Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২০

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২০

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২০
আরাফাত আদনান সামি

কৌশিক ভ্রকুচকে বলল,
“হ্যাঁ হ্যাঁ তুই লাগিয়ে নে। তারাতারি পুরোটা বাক্য শেষ কর না হলে এইখানে….”
মায়া ভয়ে লজ্জায় চোখ খিচে বলে উঠল,
“এই না না,কারণ আমি যে অসভ্য,ইতর, লম্পট নীর চৌধুরীর একমাত্র ভালোবাসা।”
কৌশিক মুচকি হেঁসে আড়চোখে বলল,
“গুড গার্ল। কিন্তু তুই একটা ওয়ার্ড বেশি লাগালি কেন?”
“কারণ আপনি যে আমার অসভ্য পুরুষ।”

মায়ার কথা শুনে কৌশিক ভ্রূ কুঁচকাল। তারপর ঠোঁটের কোণে টেনে তুলল এক চিলতে দুষ্টু হাসি। ঘোর লাগা কণ্ঠে বলল,
“তাহলে আর একটু অসভ্য পুরুষ হই?”
কৌশিকের কথায় মায়া ভুরু তুলে তাকাল, চোখ-মুখ খিঁচে বলল,
“এই না এতটুকুই যথেষ্ট! এটাকেই কে সামলায়!”
কৌশিক হেসে বলল,
“কেন? তুই আছিস না? তুই সামলাবি আমায়… আমার মায়াবতী সামলাবে আমায়।”
মায়া আড়চোখে তাকিয়ে ঠোঁটে ব্যঙ্গের হাসি টেনে বলল,
“আপনার মায়াবতীকেই কে সামলায় শুনি?”
কৌশিক ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে উত্তর দিল,
“কেন, আমি? আমাকে কি চোখে পড়ে না? আমি সামলাবো তোকে।”
মায়া মুখটা কুচকে এক ভেংচি কেটে বলল,
“তাহলে একটা কাজ করেন, আমাকে আপনার সামলাতে হবে না। আমার বদলে আপনি নিজেই নিজেকে সামলান ওকে!”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

কৌশিক এবার থেমে গেল। নিচু স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে বলল,
“সামলেছি তো! পুরো চব্বিশটা বছর নিজেকে হুনে গুনে সামলে রেখেছি শুধু আমার মায়াবতীর জন্য। আর পারব না, এবার তোর পালা।”
মায়া চোখ বড় বড় করে তাকাল, তবুও মুখে ব্যঙ্গের ছায়া রেখে বলল,
“কী আমার পালা, আমার পালা করছেন শুনি? নিজেকেই সামলাতে পারি না, আবার আপনার মতো ষাঁড়কে আমি সামলাব?”
মায়ার কথা শুনে হঠাৎ কৌশিকের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল। সে মায়ার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে ডেকে উঠল,
“মায়াাা….”
মায়ার খুব হাসি পাচ্ছিল, কিন্তু তা কৌশিকের সামনে প্রকাশ করল না। নিজের হাসি চেপে রেখে মৃদু স্বরে বলল,
“আপনি কী মাত্র আমায় ডাকলেন, কৌশিক ভাই?”
কৌশিক হঠাৎই মায়াকে কোলে থাকা অবস্থায় এক হাতে শক্ত করে ধরল আরেক হাত দিয়ে তার গাল আলতোভাবে ছুঁয়ে বলল,

“বেশি পাকনা হয়ে গেছিস তুই।”
মায়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
“আমি কি ইচ্ছে করে হয়েছি নাকি? আপনিই তো পাকিয়েছেন! এখন কিছু বললেই আমার দোষ,হুম।”
ছাদের কাছাকাছি এসে পড়েছে তারা দু’জন। চারপাশে হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে, আকাশে ঝুলে আছে ফিকে চাঁদ। এমন সময় মায়া আবার বলল,
“ছাড়ুন, নিচে নামিয়ে দিন আমাকে।”
কৌশিক বলল,
“এত কথা বলছিস কেন?”
“নিচে নামান, অনেক কাজ আছে আমার।”
“আগে আমি, পরে তোর কাজ।”
মায়া চোখ কুঁচকে বলল,
“কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হবে তো!”
“হবে না।”
“মামি দেখলে না…”

কৌশিক মায়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই থামিয়ে দিয়ে বলল,
“কেউ কিছু বলবে না। আর তুই এত কথা বলিস কেমন করে রে? একবারও চুপ থাকতে পারিস না?”
“না, পারি না।”
কৌশিক ভ্রু কুঁচকে তাকাল,
“একদম মুড নষ্ট করবি না, মায়া।”
মায়া কিছু বলতে যাওয়ার আগেই কৌশিক রাগান্বিত চোখে তার দিকে তাকাল। সেই চোখের তীব্রতার সামনে মায়া হঠাৎ বিষম খেয়ে গেল; সাহসটাই সরে গেল, আর শব্দ বেরোলো না। কৌশিক মায়াকে কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে ছাদের দিকে এগোতে লাগল। ছাদের পৌঁছাতেই ছাদের কোণে কৌশিক মায়াকে নিযে গিয়ে ধীরে ধীরে দোলনায় বসিয়ে দিল।

আজকের আকাশটা একেবারেই রোমান্টিক ছিল মৃদু ঠান্ডা হাওয়া, আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজারো তারা এবং তাদের মাঝে একা একটি চাঁদ যেন চারপাশে তার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছিল। সেই আলোয় আকাশটা যেন রূপলি মায়ায় ভরা, ছোট ছোট তারার ঝলকানি চাঁদের আলোকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছিল। হালকা বাতাসে দোলনাটা আস্তে আস্তে দুলছে। মায়া চুপচাপ দোলনায় বসে আছে, মুখে কোনো শব্দ নেই, শুধু চোখে হাজারো ভাবনার সমুদ্র। হাওয়ার সঙ্গে তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গাল ছুঁয়ে যাচ্ছিল বারবার, যেন বাতাসও তার মনকে ছোঁয়াচ্ছে।
ঠিক সেই সময়, হঠাৎ কৌশিক কিছু না বলেই দোলনার একপাশে বসে পড়ল। দুই পা উল্টো দিকে দিয়ে ধপ করে শুয়ে পড়ে, মাথা রাখল মায়ার হাঁটুর ওপর। মায়া হঠাৎ চমকে উঠল। কৌশিকের এমন আচরণ দেখে মায়া হতভম্ব হয়ে পড়ল। চোখ বড় করে তাকিয়ে রইল।কৌশিক মায়াকে দেখে মুচকি হাসল। হঠাৎ কৌশিক মায়ার নাকে আলতো করে টোকা দিয়ে বলল,

“এইভাবে কী দেখছিস? চোখ দিয়েই গিলে খাবি নাকি?”
কৌশিকের কথায় মায়ার দম বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু সে কোন উত্তর দিল না। মায়া চোখ বন্ধ করে বসে রইল, নিজেকে আবেশে ভাসিয়ে নিয়ে এই সুন্দর মুহূর্তের ছাপ নিজের মনে গেঁথে নিল। কিছুক্ষণ স্থির থাকল, তারপর চোখ খুলে শান্তির একটা নিশ্বাস নিল। কৌশিক মায়ার এমন আবেশময় প্রতিক্রিয়া দেখে ভ্রুকুচকাল।
“কী হলো, মায়া! কী এত ভাবছিস?”
মায়ার চোখ তখন কৌশিকের চার-পাঁচ ইঞ্চি চুলের ওপর গিয়ে পড়ল। সে বলল,
“কৌশিক ভাই আমি কী আপনার চুলে হাত বুলাতে পারি?”
“বুলা,কে মানা করছে তোকে?”
“না,আমি শুনেছিলাম ছেলেরা তাদের চুল এত সহজে কাউকে ছুঁতে….”
মায়াকে থামিয়ে কৌশিক বলল,

“ঠিকই শুনেছিস। একটা ছেলে কখনোই তার চুল অন্য কাউকে স্পর্শ করতে দেয় না, যতক্ষণ না সেই মানুষটা তার পছন্দের মানুষ হয়। আর তুই তো আমার প্রাণ, আমার জান, আমার সুইটহার্ট ,আমার আমরণ তৃষ্ণা নিবারণের কারণ তুই, আমার মায়াময় মায়াবতী তুই। তাহলে তুই যদি না স্পর্শ করিস, তাহলে আর কে করবে?”
কৌশিকের কথা শুনে মায়ার ফর্সা মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল; কিন্তু অন্ধকারের জন্য সেটা বুঝা গেল না। মায়া লাজুকভাবে জিজ্ঞাসা করল,
“তাহলে আমি কী ধরবো?”
“নিরদ্বিধায়..।”

কৌশিক বলার সঙ্গে সঙ্গেই মায়া তার হাত কৌশিকের চুলে ঢুবিয়ে দিল। মায়া চুলে হাত রাখতেই কৌশিক দুহাত বুকে আঁকড়ে ধরে আবেশে চোখ জোড়া বন্ধ করে নিল। মায়া চুলে হাত বোলাতে লাগল। ঠিক সেই সময় হঠাৎ রোহিত ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলতে বলতে ছাদে এসে পৌঁছাল। ছাঁদে পৌঁছাতেই সামনে থাকা দৃশ্য দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়াল।রোহিত ফোনটা কেটে তাদের সামনে এসে অবাক হয়ে বলল,
“এ্যা, কেয়া সিন হ্যাঁ মামা!”
পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনে কৌশিক চোখ মেলে তাকাল, তবে মুখে কোনও ভয়ের ছাপ নেই সে এখনও শুয়ে আছে মায়ার হাটুর উপর। মায়া কিছুটা ভয় পেলেও পরে নিজেকে সামলে নিল, কারণ রোহিত তাদের সম্পর্কের বিষয় আগে থেকেই জানে, আর যা মায়া’ই বলেছিল।কৌশিক ভ্রকুচকে রোহিতকে দেখে বলল,
“দিলি তো রোমান্টিক মুহূর্তের ১৩টা বাজিয়ে। এখানে তোর এখনই আসা লাগল? অন্য সময় আসতে পারতি না?”
রোহিত মুচকি হেসে বলল,

“সরি ব্রো, সঠিক সময়ে ভুল রাস্তা বেছে নেওয়ার জন্য। আসলে আমি জানতাম না, কথা বলতে বলতে উপরে চলে আসছি। আমি চলে যাচ্ছি, তোমরা কন্টিনিউ করো।”
বলতেই রোহিত যেই যেতে লাগল, মায়া পেছন থেকে বলল,
“আরে আরে রোহিত ভাইয়া তেমন কিছু না, কোথায় যাচ্ছেন আপনি? এখানে আসেন, আড্ডা দিই। অনেকদিন হলো সবাই একসাথে বসে আড্ডা দিইনি।”
মায়ার কথা শুনে কৌশিক আড়চোখে তাকাল মায়ার দিকে, তবে কিছু বলল না। সে উঠে বসল মায়ার কোল থেকে। কৌশিক বলল,

“১৩টা বাজিয়ে চলেই যখন এসেছিস, তাহলে এখানে এসে বস। পরে সবাই একসাথে নিচে চলে যাবো।”
মায়া আর কৌশিকের কথা শুনে রোহিত দোলনার সামনে রাখা বেঞ্চে এসে বসে পড়ল। বসার সঙ্গে সঙ্গেই সে বলল,
“ঠিক আছে।”
সাথে সাথে মায়া দুষ্টুমি ভরা স্বরে জিজ্ঞাসা করল,
“তাহলে রোহিত ভাইয়া, আপনার কী অবস্থা?”
রোহিত হেসে উত্তর দিল,
“এই তো, আলহামদুলিল্লাহ, মটামুটি ভালো। তোমার কী অবস্থা?”
“এই তো আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।”
কথাটা বলার পর মায়া একটু থামল, তারপর আবার বলল,
“মটামুটি কেন?”
রোহিত অল্প হতাশ স্বরে বলল,

“মটামুটি না?চোখের সামনে জলজন্তু একটা কাপল বসে আছে আর আমি সিঙ্গেল। তাহলে আমি কীভাবে পুরোপুরি ভালো থাকতে পারি?”
মায়া হেসে বলল,
“নাহ্, আপনার এই দুঃখ সহ্য করার মতো না।”
“নিজে সব সেটাপ করে নিয়ে এখন আমাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে?”
মায়া বলল,
“আরে ভাইয়া মজা কেন করব? আচ্ছা, একটা কথা বলি,আপনি কী এখন পর্যন্ত কেউকে পছন্দ করেন নাই, নাকি কেউ এমন আছে যে আপনাকে পছন্দ করে?”
“আমাকে কেউ পছন্দ করে কিনা, তা তো জানি না।”
“তাহলে আপনি?”
মায়ার কথা শুনে কারো কথা মনে পড়তেই রোহিত চুপ হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে কৌশিক বলল,
“কী রে বল, তোর পছন্দের কেউ আছে?”
রোহিত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“হ্যাঁ, আছে।”
রোহিতের কথা শুনে মায়া আর কৌশিক দু’জনেই বেশ অবাক হলো। মায়া মুখে হাসি নিয়ে বলল,
“ওয়াও, গ্রেট! তা ভাইয়া, ভাবির নাম কী?”
“নাম……”

রোহিত কিছু বলার আগেই ছাদে হাজির হল তিয়াশা আর নিধি। সবাই একে অপরকে দেখে একটু অবাক হলো। কিন্তু তিয়াশাকে দেখা মাত্রই কৌশিকের চোখ-মুখে রাগের ছাপ ফুটে উঠল। সে তার দিকে খিচে তাকিয়ে রইল।তিয়াশা কিছু না বলে নিধিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে এসে বলল,
“কী রে ভাইয়া, তোরা আড্ডা দিচ্ছিস অথচ আমাকে একটা ডাকও দিলি না।”
রোহিত কোনো উত্তর দিল না। নিধিকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে সে উঠে দাঁড়াল। চোখ ড্যাবড্যাব করে নিধির দিকে তাকিয়ে রইল। মায়া বিষয়টা ভালোভাবে খেয়াল করল। মায়া সঙ্গে সঙ্গে সে বলল,

“তিয়াশা, তুইও চলে এসেছিস, ভালো হয়েছে। এখন আড্ডাটা আরো জমবে। আয়, আমার পাশে এসে বস।”
কৌশিক হঠাৎ করেই বলে উঠল,
“না।”
মায়া কৌশিকের দিকে তাকিয়ে বলল,
“না মানে?”
‘না মানে সামনে তো অনেক জায়গা আছে,সে বরং সেখানেই…।”
কৌশিকের কথায় মায়া তেমন গুরুত্ব দিল না। তড়িঘড়ি তিয়াশার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তিয়াশা তোর পাশে ওটা কে রে?”
তিয়াশা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,

“ও…? ও, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমরা সেম ইয়ারে পড়ি, আপু।”
মায়া এবার নিধির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“নাম কী তোমার?”
নিধি হেসে বলল,
“আমার নাম নিধি, আপু।”
“বাহ্, ভারি মিষ্টি নাম তো!”
“থ্যাংস, আপু।”
“চলো, তোমরা সবাই বসো। আজ আড্ডাটা জমিয়ে হবে।”
কিন্তু হঠাৎ কৌশিক দৌলনা থেকে নেমে বলল,
“তোরা আড্ডা দে, আমি যাচ্ছি।”
বলেই কৌশি যেতে নিবে ওমনি মায়া দ্রুত কৌশিকের হাত ধরে বলল,
“কোথায় যাচ্ছেন কৌশিক ভাই! বসেন, না। অনেকদিন পর সবাই একসাথে হলাম। একটু আড্ডা দেই। কাল তো আমি চলে যাবো, তাই প্লিজ।”

কৌশিক তিয়াশাকে দেখে বিরক্ত হলেও মায়ার কথার প্রভাবও উপেক্ষা করতে পারল না। সে আবার দোলনায় গিয়ে বসে পড়ল। তাদের এই সব আচরণ খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল তিয়াশা।শুরুতে কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও, পরে মুখ উজ্জ্বল হয়ে হাসল। নিধিকে সঙ্গে নিয়ে বেঞ্চে বসে পড়ল তিয়াশা। রোহিত চুপচাপ একপাশে দাঁড়িয়ে আছে, কোনো কথা বলছে না। মায়া সব খেয়াল করল। অতঃপর সে বলল,
“রোহিত ভাইয়া, আপনি কৌশিক ভাইয়ার পাশে এসে বসেন।”
রোহিত চুপচাপ দোলনার একপাশে এসে বসে পড়ল। সাথে সাথে তিয়াশা বলল,
“কী নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলে তোরা? আমাদেরও একটু শেয়ার করো।”
রোহিত কিছু বলতে এর আগেই মায়া বলল,

“আড্ডা কেবল শুরু করেছিলাম আর তোমরা এলে।”
তিয়াশা হেসে বলল,
“ওহ্..”
মায়া বলল,
“এভাবে বসে থাকলে বোর হবো। চল, কোন একটা খেলা খেলা যাক।”
পাশ থেকে নিধি বলল,
“কারো কোনো আপত্তি না থাকলে আমি একটা প্রস্তাব দিতে পারি?”
মায়া উৎসাহিত হয়ে বলল,
“হ্যাঁ, বলো।”
নিধি চঞ্চল মুখে বলেই ফেলল,
“চলুন সবাই মিলে ‘গানের কলি’ খেলা যাক। অনেক মজা হবে।”
নিধির কথা শুনে মায়া একটু অবাক হয়ে বলল,
“গুড আইডিয়া…।”
তাদের কথাগুলো শুনে কৌশিক দোলনা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“আমি খেলবো না, তোরা খেল।”
পাশ থেকে রোহিতও উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“আমিও খেলবো না।”
কৌশিক হালকা কণ্ঠে বলল,
“তাহলে চল ভাই, আমরা নিচে যাই।”

দুইজনে হাঁটা শুরু করতেই মায়া ঝটপট দোলনা থেকে নেমে এসে তাদের সামনে পথ আটকে দাঁড়াল,
“কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি? চুপচাপ ওখানে গিয়ে বসে পড়েন।”
কৌশিক কিছু বলতে যাওয়ার চেষ্টা করতেই মায়া আবার বলল,
“কোন কথা না। রোহিত ভাইয়া আপনিও চলুন।”
মায়ার জোরাজুরি দেখে কৌশিক ও রোহিত বাধ্য হয়ে দোলনায় এসে বসে পড়ল। মায়া এক নজর সবাইকে দেখল। সবার মুখের মানচিত্রের দশ-বারোটা অবস্থা দেখে সে বলল,
“তিয়াশা আর নিধি, তোমরা কিছু বলবি না। আচ্ছা, কৌশিক ভাই আর রোহিত ভাই, আপনারা এমন একটা কথা বলুন যা শুনলে আমাদের হাসিও উঠবে, আবার রাগও আসবে। চাইলে একজনকে নির্দিষ্ট করেও বলতে পারেন।”
সাথে সাথে রোহিত তিয়াশার দিকে মুচকি হেসে তাকিয়ে দুষ্টু ভরা কণ্ঠে বলল,

“তিয়াশা বোন আমার, তুই আমার পুরো জিন্দেগী…”
তিয়াশা নিজের ভাইয়ের মুখ থেকে এ কথা শুনে অবাক হয়ে বলল,
“ওয়াও ভাইয়া! সত্যি? তুমি আমাকে এত ভালোবাসো আগে জানতাম না তো?”
“আরে, পুরো কথাটাতো শোন।”
তিয়াশা অধীর হয়ে বলল,
“হ্যাঁ, তারাতারি বলো, পুরো কথাটা।”
রোহিত মুখের হাসি চেপে দুষ্টু স্বরে বলল,
“আর থু! এইসব জিন্দেগীর উপরে।”
রোহিতের কথা শুনে সবাই জোরে হেসে উঠল। সবার আড়ালে কৌশিকও হেসে উঠল।
তিয়াশা রাগে গদগদ করে বলল,

“সয়তান…!”
“এই, তোর বড় ভাই আমি! আরেকবার সয়তান বললে, তোর ৩২টার মধ্যে ৩২টা দাঁতই এক ঘুষি মেরে ভেঙে দেব।”
মায়া তিয়াশার সাইট নিয়ে রোহিতের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমি করে বলল,
“রোহিত ভাই, কী বললেন? আমার কিউট বোনকে? ৩২টার মধ্যে ৩২টা দাঁতই ভেঙে দেবেন? তার আগে আমি আপনার ৬৪টার মধ্যে ৬৪টা দাঁতই হাতুড়ি দিয়ে এক বারি দিয়ে ভেঙে দেব।”
মায়ার কথা শুনে পাশ থেকে কৌশিক আড়চোখে তাকাল।
“কী মায়া, খেলার চক্করে সব ভুলে গেলি নাকি? তুই এটাও জানিস না? একজন ব্যক্তির ৬৪ টা দাঁত নয়, ৩২ টা দাঁত হয়।”

বলেই কৌশিক আর রোহিত হেঁসে দিল। মায়া কৌশিকের দিকে ভ্রকুচকে তাকিয়ে বলল,
“হ্যাঁ, আমি জানি।আর আমি এটাও জানতাম যে আপনার ভাইকে কিছু বললে আপনার সহ্য হবে না। তাই ভেতরে কোন না কোন কথা বলবেন। তাই আপনার ৩২ পার্টি সহ ধরে বলছিলাম। হলো না, ৬৪পার্টি দাঁত?”
মায়ার এই কথা শুনে তিয়াশা আর নিধি জোরে হেসে উঠল, কিন্তু রোহিত ও কৌশিকের মুখে হেসে ওঠার চিহ্ন ছিল না। দুইজনই মায়ার কথায় হালকা অপমান বোধ করল। রোহিত বলল,
“এইসব কী, মায়া! নাহ্, এত অপমান সহ্য করা যায় না। কৌশিক ব্রো, এবার তুমিই কিছু করো। এত অপমান আর নেওয়া যাচ্ছে না।”

সাথে সাথে কৌশিক মায়ার দিকে তাকাল। মায়া আড়চোখে তাকাল কৌশিকের দিকে।কৌশিক মুচকি হেসে তার দিকে চোখের ইশারা ছুড়ে মারল। সাথে সাথে মায়া বিষম খেয়ে দুবার শুকনো ঢোঁক গিলল। এক ধেনেই কৌশিকের দিকে তাকিয়ে রইল। কৌশিক, মায়ার এমন অবস্থা দেখে মনে মনে হাসল। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সে মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আচ্ছা, মায়া, তুই মেয়ে হলে কী করতি?”
মায়ার অপ্রস্তুত ভাবেই মুখ থেকে বেরিয়ে এল,
“আমি মেয়ে হলে তো…”
মায়ার কথার মাঝেই কৌশিক মুচকি হেসে বলল,
“হ্যাঁ পরে.…?”

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১৯

কৌশিক এতটুকু বলতেই পাশ থেকে রোহিত জোরে হেসে উঠল। ভুলটা বুঝতে পেরে মায়া লজ্জায় নিজের মুখ চেপে ধরল। তারপর কৌশিকের দিকে রাগান্বিত চাহনি নিক্ষেপ করে বিড়বিড় করে বলল,
“চালাক, অসভ্য, কুত্তা,বাদর লোক একটা।”

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২১