Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৭

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৭

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৭
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

ভেজা চুল থেকে টুপটুপ পানি পড়ছে। গায়ে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পিটপিট করে তাকালো নিজের দিকে। ঠোঁট উল্টে মিনমিন করে বললো
— এইটা শার্ট নাকি কামিজ!
কিছুটা বিরক্তি নিয়ে রুম থেকে বের হলো। আশেপাশে তাকিয়ে অবাক—কি সুন্দর করে বাড়ি সাজানো! এখানে যদি না থাকে তাহলে এই বাড়ি এভাবে সাজানোর মানেই বা কী?
ভাবতে ভাবতে পাশের রুমে গিয়ে দেখলো দরজা বন্ধ। অনেক ধাক্কাধাক্কি করেও খুলতে পারলো না। চুপচাপ আবরারকে খুঁজতে লাগলো এবার।
প্যান্টটা ভীষণ বড়, কোনোমতে বেল্ট দিয়ে কোমরে আটকে রেখেছে, তবুও পা ঢেকে যাচ্ছে। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। কষ্ট করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলো। এই আবরার আবার কোথায় গেলো? পেটের ভেতর তো ইঁদুর বানর নাচানাচি করছে।

কিচেন রুম থেকে পানির শব্দ আসতেই তাড়াহুড়ো করে সামনে এগিয়ে গেলো। ওপেন কিচেনে আবরার উল্টো দিকে ঘুরে খাবার রান্না করছে। কোমড়ে টাওয়াল পেঁচানো, শুধু পিঠ দেখা যাচ্ছে।
লম্বা-চওড়া কাঁধ, সুঠাম দেহ, পেশির নিখুঁত গঠন। কাঁধের কাছে পিঠের হাড়ে ছাপগুলো যেন বাটারফ্লাই-এর আকৃতি।
লামিয়া হা করে তাকিয়ে আছে। এ তো দেখি লাবিব ভাইয়ের চেয়েও বেশি হট! পরক্ষণেই মাথায় হালকা থাপ্পড় মেরে চোখ সরিয়ে নিলো। কিন্তু বেহায়া চোখ আবারও অর্ধনগ্ন শরীরটার দিকেই চলে যাচ্ছে।
আবরার খাবার নিয়ে সামনে ঘুরতেই লামিয়াকে দেখে থমকে গেলো। ছোট্ট শরীরটা শার্ট-প্যান্টে ঢেকে গেছে পুরোপুরি। ভেজা চুল দু’ভাগ করে সামনে এনেছে।
ভেজা চুল থেকে পানি টুপটুপ করছে। সচরাচর লামিয়াকে খোলা চুলে দেখা যায় না, সবসময় কালো ফিতায় বেণী করে রাখে। তাই খোলা চুল দেখার সৌভাগ্য কারোরই হয় না।
শ্যামবর্ণ মেয়েটিকে কী স্নিগ্ধ লাগছে!
আবরার খাবার টেবিলে রেখে লামিয়ার সামনে এসে দাঁড়ালো। লামিয়া তখন ও তাকিয়ে আছে তার দিকে। আবরার যে তার কাছে এসে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে তার খেয়াল নেই ।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

— এই যে মিস…
আবরারের ডাকে হুশ ফিরলো লামিয়ার। আবরার কে এতো কাছে দেখে তাড়াহুড়ো করে পিছনে যেতে গিয়ে দেয়ালে বারি খেতেই চোখ বন্ধ করলো, কিন্তু কোনো ব্যথা পেলো না তাই আস্তে করে চোখ খুলতেই দেখলো বারি খাবার আগেই আবরার হাত দিয়ে দেয়ালে ঠেকিয়ে রেখেছে। কপালটা তার হাতে লেগেছে বলে ব্যথা পায়নি।
আবরার ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।
লামিয়া শুকনো ঢোক গিললো, তার চোখ সিক্সপ্যাক শরীরের দিকেই আটকে।
আবরার এক ভ্রু উঁচিয়ে বললো

— কি সমস্যা মিস? আর একটু হলেই কপালটা ফাটিয়ে ফেলতেন।
লামিয়ার গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। মনে হচ্ছে কেউ তার গলা চেপে ধরেছে।
হঠাৎ আবরার লামিয়ার হাত ধরলো।
লামিয়া বড় বড় চোখ করে চেঁচিয়ে উঠলো—
— হাত ধরেছেন কেনো? ছাড়ুন আমাকে। এভাবে ধরাধরি আমার পছন্দ নয়।
আবরার পাত্তা দিলো না। সোফায় এনে বসিয়ে তার পায়ের সামনে ফ্লোরে বসে পড়লো। লামিয়ার পা নিজের হাঁটুর উপর রাখলো।
লামিয়া ছটফট করতে লাগলো।

— কী করছেন? পা ছাড়ুন আমার! আজব মানুষ!
আবরার বিরক্ত হয়ে ধমকে উঠলো।
— পা যদি আর নাড়াচাড়া করেন, অন্ধকারে বাইরে ফেলে আসবো।
লামিয়া রেগে বললো—
— হ্যাঁ দিয়ে আসুন। আমি ভয় পাই নাকি? আমাকে বাচ্চা ভেবেছেন নাকি?
আবরার মাথা নিচু করে হালকা হেঁসে শক্ত করে ধরে পায়ের নিচ থেকে প্যান্ট ভাঁজ করে দিতে লাগলো।
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে বললো—
— বললেই তো আমি করতে পারতাম।
— হ্যাঁ, পারলে আগেই করতেন।
কিছু বললো না লামিয়ার।
আবরার উঠে এসে সোফায় বসল। আলতো করে তার শার্টের হাতা গুটিয়ে দিলো।
লামিয়া আড়চোখে তাকিয়ে বললো—

— আপনি এমন নেংটু হয়ে রান্না করছিলেন কেনো?
আবরার শীতল দৃষ্টিতে তাকালো তার চোখে। লামিয়া কেঁপে উঠলো, চোখ সরিয়ে নিলো।
— জামাকাপড় পরার সময় পাইনি। গোসল করেই আপনার জন্য রান্না করতে নেমেছি। আপনার না অনেক ক্ষুধা লেগেছে?
বলেই সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে বললো
— বসুন, আমি জামা পরে আসছি। আর চিন্তা করবেন না আমি রাশেদকে জানিয়ে দিয়েছি, বাসায় সামলে নেবে।
লামিয়া হা করে তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার দিকে।
আবরার যাওয়ার পর ই লামিয়া ফোন বের করে গ্রুপে কল দিলো, কিন্তু কেউ ধরলো না। বিরক্ত হয়ে ফোন রেখে কিচেনে গেলো। ফ্রিজ খুলতেই চোখ বড় বড়।

— একি! ফ্রিজে ফল, চকোলেট ছাড়া কিছুই নেই?
চেরি আর স্ট্রবেরি ভরে আছে। চকোলেট দেখে লামিয়া খুশি হয়ে চকোলেট নিয়ে নিলো। পেন্টের পকেটে রেখে জুস হাতে নিয়ে সোফায় বসল।
টিভি অন করতেই কার্টুন দেখতে লাগলো।
আবরার কালো টিশার্ট আর ট্রাউজার পরে নেমে এলো। আড়চোখে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে টেবিলে গিয়ে খাবার বারতে লাগলো।
হঠাৎ দুম করে কারেন্ট চলে গেলো।
অন্ধকারে লামিয়া সোফা থেকে আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে টেবিলে বসলো।
আবরার অন্ধকারে গলা ছেড়ে ডাকলো

— মিস? যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। আমি মোমবাতি জ্বালিয়ে আনছি।
একটু থেমে আবার বললো – মিস আপনি কি ভয় পাচ্ছেন?
কোনো সাড়া নেই। আবরার ভ্রু কুঁচকে তাড়াতাড়ি করে মোমবাতি জ্বালিয়ে টেবিলে রাখতেই চমকে উঠলো।
লামিয়া চেয়ারে দু’পা তুলে বসে মনের সুখে চকোলেট খাচ্ছে।
আবরারকে চমকাতে দেখে হিহি করে হেসে দিলো।
আবরার ঠোঁট কামড়ে হাসলো, তবুও মিছে রাগ দেখালো

— এভাবে কেউ ভয় দেখায় নাকি? ভয়ে যদি স্ট্রোক করতাম তখন কী হতো?
লামিয়া চকোলেট খেতে খেতে উত্তর দিলো
— সমস্যা নেই, আপনার শরীরের দামি জিনিস বিক্রি করে টাকা কামাতাম।
আবরার মুচকি হেসে তাকিয়ে রইলো।
মোমের আলোয় দৃষ্টি ফেললো লামিয়ার দিকে। চুল ভেজা থাকার কারণে বুক কাছটা ভিজে গেছে।
আবরার দ্রুত টাওয়াল এনে নিয়ে লামিয়ার পাশে দাঁড়ালো।
লামিয়া মাথা তুলে বললো—

— কী?
আবরার কোনো কথা না বলে আলতো করে তার চুল মুছে দিলো।
লামিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো আবরারের দিকে।
চুল মুছে আবরার লামিয়ার দিকে তাকাতেই চোখে চোখ পড়লো, লামিয়া মাথা নিচু করে বসে রইল।
আবরার নিজের চেয়ারে বসে খাবার বারতে লাগলো। লামিয়া খাবারের দিকে তাকিয়ে কপালে ভাঁজ ফেলে বললো
– এইগুলো কী?
আবরার প্লেটটা ওর সামনে রেখে হালকা হাসলো

– আর কী, নুডুলস।
– আপনি না বলেছিলেন বিরিয়ানি খাওয়াবেন?
– দুঃখিত মিস, এত রাতে বিরিয়ানি কোথায় পাবো? আর ঘরে কিছু নেই, শুধু নুডুলস ছাড়া। আজ কোনোভাবে এটা খেয়ে নিন, বাসায় পৌঁছালে কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়াবো আপনাকে, কথা দিলাম।
– কিন্তু এইটুকু নুডুলসে আমার পেট ভরবে না।
মন খারাপ করা গলায় বললো লামিয়া।
আবরার মুচকি হেসে বললো
– সবটা শুধু আপনার জন্যই বানিয়েছি। পুরোটুকু খেয়ে নিন।
– কিন্তু আপনি?
আবরার চেয়ার থেকে উঠে ফ্রিজ খুলে চেরি, স্ট্রবেরি আর ডার্ক চকোলেট বের করে টেবিলে রেখে বললো
– আমি নুডুলস খাই না। এগুলোই আমার জন্য যথেষ্ট। সমস্যা হবে না আমার। বলেই চকোলেটের বাটিতে একটা স্ট্রবেরি ডুবিয়ে মুখে পুরে নিলো।
লামিয়া পিটপিট করে তাকিয়ে নিজের বাটি থেকে অর্ধেক নুডুলস অন্য বাটিতে ঢেলে আবরারের দিকে বাড়িয়ে দিলো।
আবরার হেসে মাথা নাড়লো

– বললাম তো আমি খাই না।
লামিয়া অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নরম স্বরে বললো
– আমার বেশি ক্ষিধে পেয়েছে বলে আর এইটুকু নুডুলস বলে আপনি খেতে চাইছেন না আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু আমার তেমন ক্ষিধে নেই। আপনি খেয়ে নিন।
আবরার শুধু চুপচাপ হাসলো।
লামিয়া খেতে খেতে বিড়বিড় করে বললো
– উফ, এই বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি থাকলে বেশ জমে যেতো।
আবরার আবারো হালকা হেসে নিজের নুডুলসের বাটি ওর দিকে বাড়িয়ে দিলো
– প্লিজ এইটুকু ও খেয়ে নিন। নুডুলস আমার পছন্দ না, খেলে আমি অসুস্থ হয়ে যাবো।
লামিয়া চোখ কুঁচকে অবাক হয়ে বললো

– নুডুলস খেলে কেউ অসুস্থ হয় নাকি?
– আর কেউ না হলেও আমি হই।
লামিয়া নীরবে বাটির দিকে তাকালো। তারপর আবরারের দিকে তাকিয়ে বললো
– তাহলে আপনি না খেয়ে ঘুমাবেন? খালি পেটে ঘুমানো ভালো না, জানেন? খেয়ে নিন। আমার পেট ভরে গেছে।
আবরার ওর চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো দেখলো লামিয়ার চোখ চকোলেট আর স্ট্রবেরির দিকে চলে গেছে। ঠোঁট কামড়ে মুচকি হেসে বাটিটা টেনে নিয়ে লামিয়ার সামনে রেখে দিলো।
লোভ সামলাতে না পেরে লামিয়া বললো
– এই যে শুনছেন, আমি কী একটা স্ট্রবেরি খেতে পারি? বেশি না শুধু একটা।
আবরার হেসে মাথা নাড়লো – অবশ্যই , কিন্তু একটা ।
লামিয়া তাড়াহুড়ো করে একটা স্ট্রবেরি চকোলেটে ডুবিয়ে মুখে পুরে নিলো – আহা! কী মজা!
আবরার নুডুলস খেতে খেতে চুপচাপ ওর বাচ্চাদের মতো চকোলেট খাওয়া দেখছিলো। সে জানে, লামিয়া চকোলেটের পোকা।
একটার পর একটা করে স্ট্রবেরি ডুবিয়ে খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত বিশটা খেয়ে ফেললো। তারপর ঢুকুর তুলে বললো

– আর না, অনেক খেয়ে ফেলেছি, আর পারবো না।
সারা মুখে চকোলেট লেগে আছে তার।
আবরার হাত গালে রেখে তাকিয়ে আছে, ঠোঁটে মিটিমিটি হাসি।
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে বললো
– হাসছেন কেনো?
আবরার ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
– মিস, আপনি তো বলেছিলেন একটা খাবেন, আর এখন দেখি বিশটা খেয়ে ফেললেন!
লামিয়া কাচুমাচু করে তাকালো, তারপর অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললো
– বিশটা খেয়েছি বলে খোটা দিচ্ছেন?
আবরার হেসে বললো

– একদম না, বিশটা কেনো গোটা ফ্রিজ তুলে যদি খেয়ে ফেলেন, তবুও আমি কিছু বলবো না। বরং আমি খুশি হবো।
আবরার উঠে গিয়ে পানির গ্লাস লামিয়ার সামনে বাড়িয়ে দিলো। লামিয়া চুমুক দিয়ে পানি খেয়ে আবার টেবিলে বসলো। দু’জনে বকরবকর করতে করতে হঠাৎ লামিয়ার চোখ ভারি হয়ে এল। মিনিট কয়েকের মধ্যেই টেবিলে মাথা নিচু করে বিরবির করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো।
আবরার মুচকি হেসে ওর দিকে তাকালো। ধীরে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে যত্ন করে লামিয়াকে কোলে তুলে নিলো। সিঁড়ি বেয়ে রুমে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজে ফ্লোরে বসলো।
ওর চোখ একদৃষ্টিতে ঘুমন্ত লামিয়ার মুখে আটকে গেলো। শান্ত, নিরীহ, শিশুসুলভ ঘুমন্ত চেহারা। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ চোখ চলে গেলো গলার দিকে শার্টের বোতাম খোলা। আবরার আস্তে করে হাত বাড়িয়ে বোতামগুলো লাগিয়ে দিলো। তারপর নিঃশ্বাস ফেলে অতীতে ডুব দিলো।

গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে দশ বছরের লামিয়া দৌড়ে রুমে ঢুকলো।
– শুভ্র ভাই, দেখো তো আমাকে কেমন লাগছে?
শুভ্র বই থেকে চোখ তুলে দরজার দিকে তাকাতেই কপাল কুঁচকে গেলো। হাত দিয়ে ইশারা করলো কাছে আসতে। লামিয়া খুশি হয়ে দৌড়ে এগিয়ে আসতেই হঠাৎ কষে একটা চড় পড়লো ওর গালে।
লামিয়া দু’হাতে গাল চেপে ছলছল চোখে তাকালো
– মারলে কেনো?
শুভ্র তেজি দৃষ্টিতে গর্জে উঠলো
– এসব ছেলেদের জামা কেনো পরেছিস?
ভয়ে ভয়ে লামিয়া বললো
– এমনিই পড়েছিলাম তোমার পছন্দ হয়নি?
শুভ্র আরেকটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো গালে। এবার জোড়ে কান্না করে উঠলো। ছোট্ট গালে লাল ছাপ পড়ে গেলো।
শুভ্র লামিয়ার কান্না দেখে থমকে গেলো। লামিয়ার কান্নায় তার বুকে তোলপাড় শুরু হয়ে গেলো।
তাড়াতাড়ি লামিয়াকে খাটে বসিয়ে ড্রয়ার থেকে মলম বের করে ওর গালে আলতো করে লাগাতে লাগলো। গলা কেঁপে উঠলো

– কেনো অবাধ্য হস আমার? এসব কেনো পড়তে হবে তোর? তুই এসব পড়লে একদম বাজে লাগে। আমি চাই না এসব তুই পরিস। ভালো লাগে না।
একটু থেমে কড়া আবার গলায় বললো
– যদি এতোই ইচ্ছে করে পরতে, আমার সামনে পড়বি। কিন্তু আমার অবর্তমানে আর কারও সামনে না। মনে রাখিস। সবসময় কামিজ, দোপাট্টা পড়ে থাকবি।
মনে থাকবে?
বলেই লামিয়ার ছোট্ট ছোট্ট গালে চুমু খেলো।
সেদিনের পর থেকে ভুল করেও লামিয়া আর ওই ধরনের ড্রেস পড়েনি।

অতীতের স্মৃতি ভেসে উঠতেই আবরারের ঠোঁটে বাঁকা হাসি খেলে গেলো। ঝুঁকে গিয়ে ফিসফিস করে ঘুমন্ত লামিয়ার কানে বললো
– ঘৃণা করিস, আবার অক্ষরে অক্ষরে আমার কথা গুলো ও মেনে চলিস… এ কেমন ঘৃণা তোর, হ্যাঁ?
এতো ঘৃণা আমার উপর? যখন সত্যি তোর সামনে আসবে তখন কী তুই আমাকে এইরকমই ঘৃণা করতে পারবি?
কিছুক্ষণ থেমে হালকা বাঁকা হেঁসে বলে উঠলো
– আবার আমার উপর রাগ জেদ করে
আমার অবর্তমানে অন্য ছেলের সাথে ও রিলেশনে গিয়েছিলি? এর শাস্তি তোকে যে পেতে হবে দিলওয়ালি।
আবরার আরো কিছু বলতে চাইলো কিন্তু পারলো না।
তখনই হঠাৎ ঠাস! করে গুলির শব্দ কানে এলো। আবরার বাঁকা হাসলো। তারপর আলতো করে লামিয়ার কপালে ছোট্ট চুমু দিয়ে ফিসফিস করলো

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৬

– তুই শুধু আমার। আমার এই মনের অবাধ্য দিলওয়ালি। তোর দিকে যে হাত বাড়াবে সেই হাত আমি টু*করো টু*করো করে কে*টে দিবো।
বলেই লামিয়ার গায়ে কম্বল টেনে দিয়ে।
লামিয়ার শুকনো ঠোঁটে শক্ত চুমু খেয়ে
ওঠে দাঁড়ালো।
প্যান্টের পিছন থেকে পিস্তল বের করে , আস্তে ধীরে রুমের বাহিরে বেরিয়ে খুব সাবধানে রুমের দরজা লক করে। সামনে এগোতে লাগলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৭ (২)