Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত গল্পের লিঙ্ক || আরাফাত আদনান সামি

প্রণয়ের ঘোর রাত গল্পের লিঙ্ক || আরাফাত আদনান সামি

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১
আরাফাত আদনান সামি

উফ্! কী ঝাল! কেউ পানি দাও, পানি!
আরে ভাই, কেউ তো পানি দে ! আ..আ…আআআ….! কেউ পানি দেরে, বা*ল ! উফ্ কী ঝাল মরে গেলাম গো বাবা!
ঝালে ঠোঁট জ্বলে যাচ্ছে, চোখ থেকে অঝোরে পানি ঝরছে মায়ার। সিঁড়ি বেয়ে ঝাপসা চোখে কোনোভাবে নিজের রুমের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে সে। উপরে উঠে সোজা রুমের সামনে এসে দাঁড়াতেই, দরজার কাছে মায়ার ডান হাত শক্ত করে টেনে ধরল কেউ। মুহূর্তের মধ্যেই তাকে ভেতরে টেনে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল সেই অচেনা হাত।
অন্ধকার হলেও জানালা আর বারান্দা ভেদ করে আসা চাঁদের আলো ঘরটিকে এক অন্যরকম রূপ দিয়েছে। মায়া স্পষ্ট দেখতে না পেলেও, সেই ম্লান আলোয় ঝাপসা ভেসে উঠছে কৌশিকের অবয়ব। সাদা টি-শার্ট গায়ে, উপরের কয়েকটা বোতাম খোলা তার সুঠাম দেহের আভা স্পষ্ট।

কিছুক্ষণ মায়ার অশ্রুসিক্ত চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল কৌশিক। মায়া নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই, হঠাৎ সে মায়াকে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরল। এক হাত দিয়ে মায়ার দুই হাত দেয়ালে চেপে রাখল, অন্য হাত শক্ত করে চেপে ধরল তার কোমর। কোমরে কৌশিকের স্পর্শ পেয়ে মায়ার পুরো শরীর কেঁপে উঠল। কাপা কণ্ঠে অনুনয় করল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

-ক… কৌ… কৌশিক ভাই, ছাড়ুন আমাকে… প্লিজ।
কৌশিক কোনো কথা না বলে কোমরে তার চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। ধীরে ধীরে তার মুখ এগিয়ে এল মায়ার ঠোঁটের দিকে। মায়া আতঙ্কিত স্বরে বলল,
“কৌশিক ভাই, দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন।”
কিন্তু এবার কৌশিক তার হাত নামিয়ে এনে মায়ার চুলের মুঠি ধরল, আর কোনো সুযোগ না দিয়ে তার ঠোঁট নিজের ঠোঁটে বন্দি করল। অপ্রস্তুত মায়া প্রথমে প্রাণপণে ছাড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু কৌশিকের শক্তির কাছে তার প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে এল।
চুম্বনের গভীরে মায়া অনুভব করল, শরীরের ভেতর কোথাও যেন ঝড় বইছে। অবচেতনেই তার দুই হাত উঠে গেল কৌশিকের গলায়, আঁকড়ে ধরল তাকে। মায়ার এমন প্রতিক্রিয়ায় কৌশিকও আর নিজেকে সংযত রাখতে পারল না, চুম্বনের গতি আরও তীব্র করল।

প্রায় ত্রিশ মিনিট পর মায়া ধাক্কা দিয়ে তাকে সরাতে চাইলে, কৌশিক বরং আরও শক্ত করে তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। নিচের ঠোঁটে হালকা কামড় বসিয়ে দিল, যাতে মায়া ব্যথায় শিহরিত হয়ে উঠল। তবুও কেউ কাউকে ছাড়ল না। আরও দশ মিনিট পর মায়া জোরে ঠেলে কৌশিককে কিছুটা সরাল।
কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সে আবার মায়াকে দেয়ালের সাথে আটকে ফেলল। ঘনঘন নিশ্বাস ফেলছে, চোখে অদ্ভুত তীব্রতা। মায়া চোখ বন্ধ করতেই কৌশিক তার কাঁধ থেকে জামা সরিয়ে উন্মত্তের মতো চুম্বন করতে লাগল। মায়ার দিকশূন্য অবস্থা শরীর কাঁপছে, প্রতিটি নিশ্বাস যেন উষ্ণ আগুন হয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে তাকে। অদ্ভুত এক অনুভূতি মায়াকেও নাড়িয়ে দিচ্ছে। কৌশিকের উন্মাদনা যেন কায়ার ভেতর কাঁপন তুলে দিচ্ছে। ত্বকের মাঝে গভীর চুম্বনের পর নিজের মতো করে রেখে গেল দাগ। এমন কঠিন স্পর্শে মায়া ছটফট করে উঠল ব্যথায়। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল নোনাজল।
তার নেশায় মত্ত থাকা যুবকের কোনো হুঁশ নেই সেদিকে। সে নিজের কাজে ব্যস্ত মায়ার দেহে ব্যথা লাগছে, অথচ এমন যুবকের স্পর্শ মায়া আগে কখনো পায়নি। ছটফট করল ছাড় পাওয়ার জন্য। মুখ দিয়ে শব্দ বের হওয়ার আগেই কৌশিক কামড় বসিয়ে দিল তার গলায়।
মায়া মৃদু আর্তনাদ করল,

“আহ!”
কিন্তু শব্দটি পূর্ণ হওয়ার আগেই সেই নরম ওষ্ঠকে নিজের অধরের ভাঁজে লুকিয়ে নিল কৌশিক। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে শব্দ করে চুমু খেল সে। মায়ার শিরদাঁড়া বেয়ে অদ্ভুত এক শীতল স্রোত বয়ে গেল। থম মেরে দাঁড়িয়ে রইল মেয়েটা।
কৌশিক তার ঠোঁটে ঠোঁট আর কপালে কপাল ঠেকিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল। কিছুক্ষণ নীরবতা বিরাজ করল। তারপর কৌশিকের ঘোর লাগা কণ্ঠ বাজল মায়ার কানে,
“আমার অজানা প্রেমের নাম তুই। আমার আমরণ তৃষ্ণা নিবারণের কারণ তুই। আমার নেশা তুই… আমার জান তুই।”
এমন সময় বাইরে থেকে কারও কণ্ঠ ভেসে এলো,
“কৌশিক ভাই… ও কৌশিক ভাই…”
দরজার বাইরে সেই ডাক শুনে মায়া হকচকিয়ে গেল। তড়িঘড়ি জামা ঠিক করতেই কৌশিক তার মুখ চেপে ধরে গম্ভীর স্বরে বলল,

“এখন বাইরে যাবি না। আগে আমি যাব, তারপর ডাকলে তুই নামবি।”
মায়া ধীরে মাথা নাড়ল। কৌশিক কিছু না বলে আবারও তার ঠোঁটে একটি চুম্বন এঁকে দিল।
কৌশিক গায়ের টি-শার্ট ঠিক করে টেনে দরজা খুলল। দরজা খুলতেই তার চোখ পড়ল তিয়াশার দিকে। তিয়াশা কৌশিকের চাচাতো বোন। আসিফ চৌধুরী ও সায়েরা চৌধুরীর বড় ছেলে রোহিত চৌধুরী, আর ছোট মেয়ে তিয়াশা চৌধুরী। ছোটখাট কোনো ঘটনাতেই কৌশিকের পেছনে লেগে থাকে, চিৎকার করে
“কৌশিক ভাই! কৌশিক ভাই!”
কৌশিককে দেখে তিয়াশার চোখে হঠাৎ লাজুক ভঙ্গি ফুটে উঠল। মুচকি হাসি দিয়ে সে বলল,

“ভাইয়া তুমি মায়া আপুকে দেখেছেন? অনেকক্ষণ ধরে ডাকছি, কোথাও পেলাম না। এমনকি নিজের ঘরেও নেই।”
কৌশিক হালকা কেশে বলল,
“আমি জানি নাকি মায়া কোথায়? নিচে গিয়ে দেখ যা।”
তিয়াশা মুচকি হেসে বলল,
“কৌশিক ভাইয়া,তুমিও ও আসোনা আমার সঙ্গে।”
কৌশিক প্রথমে কিছু বলতে চাইল না, তবে শেষ পর্যন্ত সেই অস্বীকারও করতে পারল না। আর এ সুযোগেই মায়া চুপচাপ তার রুম থেকে বের হয়ে গেল।
কৌশিক তিয়াশার সঙ্গে নিচে হল রুমে চলে গেল। নিচে এসে তারা দেখল, সবাই মরিচের ফুচকার চ্যালেঞ্জে মগ্ন। কৌশিক মনে মনে বলল,

“ওহ্, তাহলে এত ঝাল খেয়ে ঝাল ঝাল করে চিৎকার করার কারণ এটাই তাহলে। ”
একটু দুষ্টুমির হাসি দিয়ে কৌশিক বলল,
“যাক, ভালোই হয়েছে।”
এ সময় তিয়াশা কৌতূহল ও লাজুক ভঙ্গিতে বলল,
“আমাকে কিছু বললে না কী কৌশিক ভাইয়া?”
কৌশিক ভ্রুকুচকে বলল,
“কই না তো।”
তিয়াশা একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
“তাহলে চলো, আমাদের সঙ্গে ফুচকা খাওয়ার চ্যালেঞ্জ খেলো। খেলবে কৌশিক ভাইয়া?”
কৌশিক মনে মনে বিরবির করে উঠল। সে জানত, তিয়াশার সাথে একটু কথা বললেই চেপে বসবে। কৌশিক গম্ভীর স্বরে বলল,

“না, আমি এইসব বাচ্চাদের খেলা খেলি না। ফুচকা-টুচকা আমার পছন্দ নয়।”
তিয়াশা হালকা লাজুক স্বরে বলল,
“তাহলে কী খেলতে পছন্দ করো কৌশিক ভাইয়া?”
কৌশিক বিরবির করে বলল,
“তোর মায়া আপুকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর।”
তিয়াশা আবার হাসল,
“কিছু বললে কৌশিক ভাইয়া?
কৌশিক ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি দিয়ে বলল,
“কই না তো, আমি আবার কখন কী বললাম। যা, তুই খেল। আমি উপরে যাচ্ছি।”

এই বলে কৌশিক আর কোন কথা না বলে এদিক-ওদিক তাকানো এড়িয়ে সরাসরি নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
এতক্ষণে মায়া শাওয়ার নিয়ে পরিপাটি হয়ে নিচে এসে বসল। সে সবার সঙ্গে আড্ডায় মগ্ন হলো। ৫০ টা মরিচের ফুচকা চ্যালেঞ্জে জিতেও সে হাস্যোজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত রয়ে গেল। বহু মাস পরে সব মামাতো-ফুফাতো ভাইবোনেরা একসাথে। আত্মীয়রা এক হয়েছে। ঘর ভরে আছে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।
এবার পরিচয়টা স্পষ্ট করি, মায়া, অমিতাভ পাটোয়ারী ও রুবিনা পাটোয়ারীর একমাত্র মেয়ে। মায়ার বড় মামার ছেলে কৌশিক।

আশরাফ চৌধুরী ও মাহিমা চৌধুরীর একমাত্র ছেলে কৌশিক নীর চৌধুরী। দীর্ঘদিন পর আজ বাড়ির সবাই একসাথে।
ঘরটিতে এখন শুধু হাসি, আড্ডা, আর আত্মীয়তার উচ্ছ্বাস। সকলের মধ্যে যে আন্তরিক বন্ধন, তা বহুদিনের দূরত্বকেও মুছে দিয়েছে।

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২