Home রুহআবিষ্ট তুমি রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ১৯ (৩)

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ১৯ (৩)

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ১৯ (৩)
অধরা মিনহা

বিধ্বস্ত হয়ে গাড়িতে বসে আছে আনতারা। গাড়ি আপন গতিতে ছুটে চলছে, অথচ সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। সে নিজের মধ্যে নেই। চারপাশ সম্পর্কে তার কোনো হুঁশ নেই। এমনকি সে কীভাবে গাড়িতে এসে বসেছে, সেটাও সে জানে না। কাগজে সাক্ষর করার পর থেকে একটা যান্ত্রিক রোবটের মতো হয়ে আছে। একদম নির্বিকার, অনুভূতিহীন। কাঁদছেও না। মানুষ যখন বিশাল বড় কোনো ধাক্কা খায়, তখন অনেক সময় কান্নাও আসে না। সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়।
মানুষটা চুপচাপ হয়ে যায়, যেন তার ভেতরের সব অনুভূতি একসঙ্গে অবশ হয়ে গেছে। আনতারার অবস্থাও ঠিক তেমনি। আনতারাকে দেখলে মনে হচ্ছে, সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তবে এমন হবে নাই বা কেন? মাত্রই তো সে তালাকপ্রাপ্ত হয়েছে। তালাক। এই ভারী শব্দটা আজ থেকে জুড়ে গেছে তার নামের সঙ্গে। আনতারার দৃষ্টি পায়ের দিকে স্থির হয়ে আছে। কিন্তু তার মন সেখানেও নেই। মন যে কোথায় হারিয়ে গেছে, সে নিজেও জানে না। হঠাৎ আনতারা ফাঁকা, শূন্য দৃষ্টিতে পাশে থাকা ইফরাদের দিকে তাকায়।

ইফরাদ জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। আনতারা চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এই মানুষটাই তো তাকে এত ভালোবাসা দেখিয়ে আজ তাকে ছেড়ে দিল! তালাক দিয়ে দিল! অথচ কাল রাত পর্যন্তও সরাসরি কিছু না বলেও হাজারভাবে তাকে উপলব্ধি করিয়েছে, তার প্রতি অনুভূতি আছে ইফরাদের। এত আদর, এত ভালোবাসা দেখিয়েও কি একজন মানুষ এভাবে কাউকে ছেড়ে দিতে পারে? বিধ্বস্ত আনতারার মনে প্রশ্ন জাগে।প্রশ্নটা মনে আসতেই চোখের কোণ থেকে আবার টুপ করে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে।
ইফরাদ জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকলেও বুঝতে পারে, আনতারা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সে আনতারার দিকে তাকাতেই দুজনের চোখাচোখি হয়ে যায়। আজ আনতারা আর দৃষ্টি সরিয়ে নেয় না। একদৃষ্টিতে ইফরাদের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। মানুষটাকে ভালোভাবে দেখে একটু চিনতে চায়। ইফরাদ আনতারার চোখে জল দেখতে পেয়ে তার দিকে একটু হেলে ডান হাত বাড়িয়ে দেয়, চোখের জল মুছে দেওয়ার জন্য। আনতারা সঙ্গে সঙ্গে সরে যায়। তারপর কান্নাভেজা অথচ শক্ত গলায় বলে,

—ছুঁবেন না আপনি আমাকে।
ইফরাদ শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করে,
— আমাকে ছুঁতে মানা করছো?
— হ্যাঁ। একটু আগে আপনি আমাকে তালাক দিয়েছেন। আমাকে স্পর্শ করার যে অধিকার আপনার ছিল, সেটা আপনি আমাকে তালাক দিয়ে একটু আগেই শেষ করে ফেলেছেন। এখন আর আপনি আমার মাহরাম নন, আর আমিও আপনার জন্য হালাল নই।
ইফরাদ এর বিপরীতে কিছু বলে না। চুপ করে তাকিয়ে থাকে আনতারার দিকে। তবে তার দৃষ্টিতে কোনো অপরাধবোধ নেই। নেই কোনো অনুশোচনাও। দৃষ্টি একেবারেই স্বাভাবিক। বরং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আনতারাকে। আনতারা কথাগুলো বলার পরও ইফরাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, ইফরাদের উত্তরের আশায়। কিন্তু ইফরাদকে নিশ্চুপ দেখে আনতারা বুঝতে পারে, ইফরাদ কোনো উত্তর দিতে আগ্রহী না। তাই চোখে গভীর কষ্ট নিয়ে, ভাঙা গলায় কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করে,

— তাছাড়া চোখের জল মুছতেই চাচ্ছেন কেন? দিয়েছেন তো আপনিই!
ইফরাদ এবারও চুপ। ইফরদদের এই নীরবতা আনতারার বুকের ভেতরের সবকিছু আরো ভেঙে দেয়। সে এবার কেঁদে উঠে বলে,
— মানুষ ঠিকই বলে! একবার তালাকের নাম নিলে একদিন না একদিন তালাকটা হয়েই যায়।
ইফরাদ শান্তভাবে বলে,
— যা হওয়ার হয়ে গেছে!
আনতারা এবার চোখ তুলে তাকায়। তার চোখে বিস্ময়, কষ্ট আর অবিশ্বাস। সে অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
— যা হওয়ার হয়ে গেছে? এত বড় অন্যায় আমার সাথে করে যা হওয়ার হয়ে গেছে বলছেন?
ইফরাদ বেশ শান্ত গলায় বলে,

— তো কী বলবো? কী শুনতে চাও?
আনতারা চোখের জল মুছে, কষ্ট চেপে বলে,
— কিছু বলতে হবে না। আমি কিছু শুনতেও চাই না। আপনি গাড়ি থামান।
ইফরাদ জিজ্ঞেস করে,
— কেন?
আনতারা এবার আরো ভাঙা গলায় বলে,
— যেখানে সম্পর্কই আর নেই আপনার সাথে, সেখানে আপনার সাথে এক মুহূর্তও আমি থাকতে চাই না।
ইফরাদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে জিজ্ঞেস করে,
— কোথায় যাবে?
আনতারা কষ্টভরা গলায় বলে,
— রাখেননি আপনি আপনার কাছে। এখন কোথায় যাবো, সেটাও জানার দরকার নেই।
— আমি রাখতে চাইনি?
আনতারা সঙ্গে সঙ্গে বলে,
— না, আপনি রাখতে চাননি। আপনার মা আপনার ভালোবাসার প্রমাণ চাইলো, আর সেই প্রমাণ দিতে গিয়ে আপনি আমাকে তালাক দিয়ে দিলেন! তাহলে এতদিন আমার সঙ্গে আপনার যা ছিল, সেগুলো কী ছিল? সবই কি অভিনয়?
ইফরাদ এবার আনতারার চোখে চোখ রেখে বলে,

— তোমার মন কী বলে? ওগুলো অভিনয়?
আনতারা এবার শব্দ করে কেঁদে উঠে,
— হ্যাঁ, ওগুলো অভিনয়ই ছিল। আপনি তো অভিনেতা, সেজন্য আপনার নিখুঁত অভিনয় আমি ধরতে পারিনি। অবশ্য দোষ আমারই। আমার তো বোঝা উচিত ছিল, আমাকে কেউ কেন এত ভালোবাসবে? যেখানে নিজেরই রক্ত আমাকে অবহেলা করেছে?
কথাগুলো বলতে বলতে আনতারার কণ্ঠ আরো কেঁপে ওঠে।
— আচ্ছা, আমাকে কেউ কেন নিজের করে রাখতে চায় না? কেন বারবার মানুষ আমাকে ছুড়ে ফেলে দেয়? বারবার প্রমাণিত হয়, আমি কেবলই ফেলনা?!

ইফরাদ এবারও নিশ্চুপ। শুধু তাকিয়ে থাকে আনতারার দিকে। আনতারা শব্দ করে কাঁদছে। মাথা নত হয়ে আছে তার। আনতারার কান্নার প্রতিটা শব্দ গাড়ির ভেতরের নীরবতাকে আরো ভারী করে তুলছে। কিছু সময় পর গাড়ি থেমে যায়। গাড়ি থেমেছে, এটা আনতারা উপলব্ধি করতেই মাথা তুলে তাকায়। দেখে, গাড়ি এসে বাড়ির সামনে থেমেছে। আজ আর আনতারা ইফরাদের অপেক্ষা করে না। নিজেই গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। তার পেছন পেছন ইফরাদও গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভেতরে যেতে থাকে।
আনতারা বাড়িতে ঢুকতেই দেখে, লিভিং রুমে সোফায় বসে আছেন শার্লিন ইমরোজ, ইরাইনা আর ইখতিয়ার চৌধুরী। শার্লিন ইমরোজকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি বেশ খুশি হয়েই বসে আছেন। অন্যদিকে ইরাইনা আর ইখতিয়ার চৌধুরীর মুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ। আনতারা ভেতরে আসতেই সবাই একসঙ্গে উঠে দাঁড়ায়।
ইরাইনা চিন্তিত মুখে দ্রুত এগিয়ে এসে বলে,

— এসেছো তুমি? কোথায় ছিলে? চিন্তা হচ্ছিলো!
ইরাইনাকে দেখেই আনতারা আর নিজেকে সামলাতে পারে না। ছুটে গিয়ে ইরাইনাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।
— আপু, আপনার ভাই আমাকে তালাক দিয়েছে!
কথাটা শুনেই ইরাইনা যেন পাথর হয়ে যায়। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়, সে ভুল শুনেছে। ইরাইনা আনতারার মাথাটা আলতো করে তুলে দুই হাত দিয়ে তার চোখের পানি মুছে দিতে দিতে সান্ত্বনা দিয়ে বলে,
— কাঁদছো কেন? এমন কিছুই হয়নি। কেঁদো না।
এদিকে আনতারার কথা শুনে শার্লিন ইমরোজের চোখ আনন্দে চকচক করে ওঠে। ইফরাদ আনতারাকে তালাক দিয়ে দিয়েছে, এই কথাটা শুনেই ওনার মুখে খুশির ছাপ ফুটে ওঠে। ইরাইনা আনতারার চোখের জল মুছে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই আনতারা আবার কেঁদে ওঠে।

— এমনই হয়েছে। উনি আমাকে তালাক দিয়েছে!
ইরাইনার মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে। তার মানে, সে তার মাম্মার কাছ থেকে ভুল কিছু শোনেনি। তার মাম্মা সত্যিই কথাই বলেছিল! অফিস থেকে ফিরে শার্লিন ইমরোজকে এতটা খুশি দেখে ইরাইনা জিজ্ঞেস করেছিল, কী হয়েছে? তখন শার্লিন ইমরোজ তাকে জানায়, ইফরাদ আনতারাকে ডিভোর্স দিতে নিয়ে গেছে। কথাটা শুনেই ইরাইনা ভীষণ রকমের ধাক্কা খেলো। সে সঙ্গে সঙ্গে ইফরাদকে কয়েকবার ফোন করেছিল। কিন্তু ইফরাদ একবারও তার কল রিসিভ করেনি।
কিন্তু এতক্ষণ পর্যন্ত ইরাইনার মনে একটা ক্ষীণ আশা ছিল, হয়তো তার মাম্মা ভুল কিছু বলেছে, ইফরাদ এমন করতে পারে না। কিন্তু এখন আনতারার মুখে এই কথা শুনে ইরাইনা বুঝতে পারছে, তার মা সত্যিই মিথ্যা বলেনি।ইফরাদ সত্যিই আনতারাকে ডিভোর্স দিতে নিয়ে গিয়েছিল।
এবার ইরাইনা অস্থির হয়ে বলে,

— ব্রো কোথায়….
কথাটা শেষ করার আগেই ইরাইনা দেখতে পায়, ইফরাদ বাড়ির ভেতরে ঢুকছে। আনতারা ঘুরে তাকায় ইফরাদের দিকে। ইফরাদকে দেখেই শার্লিন ইমরোজ খুশি হয়ে বলে উঠেন,
— ব্যাটা, তুমি এসেছো? আমি অনেক খুশি! আমি বিশ্বাস করেছি, তুমি মাম্মাকে অনেক ভালোবাসো!
কথাটা শুনেই ইরাইনা আর চুপ থাকতে পারে না। সে ইফরাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— ব্রো, তুমি পাগল হয়েছো? মাম্মার কথায় তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছো?
শার্লিন সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন,
— আমার ছেলে আমার কথা শুনবে না?
কথাটা বলেই তিনি আনতারার দিকে ঘুরে তাকান। ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠেন,
— আমার ছেলে তোমাকে তালাক দিয়েছে! তুমি আবার কোন সাহসে বাড়িতে আসো? বের হও আমার বাড়ি থেকে।

বলেই তিনি এগিয়ে গিয়ে আনতারার হাত ধরে টানতে টানতে আনতারাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে নিয়ে যেতে থাকেন। আনতারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আনতারাকে টেনে বাড়ির দরজার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ঠিক তখনি হঠাৎ শার্লিন ইমরোজ ওনার হাতের বিপরীত দিক থেকে একটা টান অনুভব করেন। তিনি থেমে পেছনে ফিরে তাকান। দেখেন, আনতারার অন্য হাতটা ইফরাদ শক্ত করে ধরে আছে।
ইফরাদ গম্ভীর শক্ত গলায় বলে উঠে,
— বাড়ির মালিককেই বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাচ্ছো, মাম্মা?
শার্লিন ইমরোজের হাতটা হালকা হয়ে আসে। অবাক হয়ে বলেন,
— কে বাড়ির মালিক?
ইফরাদ শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় বলে,

— আনতারার নামে আমি বাড়িটা লিখে দিয়েছি। এখন বাড়িটা আনতারার। আনতারা আমাদের বাড়িতে না, আমরা আনতারার বাড়িতে থাকছি।
কথাটা শুনতেই উপস্থিত সবাই একসঙ্গে স্তব্ধ হয়ে যায়।ইখতিয়ার চৌধুরী কিছুটা রাগ মেশানো কণ্ঠে বলে ওঠেন,
— তুমি কি আমাদের সঙ্গে ইয়ার্কি করছো!
ইফরাদ এবার বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,
— আমার বউকে বাড়ির গার্ড থেকে শুরু করে মেইডদের সামনে অসম্মান করা হচ্ছে, আর আমি ইয়ার্কির মুডে থাকব, পাপা?
ইখতিয়ার চৌধুরী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন,
— তো তুমি কী বলছো এসব? বাড়ি তুমি আনতারার নামে লিখে দিয়েছো কেন?
ইফরাদের কণ্ঠ এবার আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে,

— আমার বউকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার সাহস কোথায় পেলো তোমার বউ? এই শোধ তুলতেই আমি বাড়িটা আনতারার নামে লিখে দিয়েছি। এখন এই বাড়ি আনতারার। সো, এখন দেখি, কার যোগ্যতা আছে আমার বউকে এই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার!
কথাটা শুনে শার্লিন ইমরোজ আর ইখতিয়ার চৌধুরী দুজনেই থমকে তাকিয়ে থাকেন। কী থেকে কী হয়ে গেল!যে পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে ভেবেছিলেন শার্লিন, সেটাই উল্টো তাদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইখতিয়ার চৌধুরী একবার রাগী চোখে শার্লিন ইমরোজের দিকে তাকান। এই মহিলার মাথামোটাগিরির জন্যই আজ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে! এই বিশাল বাড়িটা এখন অন্য একজন মেয়ের নামে!
এদিকে আনতারা একদম চুপ হয়ে গেছে। সে বোকা হয়ে ইফরাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বিরাট বড় একটা শক খেয়েছে মেয়েটা। ইফরাদ কী বলছে? সে বাড়িটা তার নামে লিখে দিয়েছে? তার মানে তখন ওটা বাড়ির দলিল ছিল? একদিকে সে সেটাকে তালাকনামা ভেবে কী কান্নাটাই না করেছে! কত কী না বলেছে! কত অভিযোগ, কত অভিমান, কত কষ্টের কথা বলে ফেলেছে! এখন তার লজ্জা লাগছে।
শার্লিন ইমরোজের কণ্ঠে এবার কষ্ট আর অভিমান মিশে যায়। ইফরাদকে বলে,

— এই মাম্মার জন্য তোমার ভালোবাসা?
ইফরাদ স্থির দৃষ্টিতে শার্লিন ইমরোজের দিকে তাকিয়ে বলে,
— ভালো কি শুধু তোমাকেই বাসি? আরেকজনও আছে, যে আমার হৃদয়ে আছে। যার জন্য আমি সবাইকে ছাড়তে রাজি। সবাইকে!
শেষের কথাটা ইফরাদ বেশ জোর দিয়ে বলে। তারপর একবার সবার দিকে তাকায়। পরক্ষণেই আনতারাকে নিজের কাছে টেনে এনে শক্ত করে বুকে মিশিয়ে নেয়।তারপর গভীর, দৃঢ় কণ্ঠে বলে,

— যত কিছুই হয়ে যাক না কেন, আমি আমার বউকে ছাড়ব না। কারোর কথায়ই না। কেউ মরে গেলেও না, ছাড়ব না। আর কেউ আমার থেকে আমার বউকে আলাদা করার সাহসও দেখাবে না।
আনতারা একদম ইফরাদের সঙ্গে লেগে আছে। তার মাথার একপাশ ইফরাদের বুকে ঠেকে আছে। কী শান্তি!ইফরাদের কথাগুলো তার বুকের ভেতর জমে থাকা সব কষ্টকে এক নিমিষে হালকা করে দিয়েছে। এতক্ষণ যে বুকটা ভার হয়ে ছিল, সেখানে হঠাৎ করেই এক অদ্ভুত স্বস্তি নেমে আসে। তাহলে ওটা তালাকনামা ছিল না!ইফরাদ তাকে তালাক দেয়নি! তার ওপর ইফরাদের বলা কথাগুলো, সে কখনো আনতারাকে ছাড়বে না। কখনোই না। আনতারা মনে মনে ভীষণ খুশি হয়ে যায়।

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ১৯ (২)

সে আর ইফরাদ আলাদা হয়নি। তারা এখনো একসঙ্গে আছে। ইফরাদ তার হালাল পুরুষ। ইফরাদের উপর তার অধিকার আছে। তাদের সম্পর্ক এখনো অটুট। এই অনুভূতিটুকুই মুহূর্তের মধ্যে আনতারার পৃথিবীটা বদলে দেয়। চোখের কোণে জমে থাকা জল এবার কষ্টের না, স্বস্তির! মনে মনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে আনতারা, এই সাহায্যের জন্য, এই ভুল বোঝাবুঝির অবসানের জন্য, আর তার ইফরাদকে তার কাছ থেকে কেড়ে না নেওয়ার জন্য।

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ২০