তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২৭
রিমঝিম বৃষ্টি
” কি হয়েছে তোর মন খারাপ..? ”
তুবার কথা শুনে জিসান কথা বললো না চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো বেলকনিতে। তুবা তা দেখে নিজেকে ভীষণ অপরাধী মনে করলো হয়তো তাকে বিয়ে করেই তার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তুবা কিছুটা নিচু গলায় বললো,
” সরি জিসান আমার জন্যই তোর সব আশা শেষ হয়ে গেছে। আমাকে না বাচাঁতেও পারতি আমি তোর নিজের কেউ তো নয়..?”
জিসান মুখ ঘুরিয়ে তুবার দিকে তাকিয়ে বললো,
” বন্ধু তো। বাদ দে এসব, কাল থেকে ক্যাফে সামলোর দায়িত্ব সম্পূর্ণ তোর। এখন ওটা তোর তাই তুই যেভাবে দায়িত্ব নিবি নিতে পারিস..! ”
তুবা কথা বললো না সামনে তাকিয়ে রইলো তা দেখে জিসান বললো,
” শোন এ বাড়িতে নিজের মতো করে চলবি আমার বাসার সবাই বেশ মিশুক। তাই অন্যের মন মতো হয়ে চলার দরকার পড়বে না তোকে। ”
” তা আমি তাদের কথা শুনেই বুঝেছি বেশ ভালো ওরা..!”
জিসান মৃদু হেসে জানালার গ্রিলের সাথে মাথা ঠেকিয়ে বললো,
” আর পাঁচটা স্বামী-স্ত্রীর মতো আমরা চলতে পারবো কী না জানি না তুবা। কিন্তু ভালোবাসা আমার থেকে কখনো আশা করিস না। কেনো জানি ফিলিংস আর আসে না কারোর প্রতি। আমার মনটায় না ভাঙন ধরেছে জোড়া লাগাতে পারবো কী জানি না..!”
তুবা চোখের কোণায় একটু জল এলো কিন্তু তা প্রকাশ করলো না আড়াল করলো জিসানের থেকে। মৃদু হেসে বললো,
” তা তো বলেছিই তোকে, তোর থেকে এই আশা আমি রাখবো না তুই এই নিয়ে মনের মধ্যে ক্ষোভ রাখিস না…
! ”
রাতে বাড়ি ফিরে ইরাদ পাশের রুমে এশার নামাজ পড়ছে। আর তার পাশের রুমে ফারিশা ছেলেকে নিয়ে খেতে বসেছে। তিন পিস রুই মাছ ভেজে সুন্দর করে রান্না করেছে ছেলের জন্য। ইয়াশ তো ভীষণ খুশি ইলিস খাবে জন্য। ভাত নিয়ে পাশেই মাছটা তুলে নিলো। এক কোণা ভেঙে ছেলের মুখে ধরতেই ইয়াশ মুখে নিয়ে বাটির দিকে তাকাতেই দেখলো লাল মাছ। ইয়াশ সাথে সাথে মুখের ভাত দ্রুত চিবোতে চিবোতে মাকে বললো,
” আম্মু এতা তো শাদা ইলিস না এতা তো রেড কালাল মাছ ..! আমি ভাত খাবো না আমি ইলিস খাবো আম্মু..!”
ফারিশার ছেলেকে বোঝানোর জন্য মাছের ভেতরের সাদা অংশ দেখিয়ে বললো,
” এই দেখো সাদা দেখেছো এটাই ইলিস তুমি খাও অনেক মজা দেখো..!”,
বলেই ছেলের মুখে পুড়ে দিলো। ইয়াশ মায়ের কথায় যেনো বিশ্বাস করে নিলো আর কিছু বললো না খুশি হলো যেনো ভীষণ ইলিস খেতে পেরে। দূর হতে ইরাদ তা দডজাড পাশ থেকে খেয়াল করলো। নিঃশব্দে সেখান থেকে সরে গিয়ে কিচেনের দিকে গিয়ে আস্তে করে ফ্রিজ টা খুলতেই দেখলো তেমন মাছ নেই আর মাংস তো একদমই নেই। ফ্রিজ টা আটকে ফারিশার রুমে গিয়ে ইয়াশের পাশে বসলো। ইরাদকে দেখে ফারিশা ভাত বেড়ে সামনে দিলো। ইরাদ দেখে বুজলো এটা রুই মাছ। চুপ করে খেতে শুরু করলো। খাওয়া শেষ করে ফারিশা সবকিছু রান্নাঘরে নিয়ে যেতেই ইয়াশ ইরাদের কোলের কাছে এগিয়ে এসে বললো,
” মিলাদ তোমাল ভালো লেগেচে ইলিস মাচ। আমাল ভালো লেগেচে জানো..!”
ইরাদ করুণ চোখে তাকালো ছেলের দিকে। মাথায় হাত বুলিয়ে ছোট্ট করে বললো,
” হুম আমারও ভালো লেগেছে..! ”
ফারিশা রান্নাঘরে গিয়ে সব এঁটো থালাবাসন পরিষ্কার করছে। ইরাদ সেদিকে এগিয়ে নিজের প্লেট টা দিতে দিতে বললো,
” ফ্রিজে কয়েক টা মাছ দেখলাম সেখানে ইলিশ নেই ফ্রিজে..?”
ইরাদের কথায় ফারিশা শব্দ করে হেসে উঠলো আর বললো,
” ইলিস এর দাম জানেন আপনি..! ”
ইরাদ আর কথা বললো না প্লেট টা বেসিনের মধ্যে রেখে পিছন ঘুরে যেতে যেতে বললো,
” আমি কাল এনে দিবো নে..! “,
” নিজের টাকা সব শেষ হয়ে যাবে নে তখন কী করবেন ভুলে যাবেন না এখনো তেরো দিন বাকি আছে আপনার..! ”
ফারিশার কথা শুনে ইরাদ কিছু বললো না ছেলের কাছে চলে গেলো।
সকাল সকাল ইরাদ আজ গোসল করে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ি থেকে এখন অব্দি তার দীদা এলো না এতটা পাষাণ কেন সে তা ভেবে যেনো কুল পেলো না ইরাদ । ইয়াশ পাশে এসে ইরাদের শার্ট টেনে ধরে বললো,
” কোলে নাও মিলাদ..?”
ইরাদ পাশ ঘুরে ছেলেকে কোলে তুলে বললো,
” আমার বাবা কী আবার ইলিশ খাবে..?”
ইয়াশ ইরাদের দিকে তাকিয়ে মাথা ওপর-নিচ করে বললো,
” হুম তো..!”
” আচ্ছা বাবা তোমায় এনে দিবে ঠিক আছে..! ”
ইয়াশ কথা বললো না ইরাদের চুলে সুন্দর করে হাত বুলিয়ে দিলো। ইরাদ তা দেখে মৃদু হেসে উঠলো।
” আপনি সকাল সকাল রেডি হয়ে আছেন যে কোথাও যাবেন..?”
ইরাদ ফারিশার কথায় ইয়াশ কে নামিয়ে দিয়ে এগিয়ে আসতে আসতে বললো,
” হ্যাঁ একটু বাইরে যাবো..! ”
ফারিশা আর কিছু বললো না। ইরাদ সোজা চলে গেলো বাইরে।
” একটু ইয়াশ কে দেখে রাখবেন তো আমি শুধু বাজার থেকে সবজি কিনেই চলে আসবো..?”
ফারিশার কথায় দারোয়ান বাগানে খেলতে থাকা ইয়াশকে দেখে বললো,
” তা আপনার বর কয়..?”
” কোনো দরকারি কাজে গেছে হয়তো..!”
দারোয়ান আর কিছু বললো না, ফারিশা সোজা বাজারের দিকে চলে গেলো।
দুপুর গড়াতে চললো ইরাদ রাস্তার পাশে পুকুর পাড়ের এক বেঞ্চে বসে আছে সেই সকাল থেকে কি করবে বুঝলো না পকেটের টাকা খরচ হয়ে যাবে মাছ কিনতে গেলে। বাজারে কিছুক্ষণ আগে দাম করে এসেছে। এই মৌসুমে মাছ কম পাওয়া গেলেও দামও তেমন চড়া নয় ৪০০ গ্রামের টা কেজিতে ৭০০ টাকা চাইলো এতেও তার টাকা দিতে আজ দ্বিধা হচ্ছে। রাস্তার সামনের মোড়েই তার চোখ পড়লো একটা সাইনবোর্ডের দিকে। তা দেখে এগিয়ে গেলো। সেখানে এক বেলার জন্য লোক চায় তা দেখে দোকানের সামনপ গিয়ে দাঁড় হলে ইরাদ।
” আমায় দিবেন কাজটা এক বেলার জন্য..? ”
সব লোকলজ্জা ছেড়ে তার কাছে কেবল ছেলের খুশি চোখে ভাসলো। ইরাদ নিজেকে নিজেই শান্ত্বনা দিলো আজ যে, কেনো কাজই ছোট নয়। একসময় যখন ছোট ছিলো যখন তার বাবা সামান্য জব করতো, নিজের বাবার কাজ তার অন্তরকে ততটা ভাবায় নি তখন যা আজ উপলব্ধি করতে পারছে সে । প্রতিটি বাবায় তার সন্তানের জন্য যেকোনো কাজ করতেই এগিয়ে পড়ে সেটা ছোট হোক বা বড়। শুধুমাত্র সন্তানের জন্যই তারা নিচু হয়, তাদের দু’মুঠো ভালোমন্দ দিতে পারবে ভেবে নিজের সব লজ্জা বিসর্জন দেয় অথচ, সন্তানেররা বড় হতে হতে সেই কষ্টকে কিছুই মনেই করে না বরং বাবার ওপর আরও জোর-জুলুম করে, গলা উঁচিয়ে কথা বলে । ইরাদ মনে মনে ভীষণ ক্ষোভ জমালো বাবার কথা ভেবে, বাবার সাথে কী সে খুব বাজে আচরণ করে ফেলেছে সেসব ভেবে । ইরাদের দোকানের এক সাইডের শুকনো মুখ করে ঠাঁই হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
দোকানের মালিক ইরাদের পোশাক আর মুখের গঠন দেখেই বুঝলো কোনো ভালো ঘরের ছেলে হবে। কিছুটা স্বাভাবিক গলায় বললো,
” তা দেখে তো মনে হচ্ছে ভালো ঘরের পোলা এসব পারবা তুমি..?”
ইরাদ মাথা নিচু করে বাইকের দিকে তাকিয়ে বললো,
” জি আঙ্কেল পারবো, আমি এসব আগেও করেছি আমার বাসায় গাড়ি, বাইক দুটোই আছে..!”
লোকটি চোখ টাটালো যেনো ইরাদের কথায়। মুখ বাকিয়ে বললো,
” শোনো আমার এখানে যে কাজ করে সে একটু দরকারী কাজে গেছে রাতেই ফিরবে এই এক বেলার জন্যই শুধু তোমাকে রাখতে পারবো যদি এক বেলার জন্য করে দিতে চাও তাহলে ঠিক আছে..! ”
” জি এক বেলার জন্য হলেই হবে টাকা টা কত দিবেন যদি…
ইরাদের কথায় লোকটি পাশেই বসে থাকা এক অল্প বয়সী ছেলের কাঁধে হাত রেখে হেসে উঠলো আর বললো,
” দেখ এসে কাজ অব্দি ধরলো না টাকার হিসাব নিচ্ছে আগে। আচ্ছা শোনো এক বেলার জন্য যেহেতু তাই পাঁচশো টা টাকা না হয় দিবো নে তোমাকে, আমার দোকানে আবার সেই হারে কাস্টমার হয় বুঝলে তো তাহলে কাজে লেগে পড়ো নাকি..?”,
শেষের কথা টা ইরাদকে বলতেই ইরাদ পিছন ঘুরে এক নজর বাইরের লোকজনের যাতায়াত দেখে ফের সামনে হয়ে তাদেরকে নিচু স্বরে বললো,
” আর একশো টাকা যদি ধরে দিতেন..! ”
” খেতে দিলে বসতে চায়, বসতে দিলে শুইতে চায় তা তুমিও হইছো তাই। পাঁচশো টাকায় করলে করো না করলে বিদায় হও তো পোলা। দেখে তো বেকার মনে হচ্ছে এইটুকু পাচ্ছো তাই কত.. না আবার বেশি চাও..! ”
ইরাদ অপমানবোধ করলো। যার কি না? না আছে ধন-সম্পত্তির অভাব আর না টাকার অভাব, সে আজ বউয়ের জন্য সন্তানের জন্য এসব কথা শুনছে। ইরাদ তবুও হার মানবে না তার বউ-সন্তান কে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে যা করতে হবে করবে। ইরাদ হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ চোখ বুজে নিজেকে শান্ত করে বললো,
” আচ্ছা বলুন কী কাজ করবো…! ”
ইরাদের কথা শুনে লোকটি পাশে ফেলা রাখা বাইক দেখিয়ে বললো,
” গিয়ে দেখো বাইক চলছে না কোথায় সমস্যা ঠিক করো গিয়ে..!”
ইরাদ সেদিকে গিয়ে বসে কাজ শুরু করতেই লোকটি পাশের ছেলেটাকে কিছুটা আস্তে করে বললো,
” শোন আমি একটু বাজার থেকে আসছি তুই ছেলেটাকে চোখে চোখে রাখিস বলা তো যায় না। যতই সুন্দর হোক যদি চোর হয় তখন..!”,
বলেই চলে গেলো। ইরাদ একটু হলেও বোধহয় কথাটুকু শুনতে পেলো, । কথাটা তার কানে ভেসে আসতেই হাত দু’টো কেঁপে উঠলো যেনো।
” উঠুন ওখান থেকে..?”
চেনা কন্ঠস্বর শুনতেই ইরাদ চমকালো। দোকানদার বের হতে গিয়েও হলো না দাঁড়িয়ে পড়লো সেখানেই। ইরাদ পিছন ঘুরে দেখলো ফারিশা দাঁড়িয়ে আছে হাতে বাজরের থেকে আনা কিছু সবজির পলিথিন। ইরাদকে চুপ করে বসে থাকতে দেখে ফারিশা ফের ধমকে উঠলো,
” উঠবেন নাকি আমি আসবো কাছে.?”
ইরাদ ফারিশার কথায় দ্রুত হাত ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাঁড়ালো আর বললো,
” তুমি এখানে কেনো..?”
” এসব কাজ কে করতে বলেছে আপনাকে..?”
ফারিশা এগিয়ে গিয়ে ইরাদের হাত ধরে টানতে টানতে দোকান থেকে বের হতে লাগলে দোকানদার পিছন থেকে মুখ ভেঙচিয়ে বললো,
” ঢং এই কাজই দেয় কে তোদের দেখ গিয়ে শুধু শুধু আমার সময় খানা নষ্ট করলো যত্তসব..! ”
ফারিশা তা শুনে সেখানেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো
এক নজর ইরাদের দিকে তাকাতেই ইরাদ চোরাচোখে তাকিয়ে বললো,
” রেগো না চলো দোষ আমারি এখানে আসা ঠিক হয়নি.?”
ফারিশা রাগে পিছন ঘুরে ইরাদের হাত ছেড়ে হনহনিয়ে এগিয়ে গিয়ে দোকানে নিজের পায়ের স্যান্ডেল ছুঁড়ে মারলো আর চেঁচিয়ে বললো,
” আপনারা মানুষকে সম্মান দিতে জানেন না। নিজেদের কি মনে করেন হে। আমার বরের সাথে বাজে ব্যবহার করেছেন ইচ্ছে করছে তো মেরে দেয় আমি জানেন ও কোন ঘরের ছেলে..!”
দোকানদারও রাগে এগিয়ে আসতে গেলে ইরাদ ছিটকে এসে ফারিশা কোলে তুলে সামনে হাটতে শুরু করলো। দোকানদার এত লোক আসতে দেখে নিজেও লজ্জা পেয়ে চুপ মেরে যায় আর কিছু বললো না । ইরাদ ফারিশাকে নিয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে একটা বেঞ্চের ওপর বসিয়ে দেয় সাথে সে ও পাশে বসে। ফারিশা জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে শুধু তা দেখে ইরাদ চুপ করে বসে শান্ত গলায় বললো,
” রেগে আছো কেন ইয়াশ কোথায়..?”
ফারিশা ইরাদের কথা শোনামাত্রই পাশ ফিরে ইরাদের হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে নিজের গালেই কয়েকটা চড় বসিয়ে নিলো তা দেখে ইরাদ হাত শক্ত করে সরিয়ে ফারিশার গাল চেপে বললো,
” এমন করছো কেন তুমি সরি বললাম তো.?”
” সব আমার জন্য হয়েছে ইরাদ। আপনি কেনো সেখানে গেলেন আপনি কী ওসবের যোগ্য। আমারি ভুল হয়েছে, আমার জন্যই আপনি সেখানে গেছেন। সব দোষ আমার..?”
বলেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলে ইরাদ বউয়ের কান্না দেখে মুচকি হেসে উঠলো। বেঞ্চের ওপর সুন্দর করে পা দুটো গুটিয়ে বসে পড়লো আর মুখে হাত দিয়ে বললো,
” এতটুকুতেই আমার বউ গলে গেলো ইশরে আগে জানলে সব কাজ ফেলে রাস্তায় ভিক্ষা করতে বসতাম তাহলে বউ বোধহয় তুলে নিয়ে ঘরের মধ্যে সাজিয়ে রাখতো..!”
ফারিশা এবার আঁকড়ে ধরলো ইরাদকে। কাঁদতে কাঁদতে বললো,
” আপনাকে আর কিচ্ছু করতে হবে না। আমার কিচ্ছু চায় না আমি আমার বরকে চায়। আমি চায় না আমার বর কোথাও ছোট হোক..!”
” বর হিসেবে গ্রহণ করেছেন তো এবার..?”
ফারিশা মাথা তুলে রাগী গলায় বললো,
” তা নয় তো কী আপনি কী অন্য কেউ হন আমার। আমায় ছুঁয়ে কথা দিন আর কখনো কারোর কাছে ছোট হবেন না..! ”
ইরাদ ফারিশার চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো,
” আচ্ছা বাবা আর হবো না ছোট তাহলে কী বউ এবার তাকে আদর করতে দিবে..! ”
ফারিশা হেসে উঠলো ফের তাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
” আপনি এমন কেনো? আপনার মাঝে কোনো রাগ, হিংসা, ঘৃণা খুঁজে পায় না যে আমি। এতটা নরম মনের মানুষ কী আপনি..?”
ফারিশা দু’হাতে আঁকড়ে ধরে বললো,
” এতটা নরম শুধু আমার বউ-সন্তানের জন্যই বরাদ্দ..!”
ফারিশা কথা বললো না চুপ করে রইলো। ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে বললো,
” তুমি যদি এভাবেই রাস্তায় থাকতে চাও সারাদিন তাহলে থাকতে পারো আমার অসুবিধা নেই..! ”
ফারিশা চট করে সরে এসে চোখ মুছতে মুছতে বললো,
” এসব করতে এসেছিলেন কেন তাই বলুন আগে.?”
” ছেলের জন্য ছেলেকে ইলিশ মাছ খাওয়াবো..!”
ফারিশা পাশ ফিরে শীতল দৃষ্টিতে তাকালো ইরাদের দিকে আর বললো,
” এত ভালোবাসেন আপনি..? ”
ইরাদ মৃদু হেসে সামনে তাকিয়ে গল্প জুড়ে বসলো এবার,
” চলো আমরা সেই পুরনো দিনের মতো একটু প্রেম করি..! ”
ফারিশা হেসে উঠলো আর বললো,
” এসব প্রেমটেম বাদ দিন আর জলদি বাড়ি চলেন ইয়াশকে রেখে আসছি..!”
ফারিশার কথা শুনে ইরাদ উঠে বললো,
” টাকা নিয়ে আসলে চলো ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরবো..! ”
ফারিশা মৃদু হেসে উঠলো আর বললো,
” চলেন আছে আমার কাছে টাকা..!”
তারপর দু’জনে মিলে বাজারের দিকে গেলো।
বাজার থেকে ফিরে বাড়ির ভেতর ঢুকতেই দেখতে পেলো ইয়াশ কে।
” ইয়াশ এসো রুমে যায়..!”
ইয়াশ খেলতে খেলতেে ইরাদের ডাকে ছুটে এসে কোলে উঠলো আর পাশে তার মাকে দেখে বললো,
” তোমলা আামায় নাও নি কেনো। যাও কথা বলবো না আল..!”
বলেই রাগ করে মুখ ঘুরিয়ে রইলো তা দেখে ইরাদ মুখ টিপে হেসে উঠলো আর বললো,
” আল্লাহ.. আমার ছেলে টা দেখছি রাগ দেখাতেও জানে। আচ্ছা ঘরে চলো দেখি রাগ ভাঙানো যায় নাকি..?”
তারপর রুমে গিয়ে কিচেনে ইয়াশকে দাঁড় করিয়ে মাছ ঠেলে দিতেই ইয়াশ হা হয়ে গেলো একদম যেনো বইয়ের মতোই সাদা চকচকে করছে মাছটা। ইয়াশ ফ্লোরে বসে মাছের গায়ে হাত বুলিয়ে মাকে শুধালো,
” এতা কী আম্মু? মিলাদ এতা তো ইলিস! সাদা ইলিশ! কী সুনদর..!”
ছেলের কথায় ফারিশা হেসে উঠলো সাথে ইরাদও
ইরাদ ছেলের পাশে দাড়িয়েই বললো,
তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২৬
” বাহ্ ইয়াশ দেখছি ভয় পায় না মাছ দেখে..!”
তাদের হাসিঠাট্টার মাঝেই হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। ফারিশা ইরাদকে বললো,
” আমি যাচ্ছি..?”,
বলেই গিয়ে দরজা খুলতেই তার দৃষ্টি স্থির হলো সামনে থাকা মানুষটাকে দেখে।
