আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬১
সুরভী আক্তার
উচ্ছ্বাস নিয়ে কথা টুকু বলেই মেঘা কে ছাড়লো রৌদ্র । মুখোমুখি হয়ে শক্ত একটা চুমু বসালো একবিংশীর আঁখি লতার ধারে ।
রমনী নিরুদ্বেগ । অন্যসময় হলে সুপ্তানুভূতিতে কুঁকড়ে যেতো । তবে এখন জবাব না দিয়ে অপলক তাকিয়ে আছে । ভাব গতিক শক্ত দূর্বোধ্য । বোঝা মুশকিল তার গতিবিধি । রৌদ্র ওষ্ঠপূটে দাঁত চেপে ভ্রু নাচায় । বিপরীতে মেঘা ভারী গলায় প্রশ্ন করে…..
” আমি যে এখানে , জানলেন কি করে ?
” মেহের বলেছে ।
” আর আমাদের বাড়ির পথ , চিনলেন কি করে ?
রৌদ্র এবার একটু অপ্রস্তুত হলো । তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বললো ফটাফট……
” উমমম , চিনবো না আবার ? মনের টান সুইটহার্ট । বোঝো কিছু ? তুমি যেখানে , আমার বিনি সুতোর টানও সেখানে । বাই দ্যা ওয়ে , প্রথম বার শশুর বাড়িতে এসেছি । জামাই আদর করার জন্য তো কেউ নেই । ইশশ্ , ব্যাড লাক এদিক থেকে । জামাই আদর মিস করে গেলাম ।
মেঘা হাসলো অস্বাভাবিক । নিষ্পলক চেয়ে আছে । লোকটা ভারী অদ্ভুত । নাটক করছে কি ? এতোটা নির্ভুল অভিনয় করতে পারে কেউ ?
দরজা খট করে লাগিয়ে গটগট পায়ে পেছন ফিরে হাঁটা ধরলো মেঘা । রৌদ্র খানিক অবাক হয় । পিছু নেয় ।
রুমে ইয়াশের অবস্থা ভালো না । মেঘা ছলছল চোখ আড়াল করলো । একটা বড় বোলে ঠান্ডা পানি নিয়ে বসলো ওর পাশে । সাথে জ্বর পট্টি ।
বিছানার উপর ইয়াশের এমন নিস্পন্দ অবস্থা দেখে চোখ কুঁচকালো রৌদ্র । মেঘার কারবার দেখে বুঝতে বাকি রইলো না, ইয়াশের জ্বর এসেছে ? সন্দিহান হয়ে তড়িঘড়ি করে খাটের এক পাশে উঠে বসলো সে । কৌতুহলী হয়ে কপাল ছুঁইয়ে দেখতেই আঁতকে উঠলো…..
” ইভারা ,,, ওর তো জ্বর এসেছে । সেন্সলেস ? কখন থেকে এমন ? ইয়াশ , এই কি হয়েছে তোর ? চোখ খোল ! তাকা আমার দিকে !
একটু থামলো । ঘরের অবস্থা আর মদের বিদঘুটে গন্ধ পেয়ে কপাল কুঁচকে বললো আবার…..
” মদ খেয়েছিস তুই ? ইয়াশ ,,,
” আমার ভাইয়া কে তুই করে বলছেন কোন সাহসে ?
এতক্ষণে রমনীর কন্ঠে বুলি ফুটলো আবার । নিরেট কন্ঠ তার । রৌদ্র অপ্রস্তুত হলো । আমতা আমতা করে আবার ডাকলো…..
” ওও সরি ! এই আবিয়াইত্তা শালা, ওঠো । এই জান, বাবু, সোনা, মনা, বেবি, চান্দু, সল্টহার্ট শালা , শুনতে পারছো আমায় ?
ইয়াশের সাড়া না পেয়ে কাঁচুমাচু মুখে মেঘার দিকে তাকালো সে । মাথা নাড়িয়ে বললো…
” শুনছে না তো ! এবার কি করবো ?
মেঘা কিড়মিড় করে । দমে রাখা রাগ সংবরণ করতে অক্ষম হয় এবারে । রাগ উঠছে এই লোকের মেকি আদিখ্যেতায় । লোকটা তাকে ঠকালো ? ভাবতেই কান্না আসে বুক ফেটে , জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে অনুচ্চ রমনীর দূর্বল অন্তঃস্থল । কিন্তু সামলায় নিজেকে । রাগটা ধরে রাখে । ক্ষোভে ঠান্ডা পানি ভর্তি বোলের সবটুকু পানি উল্টিয়ে রৌদ্রের গায়ে ঢেলে দেয় হুট করে ।
আকস্মিক ঠান্ডা কনকনে পানির ঝাপটায় ছিটকে উঠে দাঁড়ায় রৌদ্র । এতক্ষণে শরীর ভিজে জবজবে । শীতে কেঁপে উঠলো থরথরিয়ে । অকস্মাৎ কান্ডে রেগেও গেলো বেপরোয়া যুবক ।
নিয়ন্ত্রণ হীন ধমক গলা চিরে বেরোলো…..
” হোয়াট ননসেন্স ! ইডিয়ট , এটা কি করলি ?
রৌদ্রের রাগ মিশ্রিত কন্ঠে মেঘা তাচ্ছিল্য হাসলো । ওষ্ঠপূটে একটু খানি হাসি তার । রৌদ্রের তুই সম্বোধন টা খারাপ লাগে নি আজ অবধি । ভালো যে লেগেছে, এমনটাও নয় । তবে আজ তিক্ত লাগলো ভীষণ । বিদ্বেষে গা জ্বলে উঠলো রি রি করে । কোথাও একটা ব্যাথা অনুভব করলো রমনী । লোকটার চোখে চোখ তলানো তখনো । বেফাঁসে রাগ দেখিয়ে ফেলেছে বোঝা মাত্রই জিভে কামড় বসায় রৌদ্র । গা ঝেড়ে তেড়ে যায় । ঠোঁট ভেজায় জিভে । মেঘার হাত টেনে ধরে……
” সরি সুইটহার্ট । একটু ভুল হয়ে জবান উঁচু হয়ে গেছে । আর হবে না । কিন্তু ভিজিয়ে দিলে কেনো এভাবে ?
মেঘা আলগোছে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয় । মুখ ফিরিয়ে ঝাঁপসা চোখ আড়াল করে । রাগে নাকি পুরুষের আসল চেহারা দেখা যায় ! এই কি তবে রৌদ্রের আসল রুপ ?
ইয়াশ কে নিয়ে কাবির ম্যানশনে ফিরেছে ওরা । ছেলেটা এখনো জ্ঞান শূন্য । জ্বরের ঘোরে কুকিয়ে উঠছে । আবোল তাবোল বকছে বিড়বিড় করে । এই রাতেই ডক্টর দেখে গেছেন । গেস্ট রুমে ওর কাছেই বাড়ির সবার ভিড় । জ্বর পট্টি দিতে দিতে টেম্পারেচার কমেছে খানিকটা । ধ্যান জ্ঞান না থাকায় এখনো অবধি কিছু খাওয়ানো যায়নি ওকে ।
মেঘা ভীষণ চিন্তিত । চোখ মুখে চিন্তার গাঢ় ভাঁজ । শাহিনা কাবির ওকে ধরে বেঁধে একটু খাইয়েছেন । সেই থেকেই ভাইয়ার পাশে মুখ মলিন করে বসে আছে ।
ঘড়ির কাঁটা প্রায় সাড়ে এগারোটা । ঘুম নেই চোখে আজ । একে একে ঘর ফাঁকা হলো । আদ্র বেরোনোর আগে মেঘা কে আলতো স্বরে বলে গেলো…..
” ঘুমা গিয়ে ! ইয়াশের জ্বর কমে এসেছে । অতো চিন্তা করতে হবে না এখন ।
রৌদ্রের পছন্দ হলো না এটা । ভেংচি কাটলো সে । আদ্র ওকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড়িয়ে খোঁচা দিলো…..
” ছ্যাহহহহ্ ,, লজ্জা থাকা উচিত ।
আদ্র শুনেছে । প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে এসেছে । ঘরে এখন শাফাহ্ মেঘা । আর দরজার পাশে দাঁড়িয়ে রৌদ্র ।
শাফাহ্ সন্তর্পণে উঠে দাঁড়ায় । কি একটা ভেবে ইয়াশের শুকনো মুখখানা পরখ করে সরু চোখে । লোকটা ভীষণ ফর্সা । ঠিক মেঘার মতো । কিন্তু এখন এই জ্বরের তোপে কেমন তামাটে দেখাচ্ছে । শুকিয়ে গেছে সুন্দর মুখখানা । খারাপ লাগলো মেয়েটার । বেঘোরে হাত বাড়িয়ে কপাল ছুঁইয়ে দেখলো, জ্বর পড়েছে অনেকটা । এখন আর বিড়বিড় করছেও না । ঘুমিয়েছে বোধহয় । হাঁফ ছেড়ে বললো চঞ্চলা রমনী ….
” মেঘা , উনি তো ঘুমিয়েছেন । চল আমরাও যাই । ঘুম পাচ্ছে ভীষণ ।
” তুই যা । আমি আসছি ।
বেরিয়ে আসলো শাফাহ্ । মেঘা দম ফেলে দীর্ঘ । ভাইয়ার গায়ে ভালোমতো চাদর টেনে দেয় । অতঃপর পা বাড়ায় বাইরের দিকে । দরজার কাছে রৌদ্র দাঁড়িয়ে । মেঘা দেখেও দেখলো না । পাশ কাটিয়ে চৌকাঠ মারাতেই রৌদ্র বেরোলো পিছু পিছু । মেঘা দরজা চাপিয়ে দিলো । না তাকিয়ে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াতেই হাত টেনে ধরলো রৌদ্র ।
” রৌদ্রময়ী , রেগে আছো এই রৌদ্রের উপর ? সরি বলেছি তো জান ।
মেঘা ঘাড় ঘোরায় । চেহারায় বিন্দুমাত্র রাগের ছাপ নেই । কি আছে , তা রৌদ্র বুঝলো না । তবুও হাসলো চমৎকার । টান মেরে চুলের কাঁটা খুলে নিলো । এক গোছা চুল টেনে বরাবরের মতো উন্মত্তের ন্যায় ঘ্রাণ টানলো । বড্ড নেশা ধরে এই ঘ্রাণে । সব নেশাকে হার মানায় ।
শুল্ক ঢোক গিললো যুবক । মেঘা নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতে মোচড়া মুচড়ি করলো । বললো দাঁত চেপে…..
” হাত ছাড়ুন !
” সরি সুইটহার্ট ।
” হাত ছাড়তে বলেছি আমি ।
” উঁহু , ছাড়বো না । ঘুম পাচ্ছে , রুমে চলো ।
মেঘা আর কিছু বললো না । ঝটকা মেরে হাত ছাড়িয়ে নিলো । হন্তদন্ত পায়ে তড়িঘড়ি করে নিজের ঘরে ঢুকলো । রৌদ্র পিছু নিয়ে কাছে যাওয়ার আগেই ঠাস করে মুখের উপর আটকে দিলো দরজা । চমকায় রৌদ্র ।
চোখ সরু করে । ডাকে গলা নামিয়ে…..
” ইভারা ,, সরি বলেছি তো । এভাবে কষ্ট দিচ্ছো কেনো আমায় ? ঘরে চলো প্লিজ ।
শাফাহ্ শুয়ে পড়েছে । মেঘা পিছু ফিরে ওকে দেখলো । লাইট অফ করে আঁধার নামালো ঘরে । ঠাহর করে খোলা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো । আকাশে রুপোর থালার ন্যায় চাঁদ উঠেছে । আলো ঝলমলে তার ।
মেঘা আকাশ পানে মুখ তুলে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো । ধীরে ধীরে হাঁটু মুড়ে রেলিং ঘেঁষে বসে পড়লো কনকনে মেঝেতে । কপাল ঠেকলো রেলিংয়ের শিরশিরে ঠান্ডা রোলারে । শিউরে উঠলো একবিংশী । মনমরা সে । অনুভুত হলো না খুব একটা । ইয়াশের কথা গুলো পীড়া দিচ্ছে বড্ড । কানে বাজছে প্রতিধ্বনিত হয়ে । চোখ গরম হয়ে আসলো মেয়েটার । বন্ধ করে নিলো পাপড়ি যুগল । ক্ষণিকের মধ্যেই টপাটপ কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে গাল ভিজলো । ওষ্ঠ কামড়ে ফিকড়ে উঠলো রমনী । এ কেমন মোড়ে দাঁড়ালো সে ?
কান্না আসছে গলা চিরে । অবশেষে আর ধরে রাখতে পারলো না আঁখি কোটরের অবাধ্য জলরাশি । ফুপিয়ে উঠলো শব্দ করে । রাতের আঁধারে রমনীর এই নীরব গুমরে ওঠা হাহাকার মিলিয়ে যায় । দেখে না কেউ । কেবলই সাক্ষি রয় দূরাকাশ ।
রৌদ্র ডাকাডাকি করলো বেশ কিছুক্ষণ । ভেতর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে বেপরোয়া যুবকের মুখ খানা চুপসে এসেছে । ফুটেছে অসহায়ত্ব । আর ডাকলো না । সরে এসে পায়চারি করতে লাগলো করিডোরে । নিশপিশ করছে হাত পা ।
” উপসস্,,, ছোট ভাই ! বউ পাত্তা দিচ্ছে না ? দরজা লাগিয়ে দিলো মুখের উপর ? ইশশ্, এ তো ভারী দুঃখ ।
আদ্রের কন্ঠ । চকিতে ডান দিকে ফিরলো রৌদ্র । নিজের ঘরের চৌকাঠে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আদ্র । রৌদ্র চোখ কুঁচকায় । আদ্র আবার বলে….
” কি হলো রুডি ? বউকে এখনো ঘরে তুলতে পারিস নি ? এভাবে পিছু পিছু ঘুরতে হয় ! ছ্যাহহহহ্ , তুই না দাম্ভিক যুবক ! লজ্জা থাকা উচিত ।
কটমট করে তাকায় রৌদ্র । আদ্র গলা ভিজিয়ে ঘরের দিকে ফিরে আবার বলে দীর্ঘ শ্বাসে……
” আমার বউ অপেক্ষা করছে । যাই…..
সে চলে গেলো ।
রৌদ্র অসহায়ের ন্যায় মুখ কাতর করে মেঘার ঘরের বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে রয় । এই মেয়ে তাকে জ্বালায় বড্ড । সে যদি জানতো ,, এই দাম্ভিক যুবক তার সমস্ত দাম্ভিকতা খুইয়ে ফেলেছে তার দ্বারে , তাহলে কি এমন করতো ? সব ভুলে এক রমনীতেই মত্ত হয়েছে যুবক । বোঝা উচিত তার !
বারোটা পেরিয়ে গেছে অনেক আগে ।
আজ দেরি হয়ে গেছে । বিছানায় বই হাতে বসে ছিল শিশির । চোখ দুটি ঘুমে আচ্ছন্ন । নিভে আসছে । আদ্র দরজা লাগিয়ে শোয়ার প্রস্তুতি নিলো । মুচকি হেসে বিছানায় উঠে শিশিরের নিভু নিভু চোখ দেখে বললো মিষ্টি স্বরে…..
” ঘুমাবে না ?
শিশির তাকায় । ধীরে বলে….
” উমম ! ইয়াশ ভাইয়া কেমন আছে এখন ?
” হু , ভালো ! তবে , একটা বার তো নিজের স্বামীর খোঁজ খবর ও নিতে পারো । সে যে ভালো নেই , জানো কি ?
শিশির চোখ সরু করলো !
” আপনার আবার কি হয়েছে ?
” নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি যে তোমার বিরহে । বোঝো না কেনো , বেয়াদব ?
ইঙ্গিত বুঝেই ক্ষিণ লাজে চোখ নামানো শিশির । কথা ঘোরাতে বললো গলা ঝেড়ে…..
” আমি বেয়াদব ?
” আদব হীন বউ ! স্বামীকে কষ্ট দাও শুধু শুধু ।
ভারী অন্যায় করো তুমি । আমি কিন্তু শেষ হয়ে যাচ্ছি । সত্যিই বলছি, আর পারছি না ।
তার কন্ঠ কেমন আচ্ছন্ন । শিশির ভড়কায় । ঘন ঘন পলক ফেলে । নীরবে ঢোক গিলে বিছানা থেকে নামে । আদ্রের এলোমেলো নজর থেকে নিজেকে বাঁচাতে গেঁথে রাখা বিনুনি টা খোলে আবার । আয়নার সামনে বসে বেকার বেকার পূণরায় চুল আঁচড়ায় ।
এদিকে ওর এমন উদ্ভট কান্ডে ওষ্ঠ পিষে হাসলো আদ্র । নেমে গিয়ে দাঁড়ালো ওর পেছনে । হাত গুটিয়ে নিলো বুকে । শিশির চোরা চোখ তুলতেই চোখাচোখি হয় মিররেই । ধক্ করে চোখ নামায় সে । আমতা আমতা করে,,, প্রসঙ্গ টানে অযৌক্তিক…..
” আ….আদ্র স্যার , একটা কথা বলি ?
” হু !
” ভালো লাগছে না , বা…বাড়ি যাবো ।
” কোন বাড়ি ?
” আমাদের !
” এটাই তো আমাদের বাড়ি !
” না মানে , আমি আমার বাড়ির কথা বলছিলাম । কাল যাই প্লিজ ? রেখে আসুন আমায় !
শিশির হেয়ার ব্রাশ রেখে ফিরেছে আদ্রের দিকে । চোখ ছোট করলো আদ্র । কন্ঠ ভারী হলো এ বেলায়…..
” গিয়ে কি করবে ?
” থেকে কি করবো ?
” করার তো অনেক কিছুই আছে , তুমি করো না ।
থামলো । লোকটা কি নির্লজ্জ ! ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এক কথাই টেনে আনছে । মেয়েটা পড়েছে ভারী বিপাকে । মুখ খানি ছোট হয়ে এসেছে আড়ষ্টতায় । এ কার পাল্লায় পড়লো সে ? রমনী জড়তায় নাজেহাল । চোখ তুললো না আর । খচখচ করছে হাত দুখানি ।
ওকে পরখ করে ক্ষণকাল বাদ নরম গলায় মুখ খুললো আদ্র….
” তুমি চলে গেলে আমার ভালো লাগবে না একটুও । একা লাগবে ।
” তাই বলে যাবো না ? কতদিন যাই না !
আদ্র কাছ ঘেঁষে । লাজে রাঙা শ্যামলিনীর চিবুক উঁচিয়ে ধরে তর্জনী দিয়ে । চোখে চোখ রেখে বলল….
” থাকবে গিয়ে ?
” হু !
” তাহলে যেতে হবে না !
সোজাসুজি নাকচ করে দিলো মুখ ফিরিয়ে । শিশির ওষ্ঠ উল্টায় । আহ্লাদ ধরে জোর করে……
” প্লিজ স্যার । আপু ফোন করেছিলো । বললো একবার যেতে । দুদিন থেকে চলে আসবো !
” শুধু দুদিন ?
” না ,,, কদিন থেকে চলে আসবো ।
” কদিন ! না বাবা , যেতে দেবো না তোমায় ! বউ ছাড়া দু সেকেন্ড থাকা সম্ভব নয় আমার পক্ষে । সেখানে দুদিন পেরিয়ে কদিন থাকবে ? প্রয়োজন নেই যাওয়ার !
শিশির চিবুক নামায় পূনরায় । খারাপ লাগে । আদ্র আড়চোখে দেখে ওকে । অতি সন্তর্পণে পেছন দিক থেকে হাত বাড়িয়ে কোমর জড়িয়ে নেয় । ভড়কে চকিতে ফের চোখ তোলে শ্যামলিনী । ডাকে আদ্র…..
” শিশির !
” …….
” শুনছো ?
” ……
” কি হলো ?
” বলুন !
” আমার স্পর্শে আর সঙ্গে অকোয়ার্ড ফিল করো এখনো ?
” …..
” কিছু বলছো না যে !
” উহু !
আদ্র ছলকে উঠলো । তড়িঘড়ি করে শিশিরের দিকে ঝুঁকে আসলো…..
” মানে ? আবার বলো ?
নড়েচড়ে ওঠে মেয়েটা । ঘন পলক ফেলে নিজেকে ছাড়াতে চায় । বলে…..
” কিছু না । আমি কাল বাড়িতে যাবো । ঘুমান গিয়ে ।
” ঘুম পরে , আগে বলো অকোয়ার্ড লাগে না ? ইউ মিন , তুমি মানিয়ে নিচ্ছো ?
” মেনে নিচ্ছি !
” শিশির ,, বেয়াদব খোলাখুলি বলো না প্লিজ !
” কি বলবো ?
” এইযে , তুমি আমায় চাও ।
” না চাইতেও পেয়ে গেছি আপনাকে ।
” কিন্তু আমি তো চেয়েও পাচ্ছি না তোমায় ! এ কেমন যন্ত্রণা ? বলো না !
” আপনি বলেছেন আদৌও ?
” আমি আবার কি বলিনি ?
” আমাকে বিয়ে করেছেন কেনো আর কিভাবে ?
” বলেছি তো , ভালোবাসি তাই বিয়ে করেছি ।
” লুকাচ্ছেন আরো কিছু ?
” আবার কি লুকালাম ?
আদ্রের হাঁসফাঁস স্বর । শিশির ভেজা গলায় বললো…..
” আয়ান কে আপনি কিডন্যাপ করিয়েছিলেন , এটা বলেন নি এখনো অবধি ।
আদ্র ভড়কালো…..
” তুমি জানলে কি করে ?
” আপু বলেছে । কিন্তু আমি আপনার মুখ থেকে শুনতে চেয়েছিলাম ।
” উফফফ , এটা আবার বড় কি ? তোমাকে পাওয়ার জন্য ওটুকু করেছিই না হয় । তাই বলে এতো বড় শাস্তি আমার কপালে ?
এমন একটা আদুরে বউকে পাশে পেয়েও কাছে না পাওয়ার যন্ত্রণা কতটা কঠিন, জনো তুমি ? স্বামী রুপি প্রেমিক কে যাতনা দিতে নেই, বেয়াদব ।
কান গরম হয়ে আসে শিশিরের । যেনো ধোঁয়া ছাড়ে । মিইয়ে যায় শ্যামলিনী । আদ্রের হাতের বিচরন অবাধ্য । শিরশির করে কাঁপে ললিতাঙ্গ । দম ফুরিয়ে আসে । লোকটার হাঁসফাঁস উষ্ণ শ্বাস আছড়ে পড়ছে তার মুখের উপর । সে লোকটার বুকের কাছে হাত তুললো । আলগোছে সরাতে চাইলো বেখেয়ালে । আদ্র সরতে নারাজ । বরং জড়িয়ে নিলো আরো নিবিড়ভাবে । আকড়ে ধরলো শক্ত বাঁধনে । পার পাবে না আজ এই মেয়ে ।
শিশির ওকে রুখতে চায় না । আবার পারেও না সহ্য করতে । ঢোক গেলে লাগাতার ।
আদ্র পরখ করে মোহনীয় দৃষ্টিতে । বোঝে রমনীর নীরব সম্মতি । কাঁপছে মেয়েটা । ললিতাঙ্গের কম্পন থামিয়ে হুট করেই ঝুঁকে রমনীর ওষ্ঠাধরে ছোট্ট পরশ আঁকলো সে । সরে আসলো বিদ্যুতের গতিতে । শিশির হতবাক । চোখ জোড়া বৃহৎ আকার ধারণ করলো । আদ্রের সাথে দৃষ্টি মিলতেই তীব্র লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো সে । তৎক্ষণাৎ লোকটার বুকের কাছে মুখ লুকিয়ে নিলো । বিড়বিড় করলো নিভু কন্ঠে…..
” অসভ্য !
হাসে আদ্র । এ যাত্রায় আর রক্ষে নেই এ মেয়ের । সে কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে…..
” আজ এই আদ্র শিশিরে ভিজতে চায় । আজ আর কোনো টালবাহানা নয় । প্লিজ বেয়াদব ,, বিরোধ চাই না আজ ।
সকাল সাড়ে আটটা । ব্রেকফাস্ট শেষে বাড়ির দুই কর্তার মুখোমুখি বসেছে ইয়াশ । মুখ থমথমে তার । মাথা ধরে আছে এখনো । সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই নিজেকে এ বাড়িতে আবিষ্কার করেছে । কালকের কিছুই মনে নেই তার । কি ঘটেছে , সে কি করে এখানে আসলো জানা নেই । শুধু জ্বর হলেও ঠিক ছিলো । কিন্তু নেশায় থাকার দরুন কিছুই মনে নেই ওর । সবার ব্রেকফাস্ট হলেও সে খায়নি এখনো । তোফায়েল কাবির ওকে ডেকে সামনাসামনি বসিয়েছেন । কথা জমে আছে অনেক । সব কথা মেঘার সামনেই বলতে চান তিনি । মেঘাকেও ডেকে বসালেন । এর মধ্যেই শাহিনা কাবির এক বাটি স্যুপ দিয়ে গেলেন ইয়াশের জন্য । ইয়াশ হাসি মুখে তা গ্রহণ করলেও খেলো না । বাটিটা সামনে রেখে পূর্ণ দৃষ্টিপাত করলো তোফায়েল কাবিরের দিকে । ভদ্রলোক মুখ খুললেন এতক্ষণে…..
” এসেছো থেকে তোমার সাথে দু দন্ড বসে কথা বলা হয় নি ইয়াশ । তার উপর জ্বর বাধিয়েছো । এখন এসব বলা ঠিক হবে না জানি । সময় নেই , বলতে বাধ্য হচ্ছি তাই ।
” বলতে পারেন !
ইয়াশের ভার কন্ঠ । ভদ্রলোকের কন্ঠ জড়িয়ে যাচ্ছে । চোখ নামালেন এক পর্যায়ে…..
” তোমাকে বলার আগে আমি মেঘার মতামত জানতে চাই । মেঘা মামনি , তোমাকে একটা সোজা প্রশ্ন করবো । মনে যা আছে , ঠিক সেই উত্তর টাই চাই আমার ।
মেঘা বুঝতে পারছে কি প্রশ্ন হতে পারে । চিবুক নামিয়ে ঢোক গিললো সে ।
” ইয়াশ তোমাকে নিতে এসেছে , এটা তোমার জানা ! তুমি কি যেতে চাও মেঘা ? আমাদের ছেড়ে , রৌদ্র কে ছেড়ে ? আই নো , আমার এসব বলাটা ভালো দেখায় না । বাধ্য হচ্ছি বলতে । পরশু তোমার ভাইয়ার ফ্লাইট । তোমার সব কাগজপত্র ও তৈরি । চলে যাবে তুমি ?
মেঘা আরো বেশি গুটিয়ে বসলো । সিঁড়ির কাছে শাফাহ্ দাঁড়িয়ে । ভার্সিটি যাওয়া হলো না আজ আর । মেয়েটা মুখ মলিন করলো এমন কথায় । সত্যিই তো , মেঘার চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে । মেঘা কি সত্যি সত্যিই চলে যাবে ?
রুবিনা কাবির আঁতকে উঠলেন । দ্রুত মুখ খুললেন ভড়কানো গলায়……
” যেতে চায় না মেঘা । আলাদা করে জিজ্ঞেস করে মস্তিষ্ক বিগড়ে দিচ্ছেন কেনো ? কোত্থাও যাবে না ও । না আমাদের ছেড়ে আর না আমার ছেলেকে ছেড়ে । ওদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি সব চুকে গেছে । মেঘা যাবে না কোথাও । আমার ছেলের সাথেই বাকিটা জীবন কাটাবে ও ।
” তুমি চুপ করো । আমি মেঘার কাছে উত্তর জানতে চাই । বলো মেঘা ? এতো বছর এখানে আছো । আগে জানতাম একদিন না একদিন চলে যাবে । একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিলে আমাদের কাছে । ইয়াশ তখন তোমাকে নিয়ে যেতে পারে নি । তাই বাধ্য হয়ে রেখে গেছিলো আমাদের উপর বিশ্বাস করে । কিন্তু ভাবিনি তুমি চলে যাওয়ার আগে এতো কিছু হবে । রৌদ্র ফিরে আসবে জানা ছিলো না ।
এতো বছরে মায়া বাড়িয়েছো অনেক । মেয়ের থেকে কোনো অংশে কম দেখিনি তোমায় । বউ হিসেবে দেখলে হয়তো কিছুটা কম আদর পেতে । বউ হিসেবে কখনো দেখিনি তাই । কিন্তু অস্বীকার করতে পারিনা এটা , তুমি এ বাড়ির বউ । রৌদ্রের সাথে এখনো ডিভোর্স হয় নি তোমার । আর আমরা চাইছিও না ডিভোর্স টা হোক । শুধু তোমার মতামতের অপেক্ষায়……
ইয়াশ চোখ বুজে নিলো । তিক্ত লাগছে কথাগুলো । মেঘা নিশ্চুপ । রা নেই মুখে ।
খানিকক্ষণ অপেক্ষায় থাকলেন তোফায়েল কাবির । উত্তর না পেয়ে কিছু কাগজপত্র বাড়িয়ে টি টেবিলের উপর রাখলেন । ঠিক ইয়াশের সামনে । চোখ মেলে তাকায় ইয়াশ । বলেন ভদ্রলোক……
” ব্যাংক স্টেটমেন্ট ! গত পাঁচ বছর ছয় মাসে যত গুলো টাকা পাঠিয়েছো মেঘার খরচের জন্য । সবকিছু জমা আছে মেঘার নামের অ্যাকাউন্টে । তোমার দেওয়া একটা টাকাও আমরা মেঘার পেছনে খরচ করিনি ইয়াশ । একটা টাকাও না । ওকে আমাদের হেফাজতে রেখে গেছিলে , দায়িত্ব টাও সামলানোর চেষ্টা করেছি নিজ জ্ঞানে । তুমি মানবে না , তাই এই পন্থা অবলম্বন করেছি ।
ফের নীরবতা । ইয়াশের মাঝে খুব একটা ভাবান্তর দেখা গেলো না । তবে চমকালো একবিংশী । অবিশ্বাস্য নজরে তোফায়েল কাবিরের দিকে তাকালো ঝট করে । চোখ ছলছল । হাতে হাত খামচে ধরলো ।
শ্বাস ফেললেন তোফায়েল কাবির । মেঘার দিকে তাকানো মাত্রই দৃষ্টি বিনিময় হলো । চিলতে পরিমাণ হাসলেন ভদ্রলোক । কেমন অদ্ভুত স্বরে বললেন….
” তুমি চলে যাবে মেঘা ? শুনলাম, ইয়াশ নাকি ডিভোর্স পেপার রেডি করেছে ।
মেঘার বুক কাঁপে । হুঁ হুঁ করে ওঠে অন্তঃস্থল । ইয়াশের বলা কথা গুলো কানে বাজে আবার । ভুল ধারণা জন্মায় পূণরায় । চোখ নামায় সে । পানি ঝরার আগেই হাতের উল্টো পিঠে মুছে নেয় টলমলে চোখ দুটি । নাক টানে । এগিয়ে আসেন রুবিনা কাবির….
” মেঘা,,, তুই যাবি না । বলে দে সবাইকে ।
আমার ছেলেটা পাগল তোর জন্য । এক মুহুর্ত তোকে দেখতে না পেয়ে পুরো বাড়ি ভাঙচুর করেছিলো সেদিন । নিজেকে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করেছিলো । তুই চলে গেলে ও উন্মাদ হয়ে যাবে । এসব ওর কানে গেলে পাগল হয়ে যাবে ও । এসব কথা এখানেই শেষ করো সবাই । মেঘা কোথাও যাবে না ব্যস ।
ভদ্রমহিলার কন্ঠ কাঁপে । বাকিরা চুপ হয়ে আছেন । মেঘা কে নীরব দেখে উঠে গিয়ে ওর পাশে বসলেন তৌসিফ কাবির । একবিংশীর মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে বললেন ঠান্ডা স্বরে…..
” মেঘা , আমরা তোমাকে জোর করবো না । বলো তুমি । আমরা তোমার মতামত জানতে চাই শুধু । ইয়াশের সাথে কথা বলবো এরপর ।
মেঘা তবুও কিছু বললো না । আলগোছে কয়েক ফোঁটা নোনা জল চোখ ছাপিয়ে কোলের উপর পড়ে মিশে গেলো । ইয়াশ আড়চোখে দেখছে । সেও অধীর আগ্রহী উত্তর জানতে । মেঘা সিদ্ধান্ত হীন । মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে তার ।
সবার কিংকর্তব্য বিমূঢ় থাকার মাঝেই সিঁড়ির দিক থেকে ধুপধাপ শব্দ আসে । চকিতে তাকান রুবিনা কাবির । ছেলেকে দেখে আঁতকে ওঠেন । চোখ ডলতে ডলতে ভারী কদমে নিচে নামছে রৌদ্র । সারা রাত ছটফটিয়ে কাটিয়েছে । ঘুম হয় নি বিন্দুমাত্র । ভোরের দিকে দুচোখ লেগে এসেছিল । শান্তি হয় নি তবুও ।
অস্থির হয়ে ছুটে নিচে নেমেছে । উশকো খুশকো পুরো মুখশ্রী । নেমেই নিভু আঁখিতে সবাইকে এক এক করে পরখ করে নিলো । মেঘা কে দেখা মাত্রই হাসি ভিড় জমালো ওষ্ঠপূটে ।
কাউকে তোয়াক্কা না করে তেড়ে যায় বেপরোয়া যুবক,,, ডেকে ওঠে ঘুমে ভার আচ্ছন্ন কন্ঠে……
” মাই সুইটহার্ট ।।
বাগড়া পড়লো তৌসিফ কাবিরের অবস্থানে । তিনি মেঘার পাশে বসে । রৌদ্র থামলো । কপালে ভাঁজ ফেলে কাঠখোট্টা স্বরে বলে উঠলো……
” বাবাই , ওঠো ।
তৎক্ষণাৎ না বুঝলেও মুহুর্তের মাথায় জায়গা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন ভদ্রলোক । অমনি ধপ করে সোফায় লম্বাটে হয়ে শুয়ে পড়লো রৌদ্র । উবু হয়ে রমনীর কোলে মাথা রেখে মুখ গুজে নিলো । দীর্ঘ এক প্রশান্তির শ্বাস ফেললো বুক চিরে । কাল থেকে অশান্তিতে ভুগেছে । বিন্দুমাত্র আরাম পায় নি । এখন যেনো অমৃত সুখ পেলো । হাসি চওড়া হলো ঠোঁটের । আবদার করে ক্লান্ত স্বরে বুলি আওড়ালো…..
” মাথায় হাত বুলিয়ে দাও ,, সানি । ঘুমোতে দাওনি সারারাত । শান্তি পাই নি তোমার বিরহে । এতো জ্বালাও কেনো আমায় ? কষ্ট হয় না বুঝি ? আরাম পাও আমার শান্তি হারাম করে ?
তাজ্জব সকলে ।
রৌদ্র কারোর উপস্থিতির পরোয়া করলো না । কি সুন্দর নিজের আয়েশ খুঁজে নিলো ।
রুবিনা কাবিরের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে । তিনি ছেলেকে চিনেছেন । তার ছেলে বাঁচবে না এই মেয়েকে ছাড়া । তোফায়েল কাবির কিছু বলতে গিয়েও পারলেন না । রৌদ্রের কানে কথাগুলো পৌঁছালে খুব একটা ভালো হবে না এই মুহূর্তে । চোখ নামিয়ে চুপ করে গেলেন তিনি । নিঃশব্দে উঠে দাঁড়িয়ে জায়গা ত্যাগ করলেন । একে একে বাকিরা । ইয়াশ বাঁকা চোখে দেখে ফোঁস করে শ্বাস ফেললো । টু শব্দও করলো না । রাগলো বোধহয় । উঠে দাঁড়িয়ে গটগট পায়ে হাঁটা ধরলো উপরের দিকে ।
সবাই জায়গা ত্যাগ করলেও ভ্যাট ভ্যাট করে তাকিয়ে আছে শাফাহ্ । রৌদ্রের কারবার টা বেশ আনন্দ দায়ক, রোমাঞ্চকর লাগলো ওর নিকট । চোখ সরাতে পারলো না তাই । ইয়াশ কয়েক সিঁড়ি উঠে পিছু ফিরলো । বোকা মেয়েটাকে ওভাবে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে দেখে চাপা ধমক দিলো…..
” ইউ স্টুপিড ,,,, দেখছো কি ওভাবে ? হ্যাভ ইউ নো শেম ?
শাফাহ্ চমকায় । ঘাড় ঘুরিয়ে ইয়াশের রগচটা চেহারা খানা দেখে চোখ সরু করে । এতে লজ্জার কি আছে ? লোকটা কি শুধু ধমক দিতেই পারে কারনে অকারণে ?
মেঘা আহম্মক , নিস্তব্ধ । ভাইয়ার চলে যাওয়া দেখলো নিস্পৃহ ভেজা চোখে । পাথর হয়ে বসে আছে । রৌদ্র নড়েচড়ে উঠলো । মুখ ফিরিয়ে একবিংশী ফিনফিনে পাতলা উদরের নিকট মুখ গুজে দিলো । নাক ঘষে ঘ্রাণ টেনে আবার বললো কাতর স্বরে…..
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬০
” কি হলো জান ? মাথায় হাত বুলিয়ে দাও প্লিজ । আই ওয়ান্ট ইউ টু কেয়ার ফর মি নাও….
হেঁচকি তুললো একবিংশী । ভারাক্রান্ত হালকা গলায় বিড়বিড় করলো……
” চলে যাবো আমি , থাকবো না আপনার মতো বেইমানের কাছে । তবে যাওয়ার আগে আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আপনাকে । উত্তর চাই আমার । তারপর দেখবেন ,, চলে যাবো আমি ।
