Remedy part 10
মীরা রায়াদ
বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করলো ঝুম। সে নিশ্চই ভুল দেখেছে। ওটা অন্য কেউ। হ্যাঁ অন্য কেউই, নয়তো ঈশাল বলেছিল শাইয়ান ডাক্তার। ঝুম কাপা কাপা পায়ে উঠে দাড়ালো। চোখে তার পানি টলমল করছে। যে কোনো সময় গড়িয়ে পরবে। আসতে ধীরে উঠে আবার কেবিনেটের কাছে গেল। বার দুয়েক পলক ঝাপটে নিল। ফলস্বরূপ দুফোঁটা পানি বিন্দু চোখ ফেটে গাল গড়িয়ে পড়ল। সে দেখলো, স্পষ্ট দেখল কেবিনেটে রাখা ফটোফ্রামে শাইয়ানের ছবি, যেখানে সে আর্মি ইউনিফর্ম পরিহিত। হঠাৎ ঝুমের মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব সে বুঝতে পারছে না। তার হাত পা কাপছে, অসম্ভব কাপছে। অতীত কেনো ওর পিছু ছাড়ছে না? সেই কালো দিনগুলো কি আবার ফিরে এলো? কি করবে এখন সে? ঈশাল তাকে মিথ্যা কেন বলেছিল? এই সত্য জানলে সে যেভাবে হোক বিয়েটা আটকাতো। ব্যাথা পা নিয়ে অনবরত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ঘরের এদিক থেকে ওদিক পায়চারী করতে করতে নিজের সাথে নিজে বলতে লাগলো –
” কি করবো এখন আমি? কি করবো? পালাতে হবে। হ্যাঁ..হ্যাঁ পালাতে হবে আমাকে। এখানে আর একমুহূর্তও না। ফোন.. আমার ফোন কথায়?”
ঝুম তার ফোন খুঁজলো কিন্তু পেলো না। পাবে কি করে সেটা অনাদরে এখনো বিয়ের হলে পরে আছে। তখন আমিরুন্নেসার ধাক্কায় ঝুমের ফোন ছুটে দূরে পরে ছিল যা সে লক্ষ্য করেনি।
ঝুম ফোন না পেয়ে দিশাহারার মতো করতে লাগলো। হঠাৎ নিজের পরিহিত জামার দিকে খেয়াল করে বুঝলো এটা তার লাগেজে ছিল। তাহলে এই রুমে কি করে? তার মানে তার লাগেজে কেউ হাত দিয়েছে? পাসপোর্টের ভাবনা মাথায় আসতেই ঝুম পাগল হয়ে গেলো। ছুটে শাইয়ানের আলমারি খুলে হন্যে হয়ে সব খুঁজল, কিন্তু পেলো না। পুরো রুম এলোমেলো করে যখন প্রয়োজনীয় জিনিসের একটিও পেল না তখন না চাইতেও বুক ফাটা আর্তনাদ করে উঠলো। আম্মা তাকে কেন সাথে নিয়ে গেলো না? এই নিষ্ঠুর দুনিয়ার সাথে সে একা আর লড়াই করতে পরছে না। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল, করো আর্তনাদ। প্রতিনিয়ত অত্যাচার, অবহেলা। সেই অন্ধকার রুমে রাত কাটানোর কথা। মাথাটা ঘুড়ে উঠল যেন ঝুমের। পরে যেতে নিল, ঠিক সেই মুহূর্তে শাইয়ান তাকে দুহাতে আগলে নিল। এতক্ষন সে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ঝুমের কাজ দেখছিল। এভাবে করার কারণ সে বুঝতে পারেনি। তাই বলে বাধাও দেয়নি। তার বউ তার রুম কেন চাইলে তার জীবনটাও এভাবে এলোমেলো করতে পারে। সে কিচ্ছুটি বলবে না। উল্টো উৎসাহ দিবে। হাজার হোক একটা মাত্র শখের বউ তার। যার জন্য সে বুকে ব্যথা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তার জন্য এতো টুকু না করলে বউয়ের সামনে তার বড় মুখ থাকবে?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
শাইয়ানকে নিজের এতো কাছে দেখে ঝুম ছিটকে কয়েক পা দূরে সরে দাড়ালো। ঝূমকে এভাবে সরতে দেখে শাইয়ান অবাক হলো ভীষণ। তার চোখে মুখে স্পষ্ট, সে এমনটা আশা করেনি। ঝুম কষ্ট পেয়েছে, মেনে নিতে পারেনি জানে তা সে। কিন্তু তাই বলে এভাবে রিয়েক্ট করার মেয়ে সে না। পরপর দুবার তার কোলে চড়ার পরও যে মেয়ে শান্ত ছিল, তার এমন দূরে যাওয়া ঠিক লাগলো না শাইয়ানে। তাছাড়া এই ঝুমকে সম্পূর্ণ ভিন্ন লাগছে। শাইয়ানকে দেখে ঝুমের মুখ আতঙ্কে কাগজের মতো সাদা হয়ে গেল। বড় বড় নিশ্বাস নেয়ার চেষ্টা করলো সে, কিন্তু পারছে না। মনে হচ্ছে অক্সিজেনের অভাব তার চারপাশে। শাইয়ান গভীর চোখে ঝুমকে পর্যবেক্ষন করে দেখল। ঝুমের অস্বাভাবিক আচরণ, ঘনঘন নিশ্বাস নেয়ার চেষ্টা, হাত পা কাপা একজন ট্রমা স্পেশিয়ালিস্ট হিসেবে বুঝতে কষ্ট হলো না এগুলো প্যানিক এ্যাটাকের সিন্টমস্। শাইয়ান ঘাবড়ে গেল, এতটুকু সময়ের মাঝে কি এমন হলো যে ঝুমের প্যানিক এ্যাটাক হলো? আম্মা কোথায়? ঝুমকে না একা রেখে যেতে বারণ করলো! তাও গেল কেন? কথা না বাড়িয়ে ঝুমের নিকটে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই ঝুম অস্বাভাবিক ভাবে থেমে থেমে বলল –
” একদম আমার কাছে আসবেন না। দূরে সরুন। আমার ফোন, পাসপোর্ট কোথায়। সেগুলো কি করেছেন আপনারা? আমাকে ফিরিয়ে দিন ওগুলো। আমি দেশে ফিরতে চাই। এখানে এই দেশে আর একমুহূর্ত না।”
ঝুম কথা বলতে পারছে না। তার কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। তারপরও এক নিশ্বাসে বলল সে। সব সময়ের থেকে আজ তার বলার ধরন, আওয়াজ অন্যরকম ছিল। শাইয়ানের কপাল কুঁচকে গেল ঝুমের কথা শুনে।
” শান্ত হোন আরীবা। কি হয়েছে আমাকে বলুন।”
” কিছু হয়নি আমার। আপনারা আমার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিন।”
শাইয়ান মেজাজ হারাচ্ছে। এমনিই তার নামে ট্যাগ আছে সে বদরাগী। এখন উল্টো পাল্টা কিছু করলে বউ তাকে খারাপ বানিয়ে দিতে দুবার ভাববে না।
” বাংলাদেশে আপনার ফেরা হচ্ছে না আর আরীবা। বাচ্চাদের মত জেদ না করে কাছে আসুন কথা আছে।”
ঝুম যেন নিজের মাঝে নেই। সে পাগল হয়ে গেছে। তাকে এখন ভীষণ অন্যরকম একটা মেয়ে লাগছে। চেনা পরিচিত ঝুম কখনো রাগ, জেদ, চেঁচামেচি করে না। সেই মেয়েটা হঠাৎ করে উচ্চ স্বরে চেঁচিয়ে উঠে বলল –
” আমি যাবো বলেছি না? যাবো মানে যাবো। আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না। আমি আপনার সাথে থাকবো না। আপনারা সবাই আমাকে ঠকিয়েছেন, মিথ্যা বলেছেন। কেউ কেন আমায় বলেনি আপনি আর্মি ম্যান? কেন কেন কেন? ( শেষের কথাগুলো সে এতটাই জোরে বলল যে ক্ষণিকের জন্য তার নিশ্বাস আটকে শুকনো কাশি উঠে গেল)”
ঝুমের এই উগ্র আচরণ শাইয়ানের মেজাজে কেরোসিন ঢেলে দিল। তার ওপর কেউ চেঁচালে তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলতে ইচ্ছা করে। সেখানে ঝুম তার নরম সরম বউটার এই আচরণ মেনে নেয়া ভীষণ কষ্টের হলো। কোনো রকম রাগ সামলে নিল সে। এতক্ষনে বুঝতে পরলো কেন ঝুমের এ্যাটাক হয়েছে। সুতরাং এখন রেগে যাওয়া মানে চূড়ান্ত বোকামি।
” শান্ত হোন আপনি। কেউ আপনাক মিথ্যা বলেনি। আমরা বসে কথা বলি এই ব্যাপারে? আসুন এদিকে আসুন।”
বলতে বলতে এগিয়ে গেল শাইয়ান। কিন্তু ঝুম শুনল না। সামনে দাড়ানো মানুষটা কে, সেটা ভুলে গিয়ে মহা পাপী কথাটি বলে ফেলল –
” কোনো কিছু শুনতে চাই না। আমি তালাক চাই। আমি আপনার সাথে থাকবো না।”
ব্যাস, শাইয়ানের ধৈর্য্যের শেষ সীমা পরিয়ে গেছে ঝুম। রাগে ধপ করে জ্বলে উঠল শাইয়ান। কপালের, গলার রগগুল জানান দিল শাইয়ান এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে কোনো সতর্কতা বিহীন দুহাতে ঝাপটে কোলে তুলে নিল ঝুমকে। ঝুম কিছু বুঝে ওঠার আগেই শাইয়ান নিজের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝুমকে কয়েকটি শক্ত চুমু খেয়ে বসলো। নিশ্বাস না নিতে পারে শক্ত পোক্ত হাত দুটোর মাঝে ছটফটিয়ে উঠল ঝুম। সেদিকে পাত্তা না দিয়ে ঝুমকে ছুঁড়ে ফেলল বেডে। পরপর নিজের সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে দিলো ঝুমের ওপর। ভয়ে, আতঙ্কে কেঁদে উঠলো ঝুম। এতক্ষনে হুশ ফিরেছে তার। সে কার সামনে কি বলছিল মনে করে আর্তনাদ করে উঠলো নিজের মনে। শাইয়ান যেন নিজের মাঝে নেই এখন। সে উম্মাদ হয়ে গেছে। লম্বা, শক্ত, ভারী শরীরটা দিয়ে ছোট্ট পুতুলের মত শরীরটাকে চেপে ধরলো। ঝুমের গলায় নাক, মুখ দাবিয়ে বেশ কয়েকটি কামড় বসালো। এতো ভারী শরীরটার ওজন আর গলায় দেয়া কামড়ের ব্যাথায় ঝুম শব্দ করে কেঁদে ফেলল। শাইয়ান শেষ কামড়টা দিল বড্ড নিষ্ঠুরের মতো। জোড়ালো কামড় দিয়ে আর ছাড়লো না ওভাবে পরে রইলো। এদিকে ঝুমের জান যায় যায়। আর সইতে না পেরে ঝুম কাদতে কাদতে মিইয়ে যাওয়া স্বরে
বলল –
” ছেড়ে দিন, ব্যাথা পাচ্ছি।”
শাইয়ানের রাগ তখনো আকাশ ছুঁয়ে। আশ্চর্যের বিষয় ঝুমের সংস্পর্শে তার রাগ একটু একটু করে কমছে। তাই রাগ কমাতে এই মেয়েকেই লাগবে এখন। রাগিয়ে দিয়ে এখন ছেড়ে দিতে বললে তো হবে না। পরপর গলায় কয়েকটি নরম নরম চুমু দিতে দিতে, শাইয়ান অস্থির গলায় থেমে থেমে বলল –
” আর একটু প্লিজ প্লিজ প্লিজ ”
কিন্তু ঝুম সহ্য করতে পারলো না। এতো ধকল তার ছোট শরীর নিতে না পেরে জ্ঞান হারাল। শাইয়ান ঝুমের কোনরূপ রেসপন্স না পেয়ে মাথা উঁচিয়ে দেখল ঝুম জ্ঞান হারিয়েছে। ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়লো সে। এতো নরম হলে চলবে? সে যে মানুষ, এই মেয়ে নির্ঘাত মোরে যাবে। তাছাড়া এখন এমনটা করতে চায়নি সে। ভেবেছিল বিয়েটা ভীষণ তাড়া নিয়ে করলেও তার সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য ঝুমকে পর্যাপ্ত সময় দিবে। কিন্তু মেয়েটা যা শুরু করেছিল তাতে তার মতো মানুষ যে এতটা ধৈর্য্য ধরেছে এই অনেক। অপলক ঝুমকে বেশ কিছুক্ষন দেখে নিয়ে ঝুমের কপালে ঠোঁট দাবিয়ে চুমু খেল। তারপর কানের সাথে ঠোঁট লাগিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল –
” সব আর্মিরা আপনার বাবার মতো হয় না মেরিজান। আপনার হাসবেন্ড আপনার বাবার মতো কখনো করবে না। আমি আপনাকে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসি মনে রাখবেন।”
কথাগুলো বলে ঝুমকে সে উঠে বসলো। তারপর খুব মনোযোগের সাথে নিজের শার্টের হাতা গুটিতে নিয়ে আবারও চাইল ভালো করে ঝুমের দিকে। বন্ধ চোখের কোণ বিয়ে পানি পরছে। বড় বড় পাপড়িগুলো ভিজে। বড় লম্বা লালচে চুলগুলো পুরো বেড জুড়ে এলোমেলো ছড়িয়ে। হাত বাড়িয়ে ঝুমের এলোমেলো চুল গুলো অদক্ষ হাতে খোপা করার চেষ্টা করলো শাইয়ান। পারল তো নাই, উল্টো চুল সব জড়িয়ে ফেলল। ফোঁস করে নিশ্বাস ছেড়ে পকেট থেকে ফোন বের করে কল লাগালো আহিরকে।
” আমার রুমে আসো।( বলে থেমে গিয়ে আবার বলল) আর হ্যাঁ, দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ধীরে নক করবে।”
অপরপাশের কথা শোনার সময় হলো না তার। উঠে গিয়ে ড্রয়ার খুলে কাগল- কলম বের করে তাতে কিছু একটা লিখলো। তারপর সেটি হাতে নিয়ে বসলো ঝুমের পাশে। আলতো হাতে মুখের কাছের কিছু চুল কানের পিছে গুঁজে দিল। আহ্ শান্তি।এভাবে মেয়েটিকে নিজের কাছে দেখতেও তার শান্তি লাগছে।
দরজায় মৃদু আয়াজ হলে শাইয়ান হাতের কাগজটি নিয়ে উঠে সেদিকে যায়। দরজা খুলে দেখতে পায় আহিরকে, যার পরনে টি শার্ট, ট্রাউজার। মাথার পিছনে একটা ঝুঁটি করা তার। ঝুম দেখলে নিশ্চই চোখমুখ কুঁচকে বলতো, ” বখাটে ছেলে “। আহিরকে ভালো করে দেখে নিয়ে কাগজ বাড়িয়ে দিল তার দিকে। আদেশের সুরে বলল –
” এগুলো আনানোর ব্যবস্থা করো কাউকে দিয়ে। আর ( আহিরের দিকে আঙুল তাক করে বলল) এই গেটআপে একদম গ্যাংস্টার লাগছো। এভাবে আমার বউয়ের সামনে ঘুরবে না। পাছে তোমাকে দেখে ভয় না পায় সে! তৈরি হয়ে নাও আমার সাথে বের হবে তুমি।”
আহির হতভম্ব হয়ে গেল। তার প্রশংসা করা হয়েছে নাকি অপমান করা হয়েছে বুঝতে পরলো না।
” আরে কিন্তু কথায় যাবো?”
” যেতে যেতে দেখতে পাবে। তোমাকে ১০ মিনিট টাইম দিলাম।”
” সে না হয় বুঝলাম, কিন্তু এটা কি?( হাতের কাগজ তুলে প্রশ্ন করলো)”
” প্রেসক্রিপশন।”
প্রেসক্রিপশন? আহিরের কপালে কয়েকটি ভাঁজ পড়ল। চিন্তিত স্বরে
বলল –
” ভাবি ঠিক আছে?”
আহিরের মুখে ‘ ভাবি ‘ ডাকটি বেশ শ্রুতিমধুর ঠেকলো শাইয়ানের কানে। দুহাত আয়েশ করে প্যান্টের পকেটে গুঁজে শান্ত গলায় বলল –
” তোমার ভাবির জ্ঞান নেই। ছোট মানুষতো তাই বরের ওজন নিতে না পেরে জ্ঞান হারিয়েছে।”
আহির শাইয়ানের নির্লজ্জ কথায় খুকখুক করে কেশে উঠলো। ভারী লজ্জা পেল সে। যতই সে দুষ্টু হোক, একটু হলেও তার তো লজ্জা আছে নাকি! এখানে থাকা যে এখন বিপদজনক বুঝতে পেরে কেটে পরতে চাইল। তাকে চলে যেতে দেখে মুচকি হাসলো শাইয়ান।
রুমে ফিরে সে একপলক বেডে শুয়ে থাকা ঝুমকে দেখে নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেল। মিনিট ১০ পর বের হয়ে তৈরি হওয়া শুরু করলো। হাতে ঘড়ি পরতে পরতে শুনতে পেল কেউ একজন দরজায় টোকা দিচ্ছে। পা বাড়িয়ে দরজা খুলে আবারও আহিরকে দেখে বিশেষ প্রতিক্রিয়া না করে হাত বাড়িয়ে আহিরের হাতে থাকা প্যাকেটটি নিয়ে মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে দিল। বড়সড় হা করে এই অপমান গিলে নিল আহির। তারও দিন আসবে তখন শাইয়ানকে সে নাকে দড়ি দিয়ে না ঘুরালে তার নামও আহির না।
শাইয়ান দক্ষ হাতে প্যাকেট থেকে স্যালাইনের ব্যাগ, কিছু মেডিসিন – ইঞ্জেকশন বের করে টেবিলের ওপর বের করে একে একে সব সেট করে, ঝুমের হাতে খুব সাবধানে স্যালাইনের নল লাগিয়ে দিল। আচ্ছা ঝুম হুশে থাকলে কি এখন ভয়ে কাদতো? সে কি ইঞ্জেকশন ভয় পায়? কি জানি? শাইয়ানের জানা নেই। সে ইঞ্জেকশন তুলে স্যালাইনের ব্যাগে ভরে দিল। টেবিলে এলোমেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মেডিসিন থেকে একটি ক্রিম তুলে নিয়ে ঝুমের পাশে গিয়ে বসে দেখল তার দেয়া গলার ক্ষতগুলো। সুন্দর লাগছে না? শাইয়ানের কাছে এই দৃশ্য দারুন লাগছে। মেয়েটা তার দেয়া চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে।
Remedy part 9
কতটা আপন সে এখন ঝুমের, ভাবলেই কলিজা ঠাণ্ডা হয়ে যায় শাইয়ানের। আঙুলের ডগায় ক্রিম নিয়ে খুব সাবধানে কামড়ের দাগগুলোতে লাগিয়ে দিল সে। কতটা যত্ন আর ভালোবাসার ছোঁয়া ছিল টা ঝুম অনুভব করতে পারল না। মুচকি হেসে ঝুঁকে ঝুমের বা গালে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল –
” সরি। বিশ্বাস করুন ব্যাথা দিতে চাইনি। কিন্তু ব্যাথা দেয়ার পর আরো দিতে ইচ্ছে করছে। শান্তি শান্তি লাগছে। আরো একটু ব্যাথা দিলে কি আপনি রাগ করবেন বউ?”
