প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯৩
সাইয়্যারা খান
শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পৌষ সিঁড়ি ভাঙছে। শরীর সায় দিচ্ছে না একদমই। পিঠের ব্যথায় মাথাটাও ধরে যাচ্ছে। চিৎকার চেঁচামেচিতে তুরাগ, আদিত্য সহ মীরা আর অদিতিও বেরিয়ে এসেছে। তাদের মুখোমুখি ফ্ল্যাট। বলা বাহুল্য তৌসিফের কণ্ঠে বেরিয়ে এসেছে তুরাগ নাহয় তুহিন পলককে মে’রে ফেললেও সে বেরিয়ে আসবে না। তাদের জীবনের বহু খাতায় লাল কালির দাগ ফেলেছে পলক। তার আর মীরার সংসার টিকে আছে আল্লাহর রহমতে নাহয় পলক তো ভাঙার জন্য তৎপরই ছিলো। কাজও হয়েছিলো বটে। মীরার কাছে কোন কারণ ছাড়াই বলেছিলো তুরাগকে নাকি কোন এক মেয়ে সহ সে বসুন্ধরায় দেখেছে। দুজন একসাথে মুভি দেখেছে। মীরা ঝগরুটে কিন্তু বোকাসোকা। কুবুদ্ধি মীরারও আছে তবে পলক থেকে কম। মীরার অবস্থা সেদিন বেগতিক হয়েছিলো।
অদিতি ছোট। সে কি কান্ড ঘটে গেলো। মীরার পরিবার চলে এলো। মেয়ে নিয়ে যাবেন। তুরাগ শুধু হতভম্ব হয় নি বরং সে আশ্চর্য হয়ে ছিলো। এমন অহেতুক বানোয়াট কথা তার নামে কে বললো, কেনই বা বললো? মীরার সে কি কান্না। তুরাগ যে মুখে এতবার নিজের সাফাই গাইলো তা কোন কাজে দিলো না। মীরার কাছে নাকি প্রমাণ আছে। তুরাগ প্রমাণ দেখতে চাইতেই একটা ছবি দেখানো হলো তাকে। এস্কেলেটরে তার একদম পেছনে এক মেয়ে। এই ছবি কিভাবে প্রমাণ করলো তুরাগের চরিত্র খারাপ তা যেন একদমই মাথায় এলো না। তুরাগ ঠান্ডা মাথায় শশুর শাশুড়ীর সাথে কথা বললো। তারাও বুঝলেন ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। তুরাগ তো কত পরে জানলো কাজটা পলকের ছিলো। জিজ্ঞাসাবাদ করে লাভ নেই জেনেই দ্বিতীয়বার যখন পলক এমন কিছু করতে চাইছিলো সেদিন হাতেনাতে ধরেছিলো তুরাগ। মুখোমুখি ফ্ল্যাট তাদের। দুই দরজাই খোলা। পলক জান হাতে নিয়ে ঘরে বসে ছিলো। হাতে করে চাপাতি নিয়ে এসেছিলো তুরাগ। নিজ ফ্ল্যাটের দরজায় দন্ডায়মান তুহিন। তুরাগ হোক বা তুহিন। তাদের তিন ভাইয়ের মুখ ক্ষেত্র বিশেষে বেশ খারাপ। রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে থেকে থেকে মাথা গরম হলে মুখ দিয়ে গালি ঠিক বেরিয়ে যেতো। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে এগিয়ে এসেছিলো তুরাগ। চিবিয়ে বলেছিলো,
“আজকে ওর মুখ দুই ভাগ করে কু’ত্তা দিয়ে খাওয়াব আমি!”
তুহিন নড়ে না নিজ দরজা থেকে। ঠাই দাঁড়িয়ে রয়। তুরাগ ওর বুকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইলেই কাজ হয় নি। পলকের উদ্দেশ্যে যখন তুরাগ আরো কিছু গালিবাক্য উচ্চারণ করলো তখন তুহিন রেগে উঠেছিলো,
“আমি থাকতে ওর গায়ে আঁচড় কেটে দেখান।”
“কেন তুই কি করবি?”
“আপনি বড় ভাই, হাত তো তুলতে পারব না।”
তুরাগের দুটো চড় সেদিন তুহিন খেয়েছিলো। রক্ষা হয়েছিলো তৌসিফ আসায়। ভাইয়ের সম্মুখে বউয়ের টান টানলেও রাত হতেই অফিস কক্ষে তুরাগের পা জড়িয়ে বসেছিলো তুহিন। ততক্ষণ বসেছিলো যতক্ষণ না তুরাগ গলেছিলো। কতবার বুঝালো পলককে ছেড়ে দিতে, তুহিন মানলোই না। তুরাগ জানে তার ভাইয়ের ভালোবাসায় দোষ নেই কিন্তু গোটা মানুষটাই কলুষিত যাকে তুহিন ভালোবেসেছিলো।
“তুহিন! তুহিন দরজা খোল!”
ধুপধাপ শব্দ হচ্ছে। তুহিন তখন পা দিয়ে চেয়ারটাকে লাথি দিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। ব্যালেন্স হচ্ছে না তার। গলায় খুব শক্ত করে চাপ লাগছে। সবাই চলে এসেছে ভেবেই সে আরো তাড়াহুড়ো করলো। তার এখন মুক্তির পথ খোলা। উন্মুক্ত এই পথে তুহিন হারিয়ে যেতে চাইলো। বিরবির করলো,
“আম্মু, আমি তোমার কাছে চলে আসছি। এবারে তুমি শুধু আমাকে আদর করবে।”
এ যেন ছোট্ট শিশুর আর্তনাদ। তুরাগ ঘটনা জানে না। তৌসিফের চিৎকারে যা বুঝার বুঝেছে। মীরা আর অদিতি ভয়ে সিটকে আছে। অদিতির কান্নার আওয়াজ ছাপিয়ে পলকের কান্না শোনা যাচ্ছে। তৌসিফ দরজা থাপড়ে আর্তনাদ করে উঠলো,
“তুহিন! তুহিন, ভাই আমার। দরজাটা খোল। তুই কি করছিস তুহিন? তোর মেঝ ভাইয়া মরে যাবে তুহিন। আমি বাঁচতে পারব না ভাই। তুহিন আমার কথাটা শোন। অ্যাঁই, তুহিন। তুই আয় ভাই। আমি কথা দিচ্ছি তোকে আমার কাছে রেখে দিব। তুহিন!”
ধপ! একটা শব্দ হলো সাথে গুঙিয়ে ওঠা এক সূক্ষ্ম শব্দ। তুহিন চেয়ার ফেলে দিয়েছে। সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো সকলে। তুহিন নিজেও বুঝে নি চেয়ারটা তার নড়াচড়ায় পড়ে যাবে। মেঝ ভাইয়ার কান্নায় সে তাড়াহুড়ো করে নামতে চেয়েছিলো। স্নায়ুর উদ্দীপনা তাকে হঠাৎ স্মরণ করেছিলো একজন তার ভালোবাসার মূল্যায়ন করে নি কিন্তু তাকে ভালোবাসার মতো দুটো ভাই আছে। পৌষের মতো একজন আছে। তিনটা বোন আছে। তুহিনের গলায় ফাঁস লেগে এবারে সে শূন্য ঝুলতে লাগলো। নিজেকে বাঁচাতে পা এলোমেলো ছুঁড়লো এদিক ওদিক। ওপাশ থেকে দরজা ভাঙতে তুরাগ, তৌসিফ সহ আদিত্য ধাক্কাছে। তুহিন ছোট্ট শিশুর ন্যায় ভাইদের কাছে যেতে চাইলো কিন্তু এখন তা কোন ভাবেই আর সম্ভব হয়ে উঠলো না। এতক্ষণ যেই পথে মুক্তি মিলবার কথা ছিলো এখন সেই পথে কাটা ব্যাতিত কিছুই দেখতে পাচ্ছে না তুহিন। এবারে যেন তাকে এতদূর ডেকে আনা ইবলিশও ব্যাঙ্গ করে উঠলো। তাকে ঝুলিয়ে দিয়ে নিজে চলে গেলো সেখান থেকে।
তুরাগ, তৌসিফ তখনও ভাইকে ডেকে চলছে সমানে। তুহিন বুঝে গেলো কতবড় সর্বনাশ সে ডেকে এনেছে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক নেই আর। চোখের পর্দা সাদা হয়ে আসছে ক্রমশ। ভুল, ভুল না পাপ। তুহিন ঘুরেফিরে সেই পাপটাই করে ফেললো। এক পাপ করেছিলো পলককে ভালোবেসে আর দ্বিতীয় পাপ করে বসলো পলক থেকে রেহাই পেতে। চোখ বেয়ে পানি গড়ালো। তুহিন নিজেকে বাঁচানোর হাল ছেড়ে দিলো। ঠিক তখনই ওর কানে এলো এক নারী কণ্ঠ,
“তুহিন ভাইয়া? তুহিন ভাইয়া আপনি কি করছেন? বেরিয়ে আসুন। আমি ওয়াদা করছি মাথায় হাত বুলিয়ে দিব৷ মুখে তুলে খায়িয়ে দিব। ভাইয়া! ভাইয়া প্লিজ বেরিয়ে আসুন না৷ আমি সত্যি বলছি। একটানা বিশ্বাস করেই দেখুন। আমি আপনাকে আর দূর করব না।”
পৌষ আর্তনাদ করে উঠলো। শরীরের ব্যথা ছাড়িয়েছে মানুষিক অবস্থা। কথাগুলো তুহিনের কানে গেলো আবছা আবছা। শেষবারের মতো দাপিয়ে উঠলো নিজেকে বাঁচাতে। শেষ পাপটা সে করতে চাইলো না। রবের নিকট ঝুলন্ত অবস্থায় দাঁড়ানোর বা মুখ দেখানোর মতো অবস্থায় থাকতে চাইলো না কিন্তু গলা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় ডুবলেও এবারে আর নিজেকে তুলা গেলো না। জেনেশুনে করা পাপ তাকে এতদূর ঠেলে এনেছে। এটা কোনদিনও সত্য হতে পারে না যে শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিয়েছে কিন্তু তার বিবেক তাকে বাঁধা দেয় নি। অবশ্যই তার মনে পরেছিলো এটা পাপ, এটা নিষিদ্ধ, এটা ভুল কিন্তু সে আলো ছেড়ে অন্ধকার বেছে নিয়েছিলো। এখন অন্ধকার হাতড়ে আলো পাওয়াটা মুশকিলই বটে।
তুরাগ আজ এত বছর পর পলকের সাথে কথা বললো। এই শক্ত দরজা ওরা ভাঙতে পারছে না। হঠাৎই মনে হয়েছে তুহিন শুধু লক করেনি তো? পলককে উদ্দেশ্য করে তুরাগ বলে উঠলো,
“চাচি? চাবি কোথায় এই রুমের?”
পলক আহাজারি করে শুধু কাঁদছে। তুরাগের ধৈর্য কুলালো না। টেনে তুলে দুটো কষিয়ে চড় মে’রে বসলো পলককে। পলক কাঁদতে ভুলে গেলো। কলি দরজার চাবি এনে দিলো দৌড়ে। তুরাগের যেন হাত চললো না। কোনমতে চাবি দিয়ে লকে ঘুরাতেই তা খুলে গেলো। কাঠের ভারী পাল্লাটা সরে গেলো নিমিষেই। চোখের সামনে ভেসে উঠলো ঝুলন্ত তুহিনের দেহ। সেই দেহে নড়চড় নেই। দুষ্টামি বা চঞ্চলতা নেই। ঠোঁট দুটোয় হাসিও নেই। আছে শুধু হেরে যাওয়া এক পুরুষের খালি দেহ যা শূন্যে ভাসছে। পুরুষটার এই দশার একটাই কারণ, সে ভালোবেসেছিল এবং সেই ভালোবাসা থেকে একটা সংসারের দাবি করেছিলো।
“তুহিন! আমার ভাই!”
তৌসিফের কণ্ঠনালী ভেদ করে কাঁপা স্বরে এই চিৎকারই বেরিয়ে এলো। দৌড়ে এসে ভাইয়ের পা দুটো নিজের কাঁধে তুলে দিলো। তুরাগ যথেষ্ট শক্তপোক্ত মানুষ কিন্তু সেও যেন টললো। কোনমতে জান হাতে তুলে খাটে উঠলো। নাগাল পেলো না। আদিত্য চেয়ার তুললো খাটে। গলায় ফাঁস লেগেছে পুরোপুরি ভাবে। তুরাগ তা খুলছে। প্রচুর বেগ পেতে হচ্ছে তাতে। পৌষ দরজায় দাঁড়ানো অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে দেখলো সবটা। টলমলে পা দুটো ভেঙে আসতে চাইলেও পৌষ দরজার কপট ধরে দাঁড়িয়ে রইলো। তুহিনের ঝুলন্ত দেহটা ধরে নামানো হলো। রনি, টনি নিচ থেকে এসেছে ততক্ষণে। বুয়ারা ডেকে এনেছে। ডাক্তার ডাকা হয়েছে। তৌসিফ দিকবিদিকশুন্য তখন। সিপিআর দিলো সবার আগে। গলায় কালচে দাগ। ফর্সা মানুষটার গলায় তা বিদঘুটে দেখালো। সিপিআর কাজে দিলো না আর। শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে বলেও মনে হলো না। তৌসিফ উঠে দাঁড়ালো। টেনে কাঁধে তুললো তুহিনকে। পুরো শরীরের ভর ছেড়ে দেওয়া। তৌসিফ দুই কদম এগিয়ে এসেও থেমে গেলো৷ তাকালো পৌষের চোখে। পৌষ আতঙ্ক দেখলো তৌসিফের চোখে। পরপর ধপ করে বসে পড়লো তৌসিফ। তার স্পষ্ট মনে হলো, সে তার তুহিনের দেহ না বরং লা’শ কাঁধে তুলেছে। তৌসিফ শুধু বললো,
“আমাকে সাহায্য করো।”
ধরাধরি করে তুহিনকে চারজন ধরে নিচে নামালো। এটা সেই তুহিন যে বিল্ডিং এ উঠলে তার দুই ভাইও টের পেতো তুহিন উঠছে। গলার স্বর তুলে তুলে জানাতো সে এসেছে। এত তোরজোর করে আসতো অথচ যাচ্ছে কত শান্ত ভাবে। প্রস্থানটা এত শান্ত ভাবেই হতে হলো? গাড়িতে তুলেও বসে থাকলো না কেউ। আধ রাস্তায় দেহটা এম্বুলেন্সে তোলা হয়েছে। তার দুই ভাই আর ভাতিজা কোন কমতি রাখে নি তাকে বাঁচানোর কিন্তু দেহটা তাদের হাতে হলেও আত্মাটা তো তারা আটকে রাখতে পারবে না।
পৌষ দরজার কপট ছেড়ে ধীরে ধীরে ভেতরে এলো। বিছানায় দড়িটা রাখা এখনও। পৌষ বড্ড সাহসী। একাকী মানুষ হওয়া প্রতিটা বাচ্চা ছোট থেকেই প্রচন্ড সাহসী হয়ে থাকে। পৌষও ব্যাতিক্রম না। লা’শ দেখেই তো পৌষ ভয় পায় না অথচ আজ দড়িটাকে ভীষণ ভয় পাচ্ছে ও। ভয় পাচ্ছে এই ঘরটাকে। বদ্ধ ঘরটায় কিছুক্ষণ আগেও তো তুহিনের শ্বাস পড়ছিলো। তার আত্মাটাকি এ ঘর থেকেই বিদায় নিয়েছে?
পৌষের ভীষণ ভয় লাগলো। শরীর শক্ত হয়ে এলো। হঠাৎ অদিতি তাকে ধরতেই ঘাবড়ে উঠলো পৌষ। অদিতি ওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো। মীরা হসপিটালে ছুটে গিয়েছে। পৌষ কোথায় যাবে জানে না৷ ও অদিতিকে নিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে যাবার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। পা’গলের মতো সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে পলক। পৌষ অদিতির হাত ধরে ধরে নিচে নামলো। নিজের ফ্ল্যাটে এসে সোফায় বসলো। অদিতি ওর কাঁধে মুখ গুঁজে কাঁদছে। পৌষ দুই হাতে জড়িয়ে ধরে আছে ওকে। মিনু পৌষের পাশে বসে হাতটা ধরেই আঁতকে ওঠে,
“ছোট মামী৷ আপনার হাত তো অনেক ঠান্ডা।”
“মিনু, আমাকে একটু পানি এনে দিবে?”
মিনু দৌড়ে পানি আনলো। পৌষ পানিটুকু আর নিতে পারলো না। গলা দিয়ে পানিটাও নামছে না। হঠাৎ বমি চলে এলো। অদিতিকে ছেড়ে পেটের নিচে হাত দিয়ে কোনমতে বেসিনের সামনে এসেই গলগলিয়ে বমি করে দিলো পৌষ। তার পেটের সবটুকু উগলে দিয়ে মুখে পানি দিলো ইচ্ছামতো। পরপর মাথায় পানি দিলো। অদিতি আর মিনু সহ বুয়ারা এসে ধরলো ওকে। পৌষ হাঁসফাঁস করছে ভীষণ। কত বিভৎস দৃশ্য দেখেছে এই চোখে। আজকের দৃশ্যটা এতো খারাপ কিভাবে হলো? ঝুলন্ত দেহ আগেও দেখেছিলো পৌষ। এক নারীর ঝুলন্ত দেহ। তাদের থেকে দুই বাড়ী পরেই তো। তাহলে আজকের দৃশ্যটায় কি ছিলো? তুহিন ছিলো। হ্যাঁ, আজকের দৃশ্যে তুহিন ছিলো।
নগ্ন তুহিনের দেহটা বেডে পড়ে আছে। দফায় দফায় তার বুকে চাপ দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস ঠিক করতে। ইসিজির মেশিনটায় হার্টবিট ড্রপ খাচ্ছে বারবার। তৌসিফ ভাইয়ের পাশেই ছিলো। হঠাৎ দেখলো ডক্টররা ব্যাস্ত হয়ে যাচ্ছেন৷ হইচই লেগে লেগো মূহুর্তেই। তৌসিফ তুহিনের মুখ দেখছে একবার, একবার দেখছে মেশিন হতে বেরিয়ে আসা পেপার গুলো। ওর চোখে হঠাৎই সাদা কাগজ এলো। সাদা কাগজ বেরিয়ে আসছে সেখান থেকে। তৌসিফের দুনিয়া উল্টে গেলো মূহুর্তেই৷ তুহিনের গাল দুটো ধরে ডাকতে লাগলো আতঙ্কিত স্বরে,
“তুহিন! তুহিন! তাকা। ভাই আমার। তুহিন!”
তুরাগ কোথায় গিয়েছিলো তৌসিফ জানে না। আদিত্য ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলো। তুরাগ তুহিনকে দেখেই বিভৎস এক চিৎকার দিয়ে উঠলো। একটা জানহীনা দেহ পড়ে আছে তাদের চোখের সামনে। ডক্টররা থেমে নেই তখনও। ওদের বের করে দেওয়া হলো। ইলেকট্রিক্যাল শক দেওয়া শুরু করলো তুহিনকে। একবার, দুইবার, তিনবার কিন্তু তুহিন শ্বাস নিলো না। তার হৃদপিণ্ডটাও আর লাবডাব শব্দ করলো না।
প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯২ (২)
মসজিদের মাইকে এই মাঝরাতে এনাউন্সমেন্ট হচ্ছে।
“সমশের তালুকদারের ছোট ছেলে, তুরাগ তালুকদারের ছোট ভাই তুহিন তালুকদার আজ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। মরহুমের জানাজার নামাজ আজ বাদ ফজর অনুষ্ঠিত হইবে।”
চিৎকার করে উঠলো পৌষ। কঠিন, পথর হৃদয়ের পৌষ হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। কখন জ্ঞান হারিয়েছে জানে না সে। পৌষের কান্নায় ভারী হলো চারপাশ। কান্নার সাথে সাথে ডাকতে লাগলো পৌষ,
“তুহিন ভাইয়া! ভাইয়া! তুহিন ভাইয়া!”
