কালকুঠুরি পর্ব ৫৭
sumona khatun mollika
চাচি মাহার মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে শান্তনা দেয় । চাচির কাছে প্রশ্রয় পেয়ে মাহা নিঃশব্দে চোখের নোনা জল ছেড়ে দেয় ।
” আমাকে কেমন লাগছে চাচি? ”
” ঠিক তেমনটা যেমনটা দেখার জন্য আমাকে জল্লাদ সেজে থাকতে হয়েছে । কারণে অকারণে তোকে মারধর করতে হয়েছে ,, যখনি সাহায্য করতে চেয়েছি আড়াল থেকে করতে হয়েছে। ”
মাহা মুখ বেকিয়ে হাসলো । সবসময় চাচি খারাপ বনে থাকতো। তবে সবাই যখন ঘুমিয়ে যেত, রাতের আঁধারে গিয়ে গায়ের চাদর ঠিক করে দিয়াসতো। রাফির সাথে বিয়েটা মফিদই ঠিক করেছিল । যখন বিয়ে ভেঙে দিতে চাইলো, চাচিতখন আৎকে উঠেছিল। বিয়ে হলে তাও চলে যাবে। কিন্তু না হলে তো ওকে মেরে দেবে। মাহা জানতো চাচির খারাপ মুখোশের আড়ালে রয়েছে তার জন্য গভীর চিন্তা । এমনকি নিজের বউমা বানাতেও রাজি হয়নি যাতে করে মাহা মীর পরিবার থেকে দুরে চলে যায় । সেইজন্যই সামিরের সাথে বিয়ে তে তার মত ছিলনা। চেয়েছিল আরো দূরে বিয়ে হোক।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
প্রয়োজনে রাজশাহীর বাইরে হোক। তবুও সবার কালো নজর থেকে রক্ষা পাক। সেদিন যখন রাতের আঁধারে মাহবুব উদ্দিন পেপারে মফিদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিতে গিয়েছিল, চাচি স্বয়ং দড়জা খুলে দিয়েছিল। খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল ঘুমের ওষুধ যার দরুন মাহবুব উদ্দিন অতি সহজেই কার্য সিদ্ধি করতে পেরেছে। স্বয়ং মাহাবুব উদ্দিন ও বিষম খেয়েছিল চাচির সত্যি টা জেনে। মাহা চাচির দিকে তাকিয়ে বলল,,
” মুহিব ভাই মেয়ের হওয়ার যোগ্য নয় চাচি। আশা করি তোমার কোনো অভিযোগ থাকবে না৷ ”
” থাকবেনা। ও যে মেয়র আমি এখনো মানতে পারিনা। ভুমি কবে ফিরবে? ”
” থাকুক কিছুদিন ওর আব্বুর সাথে । আমি জানিনা কার সাথে ঠিক কি হতে চলেছে। অন্তত কিছুদিন ওরাদুজন সেফ জোনএই থাকুক। তুমি যাও চাচি। সাবধানে থেক ‘”
” আল্লাহ তোর সহায় হোক। আসছি ”
চাচি চলে গেলে মাহা চলে যায় রাজপাড়া থানায়। তাকে দেখে সকলে সেলুট জানায়। তাকে সরকারি কালো গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে আসতে দেখে মাহবুব উদ্দিন বাঁকা করে হাসে। তারপর সময় নিয়ে বলে,,
” সেইদিন টা এসেই গেল যেদিন থেকে আপনি হলেন আমার সিনিয়র । মেডাম। ”
সাব ইন্সপেক্টর তৈমুর এগিয়ে গিয়ে বলে,
” কখনো ভাবিনি আমাদের আবার এভাবে দেখা হবে মেডাম। ”
মাহা মাথা দুলিয়ে শক্ত কণ্ঠে বললো,
” মেয়রের বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট রেডি করুন। সিকান্দার গার্মেন্টস এ রেড মেরে দিন। যতদিন পর্যন্ত গার্মেন্টসের সকল কিছু বৈধ প্রমাণিত না হয় ততদিন রেড তুলবেন না। আমি খবর পেয়েছি সেখানে ড্রাগসের আনাগোনা রয়েছে। নির্বাচন সভাপতি রুবেল দেওয়ানকেও সন্দেহের তালিকায় শীর্ষে রাখবেন। অপেক্ষা করুন তার বেরিয়ে আসার যাকে বিগত পাঁচ বছর ধরে কেও ধরতে পারেনি। সাফিন সিকান্দার কে কৈফিয়ত দেবেননা। সোজা কোর্ট স্টেটমেন্ট ছুড়ে দেবেন। ”
” ইয়েস স্যার! ”
“আরেকটা কথা, কেও আমার নাম মাহাদিবা বলতে পারবেন না। আমার পরিচয় আমি জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট ফারনাজ। ”
মাহা বেরিয়ে গেলে ইন্সপেক্টর জোভান সুযোগ বুঝে সাফিন সিকান্দার কে কল করে। সাফিন যখন খবর পায় নতুন আগত জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট গার্মেন্টসএ রেড মেরেছে। একদলকে হুকুম করে তার সম্পর্কে সকল ইনফো বের করে আনতে। অন্য দলকে খবর পাঠায় ১০ ঘন্টার মধ্যে গার্মেন্টস থেকে সকল ড্রাগস এবং ব্ল্যাক মানি সরিয়ে দিতে। কাশেমকে কল করে,,,
“হ্যালো? ”
” বলেন সাফিন ভাই ”
“কাশেম, সামির কে খুজে বের কর। যতদ্রুত সম্ভব। সিয়ামকে ফেরত আসতে বল । কাবেরী আরিয়ান কে ফিরিয়ে দে। আমি কার্তিক আরিয়ানাকে বুঝিয়ে বলে দেব। ”
” কি হয়েছে ভাই? ”
” গার্মেন্টসে রেড মেরেছে। জানিনা কোন সাহসী মানুষ! ”
” বুঝেছি। ”
কল কেটে দিয়ে কাশেম বাড়ির ভেতরে ঢুকে যায়। সামহা আইসক্রিম খাচ্ছে আর তার খেলনা পুইপুই বাজাচ্ছে যেটা সামির তাকে সরি গিফট হিসেবে কিনে দিয়েছে। কাশেম তার কাছে বসে জিজ্ঞেস করে,,
” এইযে মেডাম? ”
“বলুন ভাঙড়ি মামা , ”
” বাড়ি ফিরবে না ? মা তো অপেক্ষা করছে । ”
“যেতে চাই কিন্তু আব্বু তো আম্মুকে বিয়ে করতে চায়না। ওখানে গেলে আব্বু আবার হারিয়ে যাবে। ”
“আচ্ছা। খেলো। ”
সামির এক্সারসাইজ রুমে ছিল অন্য দিনের মতো আজও সামহা গিয়ে তার পিঠের ওপর বসে পরে। হাসির ঝঙ্কার তুলে মাতিয়ে তোলে ঘর। কাশেম তরকারি তে এক্সট্রা লবণের মতো বলে ওঠে,,
” ভাই? এরে ফেরত দিয়াসা লাগবো। ”
” কেন? ”
” সাফিন ভাই আপনেরে যেমনে সম্ভব ফেরত যাইতে বইলেছে। ”
“যাবোনা ”
“কতদিন থাকবেন? আপনেরে খুইজা পাইলে কোবাইবো ”
” সাইয়ার* বেটা দুইডা মাসও পার করতে দিলনা। যামুনা। কি হইছে ডা কি? ”
” নতুন এক বিচারপতি আইছে। নতুন জুডিশিয়াল মেজিস্টেট ফারনাজ! গার্মেন্টসে রেড মাইরেছে ”
“এক মিনিট, কি বললি? ”
“গার্মেন্টসে রেড মাইরেছে। ”
” নাম কি বললি? ”
“ফারনাজ ”
সামির ভাবুক ভঙ্গিতে বসে রইলো। সামহার মাথা নেড়ে বলল,,
“যে বাঙ্গিই আসুক! আমি পরোয়া করিনা.. দুইমাস গেছে, সেতু হয়তো নিজেকে সামলে নিয়েছে। ”
“আপনার যা ইচ্ছে। আরেকটা খবর.. ”
” হুমম?”
“টিভিতেতো দেখতেইছেন, কোটা উচ্ছেদ এর জন্য পুরো দেশের সাথে রাজশাহী ভার্সিটিতেও চরম গন্ডগোল লেগে আছে রাজাকার বইলা আখ্যায়িত করায় জনগণ আপনার ক্রাশ রে স্বৈরাচারী ঘোষণা করেছে। কখন জানি পাব্লিক সরকার রেই খাইয়া দেয় ”
” দেক। আমি বরাবরি নিরপেক্ষ । যে জিতবে হের দলে। জনগণ জিতলে স্লোগান দিমু স্বৈরাচারী। আর সরকার জিতলে, জয় বাংলা! ”
সামহার বড্ড পছন্দের গান সেটি। কানে যেতেই সে লাফিয়ে লাফিয়ে গাইতে ধরল,,
~জয় বাংলা, জয় বাংলা
জিতবে আমার বাঙ্গি!
সামির আর কাশেম হোহো করে হাসতে থাকে। হুট করে সামহার হাতের আইসক্রিম টা গাযে পরে জামায় লেগে যায় । চোখমুখ গুটিয়ে বুকে হাত গুজে রাগ দেখিয়ে বলে,,
” যত দোষ কাইশসা ঘোষ! দামড়া বাঙ্গি! তরে খাইছি আমিই! ”
” আমি কি করেছি আজব। ”
” তুই হাসলি কেন? ”
” তুই হাসালি কেন? ”
সামহা হাতের পুইপুই নিয়েই তাকে তেড়ে ধরলো। সামির শুষ্ক একটা ঢোক গিলে মেঝেতে হেলান দিয়ে বসে কিছু একটা চিন্তা করে দীর্ঘ একটি নিঃশ্বাস ফেলে উঠে গেল।
দুপুরের খাবারের পর কাশেম দৌড়ে দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে খবর দিল,,
” খাইছে ভাই! খাল কাইট্টা কুমি নিয়াইছি। ”
” আরে আস্তে। কি হইছে? ”
” ভাই,, এডি কোনো সেতু ফেতুর ছুড়ি নয়। এডি ওই মেজিস্ট্রেট ফারনাজের বেটি। ”
” কিইহ! ”
কাশেমের কথায় চমকে উঠে দাড়ালো সামির। সেতুর বাচ্চা নয়মানে? যদি সেতুর নাই হয়, যদি বড় কোনো অফিসারের হয় তবে দুইমাস যাবত অরে কেও খোজেনাই কেন? আজব রহস্য !
” খুজে নাই কে কইছে? মাহবুব উদ্দিন আমারে ইতোমধ্যে ৫০বার জিগাইছে। কিন্তু একবারো কয় নাই এডি কুমির অরে ফিরত দেন। ফারনাজের টোপ হিসেবে ব্যাবহার করার জন্য হন্যে হয়ে অরে খুজতেছে সব কালা টাকার মালিকেরা ”
সামির একটু চিন্তিত হয়ে যায়। সম্ভব হলে সে সামহাকে নিয়ে বিদেশে চলে যেত। কিন্তু তা অসম্ভব। রাজশাহী তাদের আয়ত্তে থাকলেও পুরো দেশ তাদের আয়ত্তে নয়। ইতিমধ্যে কারফিউ জারি করার কথা উঠেছে সামির সিকান্দার কে ধরার জন্য । ভাবা যায়! মেয়েটা কত ভয়ানক বিগত পাঁচ টি বছর ধরে কেও তার বিরুদ্ধে কথা বলারো সাহস করেনি। আর সে কিনা তাকে খুঁজতে কারফিউ জারি করতে আদেশ দিযেছে! হতে পারে বাচ্চার জন্য ।
সামিরের মনে পরল এতগুলো দিনে একবারো সামহাকে তার ব্যাক্তিগত ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি। সে যাক গে। অর মা- বাবা যেই হোক সেটা সামিরের পরোয়া করার বিষয় না।
সামির গটগট করে নিচে গিয়ে দেখলো সামহা সোফার ওপরে শুয়েই ঘুমিয়ে গেছে । গলার ক্রস লকেটটা আলাদাই ঝিলিক মারছে। আঁকড়ে ধরে আছে সামিরের লাল শার্ট। যেটা সামির গা থেকে খুলে সোফার ওপরেই রেখে দিয়েছিল । সামির তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল । পাশে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে সামহা তার হাতটা টেনে বালিশের মতন জড়িয়ে ধরে রইলো। ঘুমের ঘোরেই বলল,,
” আব্বু,,,? ”
” মা??”
” ঘুরতে যাব। চলোনা। ”
“যেতেই হবে? ”
“হুু ”
“চলো ফ্রেশ হয়ে নাও। যাব ”
কাশেম বলে,,
” না ভাই,, ওই ভুল কইরেন না। বাইরে গেলে বিপদ হতে পারে । ‘”
” হোক ”
কাশেমের কথা সামির শুনলোনা। তবে কাশেম একটুও বিচলিত হলো না। জোড়ে করে নিঃশ্বাস ফেলে শুধু এটুকুই বলল,, ” টাইম আপ ”
সেজেগুজে দুজনে গাড়িতে করে ঘুরতে বেরিয়েছে সামির গাড়ি চালাচ্ছে আর সামহা পাশের সিটে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে সামিরের গলা জড়িয়ে ধরে আছে। সামির জিজ্ঞেস করল,
” কি হয়েছে বাচ্চা? ”
“ভালো লাগছেনা। ”
” গান শুনবে? ”
” না। ”
সামির বুঝতে পারছে না কেন সামহা মন খারাপ করে আছে। তাই গাড়ি থামিয়ে কোলের মধ্যে জড়িয়ে ধরে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল৷ সামহা এবারে একটু হাসলো। সে বলতে পারছেনা তার ঠিক কোথায় আর কেমন খারাপ লাগছে। আবার গাড়ি স্টার্ট দেবে তার আগেই হুট করে একটা ইটের হামলায় গাড়ির কাচ চুরমার হয়ে গেল । মুহূর্তে তাদের ঘেরাও করল একদল মুখোশধারী লোক। সামির সামহাকে ব্যাক সীটে বসিয়ে নিজের ছুড়িটা বের করল। সামহা তিতিনকে কোলে করে চুপ করে বসে রইলো।
“ভয় পেও না। আব্বু আছিতো। ”
সামির গাড়ি থেকে বেরিয়ে শার্টের হাতা গুটিয়ে আগে জিজ্ঞেস করল,,
“কারা তোরা? ”
” হামকো না পেহচানে সামির সিকান্দার ”
” ভালোয় ভালোয় বলছি, ও কাবেরী আরিয়ান নয়। আমি জানিনা কাবেরী কোথায় আমাকে ইচ্ছে করে খোঁচাস না। ”
” হামে কাবেরী নাহি চাহিয়ে, উসি ফারনাজকি বেটি কো চাহিয়ে। ”
” ও আমার বাচ্চা। কোনো ফারনাজ টারনাজকে চিনিনা আমি ”
” ঝুট বোলকে ফায়দা নেহি। হামে মালুম হে, উওহি মেজিস্টিস কি বেটি হেয়। পাকড়ো উসে ”
সামিরকে আঘাত করার আগেই সামির তিন চারজনকে শুইয়ে রেখে দেয়। তবে তারা সংখ্যায় অনেক বেশি। একা হাতে ২০ জনকে সামাল দেওয়া সহজ কথা নয়। সহজ হতো যদি বাবু সাথে না থাকতো। অথবা কাশেম থাকতো। মারামারির এক পর্যায়ে দুইজন সামহাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে। সামহাও কম যায় না । ইঁদুরের মতো ধারালো দাঁত দিয়ে কামড় বসিয়ে লোকটার চামড়া ছিড়ে রক্ত বের করে দেয় ।
দৌড়ে তার বাবার কাছে ছুটে যায় । কিন্তু পেছন থেকে একজন সামিরের মাথায় ধাম করে বাড়ি মারলে সামিরের মুখ দিয়ে রক্ত ছুটে পরে।
সমহা ছুড়িটা তুলে লোকটার পায়ে গেঁথে দেয় ।। দৌড়ে গিয়ে আব্বুকে জড়িয়ে ধরে । কিন্তু হুট করে কাশতে শুরু করে। চোখ মুখ ফুলতে শুরু করে সামহার। সামির ভয় পেয়ে যায় । হুট করে সামহাকে এলার্জিতে ধরল কিভাবে! ধরবে স্বাভাবিক । সামির ভুল করে ড্রাগসের প্যাকেটটা সরাতে ভুলে গেছে ।
সামহা চিনতে পারেনি তাই শুঁকে বোঝার চেষ্টা করেছে জিনিসটা কি। জেনেটিকালি সামিরের মতো তারও কোডিনএ এলার্জি। এর জন্যই সকাল থেকে সামহার ভালো লাগছিল না। সামির ওকে বুকে চেপে ধরে স্তব্ধ হয়ে যায় । আতঙ্কিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে ,
” বেবি? তোমার কি হয়েছে বেবি? সামহা? তাকাও আমার দিকে আব্বু ডাকছি তোমাকে। সামহা! ”
পেছন থেকে অন্য একটা লোক রামদা তুলে আঘাত করবে অমনি কোনো শক্ত পুরুষালো কণ্ঠে হুঙ্কার ভেসে আসে,,
“শ্যুট!!! ”
চারপাশে লুকিয়ে থাকা অজস্র পুলিশ ছুটে আসে। মাহবুব উদ্দিন এর অডারে। তৈমুরের গান পয়েন্টে রামদা তোলা লোকটার মৃত্যু হয়। পুলিশের ওপর হামলা করার আগেই ক্রস ফায়ারে সকলের মৃত্যু হয়। সামির সামহাকে আকড়ে জড়িয়ে ধরে । মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত স্হান থেকে গলগল করে রক্তস্রোত বয়ে যাচ্ছে কানের পাশ দিয়ে । ঝিম ধরে আসছে মাথা । অবশ হয়ে যাচ্ছে শরীর । তবুও হাতদুটো সামহাকে ছাড়ছেনা।
কালো গাড়িতে বসে সেই জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট ফারনাজ। তবে সামির তার দিকেও খেয়াল করেনি। সে গাড়ির ভেতর থেকেই অর্ডার করে,
” বাবুকে নিয়ে আসুন দ্রুত! ”
কয়েকজন পুলিশসহ তৈমুর গিয়ে সামিরকে আষ্টেপৃষ্টে টেনে ধরে। অপর পাশ থেকে লেডি পুলিশ টেনে ধরে সামহাকে। সামির হিতাহিত জ্ঞান শূণ্য হয়ে পরে। মাথার সাথে বুকেও ব্যাথা ধরে যায় । সামহাও হাপাতে হাপাতে চিৎকার করতে থাকে!
“আমি যাবোনা। আব্বুউ! ছাড় আমাকে ছেড়েদে। আব্বুর ব্যাথা লেগেছে , ছেড়েদে। আব্বুউ! ”
তার চোখে সামির সমান দ্বেষ আর বিরোধ দেখে মাহবুব উদ্দিন একটা ঢোক গিলে বলে,,,
– আগুনের ফুলকি থেকে আগুনই সৃষ্টি হয় । যাক গে। যাও ওকে নিয়েসো।
সামহা এলার্জির প্রকোপে সেন্সলেস হয়ে যায় । পুলিশ মহিলাটি তাকে টেনে সামিরের থেকে সরিয়ে কোলে তুলে সঙ্গে করে নিয়ে যায় । সামিরকে ওরা ৬ জন মিলে টেনে ধরে সামলাতে পারছেনা। সে ছোটার চেষ্টা করছে।
সামহাকে কালো গাড়িতে করে তুলে ওরা চলে যায়। সামির তৈমুরের দিকে তাকিয়ে কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে অনুরোধ করে চিৎকার দিয়ে ওঠে,,
” ওরে আমার কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে রে, আমাকে ছেড়ে দে তৈমুর ভাই। আমি আর সামির সিকান্দার হবোনা ”
অতিরিক্ত চিৎকার আর ভায়োলেন্স এর জের ধরে সামির অজ্ঞান হয়ে যায় । তার এই অবস্থা দেখে তৈমুর নিজেও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনা। কখনো কল্পনা করা যায় না । সামির সিকান্দার! সর্বসেরা পাপী সামির সিকান্দার ! এলাকার হেড সন্ত্রাসী সামির সিকান্দার একটা বাচ্চার জন্য কিভাবে হাহাকার করছে।
ঝাপসা দুচোখ মিলে দেখলো,, কালো গাড়িটা হারিয়ে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর এক কালো জালে। চারপাশে ঘিরে এলো কালো মেঘ। তারপর আর কিছু দেখতে পেলনা।
চোখ খুলে সামির নিজেকে চৌদ্দ শিকের ওপারে আহত অবস্থায় আবিষ্কার করে। কিছুক্ষণ সকলকিছু ধাতস্থ করে সবকিছু মনে পরতেই সে আবারো পাগলের মতো হাসতে থাকে। এক বুক ভর্তি হাহাকার প্রকাশ করে সে স্তব্ধ জেল কাপিযে সুর তোলে,,,
কালকুঠুরি পর্ব ৫৬
~ yea jism hay to kiya
Yea rooh ka libaas hay
Yea daard hay to kiya
Yea ishq ki talash hay
Fanaa kiyaa mujhe
Yea chahne ki ass ne
Trah tarah
Sikast hi huaaa,,,,
তার কণ্ঠের ডাকে হাবিলদারেরাসহ কেঁপে ওঠে । যেন কণ্ঠ নয়। বাঘের গর্জন! বন্দী বাঘের গর্জন!

Ato soto kn porbo r apu taratri dio r wait kora jasse na ending ta valo dio