Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৬

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৬

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৬
আরোবা চৌধুরী আরু

মেডিকেল সেন্টার
ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি রাজকীয় স্থাপনার মতো দেখতে পুরনো বিল্ডি, শাহানাজ জোহরা চৌধুরীর নামে নামে নামকরণ করা হয়। পূর্ণ নাম: বেগম শাহানাজ জোহরা চৌধুরী (রাশিদ পরিবারে পরিচিত ‘মা সাহেবা’ নামে)
প্রতিষ্ঠা হয় প্রায় ৩৫ বছর আগে।বিলকিস আরা রাশিদের শাশুড়ির স্মৃতিতে এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন।
সেবা করতেন বিনা স্বার্থে। তাঁর সম্মানে এই হাসপাতাল তৈরি করা হয়, যেখানে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি একটা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।

হাসপাতালের ভেতরের কাঠামোটি যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ছোঁয়াও রয়েছে,
সায়ফান ও রাহিল একটা কালো Prado গাড়ি এসে থামল হাসপাতালের মূল ফটকে।
দু’জন রাশভারী, কালো ইউনিফর্ম পরা গার্ড গেট খুলে দাঁড়াল। গাড়ি থেকে নেমে এল সায়ফান পাশে নামল ছোট্ট রাহিল হাত ধরে রাখা, মুখে অস্থিরতা।
“ভয় পাইস না পাখি, আজকে তোর সম্পদেরইনভেস্টমেন্ট একটু কাটতাছি।” সায়ফান বলল হেসে।
দুই গার্ডকে ইশারা করে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“তোমরা বাইরেই থাক, আমি রাহিলকে নিয়ে কেবিনে যাই।”
সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে তারা গেল হাসপাতালের এক নির্দিষ্ট কেবিনে,
“Dr. Rahul Ahmed’s Pediatric Surgery Unit।”
কেবিনের দরজায় কোনও শব্দ না করে সায়ফান ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
রাহিলের ছোট্ট হাতটা নিজের হাতে রাখলেও, চোখ ঘুরে গেল সামনের চেয়ারে বসা ডাক্তারের দিকে।
সাদা ল্যাবকোটে বসে আছেন একজন অল্পবয়সী নারী।
মাথায় স্টাইল করে বাঁধা হালকা ঢেউ খেলানো চুল, মুখে ক্লিনিকাল নিঃসঙ্গতা, চোখে চাপা আত্মবিশ্বাস।
ব্যাজে লেখা,,

“Dr. Nurjahan S. Rahman।”
সায়ফান কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেল। ভাবলে ভুল কেবিনে এসছে মনে হয়। তারপর টেবিলের ওপরে থাকা ডক্টর রাহুলের নেমপ্লেট দেখে বুঝল না ঠিক কেবিনে এসেছে। কিন্তু এটা কে?
তাঁর চোখ ধীরে ধীরে স্ক্যান করতে লাগল মেয়েটিকে। তারপর হঠাৎ মাথায় এল এক চমৎকার বুদ্ধি ওর
চোখে একটু দুষ্টু উচ্ছ্বাস ।
সে একটা হালকা শয়তানি হাসি দিয়ে বলল,
“এই যে, ডক্টর সাহেবা! এই বাচ্চার সম্পদ কাটানোর জন্য এসেছি।”
নূরজাহান ভ্রু কুঁচকে তাকালেন,

“I beg your pardon? What did you just say?”
(মাফ করবেন? আপনি কী বললেন একটু আগে?)
“মানে, এই যে ওর পাখিটা মানে… সুন্নত করাতে এসেছি। খাতনা!” পারবেন তো নাকি গোরা শুধু উপরে দিবেন দেখে শুনে কিন্তু। বলে মুখ চেপে নিজের হাসি সংযত করল।
“Excuse me! And how did you just barge into my cabin? Do you even have an appointment? Do you even know manners?”
ক্ষমা করবেন! আপনি হঠাৎ করে কেবিনে ঢুকে পড়লেন কীভাবে? আপনার কি কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে? আপনি কি ভদ্রতা জানেন না ?)

“ওহ্ এসব বাদ দিন ডক্টর। আপনি এত সুন্দরী যে, আপনার হাতেই যদি কাটানো যায়, তাহলে তো দুধে আলতা!” আর আপনাকে অনেক পছন্দ হয়েছে আমার।
নূরজাহান এবার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
“What! Are you being serious right now?”(কি! আপনি কি এখন সত্যিই সিরিয়াস?)
“ভেরি সিরিয়াস, মিস ডক্টর নূরজাহান। আপনি তো একেবারে আপনার নামের মতো, নূরের মতো ঝলমল করছেন!”

“What again! What is wrong with you people? Behave yourself!”(আবার কি! আপনাদের মানুষের সমস্যা কী? ঠিক মতো আচরণ করুন!)
সায়ফান একটুও থামল না, বরং হেসে বলল,
“আর বলবেন না ডক্টর, আপনার চেহারার চেয়ে সুন্দর যদি কিছু থাকে, সেটা আপনার রাগ।”
নূরজাহান এবার মুখ কালো করে বললেন,,
“I’m older than you. Show some respect!”(আমি আপনার চেয়ে বড়। একটু শ্রদ্ধা দেখান!)
“আরেহ্, তাহলে তো jackpot! আমি তো সিনিয়রদের অনেক পছন্দ করি। তাও আবার যদি এত সুন্দরী হয় লাভেই লাভ !” বলে চুলগুলোতে হাত গোলানো।
নূরজাহান বিরক্ত চোখে বলল,,

“Who gave you authority to decide who works here and who doesn’t?”(এই হাসপাতালটিতে কে কাজ করবে আর কে করবে না, সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?)
যাক ছোটবেলায় ভাগ্যিসে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছি না হলে আপনার মত ইংরেজের কথা বুঝতেই পারতাম না।এজন্য আম্মুকে একটা চুম্মা পাওনা থাকলো।
Dr. Rahul আসে ঠিক তখনই কেবিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল ডা. রাহুল আহমেদ। লম্বা গড়ন, গম্ভীর মুখে স্নিগ্ধ হাসি, হাতে ফাইল।
সায়ফানকে দেখে জোরে হেসে বলল,

“সায়ফান! হঠাৎ এখানে? কিসের সুবাদে?”
“ভাইয়া, আজকে তোর হাসপাতালে ঢুকে দেখি, এখন মেয়েরা খাতনা করায়!”
“হ্যাঁ?” রাহুল কপাল কুঁচকে তাকাল।
সায়ফান চোখ টিপে ইশারা করল নূরজাহানের দিকে।
রাহুল হেসে বলল,

“ও তুমি Dr. Nurjahan এর কথা বলছ? উনি আমাদের নতুন পেডিয়াট্রিক ট্রেইনি সার্জন। মাত্র জয়েন করেছে।”
সায়ফান মুখে শয়তানি হাসি। রাহুল নুরজাহানের দিকে ইশারা করে বলল,
“ও আচ্ছা… আসলে তুমি কে এটা উনি জানেন না।”
“Exactly! ডক্টর নূরজাহান এই হসপিটাল সাইফানের দাদু তৈরি করেছেন, আজ তার নাতি এখানে খাতনা করাতে এসেছে, তোমার সাথে হয়তো একটু মজা করেছে।
নূরজাহান এবার একটু লজ্জা পেয়ে, মুখে চাপা হাসি এনে বলল,
“I… I’m sorry, I didn’t know.”
সায়ফান এবার নরম গলায় বলল,
“Sorry accepted, Dr. Nur-e-জাহান। আপনি তো আসলেই এক ঝলক নূর। আর আপনি সুন্দর হলেও, রাগলে আরও সুন্দর।”

নূরজাহান এবার দাঁত চেপে একটু হাসার চেষ্টা করল ।
রাহুল তখন পাশে সায়ফানের কানে ফিসফিসিয়ে বলল,,
“এই মেয়েটা তোর হবু ভাবি হতে পারে! আমার মা ওর মায়ের খুব ভালো বান্ধবী। আমি ওকে পছন্দ করি।”
সায়ফান মুখ টিপে হেসে বলল,
“সেকি! ভাবি তো jackpot! তাহলে তো এই সিনিয়র ভাবির সাথে একটু বেশি মজা নিতে হতো !”
সয়ফান তুই দিন দিন প্রচন্ড রকমের দুষ্টু হচ্ছিস দু’জনেই হেসে উঠল।
রাহুল আফিয়া বেগমের বান্ধবীর ছেলে ডাক্তারি পাস করার পর ওদের হসপিটালে জয়েন্ট করে বর্তমানে অনেক দায়িত্ব পালন করছে হসপিটালের।

Meanwhile… রাহিল
রাহিল চুপচাপ একপাশে বসে ছিল, তখন বলল,,
“ভাইয়া, আমার পাখিরা কাটা হবে এখন?”
সায়ফান ও রাহুল একসাথে হেসে ফেলল!
নুরজাহান লজ্জা পেয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল ।
“Don’t worry, baby! আমি একটুও ব্যথা লাগতে দিব না, okay?” রাহুল বলে উঠলো!

নাফিসা, রুহি ও রিশার সাথে গিয়ে তখন ফ্রেশ হওয়ার পর ওকে খেতে দিয়েছিল। ওর সাথে এমন ভাবে কথা বলছিল যেন কত দিনের পরিচয় ওদের সাথে। আর ওর সব থেকে পছন্দ হয়েছে মামনি কে।
কেন জানি মামনির কাছে গেলে মা র অভাবটা পূরণ হয়ে গেছে মনে হয়। রুমে এসে ওকে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছে। ও প্রথমে ইতস্তত বোধ করছিল, কিন্তু আফিয়া বেগম এক ধমক দিয়ে ওকে খাইয়ে দিয়েছে। তোর চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছিল। ওকে শেষবার কে মুখে তুলে এভাবে খাইয়ে দিয়েছিল ওর মনে পড়ে না। ওর বয়সী বা কত এই বয়সে তো অন্য ছেলে মেয়েরা, বাবা-মার কাছে আবদার করে, ইস্কুলে যাই, কিন্তু পরিস্থিতির তাড়নায় ওর মত মেয়েরা অল্প বয়সে ম্যাচিউরড হয়ে যায়। পরিস্থিতি আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয় তুই সবার মত না সবাই একইভাবে বড় হয় না সবকিছু পায়না সবাই।

আফিয়া বেগম ওকে খাইয়ে দেওয়ার সমায়ে ওর মনে হচ্ছিল এই সময়টা চিরকালের মতো থেমে যাক, এই মুহূর্তটা যেন স্বপ্ন না হয়। এ পরিবারের মানুষগুলোকে যত ও দেখছে তত অবাক হচ্ছে। প্রত্যেকটা ব্যক্তির ব্যবহার অমায়িক সত্যিই কি এমন হতে পারে সবকিছু কল্পনা মনে হচ্ছে ওর কাছে।
রিশা ওকে এই রুমে দিয়ে চলে যায়। ওর টিচার আসছে বলে আর বলে যায় এটা নাকি আজ থেকে ওর রুম।
ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে পা রাখল। দরজাটা খোলার সাথে সাথেই তার চোখ দুটো থমকে গেল। সে যেন এক অপার বিস্ময়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। এটা কি আসলেই তার জন্য বরাদ্দ করা কোনো রুম? এই প্রথমবার সে বুঝতে পারছে ‘প্রাসাদ’ শব্দটার বাস্তব রূপ কেমন হতে পারে।

ঘরটা ছিল একেবারেই রাজকীয়। বিশাল, ছিমছাম, চোখ ধাঁধানো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। দেয়ালে হালকা অফ-হোয়াইট রঙ, তাতে ধবধবে সাদা পর্দা টানা, যেগুলো নরম বাতাসে দুলছিল আলতোভাবে। যেন পর্দার ফাঁকে সূর্যের কিরণ ঢুকে পড়ছে এক নরম সোনালি আলো হয়ে। ছাদের এক পাশে ঝুলছিল একটা মোটা, হালকা গোল্ডেন টোনের চ্যান্ডেলিয়ার। ঘরের আলো নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়ছিল যেন স্বপ্নের মতো।

ঘরের মাঝ বরাবর রাখা একটি বিশাল খাট, বক্স বেড টাইপ, কাঠের কারুকাজ করা পেইন্টেড হেডবোর্ড, ম্যারুন ও গোল্ডের কনট্রাস্টে সাজানো বিছানায় পাতানো এক্সকুইজিট সাটিনের চাদর আর আলতো তুলতুলে কুশন। খাটের একপাশে ছোট্ট সাইড টেবিল, যেখানে রাখা একটা আধুনিক ডিজাইনের টেবিল ল্যাম্প, এক জোড়া কাচের জলের বোতল আর একটি ছোট ফুলদানি, যাতে সাদা লিলি আর গোলাপ রাখা।

ঘরের ডান পাশে একটা রাজকীয় মাপের ড্রেসিং টেবিল। ও এত বড় ডেসিন টেবিল কোনদিন দেখিনি। আয়না দেখে ওর মনে পড়ল নিজের চেহারা অনেকদিন দেখিনি সবাই বলে ওনাকে অনেক সুন্দর সত্যি কি তাই।
ঘরের এক কোণায় রাখা একটা সোফা সেট,,কালো আর সোনালি বর্ডার দেওয়া, তার সামনে একটি মাঝারি সাইজের সেন্টার টেবিল, যেখানে বইয়ের গাদাগাদি নয়, বরং পরিপাটি করে সাজানো কিছু ম্যাগাজিন । পাশে একটা ছোট বুকশেলফ,,যেখানে সাজানো ইসলামি ইতিহাস, সাহিত্য, উপন্যাস, এমনকি শিশুসাহিত্যও!
আর একটা জিনিস, যা নাফিসার সবচেয়ে বেশি মন কাড়ল,,

ঘরের একদিক দিয়ে সংলগ্ন একটি চমৎকার বেলকনি। কাচের স্লাইডিং দরজা ঠেলে বাইরে গেলেই ছোট্ট কিন্তু ছিমছাম গার্ডেনের মতন বেলকনি, যেখানে কিছু গাছপালা টবে রাখা, এবং বাম পাশে একটা কাঠের চেয়ার-টেবিল সেট। দূরে তাকালেই দেখা যায় শহরের ব্যস্ততা আর ট্রাফিকের নীরব ছায়া।
নাফিসা স্তব্ধ হয়ে এসব দেখছিল। যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না যে এই ঘরটা তার জন্য। এত বড় ঘর, এত সম্মান, এত ভালোবাসা,

“যেখানে এতদিন সে ছিল কেবল সিঁড়ির নিচের এক অন্ধকার স্টোর রুমে!”
সে ধীরে ধীরে বিছানায় গিয়ে বসল, একটা কুশন জড়িয়ে ধরল বুকের মধ্যে। মাথায় হঠাৎ করেই ঝাঁপিয়ে পড়ল পুরনো সব স্মৃতি। ছোটবেলার কিছু আবছা চিত্র যেন মনের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠতে লাগল।
তার বাবা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। খুব সাধারণ, সাদাসিধে, শান্ত জীবন ছিল তাদের। বাবা, মা আর ছোট্ট নাফিসা,,

তিন জনের সেই ছোট্ট সংসার ছিল ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। বাবা তাকে কোলে নিয়ে ঘোরাতেন, মা ওর চুল বেঁধে দিতেন, ঘুম পাড়াতেন মোলায়েম গলায় গান গেয়ে। সেসব স্মৃতি এখন আবছা, কিন্তু ভালোবাসার উষ্ণতা যেন এখনো হৃদয়ের কোণে রয়ে গেছে।
একদিন হঠাৎ ঝড় নেমে এল সেই শান্ত সংসারে।
একদিন ওর বাবা-মা ওকে দাদির কাছে রেখে বাইরে গেলেন বাজার করতে, আর কখনো ফিরে এলেন না। না, ফিরে এসেছিল তবে জীবিত নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় একসাথে মারা যান দুজনেই। চার বছরের ছোট্ট নাফিসা তখন কিছুই বুঝতে পারেনি। শুধু কাঁদত, জিজ্ঞেস করত,,

“আম্মু কই? আব্বু কই?”… কোনো উত্তর ছিল না কারও কাছে।
এরপর এক বছর দাদির কাছে থেকে, সেখানেও খুব বেশি ভালোবাসা পায়নি। তারপর একদিন সেই দাদিও চলে গেলেন। মামা এসে ওকে নিয়ে গেলো তাদের বাড়ি। মামা ভীষণ স্নেহ করতেন, কিন্তু মামি আর মামাতো ভাইবোনদের কাছে ছিল যেন বোঝা। ছোট ছোট ব্যাপারে ধমক, ঝাড়ি, অপমান, কখনো কখনো নির্যাতন।তবুও একরকম মানিয়ে নিয়েছিল নাফিসা।

কিন্তু আরো ওর সৌন্দর্য চেহারার কারণে, অনেক রকম হ্যারাসমেন্টের শিকার হয় ছোটবেলায় তখন না বুঝলেও একটু বড় হওয়ার পর থেকে বুঝতে পারে। এখনো সে মাঝে মাঝে স্বপ্নে এগুলো দেখে আর ঘুম ভেঙে যায়।
তারপর একদিন হঠাৎই বিয়ের প্রস্তাব আসে। নাফিসা তখন বলে,,
“আমি পড়তে চাই মামা। আমাকে প্লিজ বাঁচাও।” কিন্তু মামা ছিলেন ঢাকায়, চাকরির চাপে সব বুঝে উঠতে পারেননি। সেই সুযোগে মামি তাকে জোর করে বিয়েতে বসাতে চেয়েছিল। বিয়ের আগের রাতে ওকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওর শরীর কেঁপে উঠেছিল আতঙ্কে। কিন্তু শেষ আশাটা ছিল ওর মনে,
“যার সঙ্গে বিয়ে হবে, হয়তো সে অন্তত ভালো মানুষ হবে।”
কিন্তু না। বিয়ের আসরে বসে পাশের লোকটি যখন প্রথম স্পর্শ করে বাজেভাবে, নাফিসার সমস্ত শরীর ঝাঁকুনি খেয়েছিল। তার মনে হচ্ছিল, এখান থেকে উঠে পালিয়ে যায়। গা গুলিয়ে উঠছিল, বমি আসছিল, চোখে পানি চলে আসছিল। তখন শুধু আল্লাহকে ডেকেছিল,

“বাঁচাও আমায়, প্লিজ বাঁচাও।”
আল্লাহ বোধহয় ওর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন।
কারণ ঠিক তখনই নেমে এসেছিল একজন… একজন ফেরেশতার মতো পুরুষ, যে ওর হাত ধরে সেই জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়েছিল চিরতরে।
এই পর্যন্ত ভাবতেই নাফিসার গাল বেয়ে দুটো অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। সে দ্রুত হাত দিয়ে চোখ মুছে ফেলল, যেন কেউ দেখে না ফেলে। ঠিক তখনই,

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫

“টক টক টক!”
দরজায় হালকা নক।
নাফিসা চমকে উঠল। চোখের পানি গোপন করার তাড়ায় দুই হাতে মুখটা ঢেকে রাখল কয়েক সেকেন্ড, তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে পা বাড়াল।
“কে?” তার কণ্ঠে এক অজানা কাঁপুনি।
শুভ সকাল 🥱☕।

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৭