প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৬
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
– মিস্টার ফ্যালকন কোথায়?
– স্যার আজকে ছুটি নিয়েছে তাই আসবে না আজ।
মিলি চোখে থেকে কালো সানগ্লাস টা চোখ থেকে নামিয়ে এক ভ্রু উঁচিয়ে বললো
– কেনো??
– স্যারের শরীর আজ ভীষণ খারাপ করেছে কালকের মিশনে স্যার হাতে গভীর আঘাত পেয়েছে তাই ছুটি নিয়েছে। বলেই রবি নামে লোকটি বেরিয়ে গেলো কক্ষ থেকে।
রবি যেতেই মিলি পকেট থেকে ফোন বের কাউকে কল করতে করতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গিয়ে গাড়িতে বসলো। পাশ থেকে তার এসিস্ট্যান্ট তিহা বললো
– মেম আজকে আপনার শপিংয়ে যাবার কথা ছিলো, এখন কী যাবেন নাকি পরে মেম?
মিলি ল্যাপটপটা হাতে নিয়ে বললো – এখন ই যাবো। গাড়ি শপিং মলের দিকে ঘোরাও।
মিলির কথা শুনে তিহা ড্রাইভার কে শপিং মলের দিকে যেতে বললো।
লামহার জন্য একটার পর একটা লেহেঙ্গা দেখছে আবির। তার একটা ও ভালো লাগছে না। যেটা ভালো লাগে সেটার ব্লাউজ ছোট নয়তো গলা বড় ব্লাউজের তা আবিরের একদম পছন্দ না, আবার যেটা ভালো লাগে সেটা লামহার পছন্দ হচ্ছে না। আবার লামহার যেটা পছন্দ হয় সেটা আবিরের পছন্দ হচ্ছে না।
এইসব দেখে বিরক্ত সবাই বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে চলে গিয়েছে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
পাশে সাফওয়ান আর হামিদা। সাফওয়ান একটার পর একটা শাড়ি দেখছে। সব শাড়িতে ই হামিদাকে বেশ দারুন লাগছে। তা দেখে সাফওয়ান এই নিয়ে পাঁচটা শাড়ি কিনে নিয়েছে। তা দেখে হামিদা বারবার বলছে সে এতো শাড়ি দিয়ে কী করবে, বারবার সাফওয়ান কে বারণ করছে এতো শাড়ি না নিতে। সাফওয়ান হামিদাকে এক ধমকে চুপ করিয়ে দিয়েছে। তাই ভয়ে হামিদা কোনো কথা বলছে না। সাফওয়ান যেটা পছন্দ করবে তাই নিবে হামিদা। সাফওয়ান তার বউকে নিজের মনের মতো করে সাজাতে চায়, তাই সে যেভাবে বলবে ঠিক সেইভাবে হবে।
তাদের চারজনকে এক সাথে রেখে যে যার মতো কেনাকাটা করছে।
তায়েবা একটা কালো রঙের শাড়ি নিজের কাঁধে নিয়ে আয়নায় নিজেকে বারবার দেখছে কেমন লাগছে তাকে।
– এমন ফর্সা গায়ে এই কালো কুচকুচে শাড়ি পড়ে ছেলেদের পাগল করার ইচ্ছে হয়েছে??
হঠাৎ কারোর গম্ভীর কন্ঠ শুনে তায়েবা পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো জাহিদ দু হাত ভাঁজ করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
তা দেখে তায়েবা ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো।
যে ছেলে কারোর সাথে কথা বলে না দরকার ছাড়া। সবসময় চুপচাপ থাকে কথা বলতে গেলেও মুখ থেকে কথা বের হয় না অন্যদিকে চলে যায় সে ছেলে তার সাথে আজ নিজে থেকে কথা বলছে, কাহিনী কী?
তায়েবা মুখ বাঁকিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে বললো
– আমি শাড়ি পড়লে যদি ছেলেরা পাগল হয় সেটা ছেলেদের ব্যাপার তাঁতে আমার কী? আমি কী শাড়ি পড়ে ছেলেদের যেয়ে বলবো আমি শাড়ি পড়েছি তোরা পাগল হ।
জাহিদ তায়েবার কথা শুনে পাশে থেকে একটা কালো রঙের কামিজ তায়েবার হাতে দিয়ে বললো
– এটা পড়তে পারিস। শাড়ি পড়লে ছেলেরা পাগল হলে যদি তোকে কামড়ে দেয়, তখন তো আবার ইনজেকশন পুশ করতে হবে।
তায়েবা ভ্রু কুঁচকে বললো – আপনি কথা ও বলতে জানেন?? আগে তো জানতাম না। আর হ্যাঁ বিয়েতে কে কামিজ পড়ে? আপনার কামিজ আপনি পড়েন। ছেলেরা কামড় দিলে তখন দেখা যাবে আর ইনজেকশনের ভয় আমি তায়েবা পাই না।
বলেই কামিজ জাহিদের হাতে দিয়ে গটগট করে চলে গেলো।
জাহিদ তায়েবার যাওয়ার দিকে চোখ মুখ শক্ত করে তাকিয়ে রইল।
রাশেদ রাগি চোখে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। সামির একটা একটা করে লেহেঙ্গা দেখাচ্ছে শারমিন কে। শারমিন ও তা হাসিমুখে দেখছে।
সামির একটা লাল রঙের লেহেঙ্গা শারমিনের হাতে দিয়ে বললো
– দেখ এটা তোকে ভীষণ মানাবে, এটা দেখতে পারিস।
শারমিন মাথা নেড়ে লেহেঙ্গা নিয়ে চলে গেলো ট্রায়াল রুমে।
এদিকে লেহেঙ্গা দেখে রাশেদের কপালের রগ রাগে ফুলে উঠেছে। ছোট্ট ব্লাউজের লেহেঙ্গা পেট আর পিঠ বেড়িয়ে থাকবে । তা ভেবেই রাশেদের রাগ লাগছে।
রাগে গজগজ করতে করতে শারমিনের পিছন পিছন সে ও হাঁটা দিলো ।
শারমিন ট্রায়াল রুমে গিয়ে দরজা লক করতেই রাশেদ ফট করে ভিতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো।
শারমিন ভয় পেয়ে দূরে পরতেই রাশেদ শারমিনের গলা চেপে ধরলো। শারমিন নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পুরুষের শক্তির কাছে সে পেরে উঠলো না।
রাশেদ যে ভয়ংকর রেগেছে সেটা শারমিন বুঝতে পেরেছে কিন্তু কী কারণে সেটা জানে না।
রাশেদ শারমিনের গলা ছেঁড়ে গাল চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো – খুব শখ তাই না এসব শরীর দেখানো ড্রেস পরে ঘোরা ঘুরি করা?
শারমিন গালে ব্যাথা চোখ বুজে হজম করছিলো। কিন্তু রাশেদের এমন কথা শুনে চোখ মেলে তাকাতেই দেখলো চোখ দুটো রক্তিম হয়ে আছে। আর কথা শুনে বোঝা গিয়েছে এই লেহেঙ্গার জন্য রেগে গিয়েছে।
কিন্তু কেনো রাগ করবে সে? সে তো আমাকে ভালোবাসে না। তাহলে কেনো তার উপর এতো অধিকার দেখায়। যখন মন চাইবে এসে অধিকার দেখাবে আবার যখন মন চাইবে ছুঁড়ে ফেলে দিবে। আর তার তো গার্লফ্রেন্ড আছে তাহলে তার উপর কেনো এতো অধিকার দেখাচ্ছে। ভেবেই রাগ হলো শারমিনের।
শারমিন রাশেদ কে জোড়ে ধাক্কা দিয়ে রেগে বললো
– আমি যা ইচ্ছে করবো আপনার কী হ্যাঁ? আমি কী করবো না করবো আমার ব্যাপার সেটাতে বাহিরের কেউ কথা বলবে এটা আমার পছন্দ নয়। আর আপনি আপনার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ভাববেন আমার সাথে এতো কী হ্যাঁ? যখন দেখি তখন ই অধিকার খাটান আমার উপর? কে আপনি আমার? আমার উপর কীসের এতো অধিকার আপনার বলুন?
শারমিনের কথা শুনে মনে হলো রাশেদের শরীরে কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
রাশেদ নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না।
শারমিন আবার বললো – কি হলো বলুন, কীসের এতো অধিকার আপনার আমার উপর?
শারমিনের এই কথায় আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা হলো। রাশেদ এইবার আর নিজের কন্ট্রোল করতে না পেরে ঠাস ঠাস করে তার শক্ত পোক্ত হাত দিয়ে শারমিনের দু গালে কষিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে গলা চেপে ধরে রেগে বললো
– আমি তোর কেউ না, আর কোনো দিন হতে পেরেছি তোর আপন বা কাছের কেউ। আমাকে বুঝতে পারিস নি কোনোদিন আর না কোনোদিন পারবি। না আমার ভালোবাসা কোনোদিন বুঝেছিস, আর না কোনোদিন বুঝতে পারবি। যা আজকের পর থেকে তোর উপর আমি রাশেদ কোনোদিন অধিকার দেখাবো না।
বলেই গলা ছেঁড়ে চলে গেলো রাশেদ।
শারমিন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, সেকি কোনোদিন ও এই মানুষটাকে ভালোবাসে নি? যার জন্য এতো বছর অপেক্ষা করে আসলো সেই মানুষটা তাকে বললো সে তাকে ভালোবেসে নি। ভেবেই ডুকরে কেঁদে উঠলো।
সবাই টুকটাক কেনাকাটা করছে কিছু না কিছু। একমাত্র লামিয়া বসে আছে, তার এসব নিয়ে এতো মাথা ব্যথা নেই। না আছে শাড়ি কেনার মাথা ব্যথা, আর না আছে লেহেঙ্গা কেনার মাথা ব্যথা। চুপচাপ বসে আছে এক কোণে।
শুভ্র তা খেয়াল করে আস্তে ধীরে লামিয়া পাশে যেয়ে বসতেই লামিয়া পাশ ফিরে তাকিয়ে ভ্রু নাড়িয়ে বললো
– কী ব্যাপার শিয়াল সাপের পাশে এসে বসেছে কাহিনী কী?
শুভ্র হালকা হেঁসে বললো
– তাহলে শিকার করলেন আপনি সাপ?
লামিয়া বাঁকা হেঁসে বললো
– শিকার করার কী আছে?? সবাই তো জানে।
– তা অবশ্যই ঠিক বলেছেন আপনি। তা টাকা পয়সা লাগবে নাকি??
লামিয়া কপাল কুঁচকে বললো
– কেনো কোনো কুকর্ম করে এসেছেন নাকি??
– কুকর্ম মানে??
– মানে, এই যে আপনি টাকা পয়সার কথা বলছেন। হয়তো কোনো কুকর্ম করে এসেছেন আমাকেও সেই কুকর্মের ভাগিদার বানাবেন ভেবেছেন, তাই ঘুষ দিতে চাচ্ছেন তাই না??
লামিয়ার কথা শুনে শুভ্র হালকা হেঁসে বললো
– না, এসব কিছুই না। আসলে সবাই কিছু না কিছু কেনাকাটা করছে মেয়েরা শাড়ি লেহেঙ্গা কিনছে আপনি এক কোণে বসে আছেন তাই ভাবলাম হয়তো টাকা নেই। তাই এতিমের মতো বসে আছেন, এজন্য ভাবলাম টাকা পয়সা দিয়ে গরিবদের ভালো করি এই আরকি।
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো
– আমি শাড়ি লেহেঙ্গা পড়ি না।
– কেনো?
– গুরুর মানা আছে তাই।
– আপনার গুরু কে?
– আছে কেউ!
– ওও বুঝতে পেরেছি বিশেষ কেউ মানা করেছে বুঝি?
শুভ্রর কথায় লামিয়া শীতল দৃষ্টিতে তাকালো শুভ্রর চোখের দিকে তারপর গম্ভীর কন্ঠে বললো
– হয়তো!
বলেই উঠে চলে গেলো সেখান থেকে। শুভ্র লামিয়ার যাওয়ার দিকে চেয়ে মলিন হাসলো।
শপিং মলের সামনে গাড়ি এসে থামতেই ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো মিলি। চোখে কালো সানগ্লাস এঁটে হেঁটে হেঁটে ভিতরে প্রবেশ করলো। তার পিছনেই তাই এসিস্ট্যান্ট তিহা।
সবার আগেই লেডিস শার্ট প্যান্ট কিনে নিলো। তারপর একের পর এক দোকান ঘুরতে ঘুরতে ঘড়ির দোকানে প্রবেশ করলো। বিভিন্ন রকমের লেডিস ঘড়ি দেখতে দেখতে একটা ঘড়ি পছন্দ হলে সেটা ধরার জন্য হাত বাড়াতেই কেউ তার আগে ঘড়িটা ধরে ফেললো।
মিলি রেগে গেলো। তার পছন্দ করা জিনিস আরেকজন ছোঁ মেরে নিয়েছে তা তার মোটেও পছন্দ হয়নি। তাই রেগে পাশে তাকাতেই দেখলো খয়েরি রঙের একটা কামিজ পড়া, চুল গুলো বেণী করা খয়েরি রঙের ফিতা দিয়ে বাঁধা চুল গুলো।
লামিয়া পাশ ফিরে তাকাতেই মিলি চমকে উঠলো।
লামিয়া সামনে থাকা দোকানের লোকটিকে বললো
– এটা আমার পছন্দ হয়েছে প্যাক করে দিন এটা।
তখনই মিলি বলে উঠলো
– এটা আমার পছন্দ হয়েছে আগে তাই এটা আমি নিবো।
মালির কথা শুনে লামিয়া ভ্রু কুঁচকে পাশে তাকিয়ে বললো
– আপনার পছন্দ হয়েছে, আর আমি আগে ধরেছি। তাই এইটা আমার আপনি অন্য ঘড়ি দেখুন।
– তো কি হয়েছে আমি এই ঘড়ি নিবো, তুমি অন্য ঘড়ি দেখো। আমার পছন্দের জিনিসের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে আমি সেই চোখ তুলে নেই।
চোখ মুখ শক্ত করে বললো মিলি।
– তোলা তুলির কথা অন্য জায়গায় যেয়ে বলবেন কেমন। আর শুধু ভেজাল না করে সমনে থেকে সরুন।
কোথা থেকে সব ভেজাল আমার উপর এসে পড়ে আমি বুঝি না।
মিলি দোকানদারকে বললো
– এই ঘড়ির দাম কতো?? তার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে আমি কিনবো, তবুও আমার এই ঘড়ি চাই।
– আজব পাবলিক তো কোন ক্ষেতে থেকে মুলা উঠে এসেছে এইখানে। তখন থেকে গাঁয়ে পড়ে ঝগড়া করছেন। বলেছি না এই ঘড়ি আমি নিবো আমি আগে নিয়েছি এইটা।
লামিয়া কে খুঁজতেই শুভ্র, মাহির, তায়েব,তায়েবা আর রাশেদ এইদিকে আসছিলো। লামিয়ার কন্ঠ শুনে সবাই ঘড়ির দোকানে প্রবেশ করতেই দেখলো একটা মেয়ের সাথে লামিয়া রেগে তর্কাতর্কি করছে।
রাশেদ তাড়াতাড়ি করে বলে উঠলো
– কী হয়েছে এখানে লামিয়া?
রাশেদের কথা শুনে মিলি চোখ তুলে তাকালো। রাশেদ মিলিকে দেখে অবাক হলো। পিছন থেকে শুভ্র আসতেই মিলিকে দেখে সে শীতল দৃষ্টিতে তাকালো। এতো দিন পর শুভ্র কে দেখে মিলি নিজেকে আটকাতে না পেরে দৌড়ে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরলো।
তায়েব, তায়েবা, মাহির হা করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। রাশেদ চুপচাপ তাকিয়ে আছে সে জানতো এমনটাই হবে। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকালো শুভ্রর দিকে, শুভ্র শীতল চোখে লামিয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে।
– তুমি এখানে আশার পর আমি তোমাকে কতো মিস করেছি জানো তুমি? তোমাকে কতোবার ফোন করেছি একটাবারও ফোন তুলো নি কেনো??
শুভ্র মিলির পিঠে হাত রেখে লামিয়ার দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
– কাজে ব্যাস্ত ছিলাম তাই ফোন তুলতে পারিনি।
শুভ্র মিলির পিঠে হাত রাখতেই মিলি করো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো শুভ্র কে।
শুভ্র হালকা হাতে জড়িয়ে ধরলো মিলিকে। কিন্তু চোখ এখনো লামিয়ার দিকে।
এদিকে এই দৃশ্য দেখে লামিয়ার বুকে যে মচর দিয়েছে, কেনো দিয়েছে, কিসের জন্য দিয়েছে তা লামিয়ার জানা নেই। লামিয়া চুপচাপ তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। রাশেদ একবার লামিয়ার দিকে আরেকবার শুভ্রর দিকে তাকাচ্ছে।
লামিয়া শুকনো ঢোক গিললো। তাঁর কেমন লাগছে কেনো এমন লাগছে? এই লোক যাকে ইচ্ছা তাকে জড়িয়ে ধরুক তাঁতে তার কী? ভেবেই দ্রুত ঘড়ির বিল
মিটিয়ে তাড়াতাড়ি করে দোকান থেকে বেরিয়ে এলো। তার পিছন পিছন তায়েব, তায়েবা, মাহির ও বেরিয়ে এলো।
রাশেদ বোনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
– তোরা থাক আমি আসি।
শুভ্র রাশেদের দিকে অসহায় চোখে তাকালো কিন্তু রাশেদ তা দেখে চুপচাপ বেরিয়ে গেলো।
মিলি শুভ্রর বুকে থেকে মাথা তুলে হেঁসে বললো
– এতো দিন পর তোমাকে পেয়েছি তাই আজকের রাতটা তোমাকে আমার দিতেই হবে আজকে ছাড়ছি না তোমাকে।
শুভ্র হেঁসে বললো
– আপনি যা বলবেন।
মিলি হাঁসি মুখটা মলিন করে বললো
– তুমি নাকি ব্যাথা পেয়েছো?? দেখি কোথায়?
– বাসায় চলো সব দেখেবো।
শুভ্রর কথা শুনে মিলি হেঁসে উঠলো। তারপর ঘড়ির কথা মনে পড়তেই বললো
– দেখেছো ওই মেয়েটা আমার পছন্দ করা জিনিস নিয়ে গিয়েছে।
মিলি একে একে সব বললো শুভ্র কে।
শুভ্র বুঝলো এখন লামিয়া তাঁর জন্য তখন চিল্লাচিল্লি করছিলো মিলির সাথে। শুভ্র মিলিকে দোকান থেকে একটা দামী ঘড়ি কিনে দিলো। মিলি বেশ খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরলো শুভ্র কে। শুভ্রর বেশ বিরক্ত লাগছে কিন্তু কিছু করার নেই।
মিলি শুভ্রর হাত ধরে শপিং মল থেকে বের হতেই দেখলো রাশেদরা সবাই দাঁড়িয়ে আছে। শুভ্র আশেপাশে তাকাতেই দেখলো লামিয়া হেঁসে হেঁসে কথা বলছে তবে , মুখটা মলিন দেখাচ্ছে।
শুভ্রর বুক ভার হয়ে উঠলো।
– আমাকে ভালোবাসবে ব্রাউনি?? তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি। বলেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লামিয়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো কায়সার।
লামিয়া মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে কায়সারের দিকে। বাদামী রঙের চোখ গুলো কী সুন্দর। কায়সার লামিয়ার দিকে এগিয়ে এসে লামিয়ার গালে হাত রাখলো আলতো করে। চোখে চোখ রেখে কায়সার আস্তে আস্তে বলে উঠলো
প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৫
– বুলবুলি ভালোবাসি তোকে, আমার বউ হবি?? আমার বউ হয়ে আমার এই অন্ধকার জগতে টাকে আলোকিত করে দিবি?? এই আমিময় খারাপ আমিটাকে ভালো করে দিতে পারবি??
লামিয়া কায়সারের চোখে চোখ রেখে বললো
– পারবো সব পারবো, আমাকে ভালোবাসলে এই আমি আপনার জন্য মরতে পর্যন্ত পারবো।
লামিয়ার কথায় কায়সার যেনো দুনিয়ার সব কিছু পেয়ে গেলো। কায়সার আস্তে করে লামিয়ার কপালে গভীর চুম্বন করলো।
