ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৮
শানজানা আলম
এহসান তার শাশুড়ী তাহিরা বেগমের ফোন রিসিভ করল রুমের বাইরে গিয়ে। অস্বস্তি নিয়ে তাহিরা বেগম জানতে চাইলেন, অথৈ কোথায়?
-অথৈ ঘুমাচ্ছে, এহসান উত্তর দিলো।
-ও আচ্ছা। ঐশির সাথে কি ওর কথা হইছে?
-না।- এহসান সংক্ষিপ্ত করে বলল।
তাহিরা বেগম ভাবলেন, চুপচাপ রাখঢাক করে লাভ নেই, সরাসরি কথা বলাই ভালো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
-ঐশি কোথায় আছে তুমি জানো? –
-না।
-ঐশির আজকের পরিস্থিতির জন্য তুমি দায়ী এহসান!
টেনশন আর স্ট্রেসেও এহসানের হাসি পেলো। সে বলল, মা, আপনাকে আমার সম্পর্কের সূত্রে মা বলতে হয়। আপনি ঐশির প্রতি এত অন্ধ কেন? আপনি ঐশির আজকের লাইভ দেখেছেন? নাসির গ্রুপের নাসিরের সাথে তার ওঠা বসা এমবিএ লাস্ট সেমিস্টারে পড়ার সময় থেকে, আমি অসংখ্য বার ধরেছি, তার চলাফেরা কেনা কাটা আমার বেতনে পোষাতো না, সে এত খরচ কিভাবে করত, কখনো জানতে চেয়েছেন? গুলশানে সে শোরুম করল, ও জীবনে কখনো বিজনেস করেছে? এত টাকা কে দিলো তাকে? আপনি দিয়েছেন কোটি টাকা তাকে, আপনাদের দেখে তো মনে হয় না কোটি কোটি টাকা আপনাদের আছে?
আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে, আপনার বড় মেয়ের নিচে নেমে গিয়েছে, স্বামী সংসার বাদ দিয়ে পরকিয়া করেছে, তাও বিয়ে করেনি, রক্ষিতা হয়ে ছিল, প্রেগন্যান্টও হয়েছে, আপনাকে কথাগুলো বলতে আমি বাধ্য হলাম, আমার অবাক লাগে, অথৈ ঐশির বোন!
তাহিরা বেগম বললেন, ঐশি অনেক খারাপ, মানছি, কিন্তু তুমি কি? তোমার কি পৃথিবীতে মেয়ের অভাব পড়ছিল, অথৈ কে তোমার পটাতে হলো? তোমার এউ আচরনে ঐশি ডিপ্রেশনে যা নয় তাই করেছে।
এহসান বলল, ঐশি বা অথৈ তো কোনো বাচ্চা মেয়ে না মা? অথৈ জেনে বুঝেই আমার কাছে এসেছে! ঐশির করা অন্যায়গুলো ও জানে। এমনকি আপনার বড় মেয়ে গয়না চুরিও করেছে! নিজের গয়না নিজের চুরি করতে হয়েছে তাকে! আমার বাসায় এসে কি করেছে, সেটা তো আপনি জানেন, কিন্তু পাত্তা দেন নি, শাসনও করেন নি!
যাই হোক, অথৈ এর প্রতি আপনাদের এক চোখা দৃষ্টি আমি সহ্য করছি, এখন আপনাদের কিন্তু বিপদ সামনে। আমি বাবাকে কল করে বলেছিলাম, উনি আমাকে বিশ্বাস করে নি। আমার নিজের চাকরির ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে এইসব স্ক্যান্ডল নিয়ে। আপনি বাবাকে নিয়ে সকালে ঢাকায় আমার বাসায় চলে আসুন। অথৈ এখন আমার ভাইয়ার বাসায় আছে, ওকে চাইছি না, এসব ঝামেলায় জড়াতে। জীবনটা একটু গোছাতে শুরু করেছি, জানিনা সামনে কি আছে কপালে।
তাহিরা বেগম বললেন, আমাদের বিষয় তোমাকে ভাবতে হবে না। কথায় তোমার সাথে আমি পারব না। তবে একটা কথা জেনে রাখো, ঐশি খারাপ, খুব খারাপ কিন্তু তুমিও ভালো মানুষ না। তুমি ভালো হলে ঐশির আজ এই দশা হতো না। একটা ফাড়া তুমি, তোমার জন্য আমার সংসারটা এলোমেলো হয়ে গেছে, আমার দুইটা মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে গেল।
এহসানের ফোনটা কেটে দিলেন তাহিরা বেগম।
এহসান ঠিক করল, সকালে অথৈকে সবটা বলে, তারপরে অফিসে যাবে অথবা প্রয়োজনে ছুটি নিয়ে অথৈ কে বোঝাতে হবে। আর অথৈ কে অবশ্যই আনওয়ান্টেড কল রিসিভ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ঐশি ফোন করেছিল নায়েব পাশাকে। ঐশি হোটেল এ্যাডিশনে আছে, ব্যালান্স দরকার। নায়েব পাশা টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে, আর বলেছে, আপাতত তার সাথে যোগাযোগ না করতে। নাসির ছেড়ে দেওয়ার লোক না।
নায়েব পাশা ঐশির লাইভটা দেখেছে। এই লাইভের বিষয়ে সে জানেই না, তাকে যারা রিফিউজ করেছিল, তারাই ঐশির লাইভ নিয়ে নিউজ করছে, অদ্ভুত!
চ্যানেলটাই বা কার! এই চ্যানেলে ফলোয়ার ছিলই না, সেটা রাতারাতি হান্ড্রেড কে ক্রস করে ফেলল!
ঐশিকে ট্রেস করতে সব চ্যানেল থেকে খোঁজাখুজি চলছে, ক্যামেরার সামনে এলেই ঐশিকে নাসির বা নওফেল সাহেব গুম করে ফেলবে।
আর এই বিষয়ে ইনভলব হওয়া যাবে না, বাবা জানতে পারলে প্রচন্ড রেগে যাবেন। ঐশি সামনে এলে নায়েব পাশা নিজেও ফেঁসে যাবে। ঐশিকে বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে ভালো হতো। এই জোয়ারের মতন হাইপটা থেমে গেলে, ঐশিকে বাইরে কোথাও পাঠিয়ে দিতে হবে।
নাসিরের সাথে পুরনো হিসেব মেটাতে গিয়ে এতটা জল ঘোলা হলো!
নাসির কতক্ষণ চিৎকার চেঁচামেচি করেছে ফোনে, এখন চুপচাপ বসে আছে। দোয়েল বুঝতে পারছে না হঠাৎ কি হলো! টাওয়েল জড়িয়ে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল ড্রাই করে নিয়েছে। মনে হচ্ছে লোকটা পয়সাওয়ালা পার্টি। ফেসে হালকা করে টাচআপ করে লিপগ্লসে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো দোয়েল। তারপর নাসিরের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো।
নাসির আবারও ফোনে কথা বলছে কোথাও, কথা বলা শেষ হলে দোয়েল জানতে চাইল,
-কি হয়েছে? আমি কি চলে যাব? কোনো সমস্যা?
নাসির মাথা ঠান্ডা করে ফেলল, কি হবে, কি ছিড়তে পারবে ঐশি তার! ঐশিকে পুতে ফেলতে তার একঘন্টাও লাগবে না, সে যথেষ্ট কাইন্ডনেস শো করেছে, তবে ঐশির এত বড় সাহস একা একা হয় নি, তার পেছনে কেউ আছে, আর এই কেউ তাকে আলী ভাই অবধি নিয়ে গেছে। এই শত্রুকে না খুঁজলে একা ঐশিকে গুম করে তার কিছুই হবে না। আবার সমস্যা তৈরি হবে।
দোয়েলের দিকে তাকিয়ে নাসির দেখল, ওর উদাম পা গুলো বের হয়ে আছে, বুক অবধি টাওয়েল ঢাকা। নাসির ভাবল, যা করার পরে করা যাবে, আপাতত এইটাকে নিয়ে কিছু সময় কাটানো যাক। বেশ ভালো প্লেয়ার মেয়েটা!
নাসির হ্যাচকা টান দিয়ে দোয়েলের টাওয়েল খুলে ফেলল, নগ্ন দোয়েলকে কোলে নিয়ে ওর বুকে মুখ দিয়ে নাসির বলল, অনেক সমস্যা, তুমি সেসব বুঝবে না।
দোয়েল ঢং করে বলল, আউউচ, ছাড়ুন না, কেন বুঝব না, আমি কি বাচ্চা নাকি! আমাকে বলুন!
নাসির দোয়েলের সারা শরীরে মুখ ঘষতে ঘষতে বলল, সেসব তোমার শুনে কাজ নেই। তুমি বরং তোমার কাজটা ঠিক করে করো। দোয়েল নাসিরকে চিৎ করিয়ে সারা শরীরে চুমু খেতে শুরু করল, নাসির উপভোগ করছিল, জোশ মেয়েটা! পাতলা ফিনফিনে শরীর, গোলাপি ঠোঁট আর উন্নত স্তন, কোমড়! ভালোই কোমড় দোলায়! পাকনা মেয়ে! এইসব মেয়ে বাদ দিয়ে বুড়ি খা★ন★কির কাছে গিয়েছিল নাসির! পঁচা শামুকে পা কাটলে যা হয়!
তোমাকে নিয়ে নেপাল যাব! যাবে?
নাসির বলল।
দোয়েল বলল, না, মালদ্বীপের ওয়াটার রিসোর্ট ভিলাগুলোতে যাব।
নাসিরের মনে পড়ল, বদটাকে নিয়ে গিয়েছিল ওখানে।
নাসির বলল, ওকে, নিয়ে যাবে, সেখানে মজা দিতে পারবে তো?
দোয়েল নাসিরের উপরে পজিশন নিতে নিতে বলল, সব পারব, আমাকে টিকটক করতে দিতে হবে, ড্যান্স করব, ছবি তুলব আর …
আর কি?- নাসির জিজ্ঞেস করল।
-আপনাকে আদর করব, এভাবে!
নাসিরের উপরে দোয়েল বসতেই নাসিরের ফোনে কল এলো একটা।
নাসির ফোনটা পিক করতেই, ওপাশ থেকে ঐশি বলল, কেবল লাইভটা হলো, কাল সবার হাতে তোমার আর আমার ন্যুড ছবি আর ভিডিও গুলো থাকবে, সব চ্যানেলগুলোও দেখাবে।
নাসির ঝটকা দিয়ে দোয়েলকে সরিয়ে দিয়ে বলল, খা★ন★কি, তোরে আমি পুইতা ফেলব! জাহান্নামের চৌরাস্তা তোকে দেখিয়ে ছাড়ব।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৭
রতিক্রিয়া থেকে এভাবে সরে গিয়ে দোয়েল ইতস্তত হয়ে ভয় পেয়ে গেল।
ঐশি নাসিরকে বলল, ওকে ডান, তার আগে তোমার ন্যাংটা সিনেমা সবাইকে দেখিয়ে দিব!
