Home Naar e Ishq Naar e Ishq part 10

Naar e Ishq part 10

Naar e Ishq part 10
তুরঙ্গনা

আজ ভার্সিটিতে গিয়ে আর ক্লাস করা হয়নি, তিনজনের। বরং ক্লাস বাদ দিয়ে, সকাল সকাল তিনজনেই শহর ঘুরতে বেরিয়ে পড়েছে। দানিয়েল নিজের বাইকে,আর নিমরা-সুহিন রিকশায়। কোথায় যাচ্ছে, তা ঠিক হয়নি।আগামীকাল নিমরা-দানিয়েল দুজনেই বাড়িতে যাবে। প্রায় বেশ কয়েকটা দিন থাকতে হতে পারে।
গতরাতে ফোন এসেছিল,তাদের দাদুভাই বেশ অসুস্থ। এই মূহুর্তে না বাড়িতে না গেলেও নয়। তবে যাবার আগেরদিন, দানিয়েলের ইচ্ছেতেই সুহিনকে নিয়ে তারা বেরিয়ে পড়েছে।
প্রায় অনেকটা পথ অতিক্রম করার পর, তারা শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটি কোলাহলহীন পার্কে এলো। এছাড়া যাবার মতো আর কোনো জায়গাও এই মূহুর্তে খুঁজে পেল না। এখানে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে, পরে রেস্টুরেন্টে টুকটাক খাওয়া-আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরবে।

প্রকৃতিতে ঘেরা পার্কের, নীরব ও পরিষ্কার জায়গায়, ব্রেঞ্চে বসে আছে নিমরা আর সুহিন। দানিয়েল তাদের জন্য হালকা খাবার-দাবার আনতে গিয়েছে। আড্ডা দিতে দিতে সময় কেটে যাবে।
কিছুক্ষণের মাঝেই দানিয়েল তাদের দিকে এগিয়ে এলো,তবে কিছুটা হতাশ মুখে। খুঁজে খুঁজে এটা কোন পার্কে এসেছে কে জানে। সামান্য আইসক্রিমটাও নেই। ফলে বেশ খানিকটা বাদাম-চিপস আর কোকের তিনটা ক্যান নিয়ে চলে এসেছে। এবং সেগুলো দুজনের মাঝে ব্রেঞ্চেতে রেখে দিয়ে বলল,
“সরি,আর কিছুর ব্যবস্তা করতে পারলাম না। মস্তবড় ভুল হয়েছে এইসব পার্কে এসেছে।”
তার কথায় নিমরা কিছু বলার আগেই,সুহিন বিস্তৃত হেসে বলল,
“আরো কি লাগবে? এগুলোই তো শেষ করতে পারব না।”
তার কথায় দানিয়েল হেসে,নিমরার দিকে আঁড়চোখে তাকিয়ে বলল,
“তুমি খেতে না পারলেও,কোনো এক রাক্ষসীর এসবেও মন ভড়বে না।”
তৎক্ষনাৎ নিমরা বিস্ময়ের নজরে দানিয়েলের দিকে ফিরে তাকায়। দানিয়েল না দেখার ভাণ করলেও,নিমরা ঠিকই ক্ষুব্ধ হয়ে বলল,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“বড় ভাই,বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু।যেখানে তোমার উচিত আমাকে সারাক্ষণ রয়েল ট্রিট দেওয়া,সেখানে আমাকেই এসব উল্টোপাল্টা কথা বলে ক্ষেপাতে চাইছো? তেমন হলে রহস্য ফাঁস করে দেবো কিন্তু!”
তার কথার ইঙ্গিতে, দানিয়েল খানিক কেশে চোখ রাঙায়। নিমরা এইবার নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে বিষয়টায় বিদ্রুপাত্মক হেসে ক্যানে মুখ লাগায়। অন্যদিকে সুহিন নিজের মতো চুপচাপ মিটমিট করে হেসে, মাথা নুইয়ে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে খেয়ে যাচ্ছে। সুহিনের হাসির বিষয়টা দানিয়েল ঠিক বুঝতে পারল না। স্বাভাবিক ভেবেই, তার পাশে বসে পড়ল। সুহিনের অন্যপাশে বসে আছে নিমরা।
—“দাও,আমি খোসা ছাড়িয়ে দিচ্ছি।”

তার এহেন কথায় সুহিন সহ নিমরাও তার দিকে ফিরে তাকাল। নিমরা ভ্রু উঁচিয়ে তির্যক হাসলেও,সুহিন বলল,
“না না, ভাইয়া। প্রয়োজন নেই, আমি করে নিচ্ছি তো…”
তার কথা শেষ হলো না। বরং তার আগেই দানিয়েল নিজের মতো বাদামের খোসা ছাড়িয়ে সুহিনের হাত টেনে তাতে অল্প-অল্প করে দিতে লাগল। সুহিনও মুখ নুইয়ে চুপচাপ খেতে লাগল। যেন ইচ্ছে করেই চাইছে না, আশেপাশে কারো দিকে ফিরে তাকাতে।
এদিকে নিমরা খানিকটা কেশে নিয়ে, দানিয়েলের উদ্দেশ্যে বলল,

“উহু,উহু, বলছি বড় ভাই। আমি একটু পার্কটা ঘুরে আসি।বসে বসে পা-টা লেগে গিয়েছে।”
এই বলতে না বলতেই, নিমরা উঠে গিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দূরে চলে গেল। এদিকে দানিয়েল নির্বিকার ভঙ্গিতে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে সুহিনকে দিচ্ছে,আর সুহিনও একইভাবে চুপচাপ মুখ নুইয়ে বসে বসে খেয়ে যাচ্ছে।
যদিও সুহিনের মনের মধ্যে আজ ভিন্নকিছু চলছে। দানিয়েল তার মিটমিটে হাসিটাকে স্বাভাবিক ভাবছে,কারণ তার মতে সুহিন এতোই বোকা-সোকা যে সে তার মনের গহীনের কোনো কথাই বোঝে না। অথচ তার এই ধারণাটা ভুল। প্রায় বেশ কয়েকমাস হতেই সুহিন খেয়াল করছে,দানিয়েলের এই অদ্ভুত কেয়ারিং,ছন্দে ছন্দে সাজানো নানান উপমা,ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সহজ কথার গভীর উত্তর দেওয়া—সবটাই তাকে ভিন্নভাবে ভাবিয়েছে।
আগে ভাবতো বিষয়টা স্রেফ বড় ভাইয়ের মতো। তবে পড়ে বুঝল, না! এটা ভিন্ন কিছু। অবশ্য ইদানীং সে-ও দানিয়েলকে ভিন্নরূপে পছন্দ করতে শুরু করেছে। যত যাই হোক,দানিয়েলের মতো ব্যক্তিত্বের মানুষ সে জীবনে আর দুটো দেখেনি বললেই চলে। অথচ সে সবসময় এমন ভাবটা করে যেন,কিছুই বোঝে না। কারণ সে চায়, কখনো সঠিক সময় এলে দানিয়েলই তাকে নিজ মুখে সরাসরি কিছু বলুক। অবশ্য এমনও তো হতে পারে,সেই বেশি বেশি ভেবে নিচ্ছে।

এদিকে আজ একই পার্কে এসেছে সাদ। সে ঘোরার মতো কোনো জায়গা পাচ্ছিল না।আবার তার সাথে সকাল সকাল কেউ আসতেও চাচ্ছিল না। যথারীতি সে গুগল ঘেঁটে এই পার্কে চলে এসেছে। এখন ফোনে নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ না করায়, বিরক্ত হয়ে এদিক-সেদিক ঘুরছে। এটা কোথায় এসে পড়েছে কে জানে।
আপাতত কারো কাছে জিজ্ঞেস করে,রাস্তাঘাট চিনতে হবে। এরিমধ্য তার অনুসন্ধানী চোখজোড়া একটি মেয়ের দিকে পড়ল। পরনে নেভী-ব্লু ওয়েস্টার্ন টপস-প্যান্ট। গায়ে আবার লেদার জ্যাকেট জড়ানো। সিল্কি চুলগুলোও বব-কাটে কাঁধ অব্দি। ক্যান হাতে নিয়ে দৃঢ় ভঙ্গিতে ওদিকটায় যাচ্ছে।তবে তাকে দেখামাত্রই সাদের কেন যেন বেশ আগ্রহ জাগল।
সে আশেপাশে লোকজন রেখে সোজা তার কাছেই এগিয়ে গেল। এদিকে চোখের সামনে হঠাৎ এমন লম্বুকে টপকাতে দেখে নিমরার চোখ-মুখ কিঞ্চিৎ কুঁচকে গেল।

—“হ্যালো,মিস। ক্যান ইউ হেল্প মি?”
নিমরা নিজের ভাবগম্ভীর্য বজায় রেখেই, রুক্ষ স্বরে বলল,
“জ্বী, বলুন।”
—“তোমার মনের রাস্তাটা কোন দিকে?”
নিমরার চোখ-মুখ তৎক্ষনাৎ শক্ত হলো। সে ক্ষুব্ধ ও বিস্ময়ের স্বরে বলল,
“হোয়াট?”
এদিকে হুঁশ ফিরতেই, সাদ থতমত খেয়ে বলল,
“আ…আই’ম সরি। বলছিলাম যে রাস্তাটা কোন দিকে?’
—” কিসের রাস্তা?”
—“ইয়ে মানে,বাড়ি ফেরার। আমার ফোনের নেটওয়ার্ক কাজ করছে না।”
—“কোন দুনিয়ায় থাকেন আপনি? নিজের বাড়ির রাস্তাও চেনেন না?”
—“চিনি না দেখেই তো তোমায় জিজ্ঞেস করছি।”

নিমরা বিরক্ত হয়ে, তাকে সাইড কাটিয়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে বলল,
“যেদিক দিয়ে এসেছেন,সেদিক দিয়েই যান।”
এই বলেই সে কয়েক পা এগিয়েছে,ওমনি সাদ পুনরায় তার সমানে এসে তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
“আহা,রেগে যাচ্ছো কেনো?”
—“এক সেকেন্ড, আপনি আমায় তুমি তুমি করছেন কোন সাহসে?”
—“সাহসের কি হলো? তুমি তো আমার ছোটই হবে।”
নিমরা এবার প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে,ক্ষুব্ধ হয়ে বলল,
“ধ্যাৎ মিয়া, সরেন এখান থেকে।”
এই বলেই সে গটগট পায়ে এগিয়ে যায়। এবং বিড়বিড়িয়ে আওড়ায়,
“সব পাগল-ছাগলের দেখা আমার সাথেই কেনো হতে হয়?”
—“এই যে মিস, নামটা তো…”
নিমরা শুনলা না।বরং সে চলে যেতেই সাদ ভারী শ্বাস ফেলে বলল,
“কি মেয়েরে বাবা! যাই হোক,মনে ধরেছে। পরেরবার দেখা পেলে,বিয়েটা সেরে ফেলব। পুরো আমার মনের মতো, মাধুমাক্ষী।”

বাড়ি ফিরেই সুহিন মাফিনকে ছাঁদের একটা শীতল-কোণে খাঁচা সহ রেখে এসেছে। সবসময় ঘরের মধ্যে থাকে বিধায়,মাঝেমধ্যে সে তাকে ছাঁদে খোলা আবহে রেখে আসে। যথারীতি সুহিন গোসল শেষে, ভেজা কাপড়গুলো ছাঁদে শুঁকিয়ে দেওয়ার নিয়তে উপরে চলে এলো।
তবে ছাঁদের দরজা পেরিয়ে, ভেতরে প্রবেশ মাত্রই তার হাত-পা থমকে যায়। ভেজা-সিক্ত শরীরে নীল-আকাশী রঙের কুর্তি অবাধ সৌন্দর্যে গায়ে মিশে আছে। হালকা ঢেউ খেলানো গাঢ় বাদামী রঙের ভিজে চুলগুলোও মুক্তভাবে কোমড় অব্দি ছড়িয়ে আছে। সুহিনের বিস্ময়ের মাঝে, তা হতে নিস্পৃহে ফোঁটা-ফোঁটা জলবিন্দু ঝড়ছে।
নেকড়ের মতো দেখতে এই সাদা-কালো কুকুরটা কোথায় থেকে ছাঁদে এসেছে তা সুহিনের জানা নেই। তবে কেকের এই টমি তার মাফিনের সাথে যা করছে,তাতে হৃৎস্পন্দন ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল।

খাঁচার ভেতরে থাকা মাফিন সুহিনের মতোই ভীত হয়ে ছোটাছুটি করছে। অন্যদিকে টমি শুধু পারছে না, খাঁচাটা ভেঙে মাফিনকে খাবলে খেতে। খাঁচার ভেতর থেকে মাফিনকে বের করতে,একপ্রকার হিংস্র-উন্মাদের ন্যায় যুদ্ধ চালাচ্ছে।
সুহিন ছোট থেকেই কুকুর নামক প্রাণীটাকে বেশ ভয় পায়। তার উপর টমিকে তার অনেক বেশি হিংস্র ও অদ্ভুত লাগে।নীল চোখ তারও আছে, অথচ টমির ঐ ফ্যাকাসে-নীলচে চোখ গায়ে শিহরণ জাগিয়ে দেওয়ার মতো।
সুহিন কিছুক্ষণের জন্য বুঝতে পারল না, সে আদতে কি করবে। তবে বেশিক্ষণ ভেবে-চিন্তে সময়ও নষ্ট করল না। হাত-থেকে কাপড়ের বালতিটা রেখে, সে ছুটে সেদিকে এগিয়ে গেল। টমিকে হাতের ইশারায় দূর হতে হুঁশ হুঁশ করতে গিয়ে দেখল—তার গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না। সে আরো বেশি ঘাবড়ে গেল। আশেপাশে ফিরে লাঠির খোঁজ করতে গিয়ে, অকস্মাৎ এক মানব অবয়বে সে চমকে উঠল।

ছাঁদের বাম পাশে রেলিং-এ ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেকে।একহাত প্যান্টে গুঁজে,অন্যহাতে সিগারেট—নির্বিকারে টেনে ধোঁয়া ওড়াচ্ছে। পরনে কালো টিশার্ট-প্যান্ট। কাঁধ অব্দি চুলগুলো হালকা ভেজা মনে হলো। যেন ভার্সিটি থেকে ফিরে সে নিজেও সদ্য গোসল সেরেছে। তবে তাকে এই পরিস্থিতিতে এমন নির্বিকারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে,সুহিন কিছুটা অবাক স্বরে বলল,
“আপনি এখানে?”

কেকে কোনো জবাব দেয়না। সে শান্ত ভঙ্গিতে গম্ভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে। সুহিন একবার মাফিন-টমিকে দেখে তো একবার কেকে-কে। সে নিরুপায় হয়ে, কেকের দিকে ফিরে খানিক ক্ষুব্ধ হয়ে,আর্তনাদের স্বরে আওড়াল,
“আপনি এভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে মজা নিচ্ছেন? আপনার কুকুরকে সরান প্লিজ। আমার মাফিন ভয় পাচ্ছে।”
সুহিন খেয়াল করে দেখে,কেকে এবারও নিরুদ্বেগ। মাঝেমধ্যে এনাকে দেখলে তার, পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে বাজে গালিগুলো শিখে নিয়ে বলতে ইচ্ছে করে। সুহিন কেকের উপর বিরক্ত হয়ে, রেগে নিজেই সাহস করে টমির দিকে এগিয়ে গেল। তাকে সরিয়ে দেওয়ার নিয়ত থাকলেও,সে কাছে যাওয়ামাত্রই সজোরে অদ্ভুত এক স্বরে হিংস্ররূপে ডেকে উঠতেই, সুহিন ভড়কে গিয়ে উল্টো পিছিয়ে আসে।এইমাত্র যেন জান-পাখি তার উড়ে গিয়ে পুনরায় ফিরে এলো।

সুহিন নিজের চশমাটা কোনমতে ঠিক করে নিয়ে, পেছনে ফিরে পুনরায় নিরুদ্বেগ কেকের উদ্দেশ্যে বলল,
“আপনি কি কিছু করবেন না? আমি কিন্তু সত্যি সত্যি আপনার কুকুরকে এখন…”
এই বলতে না বলতেই সুহিন থেমে গেল। তার ভয়ে পিছিয়ে আসাতে, কেকের ঠোঁটের কোণে তির্যক হাসি ফুটে ওঠেছে। এই পর্যায়ে তার গায়ে রাগ যেন আচমকাই তিরতির করে বেড়ে উঠল। সে আগেপিছে না ভেবে,সামনে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এবং আচমকাই নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলে টমির গায়ে ছুঁড়ে মা’রল। ওমনি হিতে বিপরীত হয়ে, টমি ভয়ংকরভাবে আক্রমনাত্মক হয়ে উঠল। এবং তৎক্ষনাৎ সুহিনের দিকে তেড়ে আসতে নিলেই,সুহিন উল্টো পায়েই দৌড় দিতে গিয়ে নিজের সম্পূর্ণ ভারসাম্য হাড়িয়ে পরতে নিল।
কিন্তু আচমকাই শক্ত-পোক্ত দুটো হাত তাকে আগলে ধরতেই,সেই বলিষ্ঠ বুকের সাথে তার পিঠ-মাথা ঠেকে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খেল। সুহিন নিজেকে সামলে নেবার আগেই, হিংস্র হয়ে তার দিকে এগিয়ে আসা টমিকে থামিয়ে দিতে—পেছন থেকে কেকে স্রেফ শিস বাজাল। আর ওমনি টমি সম্পূর্ণ শান্ত হয়ে, চুপচাপ কেকের চোখের ইশারা মতো দূরে সরে যায়।

এদিকে টমি যে মাফিন ও তার থেকে দূরে সরেছে—তা দেখে সুহিন আশ্বস্ত হলেও—নিজের পিঠের সাথে ঘেঁষে সটানভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কেকে, আচমকাই তার কানের কাছে চাপা স্বরে দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
“আবার কখনো আমার টমির সাথে অসভ্যতা করলে,তোর মাফিনকেও আমি চটকে দেবো।”
তার এহেন কথায় সুহিন অকস্মাৎ ঢোক গিলল। পেছনে ফিরে কেকের মুখটা দেখার আগেই, সে তৎক্ষনাৎ একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে,তাকে দূরে সরিয়ে দিলো। সুহিন সামনের দিকে ছিটকে গিয়ে, দ্রুত নিজেকে সামলায়। এবং আশেপাশে না তাকিয়ে, সোজা মাফিনের লণ্ডভণ্ড খাঁচার কাছে হাঁটু গেড়ে বসে—প্রচন্ড উদ্বিগ্নতার সহিত তাকে খাঁচা হতে বের করতে লাগল।
এরিমধ্যে পেছন হতে, একই ভাবগম্ভীর্যের সহিত বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকা কেকে—কপালে মৃদু ভাজ ফেলে,নিরেট কন্ঠে বলে উঠল,
“তুই কোথায় গিয়েছিলি?”

তার কথায়, সুহিন মুখ ফিরিয়ে পেছনে তাকায়। হাতে থাকা মাফিনকে নিজের কোলে আগলে নেয়।
—“আমি? আমি কখন… ”
সুহিন বুঝতে পারছে না, কেকে কোথায় যাবার কথা বলছে। সে তো গোসল করে এলো। এদিকে তার কথা শেষ হতে না হতেই,কেকে পুনরায় ভারিক্কি স্বরে আওড়াল,
“আজ ভার্সিটিতে না গিয়ে,কোথায় গিয়েছিলি?”
সুহিন তার কথায় তটস্থ হলো। বসা হয়ে দাঁড়িয়ে, নিজেকে স্বাভাবিক রাখল। চশমাটা নাকের ডগায় নেমে আসায়, তা কাঁধ দিয়ে ঠেলে ঠিক করে বলল,
“আ…আরহাম ভাই আর নিমরার সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম।”
—“কেনো?”
কেকের এহেন কথায় সুহিন ভড়কায়। লোকটা এভাবে কেনো কথা বলছে? সে খানিক ভ্রুকুটি করে,বেশ জোর দিয়েই বলল,
“ইচ্ছে হয়েছিল তাই।”
—“তর্ক করছিস?”
কেকের শান্ত গলায় বলা কথাটুকুও,অদ্ভুত হিংস্রাত্মক মনে হলো। সুহিন তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রেখে আবারও বলল,
“তর্ক কেনো করব। আমার ইচ্ছে হয়েছিল তাই…”

—“হানিইইইই….”
তার চাপা কন্ঠস্বরের ডাকে, সুহিন খানিক ভ্রুকুটি করে বলে,
“আপনি আমায় এই নামে ডাকবেন না।”
হঠাৎ তার এহেন অভিব্যাক্তিতে,কেকে কিঞ্চিৎ ভ্রু উঁচিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,
“কেনো? এটা কি তোর নাম নয়?”
—“আ…হ্যাঁ,আমারই নাম। কিন্তু আপনি ডাকবেন না।”,সুহিন ইতস্তত হয়ে বলে। কেকে পুনরায় তির্যক হেসে আওড়ায়,
“সরি,আই অ্যাম কম্ফর্টেবল উইথ দিস ওয়ান।”
সুহিন আর কথা বাড়াল না। এই লোক মাত্রাতিরিক্ত ঘাড়ত্যাড়া। যা নিষেধ করা হবে,কেকে ঠিক তাই করবে। এদিকে কেকেও থামল না। সে শক্ত গলায় আবারও জিজ্ঞেস করল,
“ভার্সিটি মিস দিয়ে, কেনো ঘুরতে গিয়েছিলি বল?”

—“কি আশ্চর্য, আমি কি করব না করব, তার কৈফিয়ত আপনাকে কেনো দেবো শুনি?”
—“তুই কিন্তু আবারও নিজের লিমিট ক্রস করছিস।”
সাহস করে দুই লাইন জোর গলায় কিছু বললে,পরক্ষণেই কেকের এমন শান্ত-হিং*স্রাত্মক ভাবভঙ্গিতে সে সম্পূর্ণ দমে যায়। সুহিন ভেবে নেয়,শুধু শুধু এনার সাথে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে পারলেই হলো।যথারীতি এবার সে স্বাভাবিক স্বরেই বলল,
“ওরা কাল বাড়িতে চলে যাবে। প্রায় অনেকদিন দেখা হবে না, তাই গিয়েছিলাম।”

সুহিন মাথা নুইয়ে কথাটা বলে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। কেকে হতে কোনো প্রত্যুত্তর না পেয়ে,সে মুখ তুলে তাকিয়ে দেখে সে একই ভাবগম্ভীর্য নিয়ে কিঞ্চিৎ ঘাড় বাঁকিয়ে তাকে দেখছে। সুহিন বুঝতে পারল না কি করবে। তবে অকস্মাৎ কেকে’কে খানিক অবাক করে দিয়ে,সে মাফিনের খাঁচাটা তুলে নিয়ে দৌড়ে ছুটে পালাল।
তার এহেন কান্ডে নিমিষেই কেকের ভাবগম্ভীর্য পরিবর্তন হয়। সে অন্তত এটা ভাবেনি যে,সুহিন এমন কিছু করবে। কেকে মুখ ফিরিয়ে টমির দিকে তাকিয়ে দেখে,সেও তাকে অদ্ভুত নজরে দেখছে। যেন তার মতো সেও সুহিনের কান্ডে আশ্চর্য!

কেকে ভারী শ্বাস ফেলল। এরিমধ্যে তার নজর পড়ল,সুহিনের ফেলে রেখে যাওয়া কাপড়ের বালতির দিকে। সে পুনরায় দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সেদিকে এগিয়ে যায়।বুকে হাত গুঁজে, বালতিতে পড়ে থাকা কাপড়গুলো খানিকক্ষণ চেয়ে চেয়ে দেখে। কি করবে তা নিয়ে ক্ষীণ দ্বিধায় ভুগছে।
তবে বেশি একটা সময় নষ্ট না করে, সে কাপড়গুলো একে একে তুলে নিয়ে ছাঁদেই মেলে দিতে লাগল। একইসাথে মনে মনে চাপা স্বরে আওড়াল,
“খুব শীঘ্রই তোর জন্য, বিশেষ এক ব্যবস্তা করতে হবে…গাধা একটা!”
এই বলতে না বলতেই,তার হঠাৎ মনে পড়ে গেল আজ থেকে অনেক বছর আগের একটি ঘটনা। স্বাভাবিক ভাবেই সেবার সুহিন ও তার মা কাহসান কুঞ্জে এলো। রাফায় আমিন আর শাহমীর কাহসান দুজনেই কাজের ক্ষেত্রে বিদেশে গিয়েছে। এদিকে সুহিনের মা মেহের যখনই এই বাড়িতে আসতো,তখনই বাড়িটাকে একদম নিজের ভেবেই সকল খোঁজ-খেয়াল রাখত।

যথারীতি সেবারও বাড়িতে আসামাত্রই তিনি মন-ধ্যান লাগিয়ে বাড়ির সকল কাজকর্ম করতেই দিন পার করে দেয়। এদিকে সুহিনের খেয়াল রাখা হলেও,সে কখনোই ভাবেনি কেকে আদতে তার মেয়ের সাথে সুযোগ বুঝে ঠিক কি করে। কেননা কেকে-কে বাকিদের মতো সে-ও তেমনভাবেই জানত—যেমনটা কেকে নিজেকে বাকিদের সামনে উপস্থাপন করত। বাড়িতে কেউ এলে,কেকের নাম-নিশানও ঠিকমতো পেতো না। ঘরের কোন অন্ধকার কোণে নিজের দুনিয়ায় ঘাপটি মেরে বসে থাকত—কে জানে।

অথচ সেদিন,নিজের তথাকথিত নিয়মেই দিনের বেলাতেও, কেকে নিজের ঘর অন্ধকার বানিয়ে বসে বসে সিগারেট টানছিল। রুমের দরজাটা অবশ্য খোলাই ছিল। এদিকে কোথাও তেমন খেলার সঙ্গী না পেয়ে,সুহিন সবসময় নিজের মাঝেই গুটিয়ে থাকত। বিশেষ ভাবে কারো সাথে কথাবার্তা বলার প্রয়োজন পড়ত না তার।
সুহিন কাহসান কুঞ্জে আসার সময় সাথে করে নিজের টেডিটাও নিয়ে আসতো। মাঝারি আকৃতির টেডিটাকে বেশিরভাগ সময় নিজের বুকেই জড়িয়ে,ছোট্ট সুহিন এদিক-সেদিক একা একাই ঘুরঘুর করতো। মায়ের কাছে গিয়ে তাকে কাজে বি’রক্ত করার মেয়ে সে ছিল না।

যথারীতি সুহিন নিজের টেডিটাকে বুকে জড়িয়ে এবং মুখে ব্লু-বেরি ফ্লেভারের ললিপপ নিয়ে করিডোর পার হচ্ছিল। তবে অকস্মাৎ একটি রুমের সামনে এসে তার পা-জোড়া থেমে যায়। হুট করেই কে যেন শিস বাজিয়ে ওঠে। সে পাশে মুখ ফিরিয়ে দেখে, অন্ধকার ঘরের সোফায়, মৃদু আলোয় মানব অবয়ব রূপে কেকে বসে রয়েছে। যদিও তার থেকে বেশ দূরে। তাই সে ভাবল,এখান থেকে দ্রুত পালানই উত্তম।
এইভাবনায় সামনে ফিরে চলে যাবে,ঠিক সেই মূহুর্তে কেকে ভারিক্কি স্বরে বলে ওঠে,
“হেই ইউ চশমিশ!…কাম হিয়ার বেইবি।”
সুহিন ঢোক গিলে নিজেকে থামাল। আধারের মাঝেও, কেকের অবয়ব তার কাছে নিছকই ভয়ানক ঠেকল। জানালা পর্দা লাগিয়ে কেমন ভূতুড়ে আস্তানা বানিয়ে রেখেছে।
তবুও সুহিন আর কেকের কথা অমান্য করতে পারল না। যদি এরজন্য পরে কঠিন শাস্তি দেয়? এই ভাবনায় সে আলতোপায়ে ঘরের ভেতর এগিয়ে যায়। কেকে সিগারেট খাচ্ছে আর ধোঁয়া ওড়াচ্ছে। বন্ধ রুমটায় কেমন বিদঘুটে গন্ধ ছড়িয়ে আছে। ফলে সুহিন নিমিষেই খুশখুশ করে কাশতে শুরু করল।
যা দেখে কেকের ভ্রু-জোড়া কিঞ্চিৎ কুঁচকে যায়। সে কি যেন ভেবে, পেছনের জানালা হতে পর্দাটা সরিয়ে জানালা খুলে দেয়। তাতে চারপাশে বেশখানিকটা আলো ছড়াতেই, ছোট্ট সুহিন নিজেকে তটস্থ করে কেকের দিকে আরো বেশ খানিকটা এগিয়ে গেল।

—“কাছিফ বাইয়া, দাকছিলে?”
মুখে ললিপপ নিয়ে সুহিন কি বলল কে জানে। কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে তার মুখে নিজের নামটার এমন দশা হতে দেখে,কেকের মেজাজ এক নিমিষেই বিগড়ে গেল। সে হাত থেকে সিগারেটটা ফেলে দিয়ে, আচমকা সুহিনের মুখ থেকে ললিপপ টেনে বের করল। এবং আশ্চর্যজনক ভাবে তা একবার ভ্রুকুটি করে দেখে নিয়ে, নিজের মুখে পুড়ে দিয়ে বলল,
“কি খাস এসব?…হোয়াট এভার, এখন ঠিক করে কথা বল।”
তার এহেন কান্ডে সুহিনের কান্না পেয়ে গেল। তবে সে একটুও কাঁদল না। সে ভালো করেই জানে,এই মূহুর্তে তাকে কাঁদতে দেখলে কেকে সোজা তার গালে চ*ড় বসিয়ে দেবে। এর আগেও সে এভাবে কয়েকবার মার খেয়েছে। কেউ জিজ্ঞেস করলে,কেকের সাজিয়ে দেওয়া কথা অনুযায়ী বলেছে—গালে মশা বসেছিল,তাই কেকে ভুল করে তার গালে থাপ্পড় মে’রে দিয়েছে। কেননা, এইটুকু মিথ্যে না বললে,পরেরবার আবার মা’র খেতে হতো। যে কারণে,এই কেকে-কে সে তখন থেকেই জমের মতো ভয় পায়।

—“কি হলো, কিছু বলছিস না কেন?”
সুহিন ঠোঁট চেপে কান্না থামিয়ে চুপটি করে দাঁড়িয়ে ছিল। তবে এটা বুঝতে পারছে না, সে আদতে বলবেটা কি? তাকে তো কেকেই ডেকে আনল,সে তো আর নিজে থেকে কিছু বলার জন্য আসেনি।
সুহিন বোকার মতো,নিজের ললিপপ মুখে নিয়ে বসে থাকা কেকের দিকে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকার পর বলল,
“আমি তো কিছু করিনি ভাইয়া…তুমি বিশ্বাস করো…”
সুহিনের কথা শেষ হতে না হতেই,কেকে ভ্রুকুটি করে সন্দিহান স্বরে বলল,
“ঐ এক সেকেন্ড,তুই আমাকে তুমি বলিস কোন সাহসে?”
তার এহেন কথায় সুহিন ভড়কে গেল। না জানি,আজ কিসব দোষ দিয়ে তাকে দুটো চড় মে’রে বসে। এদিকে কেকে নিজের মতো আবারও বলে উঠল,

“কথা বলিস না কেন? সেদিনও না বলেছি,আমাকে ‘আপনি’ বলে ডাকবি। জানিস এলাকার পোলাপান আমায় আব্বা ডাকে। সেখানে তোর মতো পুচকি…সাহস কত বড়!”
এই বলতে না বলতেই, সে ভারী শ্বাস ফেলে সোফায় গা এলিয়ে দেয়। সুহিন ছোট বিধায়,তখনও এটা বুঝতো না যে—এসব কেকের মাত্রাতিরিক্ত নেশা করার ফল। যার ফলে বেশিরভাগ সময়ই সে এমনই কার্যকলাপ গুলো করতো। আর তাকে আশেপাশেই পেলেই,বি’রক্ত করে মজা পেতো।
কেকে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে, ললিপপের অবশিষ্ট স্টিকটুকু চিবোতে চিবোতে আওড়াল,
“ব্লু-বেরি, তুই গান গাইতে পারিস?”
—“না।”

সুহিনের স্বাভাবিক উত্তর শুনে, কেকে পুনরায় বসে পড়ে। ইদানীং তার দিনের বেলায় বাড়ির বাহিরেও যেতে ইচ্ছে করেনা। তবে রাতে যায়। কোথায় কোন আস্তানায় সারারাত পড়ে থাকে কেউই খোঁজ নেয়না। তবে দিনের বেলায় আলো থাকায়, বাড়িতেই অন্ধকার বানিয়ে ঘরের কোণে পড়ে থাকে। কিন্তু সারাদিন তো বেকারও বসে থাকা যায় না। যে কারণে এই নেশা করে উম্মাদ হওয়া ছাড়া সে তেমন কিছু আর খুঁজেও পায়না। মাঝেমধ্যে সুহিন এলে এসব উল্টোপাল্টা প্রশ্ন করেই টাইমপাস করে।
—“কেন পারিস না?”
সুহিন পুনরায় চুপসে গেল। এখন কি গান না পাড়ার জন্য মা’রবে?
কেকে পুনরায় ক্ষুব্ধ স্বরে বলে উঠল,
“গাধা একটা! কিচ্ছু পারিস না।”

—“আমি তো গাধা নই। মেয়েরা গাধী হয়। তাই আমি গাধী। আর তুমি হলে গাধা!”
উম্মাদ মেজাজ যা একটু ঠিক ছিল,তা যেন সুহিনের সহজ স্বীকারোক্তিতেও উগড়ে এলো। অথচ সুহিন তখনও বুঝতে পারেনি,সে কি বলতে চেয়ে কি বলে ফেলেছে। কিন্তু কেকের হুট করেই চোয়াল শক্ত করে, চাহুনিতে হিংস্রতা মেশাতেই—সুহিনের কাছে বিষয়টা খানিক বোধগম্য হলো। যথারীতি সে আলগোছে কয়েকপা পিছিয়ে, কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে উঠল,
“সরি ভাইয়া,আমি বুঝতে পারি…”
সুহিন তার নিজের কথাও শেষ করল না। বরং কোনমতে নিজের সাথে জড়িয়ে রাখা টেডিটাকে শক্তকরে আঁকড়ে ধরে,আশেপাশে না তাকিয়েই যেভাবেই পারল দৌড়ে কেকের ঘর ছাড়ল।
এদিকে সে চলে যেতেই, কেকে চোখ-মুখ কুঁচকে মুখ থেকে ললিপপের চাবানো স্টিকটা ছুঁড়ে ফেলে,দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ায়,
“কিসব ঘোড়ারডিম খায়। আরেকবার তোকে পাই শুধু,তোর আর তোর টেডিকে সুদ্ধ চটকে দিয়ে পঁচা পানিতে চুবিয়ে ছাড়ব।”

Naar e Ishq part 9

ঘটনাগুলো মনে মনে করতে করতে,কেকে নিজের খেয়ালে বেশ নিগূঢ়ভাবেই হারিয়েছিল। তবে হঠাৎ পানিতে চুবানোর বিষয়টায়,সে অজান্তেই থমকে গেল। আরো কি যেন সব ভাবতে ভাবতেই, সে নিস্পৃহে দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। সুহিনের মেলে দেওয়ার কাপড়গুলোর দিকে চেয়ে,কি যেন ভাবতে ভাবতেই—দৃঢ় কন্ঠে আওড়াল,
“ব্লু-বেরি,আমি এমন কিছু করতে চলেছি যা সম্ভবত তুই কখনোই চাইবি না। কিন্তু আমি তার জন্য মোটেও অনুতপ্ত নই।”

Naar e Ishq part 11