Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৩

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৩

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৩
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

দিনের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নেমেছে চারদিকে।
টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে, গ্রীষ্মের খরতাপে অতিষ্ট পৃথিবী যেন একটু স্বস্তি খুঁজে পেয়েছে।
বৃষ্টির কারণে মাটির রাস্তায় কাঁদা হয়ে গেছে।
একটু পরপর আকাশ থেকে গুরুম গুরুম শব্দ হচ্ছে, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে আকাশে।
এর মাঝেই রাস্তায় নেমে এলো ইসলাম বাড়ির চার বিচ্ছু।
চারজনের গায়ে কালো কুচকুচে রেইনকোট, মাথায় বাঁধা হেডল্যাম্প, তার উপর রেইনকোটের টুপি টানা।
আজ তাঁদের নতুন মিশন।

যেভাবেই হোক, মিশনটা সাকসেসফুল করতে হবে।
আকাশে বজ্রপাতের শব্দ হতেই লামিয়া লাফিয়ে উঠে তায়েবের হাত চেপে ধরলো।
তায়েব বিরক্ত হয়ে বললো,
— ভয় পাস কেন? তোর উপরে কী ঠাডা পরছে?
লামিয়া গম্ভীর মুখে তাকিয়ে বললো,
— তোর ভবিষ্যতে ঠাডা পরুক, শালা! জানি বংশের বাতি জ্বালাতে না পারিস!
বলেই মুখ বাঁকিয়ে তায়েবের হাত ছেঁড়ে সামনে এগিয়ে গেলো।
তায়েব মুখ ফুলিয়ে হাঁটতে লাগলো পিছন পিছন।
মাহির আর তায়েবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাঁটা দিলো।
ছোটবেলা থেকেই তারা জানে, লামিয়া এই মেঘ গর্জনে ভয় পায়।
আজও হাজারবার মানা করার পরও জেদি মেয়েটা সাহস করে ঘর থেকে বের হয়েছে।
তার জেদের কাছে হার মেনে বাকিরা সঙ্গী হয়েছে তার।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

– এই রোমান্টিক ওয়েদারে আজ আমার বাসর রাত ছিলো। কিন্তু এই মীর জাফর রা আমার বউ আমার থেকে নিয়ে গেলো,আর বউ, তুইও ঘোষেটি বেগমের রূপ নিয়ে আমায় ছেড়ে চলে গেলি। এইটা তুই তোর স্বামীর সাথে অন্যায় করেছিস বউ।
একটার পর একটা মেসেজ পাঠাচ্ছে আবির।
লামহা মেসেজ পড়ে ঠোঁট চেপে হাসছে।
কিন্তু কোনো রিপ্লাই দিচ্ছে না।
তা দেখে আবির আবার লিখলো
– ওও সুখের পরশ দেবো তোমায় থেকো না দূরে,
শান্তি পাবে, খুঁজে পাবে আমার প্রেমের আদরে।”
লামহা মুচকি হেসে ফোনটা নামিয়ে রাখলো।
কিছুক্ষণ পরেই ভিডিও কল এলো
রিসিভ করতেই আবির রাগ মেশানো কণ্ঠে বললো

— কী সমস্যা, মেসেজের রিপ্লাই দিচ্ছিস না কেনো?
লামহা চোখের চশমাটা ঠিক করে শান্ত গলায় বললো,
— এমনেই।
— এমনি মানে?
আর আমাকে রেখে সবার সাথে নাচতে নাচতে চলে গেলি কেনো?
— আমি তো ধীরে ধীরে হেঁটে বাসায় এসেছি, নাচতে নাচতে তো না।
— তোর মনে হবে ধীরে হেঁটেছিস কিন্তু আমি দেখেছি তুই নাচতে নাচতে গিয়েছিস।
— আপনি তো তাহলে চোখে বেশি দেখেন!
— আমি সবসময়ই বেশি দেখি, কিন্তু এখন কেনো যেন একটু কম দেখছি সব কিছু ঘোলা ঘোলা লাগছে।
— আপনার চোখে সমস্যা হয়েছে তো দেখছি।
ছোট মাছ খাবেন, তাহলে আবার বেশি বেশি দেখবেন।

— ছোট মাছ খেলে বেশি দেখবো না, কিন্তু
— কিন্তু কী?
— বউ মাছের আদর পেলে আবার বেশি দেখতে পারি।
লামহা ভ্রু কুঁচকে বললো,
— আপনি অসভ্য তা জানতাম, কিন্তু এত অসভ্য আগে জানতাম না। আগে জানলে..
— কেনো, আগে জানলে কী হতো?
— বিয়ে করতাম না আপনাকে!
— তুই করতি না, তোর ঘাড় করতো!
লামহা কিছু না বলে চুপ করে রইলো।
দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণের নীরবতা।
তারপর হঠাৎ আবির নেশা মাখা গলায় বললো,

— বউ
লামহার শরীর হালকা কেঁপে উঠলো।
আস্তে করে “হুঁ” বলতেই,
আবির নিচু কণ্ঠে বললো,
— বাহিরে বৃষ্টি
— তো?
— রোমান্টিক ওয়েদার…
— তো?
— আয়, বৃষ্টির পানিতে আগুন লাগাই।
লামহা ভ্রু কুঁচকে বললো
— বৃষ্টির পানিতে আগুন লাগাবেন মানে?
— আরে, ওই গানটা শুনিস নি?
— কোন গান?
— “টিপ টিপ বারছা পানি, পানি মে আগ লাগায়ে।”
আবিরের গানের ভঙ্গি দেখে লামহা চোখ বাঁকা করে তাকালো।

— হ্যাঁ, শুনেছি।
— তাহলে আয়, বৃষ্টির পানিতে আগুন লাগাই!
— কিন্তু আগুন তো জ্বলবে না!
— কেনো?
— পানিতে আগুন জ্বলে কীভাবে?
— সেটা জ্বালানোর দায়িত্ব আমার।
— তাহলে এই বৃষ্টির মধ্যে আপনি বৃষ্টির পানিতে আগুন জ্বালিয়ে দেখান,তারপর যদি কাজ সাকসেস হয়, আপনাকে যাদুঘরে রেখে আসবো।
বলেই ফোন কেটে দিলো।
ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ
তারপর কপালে হাত রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
— কী আনরোমান্টিক মাইয়া বিয়া করলাম! ছ্যা, জীবনটাই বেদনাময়!

মিশন সাকসেসফুল করতে পারায় লামিয়া বেশ খুশি। মাহির, তায়েব, তায়েবা ভয়ে ঢোক গিলছে। তা দেখে লামিয়া ভ্রু কুঁচকে বললো,
– কী সমস্যা? এমন করছিস কেনো তোরা?
তায়েবা ভয়ে বললো
– যদি কিছু হয় তখন কী হবে?
লামিয়া গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো,
– আরে চিল, তেমন কিছুই হবে না।
তায়েব নিচু গলায় বললো,
– যদি ক্ষতি হয়ে যায় তখন?
এবার লামিয়া ক্ষেপে গিয়ে বললো,
– ক্ষতি হলে হবে, আমাদের কী!
বলেই হাঁটতে লাগলো।

সাথে মাহির, তায়েব, তায়েবা ও। তাদের ভীষণ ভয় হচ্ছে, আবার হাঁসি ও পাচ্ছে।
লামিয়ার ঠোঁট ফুলে টম হয়ে আছে, দেখতে ভীষণ হাস্যকর লাগছে। তা দেখে তিনজন মিটমিটে হাসছে।
বাসায় যাওয়ার পথে লাউ বাগানের দেখা পেতেই তায়েব লাফিয়ে বললো,
– উফ! দেখ লাউ বাগানে কি সুন্দর লাউ ধরে আছে! এই চল, বাসায় নিয়ে মায়েদের হাতে দিলে দেখবি খুশি হয়ে আমাদের বকশিশ দেবে।
তায়েবের এই কথা শুনে বাকি তিনজন ও সায় দিয়ে উঠলো।
তারপর আবার তায়েবা বললো,

– যদি ধরা পরে যাই তখন?
– আরে এই বৃষ্টির মধ্যে তার উপর রাত, কে দেখবে চল যাই!
বলেই তাড়াতাড়ি করে লাউ বাগানে প্রবেশ করলো।
লাউ ছিঁড়তে ছিঁড়তে লামিয়া বলে উঠলো,
– চুরি করে ফিল পাচ্ছি না, একটা গান ধরতো, আমার আবার গান ছাড়া ভালো লাগে না।
পাশ থেকে তায়েবা ফিসফিস করে বললো,
– না প্লিজ, গান গাস না! যদি ধরা পরে যাই?
লামিয়া তা শুনে তায়েবার পায়ে লাথি মেরে বললো,
– এই অপদার্থ কে, কে বলেছিলো আমাদের সাথে আসতে? ওরে লাথি দিয়ে বাড়ি পাঠা!

তায়েবা মুখ ফুলিয়ে লাউ ছিঁড়তে লাগলো।
পাশ থেকে তায়েব গলা ছেঁড়ে গান গেয়ে উঠলো—
লাউয়ের এতো মধু, জানে গো জাদু,
এতো মধু গোও…
লাউয়ের এতো মধু, জানে গো জাদু,
লাউ করিলাম সঙ্গের সঙ্গী,
আমি লাউ করিলাম সঙ্গের সঙ্গী,
সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী!
তায়েবের সাথে গলায় গলা মিলিয়ে গলা ফাটিয়ে গান গাইছে আর লাউ তুলছে ইসলাম বাড়ির চার বিচ্ছু।
চারজন রাতে কালো রেইনকোট পড়ায় কেউ যদি হঠাৎ তাদের দেখে, তাহলে তারা নির্ঘাত জ্বীন ভেবে হার্ট অ্যাটাক করবে।
হঠাৎ পিছন থেকে টর্চ লাইটের আলো তাদের উপর পড়তেই চারজন গান থামিয়ে দিলো।

– কেডারে আমার লাউ বাগানে?? কেডা গান গায়??
লোকটি লাইট মারতেই দেখলো, কালো রেইনকোট পড়া চারজন দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ ক্ষেতের মাঝে কালো কাপড় পড়া চারজনকে দেখে মনে হচ্ছে না তারা মানুষ!
কালা মিয়া ভয় পেয়ে আবার চিৎকার করে উঠলো,
– ওই কেডা রে! এই রাইতে আমার লাউ বাগানে কি করছ?
তবুও কোনো সাড়া শব্দ নেই। চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে চারজন।
কালা মিয়া সূরা পড়তে পড়তে এগিয়ে এসে দেখলো— তাদের হাতে লাউ!
এইবার মনে হয় কালা মিয়া রেগে গেলো। জ্বীন হোক বা ভূত, তার কষ্টের ফল যে চুরি করবে, তার কপালে শনি আছে!
কালা মিয়া আরো একটু এগিয়ে আসতেই দেখলো তাদের হাত-পা ও আছে। মানে তারা মানুষই!
কালা মিয়া এইবার চোর চোর বলে চিৎকার করতেই তায়েবা বলে উঠলো

– তোদের বলেছিলাম না, ধরা পরে যাবো! আর এটা আর কেউ না, কালা মিয়ার বাগান!
লামিয়া ঠোঁট কামড়ে হালকা হাসলো, এক পা পিছিয়ে যেয়ে হঠাৎ দৌড় লাগালো।
তা দেখে তায়েব, তায়েবা, মাহির ভরকে গেলো।
লামিয়া দৌড়াতে দৌড়াতে চিৎকার করে উঠলো,
– বাঁচতে চাইলে পালা সবাই! নয়তো এই কালা মিয়া আমাদের কালা ভুনা বানিয়ে খাবে!
লামিয়ার দৌড় দেখে আর এমন কথা শুনে মাহির, তায়েবা, তায়েব ভৌ দৌড় লাগালো।
তার পিছন পিছন কালা মিয়া ও দৌড় দিলো।
দৌড়াতে দৌড়াতে মাহির চেঁচিয়ে বললো,
– লামিয়ার বাচ্চা! আমাদের বিপদে রেখে আগে দৌড় দিয়েছিস! তোকে আমি মেরে ফেলবো!
লামিয়া দৌড়াতে দৌড়াতে বললো,
– এখন আগে নিজে বাঁচ, তারপর আমার কথা চিন্তা করিস!
কালা মিয়া চোর চোর বলে চিৎকার করতেই আছে, আর লাউ হাতে নিয়েই লামিয়া, মাহির, তায়েবা, তায়েব দৌড়াতেই আছে।
লামিয়া আবা চিৎকার করে উঠলো,

– জোড়ে দৌড়া সবাই! নয়তো কালা চাচা আস্ত রাখবে না!
হঠাৎ কালা মিয়া দৌড়ে থাবা দিয়ে তায়েবের রেইনকোট টেনে ধরলো। নিজের ছাড়ানোর চেষ্টা করছে তায়েব কিন্তু পারছে না। তাই তায়েব উপায় না পেয়ে কালা মিয়ার লুঙ্গি ধরে টান দিতেই লোকটি ভয়ে ছেড়ে দিলো!
কিন্তু তায়েব আর ছাড়লো না। লোকটির লুঙ্গি টেনে নিয়ে পালাতে পালাতে বললো,
– চাচা, আগে আপনার নিজস্ব সাধের লাউ ঢাকেন! তা না হলে পেত্মী রা এসে আপনার ব্যাক্তিগত লাউয়ের মধু খেয়ে লাউটাই না কেটে নিয়ে যায়।
বলেই দৌড় লাগালো।
লোকটি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকলো তায়েবের দিকে।
হঠাৎ পিছন থেকে এক মহিলা চিৎকার করে উঠলো,

– হায় আল্লাহ!
কালা মিয়া পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো পাশের বাড়ির মহিলা মাটিতে পড়ে আছে!
ভ্রু কুঁচকে নিচের দিকে তাকাতেই কালা মিয়া ভৌ দৌড় লাগালো নিজের বাড়ির দিকে। তার খেয়াল ছিলো না যে তার লুঙ্গি নিয়ে গিয়েছে।
বেচারা মহিলাটি “চোর চোর” শুনেই লাঠি হাতে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলো চোর পেটাতে।
কিন্তু চোর পেটাতে এসে যে এমন দৃশ্য দেখে নিজেই মাটিতে লুটিয়ে পড়বে, তা তার জানা ছিলো না!
মহিলাটির স্বামী তার স্ত্রীর চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখলো তার স্ত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে।
তাড়াতাড়ি করে লোকটি তার স্ত্রীর গালে হালকা থাপ্পড় দিতেই মহিলাটি চিৎকার করে উঠলো।
লোকটি তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলো
– কী হয়েছে?
তা শুনে মহিলাটি তার স্বামীকে বললো,
– লাউ বাগানের কালা মিয়া তার লাউ নিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে ছিলো। তা দেখে মাথা ঘুরে গিয়েছিলো আমার!
তার স্বামী তা শুনে খুব স্বাভাবিকভাবে বললো,
– কালা মিয়া লাউয়ের ব্যাবসা করে, লাউ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেই পারে। তাই বলে এইভাবে মাথা ঘুরে পড়ে যাবা? কালকেই তোমাকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো, তুমি বেশ দূর্বল।
বলেই লোকটি তার স্ত্রীকে ধরে বাড়ি নিয়ে গেলো।

সমস্ত শরীরে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করে হাঁপাতে হাঁপাতে ইসলাম বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়ালো চারজন। তারপর পা টিপে টিপে বাড়িতে প্রবেশ করে লাউ গুলো রান্নাঘরে রেখে, যে যার নিজের রুমে চলে গেলো গোসল করতে।
বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। বাতাসে ভিজে গিয়েছে গাছপালা, ছাদের কার্নিশ বেয়ে টুপটাপ করে পানি পড়ছে।
খালি গায়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে নাসির কায়সার। বাদামী রঙের চোখ গুলো যেনো জ্বল জ্বল করছে।
ঠোঁটে মৃদু হাসির রেখা। বৃষ্টির পানি মুখে এসে পড়তেই আবেশে চোখ বন্ধ করতেই ভেসে উঠলো এক শ্যামবর্ণের রমণীর মায়াবী মুখ।
ফট করে চোখ খুলে তাকিয়ে হাসলো কায়সার।
নিজের মধ্যেই ফিসফিস করে বললো

– তেজি চোখ গুলো যেনো আগুনের ফুলকির মতো।
উফ এতো মেয়ে দেখেছি, তবুও কাউকে এতো ভালো লাগেনি। কিন্তু এই মেয়েটা কী এমন যাদু করলো, আমার ঘুম, আমার শান্তি সব কেড়ে নিলো।
বলেই গভীর নিঃশ্বাস ফেললো, ঠোঁট কামড়ে ঢোক গিললো।
তখনই তাড়াহুড়ো করে রুমের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো নিহিড়।
বেশ নিচু কন্ঠে বললো
– বস, যে ট্রাকগুলোতে ড্রাগস পাচার হতো সেই ট্রাকগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
নিহিড়ের কথা শুনে মুহূর্তেই কায়সারের চোখ রাগে লাল হয়ে উঠলো।
চোয়াল শক্ত করে বললো

– কে করেছে এটা?
– বস, জানা গেছে ফ্যালকন আর তার টিম।
কায়সারের কণ্ঠ গর্জে উঠলো
– কে এই ফ্যালকন?? যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বের করো ওকে!
– জ্বী বস।
– আর আমি যার খোঁজ নিতে বলেছিলাম তার ব্যাপারে কী জানা গেছে?
নিহিড় একটু থেমে বললো
– বস, আমরা খোঁজ নিয়েছি। কিছু হাতে পাইনি, কিন্তু আপনার সন্দেহটা ভুলও না।আমি আপনাকে একটা ভিডিও পাঠিয়ে দিচ্ছি।
বলেই দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
কায়সার নিজেকে শান্ত রাখতে চাইলো, কিন্তু পারলো না।
যতোদিন না পর্যন্ত এই ফ্যালকনের আসল পরিচয় জানতে পারবে ততদিন সে শান্তিতে থাকতে পারবে না।
কিছুক্ষণ পর ফোনে নোটিফিকেশন এলো একটি ভিডিও।
কায়সার ভিডিওতে ক্লিক করলো।
তা দেখে ধীরে ধীরে মুখে ফুটলো এক শয়তানি হাসি।

– তাহলে আমার সন্দেহ একদম সঠিক।
বলেই ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে দিয়ে সামনের দেয়ালে তাকালো।
দেয়ালে বড় করে টানানো মাথায় ক্যাপ ক্রিকেট ব্যাট কাঁধে নিয়ে পিছন ফিরে হাঁসি মুখে তাকিয়ে থাকা লামিয়ার ছবি ।
ছবির পাশেই রাখা পিতলের তৈরি খাঁচা।
বেশ বড়, চকচকে, শিল্পীর হাতে বানানো।
কায়সার ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো, ছবিতে হাত রাখলো।
ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি নিয়ে ফিসফিস করে বললো

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২২

– খুব শীঘ্রই নিয়ে আসবো তোমাকে আমার কাছে, বুলবুলি। তোমার জন্যই বানানো এই পিতলের খাঁচায় বন্দী রাখবো তোমায়।জানি, পাখি উড়ে যেতে না পারে।
বলেই টেবিল থেকে হুইস্কির বোতল নিয়ে আবার বৃষ্টিতে ভিজতে লাগলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৪