প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩১
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
রাত প্রায় একটার কাছাকাছি।
চারপাশে রাতের অন্ধকারে ঢেকে আছে, হালকা শীতল বাতাস বইছে চারদিকে। খোলা আকাশের নিচে ছাদের ফ্লোরে বসে আছে লামিয়া। অগোছালো এলোমেলো চুল গুলো আজ আর যত্ন করে কালো ফিতে দিয়ে বাঁধে নি সে। মাথা তুলে আকাশে দিকে তাকিয়ে আছে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল।
ঘাড় ঘুরিয়ে পাশ থেকে কাঁপা কাঁপা হাতে বাদামী রঙের উকুলেলে টা তুলে নিয়ে কোলে রেখে উকুলেলে টার উপর হাত বুলালো। চোখের পানি মুছে হালকা হাসলো। সচরাচর এই উকুলেলে লামিয়ার হাতে কখনোই দেখা যায় না। কিন্তু যখন ই তাঁর ভীষণ কষ্ট হয় বা মানুষের কথায় আঘাত পায় তখনই সে তাঁর প্রিয় উকুলেলে টা নিয়ে রাতের আঁধারে খোলা আকাশের নিচে এসে বসে।যায়।
কখনো লামিয়া গান ভালোবাসতো কি না তা তাঁর জানা নেই। তবে কোনো কালেই তাঁর গানের প্রতি আগ্রহ ছিলো না। তবে ছোট্ট থেকে গানের গলা বেশ দারুন ছিলো তাঁর। মাঝে মাঝে রবীন্দ্রসঙ্গীত গুন গুন করে গাইতো।
কিন্তু গানের প্রতি পুরো ঝোঁক ছিলো শুভ্রর। ভেবেই হালকা হাসলো লামিয়া। উকুলেলে টা বুকের সাথে চেপে ফ্লোরে শুয়ে চোখ বন্ধ করে ডুব দিলো অতীত এ।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
– শুভ্রা মা, মা,মা কোথায় তুমি?
চিৎকার করে বলতে বলতে বাড়িতে প্রবেশ করলো ছোট্ট লামিয়া।
লামিয়ার এমন চিৎকার শুনে শুভ্রা বেগম রান্না ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে এলো। লামিয়া শুভ্রা বেগমকে দেখে দৌড়ে কোমড় পেঁচিয়ে ঠোঁট উল্টে কেঁদে উঠলো।
শুভ্রা বেগম লামিয়া কে দ্রুত কোলে তুলে নিতেই লামিয়া আরো জোড়ে কেঁদে উঠলো।
শুভ্রা বেগম বুঝতে পারলো না এমন কান্নার মানে কী। তাই কোলে তুলে মাথায় হাত বুলিয়ে বললো ” কী হয়েছে আমার আম্মাজান কান্না করছে কেনো?”
লামিয়া কান্না গলায় ঠোঁট উল্টে কেঁদে বললো ” শুভ্রা মা তোমার ছেলে আমাকে আবার মেরেছে।”
শুভ্রা বেগম ভ্রু কুঁচকে বললো ” কেনো মেরেছে?”
লামিয়া শুভ্রা বেগম এর গলা থেকে মুখ তুলে বললো
” আমি শুভ্র ভাই এর রুমে যেয়ে ওই কুলকুলে ধরেছিলাম দেখে মেরেছে আর বলেছে আমি জানি তাঁর রুমে না যাই।”
শুভ্রা বেগম সব ই বুঝলো কিন্তু কুলকুলে কি তাই বুঝতে পারলো না। তাই লামিয়া কে কোলে নিয়েই কপাট রাগ দেখিয়ে এগিয়ে গেলো শুভ্র এর রুমে।
শুভ্র নিজের বিছানা বেশ বিরক্ত নিয়ে ঝাড় ছিলো ।
তবে মায়ের কন্ঠ শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো তাঁর মা আর তাঁর মায়ের কোলে বসে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছে লামিয়া।
শুভ্র বেশ শীতল দৃষ্টিতে তাকালো তাঁর মায়ের দিকে।
শুভ্রা বেগম মিছি রাগ দেখিয়ে বললো ” তুমি আমার মেয়েকে মেরেছো কেনো?”
শুভ্র তাঁর মায়ের কথা শুনে ছোট্ট করে বললো ” মারের কাজ করেছে তাই মেরেছি।”
ছেলের কথা শুনে শুভ্রা বেগম বললো ” কোনটা মারের কাজ করেছে দেখাও আমাকে।”
মায়ের কথা শুনে শুভ্র আগের মতোই বলে উঠলো ” ও এক গাদা ময়লা নিয়ে আমার বিছানায় উঠে আমার উকুলেলে নিয়েছে তাঁর উপর উকুলেলে এর তার ছিঁড়ে ফেলেছে তাই।”
” না শুভ্রা মা আমি কুলকুলের তার ছিড়ি নি ” বলেই অসহায় চোখে তাকালো লামিয়া।
শুভ্রা বেগম এইবার বুঝলো কুলকুলে কি, ছোট্ট হওয়ায় লামিয়া উকুলেলে বলতে না পারায় কুলকুল বলছে দেখে শুভ্রা বেগম হেঁসে উঠলো।
তারপর হাঁসি আটকে রেখে শুভ্রর দিকে আবার মিছি রাগ দেখিয়ে বললো ” বেশ করেছে তার ছিঁড়েছে। যদি আবার যদি দেখি আমার মেয়েকে মারতে তাহলে আমার মেয়েকে তোমার কাছে বিয়ে দিবো না বলে দিলাম। ”
নিজের মায়ের এমন কথা শুনে শুভ্র ভ্রু কুচকালো। হঠাৎ কিছু পোড়া পোড়া গন্ধ নাকে আসতেই শুভ্রা লামিয়া কে কোল থেকে নামিয়ে দৌড়ে রান্না ঘরে গেলো। সে যে তরকারি চুলায় বসিয়ে দিয়ে এসেছে তা ভুলে গিয়েছে।
শুভ্রা লামিয়া কে নামিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বের হতেই শুভ্র লামিয়ার হাত টেনে ধরলো। লামিয়া ভয় পেয়ে চিৎকার করতেই শুভ্র লামিয়ার দিকে ভ্রু কুঁচকে বললো
” যদি চিৎকার করিস তাহলে কোনোদিন ও তোর সাথে আমি কথা বলবো না। ”
শুভ্রর এমন কথায় লামিয়া চিৎকার করলো না তবে ভয়ে কেঁদে উঠলো ” আমি আর শুভ্রা মা কে বিচার দেবো না শুভ্র ভাই।”
শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে লামিয়া কে কোলে তুলে নিলো।
পাশ থেকে মলম নিয়ে লামিয়া কে কোলে তুলে গালে মলম মালিশ করতে লাগলো। থাপ্পড়ের কারণে গাল টা নীল হয়ে গিয়েছে। সবসময় লামিয়া কোনো না কোনো ভুল করে শুভ্রর হাতে মার খাবে কিছুক্ষণ পর শুভ্র ইং সেই আঘাতে মলম মালিশ করে দিবে। এটা জেনো তাদের নিত্য দিনের কাহিনী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লামিয়া যদি শুভ্রর বিছানা নষ্ট ও করে ফেলে বা উকুলেলে টাই যদি ভেঙ্গে ফেলতো তবুও শুভ্র লামিয়া কে কিছু বলতো না। কিন্তু উকুলেলে টা সেই উপরে রাখা ছিলো লামিয়া সেটা আনার জন্য বিছানার উপর টিটেবিল তুলে সেটার উপর উঠে উকুলেলে টা নিয়েছে।
যদি পড়ে যেয়ে ব্যাথা পেতো তখন ভ্যা ভ্যা করে কান্না করে চোখ মুখ ফুলিয়ে ব্যাঙ করে রাখতো। আর এই মেয়ের কান্না যে শুভ্রর ভালো লাগে না। এই মেয়ে একটু ব্যাথা পেলে মনে হয় শুভ্রর জান বের হয়ে যাবে। কিন্তু কখনো প্রকাশ করে নি তা। এই মেয়ের মধ্যে কি আছে শুভ্র জানে না তবে এইটুকু জানে এই মেয়ে তাঁর জীবনে না থাকলে তাঁর বাঁচা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শুভ্র মলম মালিশ করে লামিয়ার দিকে তাকালো। কেমন ভীতু চোখে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। দুনিয়ার সামনে লামিয়া সাহসী হলেও শুভ্রর সামনে লামিয়া সবসময় ই ভীতু। কেউ তাকে একটা জিনিস করতে মানা করলে বারবার করবে। কিন্তু শুভ্র একবার তাঁর দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকালে লামিয়া সেই জিনিস এর আশেপাশে ও ভিরবে না।
লামিয়া শুভ্রর কোল থেকে নামতে চাইলে শুভ্র নামতে না দিয়ে লামিয়া কে কোলে তুলে দাঁড়িয়ে শুভ্রর বেলকনিতে নিয়ে দোলনায় বসিয়ে দিলো। শুভ্রর রুমের সবচেয়ে পছন্দের সুন্দর জায়গা সেটা হলো শুভ্রর বেলকনি।
শুভ্র নিজ হাতে সাজিয়েছে এই বেলকনি। চারপাশে টবে লাগানো ভৃঙ্গরাজ ফুল গাছ। সবুজে ঘেরা এই বেলকনি।
তাঁর মাঝেই একটা বড় দোলনা যেখানে শুভ্র বসে বসে বই পড়ে। এই বেলকনিতে শুধু শুভ্র লামিয়া কেই আসতে দেয় তা ছাড়া আর কাউকে না। বেলকনিতে এসে লামিয়ার মুখে হাঁসি ফুটে উঠলো।
লামিয়া কে দোলনায় বসিয়ে দিয়ে শুভ্র বুক সেল্ফ থেকে একটা বই এনে নিজেও লামিয়ার সামনের চেয়ারে বসলো। লামিয়া পাশ থেকে একটা একটা ফুল ছেঁড়ার জন্য হাত বাড়াতেই শুভ্র ধমকে উঠলো ।
লামিয়া ভয়ে আর ফুলের দিকে হাত বাড়ানোর সাহস পেলো না।
শুভ্র বসে বসে বই পড়ছে। লামিয়া পিট পিট করে চোখ ভর্তি ঘুম নিয়ে শুভ্রর দিকে তাকালো।
শুভ্র ও মাথা তুলে লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া হাই তুলছে। আজকে মারের কারণে ভয় পেয়ে কথা বলছে না না হলে এতোক্ষণ পটর পটর করে শুভ্রর কান জ্বালিয়ে দিতো।
শুভ্র চেয়ার থেকে উঠে দোলনায় বসে লামিয়া কে কোলে তুলে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে মাথায় বিলি কেটে দিতে লাগলো। লামিয়া শুভ্রর বুকে আড়াম পেয়ে আস্তে আস্তে ঘুমের রাজ্যে পারি দিলো।
শুভ্র যখন বুঝতে পারলো লামিয়া ঘুমিয়ে গিয়েছে তখন শুভ্র হালকা হেঁসে লামিয়ার গালের থাপ্পড়ের জায়গায় চুমু দিয়ে আবার বইয়ে মুখ গুজে বসে রইলো।
অতীতে কথা ভেবেই লামিয়ার হালকা হাসলো তবে চোখ থেকে পানি পড়ছে। আজ মনে হয় চোখের পানি পণ করেছে যে চোখ থেকে পানি পড়া থামবে না।
লামিয়া চোখ খুলে উঠে বসলো। উকুললে টার দিকে তাকিয়ে আবারো হাসলো।
এই সেই উকুলেলে যেটার জন্য শুভ্র তাঁকে মেরেছিলো।
কিন্তু আসলে কেনো মেরেছিলো তা লামিয়া আজ ও পর্যন্ত বুঝতে পারে নি।
লামিয়া উকুলেলে টা কোলে তুলে টুং টাং সুর তুলে গান ধরলো
~তুমি এই রোদের মতো
আমি তোমায় মাখছি গো।।
তুমি এই মেঘের মতো
বৃষ্টির আশায় থাকছি গো।।
ভাবি যেতে যেতে থেমে
সেই দেখা শেষ দেখা না হয় ।।
তোমার আমার প্রেমে
আমি কি একাই স্মৃতির বাহক ?
তুমি সব ভালো আমার ,
তুমি সব আলো আমার,
অন্ধকার তো না।।।
তবে কী বৃথা যাবে প্রেম প্রার্থনা?
ঈশ্বর কী তোমার আমার
মিলন লিখতে পারতো না।।
ভাঙা গলায় খেয়ে উঠতেই পিছনে কারোর উপস্থিতি টের পেলো। পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখলো রাশেদ দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে লামিয়া হালকা হেঁসে উকুলেলে টা পাশে রেখে আকাশের দিকে তাকালো।
” কী সুন্দর আকাশ তাই না বড় ভাই?”
আকাশের দিকে তাকিয়ে রাশেদকে বলে উঠলো লামিয়া।
রাশেদ বোনের মনের অবস্থা খুব ভালো করে বুঝতে পারছে। তাই এগিয়ে গিয়ে বোনের পাশে বসলো। সারাদিন বাঁদরামি করে সারা বাড়ি মাথায় করে রাখা এই মেয়েটাও যে তিলে তিলে ভিতরে মারা যাচ্ছে তা বোঝার সাধ্য কি কারোর আছে?
রাশেদ বোনের মাথায় হাত রেখে বলে উঠলো ” কয়টা বাজে হিসেব আছে??”
” ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ড এর হিসেব করে কী করবো বড় ভাই? এই ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ড এর হিসেব করলে কী সে ফিরে আসবে বলো?”
” এইভাবে রাত জেগে ছাদে বসে থাকলেও তো সে ফিরে আসবে না বরং তোর নিজের শরীর অসুস্থ হবে।”
” শরীর অসুস্থ দিয়ে কী করবো বড় ভাই, যেখানে পুরো গোটা আমি টাই অসুস্থ হয়ে গিয়েছি সেই অনেক আগেই।”
বলেই লামিয়া রাশেদের দিকে তাকালো। হালকা হেসে আবারো বলতে শুরু করলো আকাশের দিকে তাকিয়ে।
” আমার যে বদ্দ কঠিন অসুখ বড় ভাই। এই অসুখটা আমাকে তিলে তিলে মারছে । আমার শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয় জানো। আমার বুকে কেমন জানি যন্ত্রণা হয়। দম বন্ধ হয়ে আসে। কেমন জানি করে বুকের ভেতর। ও…ওই মানুষটা চলে যাবার আগে আমাকে শেষ করে দিয়ে গিয়েছে। ওই মানুষটা আমার মধ্যে এমন কঠিন অসুখের ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। আমি এই অসুখের জন্য বেশ বিরক্ত।
জানো, এই অসুখের কোনো ঔষধ নেই। এক মাত্র মৃত্যু ছাড়া এই অসুখ কোনো ঔষধ এ ছাড়বে বলে মনে হয় না।
বলে থামলো লামিয়া। রাশেদ অবাক চোখে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। যে বোন কোনোদিন কারোর সামনে ভেঙে পড়ে নি আজকে সেই বোন কে ভেঙে যেতে দেখে তাঁর কষ্ট হচ্ছে।
লামিয়া শুকনো ঢোক গিলে আবার বলতে শুরু করলো
” তাঁকে জড়িয়ে ধরে যদি বলতে পারতাম, ভীষন ভালোবাসি। হয়তো হৃদয় টা একটু হলে ও শান্তি খুজে পেতো। কিন্তু নিয়তির নির্মম খেলায় সে সুযোগ টা আর পেলাম না। মনের ভেতর এতো ভালোবাসা জমে আছে, অথচ বলার মতো সেই মানুষ এখন আর পাশে পাই না। কখনো কখনো মনে হয়, যদি মেঘলা আকাশের নিচে বসতে পারতাম তাঁর পাশে, নিরবে হাত টা ধরে বলতে পারতাম তোমাকে ভিষণ মিস করি তবে হয়তো বুকের গভীরে জমে থাকা ব্যথা গুলো একটু হলেও হাল্কা হয়ে যেতো। কিন্তু হায়!সেই মূহুর্ত গুলো শুধু স্বপ্নেই থেকে গেলো।”
বলেই থামলো। চোখ বেঁয়ে গড়িয়ে পড়লো নোনা জল। লামিয়া হাতের উল্টো দিক দিয়ে চোখ মুছে উকুলেলে নিয়ে নিচে চলে গেলো কিছু না বলে।
রাশেদ বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল তাঁর যাওয়ার দিকে। তাঁর বোন এতো কষ্ট পাচ্ছে আর তাঁরা কেউ জানে না। হঠাৎ পিছন থেকে কিছু ভাঙার শব্দ শুনে রাশেদ চোখ ঘুরিয়ে পিছন ফিরতেই দেখলো ফুলের টব নিচে পড়ে আছে তাঁর পাশেই শুভ্র রাগে ফুঁসছে।
এতোক্ষণ শুভ্র এখানেই ছিলো। লামিয়ার সব কথা শুনেছে সে।
দুপুরের ঘটনার পর শুভ্র কেমন ছটফট করছিলো লামিয়ার জন্য। কারণ সেই ঘটনার পর থেকে লামিয়া একবারের জন্যও নিজের রুম থেকে বের হয়নি। তাই
শুভ্র লামিয়া কে দেখতে চুপিচুপি লামিয়ার রুমে যেয়ে যখন রুম ফাঁকা দেখলো তখন রাশেদকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বলতেই রাশেদ শুভ্র পুরো বাড়ি খুঁজে ও যখন তাঁকে পায়নি তখন তারা উকুলেলে এর টুং টাং সুর শুনে ছাদে দৌড়ে এসেছে।
রাশেদ দৌড়ে শুভ্র কে ধরলো শুভ্র রাশেদের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে মুখে হাত রেখে ভাঙা গলায় বলে উঠলো ” আমার জন্য, আমার জন্য শুধু মাত্র আমার জন্য লামিয়া এতো কষ্ট পাচ্ছে। আমি
ওর কষ্ট দেখতে পাচ্ছি না রাশেদ তোর বোন এর এই কষ্ট আমি কীভাবে দূর করবো বলতে পারিস??”
রাশেদ শক্ত কন্ঠে জবাব দিলো ” তুই শুভ্র তা বলে দে। আমি আমার বোনের কষ্ট নিতে পারছি না আর। ”
” কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে কীভাবে বলবো, তোর বোন আমাকে ঘৃণা করে আমাকে ভুল বোঝে এখনো। আর যদি সত্যি বলে দিই তাহলে ওরা আমার দূর্বলতা হিসেবে লামিয়া কে টার্গেট করবে। যে কোনো ক্ষতি করে দিতে পারে তোর বোনে এর। ”
” কিন্তু আর কতোদিন শুভ্র? কতোদিন লামিয়ার থেকে এইভাবে লুকিয়ে বেড়াবি? সত্যি টা তুই না বললেও একদিন না একদিন সামনে আসবেই।”
শুভ্র কিছু ভেবে পাচ্ছে না সে কী করবে। নিজের উপর তার অনেক রাগ লাগছে। কেনো সেদিন রাগ দেখিয়ে মিথ্যে বলেছিলো লামিয়া কে। হয়তো সেদিন মিথ্যে না বললে আজ তাঁর প্রিয়তমা এতো কষ্ট পেতো না।
রাশেদ শুভ্রর দিকে তাকিয়ে কাঁধে হাত রাখলো। শুভ্র মুখ থেকে হাত সরিয়ে রাশেদ এর দিকে তাকালো।
শুভ্র কান্না করছে রাশেদ শুভ্র কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিতে লাগলো সব ঠিক হয়ে যাবে।
শুভ্র রাশেদ কে জড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।
রাতের অন্ধকার কাটিয়ে ধরণীতে দিনের আলো ফুটে উঠেছে।
লামিয়া আড়মোড়া ভেঙে হাই তুলতে তুলতে বাথরুমে এর দিকে যেতেই থেমে গেলো, সে কি ভুল কিছু দেখলো নাকি? চোখ কচলিয়ে বেলকনির সোজা তাকাতেই চোখ বড় বড় করে ফেললো।
দৌড়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সোজা লাবিবের বেলকনিতে তাকাতেই দেখলো মনিকা লাবিবের মাথা মালিশ করে দিচ্ছে।
এই মেয়ে কে সেদিন না দেখলো আবরারের সাথে ঘেঁষাঘেঁষি করতে যত্তসব গাঁয়ে পড়া মেয়ে।
ভেবেই ভেংচি কেটে রুমে আসতে যাবে তখনই ঠাস করে কিছু পড়ার শব্দে পাশের বেলকনিতে তাকাতেই
দেখলো নাইটি পড়ে রাগি দৃষ্টিতে লাবিবের বেলকনি বরাবর তাকিয়ে আছে ছবি।
কফির মগ মাটিতে পড়ে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে আছে। ছবির চোখ দেখে মনে হচ্ছে এখনই পারছে না সে মনিকা কে খুন করতে।
তা দেখে লামিয়া সয়তানি হাঁসি দিয়ে জোড়ে বলে উঠলো মনিকার উদ্দেশ্যে ” ওহো মনিকা জোড়ে মালিশ করো পারলে মাথা থেকে হাত আস্তে আস্তে নিচে নামিয়ে মালিশ করো মানে শরীরে বলেছি কিন্তু।”
লামিয়ার এমন কথায় মনিকা আর লাবিব চমকে উঠলো। লামিয়া পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো ছবি তাঁর দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। লামিয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বাঁকা হাসলো ছবির দিকে তাকিয়ে।
যেনো চোখ গুলো বলে দিচ্ছে ছবি কে ” দেখ কেমন লাগে।”
তা দেখে ছবি আরো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।
তা দেখে লামিয়া বুকে হাত দিয়ে কষ্ট স্বরে বলে উঠলো
– পরাণ যায় জ্বলিয়া রেএএএ, পরাণ যায় জ্বলিয়া রেএএএ।
বলেই হো হো করতে করতে বাথরুমে চলে গেলো। ছবি রেগে রেলিংয়ে ঘুষি মেরে নিজের রুমে চলে গেলো।
লামিয়া ফ্রেশ হয়ে এসে ঘড়িতে সময় দেখলো মাত্র সাতটা বাজে। কালকে দেরিতে ঘুমানোর জন্য নামাজ মিস করে দিয়েছে। ভেবেই নিজের গালে একটা চড় মেরে উড়না গায়ে জড়িয়ে চলে গেলো ছাদে গাছে পানি দিতে।
ছাদে পা দিতেই দোলনায় চোখ পড়তেই চোখ রসগোল্লার মতো হয়ে গেলো। মুখ অটোমেটিক হা হয়ে গেলো।
দোলনায় শুয়ে আছে শুভ্র গাঁয়ের জামা ফ্লোরে পড়ে আছে। এই ছেলে এখানে কেনো ঘুমিয়ে আছে? আর খালি গাঁয়ে কেনো।
লামিয়া আস্তে আস্তে করে এগিয়ে গেলো শুভ্রর কাছে। ফ্লোর থেকে শার্ট তুলে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো। এগিয়ে গিয়ে শার্ট শুভ্রর উপর দিতেই চোখা পড়লো শুভ্রর বুকের উপর। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে ভালো মতো খেয়াল করে তাকাতেই চমকে উঠলো।
শুভ্রর বুকের পোড়া দাগ টা কেমন চেনা লাগছে।
অজান্তেই লামিয়ার হাত শুভ্রর বুকের পোড়া জায়গায় যেতেই আচমকা শুভ্র লামিয়ার হাত ধরে ফেললো। লামিয়া ভয় পেয়ে সরে যেতেই শুভ্র লামিয়ার হাত ধরে নিজের কাছে টেনে এনে চোখ খুলে উঠে বসে ভ্রু কুঁচকে বললো ” আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আমার ইজ্জতের উপর হাত বাড়াচ্ছিলেন কেনো মিস?”
শুভ্রর কথায় লামিয়া অবাক হয়ে বললো ” এসব কেমন আজগুবি কথা বলছেন আপনি?”
” আজগুবি না আমি ঠিক বলছি। আচ্ছা সবসময় আমার ইজ্জতের উপর হাত বাড়ান কেনো আপনি? ছিঃ ছিঃ ছিঃ দেখুন মিস আমি একজন ভার্জিন ছেলে।
আমার ইজ্জত আছে তো নাকি।”
“এসব কি বলছেন যা তা?”
” আমি ঠিক বলছি মিস।”
বলেই হাত টেনে লামিয়া কে আরো কাছে নিয়ে আসলো।
” হাত ছাড়ুন কেউ দেখলে খারাপ বলবে।”
বলেই হাত ছাড়াতে চাইলো কিন্তু পারলো না।
“উঁহু আজকে কোনো ছাড়া ছাড়ি নেই। চোর যখন আজকে হাতে নাতে ধরেছি তখন সবাইকে আজকে বলে দিবো ইসলাম বাড়ির কন্যা আমার ইজ্জতের উপর হাত দিয়েছে এবং একবার নয় দুই দুইবার।”
” দেখুন উল্টো পাল্টা বদনাম রটাবেন না বলছি। আমি একজন ভদ্র মেয়ে । আমি শুধু আপনার বুকের…।
” হ্যাঁ সেটাই তো আপনি আমার বুকের উপর হাত দিয়েছেন।”
“আজব তো মেয়ে মানুষ নাকি আপনি আর আপনার বুকের উপর হাত রাখেছি কোথায় আমি তো শুধু দেখছিলাম।”
” ছিঃ মিস ইসলাম কন্যা আপনি আমার ইয়ে দেখছিলেন?”
শুভ্রর কথায় লামিয়া আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে তাঁর দিকে।
” ইয়ে মানে কী বলতে চাইছেন?”
শুভ্র মনে মনে হেঁসে ইশারা করলো নিজের বুকের দিকে।
লামিয়া তা দেখে চোখ বড় বড় করে তাকালো শুভ্রর থেকে হাত ঝাড়া মেরে নিজের হাত ছড়িয়ে দূরে সরে দাঁড়িয়ে উচ্চ স্বরে বললো
” আস্তাগফিরুল্লা,নাউজুবিল্লাহ, তওবা তওবা। ছিঃ আপনি এতো টা অসভ্য ছিঃ। ”
” অসভ্যতামি তো আপনি আগে করেছেন। আজকে আমি সবাইকে বলবো এই কথা। সবসময় আপনি আমার ইজ্জতের উপর হাত বাড়ান।
শুভ্র বেশ সিরিয়াস গলায় বললো কথাটা।
” দেখুন আমি শুধু আপনার…”
” হ্যাঁ আমার ইজ্জতের উপর হাত দিয়েছেন শুধু তাই বলতে চাইছেন। আজকে আমি সবাইকে বলবো।
বলেই খান বাড়ির ছাদে দৃষ্টি রেখে বাঁকা হাসলো।
লামিয়া শুভ্রর দৃষ্টি অনুসরণ করে খান বাড়ির ছাদে তাকাতেই দেখলো শফিকুল সাহেব গাছে পানি দিচ্ছে।
তারপর শুভ্রর দিকে তাকালো এই লোকটার মতিগতি সুবিধার ঠেকছে না। এই লোক উল্টো পাল্টা কিছু বললে মান সম্মান সব শেষ হয়ে যাবে।
শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলো
” দেখুন এই মেয়ে আমার ইজ্জতের….।”
আর কিছু বলতে পারলো না। লামিয়া দ্রুত দৌড়ে শুভ্রর মুখ ধরতেই পায়ে পা বেজে পড়ে যেতে নিলেই শুভ্র লামিয়ার কোমড় ধরলো লামিয়া ভয়ে শুভ্রর গলা পেঁচিয়ে ধরতেই শুভ্রর পুরো শরীর অবশ হয়ে উঠলো।
সমস্ত শরীরে এর ভর ছেঁড়ে দিতেই ধাম করে দুজনে ফ্লোরে পড়ে গেলো। শুভ্র লামিয়ার উপর পড়তেই।
লামিয়া চেঁচিয়ে উঠলো “ইয়া খোদা আমার কোমড় শেষ।”
শুভ্র লামিয়ার মুখ চেপে ধরে বললো ” গরুর মতো এভাবে চেঁচামেচি করছেন কেনো?এটা আপনার গলা নাকি আরো কিছু?”
শুভ্রর কথায় লামিয়ার বিরক্ত হলো। রাগ দেখিয়ে বললো ” একটা পিঁপড়ার শরীরের উপরে গন্ডার যদি এসে পড়ে তাহলে পিঁপড়া চেঁচামেচি করবে নাকি সেই গন্ডার করবে?”
” ওয়েট আপনি কি আমাকে গন্ডার বলে সম্বোধন করলেন?”
” জ্বী! আপনাকেই গন্ডার বলে সম্বোধন করেছি। আরো অনেক কিছুই বলে সম্বোধন করতে পারি তবে এই মুহূর্তে কিছু মনে পড়ছে না। তাই মাননীয় সিমেন্টের বস্তা দয়া করে সরুন আমার উপর থেকে। ”
” আপনি চাইলে সারাজীবন আপনার উপর এমন ভর দিয়ে থাকতে পারি মিস। ”
শুভ্রর কথায় লামিয়ার বেশ রাগ লাগছে। জোড়ে শুভ্রর বুকের উপর ধাক্কা দিতেই শুভ্র সরে গেলো।
লামিয়া কোমড়ে হাত রেখে আস্তে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।
লামিয়া কে এইভাবে দেখে শুভ্র মুখ চেপে হাসলো তারপর আবার বললো
“আপনি রাজি থাকলে আমার কিন্তু কোনো আপত্তি নেই মিস” বলেই চোখ মারলো শুভ্র।
লামিয়া তা দেখে রাগি চোখে শাসালো ” চুপ করুন অসভ্য লোক। আজকে আপনার জন্য আমার কোমড় ভেঙে গেছে। আমি এই কোমড় ব্যাথা নিয়ে হাটবো কীভাবে?”
” আপনি চাইলে আমি আপনার পা হতে পারি ।”
“মানে?”
” মানে আপনাকে কোলে তুলে নিয়ে হাঁটতে পারি। তবে তার বিনিময়ে দুখানা চুমু খেলে মাইন্ড করবো না। আমি আবার ফ্রিতে কিছু করি না। দু খানা চুম্মা তো বানতাহে মিস।
বলেই চোখ মারলো শুভ্র।
লামিয়া দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো ” আপনি আসলেই অসভ্য লোক।” বলেই কোমড়ে হাত রেখে হাঁটতে লাগলো।
শুভ্র পিছন থেকে হেঁসে বলে উঠলো ” আপনি চাইলে অসভ্যতার চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে পারি তবে শুধু মাত্র আপনার জন্য মিস। ”
লামিয়া বকতে বকতে চলে গেলো নিচে। শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। কালকে গভীর রাতে এই মেয়ে যে ছাদে বসে দুঃখ বিলাস করেছে কে বলবে?
কালকে রাতে রাশেদ কে রুমে পাঠিয়ে বসেছিলো একা ছাদে। গরমের কারণে গায়ের শার্ট খুলে বসে ছিলো। কিন্তু কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিলো নিজে ও জানে না। তাঁর উপর
সকাল সকাল একটা মিষ্টি ঝগড়া দিয়ে শুরু হতেই মনটা ভালো হয়ে গেলো।
প্রতিদিন সকাল সকাল এমন ঝগড়া করার জন্য আপনাকে আমার চাই মিস। বলেই হেঁসে শার্ট নিয়ে নিচে চলে গেলো শুভ্র।
বাড়ির কর্তারা খাবার শেষ করে যে যার কাজে চলে গিয়েছে। খাবার টেবিলে বসে আছে ইসলাম বাড়ির ছেলে মেয়েরা। ছবি মুখ লকটে বসে আছে। লাবিব আর মনিকা কে দেখার পর থেকেই ভীষণ ভাবে ক্ষেপেছে সে।
লামিয়া ছবি কে কিছুক্ষণ পর পর খেয়াল করছে। তার ভীষণ মজা লাগছে। দেখ কেমন লাগে প্রিয় মানুষের সাথে অন্য কাউকে দেখলে। বোঝ মজা এইবার।
লামিয়া মিট মিট করে হাসছে দেখে ছবি এইবার আরো রেগে গেলো।
তা দেখে লামিয়া হো হো করে হেঁসে উঠলো। হঠাৎ লামিয়ার হাঁসি দেখে সবাই তাঁর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
পাশ থেকে হামিদা বলে উঠলো ” হাসছিস কেনো?”
লামিয়া মুখে হাঁসি রেখে বললো ” আমি হাসিতে ভালোবাসি তাই হাঁসি তুই ও হাস।”
ছবি এইবার রেগে বলে উঠলো ” একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছিস না?”
লামিয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে মুখে রুটি পুরে নিয়ে চিবুতে চিবুতে মাহির কে বলে উঠলো ” মাহির তোর কাছে পোড়া জায়গায় দেবার মতো মলম আছে?”
মাহির খেতে খেতে জবাব দিলো ” হ্যাঁ আছে তবে কোথায় পুরেছে? ”
লামিয়া দুঃখি মুখ করে বললো ” কারোর পরাণে জ্বলতাছে সেখানে মালিশ করবো।”
ছবি এইবার রেগে মেগে বলে উঠলো ” চুপচাপ খা নয়তো সামনে থেকে সরে যা। তোকে আমার এই মূহুর্তে সহ্য হচ্ছে না। দেখতে ইচ্ছে করছে না তোকে।”
ছবির কথায় আর কেউ বিরক্ত না হলেও মাহির, তায়েব, তায়েবা বেশ বিরক্ত হয়েছে।
তাই তাঁরা কপাল কুঁচকে তাকালো ছবির দিকে।
লামিয়া বাঁকা হেঁসে বললো ” আমাকে যেহেতু দেখতে পারিস না, তাহলে বাথরুমে গিয়ে হারপিক খেয়ে মরে যা। তুই ও থাকবি না আমাকে দেখতে ও পারবি না।”
পাশ থেকে তায়েব খেতে খেতে বলে উঠলো ” জানিস লামিয়া মাঝে মাঝে আমার না পাখি হতে ইচ্ছে করে। পাখি হয়ে উড়ে বেড়াতাম আর উড়তে উড়তে কিছু মানুষের উপর হেগে দিতাম।” বলেই ছবির দিকে তাকালো।
এদিকে মাহির, তায়েবা , লামিয়া হো হো করে হেঁসে উঠলো।
ছবি তা দেখে রেগে খাবার রেখে উঠে দাঁড়িয়ে হনহন করে চলে গেলো নিজের রুমে। তা দেখে লামিয়া বাঁকা হেঁসে কিছু একটা ভেবে মাহির, তায়েব, তায়েবা কে উদ্দেশ্য করে আস্তে আস্তে করে বললো ” একটা প্ল্যান আছে শুন। বলেই চার মাথা এক হলো। সবাই চুপচাপ তাদের দিকে তাকিয়ে খাবার খাওয়ায় মন দিলো।
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩০
শুভ্র মুচকি হেসে খাবার খাচ্ছে।
লামিয়া, মাহির, তায়েব তায়েবা প্ল্যান শেষ করে হিহি করে হেঁসে উঠে দাঁড়িয়ে উপরের রুমের দিকে হাঁটা ধরলো। সবাই তা দেখে যে যার মতো খাবার খেয়ে উঠে চলে গেলো।
