তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩
জান্নাতি আক্তার জারা
___Oonchi hai building…..lift teri bandh hai…
Kaise mei aau….Dil Razamandh hai…
Aha…aaja, aaja,
Aaja mere sagar wale raja
Teri yaad sataaye, Dulhe raja tu aaja
Aaja band baja leke aaja
Teri yaad sataaye dulhe raja tu aaja
___স্টপ……
হটাৎ কারো চিৎকার শুনে আরিশা আর আমান নিজেদের নাচ বন্ধ করে। মথাটা পিছনে ঘুরতেই দেখতে পেলো। সাদা রংয়ের থ্রিপিস পরিহিত শ্যাম বর্ণ এক মেয়েকে। হ্যাঁ চিৎকার টা সেই দিয়েছে। আইরা নিজের দু-হাত দিয়ে খোলা চুলের উপরে কান চেপে ধরে দাড়িয়ে আছে। হাতে তার উপন্যাসের বই।
আমান তাড়াহুড়ো করে ডাইনিং টেবিলের উপর থেকে নিজের ফোনটা নিয়ে গানটা বন্ধ করলো। আরিশা এবার আইরা কে বলে ওঠলো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
___”কি সমস্যা চিৎকার করোস কেন?
আইরা কান থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে,একটু রাগী গলায় বলল।
___সমস্যা তো তোদের, দুজন কী শুরু করছিস হ্যাঁ, পুরো বাড়ি মাথায় তুলছিস কেন?
কোথায় ভাবলাম মা বাবা বাড়িতে নেই। মায়ের চিল্লাচিল্লি শুনতে হবে না। খুব শান্তি মতো এক কাপ চা হাতে নিয়ে জানালার পাশে বসে উপন্যাসের ফিল নেওয়া যাবে। কিন্তু না এটা তো আমার নসিবে নেই তাইনা! পুরো বাড়ি ফাঁকা পেয়ে নিজের জামাই কে ডেকে এনে আমার উপন্যাসের বারোটা বাজাচ্ছিস কেন?
আরিশার মুখে এবার বিরক্তি ছাপ ফুটে উঠলো যেন। বিরক্তি মুখ নিয়ে নিজের থেকে দু’বছরের ছোট্ট বোনের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো।
___” আমরা তোকে ডিস্টার্ব করলাম। নাকি তুই আমাদের ডিস্টার্ব করলি বলতো! কোথায় ভাবলাম মা বাড়িতে নেই। তুই তো তোর উপন্যাস নিয়ে সারাদিন ঘরে পড়ে থাকোস। এই সুযোগে আমরা দুজন একটু এনজয় করলাম। কিন্তু না এটা তো তোর সহ্য হলো না। আমাদের মধ্যে কাবাব মে হাড্ডি হতে হইলো তোকে তাইনা?
আরিশার কথায় মুখটা ব্যঙ্গ করে বলল আইরা,
___” তুই যদি বন্ধ রুমে তোর বরকে নিয়ে ডান্স করতি! বিশ্বাস কর আমি কিছু বলতাম না। বিরক্তি হতাম না। কিন্তু না আপনি তো নিজের সঙ্গে সোজা এই বাড়িটাকেও ডান্স কারাচ্ছেন। সঙ্গে আমার কল্পনা কেউ। এজন্য বাধ্য হয়ে আমাকে আপনাদের মধ্যে হাড্ডি হইতে হলো বুঝতে পারছেন?
আইরার কথায় আরিশা একটু রাগ নিয়ে বলে উঠলো,
___” তুই যখন রুমের দরজা বন্ধ করে উপন্যাস পড়োস,নাকি কল্পনার কাউকে নিয়ে ডুবে মরোস। আমি দেখতে যাই নাকি হ্যা! তাহলে আমাদের মধ্যে তুই আসলি কেন?
___” চুপপপপপ…..
হটাৎ আমানের চিৎকারে দুই বোন একিবারে চুপ হয়ে গেলো। আমান ওদের দুজনকে চুপচাপ দাড়াতে দেখে এবার নিজেই বলতে শুরু করলো।
___”তোমরা দুজন কি শুরু করছো হ্যা? কেউ কারো থেকে কম যায় না, বাবারে বাবা।
আমান আইরা দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলতে শুরু করলো,
___” এই শালি আমার বউ আমাকে নিয়ে শুধু ডান্স কেন। আরো অনেক কিছু করতে পারে বুঝতে পারছো। তোমার যদি আমাদের মতো ডান্স করতে ইচ্ছা করলে বলো! আমার ভাইকে ফোন করে আসতে বলসি। আমার ভাই তো সবসময় তোমার জন্য রেডি হ..
___”আপনাদের ডিস্টার্ব করার জন্য সরি ভাইয়া।
আমানের কথায় এবার আইরা মুখের আভায় সত্যি সত্যি পরিবর্তন দেখা গেলো, আইরা কথাটা বলে নিজের রুমের ভিতরে গিয়ে দরজাটা ভিতর থেকে বন্ধ করে দিলো। আইরার হটাৎ এমন আচরণ করার কারণ আমান ধরতে না পারলেও আরিশা ঠিকই ধরতে পারলো। তার বোনের মন খারাপের কারণ টা। দুবোনের সবসময় এমন টুকিটাকি ঝগড়া লেগেই থাকে। আবার কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারে না। এইযে আইরার হটাৎ মন খারাপের কারণটা নিমিষেই আরিশা বুঝে নিলো। আমান আরিশা দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
___” আইরা এভাবে চলে গেলো কেনো! বুঝলাম
না আমি তো শুধু মজা করলাম?
আরিশা আমানের কথা ঘোড়াতে বলল,
___”বাদ দেও তো ওর কথা। ও এমনই কিছুক্ষণ পড়ে একাই রুম থেকে বের হয়ে এসে বলবে। আপু আমাকে জলদি নুডুলস বানিয়ে দে খুব খিদা লেগেছে।
আরিশা কথাটা বলতে বলতে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। আমান কিছুক্ষণ আরিশার হাসি টুকু মুগ্ধ চোখে দেখলো। হটাৎ আরিশা মুখের কাছাকাছি নিজের মুখ এনে নেশাভরা চোখে তাকালো। ভয়েসটা স্লো করে ধীর কন্ঠে বলে উঠলো,
___”ইনশাল্লাহ বউ খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে আমি আনুষ্ঠানিক করে আমার ঘরে তুলবো, আমি তোমাকে কথা দিলাম।
জানতে ইচ্ছা হচ্ছে তো ওরা কে হতে পারে! চলুন ফ্ল্যাশব্যাকে এদের পরিচয় জেনে নেওয়া যাক এবার।
আহসান তালুকদারের মেয়ে আনহা শেখ। আনহা শেখের স্বামী। আতিফ শেখ আর দুই মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট একটা পরিবার। তবে এখন ছোট্ট পরিবারটা ধীরে ধীরে বড়ো হতে চলছে যেমন। আনহা শেখের বড় মেয়ে আরিশা শেখের কাবিন করে রাখছে। প্রায় চারমাসের মতো হবে আমান মির্জার সঙ্গে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘরে তুলা বাকি। আমান মির্জা একজন ব্যবসায়িক, পড়াশোনা শেষ করে নিজের বাবার সঙ্গে নিজেদের ব্যবসায় যোগ দিয়েছে আমান।আমানের ছোট্ট ভাইয়ের নাম রাফি মির্জা। ছোট্ট ভাই আর মা বাবা কে সঙ্গে নিয়ে আমানের পরিবার।
দুপরিবারের বড়রা জানে আরিশা আর আমানের ফ্যামিলির পছন্দের তাঁদের বিয়ে কাবিন করা হয়ছে। অথচ তাঁদের চার বছরের প্রেম কাহিনী ছোটদের সবার কানে কানে।
আজকে আনহা শেখ তার হাসবেন্ড আতিফ শেখ কে সঙ্গে নিয়ে শপিং করতে বের হয়েছে। মূলত আনহা শেখ যেইদিন শপিং করতে বের হয় পুরো দিন লেগে যায় তার শপিং করতে। নিজেদের জন্য সঙ্গে বাবার বাড়ির জন্য। এখন তো যোগ হয়েছে মেয়ের শশুর বাড়ি। আনহা শেখের শপিং মানে আতিফ শেখের পুরোদিন মাটি হয়ে যাওয়া বউয়ের পিছনে পিছনে ঘুরতে। আনহা শেখ শপিং শেষ করে প্রথমে বাবার বাড়িতে উঠবে। একি শহরে বিয়ে হওয়ার কারনে বাবার বাড়ি প্রথমে পড়ে আনহা শেখের। বাবার বাড়ি থেকে শশুর বাড়ি ছয়-সাত মিনিটে রাস্তা হবে। মূলত মা বাবা বাড়িতে নেই, সেই সুযোগে আরিশা সকাল দশটায় আমান কে ফোন করে বলে,
___”আজকে তোমার শশুর শাশুড়ী বাড়িতে নেই। আমার শশুরের ছেলে যদি আমাকে মিস করে থাকে তাহলে আসতে পারে।
___”গোল্লাই যাক কাজ আমি আরছি বউ, শুধুমাএ পাঁচ মিনিট ওয়েট করো,আমি আরছি।
আমান সবেমাএ নিজের বাড়ি থেকে নিজেদের গোডাউনের দিকে যাচ্ছিল তখনই আরিশার ফোন আসলো,আরিশার ফোন পেয়ে ফোনের ওপাশ থেকে কথাগুলো বলল আমান।
(বর্তমান)
আমান ড্রয়িং রুমের সোফাতে বসে নিজের ফোন ঘাটাঘাটি করছে। আরিশা আমানের জন্য কিচেনে কফি বানাচ্ছিলো। হটাৎ আইরা ঘরের দরজা খুলার শব্দে আমান দরজার দিকে তাকালো। আইরা ঘর থেকে হাঁসি মুখে বের হয়ে আমানের দিকে একবার তাকিয়ে আবার কিচেনের দিকে তাকালো। আমান সোফায় বসে থাকা আবস্থায় হাসি দিয়ে ভ্রু নাচিয়ে আইরা কে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠলো।
___”কী শালীকা! রাগ শেষ তাহলে ?
আইরা হাসি মুখে কিচেনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
___”একদম ভাইয়া, ওই আরিশা আপু আম্মু ফোন করে বললো ভাইয়া কে সঙ্গে নিয়ে মামাবাড়ি যাইতে। আরাত রশ্মিরা মিলে পিকনিকের আয়োজন করছে চলো? চলো? দ্রুত চলো?
কথাটা বলেই আরিশা কে তাড়া দিতে লাগলো আইরা।
আরিশা কফি হাতে নিয়ে এসে আমান কে কফিটা দিতে দিতে বলল,
___”তা নাহয় গেলাম, কিন্তু আমান আমাদের বাড়িতে এটা আম্মু কিভাবে জানলো?
কথাটা বলে আইরা দিকে প্রশ্নবোধক চাহনিতে তাকালো আরিশা। আইরা আমানের দিকে একনজর তাকিয়ে পুনরায় চোখ ঘুরিয়ে আরিশা কে বলে ওঠে।
___”আমি বলছি আম্মুকে এতো প্রশ্ন না করে তাড়াতাড়ি চলো না প্লিজ প্লিজ।
আরিশা বোনের মুখে স্পষ্ট খুশির ঝিলিক দেখতে পেলো। তার বোনটার মামাবাড়ির প্রতি টানের কারণটা খুব ভালো করে জানা। সবসময় মেয়েটা তালুকদার বাড়িতে যাওয়ার কোনো না কোনো সূচনা বের করবে। এইযে কিছুক্ষণ আগে যে মেয়েটা মন খারাপ করে ঘরের দরজা আটকে দিলো। এখন মামাবাড়ির যাওয়ার কথা শুনতে চোখে তার কাউকে দেখার ছটফটানি ভেসে উঠছে। কাউকে দেখার আশায় মুখে তার হাসির উল্লাস খেলা যাচ্ছে।
___”আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ! মামনী?
রাবেয়া তালুকদার কিচেনের দিকে যাচ্ছিলেন। দরজা দিয়ে আমান আরিশা আইরা কে আসতে দেখে, ওদের তিনজন কে দেখে দরজার সামনে দাড়িয়ে পরলেন। আমান রাবেয়া তালুকদার কে দেখে হাসি মুখে সালাম দিয়ে ওঠলো,আমানের সালামের উত্তরে রাবেয়া তালুকদার।
___” ওয়া আলাইকুম-সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ! কেমন আছো আমান বাবা! তোমার আব্বু আম্মু কেমন আছে?
___” জ্বি আলহামদুলিল্লাহ। সবাই ভালো আছে মামনী, আপনি কেমন আছেন?
___”আলহামদুলিল্লাহ বাবা অনেক ভালো।
রাবেয়া তালুকদার হাসি মুখে কথাটা বলে আরিশার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠলেন।
___”আরিশা মা আমান বাবাকে নিয়ে উপরে গিয়ে ফ্রেশ হও। আমি ঠান্ডা পানি পাঠিয়ে দিচ্ছি ।
___”মামনী এতো ব্যস্ত হতে হবে না, মাএ শশুর বাড়ি থেকে খেয়ে আসলাম।
আমান মুচকি হেসে কথাটা বলে ওদিক ওদিকে তাকিয়ে পুনরায় বলল,
___” বাকী সবাই কই মামনী! কাউকে দেখছিনা যে?
___” মামনী আমি উপরে গেলাম।
আইরা ওদের কুশল বিনিময় করার মধ্যে কথাটা বলে কারো উত্তরের আশা না থেকে সিড়ি বেয়ে উপরে গেল। আরিশা বুকের সঙ্গে দুহাত ভাজ করে দাড়ালো। এক গ্রামে মামাবাড়ি হওয়ায় দুবোন যখন তখন এ বাড়ি তো ও বাড়ি যাওয়া আসা চলেই। তবে আরিশার থেকে আইরা কে একটু বেশিই দেখা যায়। দুবোনের মামাবাড়ির আনাচে কানাচে সব চেনা । ওদের দেখলে যে কেউ ভাববে ওরা তালুকদার বাড়ির মেয়ে।
আদিবা তালুকদার নিজের রুম থেকে আমান দের কথা শুনতে পেয়ে রুম থেকে বের হতে হতে বললেন,
___”আরে আমান বাবা যে, কেমন আছো
আমান বাবা?
আমান আদিবা তালুকদারের দিকে হাসি মুখে এগিয়ে এসে বলল,
___”আলহামদুলিল্লাহ, মামনী আপনি কেমন আছেন?
___”আলহামদুলিল্লাহ বাবা
এদের কথাকথনের মধ্যে দিয়ে আরিশা মুখটা অভিমানী সুরে বলে উঠলো,
___” মামনীয়.. তোমাদের এই পরিচয় পর্বগুলো শেষ হয়ে থাকলে আমরা কি উপরে যেতে পারি?
রাবেয়া তালুকদার আরিশার কথায় আরিশার দিকে এগিয়ে এসে আদুরে হাত দিয়ে আরিশার মুখটা উপরের তুলে বললেন,
___”ওই দেখো মেয়ের কথা! আমাদের মেয়ের কি হিংসা হচ্ছে নাকি হুম।
আরিশা মন ভার করে বলে উঠলো,
___” তো হবে না! আসার পর থেকে শুধু আমান আমান আমান! আমি কি জলে ভেসে আসছি ।
রাবেয়া তালুকদার মুচকি হেসে এগিয়ে এসে বললেন,
___” তা হবে কেনো আরিশা মা! আমান বাবা তো নতুন নতুন আমাদের বাড়িতে আসছে তাই না বলো?
___হুম হুম হয়েছে হয়েছে, আর বলতে হবে না। বিচ্ছু গুলো কই ওদের তো দেখছি না?
___”ওরা সবগুলো আরাতের রুমে, যাও জামাই কে নিয়ে উপরে যাও।
__-“ঠিক আছে মামনী।
___”আসসালামু আলাইকুম দুলাভাই?
আমান আর আরিশা আরাতের রুমের সামনে আসতেই আহিন আলভী একসঙ্গ চিল্লিয়ে সালাম দিলো আমান কে।
___”ওয়া আলাইকুমুস সালাম বিচ্ছুগন!কেমন
আছো বিচ্ছুগন?
___”আলহামদুলিল্লাহ দুলাভাই! আপনাকে দেখে মনটা আরো বেশি ভালো হয়ে গেলো। আজকে আড্ডা জমে যাবে। আমাদের দুলাভাই এসে পরছে । এই আহিন আমাদের দুলাভাই কে তাড়াতাড়ি বসার জায়গায় করে দে।
আরাত বিছানা থেকে নামতে নামতে কথাগুলো বলে নিজের জায়গায় আমান কে বসার জায়গা করে দিলো। তখনই রশ্মি নিচ থেকে হাতে ঠান্ডা পানি নিয়ে এসে পানির গ্লাসটা আমান কে এগিয়ে দিলো,
___”ভাইয়া আপনার পানি, কাকিমনি পাঠালো ।
___” থ্যাঙ্ক।
___”ওয়েলকাম ভাইয়া।
রশ্মি নিজের বাড়ি থেকে একদম গোসল করে ফ্রেশ হয়ে আরাত দের বাড়িতে আসতে, রাবেয়া তালুকদার পানির গ্লাসটা রশ্মির হাতে তুলে দিয়ে বললেন। আরিশা আমান আরছে, আর পানিটা উপরে গিয়ে আমান কে দিতে।
রশ্মি আরিশার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল,
___”আপু আইরা আপু কই! আপুকে তো দেখছি না? তোমাদের সঙ্গে আসে নাই?
আরিশা রশ্মির কথায় উত্তর করলো,
___” এসেছে তো, আইরা আসবে না এটাও আবার জিজ্ঞাস করছিস! দেখ হয়তো আনাস ভাইকে জ্বালাতে ভাইয়ার রুমে উঁকি দিচ্ছে।
কথাটা বলতে রুমের সবাই একসঙ্গে হেসে উঠলো।
___” এই রুমে কী চাই?
আইরা, আনাস এর রুমে আনাস কে খুঁজে না পেয়ে। রুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এদিকে ওদিকে তাকিয়ে নিজে নিজেই মনে মনে ভাবছে, রুমটা কতোটা সুন্দর, একদম রুমের মালিকটার মতো। সুন্দর পরিপাটি একদম গুছানো। আজগুবি কথাগুলো ভেবে মুখটা বেঁকে মনে মনে পুনরায় বলে উঠলো,
___” মানুষ আর রুম সুন্দর হয়ে কি হবে। যে ছেলে একটা মেয়ের চোখের ভাষা বুঝতে পারে না। সে আর কিসের গুছানো হুউউ।
কথাগুলো ভাবনার মধ্যে হটাৎ পুরুষালী কন্ঠ কানে পরতে আইরা হকচকিয়ে উঠলো। ভয়েস শুনে চিনে ফেলল কন্ঠের মালিক কে হতে পারে। আইরার মুখে নিমিষেই হাসি ফুটে উঠলো। হাসি মুখ নিয়ে পিছনে ফিরতে দেখলো আনাস বিরক্ত মুখে প্রশ্নবোধক চাহনিতে তাকিয়ে আছে আইরা দিকে। আনাস এর পাশাপাশি পিটে গিটার নিয়ে আশিক দাড়িয়ে।ওদের থেকে কিছুটা দূরে হাবিব দাঁড়িয়ে। আনাস পুনরায় বলে উঠলো,
___” কী হলো এ রুমে কেনো এসেছিস?
দুটো ছেলের সামনে আনাস এর কথায় উওর কী দিবে ভেবে পেলো না আইরা। কিছুক্ষণ আমতা আমতা করে হটাৎ কিছু একটা ভেবে বলে উঠলো আইরা,
___” আসলে হয়েছে কি… না মানে.. আসলে আনাস ভাই আমার বই লাগবে?
আইরা কথাটা বলে আনাস এর মুখের দিকে তাকালো। আইরা আবস্থা দেখে আশিক আর হাবিব ওদের আড়ালে মুচকি হাসলো। বেচারা যে আনাস কে মিথ্যা বলছে এটা আইরা মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে।
___”তোর বই লাগবে ফুপি কে গিয়ে বল। আমাকে কেন বলছিস?
আইরা এবার একটু কাচুমাচু করে অসহায় ফেস করে পুনরায় বলল,
___” না আসলে হয়েছে কি আনাস ভাই, আম্মুর কাছে বইয়ের কথা বললে। আম্মু আমাকে তালুকদার বাড়ি থেকে পুরো গ্রাম ঝাড়ু পিটানি দিতে দিতে শেখ বাড়িতে নিয়ে যাবে।
আইরা কথায়, এবার আশিক হাবিব দুজনেই অবাক চোখে তাকালো আইরা দিকে। পড়াশোনা করার জন্য মেয়েটা ওর মায়ের হাতে ঝাড়ু পিটানি খায়।কই আনাস এর ফুপি কে তো ওরা জানে চেনে এবং ওরাও ফুপি বলে ডাকে। একটু রাগী আছে,তাছাড়া ভদ্রমহিলা যথেষ্ট শিক্ষিত। ওনি ওনার মেয়েকে পড়াশোনার জন্য মারবে কেনো তাহলে। আনাস এবার আইরা কথায় বিছানায় বসে পায়ের দিকে তাকিয়ে, জুতা খুলায় ব্যস্ত হয়ে পরলো । আইরা আনাস এর দিকে তাকিয়ে আছে। আশিক এবার আইরা দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বলে উঠলো।
___”আইরা তুমি সবকিছু খুলে বলো তো বনু, আমরা তোমাকে হেল্প করবো। এই যুগে এসেও পড়াশোনা করার জন্য মার খেতে হয় আজব তো। ফুপি কেন তোমাকে মারবে। ফুপি তো এমন না। ফুপি তোমাকে পড়াশোনা করাবে না কেন। সবকিছু খুলে বলো, দরকার হলে আমি আর হাবিব দুজন মিলে ফুপিকে বুঝাবো।
আশিকের কথায় আনাস জুতা খুলতে খুলতে বিরক্ত মুখে বলল,
___” হ্যা ফুপিকে গিয়ে বল, ফুপি আপনার গুনোবতী মেয়েকে একটা লাইব্রেরী কিনে দেন। আপনি এভাবে মেয়েটার উপন্যাস পড়া বন্ধ করতে পারেন না। আপনার উচিত আইরা কে উপন্যাসের বইয়ের মধ্যে ডুবিয়ে রাখা। সারাদিন ওই বইগুলো পড়ে মাথার মধ্যে শুধু প্রেম বিয়ে আবেগ ভালোবাসা। এগুলো ঘুরঘুর করে,আর পড়াশোনা চাঙ্গে উঠে। যা যা বল গিয়ে ফুপি কে।
কথাগুলো বলতে বলতে আনাস ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো। এদিকে আশিক হাবিব দুজনে অবাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে। দুজন দুজনের মুখ চাওয়াচায়ি করে একসঙ্গে চিৎকার দিলো,
___”কীহহহ।
দুজন একসঙ্গে চিৎকার দিতে। আইরা কানে হাত রাখলো হাতের আঙ্গুল আইরা দিকে তাক করে বলে উঠলো আশিক,
___” মানে! তুমি এতক্ষণ উপন্যাসের বইয়ের কথা বলছিলে?
আইরা এবার ওদের কথায় মাথা নাড়ানো। যার অর্থ হ্যাঁ, আমি তো উপন্যাস বইয়ের কথায় বলছিলাম।
হাবিব অন্য দিকে ঘুরে ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেললো। আশিক কেবলামার্কা হাসি দিয়ে বলল,
___” ওহহ আমরা দুজন কত-কী ভেবে ফেলছি, উপন্যাস পড়ো তুমি তাইনা! ওহ,গুড,গুড, উপন্যাস পড়া মেয়েদের মন সুন্দর হয়।
আশিক আইরার প্রশংসার করতে হাবিব আশিকের কাছাকাছি এসে নিজের মাথায় হাত রাখল। পুনরায় অন্য দিকে তাকিয়ে একটু হাসার চেষ্টা করে বিরবির করলো ,
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২
___” হুম তা আর বলতে, বেচারা বন্ধুর আমার অর্ধেক উপার্জন উপন্যাসের বই কিনতে চলে যাবে।
আইরা দুজন কে বিরবির করতে দেখে, দুজনের উদ্দেশ্য ধন্যবাদ বলে রুম থেকে বের হয়ে গেলো । একটা মিথ্যা ঢাকতে গিয়ে কতগুলো মিথ্যা বলতে হলো। আইরা তো শুধু একটা বাহানা দিতে চেয়েছিলো আনাস এর সঙ্গে একটু কথা বলা যায়।
সময় বিকাল পাঁচটা ঘরে….তালুকদার বাড়ির পুরো ছাঁদ জুড়ে হইচইয়ে মাতিয়ে উড়ছে বিচ্ছু বাহিনী আড্ডায়। বিকালে সবাই মিলে একসঙ্গে হইচই করে খাবার শেষ করে সবার গন্তব্য এখন খোলামেলা ছাঁদে।
