Home তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৭৬

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৭৬

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৭৬
তানিশা সুলতানা

মৃত্যুতেই জীবনের সমাপ্তি। হুমায়ুন ফরিদ স্যার বলেছিলেন “মৃত্যু অনিবার্য। আর অনিবার্যকে গ্রহণ করাই শ্রেয়।
এবং মৃত্যুর মতো এতো শ্রিগ্ধ আর কিছুই নেই।”
এতো আয়োজন, লোভ লালসা, এটা চাই, ওটা চাই, সব কিছু মিথ্যে। দুনিয়াটা দুই দিনের। আর এই দুই দিন একদিন শেষ হয়ে যাবে এটাই শুধু সত্যি। ছোট্ট সংসার মানসিক শান্ত, গুটি কয়েক মানুষের ভালোবাসা। ব্যাসস জীবন সুন্দর।

লোভ লালসা বা বেশি ভালো থাকার চেষ্টা করলে দুই দুনিয়া থেকে আফসোস নিয়ে চলে যেতে হবে।
গতকাল রাতেই আরিফের মৃত্যুর খবর জেনেছে আবরার। ভোর রাতে আরিফকে শেষবার দেখতে গিয়েছিলো। মানুষটার নিথর দেহখানা দেখে পাষাণ আবরারের কলিজা কেঁপে উঠেছিলো। অজান্তেই চোখ দুটো ভিজে উঠেছিলো। এই একটা মানুষের জন্য আবরার তার পরিবার থেকে এতোটা দূরে ছিলো। এই একটা মানুষের জন্য আদ্রিতা এবং সে এতিম হয়েছে। তবুও এই মানুষটার জন্য কষ্ট হচ্ছে আবরারের। আরিফের মৃত্যুর খবর ইচ্ছে করেই আদ্রিতাকে জানায় নি। জানাতে চায় ও না।
আরিফের বাচ্চা দুটোর দায়িত্ব নার্স কে বুঝিয়ে দিয়েছে আবরার। বিনিময়ে কক্সবাজারে থাকা এবি হোটেল টাও দুই বাচ্চার নামে লিখে দিয়েছে। যাতে তাদের ভবিষ্যৎ পাকাপোক্ত হয়।
নিজের দায়িত্ব কখনোই হেরফের করে না আবরার।
এয়ারপোর্টের সামনে এসে থামে আবরার দের গাড়ি। ইশারাকে সিয়াম বারংবার জিজ্ঞেস করেছে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“তুমি কি তোমার বাবা ভাইয়ের সাথে দেখা করতে চাও?
ইশারা অনবরত মাথা নেড়ে বলে
“চাই না। একেবারে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে তাদের কল করব।
আতিয়া বেগম বলে
“তোমার বাবা ভাই চিন্তা করবে তোমার জন্য।
“তারা এখন জানতে পারলে আমাকে যেতে দেবে না। কিন্তু আমি যেতে চাই।
পরবর্তীতে আতিয়ার কিছু বলে না। সকলে নিজ নিজ লাগেজ নিয়ে এয়ারপোর্টের ভিতরে ঢুকে পড়ে। আদ্রিতার লাগেজ আমানের কাছে।
আবরার হঠাৎ বলে উঠে

“তোমরা ভেতরে যাও আমি আসছি।
বলেই পেছন ঘুরে চলে যেতে নেয়। আবার কি মনে করে থেমে যায়। আদ্রিতার সামনে এসে দাঁড়ায়। তার দু গালে হাত রেখে বলে
“আ”ম সরি পাখি। আই এম রিয়েলি ভেরি সরি।
ট্রাস্ট মি আজকের পর থেকে একফোঁটা দুঃখ তোমায় স্পর্শ করতে পারবে না। আবরার আছে তো তোমার জন্য। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকবো। আবরার তাসনিনের দেহে যতক্ষণ প্রাণ থাকবে। ততক্ষণ সে আদ্রিতা চৌধুরীর হাত ছাড়বে না। কথা দিলাম।
কথা শেষ করে চলে যায় আবরার। আদ্রিতা সহ সকলেই অবাক হয়। আতিয়া বেগম মুচকি হাসে। এটাই তো চেয়েছিল সে। আদ্রিতার নিশ্চিত একটা ভবিষ্যৎ। আর ছেলের চোখে আদ্রিতার জন্য অগাধ ভালোবাসা ব্য আর কিছু চাওয়ার নেই তার।

বর্ষা চৌধুরীর পাশেই আরিফের জন্য কবর খোঁড়া হয়েছে। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন
“আমাকে আমার স্ত্রীর পাশে কবর দিও। বেঁচে থাকতে তো তার পাশে থাকতে পারিনি মৃত্যুর পর না হয় তার পাশে ঘুমালাম”
তার কথা অনুযায়ী বর্ষার পাশে তাকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবরার সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর জানাজা নামাজ শুরু হয়।
হাসপাতালের কয়েকজন ডক্টর এবং মসজিদের নামাজ পড়তে আসা কিছু মানুষ নিয়েই জানাজা নামাজ শেষ করা হয়।
কবর দেওয়া শেষে আবরার যখন চলে যাবে। সেই মুহূর্তে আরিফের জন্য দোয়া করে আসমান পানে তাকিয়ে বলে
“আমি ক্ষমা করবেন বাবা। কোনদিনও এতোটুকু সম্মান দেই নি আপনাকে। কি করবো বলুন? আমি আবরার বড্ড বেপরোয়া। আমার পাখিকে কষ্ট দেওয়া প্রত্যেকটা মানুষকে অনেক ঘৃণা করি। আপনাকেও।

অহনা তার হাজবেন্ড আর ছেলেকে নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন আবরার’স হাউজ এ।
ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে বাংলাদেশ যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু ছোট্ট বাবুটার কথা চিন্তা করে যেতে পারেনি। তবে এখন যখন ভাই বউ নিয়ে চলে এসেছে তখন সেও চলে এসেছে ভাই এবং ভাইয়ের বউকে বরণ করার জন্য।
আবরার হাউজের সামনে হেলিকপ্টার থামতে আবরার আদ্রিতার হাত ধরে বেরিয়ে আসে।
অহনার বেবিকে একটু আদর করে আদ্রিতা বলে
“আমার অ্যানি কে কোথায় রেখেছেন? তাকে একটু দেখতে ইচ্ছে করছে।
আবরার হাতের আঙ্গুল দিয়ে দেখায় ঐতো বাগানের পাশে ছোট্ট একটা কবর। খুব সুন্দর করে সাজানো। তার গায়ে লেখা

নাম: এ্যানি
বাবা: আবরার তাসনিন চৌধুরী
মা: আদ্রিতা চৌধুরী
জন্ম: ১৫ জুন ২০১৯
মৃত্যু: ১৯ শে নভেম্বর ২০২২
আদ্রিতা এ্যানির কবরের পাশে বসে নেমপ্লেট এর উপর হাত বুলায়। চোখ ভর্তি পানি ঠোঁটের কোণে হাসি। আবরার ছোট বাচ্চাটার স্মৃতি রেখেছে। তার এ্যানি মরে যায়নি। সে বেঁচে আছে সুইজারল্যান্ডের ছোট্ট বাড়িটার পাশে থাকা বাগানে। সেটা অনুভব করতে পারছে আদ্রিতা মিও মিও আওয়াজ ভেসে আসছে তার কানে। কলিজা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

অহনা ইশারাকে বরণ করে বাড়িতে তোলে। আমান তিশার সাথে দেখা করতে চলে গিয়েছে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজকের প্রপোজ করে দেবে। আহাত এবং ইভান দুজনে বাসর ঘর সাজানোর কাছে লেগে পড়বে। তাইতো ফুল কিনতে বেরিয়ে পড়েছে। আতিয়া বেগম নাতি পেয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। তাকে আদর করে সারা বাড়ি ঘুরঘুর করছে। আর অহনা কিচেনে চলে গিয়েছে। সকলের জন্য খাবার বানাবে সে আজ। বাংলাদেশি রান্না খুব বেশি জানা নেই তার তবে ভেবেছে আজকে ট্রাই করবে।
আবরার এসে আদ্রিতার পাশে বসে। আদ্রিতা ছোট্ট মাথাটা নিজের বুকের সঙ্গে চেপে ধরে বলে

“ডোন্ট ক্রাই পাখি
আমরা একটা ছোট্ট এ্যানি নিয়ে আসবো। ভেরি সুন
আদ্রিতা নাক টেনে বলে
“আমার বেবি চাই আবরার। ছোট্ট একটা বাচ্চা চাই। আমার মাকে ফেরত চাই আমি। মানুষ বলে না মা বাবা ফেরত আসে নিজের সন্তান রূপে। আল্লাহ আমাকে একটা কন্যা সন্তান দিক। যে আমার মায়ের মত দেখতে হবে। আমার মায়ের মত আমায় আগলে রাখবে। যাকে আমি মা বলে ডাকবো।
আবরার চুমু খায় আদ্রিতার মাথায়।
আঙ্গুলের ভাজে আঙ্গুল ডুবিয়ে বলে
“সব হবে পাখি। আমি আছি তো।
“তাড়াতাড়ি হতে হবে। আমার আর দেরি সহ্য হয় না।
আবরার আদ্রিতার কানের লতিতে ঠোঁট ছোঁয়ায়।

“একটু রোমান্টিক মুডে থাকলেই তো উল্টাপাল্টা ডান্স শুরু করে দাও। বেবিটা আসবে কোথা থেকে? তার জন্য প্রসেসিং করতে হবে তো?
লজ্জা পেল না আদ্রিতা। বরং চোখ পাকিয়ে তাকায় আবরারের মুখ পানে।
আবরারর মৃদু হেসে ফট করে চুমু খেয়ে নেয় আদ্রিতার শুষ্ক ঠোঁটে।
পিছন থেকে সিয়াম বলে উঠে
“আমি কিছু দেখিনি। আব্বা যে আম্মাকে চুমু খাচ্ছিলো সেটা আমি দেখিনি। আমান তুই শুনলি আমি কিন্তু দেখিনি।
আবরার বিরক্ত হয়। আদ্রিতা নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় আবরারের থেকে। কোনো রকমে দাঁড়িয়ে দৌড়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে।
সিয়াম কবিতার সুরে বলে

“যেখানে সেখানে খাচ্ছে চুমু
লাজ লজ্জা দিয়ে ডুবিয়ে
আমি সিয়াম দেখে ফেললাম
গুলে খেয়ে নিলাম পানিতপ চুবিয়ে
বলিনি কাউকে বলবোও না
সিয়াম একজন ভালো মানুষ কেউ বুঝলো না।
কবিতা শেষ করেই কলখানা কেটে দেয় সিয়াম। আমান বেজায় বিরক্ত। সবেই ইশারের সামনে এসেছে সে। হাতে থাকা একগুচ্ছ গোলাপ দিয়ে প্রপোজ করবে ঠিক সেই মুহূর্তেই সিয়ামের কল।
ইশারাও অধিক আগ্রহে অপেক্ষা করছিলো আমানের থেকে ভালবাসি কথা শোনার জন্য। সিয়ামের কলে সেও বিরক্ত হয়।
আমান কল রিসিভ করতেই সিয়াম বলে উঠে

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৭৫

“ভাই কয়টা ভালো ব্র্যান্ডের হেলমেট নিয়ে আসিস তো। আমি বাইক চালাবো।
আমান কিছু বলবেই তার আগেই সে আবরারের চুমু খাওয়ার ব্যাপারটা বলতে থাকে।
এই মুহূর্তে আবরার নিজের পায়ের জুতা জোড়া খুলে ফেলেছে। সিয়াম ভাবসাব দেখেই বলে ওঠে
“ভাই দেখ আমি কিন্তু এখন বিয়ে করে নিয়েছি। মানে বড় হয়ে গেছি। যখন তখন জুতা দিয়ে পিটাবি না। বউয়ের সামনে আমি একজন সুপার হিরো।

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৭৭