শিউলি কে ডেকে বললো,
” শিউলি ওকে ওপরে গেস্ট রুমে নিয়ে যা তো আগে ফ্রেশ হোক..!”
শিউলির সাথে সাদিয়া ওপরে যেতে পথে এক নজর ইভানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে চলে গেলো। তা দেখে ইভান তার বুকে হাত দিয়ে বিড়বিড়িয়ে বলে উঠলো,
” আহ্ সুন্দরী পাখি মার ডালা মুঝে..!”,
বলেই ওপরে চলে গেলো ইভান, সাবাহ্ যেনো এসবের কিছুতেই চোখ এড়ালো না । সাবাহ্ও তাদের পিছু পিছু সেও চলে গেলো। ইভান রুমে গিয়ে ফুলদানি থেকে একটা তাজা লাল গোলাপ বের করে তার স্মেইল নিলো একবার চোখ বন্ধ করে তারওপর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলগুলো ঠিক করে বেরিয়ে গেলো সাবাহ্ তা দেখে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড়িয়ে বলে উঠলো,
” দাঁড়াও চান্দু তোমার ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে যদি আমি না খাইছি তাহলে আমার নাম সাবাহ্ চৌধুরী নয়.!”,
বলেই বাঁকা হাসি দিয়ে তার পিছন পিছন যেতে লাগলো। ইভান সাদিয়ার রুমের দরজার কোণায় দাঁড়িয়ে গোলাপ টা পিছনে ধরে কিছুটা উঁকি মারার চেষ্টা করলো কিন্তু দরজা আটাকানো। দরজায় নক দিবে কী না সে ভাবছে তাই হঠাৎ ইভান পিছন থেকে তার গোলাপ টানার অনুভব পেতেই একটানে পিছন ঘুরতেই সাবাহ্ কে দেখে চোখ বড় বড় করে তাকালো। সাবাহ্ গোলাপ টা নিয়ে এক দৌড় দেওয়ার আগেই ইভান তার হাতের চুরি আঙ্গুলের ভাজে টেনে ধরে বললো,
” কানী ছিললি এখন হলি চুন্নি।”,
বলেই সাবাহ্’র হাত মুচড়ে ঘুরিয়ে ধরে তাকে পিছন ঘুরিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
” আমার ফুল চুরি করার সাহস তোর কী করে হলো যা এখান থেকে.! ইদানীং তোর বেশি সাহস বেড়েছে সাবাহ্। মাইর বোধহয় পিঠে অনেক দিন পড়েনি তাই না..! যা এখান থেকে..!”,
বলেই ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। সাবাহ্ সোজা ঘুরে কাঁদো কাঁদো চোখে এক নজর তার দিকে তাকিয়ে বললো,
” এর শাস্তি তোমায়ও আমি দিবো ইভান ভাই..!”,
বলেই দৌড়ে চলে গেলো। ইভান সেদিকে তাকিয়ে রাগে গজ গজ করতে করতে বললো,
” ধুর মুডটায় খারাপ করে দিলো চুন্নি একটা..!”,
বলেই চলে গেলো নিজের রুমের দিকে।
ইরাদ ব্যাগপত্র গুছিয়ে বিছানায় ওপর হয়ে শুইয়ে পড়লো। তার মনে আজ খুশির শেষ নেই যেনো। ফোন টা হাতে নিয়ে ফারিশার নাম্বারে ফোন দিলো। সেদিন হসপিটালের রেজিস্ট্রার ফর্মের থেকে ম্যানেজ করে নিয়েছিলো। ফোন দিতেই একবার রিসিভ হলো না, পরের বার ফোন দিতেই ওপাশ থেকে রিসিভ হতেই ইরাদ শুকনো ঢোক গিলে বলে উঠলো,
” হ্যালো..!”
” জিতান তুমি একন ফোন দিয়েচো কেনো..!”
ইয়াশের গলা পেতেই ইরাদের মন প্রফুল্ল হলেও পরক্ষণেই জিসানের নাম শুনে কিছুটা রেগে হাত দুটো মুঠো করে ফেললো। কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” না বাবা! আমি ইরাদ বলছি..!”
ওপাশ থেকে ইয়াশ কিছুটা রাগী গলায় বললো,
” মিলাদ তুমি ফোন দিয়েচো কিন্তু আমি তো বেশতো।”
ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে বললো,
” তা আপনি কী নিয়ে ব্যস্ত এত? আপনার মা কোথায়..?”
” আম্মু তো পলছে ( পড়ছে) তাই আমাকে ফোন দিয়েচে গজল শুনতে..!”
ইরাদ ভ্রু কুঁচকে বললো,
” তাহলে তুমি আমার সাথে গল্প করো একটু? তুমি ফোনে কী গজল শুনছো..?”
ইয়াশ মুখ ফুলিয়ে বললো,
” উফ বললাম তো আমি বেশতো তুমি ঘুমাও..!”
ইরাদ ছেলেকে রাগানোর জন্যই কিছুটা নাক-মুখ কুঁচকে বললো,
” না আমার ঘুম আসছে না, আমি তোমার সাথেই গল্প করবো..?”
ইয়াশ পাশে থাকা পানি ভর্তি জগ দেখে হুট করেই রাগে ফোনটা চুবিয়ে দিলো আর হাতের দুই বাহু ভাজ করে বললো,
তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৬
” যা শুনবোই না আমি..! ”
বেলকনি থেকেই ফারিশা ছেলের জোরে কথা বলতে শোনায় উঠে এসে বললো,
” এই কি হয়েছে তোমার? ফোন দেখা শেষ ত……
বাকি কথা বলার আগেই পাশে তাকাতেই তার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।
