তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২
জান্নাতি আক্তার জারা
আদিল দরজায় কড়াঘাঁট নেড়ে বলল,
___” May i come in sir?
দু সেকেন্ডের মাথায় রুমের ভেতর থেকে একটা গম্ভীর কন্ঠ ভেসে এলো,
___” Come
আদিল দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করে। সামনে দিকে তাকাতেই হা হয়ে দাড়িয়ে পড়লো নিজ জায়গায়। এই প্রথম আদিল পঁচিশ বছরের যুবক হয়ে কারো উপর ক্রাশ খাইলো। তাও ক্রাশটা মেয়ের উপর হইলে মানা যেতো। একটা ছেলে হয়ে আরেকটা ছেলের উপর ক্রাশ খাইলো। কথাটা হাস্যকর শুনতে হইলেও আদিলের কাছে এটা স্বাভাবিক। কারণ আজান তালুকদার তাকবীর পুরুষটাই এমন। এই যে আদিলের সামনে খালি গঠনে এক হাত দিয়ে মাথার ভেজা চুলগুলো তয়েলা দ্বাড়া মুছতে মুছতে। মাথাটা পিছনে ঘুড়িয়ে মুখে প্রশ্নবোধক চাউনি নিয়ে। ভ্রু কুঁচকে আদিলের দিকে তাকালো ব্ল্যাক টাউজার পরিহিত পুরুষটা। ফর্সা শরীরে বিন্দু বিন্দু পানির কণাগুলো যেন সৌন্দর্য কয়েকগুন বেড়ে দিয়েছে। এমন না আদিল আজকে প্রথম দেখছে তার স্যার কে। হ্যা দেখেছে তো তবে,কোট পেন্ট পরিপাটি গুছানো তাকবীর কে।
তাকবীর মাএ শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হইতে । দরজা কড়াঘাঁটের শব্দে দরজার দিকে তাকালো তাকবীর। আদিলকে দরজার সামনে নিজের দিকে হা হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তাকবীর মুখে প্রশ্নবোধক চাওনি নিয়েই গায়ে সাদা টি-শার্ট জড়িয়ে নিতে নিতে ইশারায়।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
___” What
হটাৎ তাকবীরের কথায় আদিল নিজের ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এসে থতমত খেয়ে বলে উঠলো,
___” হুমও. স..সরি স্যার।
ঠিক সেইসময় ফোনের ওপাশ থেকে আনাস এর কন্ঠ শুনা গেলো। আনাস বলে উঠলো,
___”আমাকে শুনতে পারছিস আদিল! কথা বলছিস না কেনো?
___”হ্যাঁ ভাই শুনতে পাড়ছি।
কথাটা বলেই নিজের হাতে রাখা ফোনটা তাকবীরের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে।
___”স্যার আপনার ফোন! আনাস ভাই ফোনের ওপাড়ে রয়েছে । আপনাকে লাইনে না পাওয়ায়, আমাকে ফোন দিয়ে বলল আপনার কাছে ফোনটা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
তাকবীর আদিলের দিকে একবার আর চোখে তাকিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে কানে ধরতেই, ফোনের ওপাড় থেকে আনাস এর কথা ভেসে এলো,
___”আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ?
___”ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ!
সালামের উত্তর পেতেই আনাস পুনরায় বলে ওঠলো।
___” ভাইয়া এভরিথিং ইজ ফাইন? (সবকিছু ঠিক আছে)
___” ইয়া!
___”ডিনার করেছো ?
___”নো, এ্যানিথিং এলস?(আর কিছু)
___”নো!
___”ওকে আল্লাহ হাফেজ।
তাকবীর ফোনটা কেটে দিয়ে আদিলের দিকে ফোনটা এগিয়ে দিতে দিতে গম্ভীর গলায় বলল,
___”মিটিং কয়টাই?
___” জ্বি স্যার দুপুর দুইটা নাগাত!
___”ওকে।
তাকবীর বেডসাইড থেকে ল্যাপটপটা নিয়ে বিছানায় বসে ল্যাপটপে মনোযোগী হয়ে গেলো। আদিল বুঝতে পারলো না ওর কি এখন যাওয়া উচিত নাকি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে। স্যার তো কিছু বলছে না। আদিল কে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকবীর ল্যাপটপের চোখ রেখেই বলে উঠলো।
___”এনি প্রবলেম ?
আদিল মাথা নাড়িয়ে বলল,
___” নো স্যার কোনো প্রবলেম নেই !
___”তাহলে আসতে পারো ।
___”জ্বি স্যার।
কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে আদিল রুম থেকে বের হয়ে বড়োকরে শ্বাস নিলো । মাথাটা উপরে দিকে ত্যাগ করে বিরবির করতে লাগলো।
___”হে আল্লাহ,তোমার এই বান্দা এমন কেনো! এই ব্যাডার মুখ থেকে কি কথার ভাগগুলো তার ভবিষ্যৎ বউয়ের বাণী করে দিয়েছো! তুমিই বলো তোমার এই বান্দার পুরো বন্ধু মহল সবসময় হাসি আড্ডায় মজে থাকে। কিন্তু তোমার এই কঠিন বান্দা এমন কেনো?
কথাগুলো বিরবির করতে করতে আফসোস সহিত নিঃশ্বাস ফেলে নিজের রুমে দিকে হাটা ধরলো আদিল। ওপাশে আনাস আল্লাহ হাফেজ বলতে টুট টুট শব্দে হয়ে ফোনটা কেটে গেলো। আনাস ফোন থেকে চোখ তুলে বাবা বড়আব্বুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।
___”ভাইয়া ঠিকঠাক ভাবে পৌঁছেছে।টেনশন করেন না বড়োআব্বু। আমি আদিলের সঙ্গে কথা বলে নিবো।
আদনান তালুকদার ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,
___” হ্যাঁ এতটা পথ জার্নি করে টায়ার্ড ফিল করছে হয়তো। চলো বাড়িতে যাওয়া যাক, বাড়িতে গিয়ে ভিডিও কলে কথা বলা যাবে।
আদনান তালুকদার কথা গুলো বলে। ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলে উঠলো,
___” আহাদ গাড়ি পার্কিং থেকে বের কর!
কথাটা বলেই আদনান তালুকদার আনাসের কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলেন।আহাদ তালুকদার ঠিক আছে ভাইয়া বলে। নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল।
___”বাড়িতে ফিরবে না এখন ?
আনাস বাবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।
___আমার বাড়িতে ফিরতে লেট হবে বাবা। আশিক হাবিব ওদের সঙ্গে একটু দেখা করবো। আমার জন্য ওয়েট করছে ওরা। আপনি বড়োআব্বুকে নিয়ে সাবধানে বাড়িতে যাবেন ।
আহাদ তালুকদার,অফিস রুম থেকে বের হতে হতে আনাস সের উদ্দেশ্যে বলল।
___”অনেক রাত হয়ে গিয়েছে, তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করবে।
কথাটা বলে আহাদ তালুকদার চলে গেলেন। আনাস ডয়ার থেকে বাইকের চাবি নিয়ে সেও চললো নিজ গন্তব্যে।
আনাস এর বাইক এসে থামলো একটা রেস্টুরেন্টে সামনে। আনাস নিজের চোখ থেকে সানগ্লাস টা খুলে।খুলা বুকে ঝুলিয়ে রাখলো। বাইক থেকে নেমে বাইকের চাবিটা হাতে নিয়ে ঘুরাতে ঘরাতে রেস্টুরেন্টে ভিতরে দিকে এগিয়ে গেল। আনাস রেস্তোরাঁ ভিতরে গিয়ে চারদিকে চোখ বোলাতে চোখে পড়লো। রেস্তোরাঁর এক কোনার দিকে হাবিব টেবিলে বসে একটা কফি সামনে নিয়ে নিজের ফোন ঘাটাঘাটি করছে। আর আশিক টেবিলের উপরে বসে পা দুটো ঝুলিয়ে রেখে ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত। আনাস ধীরপায়ে সেদিকে এগিয়ে গিয়ে একটা চেয়ার টেনে বসে পরলো। শরীর টা চেয়ারের সঙ্গে এলিয়ে দিয়ে বলল।
___”এক কাপ কফি অর্ডার দে ভাই,খুব টায়ার্ড লাগছে।
আশিক ফোনে কথা বলতে বলতে একবার আনাস এর দিকে আর-চোখে তাকিয়ে পুনরায় ফোনে কথা বলায় মগ্ন হয়ে গেল। আর হাবিব ফোন থেকে চোখ তুলে আনাস এর দিকে একবার দেখলো। মুখ ঘুড়িয়ে ওয়েটার কে ডেকে কফি অর্ডার দিয়ে পুনরায় চোখ ঘুড়িয়ে আনাস এর দিকে তাকালো। মুখে একটু বিরক্তি ভাব ফুটিয়ে তুলে বলল হাবিব।
___” কতক্ষণ থেকে ওয়েট করছি তোর জন্য?
তোর আসার কথা ছিলো নয়টায় আর তুই আসলি সাড়ে দশটায়। আমি কফিটা শেষ করে বের হতাম এখন।
আনাস চেয়ারে গা এলিয়ে দেওয়া অবস্থায় বলে উঠলো,
___” আরে তাকবীর ভাই, দেশে না থাকায় আজকে আফিসে চাপ একটু বেশি ছিলো। খুব টায়ার্ড লাগছে দোস্ত।
হাবিব আনাস এর দিকে তাকিয়ে আছে। ওয়েটার কফি দিয়ে গেলো। আনাস সোজা হয়ে বসতে বসতে বলে উঠলো।
___”কফিটা শেষ করে বাড়িতে ফিরবো।
আনাস এর কথা শুনে আশিক ফোন কেটে দিয়ে পকেটের রাখতে রাখতে বলে উঠলো,
___” আসলিই তো মাত্র এসেই বাড়িতে যাওয়া নিয়ে তাড়াহুড়ো শুরু করছিস! তোর তো বাড়িতে বউ নেই, তাহলে এতো তাড়া কেন বাড়িতে যাওয়ার বলতো?
আশিকের কথায় চোখমুখ কুঁচকে বলে উঠলো আনাস।
___”তোর কাছে থেকে কি আর আশা করবো বলতো। তোর মাথায় সারাদিন এর বউ ওর বউ ওই মেয়ে এই মেয়ে লেগেই থাকে সালা। বাড়িতে শুধু বউ থাকলে তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে কেন। বউ ছাড়াও তো ভাইবোন মা বাবা আরো অনেকেই রয়েছে তাইনা?
আনাস এর কথায় আশিক পুনরায় বলে উঠলো,
___হ্যাঁ অনেকেই আছে তো। কিন্তু সেগুলো তো তোর চোখে পরবে না! এই যে একটা মেয়ে তোকে চোখে হারায় এইটা তো দেখেও দেখিস না। আমার এমন একটা কিউটি কাজিন থাকলে কবেই পটে নিতাম। হায় মেয়েটা কতো কিউট রে।
কথাটা বলতে বলতে আশিক নিজের দু গালে দু-হাত রাখলো। আনাস আশিকের দিকে রাগী লুক দিয়ে বলে উঠলো
___” জাস্ট সেটআপ ইডিয়ট মুখটা বন্ধ রাখ। তোর মুখ দিয়ে ইরা নাম উচ্চারণ হয়লে, মুখের জায়গায় মুখ থাকবে না বলে দিলাম।
আশিক আনাস এর কথায় মুখ বাকিয়ে বলে উঠলো,
___” ডং দেখে বাঁচি না, মেয়েটার ভালোবাসা শিকার করতে চাস না! আবার তার নাম অন্য কেউ উচ্চারণ করতে পারবে না। এটা একটু বেশি নাটক হয়ে গেলো না আনাস তালুকদার?
আনাস কিছু বলতে যাবে। ঠিক তখনই হাবিব বলে ওঠলো,
___”চুপ করবি তোরা। সেই কখন থেকে একটার পর একটা বাজে বকে যাচ্ছিস দুজন। এই আনাস তাকবীর কবে আসবে রে দেশে?
___” নট সিওর মেবি পাঁচ ছয়দিন লাগবে ওদিকে সবকিছু সামাল দিতে। চল আজকে ওঠলাম তাহলে।
আনাস কথাটা বলে চেয়ার থেকে ওঠে পরলো। হাবিব আনাস কে উঠতে দেখে বলল,
___” মাএ তো আসলি! অন্তত কফিটা শেষ কর?
আনাস হাবিবের দিকে তাকিয়ে,
___” অনেক রাত হয়ে গেছে অন্য একদিন আজকে খুব টায়ার্ড লাগছে রে।
কথাটা বলে আনাস আবার আশিকের দিকে তাকিয়ে বলল।
___”চল শালা, তোর জন্য পুরো মুডটাই খারাপ হয়ে গেলো, উঠলাম আজকে।
আশিক আনাস সের কথায় বলে উঠলো।
___” সেম টু, শালা মুডের খালাম্মা করে দিলি। বাড়িতে ফিরে মুড ফিরিয়ে আনতে হবে।
আশিক কথাটা বলেই দুষ্টু একটা হাসি দিলো। সঙ্গে সঙ্গে আনাস আশিকের বুকে একটা ঘুশি দিয়ে বলে উঠলো।
___”শালা তুই আর ভালো হবি না। তোর মুড সুইং মানেই তো মেয়েদের সঙ্গে ফ্লাট করা।
কথাটা বলেই তিন বন্ধু এক সঙ্গে হেঁসে উঠলো, আরো কিছুক্ষণ আড্ডা বিদায় নিয়ে তিন বন্ধু যে যার মতো নিজ নিজ গন্তব্য দিকে ফিরলো।
তালুকদার বাড়ীর বড়ো রা যে যার ঘরে ঘরে। আর ছোট্ট বিচ্ছু গুলো। ছাঁদে নিজেদের মতো আড্ডা দিতে ব্যস্ত। অলরেডি রাত এগারোটা বেজে গেছে। তারপরও তাদের আড্ডা জমে পুরো খীর। হবেই না কেন সেখানে রশ্মিরাত সেখানে শুধু খীর কেন আড্ডা জমে একিবারে পায়েস হয়ে যাবে। যাক এখন মূল কথায় আসি তাহলে। কি ভাবছেন তো আরাত রশ্মি এতো রাতে এক ছাঁদে কিভাবে! চলেন ওদের পরিচয় দিয়ে আসা যাক তাহলে।
রশ্মিরাত বেস্ট ফ্রেন্ডের পাশাপাশি ওদের আরেকটা পরিচয় রয়েছে। বলতে গেলে ওই পরিচয় ক্ষেত্রে ওদের ফ্রেন্ডশিপ শুরু। রক্তের সম্পর্ক না ওদের।তারপরও রক্তের সম্পর্কে থেকেও বেশি কিছু। রশ্মিরাত দুজন দুজনের প্রতিবেশী ছিলো। রশ্মি ফ্যামিলি বলতে শুধু রশ্মি আলভী আর ওর আম্মু আব্বু। তবে রশ্মির আব্বু বেশিভাগ সময় কাজের সূত্রে দেশের বাহিরে থাকা।
এই যে চারজন মিলে এখন তালুকদার বাড়ির ছাদে আড্ডা দিচ্ছে। এই ছাঁদ টাও এমন। আরাত দের ছাঁদ থেকে রশ্মিদের ছাদে এক লাফিয়ে যাওয়া যাবে আবার আসতে পারবে। ওরা ছোট বেলা থেকে দেখে আরছে দু পরিবারের কতটা মজবুত সম্পর্ক। সেই সম্পর্কে ঘিরেই আজ,ওরা দুজন দুজনের বেস্ট ফ্রেন্ড।
রশ্মি ছাদের মেঝেতে পা দুটো মেলিয়ে দিয়ে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আর আরাত রশ্মির পায়ে মাথা দিয়ে ছাদের মেঝেতে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে গুণ গুণ করছে।
আহিন আলভী ওরা দুজন আকাশের দিকে তাকিয়ে তাঁরা গুনছে। কে কতটা হিসাব করতে পারে এটা নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। হটাৎ আরাত রশ্মির পা থেকে ওঠে সোজা হয়ে বসে বলে উঠলো।
___”ভুতের গল্প,শুনবি তোরা?
আরাত কথাটা বলতেই আলভী আহিন দুজনেই আরাতের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।
__-” বলো,বলো আপু আমরা শুনবো।
আর আলভী আরাতের দিকে একটু চাপে বসতে বসতে বলে ওঠলো।
___”মায়াবতী আমাকে তোমার পাশেই রাখো কেমন? নয়তো,তুমি ভয় পাবে।
আলভীর আরাত মুখটা বাঁকা করে বলে উঠলো।
___” এহহহ,আরছে সাহসী রাজ্যের রাজা, সর দূরে চাপ একদম আমার শরীরের সঙ্গে নিজেকে জাপটে নেওয়ার চেষ্টা করবি না। সত্যিটা বললেই হয়।নিজে ভয় পাবি এজন্য আমার সঙ্গে চিপকাতে চাইছিস। ভীতুর আন্ডা একটা সর,সর দূরে সর।
কথাগুলো বলে আলভী কে হাতের ইশারায় দূরে সরতে বললো আরাত। আরাতের কথায় রশ্মি এবার ফিক করে হেঁসে দিলো। আর আহিন বলে ওঠলো।
___” প্লিজ আপু,তুমি গল্প শুরু করো। আলভী কে আমার সঙ্গে রাখবো। তুমি ওই ভূরের আন্ডাকে নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করো না তো আর।
আহিন কথা বলতে বলতে রশ্মির দিকে একটু চেপে বসলো। আলভী কে ওর বা পাশে জায়গা করে দিতে দিতে বলে উঠলো,
___”এই আলভী আমার পাশে বস। তাহলে আর ভয় পাবি না বস বস।
আহিনের কাজ দেখে রশ্মি নিজের ভ্রু নাচিয়ে বলে ওঠে,
___” বাবাহ আজকে নিজেকে খুব সাহসী প্রমাণ করছিস রে আহিন! এবার তোর মতলবটা কী বলতো হুম?
রশ্মির কথায় আরাত মুখে একটা বাঁকা হাসি টেনে রশ্মি কথায় উত্তর করলো।
___” হুহ, দেখছিস না ও তোর সঙ্গে কিভাবে চিপকে আছে। আলভী ওর পাশে বসবে। তাহলে ও তোদের দুজনেই মাঝখানে হবে। এজন্য বিচ্চুর সাহসে ভান্ডার উপস্থিত হয়ছে বোঝোস না।
আহিন আরাতের কথায় এবার একটু ভাব নিয়ে বলল।
___” দেখো আপু সব জায়গায় সবসময় সত্যি কথা বলতে হয় না। এবার শুরু করো তো,অনেক লেট হয়ে যাচ্ছে। আমার আবার সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতে লেট হয়ে যাবে।
আহিন নিজের পাশে আলভীর হাত টেনে নিয়ে বসালো। আলভী আহিন কে মুখ বাকিয়ে আরাতের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।
___” হ্যাঁ মায়াবতী তুমি শুরু করো।
আরাত তিনজনের মুখের দিকে তাকিয়ে,একটু ভাবুক হয়ে বলে উঠলো।
___” ভূতের গল্প বলবো তা ঠিক আছে কিন্তু ভূত বলতে আসলেই কি কিছু আছে এই দুনিয়াতে?
আহিন আলভী একসঙ্গে দুজন দুজনের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে বলে ওঠে।
___”মানে?
আরাত যেন এবার ভন্ডামি করার সুযোগ হাতে পেয়ে গেলো। মুখটা সিরিয়াস করার ভান ধরে বলে উঠলো।
__”শোন তাহলে! তোরা নিশ্চয় ভূতের মুভি দেখছিস?
আলভী আহিন একসঙ্গে মাথা নাড়িয়ে বুঝায় হুম দেখছি। আর রশ্মি আরাতের দিকে বিরক্তি চোখে তাকিয়ে রইলো,এটা দেখার জন্যা আরাত ভন্ডামির লিমিট কয়ধাপ চূড়ান্তপর্যায়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
আরাত এবার একটু ভাবুক হয়ে বলতে শুরু করল,
___” এই মুভি গুলো আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না জানিস তো! এই যে দেখ,নায়ক নায়িকা মিলে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ভূতের বাড়িতে ঘুরতে যাবে।
ওরা আর ঘুরতে যাওয়ার কোনো জায়গা খুজে পায় না। যাবে এক ভাঙ্গাচুরা বাড়িতে যে বাড়িটা ৫০ সাল আগে থেকে তালাবন্ধ হয়ে থাকবে। আবার সেই বাড়ির সামনে পৌঁছাতে ওদের পিছনে এমন ভাবে, কোথায় থেকে একটা পাগলা টাইপের দারোয়ান চাচা বের হয়ে আসবে। ওরা তো ভয় পাবেই তার সঙ্গে আমাদের জান বের কারার ব্যবস্থা করে সারবে।
তারপর দারোয়ান চাচা,বের হয়ে সবাই কে বলবে। ঘোর বিপদ,ঘোর বিপদ,যাস না কেউ। মরবি,তোরা সব কটা মরবি। বলতে বলতে আবার ওখান থেকে লোকটা কোথাও একটা চলে যাবে। এটা দেখে সব বন্ধুরা এক সঙ্গে হেঁসে ওঠে লোকটাকে পাগল বলে বাড়িতে ঢুকে যাবে।
আরাত বড় করে শ্বাস নিয়ে পুনরায় বলে উঠলো,
___” এখন আমার কথা হইলো। ওই বাড়িতে যদি ভূত থেকেই থাকে। তাহলে দারোয়ান চাচা এতবছর ধরে বাড়িটা দেখাশোনা করছে কিভাবে। দারোয়ান কে ভূতের কি চোখে পড়ে না?
আহিন আলভী,ভাবুন হয়ে একসঙ্গে বলে উঠলো।
___”তাইতো! বিষয় টা চিন্তার কিন্তু!
আরাত ওদের উৎসাহ পেয়ে পুনরায় বলতে শুরু করলো,
___” দেখ তারপর বাড়িটা অদ্ভুত রকমের ভয়ংকর ভয়ংকর ফিল হবে। তো আমার কথা হইলো তোরা যখন বাড়িতে ঢুকতেই ভয় পাচ্ছিস। তাহলে সবাই আলেদা আলেদা ঘরে থাকতে যাস কেন ?
আরাতের কথায় আহিন আলভী মুখটা বাঁকা করে বলে
___” হুম তাইতো!
আরাত ওদের মুখটা একবার দেখে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলো,
___” তারপর নায়িকা যে ঘরে থাকবে এটা কোনো সাধারণ ঘর লই লা। এটা হইলো ভূতের ঘর। নায়িকা বিছানা থেকে জানালার দিকে তাকাবে।দেখতে পাবে কেউ একজন বাহিরের দিকে একা একা হেটে যাচ্ছে। এটা দেখে নায়িকা আবার পাকনামি করে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে নিয়ে ওই ভূতের পিছে পিছে হাটা ধরবে। আর ভয়ে ভয়ে বলবে কে, কে, কে ওখানে কথা বলছো না কেনো?
আরে মাইয়া এটা ভূত, এখন ভূত কী এসে বলবে।হাই ম্যাডাম মাই নেমইজ চূরাল। আজব পাবলিক কোথাকার উফফ।
আরাত একটা বিরক্তি নিঃশ্বাস ফেলে কথাগুলো বলল। আহির আরাতের কথায় বলে উঠলো,
___” হ্যা আপু, তারপর মেয়েটার ডাকে যখন ভূত সারা দিবে না। তখন মেয়েটা লাভ দিয়ে চিৎকার শুরু করবে, ভূত ভূত ভুত। শালী তুই যখন জানোস এটা ভূত। তাহলে ভূতের পিছে পিছে আসলি কোন দুঃখে। তাইনা আপু?
আরাত আহিনের কথায়, দু’হাতে শব্দ করে তালি দিয়ে শব্দ করলো। নিজেকে ঠিকঠাক করে নিয়ে হাতের আঙ্গুল দিয়ে চুটকি বাজিয়ে বলল,
___”সেইটাই তো, তারপর সব ছেলেরা এসে বলবে।কি হয়ছে রে মধুর মা চিল্লাস ক্যান?
আরে ভাই হেতি ভূত ভূত করছে। তারপরও শুনতে পারোস নাই বেডির হয়ছে কী। তারপর আবার নায়িকা হাত দিয়ে ইশারা করে বলবে ভূত, ভুত। নায়িকার কথা শুনে সবাই হাসাহাসি করবে নায়িকাকে নিয়ে। তুই ভুল দেখছিস রে মধুর মা কেনো বিড়াল হবে হয়তো।
কথাটা বলেই হাসতে হাসতে আলেদা আলেদা ঘরে যে যার মতো চলে যাবে। কেন ভাই তোদের এক ঘরে থাকতে সমস্যা কি? তোরা আরছিস ঘুরতে তোরা সবগুলো এক রুমে থাকবি তা না ….
___”রাত কয়টা বাজে জানতে পারি?
আরাতের কথা বলার মধ্যেই হটাৎ ছাঁদে দরজা থেকে কারো কন্ঠ ভেসে আসলো। চারজন একি সঙ্গে মাথাটা ঘুড়িয়ে সিঁড়ির দরজার দিকে তাকালো। আনাস ছাঁদের দরজার সঙ্গে হেলান দিয়ে বুকের সঙ্গে দুহাত ভাজ করে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে।
___”আমাদের সঙ্গে ফোন নেই ভাইয়া, ঘরে রেখে আরছি, বলতে পারলাম না তুমি কষ্ট করে চেক করে নেও কয়টা বাজে।
আরাত কথাটা বলেই একটু অবাক হয়ে পুনরায় বলে উঠলো,
___” শুধুমাত্র রাত কয়টা বাজে জানার জন্য ছাঁদে এসেছো ভাইয়া?
আরাত বসা থেকে দাড়িয়ে আনাস এর কাছে এগিয়ে গিয়ে, হাতের ইশারায় বলল,
___” আরে ভাইয়া তোমার হাতে তো ফোন দেখছি! তোমার কতো ভোলা মন দেখো। নিজের কাছে ফোন রেখে,শুধুমাত্র রাত কয়টা বাজে জানার জন্য এত কষ্ট করে পায়ে হেঁটে ছাঁদে আরছো,হায় রে।
আরাতের কথায় আহিন আলভী শব্দ করে হেঁসে দিলো। ওরাও বসা থেকে ওঠে এসে দাড়ালো আরাতের পাশে। আনাস দরজা থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো,
___”এতো রাতে ছাঁদে কী তোদের?
আনাস এর কথায় আলভী বলে ওঠলো,
___”এতো রাত কই ভাইয়া! সবে তো নয়টা বাজে হয়তো।
আনাস আলভীর দিকে রাগী লুক দিয়ে মাথা দিয়ে ইশারায় আলভি কে নিজের কাছে ডেকে বলল,
___” সবে নয়টা বাজে তাইনা! আয় এদিকে আয় তোকে টাইম দেখাই?
আনাস কথাটা বলতে দেরি, আলভী পিছাতে দেরি হয়নাই। আলভী নিজের পেতে হাত দিয়ে নাটকি ভঙ্গিমা করল,
___”ওহহ ভাইয়া আমার তো সেই জুলুম দিয়েছে! তুমি আসাতে খেয়াল হলো,আল্লাহ হাফেজ!আল্লাহ হাফেজ! আমি গেলাম।
কথাটা বলেই আলভী এই ছাঁদ থেকে ওই ছাঁদ টপকে দিলো দৌড়। আনাস আলভী যাওয়ার দিক থেকে চোখ সরিয়ে এবার বাকি তিনজনের দিকে তাকাতেই, রশ্মিরাত মুখে ইনোসেন্ট মার্ক হাসি দিয়ে। আল্লাহ হাফেজ ভাইয়া বলে রশ্মি ওদের ছাঁদের দিকে চলে গেলো। আর আরাত দরজা দিয়ে নিচে নেমে গেলো। আহির আনাস কে দেখে নিয়ে মুখটা একটু বড়োদের মতো সিরিয়াস করে বলে ওঠলো,
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১
___” আল্লাহ হাফেজ ভাইয়া। তোমার সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিতাম। কিন্তু এখন অনেক রাত হয়ে গেছে তো। এজন্য আর তোমাকে সময় দিতে পারলাম না।সরি মন খারাপ করো না কেমন। জানোই তো রাত জাগা ভালো ছেলেদের কাজ না।
আনাস আহিনের দিকে রাগী লুক দিতেই । আহিন কথাটা বলেই সিঁড়ির দিকে দিয়েছে দৌড়, আনাস আহিনের দৌড়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছোট একটা নিশ্বাস ফেলে বলল।
“ফাজিলের দল একেকটা।
