Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২১

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২১

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২১
আরাফাত আদনান সামি

সাথে সাথে কৌশিক মায়ার দিকে তাকাল। মায়া আড়চোখে তাকাল কৌশিকের দিকে।কৌশিক মুচকি হেসে তার দিকে চোখের ইশারা ছুড়ে মারল। সাথে সাথে মায়া বিষম খেয়ে দুবার শুকনো ঢোঁক গিলল। এক ধেনেই কৌশিকের দিকে তাকিয়ে রইল। কৌশিক, মায়ার এমন অবস্থা দেখে মনে মনে হাসল। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সে মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আচ্ছা, মায়া, তুই মেয়ে হলে কী করতি?”
মায়ার অপ্রস্তুত ভাবেই মুখ থেকে বেরিয়ে এল,
“আমি মেয়ে হলে তো…”
মায়ার কথা থামিয়ে রোহিত মুচকি হেসে বলল,
“তুই মেয়ে হলে পরে কী মায়া…?”
এতকুটু বলেই রোহিত আবারো জোরে হেসে উঠল। ভুলটা বুঝতে পেরে মায়া লজ্জায় নিজের মুখ চেপে ধরল। তারপর কৌশিকের দিকে রাগান্বিত চাহনি নিক্ষেপ করে বিড়বিড় করে বলল,
“চালাক, অসভ্য, বাদর লোক একটা।”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

মায়া আর আর কোনো কথা বলল না। ধীরে ধীরে আড্ডার পরিবেশ নীরব হয়ে গেল। সবাই প্রায় দু’ঘন্টা খানিক সময় ধরে আড্ডা দিয়ে নিজেদের রুমে চলে গেল। রাত তখন প্রায় ৯টা। চাঁদের ম্লান আলো চারপাশে জলজল করছে, যেন সারা জগৎ নিজেই নিস্তব্ধ।
এমন সময় তিয়াশা নিজের রুম থেকে নিধিকে নিয়ে বের হয়ে হল রুমে চলে এলো। হল রুমে তখন রোহিতকে ছাড়া আর কেউ ছিল না। তিয়াশা কিছু না বলে চুপচাপ নিধিকে নিয়ে সোফায় বসতে গেল। ঠিক তখনই নিধি বলল,
“তিয়াশা, আজ আর না। অলরেডি ৯ টা বেজে গেছে, আমি বরং আজ যাই।”
তিয়াশা সাথে সাথে বলল,

“সেকি? তুই না বললি আজ আমার সাথে আমাদের বাড়িতে থাকবি?”
“না, তিয়াশা, অন্য কোনো একদিন। আজ আমার ভালো লাগছে না।”
“ও কামন নিধি, এই সামান্য বিষয় নিয়ে এত মন খারাপ করিস না, ইয়ার। তুই তো কত চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে,তোকে এইভাবে মন মরা অবস্থায় বসে থাকতে দেখে আমার একটু ভালো লাগছে না। আমাকে জ্বালাতে তোর না ভালো লাগে? তাহলে আজ আমার সাথে ইচ্ছা মতো দুষ্টুমি করতে পারিস আমি কিছু বলব না। কিন্তু প্লিজ, এইভাবে সামান্য বিষয়ে ভেঙে পড়িস না।”
নিধি তিয়াশার কথায় একটু হাঁসে, কিন্তু তারপরই বলল,
“তোর এটা সামান্য মনে হচ্ছে তিয়াশা?”
তিয়াশা নিধির চোখের দিকে তাকাল, আর কোনো কথা বলল না। তাদের ঠিক উল্টো পাশে সোফায় বসে রোহিত ফোনে ব্যস্ত, কিন্তু ফোনে ফাকে ফাকে তাদের টুকটাক কথোপকথন কিছুটা শুনছিল। এমন সময় রান্নাঘর থেকে হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে হল রুমে এলেন সায়েরা চৌধুরী। নিধিকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

“আরে নিধি মা,কখন আসলে?”
নিধি মুখ ভার করে বসেছিল। চোখেমুখে যেনো অদৃশ্য এক ভার জমে আছে। সায়েরা চৌধুরী প্রশ্নে নিধি ভদ্রতার সঙ্গে উত্তরে বলল,
“আন্টি, এসেছি তো অনেকক্ষণ আগেই, এখন চলে যাবো।”
সায়েরা চৌধুরী অবাক হলেন,
“সেকি! অনেক্ক্ষণ আগে আসলে, আর আমি এখন তোমাকে দেখলাম?”মুখে মিষ্টি হাসি এনে বললেন,
“যাই হোক, খাবার পানি কিছু খেয়েছো মা?”
নিধি কোনো উত্তর দিল না, শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। সায়েরা চৌধুরীর দৃষ্টি নিধির থেকে সরে গিয়ে তা নিজের মেয়ে তিয়াশার দিকে পড়ল।

“তিয়াশা, এখন পর্যন্ত তুই ওকে কিছু খেতে দিসনি?”
তিয়াশা একটু বিরক্ত স্বরে বলল,
“আম্মু, দিয়েছিলাম তো। ও নিজেই কিছু খায়নি।”
“ওমা কেনো?”
সায়েরা চৌধুরী এবার নিধির পাশে এসে বসলেন। মায়ায় ভরা হাতটা তুলে দিলেন নিধির মাথায়।
“মন খারাপ নাকি মা?”
নিধি মাথা নিচু করে নরম স্বরে বলল,
“না আন্টি, তেমন কিছু না…”
সায়েরা চৌধুরী মুচকি হেসে তাকালেন মেয়েটার দিকে। সেই হাসিতে ছিল মমতা, ছিল অভিজ্ঞতার এক নিঃশব্দ আশ্বাস। বললেন,

“তোমার মন খারাপ,তোমার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে মা।আমি জানি না কেন তোমার মন খারাপ, তবে আমার কাছ থেকে একটা কথা নিয়ে যাও। শুনবে?”
নিধি চুপ করে রইল, শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
সায়েরা চৌধুরী ধীরে ধীরে বললেন,
“জানো মা, আমাদের জীবনে অনেক কিছুই হারিয়ে যায় নতুন কিছু পাওয়ার আশায়। তাই কখনো কোনো ছোটখাটো হারানো জিনিসে কষ্ট পেতে হয় না।বরং তোমার জন্য সামনে যে আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে সেটা পাওয়ার আনন্দে মেতে থেকো। দেখবে, জীবনে দুঃখ বলে কিছুই থাকবে না।”
সায়েরা চৌধুরীর কথাগুলো নিধির হৃদয়ে যেনো মৃদু ঢেউয়ের মতো ছুঁয়ে গেল। নিধি ধীরে ধীরে মাথা তুলল,নিধি কী বলবে, বুঝতে পারছিল না। তাই শুধু মাথা নাড়িয়ে ‘হ্যাঁ’ সম্মতি জানাল।
সেই মুহূর্তে সায়েরা চৌধুরীর মুখে মিষ্টি হাসি ফুটল।
“চলো মা কিছু খেয়ে নেও, তারপর না হয় বাড়ি চলে যেও।”
নিধি কন্ঠে একটা ছোট্ট আড়ম্বরহীন অনুরোধে বলল,

“না আন্টি, আমাকে রেখে আমার আব্বু কখনো খায় না। হয়তো এখনো আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমাকে যেতে হবে, আন্টি। অন্য কোন এক সময় খেয়ে নেব।”
সায়েরা চৌধুরী তার মমতায় মুখে বললেন,
“ঠিক আছে মা, তুমি যা ভালো মনে করো।”
“আচ্ছা, আন্টি, আজ তাহলে আমি উঠি।”
“ঠিক আছে, যাও। কিন্তু এত রাতে একা কীভাবে যাবে? সাথে তোমাদের নিজস্ব গাড়ি এনেছো?”
নিধি আশ্বস্ত স্বরে বলল,
“না।কোন সমস্যা নেই, আন্টি। আমি চলে যেতে পারব।”
সায়েরা চৌধুরীর চোখে সতর্কতার ছাপ ছুটিয়ে বললেন,
“চলে যেতে পারবে বললেই কি হলো নাকি?খোদা না করোক যদি কিছু হয় যায় তো? আজকাল চারিদিকে যা ঘটছে, এক সেকেন্ডেরও ভরসা নেই।”
কথাটা বলে তিনি রোহিতের দিকে তাকালেন।

“রোহিত, শোন।”
রোহিত ফোন নিচে নামিয়ে বলল,
“হ্যাঁ, আম্মু, বলো।”
“নিধি’কে বাড়ি পর্যন্ত ছেড়ে আয় তো, বাবা।”
“কিন্তু আম্মু…..”
রোহিত আর কোনো কথা বলার আগেই সায়েরা চৌধুরী কণ্ঠে দৃঢ়তা নিয়ে বললেন,
“কোন কিন্তু টিন্টু না। যা বলেছি তাই কর, ওকে বাড়ি পর্যন্ত ছেড়ে আয়।”
“ঠিক আছে, আম্মু।”
এমন সময় নিধি পাশ থেকে হালকা দৃঢ় স্বরে বলল,
“না আন্টি, এসবের কোনো প্রয়োজন নেই। আমি একাই চলে যেতে পারব।”
নিধির কথায় রোহিত ভ্রুকুচকাল। ধীরে ধীরে বলল,
“ঠিক আছে, তাহলে চলে যান।”
সঙ্গে সাথেই সায়েরা চৌধুরী রোহিতের দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালেন, দাঁত দাঁত পিষে বললেন,
“রোহিত…”
রোহিত হাত তুলে হালকা হাতছানি দিয়ে বলল,

“আম্মু, আমি কী করলাম? ওই তো বলল যে ও একাই যেতে পারবে।”
“তুই চুপ থাক। মা, তুমি ওর কথায় কিছু মনে করো না। আসলে ও একটু পাগল টাইপের, তাই কখন কী বলতে হয়, কিছু জানে না।”
নিধি সায়েরা চৌধুরীর কথা শুনে, মন খারাপের মাঝেও, এক হাত মুখে দিয়ে হালকা হাসি ফোটাল। রোহিত তা ভালো করেই লক্ষ্য করল।
রোহিত ভ্রুকুচকে আবার বলল,
“আম্মু, তুমিও না…”
সায়েরা চৌধুরী রোহিতের কোনো কথার জবাব না দিয়ে নিধির মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত স্বরে বললেন,
“সাবধানে যেও, মা।”
নিধি মৃদু স্বরে বলল,
“ঠিক আছে, আন্টি।”
পাশ থেকে রোহিত আবার হালকা জোরে বলে উঠল,

“আপনার নাটক কী শেষ? শেষ হলে এখন আমরা কি যেতে পারি, মিস নিধি?”
নিধি রোহিতের কথায় ভ্রুকুচকাল। কোনো উত্তর না দিয়ে সে সোজা হাঁটতে শুরু করল। পেছন পেছন রোহিতও চলে এলো। বাড়ি থেকে বেরিয়ে রোহিত গাড়ির সামনে এসে গাড়ির দরজা খুলে বসে পড়ল। নিধি যেই গাড়ির পেছনে বসতে যাবে, ওমনি রোহিত বলল,
“ও হ্যাঁলো, ম্যাডাম! আমি আপনার ড্রাইভার নই যে আমি সামনে বসে গাড়ি চালাব আর আপনি মালিকের মতো পেছনে বসে থাকবেন। ঝটপট সামনে এসে বসুন।”

নিধি কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা সামনের সিটে গিয়ে বসে পড়ল। রোহিত গাড়ি স্টার্ট করল এবং মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভিং শুরু করল। বেশ কয়েক মিনিট চলে গেল। কেউ কারো সাথে কোনো কথা বলছে না। রোহিত গাড়ি চালাচ্ছে, আর নিধি জানালার পাশে হেলান দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। রোহিত বিরক্ত বোধ করছিল। পাশে এত সুন্দর, হ্যান্ডসাম ছেলে বসে আছে, তার দিকে না তাকিয়ে নিধি একটানা জানালার দিকে তাকিয়ে আছে, আবার এখন পর্যন্ত কোনো কথাই বলল না।অবশেষে রোহিত ভ্রুকুচকে নিধির দিকে আড়চোখে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,
“কী হলো, আজ এত চুপচাপ?”
নিধি জানালার পাশে হাত গুঁজে, স্বভাবসিদ্ধভাবে হালকা স্বরে বলল,

“এমনি।”
“কোনো সমস্যা হলে আমার সাথে শেয়ার করতে পারেন।”
নিধি ভ্রুকুচকে তাকিয়ে বলল,
“আমি পাগলদের সাথে কথা বলি না।”
“আমি পাগল?”
“হ্যাঁ। একটু আগে আন্টি কী বললো, শুনতে পাননি? না শুনতে পেলে বাসায় গিয়ে আরেকবার আন্টির মুখ থেকে শুনে নিবেন।”
নিধির কথায় রোহিতের ভ্রু কুঁচকে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে ধীরে বলল,

“আরে, আপনার আন্টির কথা বাদ দিন তো। আমি সিরিয়াসলি বলছি কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলতে পারেন, ‘আই ডোন্ট মাইন্ড’।”
নিধি ঠোঁট টিপে হালকা স্বরে বলল,
“থ্যাংকস, কিন্তু আমি পাগলদের সাথে কথা বলে পাগল হতে চাই না।”
“ওহ্, রিয়েলি? তাহলে এতক্ষণ আমার সাথে কে কথা বলল, শুনি?”
“না, পেরে বলতে হয়েছে। না হলে আমি তো চুপচাপই ছিলাম। আপনিই তো প্রথমে শুরু করলেন।”
“যাই হোক, পাগলের সাথে কথা তো বলেছেন নাকি? এটা তো আর অস্বীকার করতে পারবেন না!”
“হ্যাঁ, বলেছি তো!”
“তো আবার কী, তাহলে এখন আপনিও পাগল। এখন ঝটপট বলে ফেলুন, কেন আপনার এত মন খারাপ?”
নিধি রোহিতের কথা শুনে মনে মনে রেগে গেলেও তা প্রকাশ করল না। নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ধীরে ধীরে বলল,
“আপনি এত কথা বলেন কেন? চুপচাপ গাড়ি চালাতে পারেন না?”
এক প্রকার মুখ ফসকে রোহিত বলে উঠল,

“না, পারছি না, কারণ আপনি চুপচাপ আছেন, তাই।”
নিধি অবাক হয়ে বলল,
“হোয়াট?”
রোহিত আমতা আমতা করে বলল,
“না মানে, আপনার সাথে প্রথম যে দিন পরিচয় হলো, সেই দিন আপনাকে দেখে আমার চঞ্চল প্রকৃতির মনে হয়েছিল,এন্ড ওটাই আপনার সাথে পারফেক্ট ছিল। কিন্তু এখন, এইভাবে মনমরা অবস্থায় আপনাকে একদম ভালো দেখাচ্ছে না।”

নিধি হালকা বিরক্ত হয়ে বলল,
“আজব তো আপনার, তাতে কী?”
রোহিত হাসি মিশিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“আরে আরে রেগে যাচ্ছেন কেনো?”
নিধি কণ্ঠে হালকা তির্যকতা আনে বলল,
“তো রাগবো না?”
রোহিত দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল,
“আচ্ছা, লাস্ট একটা প্রশ্ন করি?”
নিধি ভ্রুকুচকে তাকিয়ে বলল,
“কী?”
“বলাটা উচিত হবে কী না জানি না, তবে তাও বলছি, আপনার কী কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে?”
“হ্যাঁ, আছে।” নিধি সরাসরি বলল।
রোহিত আচমকাই অবাক হয়ে বলল,

“ইন্না-লিল্লাহ্হ্…”
“না মানে, ছিল কিন্তু আজ ব্রেকআপ হয়েছে।”
কথাটা শুনে রোহিত যেন হাফছেড়ে বাঁচল।বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ…!”
কথাটা বলেই রোহিত মনে মনে বলে উঠল,
“ও তাহলে এই ঝাঁঝমরিচ এই কারণে মন খারাপ করে বসে আছে?ভেরি বেড।”
রোহিতের এমন রিয়েকশন দেখে নিধি কপালে ভাঁজ ফেলল।
“আমার ব্রেকআপ হয়েছে, আর আপনি আলহামদুলিল্লাহ বলছেন?”
রোহিত নির্বিকার স্বরে বলল,
“আরে, রিলেশন করা ভালো না। রিলেশন করা হারাম, তাই ব্রেকআপ হয়েছে শুনে আলহামদুলিল্লাহ বললাম।”
নিধি রোহিতের কথায় কী বলবে, বুঝতে পারল না। তাই চুপই থাকল।
এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল। কেউ কারো সাথে আর কোনো কথা বলল না। নিধি জানালার দিকে হেলান দিয়ে বসে আছে, আর রোহিত মুচকি মুচকি হাসছে আর হাঁসিমাখা মুখে, মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল।

“কী করছেন, লাগছে, ছাড়ুন।”
কৌশিকের কোলে কাচুমাচু হয়ে বসে মায়া হালকা বিরক্তি মেশানো স্বরে কথাটা বলল।
কৌশিক হালকা হাসি দিয়ে পেছন থেকে আরও শক্ত করে ধরে বলল,
“না, ছাড়বো না।”
“আমি ব্যথা পাচ্ছি তো।”
“ওহ্, সুইটহার্ট, ব্যথা দেওয়ার মতো তো এখনো কিছুই করিনি।”
মায়া চোখ কুঁচকিয়ে বলল,
“আপনার এই সুচালো দাঁড়ি কী কম?”
কৌশিক মুচকি হাসি দিয়ে উত্তর দিল,
“আমার এই ছোট ছোট নিষ্পাপ দাঁড়ি গুলো তোকে কী করেছে, শুনি?”
“কী করেনি সেটা বলুন!”
“আচ্ছা কী করেনি?”

“এগুলো আপনার দাঁড়ি নাকি বাসন মাজার মাজুনি?মাজুনিও আপনার দাঁড়ির থেকে নরম, জানেন!”
“কী বলিস! আমার দাঁড়িতে এত ধার?”
“হ্যাঁ,আপনার এই দাঁড়ি দিয়ে পাতিলে তলায় কয়েকটা ঘসা দিলে এক মিনিটে কালা থেকে ধলা হয়ে চাঁদের মতো চকচক করবে পাতিল তলা।”
“চুপ,আমার নিষ্পাপ দাঁড়ি গুলোকে নিয়ে যদি আর একটা কথা বলিস তো।”
“এয়েহ্ আইছে, উফ্ কৌশিক ভাই লাগছে,ঘাড় থেকে সরান আপনার মুখটা আর কয়েকমিট থাকলে আমার ঘাড়ের চামড়া খলসে পড়বে।”
কৌশিক পেছন থেকে মায়াকে আরো জোরে আকড়ে ধরে বলে,
“কিছু হবে না।”
“অনেক হইছে ছাড়ুন তো।”
“উম্..!”
“ছাড়ুন না লাগছে তো।”
“উম্…।”
“আজব তো কী উম্ উম্ করছেন।”
“উম্ সুইটহার্ট ডিস্ট্রার্ব করিস না তো।”
“আগে আপনি আপনার মুখটা আমার ঘাড় থেকে উঠান সত্যিই আমার লাগছে।”

“মায়া…”
“উঠুন তো।”
“ধ্যাৎ ভাল্লাগে না।”
বলেই কৌশিক মায়ার ঘাড় থেকে মুখ উঠিয়ে আবার বলল,
“এবার হয়েছে শান্তি?”
মায়া ঘাড়ের হাত বুলিয়ে চুল গুলো ঠিক করে বলল,
“হ্যাঁ হয়েছে।”
কৌশিক বিরক্তির রেখা টেনে বলল,
“দাড়া কাল সেলুনে গিয়ে এই দাঁড়ি গুলো শেভ করে আসব।”
কৌশিকের কথা শুনে মায়া ভ্রকুচকে বলল,
“কী বললেন আপনি?”
“বলছি কাল সেলুনে গিয়ে দাঁড়ি শেভ করে আসব।”
“কেন?”
“এই যে আমার দাঁড়ির জন্য তুই ব্যথা পেলি আর আমি তোকে আদর করতে পারলাম না।”
“এখন তো যাও আমাকে ছুতে পারছেন একবার দাঁড়ি গুলো খালি কেটে আসেন, আমাকে ছোয়া তো দূর আমার আশে পাশেও ঘেসতে দিব না এই বলে দিলাম হ্যাঁ।”
“কেনো?”

“কেনো আবার কী?ছেলেদের আসল সৌন্দর্যই লুকিয়ে থাকে তার দাঁড়িতে আর আপনি আপনার সেই সৌন্দর্য কাঁটতে চাচ্ছেন? আপনি জানেন আপনার এই ছোট ছোট দাঁড়ি গুলোর জন্য আপনাকে কত হ্যান্ডসাম দেখতে লাগে?”
“সত্যি!আমার দাঁড়ি তোর পছন্দ?”
“পছন্দ মানে খুব পছন্দ।”
“আমি শুনেছিলাম মেয়েরা নাকি দাঁড়ি ছাড়া ছেলেদের বেশি পছন্দ করে!”
“কিছু কিছু মেয়েরা করে বাট আমি করি না।”
“কেনো?”
“এমনি যার যেটা পছন্দ।”
কৌশিক মায়াকে আলতো করে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে মুচকি হেসে দুষ্টু স্বরে বলল,
“আচ্ছা আচ্ছা, আমার হবু বেগম দেখছি, এখন পছন্দ-অপছন্দও বুঝে গেছে। বিয়ের আগেই নিজের হবু জনাবের ওপর শাসন চালু হয়ে গেছে? বাহ্ বেগম বাহ্, তোমার জনাব খুশি হলো, খুব খুশি হলো। বলো বেগম, তোমার কী চাই? বলো।”
কৌশিকের কথা শুনে মায়া কিঞ্চিত লজ্জা পেয়ে বলল,

“সত্যিই চাইবো?”
“হ্যাঁ।”
“আমি চাই…”
“হুম, বলো…”
“আমার এই…”
“হ্যাঁ, পরে…”
“অসভ্য জনাব যেন…”
কৌশিক ভ্রুকুচকে বলে,
“বেগম…”
“তার এই কিউট বেগমকে…”
কৌশিক ধৈর্য হারিয়ে বলল,
“উফ্, বেগম, পুরো কথাটা শেষ করো।”
“ঠিক এইভাবে…”
“এত অপেক্ষা করাচ্ছো কেন, বেগম? পরে বলো না।”
“অনন্তকাল…”
“কী, এক একটা করে বলছো? বেগম, তুমি জানো না তোমার জনাবের ধৈর্য কতটুকু?”
“নিজের…”
“উফ্, বেগম, কন্টিনিউ করো…”
“বুকের মাঝে…”

কৌশিক নিজের শক্তপোক্ত হাতে মায়াকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে একেবারে লেপটে দেয় নিজের শক্ত পোক্ত বাহুতে। অতঃপর ঘোর লাগা কণ্ঠে বলল,
“বেগম, পুরোটা একসাথে বলো না! তোমার এই অসভ্য জনাব শুনতে মরিয়া।”
কৌশিকের কথায় মায়া আরও লজ্জা পেল।লাল হয়ে উঠল দুটি গাল। লজ্জায় মায়া কৌশিকের শক্তপোক্ত বুকের মাঝে নিজের মুখানা লুকিয়ে বলে উঠল,
“আমি চাই, আমার এই অসভ্য জনাব যেন তার এই কিউট বেগমকে ঠিক এইভাবে অনন্তকাল নিজের বুকের মাঝে শক্ত করে আগলে ধরে রাখুক।”
কৌশিক মায়ার কথা শুনে মুচকি হেসে নিজের বুক থেকে ধীরে ধীরে মায়ার মুখ সামান্য তুলে, আলতো করে দু’হাত দিয়ে তার দুই গাল টেনে বলল,

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২০

“ওলে, আমার কিউট বেগম রেহ্..!”
মায়া কিঞ্চিত লজ্জা পেল অতঃপর মায়া কৌশিককে চমকে দিয়ে তার দু’হাত কৌশিকের গালগুলোতে আলতো রাখল, তারপর কৌশিককে নিজের দিকে হলকা টেনে এনে কপালের উপর একটা মৃদু চুমু একে দিয়ে দুষ্টু’ই ভরা স্বরে বলল,
“ওলে, আমার অসভ্য জনাব রেহ্..!”

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২২