Home তুমি এলে বসন্ত নামে তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৭ (২)

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৭ (২)

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৭ (২)
রিমঝিম বৃষ্টি

সকাল সকাল ইরাদ রেডি হয়ে দীদার রুমে হাজির হয়েছে তখন বসার রুমে তারেক আর ইমদাদুল চা খাচ্ছিলো আর পেপার পড়ছিলো। ইমদাদুল ছেলেকে এত সকাল সকাল রেডি হতে দেখে ভেবেছে হয়তো কোথাও যাবে তায়ি তেমন বিষয়ে্টা আগ্রহ নিয়ে দেখেনি। পরক্ষণেই ইরাদকে নিজের মায়ের রুমের দিকে যেতে দেখে ইমদাদুল ছেলেকে বললো,
” ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস তুই..?”
ইরাদ বাবার গলা পেয়ে শুধু বললো,
” দীদার কাছে..!”
ইমদাদুল আর কথা না বাড়িয়ে ফের পেপার পড়ায় মনযোগ দিলো।
” দীদা ঘরে আছো তুমি..?”
আয়েশা চৌধুরী ভেতরে বসে বসে তছবী পড়ছিলো ইরাদের গলা পেতেই বললো,
” এসো ভেতরে..!”
ইরাদ ভেতরে গিয়ে সোজা দাঁড় হয়ে শান্ত গলায় বললো,

” তুমি কী সিদ্ধান্ত নিলে ফারিশার কাছে কবে যাচ্ছো.?”
আয়েশা কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে তাকিয়ে থেকে বললো,
” বোকার মতো প্রশ্নটা করলি না তুই ইরাদ। আমি যেতে পারবো না, আমি কেনো ক্ষমা চাইবো। তুই কী চাস তোর দীদা ছোট হোক একটা পরের মেয়ের কাছে..?”
” তাহলে তুমি যাচ্ছে না তাই তো..!”
ইরাদের কথা শুনে উত্তর না দিয়ে বরং আয়েশা গলা উঁচিয়ে বড় বউকে ডাকলো,
” বড় বউমা কোথায় তুমি, ভেতরে এসো তো.?”
হুড়মুড়িয়ে ভেতরে আসলো ইভা ৷ যেনো ভেতরে আসারই অপেক্ষায় ছিলো সে । ভেতরে আসতেই আয়েশা বললো,
” তোমার পোলা আমারে তার বউয়ের কাছে ক্ষমা চাইতে কয়, তুমি ভালো করে বুঝিয়ে দাও ওরে আমি এসব জীবনেও করবো না..!”
ইভা ছেলেকে কিছু বলার আগেই ইরাদ শক্ত গলায় বললো,

” ওকে ফাইন। তোমাকে বলতে হবে না আমি এখুনি এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। যতদিন তুমি ওকে এ বাড়িতে নিজে গিয়ে আনছো না, আমি নিজেও এ বাড়িতে ফিরবো না ততদিন..!”,
বলেই পিছু ঘুরলে ইভা নির্লিপ্ত কণ্ঠে বললো,
” ইরাদ এসব কি বলছিস তুই। চলে যাবি মানে তুই কোথায় যাবি.? ”
ইরাদ মায়ের দিকে তাকালো না। তাকে এই কাজটা করতেই হবে হয়তো তার মা কষ্ট পাবে কিন্তু দীদাকে শায়েস্তা করার জন্য তার এই কাজ করতেই হবে। নিজেকে সামলে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” তোমরা শুধু নামেই ভালোবাসো, এ বাড়ির লোকগুলো আসলে শুধু টাকাকে ভালোবাসে মানুষকে নয়। থাকো তোমাদের মতো তোমরা, আমিও আমার জীবন খুঁজে নিয়ে থাকি..!”,
বলেই বেরিয়ে গেলো তা দেখে আয়েশা চৌধুরী বেড থেকে নেমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগিয়ে যেতে যেতে বললো,

” দাদুভাই এবার কিন্তু বেশি বেশি করছো। যেওনা আমার কথা শোনো..! “,
ইভাও ছুটলো। ইরাদকে বেরিয়ে যেতে দেখে ইমদাদুল দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” সকাল সকাল আবার তামাশা শুরু করেছো ইরাদ। বুঝতে পেরেছি ওই মেয়ে তোমার ব্রেন ভালোভাবেই ওয়াশ করেছে.!”
ইরাদ যেনো জ্বলে উঠলো। রাগে ভ্রু কুঁচকে তাকালো তার বাবার দিকে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
” যা ইচ্ছে মনে করো আই ডোন্ট কেয়ার। আমি আজ, এখনই, এই মুর্হুতে বেরিয়ে যাবো। আমি আমার ছেলের সাথে থাকতে চায় ব্যাস্। হয় দীদাকে বলবে ফারিশাকে ফিরিয়ে আনতে নয়তো আমায় আর ডেকো না এ বাড়িতে আসার জন্য..! ”
তারেক এগিয়ে এসে ইরাদকে বললো,

” ইরাদ তোমার দীদাকে আমরা বলেছি তো, একটু সুস্থ হোক আমরা নিয়ে যাবো দীদাকে..! ”
” চাচ্চু দীদা হাটতে পারে, সুস্থ আছে। তাহলে সমস্যা কীসের তার। অন্যায়ও করবে আবার দোষ শিকার করবে না। আই’ম সরি চাচ্চু সিরিয়াসলি আমার ধৈর্য আর অপেক্ষা দুটোই আর নেই..! “,
বলেই পিছন ঘুরে সিঁড়ি বেয়ে ধুপধাপ পা ফেলে ওপরে গিয়ে নিজের ব্যাগ নিয়ে নেমে এলো। আয়েশা বসার রুমে এসে ইরাদকে দেখে মুখ ঝাঁকিয়ে বললো,
” তুই জীবনেও ওখানে থাকতে পারবি না। হুদাই জেদ করছিস। আমার ভালো দাদু ভাই যাস না বলছি..?”,
ইরাদ শেষবারের মতো পিছন ঘুরে মায়ের দিকে তাকালো। ইভা টলমল চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে। ওপর থেকে ইভান, সাবাহ্ আর তমা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিচের সবাইকে অবলোপন করছে শুধু। সাদিয়া এক নজর এদিকে এসেছিলো তমা সুযোগ বুঝে তার বরকে ফোন দিয়ে সাদিয়ার কাছে ধরিয়ে দিয়েছে সেই থেকেই তাকে কথা বলার জন্য ছাদে পাঠিয়ে দিয়েছে। নিজের পরিবারের অশান্তি তার শশুরবাড়ির কানে না দেওয়ায় ভালো মনে করলো সে এতে তারা অন্যদিক নিতে পারে । তমা ইভানকে নিচু গলায় বললো,

” এতে কি কাজ হবে। দীদা যে বাঁকা মানুষ..?”
” শেষ টোপ টা মারতে দাও বেহেন জি, তবেই বোঝা যাবে দীদার অবস্থা তাই না সাবাহ্..! “,
বলেই সাবাহ্’র কাঁধে হাত দিতে গেলে সাবাহ্ সরে গিয়ে বোনের ওপর পাশে গিয়ে দাঁড়ালো ইভানের মুখ পানে একবারের জন্যও তাকিয়ে দেখলো না। ইভান বাঁকা চোখ করে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে তাকে দেখলো শুধু তারপর নিচে তাকালো আবার।
ইরাদ কিছুটা সূক্ষ্ম হেসে দীদার দিকে তাকিয়ে বললো,
” দীদা তুমি অন্যায় করেও শিকার করছো না জন্য গয়নার বাক্স হাতছাড়া হয়েছে এরপর আরও কী কী হাতছাড়া হতে পারে দেখে নিও তখন আবার আমার বউয়ের কাছে এসো না.! আম্মু আমি গেলাম তুমি চিন্তা করো না..! “,
শেষ কথাটা ইভাকে বলেই বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে ইমদাদুল শুধু রাগী দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে রইলো।
” তোর পোলা এসব কি বললো ইমদাদুল। আমার গয়নার বাক্স তোর পোলা সরায় নাই তো, বউ মা তোমার পোলা কি বোঝাইলো আমার বোঝাও..?”
আয়েশাকে উত্তেজিত হতে দেখে সুমানা এগিয়ে এসে তাকে ধরে বললো,
” এমনি রাগের মাথায় বলেছে। ও গয়না নিয়ে কী করবে.! আপনি শান্ত হোন তো.? ”
ইভা মাথায় হাত দিয়ে সোফার ওপর বসে পড়লেন এত অশান্তি আর তার ভালো লাগছে না শেষমেশ ছেলেটা চলে গেলো।

দুপুর গড়াতে চললো। ফারিশা পরীক্ষা দেওয়ার সময় আজ ইয়াশকে নিয়ে গেছিলো সাথে করে। ক্লাসের বাইরে বেঞ্চের ওপর বসিয়ে রেখে পরীক্ষা দিয়েছে যেহুত তার দরজার পাশেই সীট ছিলো তাই সমস্যা হয়নি ইয়াশ চোখে চোখে রাখতে। পরীক্ষা দিয়ে এসেই ফারিশা ইয়াশকে গোসল করিয়ে বেডের ওপর বসিয়ে দিয়ে গেছে। ইয়াশ রাত থেকে শুধু মাইর খেয়েই যাচ্ছে একটু আওয়াজ করলেই। ভেজা বিড়ালের মতো চুপটি করে বেডের সাইডে বসে আছে। ফারিশা রান্না ঘরে ধুপধাপ আওয়াজ করে রান্না করছে যেনো। ফারিশা ভোরবেলা উঠে তুবার রুম ঠিক করেছে ইরাদের জন্য। রান্না শেষ করে নিজের ঘরে এসে ফোন টা হাতে নিয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
” এক পা যদি বিছানা থেকে নামিয়েছো তো পা কেটে রেখে দিবো পাজী ছেলে। আমি নিচে যাচ্ছি..? ”
ইয়াশ কিছুটা মিনমিন গলায় বললো,

” আম্মু আমি যাবো তোমাল সাথে..? ”
ফারিশা চোখ বড় বড় করে তাকাতেই ইয়াশ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো আর বললো,
” আমি কী এমনিই ফোন ফেলেচি। মিলাদ আমাকে গজল শুনতে দেয়নি তাই তো ফোন ফেলেচি..?” ,
বলেই দুই হাত দিয়ে চোখ ডলতে থাকলে ফারিশা কোমরে দুই হাত রেখে বললো,
” সত্যি মিলাদ ফোন দিয়েছিলো..? ”
ইয়াশ মাথা দুলাতেই ফারিশা রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো,
” ওই লোককে আসতে দাও খালি বোঝাচ্ছি মজা। আমি যাচ্ছি নিচে ছাদের আম্মুর কাছে, তুমি বসে থাকো চুপ করে..!”,
বলেই ফারিশা চলে গেলো। মাকে যেতে দেখে ইয়াশ পাশ থেকে কাঁথা টা ছাড়িয়ে নিজের গায়ে দিয়ে শুইয়ে পড়লো। বেডের ওপর মুখ চেপে কান্না করছে উল্টো হয়ে শুইয়ে।

ইরাদ নিজের লাগেজ টা নিয়ে ফারিশার দরজার সামনে রেখে দাঁড়িয়ে নক করতেই দরজা কিছুটা হা হয়ে গেলো তা দেখে ইরাদের ভ্রু কুঁচকে গেলো। নিজের শার্টের কলার কিছুটা টেনে, চুলগুলো ঠিক করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো। তারপর দরজাটা আটকে ব্যাগটা সেখানে রেখেই ডেকে বসলো,
” ফারিশা! ইয়াশ কোথায় তোমরা..? ”
ওপাশ থেকে কোনো উত্তর এলো না শুধু কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো তার কানে। তা শুনে ইরাদ এগিয়ে ফারিশার রুমের সামনে যেতেই ইয়াশকে দেখতে পেলো। ছেলেকে কাঁদতে দেখে সামনে গিয়ে বেডের ওপর বসে পড়লো।
” ইয়াশ বাবা কাঁদছো কেন তুমি? আর এত গরমের মাঝেও কাঁথা নিয়েছো কেনো..?”
ইয়াশ মুখ তুলে এক নজর টলমল চোখে ইরাদকে দেখেই ফের বিছানার ওপর মুখ ঢেকে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বললো,
” আম্মু মেলেচে ( মেরেছে) আমাকে আ আ আ..? “,
এতটুকু বলেই ইয়াশ কান্না করছে আর হিঁচকি তুলছে। ইরাদ আরেকটু ঝুঁকে এসে তার মাথায় হাত রেখে বললো,

” কোথায় মেরেছে আম্মু আর কেনো মারলো তোমায়, আমায় বলো তো..? ”
ইয়াশ মুখ তুলে ফের তাকালো ইরাদের দিকে, তার গাল বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে, ফর্সা হওয়ায় মুখখানা লাল টুকটুকে হয়ে আছে কান্নার ফলে। ঠোঁট উল্টে ডান হাত দিয়ে নিজের পিঠের দিকে, হাতের কবজির দিকে, তার কানের দিকে তাক করে অভিযোগের সুরে বললো,
” পিটে ( পিঠে) মেলেচে ( মেরেছে) আল ( আর) হাতে মেলেছে আল কানে..!”
ইরাদও এবার ঠোঁট উল্টালো ছেলের এমন দশা দেখে। ছেলের পিঠে হাত বুলিয়ে নিচু গলায় বললো,
” কেনো মারলো তোমায় আজ আম্মু আসুক বকে দিবো আমি সাহস তো কম নয় ইয়াশ বাবাকে মারে.? ”
ইয়াশ মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,

” তোমায় বললাম আমি বেশতো তুমি শুনলে না তাই আমি আম্মুল ফোন জগের মধ্যে দিয়েচিলাম আল নষ্ত ( নষ্ট) হয়ে গেচে তাই । “,
এতটুকু বলেই ইয়াশ ফের বিছাবার সাথে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিলো। হাত দিয়ে কাঁথা আরেকটু গায়ে টেনে মাথা ঝুঁকেই বলে উঠলো,
” আমি আম্মুকে বলেচি তুমি আমায় ডিশতাব ( ডিস্টার্ব) কলেচো তাই ফোন মামের মধ্যে ফেলেচি আমি..?”
ইরাদ ছেলের কথা শুনে টাস্কি খেলো যেনো। পেছনে সরে যেতেই আচমকা ধপাশ খেয়ে পড়ে গেলো বেড থেকে। নিজেকে সামলে ফ্লোরে বসেই বেডের সাথে হেলান দিয়ে চিন্তিত গলায় বললো,
” বাবা তুমি তো অসাধারণ কাজ করেছো, নিজে তো ফেঁসেছ সাথে বাপকেও ফাঁসিয়েছো। একটু বেশিই তাড়াতাড়ি চলে এসেছি বোধহয় যায় বাড়ি ফিরে যায় রাতে আসবো…!”,
এতটুকু বলেই ফ্লোর থেকে উঠতে গেলে পিছন থেকে ভেসে এলো ফারিশার থমথমে গলা।
” আপনি কখন এলেন..?”
ইরাদ স্থির হয়ে রইলো সেখানেই। ওই যে কথায় আছে না, ” যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যে হয় ” তারও হয়েছে ঠিক তাই ।

ইরাদ জিহ্ব দিয়ে নিজের শুকনো ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে বললো,
” সকাল সকালই আসলাম ফ্রি আছি যেহুত ওই আর কি..?”,
বলেই ঘাড় বাকিয়ে ফারিশার মুখের দিকে তাকিয়ে বোকার মতো হেসে উঠলো ইরাদ । ফারিশা ইয়াশের দিকে এক নজর তাকিয়ে ইরাদকে বললো,
” আমার ফোন নাম্বার কোথায় পেয়েছেন আপনি.?”
ইরাদ চোখ অনবরত এপাশ-ওপাশ চোরের মতো ঘুরিয়ে বললো,
” তু.বা দিয়েছিলো আমায়.! ”
” এত রাতে ফোন দিয়েছিলেন কেন কাল.? ”
” আমিই কই না তো ফোন ভুল করে এসেছিলো হয়তো.!”
বলেই ইরাদ দাঁড়িয়ে পড়লো। ইরাদের কথা শুনে ইয়াশ মাথা তুলে ইরাদকে বললো,
” তুমি যে গপ্প করতে চাইলে মিলাদ.! ”
শেষমেশ ছেলে তার ইজ্জতকে ফাহ্…….. করে উড়িয়ে দিলো তা ভাবতেই ইরাদের কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে হচ্ছে।
ফারিশা ছেলের দিকে তাকিয়ে গরম চোখে বললো,

” ইয়াশ আর একটা কথা বললে কান ধরিয়ে রাখবো কিন্তু..!”
ইয়াশ সঙ্গে সঙ্গে ফের মাথা নিচু করে ফুঁপাতে লাগলো।
ফারিশা ইরাদকে চোখ পাকিয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললো,
” বাইরে আসুন..?”,
বলেই ফারিশা বাইরে চলে গেলে ইরাদ চট করে ইয়াশকে কোলে তুলে নিলে ইয়াশ রাগ দেখিয়ে হাত-পা আছড়াতে আছড়াতে বললো,
” আমি যাবো না ছালো আমায়..!”
ইয়াশের হাত থেকে যে কতগুলো গণপিটুনি খেলো যার ঠিক নেই। ইরাদের সাথে না পেরে শেষমেশ ইয়াশ নিজেই চুপ হয়ে গেলো তা দেখে ইরাদ রুম থেকে বের হতে হতে বললো,
” এই বার মুখ টা চুপ রেখো সোনা নয়তো সুপার গ্লু মেরে দিবো..!”,
বলেই বেরিয়ে গেলো হনহনিয়ে । বসার রুমে গিয়ে ইয়াশকে ব্যাগের ওপরে বসিয়ে দিয়ে পাশেই দাঁড় হলো আর তার অপর পাশে ফারিশা। ফারিশা নিজের ফোনটা ইরাদের সামনে ধরে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,

” যান গিয়ে এই ফোন টা ঠিক করে এনে দিন..!”
ইরাদ ফোন হাতে নিয়ে উল্টে-পাল্টে চেক করে বললো,
” ফোনটা তো প্রায় নষ্টের দিকেই নতুন ফোন কিনে দেয়.?”
” চেয়েছি আপনার থেকে আমি। যা বলছি করুন দ্রুত। আর দ্রুত ফোন ঠিক করে এসে আপনি আমাদের ঘর মুছবেন। আপনার জন্যই আমার ফোন নষ্ট হয়েছে.? ”
ইরাদ থতমত খেয়ে ফারিশার দিকে তাকিয়ে বললো,
” এ্যাঁহ.. ঘর মুছবো..?”
” জি দ্রুত যান আমি আপনার ব্যাগ রুমে নিয়ে যাচ্ছি। দেরি যেনো না হয় তাহলে ঘরে ঢুকতে দিবো না..! ”
ইরাদ মাথা দুলিয়ে চুপচাপ ভদ্রলোকের মতো বেরিয়ে গেলো। ইরাদকে যেতে দেখে ইয়াশ মায়ের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে বললো,

” আম্মু সুপাল গু কি..? ”
” রুমে যাও..!”
মায়ের ধমকের সুর শুনে ইয়াশ ব্যাগ থেকে রুমে যেতে যেতে কেঁদে উঠলো আর বললো,
” আমি এখন আবাল শুইয়ে থেকেই কাঁদবো..! “,
বলেই চলে গেলো রুমে, তা দেখে এগিয়ে যেতে যেতে ফারিশা বললো,
” কিছু বললামই না আর তুমি ফ্যাসফ্যাস করে কাঁদছো কেন ইয়াশ..!”,
বলেই ফারিশা বেডের ওপর বসে ছেলের কাছে এগিয়ে গিয়ে বসে পড়লো। ছেলেকে কোলের কাছে নিয়ে এসেছে তার মুখ টায় নিজের হাত বুলিয়ে বললো,
” দেখি তো কত কেঁদেছে আমার বাবা টা..?”
মায়ের আদুরী গলা পেয়ে যেনো আরও জোরে কেঁদে উঠলো ইয়াশ। মাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
” তুমি আমায় অনেক মেলেচো.! ”
” এই তো মা সরি বলেছে আর কেঁদো না প্লিজ বাবা এবার কিন্তু ইয়াশের মাও কাঁদবে..! ”
ইয়াশ চুপ হয়ে গেলো সেকেন্ডের মাঝেই যেনো। মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
” শরি ( সরি) বলো.?”
ফারিশা ঠোঁট উল্টে ছেলের চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো,

” সরি বাবা..! কিন্তু তুমি আর ফোন পানিতে ফেলবে না এগুলো করতে হয় না, ঠিক আছে..! ”
” হুম! নয়তো কি সুপাল গু মেরে দিবে আমায়.!”
ফারিশা শব্দ করে হেসে উঠলো ছেলেকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
” কে শেখালো তোমায় সুপার গু..?”
ইয়াশ হাসতে হাসতে বললো,
” মিলাদ বলেচে.! ”
” চলেন আমরা মিলাদের জামা-কাপড় গুছিয়ে দেয়.!”
ইয়াশ মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৭

” মিলাদ কোতায় যাবে..!”
ফারিশা ইয়াশের গাল টেনে বললো,
” কোথাও যাবে না বাবা। মিলাদ এখানে থাকবে কিছুদিন..! ”
ইয়াশ অবাক হলো আর বললো,
” সত্যি..! ”
” একদম পাক্কা সত্যি..! ”

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৮