Home Remedy Remedy part 9

Remedy part 9

Remedy part 9 
মীরা রায়াদ 

“কবুল”
ছোট ক্ষীণ আওয়াজ। ঝুম সর্বোচ্চ চেষ্টা করলো যেন কেউ শুনতে না পায়। পরপর তার সাথে যা হয়ে যাচ্ছে তা সে মেনে নিতে পারছে না। এভাবে বিয়ে হয়? হয় হয়তো। নাহলে তার হলো কিভাবে?
তখন শাইয়ানের বলা বাক্যে পুরো বিয়ে বাড়ী নীরবতায় চেয়ে গিয়ে ছিল। ঝুম শাইয়ানের অর্ধাঙ্গী কিভাবে? একই প্রশ্ন অবাক নয়নে ঝুমও খুঁজে চলছিল। আশ-পাশ থেকে তখন ফিশফাঁস আওয়াজ ভেসে আসছে। আহির নিজেও অবাক হয়েছে। বিয়ে কখন হলো? তাকে শাইয়ান এই ব্যাপারে কিছু বলল না কেন? আর একেবারে বিয়ে? এই অসাধ্য সাধন হলো কিভাবে? সব থেকে বড় প্রশ্ন ঝুম রাজি হলো কিভাবে? এতো সময় আমিরুন্নেসা চুপ থাকলেও এবার থাকতে পরলো না। স্বভাবসুলভ আচরণ সে করে বসলো। রাগে চেঁচিয়ে উঠে বললেন –

” এই মেয়ে.. এই বাজারু মেয়ে আমার আব্বাকেও হাত করে নিলো রে। ও মেহের তোকে না বলে ছিলাম এতো মাথায় তুলিস না, দেখলি তো কি করলো এই খারাপ মেয়েটা।”
আমিরুন্নেসা বাকি কিছু বলার আগে বিকট শব্দে খেই হারিয়ে সরে গেলেন দুপা পিছনে। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে পাশে থাকা চেয়ার তুলে ঠিক আমিরুন্নেসার সামনে ছুঁড়ে মেরেছে শাইয়ান। বিস্ময়ে ভয়ে আমিরুন্নেসা পলক ফেলতে ভুলে গেলেন। শাইয়ানের উগ্র আচরণে ভয় পেয়ে ঝুম আরো মেহেরুন্নেসার সাথে সেঁটে গেলো।
” আমি যখন বলেছি ওনাকে নিয়ে আর একটা বাজে কথা শুনতে চাই না মানে শুনতে চাই না। ক্লিয়ার? কারো কোনো প্রশ্ন থাকলে আমায় করো।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

শেষের কথাটা চেঁচিয়ে বলল শাইয়ান। কেউ ভয়ে একটা শব্দ উচ্চারণ ও করলো না। বড় বড় নিশ্বাস ফেলে নিজেকে কিছুটা শান্ত করে শাইয়ান আবার বলল –
” যদিও আমাদের বিয়ে হয়েছে, রেজিস্ট্রি পেপার আছে চাইলে তাও দেখাতে পারি। কিন্তু আপনাদের মনের সংশয় দূর করতে আমরা এই মুহূর্তে আবারও বিয়ে করব। আব্বা ৫ মিনিটে ব্যবস্থা করুন।”
নিজের কথা শেষ করে সে কাউকে কল লাগলো।
” তোমরা ভিতরে আসো।”
শাইয়ান ফোন করার কয়েক মুহূর্ত বাদে বেশ কয়েকজন পুরুষ বিয়ের মজলিশে হাজির হয়। তাদের দেখে বোঝা গেলো এরা শাইয়ানের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত।
” এখানে থাকা একটা লোকও যেন আমার অনুমতি ছাড়া এই হল ছাড়তে না পারে।”
” ওকে স্যার।”

কথা শেষে লোকগুলো আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরল। পরিবেশ এখন আতংকিত। শাইয়ান ফিরে ঝুমকে দেখে নিল। সে এখন মেহেরুন্নেসার বুকে মুখ লুকিয়ে চোরা চোখে উকি দিয়ে তাকেই দেখছে। অন্য সময় হলে শাইয়ানের ঠোঁটে হাসি খেলে যেতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভয়ানক। শাইয়ানের ইচ্ছা করছে এখানে আগুন লাগিয়ে সবাইকে পুড়িয়ে দিতে। কিন্তু নাহ্ সে সবার জন্য অন্য শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। আহির তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল হয়তো কোনো নির্দেশের আশায়। সকলের অলক্ষ্যে শাইয়ান তাকে বলল –
” তোমাকে ১ ঘণ্টা সময় দেয়া হলো। এর মাঝে একটা পরিত্যক্ত কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং ম্যানেজ করে ফেলো। দেখি কেমন ইঞ্জিনিয়ার তুমি।”
এমন পরিস্থিতিতেও যে কেউ কাউকে খোঁচা মারতে পারে তা শাইয়ানকে না দেখলে আহিরের বিশ্বাস হতো না। শাইয়ান পা বাড়িয়ে ঝুমের কাছে গিয়ে বলল –

” উঠুন সকলের সামনে কবুল বলার সময় এসে গেছে।”
ঝুম দ্রুত মাথা নেড়ে অসম্মতি জানিয়ে মেহেরুন্নেসার সাথে মিশে গেল। উত্তেজিত হয়ে বলল –
” আন্টি আমি বিয়ে করবো না আণ্টি। আপনি কিছু বলুন ওনাকে। আমার আপনাকে অনেক কিছু বলার আছে। আপনারা আমার ব্যাপারে অনেক কিছু জানেন না।”
ভয়ানক রেগে গেল শাইয়ান। ঝুঁকে ঝুমের হাত ধরে এক টানে তুলে ফেলল। লাল লাল চোখে চিবিয়ে বলল –
” অনেক হয়েছে আপনার কথা। এতক্ষন যখন একটা কথা মুখ থেকে বের হয়নি তাহলে এখনো চুপ থাকুন।”
ওমন শক্ত হাতের টান খেয়ে ব্যাথা পেল নাজুক ঝুম। ব্যাথায় ” আহ্” উচ্চরণ করলে, মেহেরুন্নেসা ব্যতিব্যস্ত হয়ে শাইয়ানের থেকে ঝুমকে ছড়িয়ে নিতে চাইল। কিন্তু শাইয়ান ছাড়লো না।
” কি হচ্ছে শাইয়ান? ছাড়ুন ওনাকে ব্যাথা পাচ্ছে উনি। আমাকে কথা বলতে দিন বুঝিয়ে বলছি।”
তারপর ঝুমকে কাছে নিয়ে বলল –

” আপনার সব কথা পরে শুনবো ঝুম। আপাদত বিয়েটা হতে দিন। নাহলে সকলের সামনে আমাদের অসম্মানিত হতে হবে। ঈশালের বিয়েটাও ভেঙে যাবে।”
” কিন্তু আণ্টি তাই বলে বিয়ে? এটা কিভাবে হয় আণ্টি? কারো মনে হলেই তো তা সত্যি হয়ে যায় না। আপনারা চিন্তা করবেন না আমি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো। সবার সব কথা মেনে নিয়ে দেশে চলে যাবো। তাও বিয়ে করতে বলবেন না প্লিজ। আমি বিয়ে করতে পারব না।”
শাইয়ান ভারী বিরক্ত হলো। বিরক্তিতে মুখ তিতা হয়ে এসেছে। এতো কাহিনী তার ভালো লাগছে না। কাজের সময় বাড়াবাড়ি তার খুব অপছন্দের। এখানে অন্য কেউ হলে এতক্ষনে মাথায় তুলে আছাড় দিত। কিন্তু বিষয় যখন শখের নারীর তখন সে ভীষণ অসহায় এক বন্দা। ধৈর্য্য তাকে ধরতেই হবে। আল্লাহ্ সুবহানাল্লাহ্ তা’আলার বানানো আশ্চর্য এই নারীকে সে চাইলেও কিছু বলতে পারে না। এরজন্য বুকে অফুরন্ত ভালোবাসা ছাড়া কিছু আসে না। কিন্তু তাই বলে আর সহ্য করা সম্ভব না। ‘ চ ‘ আকৃতির বিরক্তিকর শব্দ বের করলো মুখ থেকে। বাড়তি একটা কথাও খরচ করলো না। হুট করে ঝুমকে কোলে তুলে নিল। কোলে তুলে সে দাঁড়ালো না বরং ঝুমকে নিয়ে হেঁটে কিছু দূরে রাখা চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে মাথা নিচু করে ঝুমের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল –

” চুপচাপ ভদ্র মেয়ের মতো কবুল বলবেন। তা নাহলে আপনার জন্য ঈশালের বিয়েটা আটকে যাবে। দেখুন সে কাদছে। বিয়ে ভাঙা মেয়ের কষ্ট বুঝতে পারবেন নিশ্চই? আপনার প্রিয় কেউ আপনার জন্য কষ্ট পাক হয়তো তা চাইবেন না। কোনো রূপ অশান্তি অথবা বাড়তি ঝামেলা ছাড়া কবুল বলবেন। কবুল ছাড়া আপাদত আপনার মুখে কথা শুনতে চাই না। ( শেষের কথাটি অত্যন্ত গম্ভীর ও কঠোর ভাবে বলল শাইয়ান)
ঝুম চোখে পানি নিয়ে অসহায়ের মতো চাইল তার দিকে। শাইয়ান দৃষ্টি সরিয়ে নিল। এই মেয়ের চোখে তাকালে সে নিজের কঠোরতা ধরে রাখতে পারবে না। কাজের কাজ কিছু হবে না অকাজ বেশি হবে। আপাদত সে ঝুমের মায়াবী চোখের দৃষ্টিতে ঘায়েল হতে চায় না।

ঝুম একবার ঈশালের দিকে চাইল, যে কিনা কনের আসনে বসে কাদছে। নিজেকে অপরাধী লাগছে ঝুমের। তার জন্য ঈশালের সব থেকে খুশির দিনটি নষ্ট হলো। এরপরের সময়টা গেলো খুব দ্রুত। মেহেরুন্নেসা কোথা থেকে একটি লাল ওড়না এনে তার মাথায় পরিয়ে দেয়ার পর হলে থাকা মানুষের উপস্থিতিতে ঝুম আর শাইয়ানের বিয়ে হয়ে গেল। সে একবারও আর ফিরে তাকায়নি করো দিকে। তার একমাত্র ভরসার জায়গা মেহেরুন্নেসা ও তাকে সাহায্য করেনি, তার কথা শুনতে চায়নি। ভীষণ কষ্ট পেয়েছে সে। তাদের বিয়ের পর ঈশাল ও সাদের বিয়ে পড়ানো হয়। কিছুক্ষন আগের ঘটে যাওয়া ঘটনা না হলে সে এখন ঈশালের বিয়ের জন্য খুশি হতো। খুব খুশি হতো।
বিয়ে পড়ানো থেকে এখন পর্যন্ত শাইয়ান তার নববধূর পানে তাকিয়ে আছে। মেয়েটি এখন থেকে তার। তাকে হারানোর ভয় নেই। যখন তখন ঝাপটে জড়িয়ে ধরে তার বুকে ব্যাথা কমাতে পারবে। এতো এতো কাঠখড় পেরিয়ে যাকে নিজের করলো সেই মেয়ে একবার চোখ তুলে তাকে দেখলো তো নাই বরং এখনো নীরবে কাঁদছে। এই মেয়ে তাকে আর কত অশান্তি দিবে কে জানে?

ঈশালের বিয়ে শেষে মেহেরুন্নেসা ঝুমকে নিয়ে শাইয়ানের ঘরের দিকে যেতে চাইল। কিন্তু মেয়েটা ঠিক করে হাঁটতে পারছিল না। হাঁটুতে ব্যাথা পাওয়ার দরুন পা ভেঙে আসছিল ঝুমের। ব্যাথা সহ্য করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো। শরীর তার ছেড়ে দিচ্ছে। সারা দিনের ধকলে সে আর পারছে না। তাও মুখ বুঝে সহ্য করে নিল। কিন্তু শাইয়ানের তীক্ষ্ণ চোখ ফাঁকি দিতে পারল না ঝুম। কপাল কুঁচকে এগিয়ে গিয়ে আবার এতগুলো মানুষের সামনে কোলে তুলে নিয়ে বড় বড় পায়ে হেঁটে চলল। লজ্জা পেল ঝুম কিন্তু মুখ থেকে শব্দ বের করলো না। এমনকি ব্যালেন্স রাখার জন্য শাইয়ানকে ধরলোও না। শাইয়ান ভ্রু কুঁচকে দেখলো বিষয়টি কিন্তু বাড়াবাড়ি করলো না। এমনিই জোর করে অনেক কিছু করা হয়েছে। আজকের মতো যথেষ্ট। মেহেরুন্নেসা পিছু নিল তাদের। ছেলেটাকে তার মোটেও বিশ্বাস নেই। দেখা যাবে আবার এমন কিছু করলো যা মেয়েটা নিতে পারল না।

তাছাড়া ঝুমকে খাবার ও খাওয়াতে হবে। শাইয়ানের ঘরের দিকে যাওয়ার আগে বাড়ির কাজের লোককে খাবার নিয়ে ওপরে যেতে বলে দ্রুত পায়ে সে ছুটল ওদের পিছু। শাইয়ান সোজা নিজের রুমের বেডে নিয়ে বসালো ঝুমকে। বেড সাইড টেবিল থেকে তার সব সময়ের সঙ্গী মেডিসিন কিট থেকে কিছু ওষুধ আর একটা ক্রিম বের করে হাতে নিয়ে ঝুমের সামনে মেঝেতে বসলো। ওষুধগুলো বেডের ওপর রেখে ঝুমের হাত টেনে হাতে হওয়া জখম গুলোতে খুব যত্ন করে ক্রিম দিয়ে দিল। ঝুম দেখলো সবটা নীরবে। তার মাঝে অনুভূতির ছিটে ফোটা দেখা গেলো না। শাইয়ান থেমে একপলক চোখ তুলে তাকালো ঝুমের পানে। দৃষ্টিতে দৃষ্ট মিললে ঝুম চোখ সরিয়ে অন্য দিকে তাকালো। শাইয়ান দীর্ঘ এক নিশ্বাস ফেলে পায়ের কাছ থেকে ঝুমের শাড়িতে হাত দিলে ঝুম আঁতকে ছিটকে দূরে সরে বসলো। শাইয়ান গম্ভীর চোখে দেখলো তাকে। ঠিক সেই সময় ঝুমকে বাঁচাতে মেহেরুন্নেসা দরজায় আলতো টোকা দিলো। শাইয়ান অনড় ঝুমকে ক্রুর দৃষ্টিতে দেখে উঠে দরজা খুলে দিল। তারপর মেহেরুন্নেসার হাতে ক্রিমটি দিয়ে বলল –

” হাঁটুতে লেগেছে ওনার, এটা লাগিয়ে দিবেন। হাতে আমি দিয়ে দিয়েছি। বেডের ওপর কিছু মেডিসিন আছে। রাতের খাবার খাওয়ানোর পর খেতে দিবেন। আর ওনাকে ফ্রেস হয়ে শাড়ি বদলে হালকা কিছু পরে নিতে বলবেন। আমার আসতে লেট হতে পরে ( পিছু ফিরে ঝুমের দিকে তাকিয়ে বলল কথাটি)। আম্মা ওনার খেয়াল রাখবেন। আসছি।”
” এই সময় কোথায় যাচ্ছেন আব্বা?” রাত অনেক হয়েছে। ঈশালের বিদায় কিছুক্ষন পর। আর তাছাড়া ঝুমকে একা রেখে এখন যাওয়াটা ঠিক হবে না।”
” দ্রুত ফিরব। বেশিক্ষন আমিও থাকতে পারবো না আম্মা।”
বলে আর না দাঁড়িয়ে চলে গেল সে। মেহেরুন্নেসা তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই ছেলের যা করার তাই করবে, কারো কথা শুনবে না। এই যেমন, সকালে তার হাতে ম্যারেজ রেজিস্ট্রি পেপার ধরিয়ে দিয়ে বলল, ” ঝুমের সিগন্যাচার নিতে।” তখন এতো করে সে ও ইব্রাহীম বুঝাল এটা ঠিক হবে না কিন্তু কে শোনে কার কথা। ঠিক নিজের কাজ করিয়ে নিয়েছে। মেহেরুন্নেসা পা বাড়িয়ে ঝুমের পাশে বসলো। হাত বাড়িয়ে ঝুমের গাল ছুঁয়ে বলল –

” আমার ওপর রাগ করেছেন ঝুম?”
ওপর দিক থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে মেহেরুন্নেসা বলল –
” আমাদের ক্ষমা করবেন ঝুম। জানি আমারা স্বার্থপরের মত কাজ করেছি কিন্তু এতে আপনার ক্ষতি হবে না। আপনি এখানে খুব ভালো থাকবেন। আমার শাইয়ান আপনাকে ভালো রাখবে।”
” আমি বাংলাদেশে যেতে চাই।”
” এটা এখন আর সম্ভব না ঝুম।”
ঝুম নিজেও জানে এটা সম্ভব না। তারপরও অবুঝের মতো আবদার করেছিল। সে চুপ করে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইলো আবারও। মেহেরুন্নেসা বুঝলো মেয়েটির মনের অবস্থা। তাই কথা না বাড়িয়ে উঠে শাইয়ানের ক্লথ কেবিনেট থেকে ঝুমের জন্য আনা খুব নরম একটি সুতির গোল জামা নিয়ে আসলো। এগুলো আজই শাইয়ান নিজে তার রুমে শিফট করিয়েছে। ঝুমের সকল কিছু এখন শাইয়ানের রুমে। জামাটি নিয়ে সে ঝুমের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল –

” ফ্রেশ হয়ে আসুন। তারপর খেয়ে নিবেন।”
জামাটি দেখে ঝুম অবাক হলো না। সে বুঝতে পেরেছে তাকে ঠকানো হয়েছে। এই সব কিছু প্রি-প্ল্যান্ড ছিল, যা বুঝতে তার কষ্ট হলো না। কষ্ট হচ্ছে তো এটা মেনে নিতে যে মেহেরুন্নেসাও এসবে সামিল ছিল। কথা না বাড়িয়ে সে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে দৃঢ় গলায় বলল –
” আমি খাবো না এখন। একা থাকতে চাই।”
কথাটি বলে ওয়াশরুমের দরজা আটকে দিলো সে। মেহেরুন্নেসা করুন চোখে দেখলো শুধু। মেনে নিতে কষ্ট হলো ঝুমের কঠোর ব্যক্তিত্ব। এটা তার প্রাপ্ত তাও বুকে কোথাও আঘাত পেল সে। ঝুমকে একা থাকতে দিয়ে চলে গেল সে। যাওয়ার আগে দরজাটা আলতো ভিড়িয়ে দিয়ে গেল।

ওয়াশরুমের আয়নায় নিজেকে বেশ কিছুক্ষন দেখলো ঝুম। তাকে আজ অন্যরকম লাগছে। কেন? তার বিয়ে হয়েছে বলে? একটা সময় নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে শব্দ করে কেঁদে দিল। জীবন তাকে কোথায় এনে ছাড়লো? এখন সে কি করবে? কেন তার সাথে বারবার এমন হয়? কার কাছে যাবে সে? কে সাহায্য করবে? জীবনের হিসাব কষতে কষতে ঝুম কাদলো মন ভরে। কেঁদে নিজে কে হালকা করে যখন বের হলো তখন ঘর একদম শান্ত। সে ছাড়া দ্বিতীয় কেউ নেই।

Remedy part 8

মেহেরুন্নেসাকে ওভাবে বলা হয়তো ঠিক হয়নি তার। কিন্তু সেই বা কি করত? এদের দেখলে তার রাগ হয়, কষ্ট হয়। আলো ঝলকানো ঘরটি সে দেখল ভালো করে। দৃষ্টি এদিক থেকে ওদিক নিয়ে নীরবে পর্যবেক্ষন করতে গিয়ে একপাশের ওয়াল ক্যাবিনেটে চোখ বিধলো। এটা কি সে ঠিক দেখছে? বড় বড় চোখগুলোতে আতঙ্ক ভোরে উঠেছে। এলোমেলো পায়ে কাছে গিয়ে ভালো করে দেখে নিশ্বাস আটকে গেল তার। ভয়ে, আতঙ্কে মেঝেতে পরে গেল ঝুম।

Remedy part 10