Remedy part 6
মীরা রায়াদ
জ্ঞান ফিরে ঝুম নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলো। ঝুমকে চোখ খুলতে দেখে মেহেরুন্নেসা সস্নেহে মাথায় হাত রেখে বলল –
” এখন কেমন বোধ করছেন আপনি ঝুম? ব্যাথা করছে?”
ঝুম মাথা নাড়িয়ে নেতিবাচক উত্তর দিল। অথচ তার চোখে ব্যাথা স্পষ্ট। শরীরের যেসব জায়গায় গরম চা পরেছিল, সেসব জায়গা পুড়ে লাল হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও নিজের কষ্ট লুকানোর কি নিদারুণ প্রচেষ্টা মেয়েটার।
মেহেরুন্নেসা তার পাশে একটি ছোট টুলে বসে আছেন। ঝুম চোখ তুলে দেখলো মেহেরুন্নেসা ছাড়াও ওই লোকটি এখানে উপস্থিত। দরজার কাছে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দুহাত বুকের সাথে বেঁধে একদৃষ্টিতে ঝুমকে দেখে যাচ্ছে সে। অসস্তিতে গলা শুকিয়ে গেল ঝুমের। লোকটা যখনি তার দিকে তাকায় অদ্ভুত তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকে পরোখ করে।
দরজায় শব্দ করে আহির প্রবেশ করলো ভিতরে। তাকে মূলত শাইয়ান কিছু প্রয়োজনীয় মেডিসিন আনতে পাঠিয়ে ছিল। বেড সাইড টেবিলে ওষুধ গুলো রেখে রুমে বসার জন্য রাখা বসার জায়গায় ধপ করে বসে পরলো সে। দুহাতে পরনের টি-শার্টের গলাটা পিছে ঠেলে দেয়ার বৃথা চেষ্টা করল। বাইরে ভীষণ গরম, গরমে ঘেমে নাজেহাল অবস্থা। সে আবার বড় হয়েছে এয়ার কন্ডিশনারের মাঝে। বাড়িতে, গাড়িতে, অফিসে সব জায়গা এসি আছে। তাই বাইরের একটু তাপ তার কাছে অনেক বেশি মনে হয়। বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে ভ্রু নাচিয়ে ঝুমকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন
ছুড়লো –
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
” কি এখন কেমন লাগছে?”
ঝুম এতক্ষন তার অবস্থা দেখছিল। গরমে ফর্সা মুখটা টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে। তার জন্য সবার কতই না ঝামেলায় পরতে হলো ভেবে আরো বেশি অস্বস্তি হলো। আহিরের প্রশ্নে মিষ্টি হেঁসে বলল –
” আলহামদুলিল্লাহ্।”
ঝুমের হাসি দেখে আহির খুকখুক করে কাশি দিয়ে আড় চোখে শাইয়ানের দিকে তাকালো। যার চোখমুখ বর্তমানে ভীষণ থমথমে। ভাইয়ের মুখের অবস্থা দেখে আহির ভয় পেয়েছে। এই ছেলের বিশ্বাস নেই। বিনা দোষে তাকে মেরে দিতে পারে হিংসার দরুন। তাই ঝুমকে হালকা ধমকে বলল –
” হাসবেন না মেয়ে। কারো অন্তর জ্বলে বুঝেন তা?”
ঝুম বুঝলো কি? উহু! বোকা মেয়েটা বুঝেনি কিছুই। তাইতো বোকার মতো বড় বড় চোখগুলো আরো বড় করে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইল আহিরের দিকে। আহির বুঝলো সরল মেয়েটি বুঝেনি তার কথা। মনে মনে সে নিজেকে বলল, ” বুঝবে বুঝবে যার নজর পরেছে সে ঠিক বুঝিয়ে দিবে। আপোষে না বুঝলে বুঝিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করবে।”। মনের কথা মুখে না এনে বলল –
” বাদ দিন এসব। আচ্ছা বলুন তো তখন কি হয়েছিল? পরলেন কিভাবে আপনি?”
আহিরের প্রশ্নে ঝুমকে ভাবুক দেখালো। কিছু একটা নিয়ে কাচুমাচুও করলো। এই পর্যায়ে শাইয়ান নড়েচড়ে দাঁড়িয়ে ঝুমের পানে দৃষ্টি আরো প্রখর করলো। মেহেরুন্নেসা ঝুমকে অভয় দিয়ে
বললেন –
” ভয় পাচ্ছেন কিছু নিয়ে? ভয় নেই আমি , আমরা আছি আপনার পাশে। যা হয়েছিল আস্তে ধীরে বলুন।”
মাথায় মাতৃ স্নেহের হাত আর মনে সংশয় নিয়ে ঝুম বলল –
” জানি না কিভাবে কি হলো। ( একটু থেমে শুকনো গলা ভিজিয়ে নিয়ে আবার বলল) সাবধানেই যাচ্ছিলাম কিন্তু হঠাৎ মনে হলো কিছু একটার সাথে বেঁধে গেল। বিশ্বাস করুন আণ্টি সামলে নিয়ে ছিলাম কিন্তু পরপর শাড়ির সাথেও কিভাবে কি হলো বুঝলাম না। শুধু অনুভব হলো শরীরে গরম কিছু পরেছে আর তারপর অত্যধিক জ্বালা। এরপর আর কিছু মনে নেই।”
ঝুমের মুখের বিবৃতি শুনে সারা ঘরময় থমথমে পরিস্থিতি ছেয়ে গেল। তাদের বুঝতে সমস্যা হলো না কেউ ইচ্ছাকৃত ঝুমকে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। মেহেরুন্নেসা এক নজর ছেলেকে দেখে নিলেন। ছেলে তার চোখ বন্ধ করে হাত মুঠো করে রাগ সংবরণ করার চেষ্টা করছে। মেহেরুন্নেসা কিছু বলবে তার আগে এই প্রথম শাইয়ান ঝুমকে উদ্দেশ্য করে গমগমে সুরে আদেশ ছুঁড়ে বলল –
” এরপর থেকে ওনাকে যেন শাড়ি পরতে না দেখি। I repeat, I better never see her in a saree.”
কথাগুলো বলে আর একমুহুর্ত না দাঁড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার আগে রাগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ভীষণ জোরে দরজায় আঘাত করে গেল। ছোটখাটো ঘূর্ণিঝড় তুলে দিয়ে গেল সে দরজাটার ওপর । ভীতু ঝুম এই প্রথম তার রাগ দেখলো। ভয়ে তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে। ভয়ে ঝুমের মুখটা এইটুকুন হয়ে গেছে। আহির ছুটল শাইয়ানের পিছে। ঝুমের সামনে ছেলের এভাবে রেগে যাওয়ায় মেহেরুন্নেসা দারুন হতাশ হলো। তার ধৈর্য্যবান ছেলেটা এই মেয়ের বেলায় এতো অধৈর্য্য কিভাবে হলো সে এখনো বুঝতে পারছে না। দৃষ্টি ঝুমের দিকে নিয়ে ঝুমকে দেখলো অনেকক্ষন নিয়ে। এতো মায়া মেয়েটির মাঝে, যে কেউ মায়ায় জড়িয়ে যাবে। সে নিজেও তো বাঁচতে পারেনি সেই মায়া থেকে। সেখানে শাইয়ান তো তারই ছেলে। ঝুমের দিকে তাকিয়ে সুন্দর একটি হাসি দিলেন। ঝুম কাদোকাদো মুখে বলল –
” আমি কি কিছু ভুল করেছি আণ্টি? উনি অভাবে রেগে গেল কেন?”
” ওর কথা বাদ দিন। এরপর থেকে আর শাড়ি পরতে হবে না। এখানে যতদিন আছেন সালোয়ার সেট বা অন্য কিছু পরবেন। ঠিক আছে? (আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল সে)”
যদিও ঝুমের আপত্তি ছিল কিন্তু সে ভয়তে কিছু বলতে পারেনি। মৃদু মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো। সত্যিই সে ভয় পেয়েছে। লোকটা এতো অদ্ভুত। কথা বলে না, কেমন করে তাকায়, আবার ভয়ানক রাগও দেখায়। কি অদ্ভুত! দেখে মনে হলো তাকে থাপ্পড় মারতে পারলে খুশি হতো। হঠাৎ মনটা খারাপ হয়ে গেল তার। দেশে যেতে মন চাচ্ছে। এখানে কেন যেন আর ভালো লাগছে না।
“শাইয়ান… শাইয়ান দাড়াও বলছি।”
শাইয়ানের পিছু ছুটতে ছুটতে ডেকে যাচ্ছে আহির। কিন্তু সেদিকে শাইয়ানের কোনো হুস নেই। প্রচণ্ড রাগে গজগজ করতে করতে হেটে চলেছে। যে ঝুমকে কষ্ট দিয়েছে তাকে পিষে ফেলতে মন চাচ্ছে।
” আরে ভাই থামো এবার। কি হয়েছে তোমার? তুমি কবে থেকে এতো হিংস্র হয়ে গেছো ভাই? ওভাবে রিয়েক্ট করে কি ঠিক করেছ? দেখেছো ঝুম কতো ভয় পেয়েছিল? মাথা ঠাণ্ডা করো প্লীজ। এভাবে রিয়েক্ট করা তোমার সাথে যাচ্ছে না। ঠাণ্ডা মাথায় ভাব একবার। শান্ত হও।”
” শান্ত হবো? কিভাবে? তুমি দেখোনি কি অবস্থা করেছে ওনার? কি অপরাধ ছিল ওনার? মেয়েটাতো এটাও জানে না কেউ ইচ্ছা করে কোনো অপরাধ ছাড়াই এই হাল করেছে। হ্যাঁ আমি হিংস্র। আর সেটা ঠিক কতটা তা নিশ্চই তোমাকে বলে দিতে হবে না?( একটু থেমে) অবুঝ মেয়েটা ঠোঁটে হাসি টেনে নিজেকে সুস্থ প্রমাণ করতে ব্যস্ত, অথচ চোখ ভর্তি ব্যাথা যে আমি অনুভব করতে পারছি বুঝতে পারল না একবার? এতো অবুঝ কেন উনি? কেন আমায় এতো পোড়ায়? কেন নিজের যত্ন নেয় না? যে ওনাকে কষ্ট দিবে তাদের কাউকে ছাড়বো না।”
” ঠিক আছে আগে তুমি শান্ত হও আমার ভাই।”
” পারছি না আহির। প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে। রাগে দুনিয়া জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে। উনি কষ্ট পাচ্ছে আহির। ( কিছুটা অসহায় ভাবে বলল)”
” বুঝতে পারছি শাইয়ান, কিন্তু এই সময়টা রাগের না। আর কিছুদিন পর ঈশালের বিয়ে। এই সময় ভেবে চিন্তে যা করার করতে হবে। বিয়েটা হয়ে যাক আমি নিজে তোমাকে সাহায্য করবো কথা দিচ্ছি। কিন্তু এখন নিজেকে সামলে নাও। নিজেকে ঝুমের কাছে ভয়ানক ভাবে উপস্থাপন করো না। উনি খুব নরম মনের মানুষ।”
” ওনার নাম মুখে নিবে না তুমি।”
এমন পরিস্থিতিতেও শাইয়ানের অতিরিক্ত পসেসিভনেস দেখে না হেসে পারল না আহির। তার ভাইটা শেষমেষ তাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছে? এটাও দেখা বাকি ছিল?
” দুঃখিত ব্রাদার। আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
দুহাত জোর করে নাটকীয় ভঙ্গিমায় বলল আহির। শাইয়ান বিরক্ত। বড় বিরক্ত সে। কথা না বাড়িয়ে গটগট করে বেরিয়ে গেল। আহির তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে উচ্চস্বরে হেসে উঠল। যার দরুন, আশে পাশের মানুষ তার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে। বুঝতে পেরে সে অপস্তুত হাসলো। নিজেকে বোকা অনুভব হতেই মানে মানে স্থান পরিত্যাগ করে সে।
টানা দুদিন পর হাসপাতালের চার দেয়াল থেকে ঝুম ছুটি পেল। হাসপাতালে তাকে দেখতে সকলে একবার করে হলেও গিয়েছিল। এসব কিছুর জন্য সে লজ্জিত, একই সাথে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবতি মনে করছে। এই দুদিন মেহেরুন্নেসার সাথে শাইয়ানও সর্বক্ষণ ঝুমের সাথে হাসপাতালে ছিল। আগের থেকে ব্যাথা কম হলেও এখনো কিছুটা ব্যাথা রয়েছে। পুড়ে যাওয়ার দরুন শরীরে এখনো লাল দাগ স্পষ্ট।
বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড় খুব করে চলছে। আর মাত্র ২ দিন পর বিয়ে। এর মাঝে বিভিন্ন রেওয়াজ শুরু হয়ে গেছে। যার অনেকগুলোই ঝুম জানে না। পাকিস্তানি কালচারের ব্যাপারে তার খুব বেশি ধারণা নেই। হাসপাতালে থাকার দরুন কয়েকটি অনুষ্ঠান মিস করলেও বাকিগুলোতে থাকতে পারবে বলে ঈশাল খুব খুশি। তার খুব মন খারাপ ছিল ঝুম ছিল না বলে। কিন্তু কিছু করারও ছিল না কারোর। আগের তুলনায় বাড়িতে মানুষের ভিড় এখন বেশি।
ঝুম এখন পুতুলের মতো বসারঘরে বসে আছে। পরনে তার নরম সুতির কাপড়ের প্রিন্টেড গোল জমা। এগুলো হাসপাতালে থাকতে মেহেরুন্নেসা তাকে এনে দিয়েছে। নরম কাপড়ের হওয়ায় পুড়ে যাওয়া জায়গাগুলোতে বেশি সমস্যা করছে না। বড় সুতির ওড়না দিয়ে মাথা থেকে সারা শরীর ভালো ভাবে ঢেকে রাখা। মূলত এখানে সব মেয়েরা মেহেদী দিচ্ছে। তার হাত পুড়ে লাল হয়ে আছে বিধায় তাকে মেহেদী দিতে বারণ করে গেছে ঈশালের মা। তাই সে মনোযোগের সহিত ঈশালের মেহেদী দেয়া দেখছে। দেখতে দেখতে কখন ঘুমিয়েছে তা মনে নেই তার। চোখ খুলে সে নিজের পাশে আহিরকে দেখতে পায়, যে তার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল। ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে দ্রুত হাতে নিজের শরীরের ওড়না ঠিক করতে যায়, যা আগে থেকেই পরিপাটি ছিল। হটকরিতা করতে গিয়ে ব্যাথা জায়গায় আবারও ব্যাথা পেয়ে চোখমুখ কুচকে ফেলে।
” আরে আরে আস্তে আস্তে। ব্যাথা পেয়েছেন? আপনি মেয়ে এমন কেনো বলুন তো? আমাকে দেখলেই কিছু না কিছু করে ব্যাথা পান, আর তারপর আপনার জন্য আমাকে জেরার মুখে পরতে হয়। তার ধারণা আমি আপনাকে ব্যাথা দিই। কিন্তু তাকে কে বুঝাবে যে, আপনি নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনতে পারদর্শী এতে কারো হেল্প লাগে না।”
” কার কথা বলছেন আপনি?”
” আহা! কি মিষ্টি, নরম কন্ঠ আপনার। এতো নরম করে কথা বলে যে করো পাথর মন গলে মোম হয়ে যাবে। তারই বা কি দোষ বলুন?”
” কি বলছেন তখন থেকে কিছুই বুঝতে পারছি না আমি।”
অবুঝ কন্ঠে ঠোঁট উল্টে বলল ঝুম। আহির একবার তাকালো সেই দিকে। ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল –
” আপনার জন্য আমার খুব কষ্ট হয় ঝুম। ঠিক এখান থেকে সত্যি সত্যি কষ্ট হয়( বুকের বা দিকে এক আঙ্গুল দিয়ে তাক করে)। কিন্তু কিছু করার নেই বুঝলেন। আপনার আর রক্ষা নেই। কেউ বাঁচাতে পারবে না আপনাকে। ইয়ু আর ফিনিশড ( গলায় হাত নিয়ে আড়াআড়ি শেষ করা বুঝানোর মত করে বলল)।”
ঝুম ভয় পেল। তার চোখে মুখে ভয় স্পষ্ট। ঝুমকে ভয় পেতে দেখে মজা পেল আহির। তাই নিজের মুখভঙ্গি আরো একটু সিরিয়াস করে কিছু বলতে যাওয়ার আগে শাইয়ান খুবই ঠাণ্ডা ও মোলায়েম স্বরে বলল –
” ঈশাল ডাকছে আপনাকে আরীবা।”
‘ আরীবা ‘ নিজের এই নামটি হয়তো আম্মার পর এই প্রথম কেউ ডাকলো। এতো নরম করেও কারো নাম ডাকা যায় ঝুমের জানা ছিল না। ডাকটি খুবই শ্রুতিমধুর ঠেকলো তার কানে। বুকের কোথাও গিয়ে লাগল। চোখ তুলে একপলক তাকালো শাইয়ানের দিকে, যে আগে থেকেই তার দিকে তাকিয়ে ছিল। চোখ নামিয়ে ছোট ছোট পা ফেলে শাইয়ানকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। শাইয়ান দেখলো মেয়েটিকে। তার দেয়া পোষাক গুলোতে কি ভীষণ মিষ্টি লাগছে। মূলত সেই পোষাকগুলো এনে মেহেরুন্নেসাকে দিয়েছিল। যা পরে দিনে দুবার উষ্টা খেয়ে পরে ব্যাথা পাবে সেসব সে মোটেও পরতে দিবে না। তাকিয়ে ঝুমের প্রস্থান পুরোপুরি নিশ্চিৎ করে ভ্রু কুচকে থমথমে মুখে আহিরের দিকে তাকাল।
Remedy part 5
” কি? একটু মজাই তো নিচ্ছিলাম। সম্পর্কে সে আমার ভাবী হয়, এতটুকু করার অধিকার আছে আমার। নেই?”
দুষ্টু হেসে এক ভ্রু নাচিয়ে বলল আহির।শাইয়ানের ঠোঁট কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল। ঠোঁটের হাসি স্থায়ী করে বলল –
” আছে। কিন্তু সীমার মাঝে। মনে রাখবে, সে আমার। একান্তই আমার। মেজর ডক্টর শাইয়ান রেহমান আনসারীর সম্রাজ্ঞী সে।”
