Home শান্তি সমাবেশ শান্তি সমাবেশ পর্ব ২৫+২৬

শান্তি সমাবেশ পর্ব ২৫+২৬

শান্তি সমাবেশ পর্ব ২৫+২৬
সাইয়্যারা খান

পূর্ণ বেশ অবাক হলো নতুন ভাবে মৃত্তিকা’কে দেখে। সে আগেই জানত মৃত্তিকা ওর বাবা’র অনেকটা ক্লোজ তাই বলে এতটা পাগল ধারণা ছিলো না। খাওয়া দাওয়া শেষ করে যখন পূর্ণ যাওয়ার নাম নিলো তখন বেঁকে বসেছে মৃত্তিকা। পূর্ণ চোখের ইশারায় বুঝাতে চাইলেও বুঝে না মৃত্তিকা। বুঝতে চায় না মূলত তাই তো পূর্ণ’র চোখের দিকে তাকালোই না। এদিকে অসহায়, অস্থির পূর্ণ। বউ ছাড়া সে থাকতে পারবে না। দেখা গেলো বউয়ের শোকে নির্বাচনের আগেই না পাগল হয়ে গেল। মৃত্তিকা ওর বাবা’কে ছাড়েই নি আসার পর থেকে। দুইটি রাত একটা দিন মোটেও কম কথা নয়। মৃন্ময় হাওলাদার নিজেও নিজেকে সামলাতে পারছেন না৷ পূর্ণ’র দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললেন,

— আজ থাকুক আমার কাছে। থেকে যাও।
কথাটা শুনেই মৃত্তিকা’র ঠোঁটে হাসি ফুটলো। পূর্ণ লক্ষ্য করলো সেই হাসি। না চাইতেও সায় দিলো,
— আমার একটু কাজ আছে আব্বু। এখন বের হব।
— রাতে সোজা এখানে এসে পরো কিন্তু নাহলে এই পাগল যাবে না।
কথাটা একটু ধীর স্বরেই বললেন তিনি। পূর্ণ খুবই সুক্ষ্ম হাসি দিয়ে বললো,
— উনি বাধ্য আমার কাছে আসতে। একদিন না পেলে নিজেই ছটফট করবে।
মৃন্ময় হাওলাদার জানেন একথা। পূর্ণ’র পিঠ চাপড়ে ভরসা দিলেন। একপলক মৃত্তিকা’র পানে তাকিয়ে চলে গেল পূর্ণ। তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ আছে।
এদিকে মৃত্তিকা যেন হাতে চাঁদ পেয়ে বসলো। বাবা’র গলা জড়িয়ে ই প্রথম আবদার,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

— আজকে অফিস যাবে না।
— যথা হুকুম রাণী সাহেবা।
— আমি তো রাজকন্যা।
— আগে ছিলেন এখন আপনি রাণী আম্মা। গোটা রাজ্যের রাণী আপনি।
অবুঝ চোখে কিছুক্ষণ তাকালো মৃত্তিকা। পরপর মাথা রাখলো বাবা’র হাঁটুর উপর। গল্প জুড়লো নিজের শশুর বাড়ী নিয়ে। মৃন্ময় হাওলাদার শুনলেন মেয়ের সকল কথা। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে মিঠি’র মা গরম তেলের বাটি নিয়ে হাজির৷ ঘুমন্ত মেয়ের চুলে সুন্দর করে তেল দিলেন মৃন্ময় হাওলাদার। না জানি সুযোগটা আসে আবার।

নির্বাচন অতি নিকট। আজ পূর্ণ’কে দল থেকে ডাকা হয়েছে। বর্তমান সময়ের গরম গরম বেশ খবর তাকে নিয়ে। অল্প বয়সী তরুণ তরুণীদের মাঝে বেশ রেশ তাকে নিয়ে এমনকি প্রবীণ’রা ও অনেকেই তার পক্ষে। এমন যুবই তাদের দরকার। এই বয়সী ছেলে-মেয়ে’রা থাকে দামাল। তাদের নখদর্পনে থাকে ভীতিহীনতা। দেশে ও এর জণগণের জন্য তো এমনি নেতা দরকার।

তাছাড়া পূর্ণ’র পক্ষ নিয়ে এবার কথা উঠেছে দলের মধ্যে। মন্ত্রী’রা যেখানে তাকে নিয়ে কথা তুলেছে সেখানে আর অবকাশ রইলো না পূর্ণ’কে নিয়ে। এবার নির্বাচনে তাকে দলের হয়ে দাঁড়া করাতে ইচ্ছুক তারা। কিন্তু সমস্যা হলো পূর্ণ নিজে। নিজের দল ছেড়ে সে কোন মতেই অন্য দলের প্রতিনিধিত্ব করতে চায় না। তার এককথা, “গাছ যতই বড় হোক না কেন নিজের শিকড় ভুলে না”। পূর্ণ ও ছাত্র রাজনীতি ছাড়তে নারাজ। যেই রাজনীতি ধরে আজ এতদূর কোনমতেই সেটা সে ছাড়বে না। এর আগে যখন তাকে ডাকা হলো এটাই ছিলো তার কথা। যথেষ্ট বিচক্ষণতার সাথে উত্তর দিয়েছে সে।
এই দফা মিটিং এ এই বিষয়েই কথা উঠলো। এমপি পদ’টা পূর্ণ চায়। মন্ত্রী শাজাহান খান বেশ বিচক্ষণ পুরুষ। আজকে ডেকেছেন পূর্ণ’কে। এই ছেলেকে দিয়ে দলের লাভ বৈ ক্ষতি হবে না।
পূর্ণ যথাসময়ে উপস্থিত হলো। সভার এক পর্যায়ে শাজাহান খান বললেন,

— প্রস্তাবটা তাহলে গ্রহণ করলে না।
মৃদু হাসলো হয়তো পূর্ণ। বাচনকৌশলে জানালো,
— সেটা তো আগের বার জানালাম আঙ্কেল।
মাঝেমধ্য অবাক হন শাজাহান খান। ছেলেটা বয়স অনুযায়ী যথেষ্ট গম্ভীর। কন্ঠে যেন তেজ সর্বদা ঠালা থাকে৷ অল্প হেসে প্রস্তাব দিলেন,
— আমি তোমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করলাম পূর্ণ। আশা করি আমার সিদ্ধান্ত ফেলে দিবে না। আমি চাইছি তুমি আমাদের দলের হয়ে এবারের এমপি নির্বাচনে দাঁড়াও। আর হ্যাঁ অবশ্যই তুমি পূর্বে যেখানে ছাত্র রাজনীতি করেছো সেটা বহাল থাকবে। তুমি তোমার দলের উন্নয়ন করো। আমার কিংবা দলের তাতে সমস্যা নেই।
পূর্ণ মনে মনে হাসলো। মাথা তুলে গম্ভীর কণ্ঠেই জানালো,
— আমিও আপনার মতামতকে সম্মান করলাম আঙ্কেল। আশা করি ভালো হবে পথ চলা।
শাজাহান খান’কে বেশ উৎফুল্ল লাগলো। তিনি বেশ ভালো করেই জানেন পূর্ণ’কে দিয়ে তাদের দল আগাতে উদ্যম গতিতে। ছেলেটা যথেষ্ট কাজের কি না।
নির্বাচন যেহেতু সামনে তাই বেশ জোড়সড় করেই এখন থেকে কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে দলের। পূর্ণ’র সাথে জরুরি কিছু বিষয়ে কথা বলে সভা ত্যাগ করলেন তারা।

বাসায় যেতে নিতেই পূর্ণ’র মনে পরলো বউ তো বাসায় নেই। ফোনটা হাতে নিয়ে মা’কে জানিয়ে সোজা রওনা দিলো শশুর বাড়ী। বউ ছাড়া থাকা সম্ভব না তার৷ একদমই না।
রাত প্রায় দশটার দিকে শশুর বাড়ী পৌছালো পূর্ণ। দরজা খুলেই হাসি মুখে সালাম জানালো মিঠি। পূর্ণ উত্তর দিয়েই ভেতরে ঢুকলো। ড্রয়িং রুম একদমই ফাঁকা। মিঠি ততক্ষণে দৌড়ে রুমে ঢুকে মৃন্ময় হাওলাদারকে খবর জানিয়েছে যে পূর্ণ ভাই এসেছে। ঘুমন্ত মেয়ের কপালে চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়ালেন মৃন্ময় হাওলাদার। পা বাড়ালেন বাইরের দিকে।
পূর্ণ’র বরাবর সামনে বসা মৃন্ময় হাওলাদার। শুরুতেই পূর্ণ জানালো,

— শাজাহান খানের সাথে মিটিং ছিলো। প্রস্তাব দিয়েছে এবারের এমপি পদের জন্য।
মৃন্ময় হাওলাদার ঠান্ডা স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,
— রাজি হওয়াটা তোমার রাজনীতিক ক্যারিয়ার গঠনের মূল মই।
— মই আজ দাঁড় করালাম আব্বু।
হাসলেন মৃন্ময় হাওলাদার। ছেলেটার বুদ্ধি প্রশংসনীয়।
পূর্ণ’র সাথে বেশ আলাপ আলোচনা হলো রাজনীতি নিয়ে। এরমধ্য অবশ্য মিঠি’র মা তাদের হালকা নাস্তা ও দিয়েছেন।
বেশ সময় পর মৃন্ময় হাওলাদার পূর্ণ’কে বললেন,

— আম্মার খেয়াল তুমি রাখবে পূর্ণ সেটা আমার জানা। তবুও বলছি। জানোই তো এত তারাতাড়ি কেন তোমার কাছে দিলাম। আশা করি তার অযত্ন হবে না।আমার দেয়া আমানত উনি পূর্ণ। খেয়ানত করো না।
বেশ সরস গলায় পূর্ণ জানালো,
— আপনার আমানত এখন আমার আব্বু। খেয়ানতের প্রশ্ন কেন উঠছে?
মৃদু হাসলেন মৃন্ময় হাওলাদার। তিনি জানেন পূর্ণ কথা রাখবে। হালকা স্বরে বললেন,
— অনেকক্ষণ হলো এসেছো। আম্মার রুমে যাও। ফ্রেশ হও।
— মৃত্ত কোথায়?
— আমার কাছেই ছিলো। ঘুমিয়ে আছে।
পূর্ণ উঠে দাঁড়ালো। উদ্দেশ্যে ফ্রেশ হওয়া।
পূর্ণ’র যাওয়ার পানে তাকিয়ে শুকরিয়া আদায় করলেন মৃন্ময় হাওলাদার। তার কলিজার টুকরো সঠিক হাতে আছেন এটা তিনি জানেন।

ফোনের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো মৃত্তিকা’র। উজ্জ্বল নামটা জ্বলজ্বল করে উঠছে। হাত বাড়িয়ে সেটা নিয়ে কানে ধরতেই চটপটে গলার স্বরে কানে বাজলো,
— কিরে তোর খবর কি বিয়াইত্তা মাইয়া? তুই তো মাম্মা আমাবস্যা’র চাঁদ হইলা গেলি মনু। জামাই বউ মিল্লা যে ভার্সিটি ত্যাগ করলি একসাথে বিয়া করে কোন খবর রাখস কি হয় এদিকে।
একদমে এতকথা বলে দম নিলো উজ্জ্বল। মৃত্তিকা হঠাৎ এত কথা শুনে একটু চমকালো। সবে দুই দিন ও ভার্সিটি যাচ্ছে না। ঘুম জড়ানো কন্ঠেই জিজ্ঞেস করলো,
— কি হয়েছে উজ্জ্বল? তুই কি হিমু’র সাথে ঝগরা করে আমাকে ঝারছিস?
দমলো উজ্জ্বল তবে বেশি না। মূলত ঐ রুপা’কে নিয়েই তাদের মাঝে ঝগরা লেগেছে আবার। হিমু’র উপর আপাতত বেজায় চড়ে আছে উজ্জ্বল। ঠিক কতটা ছেঁচড়া হলে একটা ছেলে এমন আচরণ করে? এত লাঞ্ছনা, বঞ্চনা কিছুই যেন গায়ে মাখে না। ঐ রুপা ও আবার এক কাঠি উপরে। ইদানিং মিষ্টি মিষ্টি মুখে হিমু’কে দিয়ে কাজ হাসিল করে নিচ্ছে। এটা নিয়েই মূলত ঝগরাটা লেগেছে।
উজ্জ্বল বিরস মুখে জানালো,

— সামনের মাস থেকে ফাইনাল শুরু। গ্রুপে দেখস নি?
— দেখেছি। আমি তো আজকে বাসায় এলাম। আগামী কাল আসব ভার্সিটিতে।
— আগে জামাই এর সেবা কর। কালকে যেই মারামারি করলো পূর্ণ ভাই…..
কথাটা শেষ করতে না করতেই মৃত্তিকা ছটফটিয়ে উঠলো। উদিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— কার সাথে লেগেছিলো?
— সাফারাত মির্জা।
— সাফারাত মির্জা?
— হ্যাঁ। আরে ঐ নেতা শোয়েব মির্জা’র পোলা।
মৃত্তিকা চিনলো না। তবে সাফারাত নামটা চেনা লাগলো তার নিকট। শুধু জিজ্ঞেস করলো,
— কারণ জানিস উজ্জ্বল?
— উউউ না রে। তা তো জানি না। ক্যান ভাই বলে নাই?
মৃত্তিকা চমকালো। তবুও বললো,
— আমি আসলে জিজ্ঞেস ই করি নি।
টুকটাক কথা বলে ফোন রাখলো মৃত্তিকা। ওয়াসরুমে ঢুকে মুখে পানি দিয়ে বের হলো রুম থেকে। ড্রয়িং রুমে যেতে যেতে ডাকতে লাগলো,

— বাবা? বাবা….
কথা আটকালো সামনে তাকিয়ে। পূর্ণ’র ভেজা কপালে থাকা ছোট্ট পট্টি’টা মৃন্ময় হাওলাদার খুলে চেঞ্জ করয়ে দিচ্ছেন। মৃত্তিকা’র ডাকে দুইজনই এদিকে তাকালো। পূর্ণ একটু বেশিই গভীর ভাবে তাকালো। শাড়ী নেই পরণে তার মৃত্ত’র। ঢোলা টিশার্ট সাথে নরম কাপড়ের ফুলের ছাপা’র প্যান্ট। কোঁকড়ানো চুলগুলোতে বেণী করা। এই তো শ্যামা মৃত্ত। মৃন্ময় হাওলাদার না থাকলে নিশ্চিত কান্ড ঘটাতো পূর্ণ। এতটুকু ভরসা ওর নিজের উপর আছে। বউ দেখলেই মন চায় আদর করতে। একদম নিজের কোলে বসিয়ে রাখতে।
মৃন্ময় হাওলাদার হাসি মুখে জিজ্ঞেস করলেন,

— ঘুম ভেঙেছে আম্মা?
— আমি কখন ঘুমালাম আব্বু? ডাকলে না কেন?
কথা বলতে বলতেই এগিয়ে এলো বাবা’র নিকট। তখনই মিঠি হলুদ রঙের দুধ সামনে রেখে বললো,
— মামা এই যে দুধ।
মৃন্ময় হাওলাদার সেটা পূর্ণ’র হাতে দিয়ে বললো,
— খেয়ে নাও এটা। ডিনার শেষে মেডিসিন নিবে পূর্ণ।
মৃত্তিকা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে না বুঝে জিজ্ঞেস করলো,
— কিসের মেডিসিন?
মিঠি ফটর ফটর করে বললো,

— দুলাভাই এর তো জ্বর জ্বর আপা সাথে মাথা ব্যাথা। তাই মামা ঔষধ আনালো।
ওর কথা শুনে মৃত্তিকা’র কেমন লাগলো। বাবা খেতে তাড়া দিতেই আর ভাবা হলো না।
খাওয়া শেষে মৃত্তিকা’কে নিজের কাছে ডাকলো মৃন্ময় হাওলাদার। মৃত্তিকা যেতেই উনি দুই হাত নিজের মুঠোয় নিলেন। মৃত্তিকা হাসলো। জানে বাবা কিছু বলবে এখন। হাসি মুখেই বললো,
— কি বলবে আব্বু।
— আম্মা। আমি যেটা বলব আমি জানি আমার আম্মা সেটা বুঝবে।
— কি?
কিছুটা কৌতুহল মৃত্তিকা’র কন্ঠে। মৃন্ময় হাওলাদার মেয়েকে কাছে টানলেন। বললেন,

— আপনি যেমন পূর্ণ’র দায়িত্ব ঠিক তেমনই পূর্ণ ও আপনার দায়িত্ব আম্মা। তিনি যেমন আপনার খেয়াল রাখেন আপনিও তেমন তার খেয়াল রাখবেন। এটাই নিয়ে। ব্যালেন্স করে চলা জানতে হবে আম্মা। এই যে পূর্ণ অসুস্থ আপনার উচিত ছিলো তার সাহায্য করা। তার কাছে থেকে তার ব্যাথা বুঝা। দূরে থাকলেই দূরত্ব বাড়বে আম্মা। কাছে থেকে জানার চেষ্টা করুন। আগ্রহ প্রকাশ করুন। এখনই সময় তাকে বুঝে নেয়ার আম্মা।
বাবা তার আম্মা থেকে আশা রাখছে তার আম্মা এরপর থেকে আর অবহেলা করবে না।
টলমলে চোখে বাবা’কে দেখলো মৃত্তিকা। মৃন্ময় হাওলাদার জানেন তার নরম মনা মেয়েকে। কপালে চুমু খেয়ে বললেন,

— আমার আম্মা বুঝবে আমি জানতাম।
মৃত্তিকা উঠে রুমে হাটা দিলো। অনুশোচনায় দগ্ধ তার তনু মন। সে কি পূর্ণ’কে এতটাই অবহেলা করলো?
এদিকে রুমে বসে ছটফট করে যাচ্ছে পূর্ণ। শশুড় বাড়ীতেও কি না বউ নেই তার। এটা কেমন কথা। ঠিক সময় মতো বাবা’র কল এলো। বাবা কি করছে জিজ্ঞেস করতেই পূর্ণ গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
— এসব কেমন কথা আব্বু? শশুর বাড়ী আমি আর এদিকে বউ নেই আমার। কেমন লাগে বলো? তুমি তো আছো বউ নিয়ে শান্তিতে। যত অশান্তি আমার। এখনই তোমার বেয়াইকে কল কর। বলো আমাকে আমার বউ দিতে। শরীর ম্যাচম্যাচ করে আমার বউহীনা।
পূর্ণ’র বাবা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললেন,

— তোর মা সব শুনেছে। লাউডে ছিলো। এখন চোখ রাঙাচ্ছে আমাকে। আমি নাকি তোর মুখের লাগাম খুলেছি। শান্তিহীনা আমি আছি রে বাপ।
দরজায় মৃত্তিকা’কে দেখতেই পূর্ণ বললো,
— বউ এসেছে আমার আব্বু। সংসার বড় করতে হবে আমার। রাখি এখন। তুমি তোমার বউ এর মন ঠিক করো। উপদেশ আমার তরফ থেকে, দুটো চুমু খাও।
কথাটা বলেই কল কাটলো। তখনই কেউ ঝাপ্টে তার বুকে আছড়ে পড়লো।

পূর্ণ চমকালো। চমকানোটা বাড়লো মৃত্তিকা’র চোখে পানি দেখে। হঠাৎ এভাবে মন খারাপের কারণ খুঁজে পেলো না। উঁচু করে নিজের সাথে মেশালো। একদম বুক বরাবর তুলে নিলো। টুপ করে নাকে চুমু বসিয়ে বেডে বসলো। মৃত্তিকা তাকালো পূর্ণ’র দিকে কিন্তু চোখে চোখ রাখলো না। আলতো হাতে কপালের ব্যান্ডেজটা ছুঁয়ে দিতেই পূর্ণ ওর হাত ধরলো। হাতে ঠোঁট বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করলো,
— চোখের পানি’র কারণ টা কি আমি?
মৃত্তিকা’র টলমল করা চোখটা বন্ধ হলো তাতেই গড়িয়ে পরলো অশ্রু কণা। নাক টেনে মাথা নিচু করে বললো,

— আমি আপনার খেয়াল রাখি নি।
— আমি সুযোগ ই দেই নি মৃত্ত।
— আমার কিছু করা উচিত ছিলো।
— করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করতে দেই নি আপনাকে আমি।
— আপনি….
— হুস। আর না কথা। আফসোস করে কাজ নেই মৃত্ত। আমার আদরের শত্রু না হয়ে যায় আপনার এই আফসোস।
মৃত্তিকা একপলক তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলো। পূর্ণ বুঝে তার পূর্ণ্যময়ী’র আকুলতা। সেটাকে প্রাধান্য দিয়েই মৃত্তিকা’কে বেডে বসিয়ে মাথা রাখে সোজা তার কোলে৷ আলস ভঙ্গিতে বলে,

— নিন চুল টেনে দিন।
–কেন?
— কেন আবার? আমার সেবা করতে।
মৃত্তিকা ততক্ষণে চুলে হাত দিয়েছে। বেশ সিল্কি পূর্ণ’র চুল। মৃত্তিকা যেন নিজেই আরাম পেলো। ধীরে ধীরে তার অনুশোচনা কমলো। কিছুটা ঘোরের মাঝেই প্রকাশ করতে লাগলো নিজেকে,
— আব্বু’কে ও এভাবে দেই আমি। তার অনেক ভালোলাগে। কিন্তু আব্বু যখন আমাকে বিলি কেটে দেয় তখন বেশি ভালোলাগে। একদম ঘুম চলে আসে।
মৃত্তিকা’র কথা দ্বারা ই প্রকাশ পায় কতটা বাবা পাগল সে। তার কথা শুরু এবং শেষ দুটোই তার বাবা’তে সমাপ্ত হয়। পূর্ণ চুলের ভাজে থাকা মৃত্তিকা’র হাতদুটো ধরলো। স্থান দিলো তাদের নিজের গালে। মৃত্তিকা মৃদু শব্দে জানালো,
— গাল তো গরম লাগছে। জ্বর আছে এখনও।
— মেডিসিন নিলাম তো। এখন আপনি নামক মেডিসিন দরকার আমার।

মৃন্ময় হাওলাদার বারান্দায় দাঁড়িয়ে। খোলা আকাশের পানে তার সূচালো তীক্ষ্ণ নজর। জোয়ান ভাবটা এখনও বিদ্যমান তার দেহে। সুপুরুষ বুঝি একেই বলে। চুলে পাক ধরে নি, না ধরেছে মুখে থাকা চাপ দাঁড়িতে। না পেট বেড়েছে, না চামড়া ঝুলেছে। নিজেকে যথেষ্ট পরিপাটি এবং ফিট রাখেন তিনি। এর পেছনে অবশ্য কারণ ও আছে। হাল তো ছেড়ে দিয়েছিলেন নিজের যত্নের সেই কবেই। কার জন্য নিজেকে গুছিয়ে রাখবে? দেখার সেই প্রেয়সী কি আছে? সে তো সুদূরপ্রসারী। শুধু মাত্র তার জীবনের অতিব গুরুত্বপূর্ন একটা অধ্যায় যাকে ছাড়া মৃন্ময় হাওলাদার অসম্পূর্ণ। যাকে বিহীন তার কাহিনি অসম্পূর্ণ। কানে যেন আজও সেই চিকন শ্যামকণ্যা’র গলার সুরটা বাড়ি খায় যখনই সে ডেকে উঠতো,”মৃন্ময়”।

একমুহূর্তের জন্য চমকালেন মৃন্ময় হাওলাদার। মনে হলো এই তো ডাকলো তার প্রেয়সী। আজ যেন সেই “মৃন্ময়” ডাকটা বুকে বিঁধে তার। গলার কাটা এই “মৃন্ময়” ডাক। বুকে বিঁধানো সূল এই “মৃন্ময়” ডাক।
প্রেয়সীর জন্য নিজের হাল ছেড়ে দিলেও ধরে রেখেছেন তার আরেক শ্যামকণ্যার জন্য। যে ছোট্ট কন্ঠে বলতো, ” মাই বাবা এভারগ্রীণ”। আনমনে হাসেন মৃন্ময় হাওলাদার। জীবনটা আজ ভিন্ন হলে ক্ষতি হতো বুঝি?
হঠাৎ দরজায় নক হওয়াতে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। মিঠি দাঁড়িয়ে বাইরে। ফিনফিনে শরীরে এমন ভাবে ওরণা জড়িয়েছে যেন চাদর জড়ানো। কফি হাতে অনুমতি চাইলো,

— মামা আসব?
— আয়।
পা টিপে টিপে কাছে এসে এক কাপ এগিয়ে দিয়ে নিজের টা ধরতে বললো। মৃন্ময় হাওলাদার নিতেই মিঠি রুমে গিয়ে ফেরত এলো চাদর নিয়ে। পেছন থেকে তার গায়ে দিয়ে বললো,
— ঠান্ডা কত। চাদর ছাড়া কিভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন?
— জানতাম আমাদের মিঠি আসবে। তোর আপা তো তোর ভরসায় ই আমাকে রেখে গিয়েছে।

দীর্ঘ শ্বাস ফেললো মিঠি। সম্মুখে দাঁড়ানো এই সুদর্শন পুরুষটাকে ভালোবাসে সে। ছোট থেকে বাবা’র আদর না পেলেও পেয়েছে এই পুরুষটার আদর। পরিবারহীনা মিঠি পরিবার পেয়েছে মৃত্তিকা নামক মেয়েটা থেকে। নামটাও তার মৃত্তিকা’র রাখা। ছোট বেলায় গোলুমোলু হওয়ার দরুন মৃত্তিকা তাকে মিঠি বলে ডাকতো সেই থেকে নামটা যেন ওকে জড়িয়ে নিলো।
এত এত ভালোবাসা’র পরেও আজ যেন পরিস্থিতি ভিন্ন। ভিন্ন সব অনুভূতি। সব যেন আজ ফিঁকে মনে হয়। যাকে সে ছোট থেকে মামা ডেকে, ভালোবেসে আসছে তার প্রতি চেয়েও খারাপ লাগাতে ব্যার্থ মিঠি। তার অদেখা রুপটা যেন হঠাৎ সম্মুখে আসায় ঘাবড়ে গিয়েছিলো সে। নিজেকে সামলে আজ সামনাসামনি হয়েছে মৃন্ময় হাওলাদারের।

আজ এখান থেকে সোজা ভার্সিটি যাবে মৃত্তিকা। ওর না জানতে অবশ্য পরিকল্পনা ভিন্ন। এ বাসায় আর ফিরা হবে না তার। একেবারে ওখান থেকে পূর্ণ নিয়ে যাবে। মৃন্ময় হাওলাদার জানেন একথা। মূলত পরামর্শটা ও তারই। এছাড়া মৃত্তিকা’কে পাঠানো যাবে না। খাবার খেতে খেতে মৃত্তিকা বাবা’র সাথে আলাপ জুড়েছে। পূর্ণ দেখে মৃত্তিকা’র উৎফুল্লতা যেটা ওর বাসায় থাকা কালীন ছিলো ন। তাহলে কি সে তার মৃত্ত’কে সুখী রাখতে ব্যার্থ?
এহেন চিন্তা আসাতে সাথে সাথেই তা ঝেড়ে ফেললো পূর্ণ। একদিনে কতটুকুই বা সামলাতো তার মৃত্ত? হুট করে এতকিছু হলে মানতেও সময় প্রয়োজন। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে খেতে মনোযোগ দিলো সে।
বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ও মৃন্ময় হাওলাদার মেয়েকে বুকে জড়িয়ে আদর দিলেন। সংসারের প্রতি মনোযোগী হওয়ার কথা বুঝালেন। একজন বাবা কিভাবে একজন মায়ের দায়িত্ব পালন করে তাও কি না এতটা সুনিপুণ ভাবে তা মৃন্ময় হাওলাদার’কে দেখে বুঝা উচিত। মৃত্তিকা বাবা’র মুখে হাত দিয়ে হেসে বললো,

— বিকেলেই তো আসব। এখন ভার্সিটি যাচ্ছি।
গলা চিবিয়ে কান্না গিলেন মৃন্ময় হাওলাদার। মেয়েটা জানে না তার যে আজ আর আগের নীড়ে ফেরা হবে না। তাকে তার বাবা নিজ হাতে নতুন নীড় খুঁজে দিয়েছেন। আলগোছে মেয়ের কপালে চুমু খেয়ে সরে গেলেন তখনই পূর্ণ জড়িয়ে ধরলো তাকে। সান্ত্বনা সহিত জানালো,
–নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে খেয়াল রাখব আব্বু।
— জানি।
— চিন্তা করবেন না। আঘাত আগে পূর্ণ’কে ধ্বংস করবে তারপর তার মৃত্ত’কে।
— আল্লাহ আমার দুই সন্তান’কেই ওই আঘাত থেকে রক্ষা করুক।
পূর্ণ মৃত্তিকার হাত ধরে বিদায় নিলো। মিঠি বিমূর্ত ভাবে বিদায় দিলো। চোখ টলমলে তার। মৃন্ময় হাওলাদার কিছু বলার আগেই দৌড়ে চলে গেল মিঠি। তিনি ও কিছু বললেন না। মন চাইলো না কিছু বলতে। অফিসে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে গেলেন বাসা থেকে। আজ ফিরতে ও মন চাইবে না এই নীড়ে যেখানে তার মেয়ে’কে পাওয়া যাবে না।

মৃত্তিকা’কে ভার্সিটি থেকে একটু দূরে নামিয়ে পূর্ণ বললো,
— এখান থেকে রিক্সা নিয়ে যাবেন। আর কাউকে কিছু জানানোর দরকার নেই।
— কিছুদিন পর তো জানবেই।
এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান করা হবে কিন্তু পূর্ণ সময় চেয়েছে। নির্বাচনের আগে সে গোপন রাখতে চাইছে সবকিছু। নাহলে মৃত্তিকা’কে এভাবে খোলা ছাড়তে পারবে না সে। সেখানে এমন হলে ক্ষতি হবে মৃত্তিকা’র পড়াশোনার। সামনে পরিক্ষা একথা বলে মৃত্তিকা’কে আটকে রেখেছে পূর্ণ। নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর জানাবে তার মৃত্ত’কে।

কথাগুলো ভেবে হাত বাড়িয়ে মৃত্তিকা’র সিট বেল্ট’টা খুলে দিলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই মৃত্তিকা’র স্থান হলো পূর্ণ’র কোলে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মায়াবী মুখটা দেখে নিলো পূর্ণ। আজকে হিজাব পড়ায় সৌন্দর্য বেড়েছে তার পূর্ণ্যময়ীর। মুখ বাড়িয়ে ওষ্ঠের ছোঁয়া দিলো ওষ্ঠে। মৃত্তিকা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিলেও লাভ হলো না। পূর্ণ নিজের কাছাকাছি এনে মাখানো কন্ঠে জানালো,
— চুপচাপ চলে যান মৃত্ত। নিতে আসব আমি। বেশিক্ষণ এখানে থাকলে ভয়ংকর কান্ড ঘটাব আমি।
পরিস্থিতি বুঝার অপেক্ষা করলো না মৃত্তিকা। কোল থেকে নেমেই গাড়ী থেকে বেরিয়ে এলো। দমবন্ধকর একটা মুগ্ধতাময় আবহাওয়া ছিলো গাড়ীর ভেতর৷ জোরে শ্বাস টেনে গাড়ীর কাঁচে টোকা দিয়ে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালো। পূর্ণ তখন বেসামাল শ্বাস সামলাতে ব্যাস্ত। মৃত্তিকা’র দিকে তাকিয়ে শুধু বললো,

— খেয়াল রাখবেন নিজের।
— আপনিও।
কথাটা বলেই রিক্সায় চড়ে চলে গেল মৃত্তিকা। পূর্ণ ধীর গতিতে গাড়ি চালিয়ে পিছু নিলো। মৃত্তিকা গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে পূর্ণ গাড়ী ঘুরালো। এই নারী তার সকল পরিকল্পনা ভেস্তে দিবে। তার সানিধ্যে কেন জানি সব ধূসর গোধূলি হয়ে উঠে পূর্ণ’র অথচ দুই দিন আগেও নিজেকে বেশ কড়া ভাবে শাসিয়ে রাখতো সে।

হিমু’কে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখে মৃত্তিকা এগিয়ে গেলো ক্যাফেটেরিয়া’তে। যেতেই দেখা মিললো উজ্জ্বলের। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মৃত্তিকা ওদের পাশে বসে বললো,
— ওর মন খারাপ কেন?
— তুই তো বিয়ে করে হানিমুন করছিস তাই বলে কি সবার মনে বারুদ লেগে তারাবাত্তি ফুটব?
মৃত্তিকা বিরক্ত হলো। উজ্জ্বলের পিঠে শক্তি দিয়ে একটা পাঞ্চ মে’রে বললো,
— চুপ থাক তুই। এই হিমু বল কি হয়েছে? রুপা আপু কিছু বলেছে?
হিমু চাইলো মুখ ফুটে কিছু বলতে কিন্তু তা বুঝি উজ্জ্বল হতে দেয়? কৌতুক মিশানো গলায় বললো,
— বা*ল ঐ রুপা টুপা কি করব? করসে তো এই হাঁদারাম। আন্টি অসুস্থ তাই মন খারাপ ওর।
মৃত্তিকা চকমকানো ভঙ্গিতে বললো,

— তাহলে তুই বাসায় যা। এখানে বসে মন খারাপ কেন করছিস?
উজ্জ্বল এবার মহা বিরক্ত হয়ে বললো,
— উই গেলে পরিক্ষা দিব কে? তোর না হওয়া সন্টুমন্টু?
মৃত্তিকা পাত্তা দিলো না উজ্জ্বল’কে। হিমু নীচু গলায় বললো,
— মা ঠিক আছে এখন। চল ক্লাসে।

শাজাহান খান আজকে সকলের সামনে ঘোষণা দিলেন পূর্ণ’কে তাদের দল থেকে মনোনয়নের পত্র দেয়া হবে৷ কেউ কেউ খুশি হলো আবার কারো কারো মুখ কালো হলো। পূর্ণ দেখলো সবটা তবে বাঁকা হাসলো ভিন্ন কিছু ভেবে। শাজাহান খান হাসি মুখে জানতে চাইলেন,
— তো পূর্ণ বলো যদি কিছু বলতে চাও।
— কথা যা দিয়েছেন সে অনুযায়ী কাজ হওয়াটাই যথেষ্ট আঙ্কেল। আর হ্যাঁ, আমার দলের ছেলেরা নির্বাচন চলাকালীন সময় আমার সাথেই থাকবে। কোন রুপ বাঁধা যাতে তাদের না দেয়া হয়। যে কোন ঝামেলা বাঁধলে তার দায়ভার আমি বা আমার দলের থাকবে না।
বেশ বিচক্ষণ পূর্ণ তা জানেন উপস্থিত সবাই। শুরুতেই নিজেকে ঝামেলাহীনভাবে সারিয়ে নিলো। শাজাহান খান সম্মতি জানালেন,

— ঠিক আছে। তাহলে তৈরী থেকো। আশা করি আমাদের জয় নিশ্চিত। জনগন তোমাকে চায় পূর্ণ। ভুল কোন সিদ্ধান্ত তুমি নিবে না এটাই আশা রাখছি।
— ইনশা আল্লাহ।
পার্টি অফিস থেকে বের হতেই মুখোমুখি হলো দুইদল। সাদা ধপধপে পাঞ্জাবী গায়ে দাঁড়িয়ে শোয়েব মির্জা। ভদ্রতা সহিত সালাম জানালো পূর্ণ। শোয়েব মির্জা হেসে উত্তর দিয়ে জড়িয়ে ধরতে নিলেই পূর্ণ সাইড কেটে চলে গেল। ব্যাপারটা গায়ে লাগলো শোয়েব মির্জা’র। মাহিন মিয়া’কে উদ্দেশ্য করে বললেন,

— বুঝলে মাহিন এই চুল আমি রোদে সাদা করি নি। সাফারাত’কে কল লাগাও। বলো এখনই পার্টি অফিসে আসতে। আর হ্যাঁ, এটাও জানাও তাকে যাতে এবার নির্বাচনে পাশে পাই আমি।
মাহিন মির্জা বাধ্য ভৃত্যের ন্যায় কাজ করলো। সাফারাত তার ঠিক দুই ঘন্টা পর অফিসে হাজির হলো। তার এহেন উদাসীন ভঙ্গি ও চালচলনে বেশ ক্ষেপেছেন শোয়েব মির্জা। চড়াও হওয়া গলায় ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
— সামনে নির্বাচন। জয়ী হই। একটা কেন দশটা নারীদেহ এনে দেব। আমার কথা শোনো সাফারাত।এবার জয়ী হতেই হবে।
নির্বিকার সাফারাত। শোয়েব মির্জা কঠর গলায় শপথ নিলেন,

শান্তি সমাবেশ পর্ব ২৩+২৪

— যেই পর্যন্ত না জয়ী হব ঐ পর্যন্ত আমিষ এবং নারী ত্যাগ করলাম আমি।
মাহিন মিয়া’র দিকে তাকিয়ে বললেন,
— পূর্ণ’কে কল দিয়ে জানাও তার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই।
সাফারাত তখনও নির্বাক। তার মস্তিকে চলছে ভিন্ন কিছু। ভয়ংকর পরিকল্পনা।

শান্তি সমাবেশ পর্ব ২৭+২৮